দিশেহারা (৩৬)
সানা_শেখ
শ্রবণের গাড়ি বিল্ডিং-এর আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং লটে এসে দাঁড়ায়। সোহার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই সোহা গাড়ি থেকে নামার জন্য দরজা খোলার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। শ্রবণ দরজা লক করে দিয়েছে সবগুলো।
ঘাড় ঘুরিয়ে শ্রবণের দিকে তাকায় ভয়ে ভয়ে। শ্রবণের চাহনি এখনই ওকে ভস্ম করে দিতে চাইছে।
শ্রবণ দরজা খুলে দিতেই সোহা নেমে দাঁড়ায়। শ্রবণ গাড়ি পার্ক করে রেখে সোহার হাত ধরে এক প্রকার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে শুরু করে লিফটের দিকে।
শ্রবণের সঙ্গে হেঁটে পেরে উঠছে না সোহা।
লিফটের সামনে এসে দেখে লিফট উপরে রয়েছে। সোহার হাত ধরে রেখেই সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায়। সিঁড়ির দিকে আগাতে দেখেই সোহার গলা শুকিয়ে কাঠ। এতগুলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে এখন? এমনিতেই অসুস্থ আবার প্রেগন্যান্ট, এতগুলো সিঁড়ি বেয়ে উঠে ওর অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে আরও। মাথা ঘুরছে এখনো।
দুই তলা পর্যন্ত উঠেই হাঁপিয়ে উঠেছে সোহা। আর উঠতে পারছে না। এত দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে ওঠা যায়?
“একটু আস্তে হাঁটো, আমি এত দ্রুত হাঁটতে পারছি না।”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকায়। শ্রবণের চাহনি-ই যেন বলে দিচ্ছে, “তোকে এভাবেই হাঁটতে হবে।”
সোহাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আবার উপরে উঠতে শুরু করে শ্রবণ। অল্পকিছু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে শক্ত হয়ে দাঁড়ায় সোহা। শ্রবণের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে,
“আমি এভাবে উঠতে পারবো না। তুমি বাবুকে মা’রা’র জন্য আমাকে এভাবে উপরে তুলছো তাইনা?”
শ্রবণ আরও শক্ত করে চেপে ধরে সোহার হাত। সোহার মনে হচ্ছে শ্রবণের হাতের মুঠোয় থাকা হাতের হাড় এখনই মটমট করে ভেঙে যাবে। চোখ জোড়া পানিতে টুইটুম্বর হয়ে গেছে। ওষ্ঠ জোড়া তিরতির করে কাঁপছে। জড়ানো গলায় বলে,
“মাথা ঘুরছে আমার, একটু আস্তে হাঁটো।”
শ্রবণ কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। সোহাকে আগের মতোই টেনে নিয়ে উপরে উঠতে শুরু করে।
পুরো পাঁচ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে উঠে সোহার অবস্থা নাজুক। মাথা তো ঘুরছেই সঙ্গে চোখ জোড়াও ঘোলা হয়ে এসেছে। চারপাশের সব ঝাপসা দেখছে। আর এক কদমও হাঁটতে ইচ্ছে করছে না। একটা মানুষ এত নির্দয় কীভাবে হয়? নিজের বউ-বাচ্চার প্রতি এ-কেমন আচরণ? একটা বাবু হলে কী হবে? বাবু নিয়ে এত সমস্যা কেন?
ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে সোহা আগে আগে বেডরুমের দিকে এগিয়ে যায়।
শ্রবণ দরজা লক করে রুমে আসে। সোহা বিছানায় বসে আছে। শ্রবণকে দেখে সোহা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। শ্রবণ ঝড়ের বেগে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়। চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে রাগে ফোস ফোস করতে করতে বলে,
“কি বলেছিলাম তোকে আর তুই কি করেছিস?”
সোহা শ্রবণের হাত সরিয়ে দেয় শক্তি প্রয়োগ করে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“বিয়ের পর থেকে তোমার কথা মতোই তো চলছি। যখন যা বলেছো সেটাই করেছি। তোমার এনে দেওয়া সবগুলো পিল খেয়েছি।”
“খেলে বাবু পেটে আসলো কীভাবে? এই কু/ত্তা/র, বাচ্চা, আমাকে পাগল পেয়েছিস তুই? পিল না খেয়ে ফেলে দিয়ে এখন বলছিস খেয়েছি?”
“খোদার কসম, বিশ্বাস করো আমার কথা, পিল ফেলিনি, খেয়েছি, একদিনও গ্যাপ যায়নি তার পরেও বাবু কীভাবে পেটে এসেছে আমি জানি না।”
“আগামীকাল অ্যাবর্শন করতে নিয়ে যাব এই কথা মস্তিষ্কের ভেতর গেঁথে রাখ।”
“কেন এমন করছ? ও তো তোমারই সন্তান, তোমারই র’ক্ত, ওকে কেন মা’র’তে চাইছ? ও আসুক না দুনিয়ায়। ওকে খাওয়াতে পরাতে পারবে না এমন তো নয়। টাকা পয়সা তো কম নেই তোমার। একটা বাবু হলে সমস্যা কোথায়?”
“অনেক সমস্যা, তোকে তো এতকিছু বলতে পারবো না। বাবু হবে না এটাই শেষ কথা।”
সোহার গলার স্বর কিছুটা কঠোর হয়। শ্রবণের চোখে চোখ রেখে শক্ত গলায় বলে,
“আমি বাবুকে মা’র’তে দেবো না। তুমি বাবা হয়ে ওকে মা’র’তেই পারো কিন্তু মা হয়ে আমি ওকে মা’র’তে পারবো না। যদি মা’র’তেই হয় আমাকে মে’রে ফেলো, দুজনেই ম’রে যাই একসাথে।”
“কু/ত্তা/র বাচ্চা, তোর এত বড়ো সাহস তুই আমার মুখের উপর কথা বলছিস!”
খপ করে সোহার গলা চেপে ধরে শ্রবণ। সোহা শ্রবণের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কষ্ট হলেও মুচকি হাসে। ওর হাসি দেখে অবাক না হয়ে পারে না শ্রবণ। আপনাআপনি ছেড়ে দেয় গলা।
ছাড়া পেয়ে খুঁক খুঁক করে কেশে ওঠে সোহা। ফরসা চেহারা লাল হয়ে গেছে। চোখ দুটো বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। চোখের পানি মুছতে মুছতে শ্রবণের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ছেড়ে দিলে কেন? মে’রে ফেলো আমাদের, মুক্তি পেয়ে যাই তোমার আর এই স্বার্থপর দুনিয়ার কাছ থেকে।”
শ্রবণ সোহার চোয়াল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“কান খুলে শুনে রাখ, তোর মুক্তি নেই আমার কাছ থেকে।”
সোহা শ্রবণের হাত সরিয়ে ওর শার্ট খামচে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“তাহলে কেন নিজের সন্তানকে খু’ন করতে চাইছ? আমরা চাইনি, তার পরেও ও আমাদের মাঝে এসেছে। যখন এসেছে তখন থাকুক না আমাদের মাঝেই, আল্লাহ তা’য়ালা চেয়েছেন বলেই তো ও এসেছে। তুমি কেন নিষ্পাপ জীবনটাকে মে’রে পাপ করতে চাইছ? আমাকে মে’রে ফেলো কিন্তু আমি ওকে মা’রতে দেবো না। ওকে আমি নিজের কাছ থেকে আলাদা করবো না।”
শ্রবণ সোহার হাত টেনে বিছানা থেকে নামানোর চেষ্টা করে বলে,
“ওঠ, এখনই অ্যাবর্শন করতে যাব।”
সোহা শ্রবণের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে শ্রবণের দুই পা জড়িয়ে ধরে বসে পড়ে নিচে। সোহা জানে কঠোর হয়ে কোনোভাবেই শ্রবণকে দমানো বা বোঝানো যাবে না। সোহা এটাও জানে চাইলেও শ্রবণকে ছেড়ে যেতে পারবে না, শ্রবণ নিজেই ওকে যেতে দেবে না।
