Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৫


নির্লজ্জ_ভালোবাসা

লেখিকাসুমিচোধুরী

পর্ব ৬৫ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)

হলুদের সময় বয়ে যাচ্ছে। বরের বাড়ি থেকে মানুষজন হলুদের তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়েছে। বাড়ির উঠোনে সাজানো স্টেজ ঘিরে উৎসবের আমেজ। এর মাঝেই সৃজনী অস্থির হয়ে রৌদ্রকে খুঁজছে। পুরো বাড়ি খুঁজেও সে রৌদ্রের দেখা পাচ্ছে না। আনিকা সৃজনীর কাঁধে হাত দিয়ে আশ্বস্ত করার সুরে বলল।

“অস্থির হোস না তো! ভাইয়া মনে হয় জরুরি কোনো কাজে কোথাও গিয়েছে, এখনই চলে আসবে।”

সৃজনী আনিকার কথায় মন দিতে পারছে না, তার নজর শুধু বাড়ির মেইন গেটের দিকে। তার মনে একটাই প্রশ্ন রৌদ্র কখন আসবে? এদিকে অনুষ্ঠান থেমে নেই। বড় বড় বক্সে গানের তালে তালে পোলাপানদের উরাধুরা ড্যান্স শুরু হয়ে গিয়েছে। তুরা, তিথি আর আরশিও সেই খুশিতে গা ভাসিয়ে নাচতে শুরু করল।ধীরে ধীরে হলুদের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। সৃজনীরাও এগিয়ে গেল স্টেজ প্রাঙ্গণে। আরফা স্টেজে বসে আছে, আর তার সামনে সব মেয়েরা এক হয়ে একটা নাচের দল তৈরি করল। মাঝখানে তুরা দাঁড়িয়েছে, তার দুপাশে তিথি, আরশি, সৃজনী, আনিকা, বৃষ্টিসহ আরও অনেক মেয়ে। বক্সের মিউজিক বাজার সাথে সাথেই সবাই ছন্দ মিলিয়ে কোমর দোলাতে শুরু করল।

ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজকীয় ভঙ্গিতে রৌদ্র এসে হাজির হলো। রৌদ্রকে দেখামাত্রই সৃজনীর নাচের গতি যেন কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সে রৌদ্রকে দেখানোর জন্যই আরও বেশি খুশিতে কোমর দোলাতে লাগল। কিন্তু রৌদ্র সেদিকে পাত্তাই দিল না। সে দুই হাত বুকের ওপর ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে একপলকে তুরার নাচ দেখতে লাগল। রৌদ্রের সেই নেশালো দৃষ্টি শুধু তুরার ওপরেই স্থির।

সব মেয়ে এবার দুই হাত সামনে উঁচিয়ে গানের তালে তালে একসঙ্গে গেয়ে উঠল।

~এলো যে এলো খুশির লগন~
~এলো যে এলো খুশির লগন~

~আসবে সে তাই লাজে রাঙা মুখ~
~আসবে সে তাই লাজে রাঙা মুখ~

গানটার ঠিক এই জায়গায় তুরা নিজের লেহেঙ্গাটা হাত দিয়ে ধরে দারুণ একটা চক্কর দিল। তার নাচের মুদ্রায় যেন পূর্ণিমার চাঁদ লুটোপুটি খাচ্ছে। তুরা গলার সুর উঁচিয়ে গেয়ে উঠল।

~মেতেছে আনন্দে আজ প্রাণ যে~

তুরার সুরের সাথে তাল মিলিয়ে এবার সব মেয়ে দুই হাত এক করে বৃত্তাকার ভঙ্গিতে নাচতে নাচতে গাইতে লাগল।

~বরণ ডালা সাজা উলু যে সাঙ বাজা কন্যে হবে আজ সীমন্তিনী~
~ফুলেরী মালায় কাজলে আলতায় কন্যে আমাদের গরবিনী~

পুরো পরিবেশটা যেন এক মায়াবী জাদুতে ভরে উঠল। রৌদ্রের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল। সে মুগ্ধ হয়ে দেখছে তার ‘বউ’ কীভাবে পুরো আসর মাতিয়ে রেখেছে। সৃজনী বারবার রৌদ্রের নজর কাড়ার চেষ্টা করলেও রৌদ্রের পৃথিবীটা যেন তখন শুধুই তুরাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

পুরো গান আর নাচ শেষ করে সব মেয়ে একে অপরের হাত ধরে গোল হয়ে বৃত্তাকারে ঘুরতে লাগল। নাচের এনার্জি যেন আকাশছোঁয়া! কিন্তু থামার সাথে সাথেই সবাই হাঁপিয়ে উঠল। অনেকেই পেটে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে সাইডে গিয়ে দাঁড়াল। তুরাও ক্লান্তিতে জোরে শ্বাস নিতে নিতে স্টেজের ওপরে গিয়ে একদম আরফার পাশে ধপ করে বসল। তার পিছু পিছু আরশি আর তিথিও যোগ দিল।

