দিশেহারা (২১)
সানা_শেখ
শ্রবণের কথা শুনে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় সোহা। শ্রবণ ওর বুকে ভালোভাবে মুখ গুঁজে নিশ্চুপ হয়ে যায়। শ্রবণের ভেজা চুলের ছোঁয়ায় শিউরে উঠছে সোহার শরীর। চুলগুলো ভালোভাবে মোছা হয়নি বোধহয়। নিজের ওড়না দিয়ে আবারও মুছিয়ে দিতে শুরু করে।
চুলে ছোঁয়া পেয়ে শ্রবণের ঘুম ঘুম পাচ্ছে, আরাম লাগছে এখন। আগে এই জ্বর নিয়ে কতশত রাত কত কষ্ট করেছে হিসেব নেই। জ্বর উঠলে এভাবেই একা একা ছটফট করতো, উল্টাপাল্টা বকবক করতো।
ওর জ্বরের কথা শুনলে হাসান এসে থাকতো এখানে, জোর করে অল্প কিছু খাইয়ে ঔষুধ খাইয়ে দিত। মাথায় পানি ঢেলে দিত, বন্ধুর জন্য যতটুকু পারতো করতো।
শ্রবণ হাসানকেও অনেক জ্বালাতন করতো জ্বরের ঘোরে।
শ্রবণের ভারি শ্বাস ফেলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। গভীর ঘুমে বিভোর হয়ে গেছে। জ্বর নেমে গেছে এখন, শরীর ঠাণ্ডা। এখনও শক্ত করে সোহাকে জড়িয়ে ধরে আছে। শোয়ার সময় যে বড়ো বড়ো ডায়লগ ঝাড়ল সেগুলো কোথায় গেলো এখন? সেই তো ওর বুকেই মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে আছে। ছাড়তে বলেছে বলে আবার বলে ডোন্ট ডিস্টার্ব।
সকালে শ্রবণের ঘুম আগে ভাঙে।
চোখ বন্ধ কিন্তু কান আর মস্তিষ্ক সজাগ হয়েছে। স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে কারো ধীর গতিতে ছুটে চলা হৃদস্পন্দনের শব্দ। নাকে এসে ধরা দিচ্ছে মেয়েলি স্মেইল। চোখ মেলে তাকাতেই চোখের সামনে অন্ধকার ব্যতীত কিছুই দেখতে পায় না। বুক থেকে মুখ তুলে
মাথা পেছনের দিকে সরিয়ে নিয়ে আসে। অন্ধকার ব্যতীত অন্য কিছু দেখা যাচ্ছে না।
নিজের বাহু বন্ধনে কোনো এক নারী দেহ আবিষ্কার করে আর ভালোভাবেই বুঝতে পারে এটা ওর একমাত্র বউ সোহা চৌধুরী। সোহা নিজেও শ্রবণকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।
কিছু একটা ভেবে শ্রবণ পুনরায় সোহার বুকে মুখ গুঁজে দেয়। ওর এখন অনেক জ্বর না থাকলেও জ্বর ধীরে ধীরে বাড়ছে, শরীর গরম হয়ে উঠছে।
রাতে জ্বরের ঘোরে কি কি করেছে সেসব স্মরণ করার চেষ্টা করে তবে সেরকম কিছুই মনে পড়ে না, আবছা আবছা অল্প কিছু মনে আছে। মাথা ভার ভার হয়ে আছে, চোখ মেলে তাকাতে ইচ্ছে করছে না।
শ্রবণ আরও কিছু সময় সোহার বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকতে চাইলেও পারলো না। দ্রুত শোয়া থেকে উঠে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে, এখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিলেই নয়।
শ্রবণের তাড়াহুড়োতে উঠে যাওয়ায় সোহার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভেঙে গেলেও তাকাতে ইচ্ছে করছে না ওরো। চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছে অটোমেটিক। ঘুমিয়েছেই কিছুক্ষণ আগে।
শোয়া থেকে উঠে বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়ায়। রুমের লাইট অন করতেই শ্রবণ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। সোহা ঘুরে ওর মুখের দিকে তাকায়।
এক রাতেই শ্রবণের চোখ মুখ শুকিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
শ্রবণ সোজা এসে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে। দাঁড়ালে মাথা ঘুরছে, মনে হচ্ছে পড়ে যাবে ঠাস করে।
সোহা কিছু সময় ওর দিকে তাকিয়ে থেকে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
লাইটের আলো চোখে লাগায় শ্রবণ ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মাথাও ঢেকে নেয়।
সোহা ফ্রেশ হয়ে এসে শ্রবণের শিয়রে দাঁড়ায়। মৃদু স্বরে ডেকে বলে,
“ঘুমিয়ে গেছ? কী খাবে এখন?”