শ্রবণের হাঁটুর সঙ্গে মাথা ঠেকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“এত নির্দয় হইয়ো না। বাবা হয়ে নিজের সন্তানকে কীভাবে মা’র’তে চাইছ? এত দয়া মায়া হীন কীভাবে হচ্ছো? তোমার কাছে আমার প্রথম আর শেষ চাওয়া, আমার সন্তানকে কেড়ে নিও না আমার কাছ থেকে।”
“পা ছাড় আমার।”
“তোমার কাছে আমাদের সন্তানের জান ভিক্ষা চাইছি আমি। ওকে তুমি দুনিয়ায় আসতে দাও। ও বেঁচে থাকলে তোমার কী খুব বেশিই ক্ষতি হয়ে যাবে? আজকের এই কাজের জন্য একদিন তুমি ভীষন আফসোস করবে। এমন কিছু কোরো না যার জন্য সারাজীবন আফসোস করতে হয়।”
“পা ছাড়তে বলেছি আমি।”
সোহা কিছু বলার আগেই পর পর কলিং বেল বাজতে শুরু করে। দু’জনেই তাকায় দরজার দিকে। কে এসেছে? এভাবে বেল বাজাচ্ছে কেন?
“পা ছাড়।”
সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে পা ছেড়ে দেয়। শ্রবণ গালি দিতে দিতে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। সোহা নিচ থেকে উঠে বিছনায় বসে। পেটের উপর হাত রেখে বলে,
“তোমার বাবা পাগল হয়ে গেছে, ওকে আমি কীভাবে বোঝাবো, শান্ত করবো?”
শ্রবণ দরজা খুলে দেখে সামাদ চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন। নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে সামাদ চৌধুরী বলেন,
“কেমন আছো, দাদু ভাই?”
শ্রবণ গম্ভীর থমথমে গলায় বলে,
“ভালো, তুমি?”
“আলহামদুলিল্লাহ। ভেতরে আসতে দেবে না নাকি?”
শ্রবণ পথ ছেড়ে দাঁড়ায়। সামাদ চৌধুরী ভেতরে প্রবেশ করেন। শ্রবণ দরজা লাগিয়ে পেছন ফিরতেই সামাদ চৌধুরী নাতিকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছসিত হয়ে বলেন,
“বাবা হওয়ার জন্য অভিনন্দন, দাদু ভাই।”
“কে বললো তোমাকে?”
“যেই বলুক, শুনেছি।”
“হাসান বলেছে?”
“সোহা কোথায়?”
শ্রবণকে ছেড়ে বেড রুমের দিকে এগিয়ে যান সামাদ চৌধুরী। শ্রবণ রাগে নিজের মাথার চুল দুই হাতে খামচে ধরে। হাসানের গুষ্টির পিন্ডি চটকাতে চটকাতে রুমের দিকে আগায়।
সামাদ চৌধুরী রুমে এসে সোহার সামনে দাঁড়ান। সোহা দাদার মুখের দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছে। সামাদ চৌধুরী নাতনির পাশে বসে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন,
“শান্ত হও দাদু ভাই, কিছু হবে না, আমি শ্রবণকে বোঝাব।”
সোহা শান্ত হতে পারে না। সামাদ চৌধুরী শ্রবণের দিকে তাকান। শ্রবণ রাগে লাল হয়ে তাকিয়ে আছে।
নাতনিকে শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে শ্রবণের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“এসব কি, দাদু ভাই? এমন কিছু শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তুমি নিজের সন্তানকে কেন মা’রতে চাইছ?”
“কোনো সন্তান চাই না আমার।”
“চাইবে না বলেই একটা প্রাণ কেড়ে নেবে?”
“হ্যাঁ।”
“লজ্জা হওয়া উচিত তোমার। এমন কথা কীভাবে বলছ?”
“যেভাবে শুনছো তুমি, সেভাবেই বলেছি।”
“কেন মা’রতে চাইছ? বাচ্চাটা কোনো ক্ষতি করেছে তোমার? তুমি নিজের বাবাকে ঘৃণা করো অথচ নিজেই এখন নিজের সন্তানকে খু’ন করার মতো ঘৃণিত কাজ করতে চাইছ। তোমার বাবা তো তবুও তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তুমি তো তাও রাখতে চাইছো না। পৃথিবীতে আসার আগেই অস্তিত্ব মুছে দিতে চাইছো একটা প্রাণের।”
“জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে ম’রে যাওয়া অনেক ভালো।”
“তুমি মানছ, তুমি তোমার বাবার মতো একজন বাবা হবে?”
শ্রবণ চুপ করে থাকে। সামাদ চৌধুরী সোহাকে ছেড়ে শ্রবণের কাছে এগিয়ে আসেন। শ্রবণের দুই কাঁধ দুই হাতে ধরে বলেন,
“তুমি নিজেকে, সোহাকে আর তোমাদের দু’জনের সন্তানকে একটা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন দাও। পুরো দুনিয়াকে দেখিয়ে দাও তুমি তোমার বাবার মতো বাবা নয়। তুমি বেটার নয় বেস্ট একজন বাবা আর হাজব্যান্ড। তোমার বাবা তোমার মাকে ঠকিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে, তোমার জীবন নষ্ট করেছে, এর মাশুল কি তোমার স্ত্রী-সন্তান ডিজার্ভ করে? তুমি যদি এমন করো তাহলে তোমার আর তোমার বাবার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?”
শ্রবণ একটা কথাও বলে না, পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। সোহার দিকে তাকিয়ে দেখে ওদের দিকে তাকিয়ে হেঁচকি তুলে কাঁদছে।
“দাদু ভাই, এখনো সময় আছে ভুল থেকে বেরিয়ে আসো। তুমি কি ভেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছো আমি জানি না, আমি শুধু চাই তুমি এই ভুল না করো। আমাদের এমন কিছু করা উচিত নয় যার জন্য পরে আফসোস করতে করতে শেষ হয়ে যেতে হয়।”
শ্রবণ একদম নিশ্চুপ। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ধুপধাপ পা ফেলে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে ধারাম করে দরজা লাগায়। সোহা আর সামাদ চৌধুরী সহ পুরো ফ্ল্যাট কেঁপে ওঠে। ভেতরে কি যেন আছড়ে ফেলছে, বাইরে থেকে স্পষ্ট শব্দ শুনতে পাচ্ছে দু’জন।
সোহা দাদার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঝরঝর করে কেঁদে ওঠে। সামাদ চৌধুরী নাতনির কাছে এগিয়ে আসেন আবার। ওনার এই শান্ত-শিষ্ট, সহজ-সরল, ভীতু নাতনিটা কীভাবে শ্রবণের সঙ্গে সংসার করছে তা সোহা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন। একজনের ভালো করতে চেয়ে আরেকজনের ক্ষতি করছেন না তো?
সোহা দাদার দুই হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“দাদা ভাই, আমাকে নিয়ে চলো এখান থেকে। আমি থাকবো না আর এখানে। তোমার নাতি মে’রে ফেলবে আমাদের।”
“কিছু হবে না, দাদু ভাই, ভয় পেও না।”
“তুমি জানো না, ওর অনেক রাগ। তুমি চলে গেলে ও আমাদের মে’রেই ফেলবে। আমি থাকবো না এখানে।”
“কিছু করবে না।”
“তুমি ওকে ভার্সিটির র্যাগিং-এর কথা বলার পর ও বাড়িতে গিয়েছিল না? সেদিন চড় মে’রেছিল, গলা চেপে ধরেছিল, বালতিতে চুবিয়ে মে’রেই ফেলছিল প্রায়।”
“তোমার সঙ্গে এসব কখন করেছিল?”
“দুপুরের পর। তুমি এসব ওকে বোলো না কোনোদিন, দাদা ভাই। আজকে এত কিছু বললে, ওয়াশরুমে ঢুকে কেমন করলো তুমি তো শুনলেই। আমি থাকবো না এখানে, আমাকে নিয়ে চলো প্লীজ। ওকে আর কোনো কিছু বোলো না। ও আমাকে মে’রে’ছিল, এটা আমি তোমাকে বলেছি এটাও কোনোদিন মনের ভুলেও বলবে না ওকে।”
সামাদ চৌধুরী নাতনিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করেন।
এসি বন্ধ রয়েছে। সোহা ঘেমে একাকার। কাঁদতে কাঁদতেও নাজেহাল অবস্থা।
সামাদ চৌধুরী নাতনির গাল মুছিয়ে দিতে দিতে বলেন,
“হিজাব খোলো, ঘেমে গেছো তো।”
“দাদা ভাই, আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো। দূরে কোথাও লুকিয়ে রাখো যেন তোমার নাতি খুঁজে না পায়।”
“হ্যাঁ, নিয়ে যাব কান্না বন্ধ করো।”
বিছানা ছেড়ে উঠে এসির রিমোট খুঁজে এসি অন করেন। জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে সোহার হাতে দেন খাওয়ার জন্য।
সোহা পানি পান করে হিজাব খুলে ফেলে। অনেক গরম লাগছে। মাথা ঘুরছে এখনো, বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছে এখন। কাত হয়ে শুয়ে পড়ে। হেঁচকি তুলে কাঁদছে এখনো।
সামাদ চৌধুরী দাঁড়িয়ে রইলেন। ভাবছেন অনেক কিছু।
আধা ঘন্টা পর ওয়াশরুম থেকে বের হয় শ্রবণ। বিছানায় শুয়ে বসে থাকা বউ আর দাদার দিকে একবার তাকিয়ে কাভার্ড-এর সামনে এসে দাঁড়ায়। ভেতর থেকে ট্রাউজার বের করে পরে নেয়। টিশার্ট পরতে পরতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। সামাদ চৌধুরী বিছানা ছেড়ে উঠে শ্রবণের কাছে এগিয়ে আসেন। শান্ত স্বরে বলেন,
“সোহাকে আমার সঙ্গে নিয়ে যাই, কিছুদিন থেকে আসবে ওই বাড়িতে।”
শ্রবণ শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় দাদার মুখের দিকে। শান্ত স্বরেই বলে,
“নিয়ে যাও।”
সামাদ চৌধুরী আর সোহা দুজনেই অবাক হয়ে গেছে শ্রবণের কথা শুনে। সামাদ চৌধুরী আবার বলেন,
“আমি কিন্তু সিরিয়াস হয়েই বলছি, দাদু ভাই।”
শ্রবণ চুল ব্রাশ করতে করতে বলে,
“তোমার কি মনে হচ্ছে, আমি তোমার সঙ্গে মজা করছি?”
“সত্যিই নিয়ে যাব?”
“যাও।”
সোহা শোয়া থেকে উঠে বসেছে। সামাদ চৌধুরী সোহার দিকে তাকিয়ে বলেন,
“সোহা, চলো আমার সঙ্গে।”
সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকায়। শ্রবণ ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। শান্ত স্বরে বলে,
“যা।”
সোহা বিছানা ছেড়ে নেমে ধীর পায়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“দাদা ভাই, যাব না তুমি চলে যাও।”
“শ্রবণ তো যাওয়ার পারমিশন দিয়েছে।”
সোহা পেছন ফিরে তাকায় দু’জনের দিকে। জোর পূর্বক ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি টেনে বলে,
“থাক, যাব না।”
ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয় সোহা। শ্রবণ দাদার আড়ালে মুচকি হাসে।
চলবে……..
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৫
-
দিশেহারা পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ১২
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ২৪
-
দিশেহারা পর্ব ১৮
-
দিশেহারা পর্ব ৬
-
দিশেহারা পর্ব ৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩৩
-
দিশেহারা পর্ব ১১