ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ২৮
✍️ #সাবিলা_সাবি
পর্ব -২৮
⚠️ MATURE CONTENT ALERT 🔞
THE FOLLOWING CHAPTER CONTAINS INTENSE ROMANTIC THEMES, COMPLEX EMOTIONAL DYNAMICS, AND DESCRIPTIONS INTENDED FOR MATURE AUDIENCES (18+). IT EXPLORES STRONG CHARACTER EXPRESSIONS AND PROFOUND PASSION THAT MAY NOT BE SUITABLE FOR ALL READERS. READER DISCRETION IS STRONGLY ADVISED.⭕
.
.
মেক্সিকোর শান্ত প্রকৃতি চিরে তখন এক অস্থির উন্মাদনা দিকবিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদের করিডোরগুলো আজ এক থমথমে নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। দেয়ালের মৃদু হলুদ আলোয় ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘ নির্জনতা। ইসাবেলার কক্ষ থেকে বেরিয়ে তান্বী যখন ধীরপায়ে ভ্যালেরিয়ার ঘরের দিকে এগোচ্ছিল, তখন সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে অন্ধকারের ওপাশে কেউ একজন শিকারি বাঘের মতো তার প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
হঠাৎ এক ঝলক দমকা বাতাসের মতোই করিডোরের মোড় থেকে আবির্ভূত হলো জাভিয়ান। তান্বীর মগজ সঙ্কেত দেওয়ার আগেই সে অনুভব করল তার শরীর শূন্যে ভাসছে। এক নিপুণ ক্ষিপ্রতায় জাভিয়ান তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়েছে।
“জাভিয়ান! ছাড়ুন আমাকে! এটা কী হচ্ছে?” তান্বী আঁতকে উঠে ছটফট শুরু করল। তার দুই পা শূন্যে এলোপাতাড়ি আছাড় খাচ্ছে, কিন্তু জাভিয়ানের পাথরের মতো শক্ত পেশির কাছে সেই বাধা অতি নগণ্য।
যখন তান্বীর চেঁচামেচি করিডোরের নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম করল, জাভিয়ান তখন তাকে আলতো করে নিচে নামিয়ে দিল। তবে মুক্তি দিল না। এক ঝটকায় তান্বীকে করিডোরের একটা মার্বেল পিলারের সাথে ঠেসে ধরল সে। জাভিয়ানের দুই হাত এখন তান্বীর দুই পাশে দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাভিয়ানের শক্ত হাতের বেষ্টনীতে তান্বী যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে। করিডোরের মৃদু আলো তখন জাভিয়ানের মুখে এসে পড়ল, তান্বী দেখল জাভিয়ানের সেই গভীর বাদামী চোখের মণি আজ যেন তপ্ত কাঞ্চনের মতো জ্বলছে। সেই চোখে কোনো শীতলতা নেই, আছে এক আদিম দহন—যা তাকালে মনে হয় অন্তরাত্মা পুড়ে খাক হয়ে যাবে। জাভিয়ানের সেই বাদামী চোখের মাদকতা তান্বীকে বুঝিয়ে দিল, এই পুরুষটি আজ কতটা অস্থির।
তবুও তান্বী হাপাতে হাপাতে রাগী চোখে তাকাল। তার অবাধ্য চুলগুলো কপালের ওপর এসে পড়েছে। “আপনার সমস্যা কী বলুন তো? আমাকে বারবার এভাবে কোলে তুলে নেন কেনো?”
জাভিয়ানের ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত ধূর্ত অথচ আকর্ষনীয় বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে তান্বীর মুখের খুব কাছে ঝুঁকে এল। তার তপ্ত নিশ্বাস এখন তান্বীর গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে। নিচু স্বরে সে ফিসফিস করে বলল—”কারন বন্যরা বনে সুন্দর; আর জিন্নীয়া তার জাভিয়ানের কোলে।”
কথাটা শুনে তান্বীর বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। জাভিয়ানের (Honey-toned) গাঢ় বাদামী চোখের তীব্র চাউনি আর কণ্ঠের জাদুতে সে তার যাবতীয় যুক্তি হারিয়ে ফেলল।জাভিয়ানের চোখের ওই বাদামী আভার মধ্যে যেন এক অদ্ভুত মায়া আর অধিকারবোধ মিশে আছে, যা তান্বীকে মুহূর্তেই নিস্তেজ করে দিল। কিছু একটা বলতে চেয়েও তার ঠোঁট জোড়া কেঁপে থেমে গেল। তবে জাভিয়ান সেই ঘোরের সুযোগ দিল না। সপাটে বলল, “অনেক হয়েছে, এবার ঘরে চলো। আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।”
তান্বী মাথা নেড়ে নিজেকে সামলে নিল। “না, আমি আপনার রুমে যাব না। আমি আজ রাতে ভ্যালেরিয়া আপার কাছে ঘুমাবো।”
জাভিয়ানের কপাল কুঁচকে গেল। এক ধরনের সুপ্ত অধিকারবোধ তার কণ্ঠে ফুটে উঠল। “কেন? কী দরকার? আমি তোমার বিবাহিত স্বামী, তুমি আমার সাথে থাকবে। আর তুমি তো জানোনা, তোমাকে এখন না জড়িয়ে ধরলে আমার চোখে ঘুম আসবেনা। এই নতুন বাহানা কেন দিচ্ছ?”
তান্বী এবার কিছুটা শান্ত হলো। তার চোখের মনিতে এক মায়াবী বিষণ্ণতা খেলে গেল। সে জাভিয়ানের শার্টের বোতামের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল—”কারণ মেক্সিকোর এই দুর্গ থেকে আমরা তো খুব শীঘ্রই ফিরে যাব। তখন আপনাকে তো আমি প্রতিদিন পাবো, প্রতিক্ষণ পাবো। কিন্তু ভ্যালেরিয়া আপাকে তো আর কাছে পাবো না। সে তো আর আমাদের সাথে আমাদের সেই বাড়িতে যাবে না।”
তান্বী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জাভিয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে এখন বিমূর্ত আকুতি। “ভ্যালেরিয়া আপা হুবহু এলিনা আপার মতোই দেখতে। আপাকে দেখলে আমার এলিনা আপার কথা মনে পড়ে খুব।ওনাকে দেখলে মনে হয় নিজের কোনো আস্থাশীল মানুষ পাশে আছে। এই অচেনা দেশে ওটাই আমার একমাত্র শান্তির জায়গা। তাই এই শেষ কয়েকটা দিন আমি ওনার মায়ার ভাগ নিতে চাই।”
জাভিয়ান নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সে দেখল তান্বীর চোখের পাতায় চিকচিক করছে এক পশলা আবেগ। জাভিয়ান বুঝল, এই মেয়েটি কেবল শরীর নয়, হৃদয়ের দিক থেকেও কতটা ভঙ্গুর আর কোমল। একদিকে তার নিজের শরীরের সেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে তান্বীর এই নিষ্পাপ আবদার—জাভিয়ান এক অদ্ভুত দোটানায় পড়ে গেল। তার মনে হলো, মেইলস্ট্রোমের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ, কিন্তু এই মেয়েটির চোখের পানির বিরুদ্ধে জেতা অসম্ভব।
তবে জাভিয়ানও দমবার পাত্র নয়। পিলারের সাথে পিঠ ঠেকে থাকা তান্বীর আরও সন্নিকটে এগিয়ে এল সে। তাদের মাঝের দূরত্ব এখন যৎসামান্য। জাভিয়ানের চোখের মনিতে এক ধরণের আদিম দহন আর দুষ্টুমিভরা হুকুমের খেলা চলছে। সে নিচু, গম্ভীর স্বরে তান্বীর কানের কাছে মুখ নিয়ে এল।
“জিন্নীয়া, তুমি যদি এখনো জেদ করো আর আমার সাথে রুমে না ফেরো, তবে আমি কিন্তু এই করিডোররেই তোমাকে চুমু খাবো।”
তান্বী দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে চিবুক উঁচিয়ে জাভিয়ানের সেই তপ্ত বাদামী চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। তার কণ্ঠে এক ধরণের অভিমানী সাহস, “আপনার কি মনে হয়? আমি আপনার একটা চুমুতে ভয় পেয়ে যাবো।”
জাভিয়ানের ঠোঁটের কোণে এবার এক পৈশাচিক অথচ অবিশ্বাস্য রকমের আকর্ষণীয় হাসি ফুটে উঠল। সে তান্বীর লতি স্পর্শ করে তপ্ত নিশ্বাসে ফিসফিস করে বলল—“তোমার কি মনে হয়? আমি তোমাকে একটা চুমু দিয়েই ছেড়ে দেব? আমার তৃষ্ণা কি এতোটাই সস্তা?”
কথাটা বলেই জাভিয়ান যখন তান্বীর অধর ছুঁতে চাইল এবং তার দুই হাতের বেষ্টনীতে তাকে পিষ্ট করতে উদ্যত হলো, ঠিক তখনই করিডোরের মোড় থেকে একটি দীর্ঘ ছায়া এসে তাদের মাঝখানে পড়ল। কোনো ভূমিকা ছাড়াই ভ্যালেরিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এগিয়ে এল এবং এক ঝটকায় তান্বীর হাত ধরে নিজের দিকে টেনে নিল।
জাভিয়ান বিরক্তিতে কুঁচকে উঠল। সে তান্বীর অন্য হাতটা চেপে ধরতে চাইল, কিন্তু ভ্যালেরিয়া তার চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত অর্থপূর্ণ এক ইশারা করল। জাভিয়ানের চোখের ওই গাঢ় বাদামী মনিতে তখন আগুনের শিখা, কিন্তু ভ্যালেরিয়ার চোখের সেই মৌন ভাষা তাকে মনে করিয়ে দিল সুইমিংপুলের ধারের সেই প্রতিশ্রুতির কথা—‘আজকের রাতটা ওকে আমার কাছে দাও, ওর মনের গভীর থেকে তোমার প্রতি থাকা সেই ভয়টুকু আমি উপড়ে ফেলব।’
জাভিয়ান মুহূর্তেই শান্ত হয়ে গেল। একরাশ অতৃপ্তি নিয়ে সে তান্বীর হাত ছেড়ে দিয়ে এক পা পিছিয়ে দাঁড়াল।
ভ্যালেরিয়া শান্ত অথচ গম্ভীর গলায় বললো “চল তান্বী, অনেক রাত হয়েছে। জাভিয়ান, তুমি মিছেই দুশ্চিন্তা করছ। ও আজ রাতে আমার সাথে থাকুক, আর আমার কাছে ও পুরোপুরি নিরাপদ।”
তান্বী ভ্যালেরিয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে এক বিজয়ের হাসি হাসল। সে জাভিয়ানের দিকে একবার বিজয়িনীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভ্যালেরিয়ার সাথে তার রুমের দিকে হাঁটা দিল। জাভিয়ান করিডোরে একা পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। সে দেখল তান্বী চলে যাচ্ছে, অথচ তার রক্তে তখন মিশে যাচ্ছে সেই বিষাক্ত ‘মেডরক্সিপ্রোজেস্টেরন’—যা তার পুরুষত্বকে শৃঙ্খলিত করে রাখছে কেবল একটি মেয়ের সুস্থতার জন্য।
ভ্যালেরিয়া যেতে যেতে একবার পেছন ফিরে জাভিয়ানকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে তাকাল। জাভিয়ান করিডোরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল—”দেখা যাক ভ্যালেরিয়া, তুমি আমার এই অবুঝ জিন্নীয়াকে আজ কতটা বদলে দিতে পারো। আমার ধৈর্য কিন্তু ফুরিয়ে আসছে।”
.
.
.
ভ্যালেরিয়ার রুমে ঢুকেই তান্বী এক ধরণের অদ্ভুত অস্বস্তিতে কুঁকড়ে গেল। রুমের স্নিগ্ধ আলোর বিপরীতে ভ্যালেরিয়াকে আজ ভীষণ রহস্যময়ী লাগছে। সে বিছানায় বেশ আয়েশ করে হেলান দিয়ে বসল, আর তার নিখুঁত পাতলা ঠোঁটের মাঝে চেপে ধরল দীর্ঘ একটি সাদা সিগারেট।
ভ্যালেরিয়া তখন বললো “তান্বী, ওই টেবিল থেকে ম্যাচলাইটটা একটু দে তো।”
তান্বী কিছুটা ইতস্তত করলেও বাধ্য মেয়ের মতো লাইটারটা এনে ভ্যালেরিয়ার ঠোঁটে থাকা সিগারেটে আগুন জ্বালিয়ে দিল। মুহূর্তেই আগুনের লাল আভা ভ্যালেরিয়ার মুখে এক অলৌকিক ছায়া ফেলল। এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে আড়চোখে তান্বীর দিকে তাকাল সে।তারপর বললো “নে, একটা টান দিয়ে দেখ। মনটা হালকা হবে, সব স্ট্রেস ধুয়েমুছে যাবে।”
তান্বী যেন আকাশ থেকে পড়ল! সে এক ঝটকায় অনেকটা দূরে সরে গিয়ে হাত নেড়ে প্রতিবাদ জানাল।”ছি ছি! আপা আপনি এসব কী বলছেন? আমি এসব ছাইপাশ জিনিস জীবনেও ছুঁয়ে দেখিনি। আপনার ওই বিড়ি আপনিই খান, আমাকে ওসব বিষের মধ্যে টানবেন না।”
ভ্যালেরিয়া এবার হোহো করে হেসে উঠল। সেই হাসির সাথে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে সে বিদ্রূপের স্বরে বলল—”আমার এই দামী জিনিসটাকে তুই ‘বিড়ি’ বলে অপমান করলি? আরে জানিস, এটা মেক্সিকোর সবচেয়ে দামী ব্র্যান্ডের সিগারেট। ওটা তোদের বাংলার আকিজ বিড়ি না যে গন্ধে মরে যাবি!”
তান্বী নাক কুঁচকে বললো “আমি ওসব দামী-সস্তার তফাত চিনি না আপা। আকিজ বিড়ি হোক আর মেক্সিকান সিগারেট—জিনিসটা তো শেষ পর্যন্ত বিষই! দামী বিষ কি মানুষের ফুসফুসকে রেহাই দিবে? আমার কাছে ধূমপান মানেই হলো শরীরকে তিলে তিলে ধ্বংস করা। আপনিও এটা ছেড়ে দিন না, প্লিজ!”
ভ্যালেরিয়া এবার সিগারেটের ছাইটা ঝেড়ে হঠাৎ গভীর এক স্তব্ধতায় তলিয়ে গেল। সে জানালার বাইরের গাঢ় অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে নিচু, নির্লিপ্ত স্বরে বলল “স্বাস্থ্যের জন্য তো অনেক কিছুই ক্ষতিকর তান্বী। যেমন’মেডরক্সিপ্রোজেস্টেরন’ (Medroxyprogesterone)। এটাও তো একটা কেমিক্যাল, এটাও তো তিলে তিলে একটা মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক সত্তাকে বিষিয়ে দেয়। সিগারেটের চেয়েও ভয়ংকর এর নীল বিষ।”
তান্বী ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। ওষুধের নামটি তার কাছে অতিশয় খটোমটো আর দুর্বোধ্য ঠেকল।”মেডরক্সি… কী যেন বললেন? এটা আবার কী জিনিস? কোনো ড্রাগ নাকি? আর এটার সাথে আপনার এই সিগারেটের কী সম্পর্ক?”
ভ্যালেরিয়া এবার সরাসরি তান্বীর চোখের দিকে তাকাল। তার চোখের মনিতে তখন এক আদিম করুণা আর করুণ এক তিক্ততা।”না তান্বী, এটা কোনো সাধারণ মাদক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটা হরমোনাল সমস্যার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জানিস, কিছু পুরুষ এটা কেন খায়? তারা এটা খায় নিজেদের ‘সে/ক্স ড্রাইভ’ বা তীব্র শারীরিক আকাঙ্ক্ষাকে জোর করে মেরে ফেলার জন্য। যখন তাদের অবাধ্য মন আর শরীর কোনো প্রিয়তমার জন্য বিদ্রোহ করে, কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না—তখন নিজেকে পাথরের মতো শান্ত রাখতে তারা এই মেডিসিনের সাহায্য নেয়।”
তান্বী স্তব্ধ হয়ে গেল। রুমের ভেতরে যেন অক্সিজেনের অভাব বোধ হচ্ছে তার। ভ্যালেরিয়া কেন হঠাৎ এই নিষিদ্ধ ওষুধের কথা তুলল?
ভ্যালেরিয়া তার সরু সিগারেটে শেষ একটি দীর্ঘ টান দিয়ে এক মুখ ধোঁয়া তান্বীর ঠিক মুখের ওপর ছাড়ল। ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে তান্বীর চোখমুখ ঝাপসা হয়ে গেল। সে হালকা কাশি দিয়ে মুখ সরাতেই ভ্যালেরিয়ার কণ্ঠস্বর পাথরের মতো গম্ভীর হয়ে এল।
“এই যে কিছুক্ষণ আগে ‘মেডরক্সিপ্রোজেস্টেরন’ নামের একটা বিষাক্ত ওষুধের কথা বললাম না? ওটা তোর স্বামী জাভিয়ান নিয়মিত খাচ্ছে।”
কথাটা শুনে তান্বী যেন স্থবির হয়ে গেল। তার বড় বড় চোখের মনিতে একরাশ বিস্ময়। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো সময় থমকে দাঁড়িয়েছে। “কী বলছেন আপা এসব? জাভিয়ান… জাভিয়ান এসব ওষুধ খাচ্ছে কেন? ওনার কি বড় কোনো অসুখ হয়েছে?”
ভ্যালেরিয়ার ঠোঁটে এবার এক বিধ্বংসী তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। সে ধীরপায়ে তান্বীর সামনে এসে দাঁড়াল।
“অসুখ না রে পাগলি, ওটা খাচ্ছে তোর জন্য। জাভিয়ান আমাকে বলল, তুই নাকি ও ছুঁলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলিস? ও সামান্য কাছে গেলেই নাকি তুই সেন্সলেস হয়ে পড়িস? সত্যি কি তাই?”
তান্বী অপরাধবোধে মাথা নিচু করল। তার দুই হাত নিজের অজান্তেই গায়ের চাদরটা খামচে ধরল। অত্যন্ত লজ্জিত ও ধরা গলায় সে বলল—”আসলে আমি নিজেও জানি না কেন এমন হয়। উনি স্পর্শ করলে আমার ভেতরের অনুভূতিগুলো এলোমেলো হয়ে যায়, শরীর খুব খারাপ করতে শুরু করে। সত্যি বলছি আপা, ওনার সেই পৌরুষদীপ্ত ছোঁয়া সহ্য করার ক্ষমতা আমার শরীরের নেই।”
ভ্যালেরিয়া এবার তান্বীর চিবুকটা উঁচিয়ে ধরল। তার চোখের দৃষ্টিতে আজ কোনো করুণা নেই, আছে এক রূঢ় বাস্তবতা।
“শোন তান্বী, জাভিয়ান একজন রক্ত-মাংসের পুরুষ, কোনো রোবোট নয়। ও তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে, সেটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একটা সময় আসে যখন তীব্র শারীরিক আকাঙ্ক্ষা ভালোবাসার চেয়েও প্রখর হয়ে ওঠে। কোনো পুরুষ তার কাঙ্ক্ষিত নারীকে না ছুঁয়ে অনির্দিষ্টকাল থাকতে পারে না।”
ভ্যালেরিয়া একটু থামল, তারপর তান্বীর দুচোখে সরাসরি তাকিয়ে বলতে লাগল—”তুই যদি বারবার ওকে ফিরিয়ে দিস, তবে জাভিয়ান তোকে মনে মনে হয়তো ভালোবাসবে ঠিকই, কিন্তু নিজের আদিম চাহিদা মেটাতে ও অন্য কোনো নারীর দুয়ারে কড়া নাড়বে। ও একবার মেক্সিকোর কোনো অভিজাত ক্লাবে গিয়ে ইশারা করলে একশোজন লাস্যময়ী মেয়ে ওর পায়ে লুটিয়ে পড়ার জন্য তৈরি। তুই কি চাস তোর স্বামী অন্য কারো শরীরের ঘ্রাণ নিক? তুই কি চাস অন্য কোনো নারী জাভিয়ানের ওই প্রশস্ত বুকে মাথা রাখুক?”
তান্বী শিউরে উঠল। এক অদৃশ্য ভয়ের ঠান্ডা স্রোত তার মেরুদণ্ড দিয়ে বয়ে গেল। সে আর্তনাদ করে উঠল, “এসব আপনি কী বলছেন আপা? উনি কখনোই আমাকে ঠকাবেন না!”
ভ্যালেরিয়া এবার বললো “আরে বোকা মেয়ে, আবেগে নয়, বাস্তবতা দিয়ে ভাব! ঘরে সুন্দরী বউ থাকতেও যদি স্বামীর চাহিদা না মেটে, তখন জাভিয়ানের মতো ক্ষমতাধর পুরুষ বাইরে পা বাড়াতে বাধ্য হবেই। এটা ওর চরিত্র নয়, এটা পুরুষের প্রকৃতি। নিজেকে ওর জন্য প্রস্তুত কর তান্বী, নাহলে একদিন হয়তো তোর কাছে অনেক ধন-সম্পদ থাকবে, কিন্তু স্বামী হিসেবে জাভিয়ানকে তুই হারাবি। তখন আফসোসের সীমা থাকবে না।”
তান্বী নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ভ্যালেরিয়ার প্রতিটি শব্দ তীরের মতো তার হৃদপিণ্ডে বিঁধছে। সে আজ প্রথম অনুভব করল, জাভিয়ান তার জন্য নিজের ওপর কতটা বড় জুলুম করছে! কেবল তার স্বস্তির জন্য জাভিয়ান নিজের স্বাভাবিক সত্তাকে বিষ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখছে। এই চিন্তাটা তান্বীর মনের কোণে যেমন গভীর অপরাধবোধ জন্ম দিল, তেমনি এক অজানা ঈর্ষা আর অধিকারবোধের আগুন জ্বালিয়ে দিল।
ভ্যালেরিয়া সিগারেটের অবশিষ্টাংশটুকু অ্যাশট্রেতে অত্যন্ত অবজ্ঞার সাথে ঝেড়ে ফেলল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বিষাক্ত ও বাঁকা হাসি। তান্বীর চোখের গভীরতা মেপে নিয়ে সে খুব স্পষ্ট এবং নিরাসক্ত স্বরে বলতে শুরু করল—”শোন তান্বী, বাস্তবটা মেনে নিতে শেখ। আজ যদি তোর জায়গায় আমি থাকতাম, তবে জাভিয়ানের কাছে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না, আমি নিজেই—”
ভ্যালেরিয়া তার কথাটি শেষ করার আগেই তান্বী বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে এসে নিজের হাত দিয়ে ভ্যালেরিয়ার মুখ চেপে ধরল। তান্বীর ফর্সা মুখটা অপমানে আর যন্ত্রণায় নীল হয়ে গেছে। তার চোখের কোণে টলমল করছে জল।
তান্বী কান্নাভেজা এবং ভাঙা কণ্ঠে বললো “সরি আপা! প্লিজ কিছু মনে করবেন না আমি আপনার মুখ এভাবে চেপে ধরলাম বলে। কিন্তু অন্য কোনো নারীর মুখে জাভিয়ানকে নিয়ে এমন কথা আমি এক মুহূর্তের জন্যও শুনতে পারছি না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আপা, কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে, সহ্য করতে পারছি না।”
ভ্যালেরিয়া কোনো বাধা দিল না। সে ধীরস্থিরভাবে তান্বীর হাতটা নিজের মুখ থেকে সরিয়ে দিল। তার শীতল দৃষ্টিতে কোনো সহমর্মিতা ছিল না, ছিল কেবল জীবনের রূঢ় সত্য।
“তোর কি মনে হয় তান্বী? শুধু কানে শুনতেই তোর বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে? তাহলে একবার ভেবে দেখ, যেদিন সত্যি সত্যি অন্য কোনো নারী তোর স্বামীকে নিবিড়ভাবে ছুঁয়ে দেবে, সেদিন তোর অবস্থা কী হবে? আর একটা কথা তোকে খুব পরিষ্কারভাবে বলে রাখি, সেদিন যদি জাভিয়ান অন্য কারো বাহুবন্দি হয়, আমি কিন্তু জাভিয়ানের এক বিন্দু দোষও দেব না।”
তান্বী স্তব্ধ হয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার কান ঝাঁ ঝাঁ করছে। ভ্যালেরিয়া আবার বলতে শুরু করল—”দোষটা তখন হবে একচেটিয়া তোর। কারণ তুই ওকে তৃপ্তি দিতে পারছিস না। তুই দূরে সরে থাকছিস বলেই ও বাধ্য হবে বাইরের মেয়েদের উষ্ণতা খুঁজতে। হয়তো ও কাউকে কোনোদিন ভালোবাসবে না, হয়তো ওগুলো কেবল ‘ওয়ান টাইম ইউজ’ বা মুহূর্তের তৃষ্ণা হবে—কিন্তু তবুও তো ও অন্য একটা শরীরকে স্পর্শ করবে। তুই কি সত্যিই চাস তোর পবিত্র সম্পর্কে অন্য কোনো মেক্সিকান মেয়ের পারফিউমের গন্ধ মিশুক?”
ভ্যালেরিয়ার প্রতিটি শব্দ তীরের ফলার মতো তান্বীর হৃদয়ে বিঁধছিল। সে বুঝতে পারল, তার এই ‘অজ্ঞান হয়ে যাওয়া’ বা ছোঁয়া এড়িয়ে চলা কেবল তার ব্যক্তিগত ভীতির বিষয় নয়; এটি তাদের সম্পর্কের ভিত আলগা করে দিচ্ছে। জাভিয়ান যে মেডিসিন খেয়ে নিজের পুরুষত্বকে তিলে তিলে বিষ দিয়ে মারছে, তার পূর্ণ দায়ভার এখন তান্বীর ওপর।
তান্বী বিছানায় ধপ করে বসে পড়ল। তার মাথাটা যেন বনবন করে ঘুরছে। হৃদপিণ্ডটা বুকের খাঁচায় আছাড় খাচ্ছে।
ভ্যালেরিয়া একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তান্বীর চোখে তখন অথৈ সাগরের অনিশ্চয়তা আর অস্ফুট হাহাকার।তান্বী অসহায় কণ্ঠে বললো “তাহলে আমি এখন কী করবো আপা? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!”
ভ্যালেরিয়া তখন বললো “কী করবি মানে? আজকেই নিজেকে প্রস্তুত কর। আজ তুই নিজেই ওকে সিডিসস করবি। তুই নিজে ওর কাছে যাবি, যাতে ও অন্তত বুঝতে পারে যে তুইও ওকে চাস।”
তান্বী যেন আকাশ থেকে পড়ল। তার ফর্সা মুখটা মুহূর্তেই লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠল।”সিডিউস! ওসব আমি কীভাবে করবো আপা? আমি তো ওনার চোখের দিকে তাকালেই সব ভুলে যাই। আমার দ্বারা এসব হবে না!”
ভ্যালেরিয়া এবার বললো “চেষ্টা তো করতে হবে তান্বী। আচ্ছা শোন, আজ তুই এমন কিছু পরবি যা দেখে ও নিজেই পাগল হয়ে যাবে। তোকে কিচ্ছু করতে হবে না, তুই শুধু ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াবি।”
কথাটা বলেই ভ্যালেরিয়া তার আলমারি থেকে একটি প্যাকেট বের করল। ভেতর থেকে বেরিয়ে এল গাঢ় কালো রেশমি কাপড়ের একটি নাইট ড্রেস। হাঁটুর অনেকটা ওপরে তার ঝুলের শেষ, আর কাঁধে কেবল সুতোর মতো দুটো চিকন ফিতা। সাথে একটি পাতলা জর্জেটের কোটি, যা শরীরের প্রতিটি ভাঁজকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
ভ্যালেরিয়া তখন ড্রেসটা তান্বীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো “এই নে, এটা পর। আজ রাতের জন্য এটাই তোর অব্যর্থ অস্ত্র।”
তান্বী ড্রেসটা হাতে নিয়ে শিউরে উঠল। “ছি ছি আপা! এটা তো… এটা তো আস্ত কোনো পোশাকই না! আমি এটা কীভাবে পরবো? আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?”