এদিকে আয়ান আর শিহাব তো পুরাই থ! এতক্ষণ শিহাব আয়ানের কাঁধে হাত দিয়ে হাঁ করে তাদের নাচ দেখছিল। তাদের ‘বউরা’ যে এত নিখুঁত আর সুন্দর নাচতে পারে, সেটা তাদের ধারণার বাইরে ছিল।

হঠাৎ বক্সে থাকা মাইকে একজন ছেলে বেশ চড়া গলায় ঘোষণা করল।

“প্রিয় দর্শক! খান বাড়ির উৎসবে মেয়েরা ইতিমধ্যে মঞ্চ কাঁপিয়ে দিয়েছে। এখন কিন্তু আমাদের ছেলেদের পালা। রেডি তো সবাই?”

ঘোষণাটা শুনেই রৌদ্রের অবস্থা কেরোসিন! সে কোনোমতে একটা শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে বলল।

“এখান থেকে কাঁচকাটা দিয়ে পালানোই বুদ্ধিমানের কাজ।”

রৌদ্র পা টিপে টিপে পেছনের দিকে সরতে যাবে,ঠিক তখনই একটা ছেলে এসে ছোঁ মেরে রৌদ্রের পাঞ্জাবি টেনে ধরল।

“কী ভাই? পালাচ্ছো নাকি? তা কী করে হয়! আজ না নাচলে তোমাদের কিন্তু একদম নিস্তার নেই।”

রৌদ্র অসহায় চেহারায় বলল।

“দেখ ভাই, আমি একদম নাচতে পারি না। তোরা তো জানিসই, আমাকে ছেড়ে দে। তোরা নাচ, আমি দর্শক হয়ে তালি দেই।”

কিন্তু কে শোনে কার কথা! ছেলেটা আরও জোরে চিৎকার দিয়ে ডাকল।

“না না, নাচতেই হবে! এই তোরা কে কোথায় আছিস, এদিকে আয় তো!”

মুহূর্তের মধ্যে একঝাঁক ছেলে এসে জোর করে রৌদ্রকে টেনেহিঁচড়ে স্টেজের সামনে নিয়ে আসল। সেই সাথে শিহাব আর আয়ানকেও পাকড়াও করা হলো। বেচারা তিন মূর্তির এখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।আয়ান সুযোগ বুঝে একটা চিপা দিয়ে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু শিহাব ওস্তাদ লোক, সে ঝট করে আয়ানের পাঞ্জাবির কলার টেনে ধরে একদম নিজের কাছে নিয়ে এসে বলল।

“এই যে মিস্টার আয়ান! আমি যেহেতু কুয়াতে পড়েছি, সেই কুয়ায় তোমাকেও থাকতে হবে। আমি থাকতে তুমি একা একা উপরে উঠে যাবে, সেটা ভাবলে কী করে?”

আয়ান এবার কান্নার মতো মুখ করে করুণ স্বরে বলল।

“ভাই দয়া করো, ছেড়ে দাও! আমি নাচলে মানুষ ভাববে ব্যাঙ লাফাচ্ছে। এতে আরও বেশি লজ্জা পামু। আর সবচাইতে বড় সমস্যা হলো ভাই, ওখানে বউ বসে আছে! এমনিতেই সে সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করে। এখন যদি আমার এই ব্যাঙের মতো নাচ দেখে ফেলে, তবে তো সারা জীবন আমাকে এটা নিয়ে খেপিয়ে মারবে! প্লিজ ভাই, যেতে দাও।”

শিহাবও নাছোড়বান্দা। সে আয়ানের কলারটা আরও শক্ত করে টেনে ধরে দাঁত বের করে বলল।

“তুমি ভাবছো আমি খুব বড় ড্যান্সার? আমি নাচতে নামলে মনে হবে কোনো পাগলা কুত্তা ‘বো বো’ করে লাফাচ্ছে। সো ভাই, কপালে যা আছে তাই হবে। আমি যেমন পারি তুমিও তেমনি নাচবে,ব্যস।”

ছেলেরা সব হুড়মুড় করে স্টেজের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল। শিহাব বেশ চালাকি করে রৌদ্রকে এক ধাক্কায় সবার সামনে পাঠিয়ে দিল। রৌদ্র আপ্রাণ চেষ্টা করছিল পেছনের সারিতে লুকিয়ে পড়ার, কিন্তু আয়ানও আজ ছাড়ার পাত্র নয়। সে-ও রৌদ্রকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে একদম মেইন পজিশনে দাঁড় করিয়ে দিল।

রৌদ্র বেচারা এখন একদম খাঁচায় বন্দি বাঘের মতো অবস্থা! সামনে তাকিয়ে দেখল তুরা, তিথি আর আরশিরা সবাই কৌতূহলী চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তুরা তো ঠোঁট টিপে হাসছে, যেন রৌদ্রের এই অসহায় অবস্থা সে বেশ উপভোগ করছে।

পুরো বাড়ি তখন ফেটে পড়ছে উল্লাসে। সব মেয়েরা একসাথে উৎসাহিত হয়ে জোরে জোরে তালি দিতে লাগল। মেয়েরা তো খুশিতে আত্মহারা,হয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল, “রৌদ্র ভাই, রক ইট!”

বক্সের মিউজিকটা হঠাৎ ধাম করে বেজে উঠল। খুব ফাস্ট বিটের একটা গান। রৌদ্র দুই হাত পকেটে পুরে একবার শিহাব আর আয়ানের দিকে তাকালো।

রৌদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাঞ্জাবির হাতাট আরেকটু গুটিয়ে নিয়ে নিজেকে একটু ঝালিয়ে নিল। তারপর বক্সের বিটটা যখনই বাড়ল, সে দারুণ ছন্দে কোমর দোলাতে শুরু করল। তাকে এত নিখুঁত নাচতে দেখে বাকি সব ছেলেই যেন জোশ পেয়ে গেল সবাই রৌদ্রকে কপি করে একই তালে নাচতে লাগল। মেয়েদের চিৎকারে পুরো প্যান্ডেল যেন কান পাতা দায়।

এবার সব ছেলে মিলে বক্সের গানের তালে তালে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠল।

~ও রূপসী কন্যা রে দেখ না পিছন ফিরে রে~
~ও রূপসী কন্যা রে দেখ না পিছন ফিরে রে~

রৌদ্রর গলায় তুরার ওড়নাটা স্টাইল করে পেঁচানো ছিল তখনো। নাচের মাঝখানে সে স্টেজে বসা তুরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে নিজের গলায় থাকা সেই ওড়নাটার দুই প্রান্ত ধরে একটু টান দিয়ে নাড়াতে শুরু করল। তুরার চোখের ওপর চোখ রেখে রৌদ্র গেয়ে উঠল।

~তোর লাইগা বানাইয়াছি অন্তরেতে ঘর~

তুরার বুকটা ধক করে উঠল। রৌদ্রর চোখের ওই গভীর চাউনি আর নিজের ওড়নাটা ওর গলায় দেখে সে লজ্জায় আর আবেশে যেন জমে গেল। রৌদ্র থামল না, সে শিহাব আর আয়ানদের সাথে দুই হাত মেলিয়ে দিয়ে বৃত্তাকারে ঘুরতে শুরু করল। মাটির সাথে পায়ের তাল ঠুকে নাচতে নাচতে সব ছেলেরা আবারও গেয়ে উঠল।

~সেই ঘরে থাকবো দুজন সারাজীবন ভর~
~সেই ঘরে থাকবো দুজন সারাজীবন ভর~

তুরা একদম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে! সে ভেবেছিল রৌদ্র হয়তো লোকহাসানো কোনো নাচ দেবে, কিন্তু রৌদ্র তো পুরো স্টেজ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। তার প্রতিটি স্টেপ যেন একদম নিখুঁত, একদম পাগল করার মতো! শিহাব আর আয়ান তো রৌদ্রের নাচ দেখে পুরাই থ হয়ে গেছে। তারা স্বপ্নেও ভাবেনি গম্ভীর রৌদ্রের ভেতরে এমন একজন ড্যান্সার লুকিয়ে আছে। তারা নিজেরা নাচবে কী, রৌদ্রকে কপি করতেই তাদের হিমশিম অবস্থা।

নাচের উত্তাল মুহূর্তে হঠাৎ রৌদ্র শরীরটা পেছনের দিকে এলিয়ে দিল। ছেলেদের ওপর একবার ভর দিয়ে নিখুঁত ব্যালেন্সে আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর গলায় পেঁচানো তুরার সেই ওড়নাটা এক ঝটকায় স্টাইল করে কাঁধের ওপর ছুড়ে মারল। তার ওই ড্যাশিং লুক দেখে উপস্থিত সব মেয়েদের হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।

রৌদ্র সরাসরি তুরার চোখের দিকে তাকিয়ে বুক চিরে আসা আবেগ দিয়ে গেয়ে উঠল।

~ রাখবো তোরে যতন করে হৃদয়ের গভীরে ~
~ প্রেম জোয়ারে ভেসে ভেসে গায়বো সুরে সুরে ~ (২বার)

নাচের বিট এবার আরও তুঙ্গে উঠল। রৌদ্রের ড্যাশিং মুভমেন্ট দেখে পুরো উঠোন যেন কাঁপছে। রৌদ্র এবার স্টেজের আরও কাছে এগিয়ে গেল, তুরার খুব কাছাকাছি। গলার সেই ওড়নাটা এক হাত দিয়ে সামান্য টেনে, অন্য হাত দিয়ে তুরাকে ইশারায় কাছে ডাকল। সারা মাঠের হাজারো শব্দের মাঝে রৌদ্রের কণ্ঠ আর ভঙ্গি যেন শুধু তুরার জন্যই গেয়ে উঠল।

~ভালোবাসার কন্যারে~ভালোবাসার কন্যারে~
~থাইকো না আর দূরে রে~

রৌদ্রের এই ‘দূরে না থাকার’ আকুতি তুরার বুকের ভেতর তোলপাড় সৃষ্টি করল। রৌদ্র আবারও সেই একই আকুতি নিয়ে সুর মেলাল।

~ভালোবাসার কন্যারে~
~থাইকো না আর দূরে রে~

এরপর মিউজিকের তালটা যখন একটু গম্ভীর আর মায়াবী হলো, রৌদ্র নিজের বুকের বাঁ পাশে হাত রাখল। তার চোখে তখন শুধু তুরার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর দখলের নেশা। সে ধীর পায়ে তুরাকে প্রদক্ষিণ করতে করতে গেয়ে উঠল।

~তোর লাইগা বানাইয়াছি অন্তরেতে ঘর~

সব শেষে রৌদ্র, শিহাব আর আয়ান একসাথে হাত ধরাধরি করে এক চক্কর ঘুরে পায়ের কাজ দেখিয়ে ধুলো উড়িয়ে গেয়ে উঠল।

~সেই ঘরে থাকবো দুজন সারাজীবন ভর~
~সেই ঘরে থাকবো দুজন সারাজীবন ভর~

মিউজিকের বিটটা এবার একটু পরিবর্তন হয়ে দারুণ একটা রিদমে চলে এল। রৌদ্র যেন এবার আরও বেশি ভয়ংকর সুন্দর হয়ে উঠল। সে নাচের মাঝখানে বারবার গলায় ঝুলে থাকা তুরার ওড়নাটা দুই হাত দিয়ে ধরে টান দিয়ে স্টাইল করতে লাগল। তার এই একেকটা ঝটকায় তুরার হৃদস্পন্দনও যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

রৌদ্র নাচতে নাচতে তুরার চোখের একদম গভীরে তাকিয়ে ধীরস্থিরভাবে গেয়ে উঠল।

~ আকাশ সমান স্বপ্ন আমি দেখি তোরে নিয়ে ~
~ জন্ম আমার পূর্ণ করো ভালোবাসা দিয়ে ~ (২বার)

গানটার এই দরদ ভরা কথাগুলো রৌদ্র যখন বলছিল, তখন তার চেহারায় এক অদ্ভুত মায়া খেলা করছিল। কিন্তু এর পরের অংশটুকু আসতেই রৌদ্র একদম ভোল পাল্টে ফেলল। সে এক হাত দিয়ে নিজের মাথার চুলগুলো স্টাইল করে পেছনের দিকে টেনে নিল ঠিক যেন কোনো সিনেমার হিরো! তারপর চোখের একটা পলক ফেলে, সরাসরি তুরার দিকে তাকিয়ে একটা কিলার ‘চোখ’ মেরে গেয়ে উঠল।

~ চোখ মেরেছে কন্যারে মনটা পাগল করে রে ~ (২বার)

রৌদ্র আবারও ওড়নাটা কাঁধের ওপর তুলে নিয়ে বুক চিতিয়ে আয়ান আর শিহাবের সাথে গলা মিলিয়ে শেষ বারের মতো গেয়ে উঠল।

~ তোর লাইগা বানাইয়াছি অন্তরেতে ঘর ~
~ সেই ঘরে থাকবো দুজন সারাজীবন ভর ~
~ সেই ঘরে থাকবো দুজন সারাজীবন ভর ~

গান শেষ হওয়ার সাথে সাথে পুরো প্রাঙ্গণ যেন কান ফেটে যাওয়ার মতো চিৎকার আর করতালিতে মেটে উঠল। রৌদ্রের এই ‘হিরো এন্ট্রি’ আর ওড়না নিয়ে ওই স্টাইলিশ নাচ সবাইকেই পাগল করে দিয়েছে। রৌদ্র নিজেও বেশ হাঁপিয়ে উঠেছে, কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে। সে শিহাবের কাঁধটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে টেনে নিয়ে একটু দূরে ভিড়ের আড়ালে চলে এল।

রৌদ্র লম্বা লম্বা শ্বাস নিচ্ছে, আর শিহাব নিজের হাঁটুতে হাত দিয়ে ঝুঁকে শ্বাস নিতে নিতে অবাক গলায় বলল।

“ভাই রে ভাই! তুই তো আজ পুরো স্টেজ কাঁপিয়ে দিয়েছিস! আমি তো জানতাম তুই গম্ভীর মানুষ, কিন্তু তুই যে এভাবে একদম হিরোর মতো ড্যান্স পারিস, তা আমার ধারণার পুরোই বাইরে ছিল। তুই তো প্রফেশনাল ড্যান্সারদেরও হার মানিয়ে দিয়েছিস রে।”

রৌদ্র একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে পাঞ্জাবির হাতাটা ঠিক করতে করতে তুরার দিকে তাকাল। তুরা তখনো স্টেজে বসে লজ্জায় লাল হয়ে আছে। রৌদ্র শিহাবকে বলল।

“সব সময় কি সব প্রতিভা সামনে আনতে হয়? মাঝে মাঝে বিশেষ মানুষের জন্য বিশেষ কিছু জমিয়ে রাখতে হয় রে শিহাব।”

আয়ানও এই ফাঁকে হাঁপাতে হাঁপাতে তাদের কাছে এসে হাজির হলো। সে নিজের পাঞ্জাবির কলার ঠিক করতে করতে বলল।

“ভাই, তোমার ওই ‘চোখ মারা’ দেখে তো আমারই কলিজা কেঁপে উঠেছিল, আর তুরার কী অবস্থা হয়েছে একবার ভেবে দেখো পাগল করে ছাড়লে মেয়েটাকে।”

রৌদ্র, শিহাব আর আয়ান একপাশে দাঁড়িয়ে বেশ আড্ডায় মেতে উঠেছে। নাচের রেশটা যেন এখনো তাদের কাটেনি। তারা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে আর আয়ান বারবার রৌদ্রকে ওর ওই ‘চোখ মারা’ স্টেপটা নিয়ে ক্ষ্যাপাচ্ছে।

কিন্তু এই উৎসবের রঙের মাঝেও এক কোণে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে সৃজনী। তার চোখের সামনে যেন রৌদ্রের নাচের প্রতিটি মুহূর্ত বারবার রিওয়াইন্ড হচ্ছে। রৌদ্র কেন বারবার তুরার দিকে তাকাচ্ছিল? আর সবশেষে ওই চোখ মারাটা ওটা কি তবে শুধুই মজা ছিল, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনো সত্য লুকিয়ে আছে?

সৃজনীর মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। সে সেদিন ও রৌদ্র আর তুরার মাঝে অদ্ভুত কিছু একটা দেখেছিল, যা তাকে তখন থেকেই ভাবাচ্ছে। তার মনে বারবার একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রৌদ্র আর তুরার সম্পর্কটা আসলে কী? ওরা কি শুধুই ভাই-বোন, নাকি এর বাইরেও অন্য কিছু?

এই “অন্য কিছু” ভাবতেই সৃজনীর কলিজাটা যেন ভয়ে কেঁপে উঠল। সে গত কয়েক দিনে তিলে তিলে রৌদ্রকে নিজের মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে নিয়েছে। যদি রৌদ্রের জীবনে অন্য কেউ থাকে, তবে সৃজনীর কী হবে? তার এত দিনের ভালোবাসা কি তবে বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়বে?

সৃজনী আর নিজেকে ওই হাসিখুশি পরিবেশের সাথে মেলাতে পারল না। তার ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। সে ঠিক করল, আজ আর রৌদ্রের সামনে যাবে না। রৌদ্রকে ওভাবে অন্য কারো দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা তার সহ্য হচ্ছে না। সে মনে মনে একটা কঠিন সংকল্প করল।

“আজ থাক, কাল তো বিয়ে। কাল সরাসরি তুরার মুখোমুখি হবো। ওর মুখ থেকেই জানবো রৌদ্রের সাথে ওর আসল সম্পর্কটা কী! যদি কোনো ঘাপলা থাকে, তবে আমি তা কিছুতেই হতে দেব না।”

রাত তখন বারোটা। সময়ের আবর্তে জমকালো গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ হলো। বরের বাড়ির মানুষজন বিদায় নিল, সেই সাথে সৃজনীও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। খান বাড়ির আত্মীয়-স্বজনরা সারা দিনের ক্লান্তিতে একে একে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এক কোণে তখনো আড্ডা জমিয়ে রেখেছে তুরা, তিথি, আরশি আর আরফারা। তারা কনে আরফাকে নিয়ে হাসাহাসি আর খুনসুটিতে ব্যস্ত।

তাদের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র, শিহাব আর আয়ান। আড্ডার মাঝে শিহাব হঠাৎ রৌদ্রের কাঁধে একটা চাপ দিয়ে মুচকি হেসে বলল।

“কিরে রৌদ্র, আর কতক্ষণ এখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবি? মনে রাখিস, নিজে উদ্যোগ নিয়ে নিয়ে না আসলে বউ কিন্তু জীবনেও আসবে না। সুযোগ বুঝে ছোঁ মারতে হয়!”

বলেই শিহাব আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা তিথিদের আড্ডার দিকে পা বাড়াল। শিহাবকে আসতে দেখে আরশি লজ্জায় একদম কুঁকড়ে গেল, মাথাটা নিচু করে নখ খুঁটতে লাগল। তিথি শিহাবকে দেখে ফাজলামি করে বলল।

“কী শিহাব ভাই? এত রাতে এদিকে যে? বউ নিতে এসেছেন বুঝি?”

শিহাব দাঁত বের করে হেসে জবাব দিল।

“সবই যখন বুঝো, তখন আবার প্রশ্ন করো কেন শালি সাহেবা?”

কথাটা শেষ করেই শিহাব কোনো সুযোগ না দিয়ে এক ঝটকায় আরশিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। হঠাৎ এমন কাণ্ডে তিথি, তুরা আর আরফা হো হো করে হেসে উঠল। আরশি তো লজ্জায় আর অপমানে লাল হয়ে গেল, কোনোমতে ঠোঁট কামড়ে হাসি আর লজ্জা লুকানোর চেষ্টা করল।
শিহাব কারোর কথা তোয়াক্কা না করে আরশিকে কোলে নিয়েই গটগট করে নিজেদের রুমের দিকে রওনা দিল। রুমে ঢুকে দরজাটা পা দিয়ে ঠেলে বন্ধ করতেই আরশি শিহাবের বুকে ছোট ছোট কিল-ঘুষি মারতে শুরু করল। সে ফিসফিস করে রাগী গলায় বলল।

“ছিহ্! আপনি কী অসভ্য! সবার সামনে আমাকে ওভাবে কোলে তুলে নিয়ে আসলেন? আপনার কি একটুও লজ্জা করল না? এখন ওরা আমাকে নিয়ে কত হাসাহাসি করবে একবার ভেবেছেন?।”

শিহাব আরশির একদম চোখের মণি বরাবর তাকাল। ওর দৃষ্টিতে আজ কোনো কাঠিন্য নেই, আছে শুধু এক সমুদ্র নেশা আর অধিকার। শিহাব শান্ত গলায় বলল।

“আমি তো আগেই বলেছি আরশি, তোমাকে কোলে নিয়ে সারা পৃথিবী ঘুরলেও আমার একটুও লজ্জা লাগবে না। আর ওখানে তো শুধু শালিরা ছিল! যাই হোক, ওসব ছাড়ো। এখন তুমি একদম সুস্থ। এতদিন অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করেছি, কিন্তু আজ আর পারছি না। আজ আমি তোমার ওই মধুর সাগরে হারিয়ে যেতে চাই। আজ সারারাত তোমাকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে চাই আমি।”

শিহাবের এমন সরাসরি আর মাদকতা ভরা কথায় আরশি যেন লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। তার সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না, শুধু মাথাটা আরও নিচু করে শিহাবের পাঞ্জাবির বোতাম নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগল। আরশির নীরবতা দেখে শিহাব এবার আরও কাছে সরে এল। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস এখন আরশির কানের লতিতে আছড়ে পড়ছে। শিহাব ফিসফিস করে পুনরায় বলল।

“আরশি,আমি জানি আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, অনেক অপমান করেছি। আমার আগের ব্যবহারগুলোর জন্য আমি লজ্জিত। কিন্তু আজ আমাকে বাধা দিও না, প্লিজ! আজ আমাকে মিশে যেতে দাও তোমার সাথে। আমি আমার সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে তোমার সব পুরনো কষ্ট ভুলিয়ে দেব। আমার দেওয়া প্রতিটি আঘাতের দাগ মুছে দেব আমার স্পর্শ আর নিবিড় আদরে। আজ রাতে আমি তোমাকে নতুন করে নিজের করে নিতে চাই।”

