Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৪১


দিশেহারা (৪১)

সানা_শেখ

সোহা ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে। বমি করে ফ্লোর ভাসিয়ে দিয়েছে। নিজে তো বমি করলই সঙ্গে শ্রবণকে-ও করিয়ে ছাড়ল। এখন এই ফ্লোর ওকেই পরিষ্কার করতে হবে।

ফ্লোর পরিষ্কার করে মপ দিয়ে মুছে দেয়। ভালোভাবে হাত ধুয়ে রুমে এসে দেখে শ্রবণ তৈরি হচ্ছে। ওকে এখন তৈরি হতে দেখে বলে,

“কোথায় যাবে?”

শ্রবণ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই ওর চাহনি দেখে মিনমিন করে বলে,

“ভুল হয়ে গেছে। খাবে না?”

শ্রবণ আয়নার দিকে তাকিয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে শান্ত গম্ভীর গলায় বলে,

“আজকের মতো খাওয়া হয়ে গেছে আমার, তুই গিয়ে খেয়ে নে। খেতে ইচ্ছে করলে বাইরে থেকে খেয়ে নেবো পরে।”

“সন্ধ্যার আগেই ফিরে এসো।”

শ্রবণ হাত থেকে চিরুনি রেখে সোহার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। আগের ভাব ধরে রেখে বলে,

“ভোর রাতে ফিরব।”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। শ্রবণ বাইকের চাবি, ফোন আর ওয়ালেট নিয়ে রুম থেকে বের হয়। ওর পেছন পেছন সোহা-ও বের হয়।

শ্রবণ বের হওয়ার আগে পেছন ফিরে তাকায় সোহার দিকে। আদেশের সুরে বলে,

“খেয়ে নে।”

“খাচ্ছি।”

শ্রবণ বেরিয়ে যায়। সোহা বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর খাবার খাওয়ার জন্য ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে আসে। দুই প্লেটে দুজনের অর্ধেক অর্ধেক খাবার রয়েছে। যতটুকু খেয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বমি করে বের করে দিয়েছে।


সন্ধ্যার পর পরই ফ্ল্যাটে ফিরে আসে শ্রবণ। আরও আগেই আসতে চেয়েছিল কিন্তু বন্ধুদের জন্য আসতে পারছিল না। সোহা বিছানায় শুয়ে ফোনে রান্নার রেসিপি দেখছে। শ্রবণকে এত দ্রুত ফিরে আসতে দেখে খুশি হয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। যাক আজকে আর অত বেশি ভয় পেতে হবে না।

শ্রবণ সোহার দিকে একবার তাকিয়ে ফোন, ওয়ালেট আর চাবি রেখে দেয় জায়গা মতো। শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়।

সোহা আবার শুয়ে পড়ে, দৃষ্টি স্থির করে ফোনের স্ক্রিনে। টাকি মাছ ভর্তা করা রেসিপি শিখছে।

প্রায় বিশ পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে শ্রবণ। সোহা ঘাড় ঘুরিয়ে শ্রবণের দিকে তাকায়। ওর নির্লজ্জ দৃষ্টি কেন যেন বারবার শ্রবণের উদোম শরীরে স্থির হয়ে যায়। জিম করা পেটা দেহ নজর কাড়ার মতোই আকর্ষণীয়।

“দেখবি?”

সোহা কিছু বোঝা বা বলার আগেই শ্রবণ দুই হাতে দুদিকে মেলে ধরে টাওয়েল।

“নে, দেখ ভালোভাবে।”

সোহা ফট করে ব্ল্যাঙ্কেট টেনে মাথা ঢেকে নেয়। উল্টো ফিরে মনে মনে বলে,

“পুরুষ মানুষ বলেই কি এত নির্লজ্জ হতে হবে নাকি?”

হঠাৎ সোহার ওপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরে যায়। ঘাড় ঘুরাতেই দেখে শ্রবণ ওর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। খিঁচে চোখ বন্ধ করে নেয় দ্রুত।

শ্রবণ সোহাকে টেনে নিজের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করে বলে,

“এই, ফের এদিকে।”

সোহা শক্ত হয়ে শুয়ে আছে। দ্রুত দুদিকে মাথা নেড়ে বলে,

“দেখবো না, কিছু দেখবো না আমি।”

“দেখবি না কেন? দেখ।”

“না না না, আমি দেখবো না।”

“দেখার বাদ-ই বা রেখেছিস কি? সবই তো দেখা শেষ।”

“কিচ্ছু দেখিনি আমি।”

“আসলেই?”

সোহা চুপ করে থাকে। শ্রবণ ওকে টেনে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে,

“এই ডাইনির বাচ্চা, চোখ খোল। সব তো আগেই দেখেছিস, এখন আর কি দেখার বাকি আছে?”

“তুমি ট্রাউজার পরো আগে।”

“চোখ খোল বলছি।”

শ্রবণের রাগী গলার স্বর শুনে চোখ মেলে তাকায় সোহা। শ্রবণ বলে,

“এভাবে যে তাকিয়ে থাকিস, নজর লাগবে না আমার?”

“কী… কীভাবে তাকিয়েছি?”

