দিশেহারা (২৫)
সানা_শেখ
শ্রবণ হাসানের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তোর মামাতো বোন ফাস্ট ইয়ারে না?”
“হ্যাঁ।”
“কোন ডিপার্টমেন্ট?”
“ইংরেজি।”
“আজকে এসেছে?”
“হ্যাঁ।”
“ওকে ডাক এখানে।”
“কেন?”
“দরজার আছে, ডাক।”
হাসান কিছুক্ষণ শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ওর মামাতো বোনের ফোনে কল করে।
সোহাকে শ্রবণ নিজে ক্লাসে রাখতে আসে। সবাই কেমন করে তাকিয়ে আছে দু’জনের দিকে।
শ্রবণ সোহাকে হাসানের মামাতো বোন রিতার পাশে বসায়। ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে আরও একবার বলে,
“কেউ কিছু বললে ভয় না পেয়ে আমাকে কল করবি। আর রিতা তোমার কাছে তো আমার নাম্বার আছেই, ও না পারলে তুমি কল করবে।”
রিতা মাথা নেড়ে বলে,
“ঠিক আছে, ভাইয়া। আপনি টেনশন করবেন না, আমি খেয়াল রাখবো ওর দিকে।”
শ্রবণ ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়, ওর সাথে সাথে পা মিলিয়ে হাসান নিজেও বেরিয়ে যায়।
ক্লাসের সব মেয়েরা কৌতূহল নিয়ে সোহার দিকে তাকিয়ে আছে। মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে কিন্তু করতে পারছে না।
রিতা নিজেও কৌতূহল দমাতে না পেরে বলে,
“সোহা।”
সোহা দরজার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রিতার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“হ্যাঁ, বলো।”
“তুমি আর শ্রবণ ভাইয়া সত্যি সত্যিই কাজিন?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে ভাইয়া সেদিন তোমাকে র্যাগিং করতে দিলো কেন?”
“করতে দেয়নি, সে নিজেই করেছিল।”
আস্তে আস্তে বললেও রিতা শুনতে পায়। বিস্ময় নিয়ে বলে,
“ভাইয়া নিজেই সেদিন র্যাগিং করেছিল!”
“হ্যাঁ।”
“তোমরা রিলেশন করে বিয়ে করেছ?”
সোহা দুদিকে মাথা নেড়ে “না” বোঝায়।
রিতা তাকিয়ে থাকে সোহার মুখের দিকে। আরও অনেক প্রশ্ন গিজগিজ করছে মাথায় কিন্তু এত প্রশ্ন করলে সোহা কি মনে করবে এটা ভেবে করছে না। হাসানকে অনেক প্রশ্ন করেছিল গতরাতে বজ্জাত ছেলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আর একটা প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি, উল্টো ওকে ঠেলে রুমের বাইরে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়েছিল মুখের উপর।
সোহার ক্লাস শেষ হলে শ্রবণ নিজে এসে ওকে নিয়ে যায়। শ্রবণের আজকে আর কোনো ক্লাস নেই। সোহাকে ফ্রন্ট সিটে বসিয়ে নিজে বসে ড্রাইভিং সিটে। বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ছুটে চলে ফ্ল্যাটের দিকে।
হাসান বাইক স্টার্ট দেবে এমন সময় তড়িঘড়ি করে রিতা এসে ওর বাইকের পেছনে উঠে বসে।
বিরক্তিতে হাসানের কপাল ভ্রু কুঁচকে গেছে যদিও হেলমেটের জন্য বোঝা যাচ্ছে না তা।
সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে চরম বিরক্তির সুরে বলে,
“তোকে বলেছি না আমার বাইকের পেছনে বসবি না? নাম।”
“নামবো না, তুমি তো এখন বাড়িতেই যাবে, তাহলে আমাকে নিতে সমস্যা কোথায়?”
“বাচালের বাচ্চা বাচাল নাম আমার বাইক থেকে, তোর সঙ্গে বকবক করতে পারবো না আমি।”
“তুমি আমার সামনে আমার আম্মুকে বাচাল বলছো আবার?”
“একশোবার বলব, তোর মায়ের সামনেই বলবো আবার, তোর মা বাচাল সঙ্গে তুইও। নাম এখন।”
“নামবো না।”
“ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবো কিন্তু।”
“দাও।”
হাসান ঘাড় ঘুরিয়ে রিতার মুখের দিকে দেখার চেষ্টা করে বলে,
“নাম বলছি।”
রিতা এক হাত হাসানের কাঁধের ওপর রাখে। হাসান ঝাড়ি মে রে সরিয়ে দিয়ে বলে,
“ছুঁবি না আমাকে বজ্জাত ছেমরি, নাম বাইক থেকে।”
রিতা হাসানের কোমর জড়িয়ে ধরে সুর তুলে বলে,
“নাম…বো… না…।”
হাসান আশেপাশে নজর বুলায়, কয়েকজন তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। বেশি কিছু না বলে বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বলে,
“আজকে বাড়িতে ফিরে তোর ঠ্যাং বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখব।”
রিতা মুখ ভেংচি কা’টে। হাসানের কোমর ছেড়ে কাঁধের ওপর এক হাত রেখে শক্ত করে ধরে বসে।
গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে হাসানের বাইক। রিতা বাইক থেকে নেমে বাড়ির ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। হাসান বাইক পার্ক করে নিজেও ভেতরের দিকে আগায়। ড্রয়িং রুমে আসতেই নানি আর মামির সঙ্গে দেখা হয়। হাসানের চেহারা দেখে ওর নানি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“নানা ভাই চেহারার এই হাল কেন? কী হয়েছে?”
হাসান চোখমুখ গম্ভীর করে বলে,
“তোমার নাতনিকে বিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করার ব্যবস্থা করো দ্রুত।”
“কেন, কী হয়েছে আবার?”
“বড়ো হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে না? বিয়ে দিয়ে দাও।”
“পাত্র খুঁজে বের করো।”
“ঠ্যাকা পড়েনি আমার।”
কথাগুলো বলেই ধুপধাপ পা ফেলে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। রিতার মা মিসেস রিমা শাশুড়ি মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“আজকে এমন খেপে গেছে কেন?”
“রিতা বোধহয় কিছু করেছে বা বলেছে।”
“হতে পারে। কারো থেকে তো কারো জেদ কম না।”
ত্রিশ মিনিট পরেই নিচে নেমে আসে হাসান। পরনে ধূসর রঙের টিশার্ট আর ট্রাউজার। চুলগুলো ভেজা, এলোমেলো হয়ে আছে। গোসল সেরেই নিচে নেমে এসেছে।
মিসেস রিমা রান্না ঘর থেকে তরকারি গরম করে নিয়ে ডাইনিং রুমে প্রবেশ করেন। হাসান চেয়ারে বসে পানি পান করছে।
রিতা এখনও আসেনি নিচে।
মিসেস রিমা হাসানের জন্য খাবার বেড়ে দেন। হাসান মামির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তুমি খেয়েছ?”
“হ্যাঁ।”
“নানু?”
“খেয়েছে, তুমি খাও।”
হাসান খাওয়া শুরু করে। মিসেস রিমা হাসানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন একদৃষ্টে। হাসান প্লেটের দিকে দৃষ্টি রেখেই বলে,
“কিছু বলবে?”
মিসেস রিমা দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে বলেন,
“না, কি বলব?”
“রান্না দারুন হয়েছে।”
মিসেস রিমা কিছু বলবেন এর মধ্যে রিতা ডাইনিং রুমে প্রবেশ করে। চেয়ার টেনে বসতে বসতে হাসানের দিকে তাকায়। দু’জনের চোখাচোখি হতেই হাসান দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে বিড়বিড় করে কিছু বলে।
রিতা কপাল ভ্রু কুঁচকে হাসানের দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে বলে,
“খচ্চর ব্যাটা, নিশ্চই বিড়বিড় করে বকা দিচ্ছে আবার।”
বিকেল পাঁচটা।
লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে আসে স্পর্শ। চোখমুখ মলিন, বিষন্নতায় জেঁকে ধরেছে পুরোপুরি। হাসি খুশি ছেলেটার মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে একেবারেই।
ভার্সিটির গেট পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতেই দেখে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে সিয়াম আর সামাদ চৌধুরী। স্পর্শকে দেখেই দু’জন এগিয়ে আসে ওর দিকে। স্পর্শ নিজেও আগায় দু’জনের দিকে।
সিয়াম প্রত্যেক দিনই আসে ওর সঙ্গে দেখা করার জন্য। সামাদ চৌধুরী নিজেও আসেন নাতিকে দেখার জন্য। বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু স্পর্শের জেদের কাছে হার মানতে হয়েছে। স্পর্শ কিছুতেই বাড়িতে ফিরবে না।
তনিমা চৌধুরী অনেকবার এসেছিলেন ছেলের কাছে কিন্তু স্পর্শ দেখাই করেনি ওনার সঙ্গে। দূর থেকে দেখেই সরে গেছে সেখান থেকে। শামীম রেজা চৌধুরী তো দেশের বাইরেই রয়েছেন। স্পর্শের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। স্পর্শ বাবা-মা আর খালাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে। এই তিনজনের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্ক রাখতে চায় না।
সামাদ চৌধুরী মেঝ নাতিকে জড়িয়ে ধরে বলেন,
“কেমন আছো, দাদু ভাই?”
“আলহামদুলিল্লাহ, তুমি কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ। দুপুরে খাওনি? চোখমুখ এমন শুকিয়ে আছে কেন?”
“খাব একটু পর।”
“এখনও খাওনি? এত অনিয়ম করলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে, ভাই।”
স্পর্শ চুপ করে থাকে। খাওয়া? ওর তো বেঁচেই থাকতে ইচ্ছে করে না আর।
সামাদ চৌধুরী ছেড়ে দিতেই সিয়াম এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“ভাইয়া, বাড়িতে ফিরে চলো।”
“আর ফিরে যেতে বলিস না। কেমন আছিস?”
“ভালো।”
স্পর্শের চোখ দুটো পানিতে টুইটুম্বর হয়ে গেছে। সামাদ চৌধুরী নাতিদের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“গাড়িতে বসো দু’জন।”
“আমি বাড়িতে যাব না, দাদা ভাই।”
“বাড়িতে যাব না।”
“তাহলে কোথায় নিয়ে যাবে?”
“রেস্টুরেন্টে, আসো।”
দুই ভাই দাদার সঙ্গে উঠে বসে গাড়িতে। স্পর্শ উদাস হয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। ওদের তিন ভাইয়ের মতো জীবন যেন কারো না হয়।
সামাদ চৌধুরী স্পর্শের দিকে তাকিয়ে আছেন। শ্রবণ কিছুটা মুভ অন করলেও স্পর্শ এখনও পারেনি। ও এখনও সেই দিনটার মধ্যে ডুবে আছে, কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছে না।
শ্রবণের সঙ্গে সোহা আছে, ওর বন্ধুরা আছে। স্পর্শের সঙ্গে তো কেউ নেই, স্পর্শ বাইরের মানুষদের সঙ্গে মিশতে পারে না, ওর একটাও বন্ধু নেই সিয়াম ছাড়া। সিয়াম-ও আলাদা ভার্সিটিতে পড়ে।
শ্রবণের চেয়ে এখন স্পর্শের জন্য বেশি খারাপ লাগে ওনার। ছেলেটা এত বড়ো বড়ো আঘাত পেয়েছে যে হাসতে ভুলে গেছে, কাঁদতে ভুলে গেছে, কথা বলতে ভুলে গেছে। কাউকে কিছু বলতেও পারে না সহ্যও করতে পারে না। ভালোবাসা হারিয়ে যখন ভঙ্গুর হয়ে পড়লো তখন বাবা-মায়ের আসল রূপ একদম গুড়িয়ে দিল। এখন উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তিও নেই। ওর ভেতরে কেমন অনুভূতি হয় সেটা একমাত্র ও আর আল্লাহ তা’য়ালা ভালো জানেন।
দুপুরের খাবার খেয়েই বেরিয়ে গিয়েছিল শ্রবণ, এখন রাতের নয়টা বেজে গেছে কিন্তু এখনও ফেরেনি। সোহা দুরুদুরু বুকে বালিশ জড়িয়ে ধরে বসে আছে ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মাথা পর্যন্ত ঢেকে। নিচে কু’কু’র ডাকছে, রুমে বসে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সোহা। কু’কু’রের ঘেউ ঘেউ শুনে আরও ভূতুড়ে ফিল হচ্ছে সবকিছু। এই শ্রবণ ফিরবে কখন? ধমক খাওয়ার ভয়ে বেচারি কলও করছে না।
জানেই তো সোহা রাতে একা থাকতে ভয় পায়, তবুও কেন এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে? সন্ধ্যার পর বাইরে না গেলে কি হয়?