আরশি কোনো কথা বলল না, শুধু লজ্জায় নিজের মুখটা শিহাবের চওড়া বুকে শক্ত করে গুঁজে দিল। আরশির এই নীরবতা আর বুকের উষ্ণতাই শিহাবকে বুঝিয়ে দিল যে তার ‘বউ’ আজ পুরোপুরি ধরা দিয়েছে। শিহাবের ভেতর যেন তখন আটাশ বছরের জমানো তুফান বইছে। সে আরশিকে নিয়ে বিছানার দিকে এগোতে এগোতে একটু শয়তানি হাসি দিয়ে বলল।

“আজকে আর রক্ষা নেই আরশি তোমার! খাট ভেঙে চুরমার করে ফেলবো আজ। এই ২৮ বছরের সব উপাস আজ ভাঙবো। তৈরি হও আমার রানীইইইই!”

বলেই শিহাব আরশিকে পাজাকোলা করেই খাটের মাঝখানে ছুড়ে মারল। আরশি “উফ” বলে ধপ করে খাটে গিয়ে পড়ল। শিহাবের তখন তর সইছে না, সে দাঁতে দাঁত চেপে রোমান্টিক এক লাফে খাটের ওপর ঝাঁপ দিল।

কিন্তু শিহাবের শরীরের ভার আর সেই ঝাপের গতি সহ্য করার ক্ষমতা বোধহয় বেচারা খাটের ছিল না! শিহাব ঝাঁপ দিতেই আচমকা পুরো খাটটা বিশ্রীভাবে নড়ে উঠল এবং ঠাস করে একটা কান ফাটানো শব্দে মাঝখান দিয়ে ভেঙে চৌচির হয়ে গেল।মুহূর্তের মধ্যে রোমান্টিক আবহাওয়াটা যেন একদম কমেডি নাটকে পরিণত হলো। খাট ভেঙে শিহাব আর আরশি একদম নিচে মেঝেতে পড়ে গেছে। আরশি ব্যথায় আর ভয়ে আর্তনাদ করে উঠল।

“ও মা গো আমার কোমর গেলো রেএএএ।”

শিহাবের কোমরে বেশ ভালোই চোট লেগেছে। একটা বিটকেল ব্যথা মেরুদণ্ড বেয়ে যেন মস্তিষ্কে গিয়ে লাগছে। কিন্তু সে তো শক্তপোক্ত পুরুষ মানুষ, তাই মুখ দিয়ে কোনো আর্তনাদ করল না, শুধু দাঁত চেপে ব্যথাটা হজম করে নিল। পাশে তাকিয়ে দেখল আরশি ব্যথায় কোঁকাচ্ছে। শিহাব তড়িঘড়ি করে বলল।

“আরশি! সোনা বউ আমার, বেশি ব্যথা পেয়েছো? দেখি কোথায় লেগেছে!”

আরশি তখন রাগে আর ব্যথায় ফুঁসছে। সে নিজের কোমরটা হাত দিয়ে চেপে ধরে রাগী গলায় বলল।

“হয়েছে! আপনার বাসর করা আর সাধ মেটানো, আরে বাবা এইভাবে কেউ খাটের ওপর ঝাঁপ দেয়? আমার কোমরটা তো আজ গেল রে! উফ, কী ব্যথা।”

শিহাব আর কথা না বাড়িয়ে সাবধানে আরশির কাছে গিয়ে ওকে টেনে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে ধরল। তারপর কপাল কুঁচকে খাটের ভগ্নদশার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল।

“আরে আমার কী দোষ? তোমার বাবা কি তোমাকে একটা মজবুত খাটও কিনে দিতে পারল না? একটা সাধারণ ঝাঁপ দিতেই খাটটা একদম পটল তুলল! আরে এই সামান্য ঝাঁপই যদি সহ্য করতে না পারে, তবে এই খাট আমার এই ভরপুর আদরের লোড নিবে কীভাবে? কপালটাই খারাপ আমার, বাসর করতে এলাম আর খাট ভেঙে নিচে পড়লাম!”