শ্রবণ ব্ল্যাঙ্কেটের নিচ থেকে মলিন স্বরে বলে,
“যা আছে রান্না কর, খিদে পেয়েছে আমার।”
“উঠে ফ্রেশ হয়ে ঔষুধ নিয়ে আসো।”
“তুই খাবার রেডি কর আগে।”
সোহা আর কথা বাড়ায় না। রুমের লাইট অফ করে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ড্রয়িং রুমে একটা লাইট জ্বলছে, রুম থেকে বের হলেই কেমন ভয় ভয় লাগে।
রান্না ঘরে এসে কী রান্না করবে ভাবতে ভাবতে কেবিনেট খুঁজে নুডুলসের প্যাকেট বের করে।
জ্বরের মুখে ভাত ভালো লাগবে না, সোহার নিজেরও ভালো লাগে না। রুটি তো সোহা বানাতে পারবে না।
আবার রুমে গিয়ে ফোন নিয়ে আসে।
ডিম দিয়ে নুডুলস রান্নার রেসিপি দেখে নুডুলস রান্না করে দু’জনের জন্য।
শ্রবণের জন্য এক প্লেট নুডুলস নিয়ে রুমে ফিরে আসে। জগ ভরে পানি নিয়ে আসে।
শ্রবণকে ডেকে তোলে। শ্রবণ শোয়া থেকে উঠে দুলতে দুলতে আবার ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। হাত মুখ ধুয়ে আবার ফিরে আসে রুমে। ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে বসে বিছানায়।
সোহা নুডুলসের প্লেট শ্রবণের সামনে দেয়।
শ্রবণ প্লেটের দিকে তাকিয়ে সোহার মুখের দিকে তাকায় তারপর চামচের সাহায্যে নুডুলস তুলে মুখে পুরে দেয়। নাক মুখ কুঁচকে সোহার দিকে তাকায়। মুখের নুডুলস গিলে বলে,
“কী বা/ল রান্না করেছিস? এত তেতো কেন? আমাকে মা’রা’র জন্য বিষ মিশিয়েছিস নাকী, ডাইনির বাচ্চা?”
সোহা থমথমে গলায় বলে,
“কী মেশাবো? জ্বরের কারণে তোমার মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে গেছে।”
“না, আমি নিশ্চিত তুই বিষ মিশিয়েছিস।”
সোহা ঝুঁকে হাত দিয়ে নুডুলস তুলে নিজের মুখে পুরে দেয়, গিলে বলে,
“ঠিকই তো আছে, তেতো তো লাগছে না।”
শ্রবণ নুডুলসের প্লেটের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিশ্রী রকমের তেতো লাগছে খেতে। তুলে আবার মুখে পুরে দেয়।
অল্প খেয়ে বলে,
“খাব না, সরা তোর বা’লে’র রান্না।”
সোহা সামনে থেকে প্লেট সরিয়ে নেয়।
এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে কিট বক্স থেকে এইচ প্লাস ট্যাবলেটটা এনে দেয় শ্রবণকে। শ্রবণ সোহার হাতের ট্যাবলেটের দিকে তাকিয়ে বলে,
“এটার মেয়াদ আছে? কোন ডাইনোসরের যুগে এনেছিলাম ঠিক নেই। তুই এটা খাইয়ে আমাকে মা’রতে চাইছিস?”
“মা’র’তে চাইবো কেন? মেয়াদ আছে, আমি দেখেছি।”
“এটা খেয়ে যদি আমি ম’রি, তাহলে তোকেও মা’র’বো।”
“আচ্ছা, এখন খাও।”
শ্রবণ ট্যাবলেটটা নিয়ে খেয়ে ফেলে। বমি পাচ্ছে।
কাত হয়ে শুয়ে পড়ে আবার।
সোহা নুডুলসের প্লেটটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হতে হতে বিড়বিড় করে বলে,
“মাথার তার ছিঁড়ে যাচ্ছে আবার।”
শ্রবণ বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিয়েছে। জ্বর নেমে গেছে এখন কিন্তু মাথা আর শরীর ভার ভার হয়ে আছে। মাথা ঝিমঝিম করছে।
ফোন হাতে নিয়ে মাজেদা আন্টির ফোনে ডায়াল করে। রিং হওয়ার একটু পরেই রিসিভ হয়। ওপাশ থেকে ভেসে আসে মাজেদা আন্টির গলার স্বর।
“শ্রবণ, কেমন আছো?”
“ভালো, আপনি কেমন আছেন, আন্টি?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি ফ্ল্যাটে এসেছ?”