ভ্যালেরিয়া তান্বীর কাঁধে হাত রেখে গম্ভীর গলায় বললো “শোন তান্বী, শুধু লজ্জা দিয়ে সংসার চলে না। তুই যদি আজ লজ্জা পেয়ে ঘরে বসে থাকিস, কাল কোনো মেক্সিকান মেয়ে এর চেয়েও খোলামেলা পোশাকে জাভিয়ানের সামনে এসে ডান্স করবে। তখন কী করবি? যা, এটা পরে তৈরি হয়ে নে। আজ রাতটা শুধু তোর আর জাভিয়ানের।”
তান্বী নাইট ড্রেসটা হাতে নিয়ে কুঁকড়ে গেল। লজ্জায় আর অভিমানে তার দুচোখ বেয়ে জল পড়ার উপক্রম। সে মাথা নেড়ে আর্তনাদ করে উঠল—”না আপা, মরে গেলেও আমি এসব পরতে পারব না। ছিঃ! আমি এসবের কথা কল্পনাও করতে পারছি না। আমাকে মাফ করে দিন!”
ভ্যালেরিয়া এবার কিছুটা বিরক্ত হয়ে তান্বীর কাঁধ ধরে একটা হালকা ঝাঁকুনি দিল। তার কণ্ঠস্বর এখন অনেক বেশি ধারালো। “শোন তান্বী, ভনিতা বন্ধ কর! তুই কি এসব রাস্তাঘাটে পরবি? নিজের বিবাহিত স্বামী, যার সাথে তোর কবুল পড়া হয়ে গেছে, তার সামনেই তো পরবি! লজ্জা কার জন্য? এখন থেকে যদি তুই জাভিয়ানের সামনে কমফোর্টেবল না হোস, তবে জীবনটা কাটাবি কীভাবে? আর শোন—বাচ্চা কি এমনি এমনি আকাশ থেকে পড়বে? তুই যদি ওর কাছেই না যাস, ওকে যদি নিজের শরীরটাই ছুঁতে না দিস, তবে বাচ্চা পয়দা করবি কীভাবে? নাকি সারাজীবন ওই ওষুধের ওপর জাভিয়ানকে বাঁচিয়ে রাখবি?”
‘বাচ্চা পয়দা’ করার রূঢ় বাস্তব কথাটি শুনে তান্বী একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। লজ্জায় তার কান-মুখ দিয়ে যেন আগুনের হলকা বের হতে লাগল। সে এর আগে কোনোদিন এভাবে ভাবেনি। ভ্যালেরিয়া তাকে জীবনের এমন এক কঠিন আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখান থেকে পালানোর আর কোনো পথ নেই।
তান্বী ড্রেসটা হাতে নিয়ে আড়চোখে ভ্যালেরিয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল—”আপনি একদম ওই জাভিয়ানের মতোই! আপনাদের কারো মুখেই কোনো ফিল্টার নেই, মনে যা আসে সরাসরি বলে ফেলেন। কিছু আটকায় না আপনাদের।”
তান্বীর কথা শুনে ভ্যালেরিয়া এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে রইল, তারপর সশব্দে হেসে উঠল। সেই হাসিতে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা মিশে ছিল। “হবে না কেন? যার সাথে জীবনের অধিকাংশ সময় ছায়ার মতো কাটিয়েছি, তার স্বভাব তো একটু আধটু রক্তে মিশবেই। ফিল্টার থাকলে কি আর জাভিয়ানকে সামলানো যায়? ও তো আগ্নেয়গিরি, ওকে ঠান্ডা করতে হলে তুষারপাত হতে হয়, আবার কখনো ওর মতো আগুন হতে হয়।”
তান্বী আর দ্বিরুক্তি করার সাহস পেল না। সে ড্রেসিংরুমের ভারি পর্দার আড়ালে ঢুকে গেল। তার হৃদপিণ্ড যেন থমকে যেতে চাইল। সে মনে মনে ভাবল, ‘এই বেশে আমি জাভিয়ানের সামনে যাব কীভাবে? উনি তো আমাকে ওনার চোখের দৃষ্টি দিয়েই ভস্ম করে দেবেন!’
তান্বী ভ্যালেরিয়ার রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল। তার হাতে শক্ত করে ধরা সেই কালো রেশমি পোশাকের প্যাকেট। করিডোরের ঠান্ডা বাতাসও আজ তার শরীরের তপ্ত অনুভূতিগুলোকে শান্ত করতে পারছে না। তার মাথায় তখন কেবল ভ্যালেরিয়ার সেই কথাগুলো বাজছে—’বাচ্চা পয়দা করবি কীভাবে?’ আর ‘জাভিয়ান মেডিসিন খাচ্ছে’।
তান্বী যখন জাভিয়ানের রুমে পা রাখল, ভেতরটা তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। কেবল বেলকনির খোলা দরজা দিয়ে চাঁদের একফালি আলো মেঝের এক কোণে স্থির হয়ে আছে। সেই আবছা আলো-আঁধারিতে তান্বী দেখল, জাভিয়ান ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে। তার আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত একটি সিগারেট, যেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে অন্ধকারে।
তান্বীর পায়ের শব্দে জাভিয়ান মুখ না ফিরিয়েই নিচু স্বরে বলে উঠল—”ফাইনালি এলে! আমি তো ভেবেছিলাম আজ রাতে আর তোমার দর্শন পাব না জিন্নীয়া।”
জাভিয়ানের কণ্ঠস্বরে এক ধরণের অদ্ভুত শূন্যতা আর অভিমান মিশে ছিল। তান্বী কোনো উত্তর দিল না। সে আলমারি থেকে তোয়ালেটা বের করে নিয়ে বাথরুমের দিকে পা বাড়াল। তার এই অদ্ভুত নীরবতা আর হাতে তোয়ালে দেখে জাভিয়ান এবার ঘুরে তাকাল। অন্ধকারেও তার বাদামী চোখের তীক্ষ্ণতা তান্বীর সারা শরীরে বিঁধছে।
“এতো রাতে তোয়ালে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?” জাভিয়ানের স্বরে এবার বিস্ময়।
তান্বী দরজার হ্যান্ডেল ধরে নিচু গলায় বলল, “শাওয়ার নিতে যাচ্ছি।”
জাভিয়ান সোজা হয়ে বসল। হাতের সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে পিষে দিয়ে সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এই গভীর রাতে আর এই হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে তুমি এখন শাওয়ার নেবে? মাথা খারাপ হয়েছে তোমার?”
তান্বী জেদ ধরে বলল, “হ্যাঁ, নেব। অনেক গরম লাগছে আমার।” কথাটা বলেই তান্বী দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকতে চাইল, কিন্তু জাভিয়ান তার চেয়েও ক্ষিপ্র। তান্বী দরজা লাগানোর আগেই জাভিয়ান এক ঝটকায় ভেতরে ঢুকে পড়ল এবং পেছন থেকে পা দিয়ে ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিল। বাথরুমের সাদা আলোয় দুজনের চোখাচোখি হতেই তান্বী চমকে পিছিয়ে গেল।
“আপনি… আপনি কেন এলেন ভেতরে? বেরোন এখান থেকে প্লিজ!” তান্বীর বুকটা তখন হাপরের মতো ওঠানামা করছে।জাভিয়ান একধাপ এগিয়ে এল। তার চোখের সেই মাদকতা আজ যেন কোনো এক আদিম তৃষ্ণায় জ্বলছে। সে তান্বীর খুব কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল—”এতো লং হেয়ার তোমার ,একা একা শ্যাম্পু করতে গেলে তো তোমার অনেক কষ্ট হয়। তাই ভাবলাম আজ না হয় আমিই তোমাকে শ্যাম্পু করিয়ে দিই?একটু সেবা করার সুযোগ কি আমি পেতে পারি না?”
তান্বী থমকে গেল। জাভিয়ানের এই অধিকারবোধ আর কণ্ঠের সেই মাদকতা তাকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে দিল। শাওয়ারের ঠান্ডা পানির নিচে দাঁড়ানোর আগেই জাভিয়ানের তপ্ত নিশ্বাস তান্বীর ঘাড় স্পর্শ করছে।
ওয়াশরুমের উজ্জ্বল সাদা আলোয় জাভিয়ানের অতি-নিকট উপস্থিতি তান্বীকে একদম কোণঠাসা করে দিল। জাভিয়ান যখন শাওয়ারের নবটা ঘুরিয়ে দিল, হাড়কাঁপানো শীতল পানির ধারা ঝরঝর করে আছড়ে পড়ল দুজনের ওপর। মুহূর্তেই তান্বীর গাউনসহ ওপরের চাদরটা ভিজে তার শরীরের সাথে লেপ্টে গেল, আর জাভিয়ানের সাদা শার্টটি স্বচ্ছ হয়ে উঠে তার বলিষ্ঠ পৌরুষদীপ্ত পেশিগুলো উন্মুক্ত করে দিল।
জাভিয়ান অত্যন্ত যত্ন সহকারে তান্বীর দীর্ঘ কেশগুচ্ছের গোড়ায় শ্যাম্পু মেখে দিতে শুরু করল। তার আঙুলগুলোর নিপুণ স্পর্শ তান্বীর স্নায়ুতে এক অদ্ভুত আরামদায়ক শিহরণ জাগিয়ে তুলছে। জাভিয়ানের এমন নিবিড় পরিচর্যায় তান্বী যেন জাগতিক সব যন্ত্রণা ভুলে গেল। হঠাৎ পুরনো কিছু স্মৃতি মনের কোণে ভিড় করতেই তার চোখে জল চিকচিক করে উঠল।
তান্বী চোখ বুজে অস্ফুট স্বরে বলল, “জানেন জাভিয়ান, এলিনা আপা সবসময় আমাকে ঠিক এভাবেই শ্যাম্পু করিয়ে দিত। আমার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আপা বলত আমার চুলগুলো নাকি একদম রূপকথার রুপাঞ্জেলের মতোই।”
কথাটা শেষ করেই তান্বীর হঠাৎ মনে পড়ে গেল জাভিয়ানের সাথে কাটানো সেই পুরনো এক তিক্ত মুহূর্তের কথা। সে চোখ মেলে জাভিয়ানের সেই গভীর বাদামী চোখের দিকে তাকিয়ে একটু ম্লান হেসেই বলল—”ওহ, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম! আপনি তো একবার তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন—লম্বা চুল শুধু রুপাঞ্জেলের হয় না, ডাইনিদেরও হয়!”
জাভিয়ানের হাতের আঙুলগুলো তান্বীর ভেজা চুলের ভাঁজে হঠাৎ স্থির হয়ে গেল। সে তান্বীর খুব কাছে মুখ নামিয়ে আনল, তাদের নাকের ডগা এখন প্রায় ছুঁইছুঁই। জাভিয়ানের তপ্ত নিশ্বাস তান্বীর ঠোঁটে আছড়ে পড়ে এক ধরণের দহন তৈরি করছে।
জাভিয়ান তার সেই চোখের গভীরে এক রহস্যময় চাহনি মেখে নিয়ে ফিসফিস করে বলল—”হ্যাঁ, বলেছিলাম। কিন্তু আমি কি এটা বলেছিলাম জিন্নীয়া যে আমি সেই ডাইনিটার প্রেমে পড়বোনা? রুপাঞ্জেলরা তো কেবল বইয়ের পাতায় থাকে, কিন্তু আমার এই ‘ডাইনি’ তো রক্ত-মাংসের এক জীবন্ত জাদু। যার চুলের নিগড়ে আমি দিনের পর দিন নিজেকে স্বেচ্ছায় শৃঙ্খলিত করে রেখেছি।”
জাভিয়ানের কণ্ঠের সেই অতল গভীরতা আর চোখের সেই বাদামী মদিরতা তান্বীকে মুহূর্তেই মোহাবিষ্ট করে ফেলল। পতপতে পানির শব্দের মাঝে কেবল দুজনের হৃদপিণ্ডের দ্রুত ধকধক শব্দ শোনা যাচ্ছে। তান্বী আজ অনুভব করল, জাভিয়ান আর সেই আগের মতো নিজেকে গুটিয়ে রাখা মানুষটি নেই—তার ভেতরের আদিম আবেগগুলো আজ সব বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
শাওয়ারের শীতল ধারায় ভিজে দুজনই তখন সিক্ত। শ্যাম্পুর সুবাস আর পানির শব্দের মাঝে জাভিয়ানের সান্নিধ্য তান্বীর হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিচ্ছিল। জাভিয়ানের গভীর চাহনি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তান্বী নিচু স্বরে বলল—”এবার আপনি যান জাভিয়ান। আমি ঝটপট শাওয়ারটা শেষ করে ড্রেস পাল্টে আসছি।”
জাভিয়ান আর কোনো দ্বিরুক্তি করল না। তার সেই বাদামী চোখের রহস্যময় চাউনি তান্বীর ওপর একবার বুলিয়ে নিয়ে সে নিঃশব্দে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গেল। তান্বী দীর্ঘশ্বাস ফেলে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগল।
বাইরে এসে জাভিয়ান ক্লোজেট থেকে একটি সাদা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার বের করে পরে নিল। আয়নায় একবার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে সে সোজা গিয়ে বসল জানালার ধারের সেই আরামদায়ক চেয়ারটিতে। তার মনে তখন এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করছে—যাকে দমন করার জন্য সে ড্রয়ার থেকে আরেকটি সিগারেট বের করে ধরিয়ে নিল।
সিগারেটের লাল আগুনের শিখাটা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে উঠল। জাভিয়ান দীর্ঘ এক টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল। তার মাথায় তখন ঘুরছে ভ্যালেরিয়ার সাথে হওয়া সেই গোপন আলোচনা আর নিজের শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নীল ওষুধের অবাধ্য লড়াই। সে ভাবছে, তান্বী আজ হঠাৎ তাকে শ্যাম্পু করে দিতে কেন দিল? কেন তার চোখে সেই পুরনো ভয়ের বদলে এক অন্যরকম মায়া ছিল?
জাভিয়ান আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে সেই সিগারেটের ধোঁয়ায় রিং তৈরি করতে করতে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে না, একটু পরেই সেই দরজার ওপাশ থেকে তান্বী এক সম্পূর্ণ নতুন এবং নিষিদ্ধ রূপে তার সামনে এসে দাঁড়াবে—যা তার তিলে তিলে জমানো সব ধৈর্য আর ওষুধের প্রভাব এক মুহূর্তেই ছারখার করে দেবে।
ওয়াশরুমের ভেতর শাওয়ারের ঝিরঝিরে শব্দটা থেমে যেতেই চারপাশ এক অপার্থিব নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল। তান্বী ভেজা গায়ে ভ্যালেরিয়ার দেওয়া সেই কুচকুচে কালো রেশমি ড্রেসটা জড়িয়ে নিল। রেশমের পিচ্ছিল পরশ তার শরীরে এক ধরণের অজানা শিহরণ জাগাচ্ছে। কিন্তু ঠিক যখন সে ওয়াশরুমের দরজাটা খুলল, এক লহমায় পুরো ঘর নিরেট অন্ধকারে তলিয়ে গেল। লোডশেডিং!
হঠাৎ এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে তান্বীর মনে হলো তার পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। অন্ধকারের প্রতি এক আদিম ভয় তার রক্তে মিশে আছে। সে দরজার চৌকাঠে হাত রেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল; নিজের হূৎপিণ্ডের দ্রিম দ্রিম শব্দ সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। ভয়ের আতিশয্যে সে ভুলেই গেল তার বর্তমান অবস্থার কথা—তার শরীরের সেই স্বল্পবাস পোশাকের কথা। তার কেবল মনে হলো, এই নিঃসীম অন্ধকারে জাভিয়ানই তার একমাত্র আশ্রয়।
ধীর পায়ে সে রুমের ভেতরের দিকে এগোল। আবছা চাঁদের আলোয় সে দেখল জানালার পাশে একটি দীর্ঘ অবয়ব পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক তখনি একটা ক্লিক করে শব্দ হলো। জাভিয়ানের হাতের লাইটার থেকে আগুনের একটা ছোট শিখা জ্বলে উঠল। সেই শিখা দিয়ে জাভিয়ান একে একে ঘরের কারুকার্যখচিত বড় বড় মোমবাতিগুলো জ্বালিয়ে দিল। মুহূর্তেই ঘরটা আগুনের হলদেটে আলো আর দীর্ঘ ছায়ার এক রহস্যময় গোলকধাঁধায় রূপ নিল।
জাভিয়ান শেষ মোমদানিটা হাতে তুলে নিয়ে ধীর লয়ে তান্বীর সামনে এসে দাঁড়াল। মোমবাতির শিখাটা এখন ঠিক তাদের দুজনের মাঝখানে কম্পমান অবস্থায়। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির জাভিয়ানের সামনে ৫ ফুট ২ ইঞ্চির তান্বীকে এক অতিমানবিক সুন্দরীর মতো দেখাচ্ছিল। তান্বী ঘাড় উঁচু করে তার ভেজা পাপড়ির মায়াবি চোখে দিয়ে জাভিয়ানের সেই গভীর বাদামী চোখের দিকে তাকাল।
মোমের সেই কাঁপাকাঁপা আলোয় তান্বীর গায়ের জর্জেট কোটিটা পুরোপুরি অবাধ্য হয়ে উঠেছে। ভেজা শরীরে লেপ্টে থাকা পাতলা কাপড়টা শরীরের কোনো রহস্যই আর আড়াল করতে পারছে না। তার শুভ্র মসৃণ কাঁধ আর বুকের উপরিভাগের খাজঁগুলো মোমের আলো-ছায়ার খেলায় এক নিষিদ্ধ কাব্যের মতো ফুটে উঠেছে।
জাভিয়ান কোনো কথা বলল না, তার নিশ্বাস ক্রমশ ভারি হয়ে আসছে। জাভিয়ানের আঙুলের ফাঁকে থাকা জ্বলন্ত সিগারেটটা কখন পুড়ে আঙুলের ডগার কাছে চলে এসেছে, সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে আছে। তার সেই বাদামী চোখের মনিতে এখন বিস্ময় আর তীব্র কামনার এক ভয়ংকর সংমিশ্রণ। সে হাতের মোমের আলোটা অত্যন্ত ধীরগতিতে তান্বীর পায়ের দিক থেকে ওপরের দিকে তুলতে লাগল।সে আগুনের আলো দিয়ে তান্বীর শরীরের প্রতিটি রেখাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ে নিচ্ছে। যখন আলোর শিখাটা তান্বীর বুকের ওপর স্থির হলো, তান্বী হঠাৎ এক চরম অস্বস্তিতে কুঁকড়ে গেল। জাভিয়ানের চোখের সেই অতৃপ্ত তৃষ্ণা তাকে মনে করিয়ে দিল যে সে আজ কতটা অরক্ষিত!
