#ডেসটেনি [ ২৭]
#সুহাসিনি_মিমি
আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ক্ষনে ক্ষনে।আপাতত বৃষ্টি না থাকলেও শো শো বাতাস বইছে।প্রিয়ন্তীর রুমের জানালাটা হাট করে খোলা। দক্ষিণা বাতাসে জানালার পর্দাগুলো উড়ছে এলোমেলো হয়ে। পেটের নিচে একটা বালিশ দিয়ে উপর হয়ে আধশোয়া হয়ে আছে প্রিয়ন্তী। সামনেই খোলা একটা মোটা উপন্যাসের বই। বইয়ের কভারে বড় বড় অক্ষরে লেখা “খোয়াবনামা”, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
সন্ধ্যার দিকে বোর হয়ে রুমে এদিক-সেদিক ঘুরছিল প্রিয়ন্তী।তখনই মিতালী ওদের পার্সোনাল স্টাডি রুম থেকে বইটা এনে প্রায় জোর করেই ধরিয়ে দিয়েছিল ওর হাতে। মিতালীর ভাষ্যমতে, এটা নাকি ওর ভীষণ প্রিয় একটা বই। ইতোমধ্যেই দুইবার পড়ে শেষ করেছে সে। একবার মন বসে গেলে নাকি বইটা কমপ্লিট না করা পর্যন্ত শান্তিই পাওয়া যায় না! অবশ্য প্রিয়ন্তীর কাছে ব্যাপারটা শুরু থেকেই সন্দেহজনক লেগেছিল।
তবুও মিতালীর জোরাজুরিতে শেষমেশ বাধ্য হয়েই বইটা নিয়ে এসেছিল নিজের সঙ্গে। কিন্তু বই খুলে বসার পর থেকেই শুরু হলো আসল বিপর্যয়। প্রথম পৃষ্ঠা কোনোভাবে পার করলেও দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় এসেই ভ্রু কুঁচকে গেল ওর। তৃতীয় লাইনে এসে তো মুখের ভাবই বদলে গেল পুরোপুরি। কঠিন কঠিন শব্দ আর জটিল বাক্যের এমন ছড়াছড়ি যে কয়েকবার পড়েও অর্থ মাথায় ঢুকছে না। একেকটা শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে জিভ বেঁকে যাচ্ছে উল্টোদিকে। বিরক্ত মুখে বইটার দিকে তাকিয়ে আবারও মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করল প্রিয়ন্তী। কয়েক লাইন পড়ে থামল। আবার শুরু করল। তারপরও কিছুক্ষণ পর পরই হাল ছেড়ে দিয়ে হাঁফ ছাড়ছে।
নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আরও কয়েকবার চেষ্টা করল ও। কিন্তু প্রতিবারই ফলাফল একই।
অবশেষে বিরক্তিতে বইটা ধপ করে বন্ধ করে বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলে বলে উঠল,
“হায় আল্লাহ! এই বই পড়ার আগে তো বাংলা অভিধান নিয়ে বসতে হবে! এইসব কী লেখছে মানুষ? এগুলা উচ্চারণ করতে গিয়ে তো আমার দাঁত ভেঙে যাবে!”
বিরক্তমুখে কথাটা বলে মুখ ফুলালো ও। ওর ভাবি এটা কিভাবে দুইবার পড়েছে! অবিশ্বাস্য ব্যাপার সেপার! এই মহিলা, মানুষ নাকি এলিয়েন?গজগজ করতে করতেই বইটা তুলে নিল হাতে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে,এই ভয়ংকর জিনিস আর নিজের রুমে রাখা যাবে না। যেখান থেকে আনা হয়েছিল,সেখানেই ফেরত দিয়ে আসবে এখনই। ভাবনা মতোই বিছানা থেকে নেমে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেল প্রিয়ন্তী। এ বাড়ির পার্সোনাল স্টাডি রুমটা করিডোরের ঠিক শেষপ্রান্তে অবস্থিত। তাজধীরের রুমের পাশ কাটিয়ে আরও একটু সামনে।
রাত তখন শোয়া আটটার ঘরে।উপরের দিকে করিডোরজুড়ে জ্বলছে মৃদু আলোছটা। ত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় বইটা নিয়ে স্টাডি রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো প্রিয়ন্তী। অগত্যা দরজার সামনে এসে থেমে গেল ওর পা’ দুটো। স্টাডি রুমের দরজাটা পুরোটাই খোলা। ভেতর থেকে আলো বেরিয়ে আসছে। আর সেই আলোছায়ার মাঝেই চোখে পড়ল একজনকে।
নেভি ব্লু রঙের হাফহাতা টি-শার্টের সঙ্গে হোয়াইট প্যান্ট পরিহিত লোকটা পুরো লাইব্রেরি জুড়ে অস্থিরভাবে কী যেন খুঁজে চলেছে। বুকশেলফের পর বুকশেলফ ঘেঁটে যাচ্ছে বিরক্ত মুখে। টি-শার্টের ছোট হাতার ফাঁক গলে বাহুর শক্ত মাসেলগুলো স্পষ্ট ফুলে উঠেছে। এলোমেলো চুলগুলো বলে দিচ্ছে নেহাতই বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ লোকটা অস্থির হয়ে যে কিছু খুঁজছে। মুখের কঠোর ভাবটাও আজ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তীক্ষ্ণ।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সবটাই পর্যবেক্ষণ করল রমণী। প্রথমে ভাবল,প্রতিবারের মতো নিশ্চই লোকটা ওকে দেখামাত্রই আবার আগের মতো খোঁচা দিয়ে দু’চারটা কথা শুনিয়ে দিবে।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তাজধীর মেয়েটার উপস্থিতিই টের পেয়েও যেন পেলোনা। কিংবা পেলেও গুরুত্ব দিল না।একবারের জন্যও তাকাল না এদিকটায়। নিজের মতো করেই বিরক্ত মুখে খুঁজে চলেছে জিনিসটা।
প্রিয়ন্তীর ভ্রু অসম্ভব রকম কুঁচকে গেল তাতে। মনে মনে আওড়াল,
‘এই ব্যাটার আবার কী হলো? ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়! গিরগিটিরও এত রং বদলায় না!বেডা মানুষ!”
তাজধীর তখনো বুকসেলফটা তন্নতন্ন করে খুঁজে চলেছে। প্রিয়ন্তীর চতুর মস্তিস্ক বুঝে নিলো লোকটা যে ওর হাতে থাকা বইটাই খুঁজছে। খুজবেই তো, এই লোকের সঙ্গে এমন ধরণের বই একদম খাপে খাপ। দুটোর ভাষা’ই অদ্ভুত, যা ওর মাথার উপর দিয়ে যায়।
অবশেষে খানিকটা ইতস্তত করে নিজ থেকেই বলে উঠল ও,
“আপনি কি এটা খুঁজছেন?”
কথাটা শুনে থামল তাজধীর। তবে প্রিয়ন্তীর দিকে নয়, বরং সরাসরি তাকাল ওর হাতে ধরা বইটার দিকে। ততক্ষণে প্রিয়ন্তী বইটা সামনের দিকে খানিকটা এগিয়ে ধরেছে। কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে বইটার দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে চোখ তুলল তাজধীর। এবার দৃষ্টি গিয়ে থামল প্রিয়ন্তীর মুখে। সেই দৃষ্টি অদ্ভুত ঠান্ডা। কঠোর। চাপা বিরক্তিতে পরিপূর্ণ। পরক্ষণেই ভারী গলায় বলল,
“ম্যানারলেসদের মতো পারমিশন ছাড়া যখন-তখন কারো পার্সোনাল জিনিসে হাত দেওয়ার অভ্যাসটা বর্জন করুন। পারমিশন ছাড়া অন্যের ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দেওয়া অত্যন্ত নিচু মানসিকতার পরিচয়। আমার জিনিসে হাত দেওয়ার আগে অন্তত পারমিশন নেওয়ার ন্যূনতম ভদ্রতাটুকু শেখা উচিত ছিল আপনার। ভবিষ্যতে দ্বিতীয়বার যেন এমনটা না হয়, মিস প্রিয়ন্তী।”
তাজধীরের মুখ থেকে এমন তীক্ষ্ণ, অপমানজনক কথাগুলো বেরোতেই স্তব্ধ হয়ে গেল প্রিয়ন্তী। মুখটা অতীব মাত্রায় বিস্ময় হাঁ হয়ে রইল। চোখেমুখে ফুটে উঠল স্পষ্ট হতভম্বতা। এই মাত্রই কি লোকটা সত্যিই ওকে এসব বলল!এমন কি অপরাধ করল সে? বইটা তো নিজে থেকে নেয়নি। মিতালী দিয়েছিল।আর ও তো শুধু ফেরত দিতেই এসেছে! তবে লোকটার গলার স্বরটা এমন ঠান্ডা আর ধারালো লাগছে যেন ও ভয়ংকর কোনো অপরাধ করে ফেলেছে।
প্রিয়ন্তীর আঙুলগুলো বইটার মলাটের ওপর শক্ত হয়ে চেপে বসল। অপমানে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল হঠাৎ। চোখদুটো টলমল করে উঠল নিমিষেই। তবে ও যথাসাধ্য চেষ্টা করল চোখের পানি আটকাতে। এই লোকটার সামনে দুর্বল হতে চায় না ও। কিন্তু তাজধীর যেন আজ পন করেই নেমেছে সে থামবে না। ওর নীরবতাকে উপেক্ষা করেই আরও একধাপ এগিয়ে এলো। মুখের কঠোরতা এতটুকুও কমল না। বরং কণ্ঠটা আরও হিমশীতল করে আওড়াল,
“সব জায়গায় নিজের অবাধ বিচরণ করার অভ্যাস থাকতেই পারে আপনার। কিন্তু সবাই আপনার ওই বাচ্চাসুলভ অতিরিক্ত কৌতূহল সহ্য করবে, এমনটা ভাবাটা নির্ঘাতই বোকামি!যে জিনিস সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া না করাই ভালো। সবকিছু খেলনা না, মিস প্রিয়ন্তী। কিছু জিনিসের মূল্য বুঝতে শেখার মতো ম্যাচিউরিটিও প্রয়োজন হয়।”
“আমি তো শুধু..
“জাস্ট স্টপ ইট!”
লোকটার আচানক কর্কশ কণ্ঠে থেমে গেল প্রিয়ন্তী। ঠান্ডা, ধারালো কণ্ঠে উচ্চারিত কথাগুলো একেকটা সূক্ষ্ম তীর হয়ে এসে বিঁধল ওর আত্মসম্মানে। অপমানটা নিমিষেই রূপ নিলো তীব্র কষ্টে। আত্মসম্মানেও আঘাত হানলো বেশ। চাপা ক্ষোভ থেকেই তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্নটা করেই বসল ও,
“জানেন, আপনার সমস্যা কী?আপনি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভদ্র আর সঠিক মানুষ ভাবেন। অথচ বাস্তবে আপনি ভীষণ রূঢ়।একটা বই ভুল করে নিয়ে এসেছি, তাও আপনার বোন নিজে হাতে দিয়েছে বলে! আর সেটা ফেরত দিতে এসে এমন ব্যবহার পাচ্ছি যেন আমি কোনো অপরাধ করে ফেলেছি! পৃথিবীর সবচেয়ে দামি সম্পদে হাত দিয়ে ফেলেছি নাকি!”
“আর কী বললেন? ম্যানারলেস? নিচু মানসিকতা?ভদ্রতা নিয়ে অন্তত আপনার মুখে এসব কথা মানায় না, মিস্টার তাজধীর। কারণ ভদ্র মানুষ কাউকে না জেনে এভাবে অপমান করে না।মানুষকে বিনা কারণে অপমান করে কথা বলা, ছোট করা এইগুলো কোনো ব্যক্তিত্ব না। এটা অভদ্রতা।”
তিক্ত হেসে কথাগুলো বলেই চলেছে মেয়েটা এবার,
“সবসময় এমন ভাব নিয়ে থাকেন কেন আপনি? যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আপনি! মানুষকে ছোট করে কথা বললেই কি নিজেকে খুব বড় মনে হয়?”
ধপ করে বইটা টেবিলের উপর রেখে দৃঢ় গলায় বলল,
“নিন আপনার বই। আর নিশ্চিন্ত থাকুন, ভবিষ্যতে আপনার কোনো জিনিসে হাত দেওয়ার মতো ‘নিচু মানসিকতা’ আমার আর হবে না।আর একটা কথা শুনে রাখুন। আপনার এই অহংকার, রাগ আর মানুষকে হেয় করে কথা বলার স্বভাবটা মোটেও সুন্দর না। সত্যি বলতে কী, আপনার মতো মানুষকে বোঝার চেষ্টা করার চেয়ে দূরে থাকাই অনেক ভালো। কারণ আপনি কখন, কোন কথায় একজন মানুষকে আঘাত করে বসবেন সেটা বোধহয় আপনি নিজেও জানেন না।”
তাজধীরের চোখদুটো কেমন থমথমে হয়ে উঠল।তীক্ষ্ণ, শূন্য চোখে থম মেরে দাঁড়িয়ে শুনল রমণীর প্রতিটা তির্যক বাক্য। মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। নেই কোনো প্রতিবাদ।শুধু একজোড়া গভীর, অনির্বচনীয় চোখ স্থির হয়ে রইল সেই ফাঁকা দরজার দিকে। যেদিক দিয়ে কিছুক্ষণ আগে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেছে প্রিয়ন্তী।
****
এভাবে পলোকেই কে টে গেল আরও প্রায় ঘণ্টাখানেক। রাত ততক্ষণে আরও খানিকটা গভীর হয়েছে। পুরো বাড়িজুড়ে রাতের খাবারের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। রান্নাঘরের ভেতর রীতিমতো ব্যস্ত সময় পার করছেন মোহনা। কাজের মেয়েটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক রান্না সামলাতে ব্যস্ত তিনি। চুলার তপ্ত আঁচে রান্নাঘরটা বেশ গরম হয়ে উঠেছে।এক হাতে খুন্তি নাড়তে নাড়তেই অন্য হাতে শাড়ির আঁচল টেনে ঘর্মাক্ত মুখশ্রীটা আলতো করে মুছে নিলেন মোহনা।ঠিক সেই মুহূর্তেই, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই পেছন দিক থেকে ভেসে এলো পরিচিত এক পুরুষ কণ্ঠের সম্পূর্ণ অপরিচিত বাক্য,
“আম্মু আমি বিয়ে করবো।”
বাক্যটা শ্রবণ হতেই পুরোদমে ভরকালেন মহিলা।চোখদুটো বিস্ফারিত হয়ে উঠল অবিশ্বাসে।হাতের খুন্তিটা কখন যে আঙুলের ফাঁক গলে মেঝেতে ধপ করে পড়ে গেছে, সেটাও খেয়াল রইল না তার।রান্নাঘরজুড়ে ধাতব শব্দটা বেশ জোরেই প্রতিধ্বনিত হলো। কিন্তু মোহনা বেগমের সমস্ত মনোযোগ তখন পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা তার ছেলের দিকে। দেয়ালে হেলান দিয়ে দু’হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। মুখের ভাব আগের মতোই সেই স্থির, গম্ভীর। এমন একটা ভাব, যেন একটু আগেই পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক কথাটা বলেছে সে।
অথচ মোহনা বেগমের কাছে বিষয়টা ঠিক ততটাই উল্টো। তার ছেলে, নিজের মুখে বিয়ের কথা বলল কি? এটা তো প্রায় অলৌকিক কিছু!ভদ্রমহিলা অবিশ্বাসে তখনো গোলগোল চোখে ছেলেকে পরখ করে বললেন,
“কি, এই মাত্র কি বললি তুই, বাবা?”
“বিয়ে করবো আমি!”
এবারও বড্ড সহজ সরল গলায় বাক্যটা আউড়িয়ে নিটোল দাঁড়িয়ে রইলো তাজধীর। মহিলা ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে রিপিট করলেন,
“তু, তুই বিয়ে করবি, সত্যি?”
তাজধীর বিরক্ত মুখে চোখ বন্ধ করল।মায়ের এহেন অদ্ভুত রিএকশনটা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিল বোধহয়।
“হায় আল্লাহ! আমার কান ঠিক শুনতেছে তো? তুই নিজে রহেকে বিয়ের কথা বলছিস! তোর জ্বর-টর আসে নাই তো বাবা?”
বলতে বলতেই উৎকন্ঠয় ছেলের কপালে হাত রাখলেন। তাজধীর সঙ্গে সঙ্গে দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো বিরক্ত মুখে।
“আম্মু, প্লিজ!ওভাররিয়েক্ট করা বন্ধ করো তো।”
মোহনা বেগম এবার পুরোপুরি হতবাক।
“আমি ওভাররিয়েক্ট করছি? যাকে কিনা বলে কয়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেও বিয়েতে রাজি করাতে পারলাম না, সে কিনা আজ নিজ থেকে এসে আমায় বিয়ের কথা বলছে?তুই সত্যি সত্যি বিয়া করবি, বাবা? আল্লাহ!যাক,অবশেষে আমার ছেলের মাথায় বুদ্ধি তো আসছে!”
তাজধীর বিরক্তিতে কপাল চেপে ধরল। বুঝে উঠতে পারল না তার মায়ের এতটা রিয়েক্ট করার মানে। শুধুমাত্র বিয়ে করবেই তো বলেছে, অথচ ওর মায়ের বিহেবিওর এমন যেন এই মাত্র ছেলে তার কোনো রণক্ষেত্র জয় করে ফিরেছে!ওদিকে মুখজুড়ে উচ্ছ্বাস নিয়ে তড়িঘড়ি করে বলতে লাগলেন ফির,
“আমি এখনই তোফাজ্জল ভাইরে ফোন দিচ্ছি ! কাল সকাল থেকেই মেয়ে দেখা শুরু করব। ভালো ঘরের, শিক্ষিত, ভদ্র, মার্জিত মেয়ে লাগবে আমার। একদম তোর সঙ্গে মানায় এমন! ডাক্তার, বা টিচার হলেও সমস্যা নেই!”
“আম্মু।”
ছেলের গম্ভীর কণ্ঠে থামলেন মোহনা।ছেলেটা বিরক্ত মুখে হাত তুলে ইশারা করল থামতে তাকে।
“ওনাকে ডাকতে হবে না।”
মোহনা ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।বললেন,
“ওনাকে না ডাকলে মেয়ে দেখব কিভাবে?”
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে একদম স্বাভাবিক গলায় বলল তাজধীর,
“মেয়ে আমার পছন্দ করা আছে।”
ব্যস।একটা বাক্য।একটি মাত্র’ই বাক্য!আর সেই একটা বাক্যেই দ্বিতীয়বারের মতো বজ্রপাত নামল মোহনা বেগমের মাথায়।তিনি কয়েক মুহূর্ত একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ছেলের দিকে। চোখেমুখে স্পষ্ট অবিশ্বাস। যেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা তার ছেলে না, অন্য কেউ।
“কীইই!ত তুই মেয়েও পছন্দও করে রাখছিস?”
“আম্মু,তুমি ড্রামা বন্ধ করবে?”
মায়ের চিৎকারে তাজধীর এবার বিরক্ত হয়ে চোখ ঘুরাল। কিন্তু মোহনা বেগমের অবস্থা তখন দেখার মতো।তার ছেলে কিনা মেয়েও পছন্দ করে রেখেছে? এইজন্যই কি এতদিন যাবৎ বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজি হয়নি তাহলে? সেই মেয়ের জন্যই কি?মোহনা বেগমের কৌতূহল তখন চরমে পৌঁছে গেছে। উত্তেজনায় প্রায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই পারছেন না তিনি। চোখেমুখে স্পষ্ট আগ্রহ নিয়ে আরও খানিকটা কাছে সরে এলেন। বললেন,
“কোন মেয়ে? বল না বাবা! কে সে? নাম কি? আমরা কি চিনি ও-কে?”
এক নিঃশ্বাসে প্রশ্নগুলো ছুড়ে মুখজুড়ে প্রশস্ত হাসি ফুটিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় রইলেন।তাজধীর অবশ্য এখনও আগের মতোই শান্ত। পকেটে থাকা সদ্য বেন্ডেজ করা ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে নির্লিপ্ত গলায় জানাল,
“মিস প্রিয়ন্তী।”
মোহনা বেগমের মুখের প্রশস্ত অমায়িক হাসিটা নিভে গেল। আচমকা বিনা মেঘে বজ্রপাত এসে আছড়ে পড়ল যেন মাথায়।
“ক কে?”
“প্রিয়ন্তী!”
“আমাদের প্রিয়ন্তী?মানে… মিতালীর ননদ?”
পরক্ষণেই নির্বিকার গলায় জানাল তাজধীর,
“এ ছাড়া আর কোনো প্রিয়ন্তীকে চেনো তুমি?”
মোহনা বেগম এখনও পুরোপুরি ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারছেন না। বিস্ময়ে কিছুক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আন্দাজে কি যেন ভেবে চললেন কীয়তক্ষণ। প্রিয়ন্তী? তার ছেলেকে প্রিয়ন্তী কে পছন্দ করে? কবে থেকে? কই তিনি তো এতদিন কিছু বুঝতে পারেনি। ছেলের মুখে পছন্দের কথা শুনে ভেবেছিলেন হয়তো মেয়েটার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনে প্রেমের সম্পর্ক চলছে। তবে প্রিয়ন্তীর সঙ্গে? তার মানে ওরা কি আগে থেকেই পরিচিত?
“তুই কি সিরিয়াস, আযান?”
“আমি কি এসব বিষয় নিয়ে মজা করি বলে মনে হয় তোমার?”
মোহনা বেগম থমকালেন। না, সেটাও ঠিক।তার ছেলে এমন না যে হুটহাট আবেগে কিছু বলবে।বিশেষ করে বিয়ের মতো বিষয়ে তো নয়ই।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি আবার ধীরে ধীরে বললেন,
“কিন্তু প্রিয়ন্তীই কেন?
কোনো উত্তর দিলোনা তাজধীর। মোহনা আবারো প্রশ্ন করলেন,
“প্রিয়ন্তী ও কি তোকে পছন্দ করে?”
তাজধীর চোখ নামিয়ে কয়েক সেকেন্ড নীরব রইল।
তারপর ধীর, স্থির কণ্ঠে বলল,
“জানিনা!
“প্রিয়ন্তী জানে এসব?”
“জানার প্রয়োজন পড়েনি এখনও।”
“মানে?তুই মেয়ে পছন্দ করে বসে আছিস, আর মেয়ে কিছুই জানে না?”
হতোবুদ্ধি গলায় বললেন মোহনা। তাজধীর এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। বলল,
“সবকিছু সবাইকে আগে থেকে জানাতে হয় না, আম্মু।”
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে আবার বললেন মোহনা,
“কিন্তু প্রিয়ন্তী তো অনেক ছোট এখনও। উপরন্তু তুই তো একদম উল্টো স্বভাবের মানুষ। এডজাস্ট করতে পারবি তো?”
“সেটা একান্তই আমার ব্যাপার। আপাতত তোমায় জানালাম। আশা করছি প্রয়োজন অনুসারে এখন সমস্ত বন্দব্যবস্থা করবে তুমি।”
বলেই আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালও না। দৃঢ় কদমে বেরিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে। পিছনে ফেলে রেখে গেল মায়ের একরাশ সন্দেহভরা দৃষ্টি।
***
মোহনা বেগম আনন্দে উত্তেজিত। এই আনন্দের সীমা নেই। কিছুক্ষনের মধ্যে নিজের আনন্দের শরিক করলেন মেয়েকেও। সবটা শুনে মিতালীর অবস্থাও প্রায় নিজের মায়ের মতোই হয়েছিল। যদিও মিতালী আগে থেকেই জানতো কিছুটা। তবে ভাইয়ের কাছ থেকে পুরোদোস্তর সিউর হওয়ার পর মিতালীর আনন্দের মাত্রার পরিমান তার মাকেও অতিক্রম করল। মোহনা প্রথমে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্ধে ভুগলেও মিতালী মাকে আসস্ত করল। বেশি চিন্তা না করতে। সবচেয়ে বড়ো কথা তার ভাই যে বিয়েতে রাজি এটাই অনেক।তবে মোহনা বেগম শুরুতেই মেয়েকে কড়া গলায় বলে দিয়েছিলেন,আপাতত পাভেল কে কিছু না জানাতে। প্রস্তাব টা তিনি”ই সরাসরি রাখতে চান।
মিতালীও মাথা নেড়ে রাজি হলো মায়ের কথায়।
ডিনারের আয়োজনে ডাইনিং সাজাচ্ছে কাজের মেয়েটা। একে একে এসে বসল পাভেল, মিতালী। দাদি আগে খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছেন। তবে সেখানে উপস্থিত নেই তাজধীর আর প্রিয়ন্তী। প্রিয়ন্তী কে দেখতে না পেয়ে চেয়ার টেনে বসতে বসতেই মোহনা বেগম জিজ্ঞেস করলেন,
“প্রিয়ন্তী কই?”
মিতালী পানি ঢালতে ঢালতে উত্তর দিল,
“খাবে না বলেছে আম্মু। আমি ডেকে আসছিলাম। বলল ক্ষুধা নেই। লাইট অফ করে শুয়ে পড়েছে!”
স্বাভাবিকভাবেই নিজ প্লেটে খাবার তুলছিল পাভেল।কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর হঠাৎ মোহনা বেগম গলা খাঁকারি দিলেন।পাভেল মুখ তুলে তাকাতেই নিম্ন গলায় বললেন তিনি,
“তোমার সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বাবা!”
“জি আম্মু, বলুন!”
“না আগে খেয়ে নাও। এরপর নাহয় একসঙ্গে বসে কথাটা বলি?”
পাভেল তাই মানলো। সময় নিয়ে খাওয়া শেষ হতেই একসঙ্গে সোফায় গিয়ে বসল তিনজন। কাজের মেয়েটা টেবিল পরিষ্কার করছে। মিতালী অস্তির হয়ে আকুপাঁকু করছে। মোদ্দাকথা সে খুবই এক্সাইটেড। ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে তর সইছে না। মনে মনে প্লানিং ও করে ফেলেছে অনেক কিছু। প্রিয়ন্তী কে আগে থেকেই পছন্দ তার। কোথাও না কোথাও চেয়েছিলো এই মেয়েটা যদি তার ভাইয়ের বউ হতো। প্রিয়ন্তী মেয়েটা”ই এরকম। যেমন দেখতে তেমন ব্যবহার, মন মানসিকতা।
অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন মোহনা।কথাটা কীভাবে শুরু করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। গলা ঝেড়ে বললেন তিনি,
“আসলে অনেক ভেবেচিন্তে একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইছিলাম আরকি।”
পাভেল শান্ত গলায় বলল,
“বলুন আম্মু।”
“দেখো বাবা তুমি তো আর পর কেউ না। তাই সরাসরি মূল কথাটাই আসি। আমি চাইছিলাম,প্রিয়ন্তীর ব্যাপারে একটা প্রস্তাব রাখতে।”
“প্রস্তাব?”
ভ্রু বাকিয়ে প্রশ্নত্মক চোখে তাকাল পাভেল।
মোহনা বেগম মাথা নেড়ে বললেন,
“হ্যাঁ বাবা। আমি চাইছিলাম প্রিয়ন্তীকে আমাদের ঘরের বউ হিসেবে আনতে। আমাদের আযানের জন্য!”
কথাটা শেষ করে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলেন কাঙ্খিত উত্তরের।পাভেলের মুখভাব বুঝার চেষ্টা করলেন। মিতালীরও উত্তেজনায় স্বামীর দিকে চেয়ে আছে।
“আম্মু তাজধীর ভাইয়ার জন্য এটা আপনি আমাদের প্রিয় কে যোগ্য ভেবেছেন, সেটা শুনে খুবই ভালো লাগল। সত্যি বলতে আমি নিজেও মনে করি, প্রিয়ন্তীর জন্য তাজধীর ভাইয়ের মতো মানুষই পারফেক্ট।”
মোহনা বেগমের চোখ মুখ আনন্দে চিকচিক করে উঠল নিমিষেই।কিন্তু ঠিক এর পরের মুহূর্তেই পাভেলের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্যদয়ে মুখ থুবড়ে পড়লেন যেন ভদ্রমহিলা,
“কিন্তু আমি এই প্রস্তাবটা রাখতে পারব না, আম্মু!”
মোহনা বেগম ভড়কে গিয়ে আশাহত কণ্ঠে জানতে চাইলেন,
“কেন বাবা?আমাদের আযান কে কি তোমার পছন্দ নয়? দেখো বাবা, ছেলে হিসাবে বলছি না তবে আমার আযান কে নিয়ে মা হয়ে তোমায় আমি শত পার্সেন্ট গেরান্টি দিতে পারবো। আর তাছাড়া প্রিয়ন্তী কে আমারও খুব পছন্দ। তাহলে এখানে আপত্তি কোথায়?”
মিতালীও অবাক হয়ে তাকাল।পাভেল কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অতঃপর ধরা গলায় বলে গেল,
“তাজধীর ভাইকে অপছন্দ করার কোনো অধিকার বা কারণ নেই। এই প্রস্তাবটা না রাখতে পাড়ার কারণ একটাই। প্রিয়র বিয়ে অন্য জায়গায় ঠিক হয়ে আছে আম্মু!”
“অন্য জায়গায় মানে?কার সাথে?”
মাঝখানে ফোড়ন কেটে বলে উঠল মিতালী এবার।
পাভেল ভারী গলায় উত্তর দিল,
“অভিরাজ ভাইয়ের সাথে।”
“অভিরাজ!”
অভিরাজের নাম এর আগেও পাভেল সহ মিতালীর মুখে অনেকবার শুনেছেন মোহনা। তবে এমন কিছু সম্পর্কে আঁচ করতে পারেননি। পাভেল গলা নামিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে শুরু করল এবার,
“আম্মু, আজ আমি যে অবস্থানে বসে আপনার সঙ্গে কথা বলছি, এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান একজন মানুষের। আর তিনি হচ্ছেন অভিরাজ ভাই।চার বছর আগে আমার ব্যবসায় এমন একটা ধস নেমেছিল যে আমি প্রায় রাস্তায় বসে গিয়েছিলাম। ব্যাংকের ঋণ, পাওনাদারের চাপ, ব্যবসার ক্ষতি সব মিলিয়ে চারদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল জীবনটা বুঝি সত্যিই শেষ হয়ে গেল।
“মজার ব্যাপার জানেন? সুখের সময়ে মানুষের অভাব হয় না। কিন্তু বিপদ আসলে চারপাশটা হঠাৎ করেই ফাঁকা হয়ে যায়। যাদের নিজের ভাবতাম, তারাই একে একে দূরে সরে গিয়েছিল।তখন আমার পাশে ছিল শুধু প্রিয়। মেয়েটা তখনও ছোট। কিন্তু ওকে নিয়েই নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করছিলাম। ঠিক সেই সময়টাতেই অভিরাজ ভাই আমার জীবনে আসেন।”
“উনি চাইলে দূর থেকে সহানুভূতি দেখাতে পারতেন। বাকিদের মতো দুটো সান্ত্বনার কথা বলেই দায়িত্ব শেষ করতে পারতেন। কিন্তু করেননি। উনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার ব্যবসার পুরো কাঠামো নতুন করে দাঁড় করিয়েছেন। বিনিয়োগ করেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন। দিনের পর দিন নিজের সময় নষ্ট করে আমাকে শিখিয়েছেন কোথায় ভুল করছি।
আজ আমি যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি, সেটা একা আমার কৃতিত্ব না। এর অর্ধেকেরও বেশি কৃতিত্ব অভিরাজ ভাইয়ের।”
থামল পাভেল। পরপর শাস ছেড়ে বলতে শুরু করল আবার,
“অভিরাজ ভাই প্রিয়ন্তীকে অনেক আগেই পছন্দ করেন। আগে থেকেই বিষয়টা জানান আমায়।প্রথমে যখন বিষয়টা জানায় আমায়, তখন আমি সরাসরি না করিনি। আবার হ্যা ও বলিনি। কারণ প্রিয় তখন অনেক ছোট ছিল। তাই বয়সের অজুহাতে আমি উনার কাছে সময় চাই। বলেছিলাম বোন আমার কলেজ সম্পূর্ণ না করা অব্দি আমি বিয়ে দিবোনা। উনি তাতেই নিঃশর্তে রাজি হয়ে গেছেন। আপনিই বেন আজকালকার দিনে এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া কি আদৌ মুখের কথা? আমি এতদিন বিষয়টা কাউকে জানায়নি। এমনকি প্রিয় ও জানেনা এ সম্পর্কে কিছু।ভেবেছিলাম অভিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে পাকা কথা সেরে একবারে সবাইকে জানাতে।”
পাভেলের কথাগুলো শেষ হতেই ড্রইংরুমজুড়ে থমথমে নীরবতা নেমে এলো। মোহনা বেগম আশাহত হয়ে সোফার পিঠে হেলান দিয়ে বসলেন। এতক্ষণ ধরে বুকের ভেতর যে আনন্দ, যে উচ্ছ্বাস নিয়ে তিনি বসেছিলেন, মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি মনে মনে কত কিছু ভেবে ফেলেছিলেন! প্রিয়ন্তী এই বাড়ির বউ হয়ে আসবে।মেয়েটা সকালবেলা তার সঙ্গে রান্নাঘরে গল্প করবে।খুনসুটি করবে।এই বাড়ির প্রতিটা কোণ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।আর সবচেয়ে বড় কথা,এতোদিন পর প্রথমবারের মতো তার ছেলে নিজে থেকে কাউকে পছন্দ করেছে।সেই মেয়েটাকেই নিয়ে কত স্বপ্ন বুনে ফেলেছিলেন অজান্তেই।অথচ এখন মনে হচ্ছে, সবকিছুই বুঝি মরীচিকা ছিল।
এখানে অবশ্যই পাভেল কেও দোষারোপ করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ছেলেটার কথাগুলো ও যুক্তিযুক্ত।তবুও কিছু একটা ভেবে তিনি সোজা হয়ে বসলেন। সম্পর্কের কথা পাকাপাকি না হওয়া পর্যন্ত সবকিছুই তো পরিবর্তন হতে পারে। হয়তো আরেকবার ভেবে দেখার অনুরোধ করতে চাইছিলেন তিনি। হয়তো বা ছেলের মনের কথাটাও জানাতে চাইছিলেন। অমনি ভদ্রমহিলা আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে যাবেন’ই অগত্যা মেয়ের হাতের ইশারায় থেমে গেলেন মাঝপথে। পাশে বসে মিতালী মায়ের হাত চেপে বলল আপাতত চুপ থাকতে। মেয়ের ইশারায় চুপ করে মেয়ের দৃষ্টি অনুসারে সিঁড়ির দিকে চাইতেই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন তিনি। সিঁড়ির মাঝামাঝি ধাপে দাঁড়িয়ে আছে তাজধীর।কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে কে জানে। তবে মুখোভঙ্গি দেখে বুঝা যাচ্ছে শুনেছে হয়তো সবটা। মূলত তাজধীরের ইশারাতেই মিতালী মাকে থামায়।
তবে তাজধীর আর তখন নামল না। আর না ব্যায় করল একটি বাক্যও। বরং উল্টো ঘুরে দৃঢ় কদমে সোজা উপরের দিকে উঠে চলে গেল।
চলবে…
#ডেসটেনি [ সারপ্রাইস পর্ব ]
#সুহাসিনি_মিমি
নিশির আকাশজুড়ে নিরন্তর ভেসে বেড়াচ্ছে ঘন ঘন মেঘের আস্তরণ।থেকে থেকে ভেসে আসছে কুকুরের ক্ষীণ স্বর। কখনো সখনো বিদ্যুতের ঝলকানিতে মেতে উঠছে পুরো ধরণী। নিমেষেই আবার চারপাশ গ্রাস করছে ঘুটঘুটে অন্ধকার।
ঘুটঘুটে সেই অন্ধকারে ডুবে থাকা সিদ্দিক কুঞ্জের ছাদটার এক কোণে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক নিঃসঙ্গ মানব। কালো টি-শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। এলোমেলো চুলগুলো বাতাসে বারবার উড়ে গিয়ে পড়ছে কপালের উপর।ডান হাতটা সাদা বেন্ডেজে মোড়ে থাকলেও মানবের বাম হাতে জ্বলজ্বল করছে জ্বলন্ত সিগরেট।
সিগারেটের প্রতি কখনোই বিশেষ আসক্তি ছিল না তার। প্রয়োজন ছাড়া এই জিনিসটাকে ছুঁয়েও দেখত না। দায়িত্ব আর শৃঙ্খলাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। তবে দীর্ঘ কোনো মিশনের সময় যখন চাপ অসহনীয় হয়ে উঠত, কিংবা টানা ব্যস্ততায় নিজেকে সামলানোর অবকাশ মিলত না, তখন খুব বেশি হলে এক-দুটি সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্ষণিকের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলত। কিন্তু আজকের রাতটা অন্যরকম। আজ হিসেব করে পুরো দুই প্যাকেট সিগারেট শেষ করেছে তাজধীর। ছাদের একপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য পোড়া ফিল্টার আর ছাইয়ের স্তূপ। চেয়েছিল সিগারেটের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভেতরের অস্থিরতাটাকেও পুড়িয়ে ফেলতে, অথচ তাতেও কোনো লাভ হয়নি। আজ ধোঁয়ার স্বাদও কেমন যেন তেতো, বিদঘুটে ঠেকছে। তাজধীর মাথা তুলে তাকাল আকাশের দিকে।বড্ড অস্থির লাগছে। অদ্ভুত ভারে জমে আছে ভিতরটা। বুঁকের ভিতর বিশাল ভারী কোনো পাথর শক্ত করে চেপে ধরে আছে যেন কেউ। বেন্ডেজ করা হাততার দিকে তাকালো তাজধীর একবার। কাপড়ের নিচে এখনো জ্বালা করছে ক্ষতস্থানটা।
তখন স্টাডিরুম হতে প্রিয়ন্তী বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই নিজের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তার হাতে। দেয়ালে একের পর এক শক্ত আঘাতে ক্ষতপ্রাপ্ত হয় হাতটি। এর অবশ্য যথার্থ কারণও আছে।উত্তেজিত হওয়া, নিয়ন্ত্রণ হারানো, আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়া— এসব তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না।সেতো এমন ছিলনা কখনই। বছরের পর বছর কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা আর দায়িত্ববোধ তাকে শিখিয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখতে। তাহলে আজকাল কী হচ্ছে তার?কেন সামান্য কিছু কথাতেই ভেতরটা এভাবে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে?কেন নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না? এতো এতো প্রশ্নর ভিড়ে উত্তরহীন তাজধীর তাকালো মেঘলা খোলা আকাশের পানে। দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো বুকের গভীর থেকে। আজব।যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থেকেও কখনও এমন অস্বস্তি হয়নি।
অসংখ্য কঠিন মিশনে অংশ নিয়েছে। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছে। সহযোদ্ধার র ক্তাক্ত শরীর কাঁধে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছে। বিস্ফোরণের শব্দ, গুলির বৃষ্টি, মৃত্যুভয় কোনোটাই তাকে ভেঙে দিতে পারেনি এভাবে। অথচ,সামান্য একটা মেয়ের চোখের জল তাকে এভাবে অস্থির করে দিতে পারে, সেটা কখনো কল্পনাও করেনি। আর সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো সে জানে, প্রিয়ন্তী এখন তাকে ঘৃণা করছে। হয়তো অহংকারীও ভাবছে। নিষ্ঠুর ভাবছে। রূঢ় ভাবছে।
তাজধীর মাথা নিচু করল।বাম হাতের আঙুল দিয়ে আলতো করে স্পর্শ করল ডান হাতের ব্যান্ডেজটা।
ক্ষতটা এখনও তাজা।কিন্তু আশ্চর্যভাবে হাতের ব্যথার চেয়েও বেশি পোড়াচ্ছে অন্য কিছু।অনুশোচনা, তীব্র, অসহনীয় অনুশোচনা।আকাশে আবার বিদ্যুৎ চমকাল।সাদা আলো এসে এক মুহূর্তের জন্য আলোকিত করে গেল তার গম্ভীর মুখটা।
রাত প্রায় দুইটার দিকে ছাদ ছেড়ে নিচে নেমে এলো তাজধীর।এরপরই ল্যাপটপ নিয়ে বসে যায়। পার হয় আরো ঘন্টা খানেক। একান্ত মনোযোগে কি যেন করে যাচ্ছে একধ্যানে।
এভাবেই পার হলো তিনটার ঘর।তীক্ষ্ণ চোখে একটা পুরনো ফাইলের দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থাকল।অনেক বছরের বেশ পুরোনো একটা ফাইল।
কোনো একটা কারণে সেটা স্থগিত হয়ে ছিল এতটা বছর। হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই স্তগিত করানো হয়েছিল। চেয়ারে হেলান দিয়ে মাথা কাত করল তাজধীর। এরপর ফোন তুলে সোজা ফোন করল কাউকে।
নিজে কোয়াটারে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে মাঝারি আকারের টেবিলটার নিচে সাপের মতো পেঁচিয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অর্ণব। পরনে একটা হাফপ্যান্ট আর অফ হোয়াইট রঙা টি শার্ট। যথারীতি যুদ্ধক্ষেত্রসদৃশ ঘুম যাকে বলে আরকি। অমন সময় কেঁপে উঠে পাশে থাকা যান্ত্রিক ডিভাইস’টা।
ফোনের বিকট শব্দে বিরক্ত হয়ে কুঁকড়ে উঠে অর্ণব।
দ্বিতীয়বার রিং বাজতেই চোখ আধখোলা করে যথারীতি রিসিভ করে কানের পাশে চেপে ধরতে ধরতে একবার নাম্বারটাও পরখ করে নিলো।স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে, “যমদূত” নামটা। অর্ণব বিরক্তিতে গজগজ করল,
“এই সালার আবার এই মাঝরাতে কোন চুলকানি উঠসে!”
কল রিসিভ কড়ে হাই তুলে বলল,
“কী রে ভাই ? রাত সাড়ে তিনটায় কার জানাজা পড়াতে ফোন দিছস?”
“ঘুমাচ্ছিলি?”
অর্ণব চোখ উল্টাল।বড্ড স্বাভাবিক গলায় বলল,
“না। ভোর চারটায় উঠে যোগব্যায়াম করতেছিলাম।তারপর ভাবলাম একটু ধ্যান করি। এখন তুই ফোন দিয়ে আধ্যাত্মিকতা নষ্ট করলি।এখন বল কী হয়েছে?”
“ইডিয়েট! আমাদের পরবর্তী মিশনের আপডেট কি? ফাইল গুলো রেডি রেখেছিস?”
“ভোর সাড়ে তিনটায় মানুষের মাথায় প্রেম আসে,বউ আসে। আর তোর মাথায় আসে ফাইল! ভোর চারটায় তোর ফাইলের কথা মনে পড়ল?ভাই তুই কি ঘুমাস না?”
“আমি ফিরছি।”
“কোথায়?”
“ব্যাকে।”
মুহূর্তে ঘুম পুরোপুরি উবে গেল অর্ণবের। তাজ্জব হয়ে বলল,
“এই ভোর বেলা? সকালে আয় ভাই। বিস্বাস কর এখন একটুও উঠতে মন চাচ্ছে না। তুই বরং যেখানেই আছিস সেখানে একটু অপেক্ষা কর। ফজর হোক, সূর্য উঠুক তারপর আয়।”
“ইডিয়েট! আমি এখন আসছি না। দুইদিনের মধ্যে আসছি!”
“ওহ!”
তাজধীর আবার বলল,
“আচ্ছা শোন আমি কিছু ইনফরমেশন পাঠাচ্ছি।”
বলতে বলতে টেবিলে রাখা ল্যাপটপে কয়েকটা ফাইল ট্রান্সফার করল। ফোনে নোটিফিকেশন ভেসে উঠতেই অর্ণব খুলে দেখল।তারপর তাজধীর বলল,
“One hour. I want every single detail within one hour.”
“তুই কি বুঝতেছিস তুই কী করতে যাচ্ছিস?”
“খুব ভালোভাবেই।”
“এই কেসটা বন্ধ হয়েছিল বহু বছর আগে। ফাইল সিল করা হয়েছিল। রিপোর্ট মুছে ফেলা হয়েছিল।”
“জানি।”
“শুধু জানিস? এই কেস নিয়ে শেষবার নড়াচড়া করতে গিয়ে কী হয়েছিল ভুলে গেছিস?”
“ভুলিনি।”
“তাহলে আবার কেন?এটা কতটা রিস্কি জানিস না?”
“জানি।আমাদের লাইফে রিস্ক বলে কিছু নেই। আমরা যখন এই প্রফেশনে এসেছি তখন, সবকিছু বিসর্জন দিয়ে এসেছি।”
“হেইড জানতে পারলে প্রব্লেম হবে।
“হতে দে।এন্ড সেটা হয়েছিল তোদের ফল্টে । তবে আগেরবারের মতো বোকামি তাজধীর সিদ্দিক আযান করছে না।”
“তোর নিজেরও অনেক ক্ষতি হয়ে হয়ে যেতে পারে।”
“জানি।”
“সবকিছু জেনেও কেন আগুনে ঝাঁপ দিতে চাইছিস হঠাৎ?
“তোকে যেটা করতে বলা হয়েছে সেটা কর। ৫ মিনিটস অলরেডি গণ।”
অর্ণব দীর্ঘশ্বাস ফেলল।বুঝল তাজধীর কথা ঘুরিয়ে দিয়েছে।মানে আসল কারণটা বলবে না।যেমনটা সবসময় করে।অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে বলল,
“ঠিক আছে। এক ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট পাঠাচ্ছি ।”
“গুড।নাও ডু ইট ফাস্ট!”
বলে কল কাটল তাজধীর। বন্ধ করল ল্যাপটপের শাটার। উঠে সোজা বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চাঁদটাও লুকোচুরি খেলছে। দেখা দিচ্ছে না। সেই ঢেকে থাকা চাঁদের দিকে একমনে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বেশি উঠল মানব,
“ভালোবাসা জীবনে একাধিকবার এসে কড়া নাড়ে,তবে মায়া তেমন নয়।কাউকে ভালোবাসলেই যে তার মায়ায় পড়তে হবে, এমনও কোনো বিধান নেই। অথচ কারও মায়ায় পড়ে গেলে তাকে ভালোবাসা ঠিক যেন,নিয়তির অবধারিত পরিণতি। ভালোবাসার সংজ্ঞা অনুভূতি। আর মায়া! সেতো অস্তিত্ব। আপনি আমার সেই মায়া, মিস ব্লু হাফমুন। আর তাজধীর সিদ্দিক আযান কখনো নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে আপস করে না।কখনই নাহ!”
বলেই বাঁকা হাসল তাজধীর। যেই হাসির পিছনের কারণ জানা নেই কারো। বরং হাসিটা অনেকটা এমন, যেন বহুদিন ধরে মাথার ভেতর ঘুরপাক খাওয়া কোনো জটিল সমীকরণের উত্তর অবশেষে খুঁজে পেয়েছে সে।
***
পূর্বাকাশে উদিত হয়েছে সূর্যিমামা। ঘড়ির কাঁটা সবে ছয়টা ছুঁয়েছে মাত্র। রাতভর একফোঁটা ঘুম হয়নি তাজধীরের। ফ্রেশ হয়ে কালো একটা ট্রাউজার আর ধূসর রঙের একটি সাদামাটা টি-শার্ট পরে নিচে নেমে এলো। খুজল মা কে। না পেয়ে বাইরে বের হয়ে এলো। ফজরের নামাজ আদায় করার পর প্রায় প্রতিদিনই বাড়ির সামনের বাগানে কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করেন মোহনা। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তাজধীর দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেল বাগানের দিকে।
সকালের স্বর্ণালী আলোয় বাগানটার তাজা ফুলগুলো চিকচিক করছে। সেই শান্ত পরিবেশের মাঝখানেই হাতে তসবিহ নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটছিলেন মোহনা। ছেলের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘুরে তাকালেন তিনি।
“এত সকালে উঠেছিস কেন বাবা?”
তাজধীর এসে দাঁড়াল মায়ের সম্মুখীন হয়ে। সাবলীল কণ্ঠে জানাল,
“আমাকে আজই চলে যেতে হবে, আম্মু।”
মুহূর্তেই হাসিটা মিলিয়ে গেল মোহনার। ভর করল একরাশ হতাশা। বললেন,
“আজই?”
“হুম।”
“মন খারাপ তাইনা আব্বা? মন খারাপ করিস না।
আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। হয়তো এই সম্পর্কটা তোর জন্য লেখা ছিল না।চিন্তা করিস না। তোর জন্য আমরা খুব ভালো একটা মেয়ে খুঁজে বের করব। খুব সুন্দর, খুব ভালো মনের একটা মেয়ে। যে তোকে বুঝবে, তোর যত্ন নেবে।”
উত্তরে নীরব রইল তাজধীর। বলল না কিছুই। মোহনা ছেলের ওই ফোলা ফোলা লালা লাল চোখ দুটোর দিকে চেয়ে গমগমে সরে বললেন,
“রাতে ঘুমাসনি তাইনা?”
এবারেও কোনো উত্তর করলো না ছেলে তার। মহিলা দীর্ঘশাস ফেললেন। যে ছেলে জীবনের এতগুলো বছর কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকায়নি, সে প্রথমবারের মতো কাউকে পছন্দ করেছিল।এমনকি নিজে থেকে বিয়ের কথাও বলেছিল।আর আজ,সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে গেল।
মহানা বেগমের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল ছেলের দিকে চেয়ে।
“আম্মু।আমার এখনই বের হতে হবে।”
অবশেষে মুখ খুলল তাজধীর।মহানা বেগম চমকে উঠলেন।
“এখনই?এই সকাল সকাল?”
“একটা জরুরি কাজ পড়ে গেছে আর্জেন্ট!”
“নাস্তাও করবি না?”
“রাস্তায় করে নেব।”
“তাও অন্তত আধঘণ্টা পরে যাস। আমি নাস্তা বানাতে বলি।”
তাজধীর মাথা নাড়ল।
“সময় নেই।”
“কী এমন কাজ যে নাস্তা করারও সময় নেই?কালও অন্য কথা বললি। ইচ্ছে করেই কাজের বাহানায় চলে যেতে চাচ্ছিস তাইনা?”
প্রশ্ন ছুড়ে উত্তরের আশায় ভ্রু উঁচিয়ে চেয়ে রইলেন মোহনা। ছেলে তার এবারেও নির্বাক, উত্তরহীন।তবে ছেলেটা হাবভাব দেখে বুঝলেন ছেলে তার একটা প্রশ্নেরও উত্তর দিবেন না । হাল ছাড়লেন অবশেষে তিনি। বললেন ফির,
“কতদিন লাগবে?আবার কবে আসবি?”
“হয়তো খুব শীগ্রই!”
“আচ্ছা, খেয়াল রাখিস নিজের। অন্তত ফোন দিস দিনে একবার করে।”
“চেষ্টা করবো!”
চলবে…..
এক আত্মীয় মারা গেছে। চেয়েছিলাম বড় ককরে রাতে একটা পর্ব দিতে। তবে, এখন আর সম্ভব না। অপেক্ষা করছিলেন তাই যতটুকু লিখেছিলাম ততোটুকুই সারপ্রাইস পার্ট হিসাবে দিয়ে দিলাম। বাকিটা আসবে খুব শীগ্রই ইনশাআল্লাহ।
Share On:
TAGS: ডেসটেনি, সুহাসিনি মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেসটেনি পর্ব ২৫
-
ডেসটেনি [ সারপ্রাইজ_পার্ট ]
-
ডেসটেনি পর্ব ২৩
-
ডেসটেনি পর্ব ২
-
ডেসটেনি পর্ব ৭
-
ডেসটেনি পর্ব ১৮
-
ডেসটেনি পর্ব ২১ প্রথম অংশ
-
ডেসটেনি পর্ব ১০
-
ডেসটেনি পর্ব ১
-
ডেসটেনি পর্ব ৮