“চোখ দিয়ে গিলে খাওয়ার মতো করে।”

“ওভাবে তাকাইনি আমি, শুধু একটু তাকিয়েছি।”

“একটু তাকিয়েছিস কিন্তু পুরোটা দেখে নিয়েছিস।”

লজ্জায় চোখ বন্ধ করে দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেলে সোহা। নিজেই তো দেখিয়েছে, ও কি দেখতে চেয়েছিল নাকি? যদি জানতো নির্লজ্জ ছেলে এমন কিছু করবে তাহলে তো তাকাতোই না। দিন দিন এই ছেলের লজ্জাশরম হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। শ্রবণ আগে মোটেও এমন ছিল না, পরিবর্তন হচ্ছে ভালো কথা তাই বলে এমন ভয়ংকর পরিবর্তন? তাকিয়ে ছিল বলে টাওয়েল খুলে দেখিয়ে দিল! অদ্ভুত পুরুষ।

“এ ডাইনির বাচ্চা, তাকা।”

সোহা পিটপিট করে তাকায় আবার।

“নিচে দেখ।”

সোহা দ্রুত দুদিকে মাথা নাড়ে।

“দেখতে বলেছি আমি।”

সোহা ধীরে ধীরে চোখ কোনা করে তাকায় নিচের দিকে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে, এতক্ষণ তো দম আটকে রেখেছিল। টাওয়েল পরেই আছে।
শ্রবণের মুখের দিকে তাকাতেই শ্রবণ ভ্রুজোড়া নাচায়। সোহা দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসবে এমন সময় শ্রবণ হাত বাড়িয়ে ডিম লাইটটা অন করে মেইন লাইট অফ করে দেয়। বিছানায় শুয়ে সোহাকে চেপে ধরে ঘাড়ে মুখ গুঁজে চুমু খায়। সোহা ছটফটিয়ে বলে,

“কী করছ? ছাড়ো।”

“ডোন্ট ডিস্টার্ব, আমার ফিলিংস এখন রোমান্টিক।”

সোহা ছটফট করতে করতে বলে,

“খাবার খেয়েছিলে?”

শ্রবণ ঘোর লাগা স্বরে বলে,

“হ্যাঁ। এখন তোকে চুমু খাব তাই ডিস্টার্ব না করে চুপচাপ থাক।”

সোহা শ্রবণের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য আবার বলে,

“রাতের খাবার খাবে না? খে…….”

পুরো কথা শেষ করার আগেই শ্রবণ সোহার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে নিজের ওষ্ঠ দিয়ে।
সোহার ছটফটানি থেমে যায়। বোঝা শেষ শ্রবণ এখন আর ওকে ছাড়বে না। কোন দুঃখে তাকিয়েছিল?


মাঝখানে কয়েকদিন পেরিয়ে গেছে।
শ্রবণকে সঙ্গে নিয়ে খাবার খাওয়ার জন্য আসে সোহা।
শ্রবণ একটা চেয়ার টেনে বসে, সোহা ওর জন্য খাবার বেড়ে দিয়ে পাশের একটা চেয়ারে বসে। গত কয়েকদিন ধরে শ্রবণ আগে খায় পরে সোহা খায়। এর মধ্যে আর সোহার বমি হয়নি খাওয়ার সময়। তবুও এক সঙ্গে খেতে বসে না আর। শ্রবণের খাওয়া নষ্ট করতে চায় না সোহা।

শ্রবণ হাত ধুয়ে খাবার মেখে মুখে পুরতে নিয়ে সোহার মুখের দিকে তাকায়। সোহা নিচের দিকে দৃষ্টি রেখে বসে আছে। শ্রবণের হাত থেমে যায়। হাতের খাবার প্লেটে রেখে গম্ভীর গলায় বলে,

“তোর জন্য খাবার বাড়।”

সোহা মুখ তুলে তাকায়। শ্রবণ পুনরায় একই কথা বলে। সোহা মৃদু স্বরে বলে,

“তুমি খেয়ে নাও আগে।”

“বাড়তে বলেছি, বাড়।”

শ্রবণের রাগী স্বর শুনে মিনমিন করে বলে,

“আমি পরে খাই, তুমি খাওয়া শেষ করো।”

শ্রবণ হাত বাড়িয়ে সোহার সামনে প্লেট দেয়। শক্ত গলায় বলে,

“আমার সঙ্গেই খাবি।”

সোহা মিনমিন করে বলে,

“যদি সেদিনের মতো কিছু হয়?”

“হলে হবে, তুই খা।”

সোহা আর কথা বাড়ায় না, নিজের জন্য খাবার বাড়তে শুরু করে।
শ্রবণ তাকিয়ে রইল সোহার মুখের দিকে। সোহা খাবার বেড়ে শ্রবণের মুখের দিকে তাকায়। সোহা তাকাতেই দ্রুত দৃষ্টি নামিয়ে নেয় শ্রবণ। লম্বা একটা শ্বাস টেনে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,

“খাওয়া শুরু কর।”

সেদিন যখন বললাম 3k রিয়েক্ট পূরণ না হলে গল্প দেবো না তখন আপনারা কি করলেন? মাত্র চার ঘণ্টায় 3k প্লাস রিয়েক্ট পূরণ করলেন। এভাবে কি রোজ রেসপন্স করা যায় না? আমাকে বারবার কেন বলতে হবে রেসপন্স করার জন্য? আপনারা চাইলেই চব্বিশ ঘন্টায় 6k রিয়েক্ট পূরণ করতে পারবেন কিন্তু করেন না। কয়েক মিনিট ব্যয় করে গল্প পড়তে পারবেন অথচ এক সেকেন্ড ব্যয় করে একটা লাইক দিতে পারবেন না? ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে আমি কাদের জন্য লিখি আর কীসের জন্য লিখি?

আমি চুপচাপ কোনো ডিমান্ড ছাড়া নিয়মিত গল্প দেই বলে আপনারাও চুপচাপ গল্প পড়ে চলে যান।
এখন থেকে প্রত্যেক পার্টে 4k রিয়েক্ট পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গল্পের নেক্সট পার্ট আসবে না তাতে যতদিনই লাগুক না কেন। আপনারা লাইক কমেন্ট করতে যেমন আলসেমি করবেন আমিও গল্প দিতে তেমন আলসেমি করব এখন থেকে ইনশা-আল্লাহ।

চলবে………..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply