দিও তোমার মালাখানি – ৮ (খ)
তাহমিনা প্রতিজ্ঞা করে এসেছিলেন ভালো-মন্দ কোনো কথাই বলবেন না। রক্ত-মাংস এক করে ছেলেদেরকে লালন-পালন করেছেন। কত প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করেছেন, কাছের লোকেরা কেউ কেউ অবহেলা করেছে, কেউ দুটো এতিম সন্তানসহ বিধবাকে করুণা করেছে। তৌফিক নিজের পছন্দে বিয়ে করাতে বিদ্রুপ সইতে হয়েছে – ছেলেকে ঠিকভাবে মানুষ করতে পারেননি বলে। তৌহিদের চাকরি পেতে দেরি হওয়াতেও তো কত বাক্যবাণ ছুটে আসত। সেসবের জবাব ছিল ওর সরকারি চাকরি পাওয়াটা। তাহমিনার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে, স্বপ্নপূরণ হয়েছে৷ তৌহিদের গর্ভধারিণী হিসেবে গর্ববোধ করেন তিনি। এমন সোনার টুকরো ছেলের পুত্রবধূ চেয়েছিলেন এমন মেয়েকে যে ঘর আলো করে রাখবে, পুতুলের মতো ছুটে বেড়াবে ঘরময়। শাশুড়ি-বউ মিলে প্রাণোচ্ছল সংসার হবে, হাসি-আনন্দ-খুনসুটি থাকবে। আহ্লাদী সেই ছবিটাতে কিছুতেই রুচি মানানসই হয় না। কী বলবে লোকে? বুড়ো ধামড়ি বউ তৌহিদের? কিন্তু দুই ছেলেই যেভাবে এই মেয়েকে আনবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, তাহমিনার আর কিছু করার ছিল না। আর তৌফিকের যুক্তিও বড়ো ভয়ানক। যদি সত্যিই এমন কোনো মেয়ে আসে তৌহিদের জীবনে, যে ওকে অসুখী করবে? সেই আশঙ্কা থেকেই, মন না মানলেও তাহমিনা মনকে মানিয়েছেন। ছেলের সুখই তো মায়ের সুখ! না হয় লোক বেশি ডাকবেন না বিয়েতে, ডামাডোল হবে না কোনো! একদিক দিয়ে ভালোই এটা, তৌহিদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে দিলে এরপরে মায়ের উপরে কখনো আর কথা বলতে পারবে না ও। অপরাধী হয়ে থাকবে তাহমিনার সামনে। সংসারের খবরদারি তাহমিনার আঁচলেই বাধা হয়ে থাকবে। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।
এতসবকিছু ভেবে-চিন্তে মুখ বন্ধ করে রেখেছিলেন তাহমিনা। কিন্তু আর সহ্য হলো না। ছেলের এমন অপমান সহ্যও তো করা যায় না! উঁচু গলায় বলে উঠলেন,
–এই মেয়ে, কী বলছ, কী করছ বুঝতে পারছ? হাওয়া খেয়ে বুড়ি হয়েছ? ওই গর্ধবটা বিয়ে না করলে আর বিয়ে হবে তোমার? কে বিয়ে করবে তোমাকে? ও যে তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে, তোমার ভাগ্য সেটা! একটা গতি হবে তোমার!
জাকিয়া প্রতিবাদ করলেন। মৃদুস্বরে বললেন,
–আপা, আপনি বাড়ি বয়ে এসেছেন। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। সম্পর্ক হোক না হোক, আমি মোটেও চাই না, আমাদের দিক থেকে আপনার বিন্দুমাত্র অসম্মান হোক। সেই ভয়ে আমার ছেলেকে আমি ঘরে বন্দী করে রেখেছি। কিন্তু আপা, আমার মেয়ের বিয়ে হবে কি না হবে, সেই টেনশন আমার। আর কারো না। আমার মেয়েকে আমার সামনে হেয় বা অপমান করে কিছু বলবেন না। তাহলে আমিও হয়তো আপনার সম্মান রাখতে পারব না!
তাহমিনা বজ্রাহত হলেন। মেয়ের মা এরকম চোখে চোখ রেখে কথা বলে এটা ওনার চারপাশে উনি কখনো দেখেননি। আর তৌহিদের মতো সোনার টুকরো ছেলের মা তিনি! রাগে ওনার মুখে কথা জোগাল না।
রুচি খুব মৃদুস্বরে বলল,
–দেখেন না, আন্টি, আপনি জানেন তৌহিদ আমাকে বিয়ে না করলে আমার আর বিয়ে হবে না। আপনি আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও খুব ভালো করে জানতেন। অনেকবার আপনার কাছে গিয়েছি আমি, আন্তরিক হতে চেষ্টা করেছি। আমার বয়স তো হুট করে একত্রিশ হয়ে যায়নি, আন্টি। তৌহিদের জন্য অপেক্ষা করেই যে আমি আপনার ভাষায় বুড়ি হয়েছি সেটাও আপনি জানেন। তবুও আপনার মনে হয়নি, এই যে আমার বিয়ে হবে না আর কখনো এটাতে তৌহিদ বা আপনার কোনো দায় আছে। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে একদম চোখ উলটে নিতে আপনার কখনো অপরাধবোধ হয়নি। এখন কোন পরিস্থিতি আপনাকে এখানে আসতে বাধ্য করল আমি জানি না, কিন্তু আপনার সম্মান রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না! কয়েকমাস আগে হলে, হয়তো তৌহিদের জন্য রুচি একগলা বিষ খেয়ে নিতো। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব না। আজকেরটাসহ আগের আরও আরও অনেক কিছুর জন্যই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তৌহিদ ছাড়া আমার গতি নেই, এই কথাটা আমারও আগে মনে হতো। হতেও পারে সেটাই সত্যি। কিন্তু এখন আমার সদগতিতে আগ্রহ হচ্ছে না। গতিহীন থেকেই দেখি না, কী আসে যায়!
তাহমিনা তড়াক করে উঠে দাঁড়ালেন,
–ওরে বাবা, যেমনি মেয়ের মা তেমনি মেয়ের চোপা! আমার বাপ-চাচাদেরকে দেখেছি মেয়ের শশুর-শাশুড়ির সামনে চোরের মতো হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে। গাড়িভরে জিনিস এনেও তারা মেয়ের শশুরবাড়ি চুপিচুপি ঢুকতেন। এদের নেই কোনো সার অথচ বড়ো বড়ো কথা!
বলতে বলতে নিজের ছেলেদের দিকে তাকালেন তিনি,
–এই চল তোরা। আরও বসে বসে অপমান গিলতে হবে? এমন পানিতে পড়ে গেছিস নাকি? একটা কেন এমন দশটা মেয়ের লাইন লেগে আছে আমার ছেলের পেছনে!
তৌফিকের খুব অসহায় লাগল। খুব মিনতিধরা গলায় বলল,
–কী বলছ, ভাবি? চলে যাব আমরা?
রুচি তৌফিকের দিকে তাকাল না। ওর চোখ দিয়ে জলের ধারা নেমে কোল ভিজে যাচ্ছে।
তৌফিক আবার চেষ্টা করল,
–ভাইয়া তোমাকে কতখানি ভালোবাসে, সেটা আমি জানি। আমার চাইতে তুমি আরও ভালো জানো। মানুষই তো ভুল করে। ওর ভুল যদি তুমি মাফ না করো, আর কে করবে? এভাবে সব ভেঙে দিও না। তুমিও তাকে ভালোবাসো। এভাবে ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে ফেলো না। একদিন বা দুইদিনের জীবন না, ভাবি। এই জীবনে কতকিছু ক্ষমা করে যেতে হয়, কতকিছুর সাথে আপোষ করে চলতে হয়! আমিও তোমার ছোটোভাই। একটু মাথাটা ঠান্ডা করে ভেবে দেখো। জেদ করে, রাগ করে সবকিছু শেষ করে দিতে হয় না। ভালোবাসার কাছে তো রাগ জেদ তুচ্ছ। সমঝোতাটা না হয় তুমিই করো। ভাইয়াকে মাফ করে দাও।
রুচি তাকালো তৌফিকের দিকে, কিছু বলতে চাইলো কিন্তু বলল না। চোখ নামিয়ে নিলো আবার।
তৌফিক তৌহিদের দিকে তাকালো। ওর মুখ ধূলো ধূলো হয়ে গেছে। সর্বহারা হওয়ার ছাপ চোখেমুখে স্পষ্ট।
তাহমিনা তাড়া দিলেন,
–আয়, আয়! এখানে আর না!