“হ্যাঁ, আপনি আসুন।”
“আচ্ছা, আসছি।”
“আচ্ছা রাখছি।”
শ্রবণ ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
দশ মিনিট হওয়ার আগেই রুমে প্রবেশ করেন মাজেদা আন্টি। ওনার কাছে ফ্ল্যাটের এক্সট্রা চাবি আছে, তাই ভেতরে প্রবেশ করার জন্য শ্রবণকে প্রয়োজন হয় না।
ভেতরে এসে শ্রবণের রুমের দরজায় নক করেন। সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দেন, তখনই ওয়াশরুম থেকে ভেজা টাওয়েল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসে সোহা। শ্রবণের রুমে মেয়ে মানুষ দেখে মাজেদা আন্টির চোখ বিস্ময়ে কপালে উঠে গেছে। রুমের ভেতরে প্রবেশ করে সোহার সামনে দাঁড়ান। সোহার আগা গোড়া পরখ করে বলেন,
“এ্যাই মেয়ে, কে তুমি? এই ফ্ল্যাটে কীভাবে প্রবেশ করেছ? শ্রবণ কোথায়?”
এতগুলো প্রশ্ন একসঙ্গে শুনে চুপ হয়ে থাকে সোহা। মাজেদা আন্টির গলার স্বর আর চাহনি অস্বাভাবিক। তিনি নিজ চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে শ্রবণের ফ্ল্যাটে কোনো মেয়ে রয়েছে। শুধু ফ্ল্যাটে না, রুমে তাও ভেজা টাওয়েল হাতে। যেই শ্রবণ কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে না, মেয়ে দেখলে দূর দিয়ে হাঁটে, বিয়ের কথা বললে বিরক্তিতে কপাল ভ্রু কুঁচকে যেত তার রুমে জ্বলজ্যান্ত মেয়ে! অবিশ্বাস্যই বটে।
মাজেদা আন্টি পুনরায় বলেন,
“এ্যাই, নাম কী তোমার? শ্রবণের রুমে কীভাবে আসলে?”
সোহা মৃদু স্বরে বলে,
“আমি, সোহা চৌধুরী, ভাইয়ার ওয়াইফ।”
ভাইয়া বলছে, আবার ওয়াইফও বলছে। আশ্চর্য তো।
“ভালোভাবে বলো, শ্রবণের সঙ্গে কীসের সম্পর্ক তোমার?”
“হাজব্যান্ড ওয়াইফ।”
“শ্রবণ, বিয়ে করেছে?”
অবিশ্বাস্য গলার স্বর মাজেদা আন্টির। সোহা মাথা নেড়ে হ্যা বলে।
“কবে বিয়ে করল? ও না গেছিলো ছোটো ভাইয়ের বিয়ে খেতে।”
“হ্যাঁ।”
“ভাইয়ের বিয়ে খেতে গিয়ে নিজেও বিয়ে করে নিয়েছে!”
“হ্যাঁ।”
“শ্রবণ, কোথায়?”
“বাইরে গেছে।”
মাজেদা আন্টি নরম স্বরে বলেন,
“আমাকে চিনতে পেরেছ?”
সোহা মাথা নেড়ে বলে,
“বলেছিল আপনি আসবেন।”
হাসান শ্রবণের ফোনে ডায়াল করে। ফোন রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে মেয়েলি কন্ঠ। হাসান কপাল ভ্রু কুঁচকে ফোন কান থেকে সরিয়ে মুখের সামনে ধরে। নাম্বার তো ঠিকই আছে। পরমুহুর্তেই মনে পড়ে শ্রবণের এখন বউ আছে। কলটা হয়তো সোহা রিসিভ করেছে।
এবার ফোন কানে ধরে সালাম দেয়।
সোহা সালামের জবাব দেয়। হাসান বলে,
“শ্রবণ কোথায়, ভাবী?”
নিজের চেয়ে বয়সে এত বড়ো একজন মানুষের মুখে ভাবী ডাক শুনে সোহার অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। নিজের অস্বস্তি চেপে রেখে মৃদু স্বরে বলে,
“শুয়ে আছে।”
“জ্বর কমেছে?”
“রাতে কমেছিল, এখন আবার বেড়েছে।”
“পাগলামি করছে কেমন? শান্তি দিচ্ছে?”
সোহা শ্রবণের দিকে তাকায়। চোখ বন্ধ করে বাপকে গালাগালি করছে তখন থেকে। শান্তি ওকে দেবে তাও শ্রবণ চৌধুরী? সুস্থ অবস্থায় শান্তি দেয় না, এখন তো অসুস্থ, এখন আরও শান্তি দিচ্ছে না।
“ফজরের পর থেকে শুরু হয়েছে আর বন্ধ হচ্ছে না। গা মুছিয়ে দিতে গিয়েছিলাম ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।”
“কেন?”