ধমক খাওয়ার ডর ভয় ঝেড়ে ফেলে ফোন হাতে নিয়ে শ্রবণের ফোনে কল করে। ভূ’তের ভয়ে ম’রা’র চেয়ে শ্রবণের ধমক খেয়ে বেঁচে থাকা অনেক ভালো। সোহা এখনই ম’র’তে চায় না, মাত্র তো ঊনিশ বছর।
প্রথমবার রিং হতেই ফোন রিসিভ হয়। ওপাশ থেকে ভেসে আসে শ্রবণের কর্কশ গলার স্বর।
“কী হয়েছে? ফোন দিচ্ছিস কেন?”
“কোথায় তুমি? কখন ফিরবে?”
“জাহান্নামে আছি, আসবি?”
সোহা শুকনো ঢোঁক গিলে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে বলে,
“আমার ভয় লাগছে, তুমি দ্রুত আসো।”
“আস্ত একটা ডাইনির বাচ্চা হয়ে এত কীসের ভয়?”
সামনে থেকে শ্রবণের গলার স্বর ভেসে আসায় মুখ তুলে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে শ্রবণ রুমে চলে এসেছে।
সোহা কান থেকে ফোন নামিয়ে নেয়।
শ্রবণ এমনভাবে তাকিয়ে আছে যে মনে হচ্ছে এখনই ওকে ধরে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
শ্রবণ বিছানার দিকে এগিয়ে আসতেই সোহা পিছিয়ে যায় কিছুটা।
শ্রবণ সোহাকে কিছু বলে না। পকেট থেকে ফোন বের করে রেখে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে সরে যায়। সোহা ফোস করে শ্বাস ছাড়ে, যাক বাবা বেঁচে গেছে।
বিছানা ছেড়ে নেমে বলে,
“তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো, আমি খাবার গরম করছি।”
শ্রবণ প্যান্টের বেল্ট খুলতে খুলতে বলে,
“খেয়ে এসেছি আমি, তুই খেয়ে আয় দ্রুত।”
সোহা কিছু না বলে বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
শ্রবণ প্যান্ট খুলে ট্রাউজার পরে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।
রাত বেশ গভীর। চারপাশ প্রায় নিস্তব্ধই। দূর থেকে দুই একটা গাড়ির শব্দ ভেসে আসছে সঙ্গে নেড়ি কু’কু’রের হাকডাক।
সোহার শ্বাস ভারী সঙ্গে শ্রবণের-ও। বন্দী রুমের ভেতর একে অপরের ভারী শ্বাস স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে দু’জন। রুমে ডিম লাইট জ্বলছে। সোহার চোখ জোড়া বন্ধ।
শ্রবণের পুরো শরীরের ভর সোহার ওপর। শ্রবণের মুখ সোহার ঘাড়ে। শ্রবণের উষ্ণ শ্বাস সোহার ঘাড়ে আছড়ে পড়ছে। হালকা করে বাইট দিতেই সোহা নড়েচড়ে ওঠে। শ্রবণ গাঢ় বাইট দেয়। আবারও কেঁপে ওঠে সোহা।
কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত হতেই ‘আহ্’ শব্দ করে চেঁচিয়ে ওঠে শ্রবণ। মেজাজ সপ্তমে চড়ে বসে মুহূর্তেই। সোহার ওপর থেকে সরে উঠে বসে নিজের গাল চেপে ধরে হাত দিয়ে। গালি দিয়ে বলে,
“কু/ত্তা/র বাচ্চা, কী বা/ল পড়ছস নাকে?”
বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়ায়, মেইন লাইট অন করে সোহার দিকে তাকিয়ে আবার গালি দিয়ে বলে,
“ডা’ই’নির বাচ্চা রা’ক্ষ’সী, আমার গালের মাংস খাওয়ার জন্য ওই চ্যাট দিয়ে রাখছিস নাকে? ওই বা/ল এখনই খোল নাক থেকে।”
ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়, ড্রেসিং টেবিলের লাইট অন করে গালের দিকে তাকায়। ফরসা গালে লম্বা হয়ে লাল দাগ পড়ে গেছে। মনে হচ্ছে এখনই র’ক্ত বেরিয়ে আসবে। নাক ফুলের সঙ্গে ঘষা খেয়েছে গালে। রোমান্টিক মুডের বারোটা বেজে গেছে। বউয়ের সঙ্গে রোমান্স করতে গিয়ে সাজা পেয়ে গেল, বেচারা। মেজাজটাই বিগড়ে গেছে।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে সরে এসে দাঁড়ায় বিছানার কাছে। সোহা শোয়া থেকে উঠে বসেছে। নাকে নাক ফুলটা দেখে মেজাজ আরও বিগড়ে যায়।
ধমক দিয়ে বাজখাঁই গলায় বলে,
“শ’য়’তা’নের বাচ্চা আমার বা/লডা এখনও নাকে দিয়ে রাখছিস? খোল নয়তো নাক টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।”
শ্রবণের কথা শুনে ভয়ে দ্রুত নাক ফুল খোলার চেষ্টা করে। অনেক শক্ত হয়ে লেগে আছে। ও নিজেও তো নাকে ব্যথা পেয়েছে নাক ফুলের চাপ লেগে।
শ্রবণ যখন নিজের খোঁচা খোঁচা দাড়ি ওয়ালা গাল দিয়ে ওর গালে ঘষা দেয় তখন তো ও নিজেও ব্যথা পায়। গাল জ্বলে ওঠে খোঁচা খোঁচা দাড়ির ঘষা খেয়ে। ওর নিজেরও তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে ‘তোমার খোঁচা খোঁচা দাড়ি ওয়ালা গাল দিয়ে আমার গালে ঘোসবে না।’ শুধু কি গালে? ঘাড়ে গলায়ও জ্বালা ধরিয়ে দেয় বদ লোকটা। নিজের দোষে ব্যথা পেয়ে এখন এসেছে ওকে বকাঝকা করতে।
অনেক চেষ্টার পর নাক ফুল খুলতে সক্ষম হয় সোহা। নাকে ব্যথা করছে। সেই বিয়ের দিন অনিমা চৌধুরী নাক ফুলটা পরিয়ে দিয়েছিলেন এরপর আর খোলা হয়নি। শ্রবণের ধমক খেয়ে বিয়ের দিন রাতে বাকি সব জুয়েলারী খুলে ফেলেছিল নাক ফুল বাদে।
শ্রবণ কপাল ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় তাকিয়ে থাকে সোহার মুখের দিকে। নাক ফুল খুলে ফেলায় কেমন যেন লাগছে সোহাকে দেখতে। চেহারার সৌন্দর্য অনেকটা কমে গেছে। ভালো লাগছে না দেখতে।
জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বলে,
“নাক ফুল পর।”
সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। শ্রবণ পানি পান করে বলে,
“কি বলেছি বুঝতে পারিসনি? নাক ফুল পর।”
“তুমি না খুলতে বললে?”
“এখন পরতে বলছি, পর।”
শ্রবণের কর্কশ গলার স্বর শুনে পুনরায় নাক ফুল পরে। শ্রবণ কিছুক্ষণ সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে লাইট অফ করে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে। গাল জ্বলছে। এই দাগ মিশতে কতদিন লাগবে আল্লাহ তা’য়ালা ভালো জানেন।
সোহা নিজেও শুয়ে পড়ে দূরত্ব বজায় রেখে। ব্যাটা বজ্জাত, সবসময় নিজের মর্জি চাপিয়ে দেয় ওর ওপর। ভালো হয়েছে, ও নিজে তো কিছু করতে বা বলতে পারবে না। ওর হয়ে ওর নাক ফুলোই প্রতিশোধ নিয়ে নিল।
চলবে………..
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন।
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ১৪
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ৪০
-
দিশেহারা পর্ব ২৯
-
দিশেহারা পর্ব ৪২
-
দিশেহারা পর্ব ১৫
-
দিশেহারা পর্ব ১২
-
দিশেহারা পর্ব ২০
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৬
-
দিশেহারা পর্ব ২