বলেই দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন।
তৌফিক ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,
–যা করার তা তো করেই ফেলেছ। ভাবিও কোনো আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে আসবে এমন কোনো লক্ষণ নেই। চলো।
তৌহিদ উঠল না। ভাঙা গলায় বলল,
–ওকে রাজি না করিয়ে আমি যাব না!
–আচ্ছা, আসো তাহলে। আমি মাকে নিয়ে যাই।
রুচিকে বলল,
–ভাবি, মাথা ঠান্ডা করো। গোসল করে আসবা নাকি?
নিজের ঠাট্টায় নিজেই হাসলো। জাকিয়াকে বলল,
–আন্টি, আজকে তো খাওয়ালেন না। ভাবিকে বুঝিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করেন। আমাকে কাচ্চি খাওয়াতে হবে। আর বরকর্তা বলে, আস্ত খাসীর রোস্ট আমার পাওনা। দাবি জানিয়ে গেলাম। কোনদিন খাওয়াবেন, তারিখটা ভাইয়াকে বলে দিয়েন।
অবহেলায় ফেলে রাখা আংটিটা রুচির হাতে দিয়ে বলল,
–ভাইয়া পছন্দ করে তোমার জন্য কিনেছিল। অন্য কারো জন্য কেনা জিনিস তোমাকে গছিয়ে দেওয়া হয়নি। এটা তোমার। আর ভাইয়াও। পথ ভুল করে এদিক সেদিক চলে গেলেও, দিনশেষে তুমিই ওর ঠিকানা। উল্টাপাল্টা বুদ্ধি না করে, আঁচলে গিট্টু দাও ওকে। তাহলে আর রাস্তা ভুল করে অন্য কোথাও চলে যেতে পারবে না। আসি। দেখি জননী আমার আবার কোথায় চলে গেলেন!
তৌফিক চলে গেলে জাকিয়াও সরে এলেন। রুলির ঘরে ওর কাছে গিয়ে বসলেন। একান্তে কথা বলে যদি দুজনে সমস্যা মিটিয়ে নিতে পারে, নিক।
তৌহিদ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকল। রুচিও কথা বলল না। নি:শব্দে কেঁদেই গেল।
তৌহিদ উঠে এসে রুচির পাশে বসল। ওর হাতটাকে নিজের হাতের মাঝে টেনে নিলো। হালকা চুমু বসিয়ে বলল,
–আমি ক্লান্ত ছিলাম রুচি, বিধ্বস্ত ছিলাম। তোমাকে হারাবার ভয়ে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলাম। মানুষ তো, রোবোট তো নই। ভুল করে ফেলেছি। আমি আসলে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। আমি নিজেকে ডিফেন্ড করছি না, কিন্তু রুচি, আমি যে তোমাকে ভালোবাসি সেটা তো মিথ্যা না। বিশ্বাস করো, আমি শুধু দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। সেটাও খুব অল্প সময়ের জন্য!
–আমি জানি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, এমনকি গার্হস্থ্যজীবনেও ভালোবাসা চর্চা করতে হয়। নিয়মিত ভালোবাসতে হয়। নইলে ফাটল তৈরি হয়। সেই ফাঁকা জায়গাটাতে অন্য কেউ ঢুকে পড়ে। একটু একটু করে সে হয়ে যায় তৃতীয়জন! আমি এতক্ষণ বলতে চাইনি, ব্যক্তিগত টানাপোড়েনগুলোকে সবার সামনে আনতে চাইনি। তুমি আমাকে ভালোবাসো সেটা আমিও অস্বীকার করি না। আসলে তুমি ভেবেছিলে, রুচি তো আছেই! আমি যে কখনো তোমাকে ছাড়তে পারি, এটা তুমি কখনো ভাবোনি। এজন্যই ফাটলটা তৈরি হতে দিয়েছ। তুমি জানতে, আমি সমস্ত অস্থিরতা পার করেও তোমার জন্য অপেক্ষা করব। আমি টেকেন ফর গ্রান্টেড হয়ে গিয়েছিলাম তোমার কাছে। হয়তো আমি সেটাই। আমি সত্যিই তোমার জন্য আরও একত্রিশ বছর অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু…
–কিন্তু আর কিছু না! আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। আর তুমিও পারবে না। আমাদের মাঝে আর কেউ নেই। কেউ থাকবে না, আই প্রমিজ! ওসব রোশনি কেউ না!
–আমিও জানি, রোশনি কেউ না!
–তাহলে?
–আমাদের সম্পর্ক অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। রোশনির কথা আমি জানবার আগেই আমি টের পাচ্ছিলাম সব। আমাকে পাশে রেখে অন্য কাউকে মেসেজ করতে তুমি। মেসেজ করতে করতে মৃদু হাসতে। আমাকে লুকিয়ে ফোন রিসিভ করতে৷ অসম্ভব কষ্ট হতো আমার। যেন আমার হৃদয়টাকে দলে, মথে, মাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছ। কখনো তো রেস্টুরেন্টে টেবিলের উপর মোবাইল রেখে ওয়াশরুমে যেতে। মেসেজ পপ করত। আমি দেখতাম। স্ক্রিনলক আমার জানা ছিল, কিন্তু আগ্রহ হতো না মেসেজগুলো পড়বার। তারপর ওয়াশরুমেও মোবাইল নিয়ে যেতে শুরু করলে। তোমার ভেতর আমাকে গোপন করার টেন্ডেন্সি এসে গেল। মাঝেমাঝে মিসড কল এসে বিরক্ত করত তোমাকে। কিন্তু তাতে তোমার বিরক্তি আসতো না, মুখটা উজ্জ্বল হয়ে যেত। আমার প্রতি অমনোযোগী হয়ে যেতে। আমি কী বলছি, কী করছি কিছু খেয়াল করতে না। তোমাজে ফোন করলে বিজি টোন আসত। দেখা করার সময় অনিয়মিত হয়ে গেল। সব দেখতাম আর টের পেতাম তুমি একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছ। আর ওই সাথে একটু একটু করে তোমার প্রতি আমার অনুভূতিও মরে গেছে। একচুয়ালি রোশনি ইজন্ট আ ফ্যাক্ট, আমি ওর নাম মেনশন করতেও চাইনি। ওর কথা জানার আগেই আমি মুভ অন করে গিয়েছিলাম।
তৌহিদ রুচির হাত ছেড়ে দিলো। নিজের চুল ধরে টানলো। মরিয়া গলায় বলল,
–রুচি, রুচি, রুচি! এত সহজে মুভ অন করা যায় না! তুমি রাগ করে বলছ। আমিও যেমন মুহূর্তের প্ররোচনায় পড়েছিলাম, তুমিও একটা ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে আছ। সব ভুলে যাও। আমাদের মধ্যে কোনো নীতিকথার জায়গা নেই। কোনো বড়ো বড়ো বুলি, আত্মসম্মান, হ্যানত্যানের জায়গা নেই। আমি ভুল করব, তুমি মাফ করবে। তুমি কোনো ভুল করলে আমি পাশে থাকব। আর কিছু না। আমাদের মধ্যে অন্য কিছুর জায়গা নেই। থাকবে না!
–তবুও আমাদের মধ্যে ফাঁকিবাজি ঢুকে গেল তো?
–মানে?