শিহাবের কথা শুনে আরশি রাগের মাথায়ও হেসেই দিত যদি না কোমরের ব্যথাটা এত বেশি হতো। সে শিহাবের বুকে একটা কিল মেরে বলল।

“এখনও আপনার মুখে ওইসব কথা আসছে? এখন এই ভাঙা খাটে রাত কাটাবেন কীভাবে শুনি? সবাই জানলে তো লজ্জায় আমার মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না।”

শিহাব আরশিকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে দাঁত বের করে হাসল। ব্যথার চেয়েও সে যেন এখন এই পরিস্থিতির মধ্যে অন্যরকম এক গর্ব খুঁজে পাচ্ছে। শিহাব হাসতে হাসতে বলল।

“আরে বউ, কী আর হবে! বাসর হওয়ার আগেই খাট ভেঙে পড়ল। সকালে যখন সবাই রুমে এসে দেখবে খাট ভাঙা, তখন রৌদ্র আর আয়ানরা বলবে শিহাব, তুই তো জেনিয়াস রেএএ! এক রাতেই খাট ভেঙে তছনছ করে ফেলেছিস! আমার মান-সম্মান তো একদম আকাশচুম্বী হয়ে যাবে।বাসর করার আগেই এত প্রশংসা আমি হজম করতে পারবো না।”

আরশি রাগে আর লজ্জায় এবার শিহাবকে জোরে একটা ধাক্কা মেরে কোনোমতে মেঝে থেকে উঠল। সে মুখ ঝামটা দিয়ে বলল।

“রাখুন আপনার জেনিয়াসগিরি! লোক হাসানো ছাড়া আর কিছু না।”

আরশি আর কোনো কথা না বাড়িয়ে বিছানার চাদরটা টেনে নিল এবং একটা বালিশ দখল করল। তারপর চাদরটা মেঝের এক কোণায় সুন্দর করে বিছিয়ে বালিশ দিয়ে ধপ করে শুয়ে পড়ল। শিহাব এতক্ষণ হাঁ করে আরশির কাণ্ড দেখছিল। সে বুঝতেই পারেনি আরশি এত দ্রুত ‘ফ্লোরে’ শিফট হয়ে যাবে।শিহাব কিছুক্ষণ মেঝেতে ভেঙে পড়ে থাকা খাটের পায়ার দিকে তাকাল, তারপর গালে হাত দিয়ে করুণ মুখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।

“বা’লের খাট! বাসর করার আগেই ভেঙে পড়লি? হারামি, কমপক্ষে ১০টা মিনিট তো টিকতি! দেখিস, তোর জীবনে কোনোদিন বিয়ে হবে না, কোনোদিন কোনো লেডিস খাট তোর পাশে এসে দাঁড়াবে না! চিরকাল তুই এভাবেই ব্যাচেলর কাঠ হয়ে পড়ে থাকবি। এইটা আমার মতো এক অসহায়, মজলুম স্বামীর অভিশাপ! যা, তোরে আজই ত্যাজ্য করলাম।”

শিহাবের এমন অদ্ভুত আর করুণ অভিশাপ শুনে আরশি মেঝেতে শুয়ে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাওয়ার অবস্থা। সে বালিশে মুখ গুঁজে হাসতে হাসতে বলল।

“ওগো আমার অভিশাপ স্বামী, খাট তো আর মানুষ না যে ওর বিয়ে হবে! খাটকে অভিশাপ দিয়ে কী হবে?”

শিহাব তখনো রাগে ফুঁসছে, সে ঝাড়ি দিয়ে বলল।

“চুপ করো আরশি! এই খাট নিশ্চয়ই বিএসটিআই অনুমোদিত ছিল না। আমার মতো জলজ্যান্ত জেনিয়াসকে ও রিজেক্ট করে দিল? আজ থেকে ওর নাম ‘অভিশপ্ত কাঠ’! কালই ওরে দিয়া লাকড়ি বানাইয়া আরফার বিয়ের রান্নাবান্না করামু, তবেই আমার শান্তি।”

শিহাব মেঝেতে বসে নিজের কোমরে হাত দিয়ে ঘষছে আর এক দৃষ্টিতে ভাঙা খাটের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মুখটা দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র সে বিশ্বযুদ্ধে হেরে ফিরেছে। আরশি তখনো চাদর গায়ে দিয়ে মেঝেতে শুয়ে ফিকফিক করে হাসছে।আরশি শিহাবের হাতটা টেনে ধরে হাসতে হাসতে বলল।

“থাক, অনেক হয়েছে! এখন চুপচাপ এই মেঝেতেই শুয়ে পড়েন। আজকের রাতটা এই অভিশপ্ত ভাঙা খাটের পাশে ফ্লোরেই কাটুক।”

শিহাব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বালিশ নিয়ে আরশির চাদরের এক কোণা গায়ে দিয়ে আরশিকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ল। এবং আপনমনে বিড়বিড় করে বলল।

“বিয়ে করে বাসর করতে আসলাম ঘরে, আর রাত কাটাতে হচ্ছে জেলের কয়েদিদের মতো ফ্লোরে! শালা খাট, তোর কপালে লাকড়ি হওয়া ছাড়া আর কিছু নেই’দেখিস তোর কপালে দুঃখ আছে সকালে।”

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply