তোমারসঙ্গেএক_জনম (০৪)
সানা_শেখ
হিমেলের ক্লোজ ফ্রেন্ড রাতুল। ওর ফোনে কল করে জানতে পেরেছেন হিমেল হলে ফেরেনি এখনো। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে তবুও বদ ছেলেটার কোনো খোঁজ খবর নেই। রাগের মাথায় অন্য কোথাও চলে যায়নি তো?
টেনশনে দরদর করে ঘামছেন জাবির মির্জা। বিকেলের মধ্যে লামহার বাড়ি থেকে সবাই চলে আসবে। ছেলে বাড়িতে না থাকলে কি উত্তর দেবেন ওই বাড়ির মানুষদের?
শিরিন সুলতানা তো আছেনই। একটু পর পর জাবির মির্জা আর লামহার উপর রাগ ঝাড়ছেন।
জাবির মির্জা আবারও রাতুলের ফোনে কল করেন ঘণ্টা খানিক পর। রিসিভ করেই রাতুল নিচু কন্ঠে বলে,
“আংকেল, আমি এখনই কল করতে যাচ্ছিলাম। হিমেল মাত্র হলে ফিরল, এতক্ষণ কোথাও হয়তো বসে ছিল।”
“বজ্জাতটা কোথায় এখন?”
“রুমের ভেতরে, আমি করিডোরে দাঁড়িয়ে আছি।”
“ফোন নিয়ে ওর কাছে দাও একটু।”
“জি আংকেল, দিচ্ছি।”
রুমের ভেতরে এসে ফোন হিমেলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
“আংকেল কল করেছেন, তখন সঙ্গে কথা বলবেন।”
হিমেল চাপা রাগী স্বরে বলে,
“বলবো না আমি।”
“কি বাচ্চাদের মতো জেদ করছিস? ধর কথা বল।”
“বলছি তো বলবো না।”
“কী হয়েছে, বলবি না কেন?”
হিমেল দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“বলবো না।”
জাবির মির্জা ওপাশ থেকে বলেন,
“রাতুল, ফোনটা স্পিকারে দাও।”
রাতুল ফোন স্পিকারে দেয়। জাবির মির্জা ছেলেকে উদ্দেশ করে বলেন,
“হিমেল, তুই আসবি কি-না বল।”
“আসবো না।”
“কোনোদিনও আসবি না?”
হিমেল চুপ করে থাকে। জাবির মির্জা বলেন,
“দ্রুত আয়, লামহার বাবার বাড়ি থেকে সবাই রওনা দেবে এখন।”
“যাবো না আমি।”
“আসবি না?”
“না।”
“আসবি না?”
“না না না।”
“ঠিক আছে থাক, আমি ম’রে গেলেও তুই আসবি না এই বাড়িতে, আমার খাটিয়া কাঁধে নিবি না, কবরে এক মুঠো মাটিও দিবি না। তুই থাক তোর জেদ নিয়ে, রাখলাম।”
কথাগুলো বলেই কল কে’টে দেন জাবির মির্জা।
রাতুল হিমেলের দিকে তাকিয়ে বলে,
“কী হয়েছে তোর? জোর করে নাহয় বিয়েই করিয়েছে তাতে এত রিয়েক্ট করার কী হয়েছে? এই জীবনে কী বিয়ে করতি না?”
হিমেল রাতুলের দিকে তাকিয়ে রাগে ফেটে পড়ে বলে,
“কি পেয়েছে আমাকে? ব্ল্যাকমেইল করে যা খুশি করিয়ে নেবে? যাবো না আমি।”
“আংকেল কি বলেছেন শুনতে পাসনি?”
হিমেল চুপ করে থাকে। রাতুল হিমেলের হাত ধরে টেনে বিছানা থেকে তোলার চেষ্টা করে বলে,
“এত রাগ ভালো না, চল।”
হিমেল রাগে যেন এবার সত্যি সত্যিই ফেটে যাবে। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে বাইরের দিকে এগিয়ে যায়। রাতুল তাড়াহুড়ো করে জাবির মির্জার ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে দেয় হিমেলকে নিয়ে আসছে।
সাড়ে তিনটায় বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে হিমেল। ওকে ফিরে আসতে দেখে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে। হিমেল কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়।
জাবির মির্জা গলার স্বর বাড়িয়ে বলেন,
“ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নিচে আয়।”
হিমেল বলে না কিছু। রুমে প্রবেশ করতেই রুমে থাকা সকলের দৃষ্টি ওর উপর স্থির হয়। লামহা এক নজর তাকিয়েই দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। হিমেল-ও তাকিয়েছিল লামহার দিকে। দৃষ্টি বিনিময় হতেই দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে।
হিমেলের সব কাজিন রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
হিমেল কাঁধের ব্যাগ সোফার উপর ছুঁড়ে ফেলে। পকেট থেকে ফোন আর ওয়ালেট বের করে ছুঁড়ে দেয় সোফার উপর। ব্যালকনি থেকে টাওয়েল এনে ওয়াশরুমে ঢুকে শব্দ করে দরজা লাগায়। মাথার ভেতর দপদপ করছে।
লামহা বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে সোফার দিকে তাকায়। বয়স ষোলো হলেও ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতাও ষোলো আনা-ই হয়েছে। হিমেলের এমন আচরণের কারণ ওর কাছে স্পষ্টই। কোনো ছেলে জেনেশুনে ওর মতো মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হবে না এটা লামহা জানে। গতরাতে গাড়িতে ওঠার পর হিমেলের কথা শুনেই বুঝতে পেরেছিল হিমেল বাবার কথায় ওকে বিয়ে করেছে। বিয়েটা মেনে নিতে পারছে না এটাও বুঝতে পেরেছিল।
আধা ঘন্টা ধরে গোসল করে হিমেল। তখন রাগের মাথায় শুধু টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করেছে, ট্রাউজার টিশার্ট কিচ্ছু আনেনি। এখন টাওয়েল পরে লামহার সামনে যেতে হবে ভেবেই রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে নিজের মাথায় নিজেরই বারি মা’র’তে।
কোনো উপায় না পেয়ে টাওয়েল পরেই বেরিয়ে আসে। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে আপনাআপনি লামহার চোখ হিমেলের দিকে চলে যায়। উদোম গায়ে টাওয়েল পরিহিত হিমেলকে দেখে বসা থেকে ফট করে দাঁড়িয়ে যায় লামহা। দ্রুত উল্টো ঘুরে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।
হিমেল লজ্জা পেয়েছে তা ওর চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। দ্রুত আলমারি থেকে ট্রাউজার টিশার্ট বের করে নিয়ে আবার ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। ইচ্ছে করছে দেওয়ালের সঙ্গে মাথা বারি মা’রতে।
শিশির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গলা খাকারি দেয়। লামহা তাকাতেই শিশির মিষ্টি করে হেসে বলে,
“ভাবী, ভাইয়া কোথায়?”
“ওয়াশরুমে।”
“ভেতরে আসি?”
“আসুন।”
ভেতরে প্রবেশ করে শিশির। হাতের প্যাকেট বিছানার উপর রেখে বলে,
“ভাইয়া বের হলে এগুলো পরতে বলবেন।”
“আপনিই বলে যান, ভাইয়া।”
শিশির লামহার মুখের দিকে কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে থেকে ওয়াশরুমের দরজার কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়ায়। গলার আওয়াজ বাড়িয়ে বলে,
“ভাই—
বাকিটুকু মুখ থেকে বের হওয়ার আগেই দরজা খুলে যায়। হিমেল গম্ভীর গলায় বলে,
“কী হয়েছে? চেঁচাচ্ছিস কেন এভাবে?”
শিশির বিছানার উপর থাকা শপিং ব্যাগ দেখিয়ে বলে,
“ওগুলো পরে তৈরি হয়ে নিচে যেতে বলেছে আব্বু।”
হিমেল বিছানার দিকে তাকিয়ে লামহার দিকে তাকায় একবার। কোনো কথা না বলে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। শিশির বিছানার কাছে এগিয়ে এসে ব্যাগটা হাতে নিয়ে বড়ো ভাইয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
হিমেল শিশিরের যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকে ব্যাগটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখে।
খিদে পেয়েছে ভীষণ। লামহাদের বাড়ি থেকে খেয়ে আসার পর আর খায়নি এখনো।
এলোমেলো চুলগুলো পরিপাটি করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। হিমেল বেরিয়ে যেতেই লামহা স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। এতক্ষণ ওর সামনে যেন শ্বাস আটকে রেখেছিল।
হাতের দিকে তাকায়। মেহেদি প্রায় শুকিয়ে গেছে। হাতে জাকিরের নাম লেখা হয়েছিল মেহেদি দিয়ে। যতবার নামটা চোখে পড়ছিল ততবার বুকটা ভারী হয়ে উঠছিল, অস্বস্তিতে ভুগছিল। কনার কাছ থেকে মেহেদি নিয়ে জাকিরের নামের উপর মেহেদি লেপ্টে দিয়েছে যেন নামটা আর বোঝা না যায়।
এতক্ষনে নামটা মুছে গেছে নিশ্চই।
হাত ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। মেহেদি ধুয়ে ফেলতেই দেখে সত্যি সত্যিই নামটা আর বোঝা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ হাতের দিকে তাকিয়ে থেকে রুমে ফিরে আসে। পার্লার থেকে একটা মেয়ে এসেছে ওকে সাজানোর জন্য। কনা সহ হিমেলের আরও কয়েকজন কাজিন এসেছে রুমে।
হিমেল খাওয়া শেষ করে কফির মগ হাতে নিজের রুমের দিকে আগায়। ড্রয়িং রুমে বড়ো ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। জাকিরের চোখমুখ গম্ভীর হয়ে আছে। জাকারিয়া মির্জা সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন, ফিরবেন সন্ধ্যার পর। জাকিরও বোধহয় একটু পর বের হয়ে যাবে বাড়ি থেকে। রেডি হয়ে ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলছিল।
রুমের সামনে আসতেই দেখে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বিরক্তিতে “চ” সূচক শব্দ উচ্চারণ করে। ওর রুম অথচ ও নিজেই প্রবেশ করতে পারছে না।
রাতুল হিমেলের রুমের দিকে এগিয়ে আসে। এতক্ষণ জাবির মির্জার সঙ্গে কথা বলছিল।
“ওই।”
ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকায় হিমেল। রাতুল বলে,
“তোর বউকে দেখতে এলাম।”
হিমেল দরজার সামনে থেকে সরে গিয়ে বলে,
“যা দেখ।”
“দরজা তো মনে হচ্ছে ভেতর থেকে লাগানো। দরজা খুলতে বল।”
“দেখবি তুই, তুই খুলতে বল।”
“বউ তোর, রুমও তোর, আমি কীভাবে খুলতে বলব।”
হিমেল কথা না বাড়িয়ে শিশিরের রুমে প্রবেশ করে। গরমে ঘেমে নেয়ে অবস্থা খারাপ। ওর পেছন পেছন রাতুল-ও শিশিরের রুমে প্রবেশ করে।
প্রায় আধা ঘন্টা পর নিজের রুমে প্রবেশ করে শিশির। ভাইকে নিজের রুমে শুয়ে থাকতে দেখে বলে,
“তুমি এখনো রেডি না হয়ে শুয়ে আছো কেন? ভাবীদের বাড়ি থেকে মেহমান এসে পড়েছে প্রায়।”
এক মগ কফি খাওয়ার পরও ঘুম পাচ্ছে হিমেলের। কয়েক ঘণ্টা ঘুমোতে পারলে মেজাজ খানিকটা ঠান্ডা হতো বোধহয়। খিটখিটে মেজাজে ছোটো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। কোনো কথা না বলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ওর রুমের দরজা এখনো বন্ধ। মেজাজ হারিয়ে জোরে জোরে দরজায় আঘাত করতে শুরু করে।
কনা দ্রুত দরজা খুলে দেয়। দরজার সামনে মেঝ ভাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,
“আর একটু অপেক্ষা করো, ভাবীকে রেডি করানো প্রায় শেষ।”
“অন্য রুমে নিয়ে গিয়ে রেডি করা।”
“এখন?”
“হ্যাঁ। আমার রুম খালি কর।”
“দশটা মিনিট অপেক্ষা করো, হয়েই গেছে।”
হিমেল রেগে আবার শিশিরের রুমে প্রবেশ করে। এই গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়া থাকা যায় নাকি?
ঠিক দশ মিনিট পরেই আবার নিজের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায় হিমেল। দরজায় করাঘাত করার জন্য হাত উঁচু করতেই দরজা খুলে যায়।
কনা ভাইয়ের উঁচু করে রাখা হাতটার দিকে তাকিয়ে মুখের দিকে তাকায়। হিমেল হাত নামিয়ে নেয়।
“হয়ে গেছে।”
“সবাইকে বের হতে বল রুম থেকে।”
“দুই মিনিট সময় দাও।”
হিমেল প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইল বাইরেই।
দুই মিনিটের মধ্যেই রুম থেকে সবাই বেরিয়ে যায় লামহাকে একা রেখে। পার্লারের মেয়েটা যাওয়ার পথে হিমেলের দিকে একবার তাকায়। হিমেলের শক্ত চোয়াল দেখে বুঝতে পারে এই ছেলে ভীষণ রাগী। তখন কীভাবে দরজায় ধাক্কা দিল! মেয়েটার কপালে কি আছে কে জানে।
হিমেল রুমে প্রবেশ করে। রুমে প্রবেশ করতেই নজর পড়ে লামহার ওপর। মেরুন রঙের লেহেঙ্গা পরনে, ভারী মেক-আপ। গতকালকের তুলনায় আজকে যেন আরও বেশি সুন্দর লাগছে। সুন্দর লাগলেই কী? সুন্দর ধুয়ে ধুয়ে কি ও পানি খাবে নাকি?
লামহার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে সোফার কাছে এগিয়ে আসে। ফোন হাতে নিয়ে অন করে। তখন রাগের মাথায় বন্ধ করে রেখেছিল।
চার্জ নেই বেশি, চার্জে লাগিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা শপিং ব্যাগটা নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।
ড্রেস চেঞ্জ করে কোট প্যান্ট পরে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়াতেই ফোনটা বেজে ওঠে। সেদিকে নজর না দিয়ে চুলে জেল দিয়ে সেট করতে শুরু করে। এর মধ্যে আরও কয়েকবার কল বেজে কে’টে গেছে।
আবার বেজে উঠতেই বিরক্ত হয়ে ফোনের কাছে এগিয়ে আসে। অপরিচিত বিদেশি নাম্বার দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ফোনের স্ক্রিনে। রিসিভ করার আগেই আবার কে’টে যায়। আবার রিং বাজতেই রিসিভ করে কানে ধরে ফোন। গম্ভীর স্বরে বলে,
“হ্যালো।”
“লামহা আছে?”
হিমেল চার্জারের ক্যাবল খুলে লামহার দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
“তোমার ফোন।”
লামহা হিমেলের মুখের দিকে তাকায় তড়িৎ গতিতে। দ্রুত দৃষ্টি নামিয়ে হাতে থাকা ফোনের দিকে তাকায়। ভাবে ওর বাবা বা মা কল করেছে। হিমেলের হাত থেকে ফোন নিয়ে নাম্বারের দিকে না তাকিয়েই কানে ধরে মৃদু স্বরে বলে,
“হ্যালো।”
“কেমন আছো, ডার্লিং? আমি না থাকার সুযোগে বিয়ে করে নিলে?”
পুরুষালি গলায় এসব কথা শুনে দ্রুত কান থেকে ফোন সরিয়ে নেয় লামহা। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে বিদেশি নাম্বার। গলার স্বর কেমন পরিচিত পরিচিত লাগছে। ওই শ’য়’তা’নটা? হ্যাঁ ওই এটা। ওই শ’য়’তা’নের গলার স্বর-ই এমন। এই শ’য়’তা’ন ছেলে হিমেলের নাম্বার কোথায় পেল?
লামহার হাত পা মৃদু কাঁপতে শুরু করে। ভয়ে ভয়ে ফোন কানে ধরে কম্পিত স্বরে বলে,
“কে?”
“ভুলে গেলে, ডার্লিং?”
“এই নাম্বার কোথায় পেয়েছেন?”
“নাম্বার কোথায় পেয়েছি সেটা বড়ো কথা না, বড়ো কথা হলো তোর বাপ ভাই আর তোর জামাই সবগুলো ম’র’বে খুব শীগ্রই।”
লামহা কল কে’টে দেয়। হিমেল ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে লামহার দিকে তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ। লামহা ওর দিকে তাকাতেই হিমেল দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
লামহার হাত থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে। কম্পিত হাতে দ্রুত নাম্বারটা ব্লক করে ডিলিট করে দেয়।
হিমেল আবার লামহার দিকে তাকায়। কে এই ছেলে? এই ছেলের সঙ্গে কথা বলে লামহার মধ্যে এত পরিবর্তন কেন আসলো? এত ভয় পাচ্ছে কেন?
আবার ফোন বেজে ওঠে। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে বিদেশি নাম্বার। লামহা বুঝতে পারে ওই শ’য়’তা’ন’টাই আবার কল করেছে।
কল কে’টে দিয়ে এই নাম্বারটাও ব্লক করে ডিলিট করে দেয়। হাত থেকে ফোন রেখে দেয় পাশে। এক হাত দিয়ে আরেক হাত ঘষতে শুরু করে। দুই হাত অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে শুরু করেছে।
হিমেল এগিয়ে এসে ফোন হাতে নেয়। চার্জে লাগাতে লাগাতে কল লিস্ট চেক করে। নাম্বার গায়েব দেখে লামহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“মাত্র যে কল এসেছিল সেই নাম্বার কই?”
চমকে উঠে হিমেলের দিকে তাকায় লামহা।
“নাম্বার ডিলিট করেছো কেন?”
লামহা মুখ নামিয়ে নেয়। হাত দুটো আগের চেয়েও বেশি কাঁপতে শুরু করেছে। হিমেল ওর দিকে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়।
চলবে………
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন। পরবর্তী পার্ট আগে আগে পড়তে সানা শেখ পেজটি ফলো দিয়ে রাখবেন সবাই।
Share On:
TAGS: তোমার সঙ্গে এক জনম, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৫
-
দিশেহারা পর্ব ১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ২
-
দিশেহারা পর্ব ১২
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ৪৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩৭
-
দিশেহারা পর্ব ২৬
-
দিশেহারা পর্ব ২২
-
দিশেহারা পর্ব ২০