–আমাকে লেখা তোমার প্রথম চিঠিটা তোমার মনে আছে? সিন্সিয়ার লাভ দিয়েছিলে তুমি আমাকে। সিন্সিয়ার!
শব্দটাতে জোর দিলো রুচি। বলল,
–সেই সিন্সিয়ারিটিতে ফাটল ধরেছে। এখন তুমি মোমের ভেজাল দিতে এসেছ। কিন্তু ফাটলটা ধীরে ধীরে বড়ো হতে হতে সমগ্র প্রতিমাটাকেই ধসিয়ে দিয়েছে। ওটা আর সমস্ত নেই।
তৌহিদ রেগে গেল,
–সম্পূর্ণ দোষ আমার একার, তাই না? আমিও তো দেখেছি তুমি অন্য কারো হাত ধরে হাঁটছ। আবার কারো সাথে রেস্টুরেন্টে একান্ত সময় কাটাতে চলে গেছ! ভালো তো তুমি আমাকে বাসো। তাহলে ওগুলো কী ছিল? ফ্লিং? আমি আর তুমি তো তাহলে একই। আমাকে একা দোষ দেওয়া ঠিক হবে না! কী বলো?
রুচির মধ্যে কৈফিয়ত দেবার কোনো আগ্রহই দেখা গেল না।
তৌহিদ ভেঙে পড়ল। গলা রুদ্ধ শোনালো ওর,
–তুমি এরকম কঠোর কী করে হয়ে গেলে? আমার জন্য তোমার একটুও খারাপ লাগছে না? আমি খারাপ মানুষ, কিন্তু তুমি তো না। তুমি কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ? আমাকে দু:খ দিলে, তোমারও তো তাতে কষ্ট হবে? কেন দুজনেই কষ্ট পাব?
রুচিরও গলা ধরা। বিকৃত গলায় বলল,
–তুমি আন্টির কাছে ফিরে যাও, তৌহিদ। আমার যা বলার ছিল বলে দিয়েছি। কোনো অনুতাপ নেই আমার। তোমাকে ভালোবেসেছি, তাতেও আমার অনুতাপ নেই, বাকিজীবন ভালোবাসব না তাতেও অনুতাপ হবে না। সুখ-দুঃখ যেটাই আসুক, আমি সেসব পরিস্থিতি অনুযায়ী ফেস করব। আমাদের ভালোবাসায় ঘুন ধরেছিল, এটাই এখনের বাস্তবতা। একটু একটু করে সবটাই ঘুনে খেয়েছে, ধুলো হয়ে গেছে, শূন্য হয়ে গেছে। শূন্যে কী করে ঘর বাঁধব, বল? তাই বলছি, ফিরে যাও।
তৌহিদ অনেক কথা বলল। অনেক ক্ষমা চাইল। কিন্তু রুচির মাফ পেলো না। হাল ছেড়ে দিলো তৌহিদ। বেরিয়ে আসতে আসতে বলল,
–করো, জেদ করো। জেদ করেই থাকো। জেদি তো তুমি সবসময়। আমার জন্য অপেক্ষায় থেকে জেদ দেখিয়েছ এত বছর। তোমার বাবাও পারেননি তোমার সেই জেদ ভাঙতে। এবারে আমার অপেক্ষার পালা। সবকিছু সমান সমান হবে। তুমি একা সাফার করলে তো অবিচার হতো সেটা। অপেক্ষাও শুধু তোমার একার থাকবে না। আমি এখন থেকে অপেক্ষায় থাকব। তোমার রাগ পড়ে যাবে, তুমি শান্ত হবে। তৌহিদ যেমন রুচির কাছে ফিরে এসেছে, রুচিকেও ফিরতে হবে তৌহিদের কাছে। শেষ পর্যন্ত তুমি আমারই…
চলবে…
আফসানা আশা
Share On:
TAGS: আফসানা আশা, দিও তোমার মালাখানি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৭
-
দিও তোমার মালাখানি গল্পের লিংক
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৩
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৪
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৮
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৫
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ২
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ১
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৬