“ভেবেছে কোথাকার কোন মেয়ে আমি।”
সোহার কথা শুনে হা হা করে হেসে ওঠে হাসান।
সোহা হাসানের অট্টহাসি আর শ্রবণের গালাগালি দুটোই একসঙ্গে শুনছে।
হাসান নিজের হাসি কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে বলে,
“ভাবী, ওকে জোর করে ঔষুধ খাইয়ে দেন ঠিক হয়ে যাবে।”
“আমাকে কাছেই ঘেঁষতে দিচ্ছে না।”
“আমি আসবো?”
“ফ্ল্যাটের চাবি তো আমার কাছে নেই।”
“এ্যাই ডাইনির বাচ্চা, তুই কার সঙ্গে কথা বলছিস?”
হঠাৎ শ্রবণের গর্জনে ভয় পেয়ে কেঁপে ওঠে সোহা। দ্রুত বলে,
“তুমিই তো বললে কথা বলার জন্য।”
হাসান বলে,
“এতক্ষনে বউকে চিনতে পেরেছে তাহলে।”
“এ্যাই কু/ত্তা/র বাচ্চা, কে কল করেছে?”
“হা হাসান ভাইয়া, তোমার সঙ্গে কথা বলবে।”
“কোন হাসান, কে হাসান?”
হাসান ওপাশ থেকে আফসোসের সুরে বলে,
“যা বাবা, বউকে মনে পড়লো আর আমাকে ভুলে গেল?”
“খিদে পেয়েছে, খাবার নিয়ে আয়।”
হাসান বলে,
“শ্রবণ চৌধুরী পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যার জ্বর হলে খিদে বেড়ে যায় দশগুণ। ভাবী, আপনি ওকে খাওয়াতে থাকুন আমি পরে কল করছি।”
সোহা শ্রবণের দিকে তাকিয়ে থাকে। ফজরের পর থেকে ওকে যদি একটু শান্তি দিয়ে থাকে তাহলেও একটা কথা। গতকালকের চেয়েও আজকে বেশি মাতলামি করছে। ঔষুধ এনে লাভ হয়েছে কী?
হঠাৎ শ্রবণের ভাবমূর্তি পরিবর্তন হয়ে যায়। বিলাপ করে বলে,
“আমাকে কেউ ভালোবাসে না, আদর করে না। খিদে পেয়েছে খেতেও দিচ্ছে না। বউটাও আরেক বেডার সঙ্গে পালিয়ে গেল।”
শ্রবণের কথা শুনে বিস্ময়ে বিমূঢ় সোহা। কী বলছে এই ছেলে? ও কার সঙ্গে পালিয়ে গেছে? এখানেই তো রয়েছে ওর সামনেই।
নিশ্চই হ্যালুসিনেশন করছে আবার।
সোহা হাতের ফোন রেখে দেয়। শ্রবণের শিয়রে দাঁড়ায় ভয়ে ভয়ে, কে জানে আবার যদি ফেলে দেয় ধাক্কা দিয়ে?
“এদিকে ঘুরে শোও, মাথায় পানি ঢেলে দেই আরাম লাগবে।”
শ্রবণ বন্ধ বন্ধ চোখ জোড়া মেলে সোহার দিকে তাকায়। নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে,
“তুই আমার বউ না?”
“হ্যাঁ।”
“আমাকে ছেড়ে কার সঙ্গে গিয়েছিলি?”
“কারো সঙ্গেই যাইনি, কোথাও যাইনি। আমি এখানেই ছিলাম, তোমার কাছে।”
“তুই কি আমাকে ছেড়ে চলে যাবি?”
“না।”
“সত্যিই যাবি না?”
“না।”
“তোর ডাইনি মা যদি তোকে নিয়ে যায়?”
“আবার ফিরে আসবো তোমার কাছে।”
শ্রবণ হাত বাড়িয়ে সোহার কোমর পেঁচিয়ে ধরে টেনে আনে আরও কাছে। শক্ত করে ধরে রেখে বলে,
“তোকে আমি কোথাও যেতে দেবো না।”
চলবে………….
নেক্সট পার্টে স্পেশাল কিছু অপেক্ষা করছে।
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ১০
-
দিশেহারা পর্ব ১৬
-
দিশেহারা গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ৩৪
-
দিশেহারা পর্ব ১৫
-
দিশেহারা পর্ব ২৯
-
তোমার সঙ্গে এক জনম গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ৩১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৬
-
দিশেহারা পর্ব ২২