লজ্জায় আর এক অজানা আবেশে তান্বীর সারা শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল। সে আর স্থির থাকতে পারল না; এক ঝটকায় জাভিয়ানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে পেছন ঘুরে দাঁড়াল। তার পিঠের ওপর ছড়িয়ে থাকা দীর্ঘ ভেজা চুলের গোছা থেকে দু-এক ফোঁটা পানি জাভিয়ানের উন্মুক্ত হাতে গিয়ে পড়ল যা জাভিয়ানের ভেতরের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
জাভিয়ান মোমদানিটা পাশের টেবিলে রেখে এক পা এগিয়ে এল। সে পেছন থেকেই তান্বীর ভেজা চুলের নিচে তার উন্মুক্ত ঘাড়ের কাছে নিজের তপ্ত নিশ্বাস ফেলল। তার কণ্ঠস্বর এখন এতটাই গম্ভীর যে মনে হচ্ছে তা কোনো গভীর সমুদ্রের তলদেশ থেকে উঠে আসছে।
“অন্ধকারে আমায় খুঁজছিলে জিন্নীয়া? অথচ এই আলোয় এসে তুমি নিজেই এক নিষিদ্ধ আলো হয়ে জ্বলে উঠলে। You look breathtakingly dangerous tonight.” এখন ফিরে দাঁড়িয়ে লাভ নেই… এই আগুনের শিখা আজ তোমার প্রতিটি রেখা দেখে নিয়েছে।”
তান্বী দুহাতে নিজের বাহু জড়িয়ে ধরে কোনোমতে বলল, “আমি… আমি তো জানতাম না লোড শেডিং হবে। আমি জাস্ট ভয়ের কারণে আপনার কাছে…”
জাভিয়ান ফিসফিস করে বললো “ভয়টা কি অন্ধকারের জন্য, নাকি আমার জন্য? এই ড্রেসটা যখন পরেছিলে, তখনই তো তুমি জানতে আজকে তুমি আর সেইফ নও।”
জাভিয়ান তার বলিষ্ঠ হাতটা বাড়িয়ে তান্বীর কোমরের রেশমি কাপড়ের ওপর দিয়ে আলতো করে স্পর্শ করল। সেই স্পর্শে তান্বীর মনে হলো তার মেরুদণ্ড দিয়ে এক তীব্র বিদ্যুতপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সে চোখ বুজে ফেলল, আর জাভিয়ান তাকে নিজের শরীরের সাথে আরও নিবিড়ভাবে পিষে ধরল।
পরক্ষনেই সে এক ঝটকায় তান্বীকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে চিবুকটা উঁচিয়ে ধরল। জাভিয়ান অত্যন্ত ধরা গলায় বললো “তান্বী… তুমি কি জানো তুমি কী পরেছ? এই বেশে আমার সামনে আসার সাহস তুমি কোথা থেকে পেলে? This is literal torture. জিন্নীয়া, তুমি কি জানো তোমার এই রূপ আমার দমন করে রাখা আকাঙ্ক্ষার প্রভাবকে এক মুহূর্তে বিষাক্ত করে তুলছে? আমি দূরে থাকতে চেয়েছি … কিন্তু তুমি আজ সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছ। এখন যদি আমি নিজেকে সামলাতে না পারি, তার দায় কি তুমি নেবে?”
তান্বী এবার তার চোখের পলক তুলল। জাভিয়ানের সেই তপ্ত নিশ্বাস এখন সরাসরি তার ঠোঁটে আছড়ে পড়ছে। তান্বী কাঁপাকাঁপা হাতে জাভিয়ানের টি-শার্টের কলারটা খামচে ধরল। তার দুচোখে তখন এক নীরব আত্মসমর্পণ। সে বুঝতে পারল, আজ কোনো ওষুধ বা কোনো বাধা তাদের মাঝখানে নেই। আজ কেবল আছে এক আদিম সত্য আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।জাভিয়ান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে এক হাত দিয়ে তান্বীর কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের শরীরের সাথে পিষে ধরল। তান্বী শিউরে উঠে জাভিয়ানের বুকে মুখ লুকাল। জাভিয়ান তার ঠোঁট দুটো তান্বীর কানের কাছে নিয়ে এসে এক অদ্ভুত মাদকতায় বলল— “আজ রাতের পর হয়তো তুমি আমাকে ঘৃণা করবে জিন্নীয়া, কিন্তু আজ আমি তোমাকে কোনোভাবেই ছাড়ছি না। Tonight, there’s no turning back.”
জাভিয়ান এক মুহূর্ত স্থির হয়ে তান্বীর চোখের গভীরতা মেপে নিল।ওর হাতের আঙুলের ফাঁকে থাকা জ্বলন্ত সিগারেটের শেষ অংশটুকু দূরে ফেলে দিল না, বরং তান্বীর চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকেই হাতের তালুতে পিষে আগুনের সেই লাল শিখাটা নিভিয়ে দিল। ব্যথার কোনো রেশ মুখে নেই, যেন এই তপ্ত দহনেই জাভিয়ান আনন্দ পাচ্ছে। সিগারেটটা ফ্লোরে ফেলে দিয়ে তান্বীর দুই গালে নিজের তপ্ত হাত রেখে জাভিয়ান যখন ওর কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটোর খুব কাছে নিজের মুখ নামিয়ে আনল, এক তীব্র নেশা ধরানো চুম্বনে ওকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য—ঠিক তখনই তান্বী দুই হাতে জাভিয়ানের প্রশস্ত বুক ঠেলে একটু দূরত্ব তৈরি করল। ও মাথা নিচু করে খুব ম্লান স্বরে বলে উঠল—”আমি বোধহয় আপনার জন্য ঠিক পারফেক্ট নই, জাভিয়ান।”
জাভিয়ান ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকাল। ওর কণ্ঠস্বর এখন ভারী আর গম্ভীর, “কেন? হঠাৎ এমন মনে হলো কেন তোমার?”
তান্বী একটু আমতা আমতা করে বলল, “না মানে… আপনি মেক্সিকোর বড় বড় ক্লাবে যান, সেখানে কত আধুনিক আর বোল্ড মেয়েদের দেখেন। তাদের মাঝখানে আমি তো খুবই সাধারণ। আমি কি সত্যিই আপনার যোগ্য?”
জাভিয়ান এবার একটা বাঁকা হাসি হাসল। ও ধীরপায়ে তান্বীর একদম ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে এল। “তুমি আমার সম্পর্কে ঠিক কতটা জানো জিন্নীয়া?”
তান্বী এবার সরাসরি জাভিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল, “আমি আপনার সম্পর্কে জানতে চাই। সঠিকটা বলুন ।”
জাভিয়ান এক হাত পকেটে পুরে খুব সাবলীল ভঙ্গিতে নিজের পরিচয় দিতে শুরু করল—”জাভিয়ান এমিলিও চৌধুরী। আপাতত একজন বিজনেসম্যান। টেকনোলজি দে মন্টেরো মেক্সিকো থেকে MBA করেছি। হাইট ৬ ফুট ২ ইঞ্চি, ওয়েট ৭৫ কেজি। বডি ফিটনেস—আই হ্যাভ ওয়েল-ডিফাইন্ড এবস, সফ্ট কিসেবল লিপস আ বডিতে ১২৮টা তিল আছে। আর বাকি থাকলো—ওটার ইঞ্চি হচ্ছে…”
জাভিয়ান কথাটি শেষ করার আগেই তান্বী আঁতকে উঠে দুই হাতে জাভিয়ানের মুখ চেপে ধরল। লজ্জায় ওর ফর্সা মুখটা যেন এখনই রক্তিম হয়ে ফেটে যাবে। “চুপ করুন! একদম চুপ! আপনি এত অসভ্য আর নির্লজ্জ কেন? ওটা কি? হ্যাঁ? ওটা নিয়ে এভাবে কেউ কথা বলে?”
জাভিয়ান তান্বীর হাতের তালুর ওপর দিয়েই একচোখ টিপে দুষ্টুমির হাসি হাসল। তান্বী এবার একটু সাহস সঞ্চয় করে মুখ ঝামটা দিয়ে বলল “আর এত দেমাগ দেখাবেন না। আই থিঙ্ক আপনার ওটা ছোটই হবে!”
জাভিয়ান যেন আকাশ থেকে পড়ল।সে বড় বড় চোখ করে অবিশ্বাসের সুরে বলল, “কীহ! কী বললে তুমি? ছোট মানে? Are you undermining my masculinity?”
তান্বী এবার একদম অবুঝের মতো সরল মুখে বলল, “ইয়েস! আমার এক বান্ধবী বলেছিল লম্বা ছেলেদের নাকি ইয়ে ছোট হয়। আপনার হাইট তো অনেক বেশি, তাই ওটা নিশ্চিত ছোটই হবে!”
জাভিয়ানের কপালে এক মুহূর্তের জন্য বিস্ময় ফুটলেও পরক্ষণেই হেসে উঠল। ও এক ঝটকায় তান্বীর কোমর জড়িয়ে ওকে নিজের শরীরের সাথে এমনভাবে লেপ্টে নিল যে মাঝখানে বাতাসেরও জায়গা রইল না। জাভিয়ান ফিসফিস করে বললো “তোমার সেই বান্ধবীকে গিয়ে বলো সস্তা মানুষের কাছে সে সস্তা ইনফরমেশন পেয়েছে। আর তুমি যদি সত্যিই নিশ্চিত হতে চাও যে ছোট না বড়… তবে আজ রাতেই সেটা হাতে-কলমে প্রুফ করে দেব জিন্নীয়া। তৈরি তো? Let’s see how small you think it is when you experience it.”
জাভিয়ানের উপস্থিতির ভারে তান্বীর নিশ্বাস যেন আটকে আসছে। ও একটু মাথা নিচু করে ইতস্তত করে বলল, “আপনি মেক্সিকোর নামিদামি ভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছেন, কিন্তু আপনার জন্য আমি তো আমার পড়াশোনাটাও ঠিকঠাক শেষ করতে পারলাম না। মাত্র তো কলেজ পার করে ভার্সিটিতে পা রেখেছিলাম। লোকে জানলে কী বলবে? বলবে মেক্সিকোর এত শিক্ষিত একটা ছেলের বউ স্রেফ কলেজ পাশ!”
জাভিয়ান এক মুহূর্ত স্থির হয়ে তান্বীর ম্লান মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব কোমল স্বরে বলল, “পড়াশোনা দিয়ে আমি তোমাকে বিচার করি না জিন্নীয়া। আর লোকের কথা? তারা তো কত কিছুই বলে। শোনো, তোমাকে আর পড়াশোনা নিয়ে ভাবতে হবে না। যা করেছ ওটুকুই যথেষ্ট। তোমার সব দায়িত্ব এখন থেকে আমার। তোমার কাজ শুধু আমাকে ভালোবাসা আর আমাদের অনাগত বাচ্চাদের দেখাশোনা করা। ব্যাস, এইটুকুই আমার কাছে অনেক।”
তান্বী এবার একটু মুখ ঝামটা দিয়ে প্রসঙ্গ ঘোরাতে চাইল। ও বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল, “আর আপনি যে বললেন আপনার শরীরে ১২৮টা তিল আছে, সেটা এত নিশ্চিত হয়ে জানলেন কীভাবে? আপনি কি পুরো শরীর গুনে দেখেছেন? এমনও তো হতে পারে শরীরের আরো অনেক জায়গায় তিল আছে যা আপনি দেখতে পাননি!”
জাভিয়ানের ঠোঁটের কোণে এবার এক চরম শয়তানি হাসি ফুটে উঠল। সে তান্বীর কোমরের বাঁধনটা আরও একটু শক্ত করে নিজের কাছে টেনে নিল। তান্বীর ভেজা শরীরের সুগন্ধ জাভিয়ানকে পাগল করে দিচ্ছে। সে তান্বীর কানের কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত নিশ্বাসে ফিসফিস করে বলল—”যে তিলগুলো আমি দেখতে পাইনি, সেগুলো না হয় আজ রাতে তুমি নিজ চোখেই খুঁজে নিও জিন্নীয়া। এতে অন্তত তোমার একটা কনফিউশন তো কমবে!”
জাভিয়ানের এই ডাবল মিনিং কথা শুনে তান্বী লজ্জায় লাল হয়ে গেল। ও জাভিয়ানের বুকে আলতো একটা কিল মেরে বলল, “আপনি… আপনি বড্ড অসভ্য জাভিয়ান!”
জাভিয়ান এবার আর কোনো কথা শোনার অপেক্ষায় রইল না। ও এক ঝটকায় তান্বীকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল। তান্বী আতঙ্কে আর আবেশে জাভিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরল। মোমের সেই টিমটিমে আলোয় জাভিয়ানের ছায়াটা দেয়ালে এক বিশাল আধিপত্য বিস্তার করল।
জাভিয়ান ওকে নিয়ে বিছানার দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে বলল—”আর ইউ রেডি টু লুজ ইওরসেলফ ইন মি?”
জাভিয়ান যখন তান্বীকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে পা বাড়াতে চাইল, তখনই তান্বী বিড়বিড় করে উঠল, “জাভিয়ান… আমার না খুব অসুস্থ লাগছে। মাথাটা কেমন ঘুরছে!”
জাভিয়ান থমকে দাঁড়াল। ওর কপালে ভাঁজ পড়ল, চোখে এক চিলতে দুষ্টুমি মেশানো উদ্বেগ।সে তান্বীর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আবার? তুমি আমার কাছে আসলে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাও কেন ?”
তান্বী সলজ্জ ভঙ্গিতে জাভিয়ানের টিশার্টের ওপর বুকের কিনারায় আঙুল নাড়াতে নাড়াতে বলল, “কারণ আপনি আমার কাছে পড়ালেখার মতোই । বই পড়তে গেলেই আমার ঘুম পেয়ে যায়।”
জাভিয়ান শব্দ করে হেসে উঠল। ওর ভরাট হাসির শব্দে যেন মোমের আলোটাও একবার কেঁপে উঠল। তান্বী থামল না, ও বকবক করেই চলল, “আর জানেন, ভ্যালেরিয়া আপা বলেছিল আপনাকে আজ সিডিউস করতে। কিন্তু আমি তো জানিই না ওসব সিডিউস-টিডিউস কীভাবে করতে হয়! আমি কি ওসব পারি?”
জাভিয়ান এবার তান্বীকে বিছানার ওপর খুব সন্তর্পণে শুইয়ে দিল। ওর ওপর ঝুঁকে পড়ে তান্বীর এলোমেলো ভেজা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল। জাভিয়ানের দুচোখে তখন এক নেশা। জাভিয়ান অত্যন্ত গম্ভীর আর মাদকতাময় গলায় বললো “তোমাকে সিডিউস করতে হবে না জিন্নীয়া। এই যে তুমি আজ এভাবে আমার কাছে এসেছ, তোমাকে দেখার পর থেকেই আমার শরীরের প্রতিটা শিরায় আগ্নেয়গিরির লাভার মতো তপ্ত আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। তোমার এই উপস্থিতিই আমার জন্য যথেষ্ট।”
জাভিয়ান ওর বলিষ্ঠ হাতের আঙুল দিয়ে তান্বীর গলার খাঁজে এক নিষিদ্ধ দাগ কাটল। তান্বী শিউরে উঠে চোখ বুজে ফেলল। জাভিয়ান ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল—”তুমি শুধু আজ সেই আগুন নেভাতে আমাকে সাহায্য করবে। আর শোনো… আজ যদি তুমি মাঝপথে অজ্ঞানও হয়ে যাও, তবুও আমি তোমাকে ছাড়ব না। আজ কোনো অজুহাত কাজ করবে না জিন্নীয়া। আমার দেমাগ আর তোমার বান্ধবীর ওই ভুল ইনফরমেশন সবকিছুর ফয়সালা হবে।”
তান্বী অনুভব করল জাভিয়ানের তপ্ত ঠোঁট ওর চিবুক স্পর্শ করছে। ও বুঝতে পারল, জাভিয়ান আজ কোনো মায়া করবে না। আজকের রাতটা কেবল আত্মসমর্পণের।
জাভিয়ান আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করল না। ও এক ঝটকায় নিজের টি-শার্টটা খুলে শরীরের ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিল। মোমের সেই কম্পমান হলদেটে আলোয় জাভিয়ানের ঋজু আর সুগঠিত দেহটি কোনো গ্রিক দেবতার জীবন্ত ভাস্কর্যের মতো প্রতিভাত হচ্ছে। ওর প্রশস্ত বুকের উত্তাপ যখন তান্বীর শীতল শরীরের সংস্পর্শে এল, তখন এক নিষিদ্ধ শিহরণে তান্বীর স্নায়ুতন্ত্র যেন অবশ হয়ে এল।
জাভিয়ান আর কোনো অবকাশ দিল না।তার তপ্ত ঠোঁটজোড়া প্রথমে তান্বীর ললাটে, তারপর অতি সন্তর্পণে চোখের পল্লবে নেমে এল। সেখান থেকে ধীর লয়ে সে নিজের অধিকার স্থাপন করল তান্বীর রক্তিম অধরে। সেই সুদীর্ঘ এবং প্রগাঢ় চুম্বন তান্বীর শ্বাস-প্রশ্বাসকে এক লহমায় স্তব্ধ করে দিল। জাভিয়ানের ঠোঁটের মাদকতায় তান্বী এক অতল সমুদ্রে তলিয়ে যেতে লাগল।
জাভিয়ানের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট এবার পথ খুঁজে নিল তান্বীর শুভ্র গ্রীবায় আর স্কন্ধদেশে। সেখানে ওর প্রতিটি স্পর্শ ছিল আগুনের হলকার মতো দহনকারী। উত্তেজনার আতিশয্যে আর এক উন্মাদনায় তান্বী জাভিয়ানের পিঠের মসৃণ চামড়া আর কাঁধে নিজের নখ বসিয়ে দিল। সেই তীক্ষ্ণ আঁচড়ে জাভিয়ানের শ্বেতশুভ্র ত্বকে লাল রক্তের সূক্ষ্ম রেখা ফুটে উঠল।আর এক অদ্ভুত সুখানুভূতিতে তান্বী আর্তনাদ করে জাভিয়ানের বলিষ্ঠ বাহু আঁকড়ে ধরল। কিন্তু জাভিয়ান আজ অপ্রতিরোধ্য; ওর পৌরুষের সেই দর্প আজ কোনো সীমানা মানতে নারাজ।
তান্বীর সেই রেশমি কালো নাইট ড্রেসটি ছিল হাঁটুর অনেকটা ওপরে। জাভিয়ান এবার হাঁটু গেড়ে বসল আর তার উষ্ণ ঠোঁট স্পর্শ করল তান্বীর অনাবৃত উরুতে। সেই তপ্ত ছোঁয়ায় তান্বীর সারা শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠল। কামনার এক প্রলয়ংকরী ঢেউ ওর মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল।
জাভিয়ান পুনরায় ওর ওপর ঝুঁকে এল। ওর লম্বা এবং সুনিপুণ আঙুলগুলো এবার আশ্রয় নিল তান্বীর কাঁধের ওপর থাকা সেই সরু রেশমি ফিতার ওপর।
জাভিয়ান অত্যন্ত গম্ভীর আর ভরাট গলায় বললো “তোমার সেই অর্বাচীন থিওরি আজ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে জিন্নীয়া। জাভিয়ান এমিলিও চৌধুরীর প্যাশন কেবল অনুভবে থাকে না, তা রক্তে আর ক্ষততে নিজের অস্তিত্ব লিখে দেয়।”
এক নিপুণ টানে জাভিয়ান তান্বীর কাঁধ থেকে সেই রেশমি আবরণটি সরিয়ে দিল। শুভ্র স্কন্ধের ওপর দিয়ে কালো কাপড়ের সেই পতন অন্ধকার চিরে আলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটালো। জাভিয়ান ওর কানের লতিতে দাঁত দিয়ে মৃদু কামড় বসিয়ে ফিসফিস করে উঠল—”আজ রাতে তোমার কোনো ক্ষমা নেই। আজ তুমি কেবল আমার এই দহনের শিখায় জ্বলবে। Tonight, you will learn what it truly means to be mine.”
জাভিয়ানের সেই সুপ্ত বাসনা আজ এক বন্য শিকারির রূপে ফেটে পড়েছে। ওর স্পর্শে আজ কোনো স্নিগ্ধতা নেই, নেই কোনো কোমল অনুনয়; বরং সেখানে রাজত্ব করছে এক প্রলয়ংকরী একচ্ছত্র অধিকারবোধ। জাভিয়ানের ঠোঁটজোড়া এবার আর প্রেমের পরশ বুলাচ্ছিল না, বরং সেগুলো আজ বন্য তৃষ্ণায় উন্মত্ত। ও অত্যন্ত কঠোর আর কর্কশভাবে তান্বীর পুষ্পসম কোমল অধর, গ্রীবাদেশ এবং অনাবৃত বক্ষস্থলে নিজের দন্তচিহ্ন বসিয়ে দিতে লাগল। প্রতিটি দংশন ছিল অগ্নিশিখার মতো দাহ্য আর অবর্ণনীয় যন্ত্রণাদায়ক।
সেই তীব্র বেদনার আতিশয্যে তান্বীর দুচোখ বেয়ে অবাধ্য অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ল। মোমের সেই ম্লান কম্পমান আলোয় ওর সিক্ত নেত্রপল্লব যেন একজোড়া কৃষ্ণগহ্বর, যা যন্ত্রণার মুক্তোবিন্দুগুলো ঝরিয়ে দিচ্ছে। ব্যথার প্রাবল্যে ওর অধরপ্রান্ত থরথর করে কাঁপছিল, কিন্তু জাভিয়ানের সেই লৌহকঠিন আলিঙ্গন ছিল দুর্ভেদ্য এক কারাগারের মতো—যেখান থেকে মুক্তির কোনো পথ খোলা নেই।
তান্বীর সেই সজল নয়ন আর আর্তনাদ জাভিয়ানকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিল।সে তার বলিষ্ঠ আঙুলে তান্বীর চিবুকটা সজোরে উঁচিয়ে ধরল। জাভিয়ানের সেই প্রগাঢ় বাদামী চোখের মণিতে তখন জমাট বেঁধেছে এক ভয়ংকর নেশা আর অবাধ্য পৌরুষের দম্ভ। জাভিয়ান ওর তৃষ্ণার্ত ঠোঁট নামিয়ে আনল তান্বীর চোখের পাতায়। অত্যন্ত ক্ষিপ্র অথচ নিপুণ এক মদিরতায় সে তান্বীর গাল বেয়ে নামা সেই তপ্ত অশ্রুবিন্দুগুলো নিজের ঠোঁট দিয়ে শুষে নিতে লাগল—যেন এই নোনা জলই ওর দহন নেভানোর একমাত্র অমৃত।
জাভিয়ান অত্যন্ত ধরা গলায়, প্রতিটি শব্দে কর্তৃত্ব ফলিয়ে বললো “এমনিতে আমি তোমার এক ফোঁটা চোখের জলও সহ্য করতে পারি না জিন্নীয়া। ওটা দেখলে আমার পুরো বিশ্ব জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু…”
জাভিয়ান ওর কানের একদম কাছে মুখ নিয়ে এল, ওর তপ্ত নিশ্বাস তান্বীর শরীরকে দগ্ধ করছে।” আজ তোমার এই অশ্রুবিন্দু আমার তৃষ্ণাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে আর আমার আদরের সময় আমি তোমার চোখে এই নোনা জলই দেখতে চাই। Because, baby, you have to cry only for me. এই চোখের জল তোমার ব্যথার নয়, বরং জাভিয়ান চৌধুরীর দেওয়া নেশার বহিঃপ্রকাশ হওয়া চাই। And remember, you have to hurt only for me.”
জাভিয়ান পুনরায় তান্বীর সেই সিক্ত কাঁধে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল, যেখানে ইতিপূর্বেই ওর দন্তের আঁচড়ে রক্তের সূক্ষ্ম রেখা ফুটে উঠেছে। তান্বী অনুভব করল, জাভিয়ান কেবল ওকে নিজের করে নিচ্ছে না, বরং ওর শরীরের প্রতিটি কোষে নিজের নামের এক স্থায়ী ক্ষত এঁকে দিচ্ছে।
জাভিয়ান বুঝিয়ে দিল, সে যেমন কোমল হতে পারে, তেমনি সে জানে কীভাবে ভালোবেসে কাউকে ধ্বংস করে আবার নিজের মাঝে গড়ে নিতে হয়।
তান্বী অনুভব করল, ও আজ কোনো মানুষের কাছে নয়, বরং এক ভয়াবহ সুন্দর প্রলয়ের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছে।
জাভিয়ানের সেই বুনো আর অপ্রতিরোধ্য রূপ দেখে তান্বীর বুকের ভেতরটা এক শঙ্কায় দুরুদুরু করে উঠল। সে অনুভব করতে পারল, জাভিয়ান আজ কোনো মানবিক ছন্দে নেই; ওর প্রতিটি স্পর্শে আজ আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার দহন। জাভিয়ানের দুই চোখের মনিতে যে বিধ্বংসী নেশা খেলা করছে, তা দেখে তান্বী শিউরে উঠল। যখন জাভিয়ান ওর চূড়ান্ত আধিপত্য বিস্তার করতে চাইল, তান্বী এক ধরণের অবর্ণনীয় আতঙ্কে বিছানা থেকে পিছলে পালাতে চাইল। কিন্তু জাভিয়ানের সেই পর্বতসম শক্তিশালী বাহুর বেষ্টনী ছিন্ন করা ওর মতো এক পলকা মেয়ের পক্ষে ছিল এক অসম্ভব কল্পনা মাত্র।
জাভিয়ান এক নিমিষে চিতার ক্ষিপ্রতায় তান্বীকে পুনরায় নিজের দেহের নিচে পিষ্ট করল। ওর দুই চোখের দৃষ্টি তখন তপ্ত আগুনের লেলিহান শিখার মতো দাউদাউ করে জ্বলছে। জাভিয়ান কোনো বাক্যব্যয় করল না; ওর মুখাবয়বে তখন এক ভয়ংকর সুন্দর আদিমতা। ও এক হ্যাঁচকা টানে তান্বীর গায়ের সেই অবশিষ্ট বস্ত্রখানা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিল।
তান্বী মুহূর্তের জন্য ভেবেছিল হয়তো আবরণটি কেবল সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু জাভিয়ানের পরিকল্পনা ছিল আরও বেশি দুঃসাহসিক আর ডমিনেটিং।সে অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে সেই দীর্ঘ জর্জেটের কোটিটা তান্বীর দুই কব্জিতে পেঁচিয়ে দিল এবং এক নিপুণ টানে ওর হাত দুটো মাথার ওপরে তুলে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে দিল।
তান্বী এখন পুরোপুরি অসহায়, ওর প্রতিটি শ্বাস যেন জাভিয়ানের করুণার ওপর নির্ভরশীল। ও যন্ত্রণায় আর বিস্ময়ে ছটফট করে উঠল, কিন্তু জাভিয়ানের সেই লৌহকঠিন বাঁধন আর ওর শরীরের ভার তান্বীকে এক নিস্পন্দ জড়তায় বন্দি করে ফেলল। জাভিয়ান ওর কানের একদম কাছে মুখ নিয়ে এল, ওর তপ্ত নিশ্বাস তান্বীর স্নায়ুকে অবশ করে দিচ্ছে।
তান্বী ভয়ার্ত গলায় বললো “জাভিয়ান… কী করছেন এসব? প্লিজ, হাত ছেড়ে দিন! আমার ভয় লাগছে!”
জাভিয়ান তীব্র নেশাতুর গলায় বললো “পালাতে চেয়েছিলে জিন্নীয়া? আজ রাতে পালানোর কোনো পথ নেই। You started this fire, now you have to face the heat.”
ঠিক সেই মুহূর্তেই, যখন জাভিয়ান ওর চূড়ান্ত পুরুষত্ব নিয়ে তান্বীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল, হঠাৎ দরজায় সজোরে করাঘাত হলো। বাইরে থেকে ভ্যালেরিয়ার উত্তেজিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল—”জাভিয়ান! আর ইউ ইনসাইড? দরজা খোলো! জরুরি কথা আছে!”
হঠাৎ এই শব্দে তান্বী সচকিত হয়ে উঠল। ও কুণ্ঠিত স্বরে ফিসফিস করে বলল, “জাভিয়ান… আপা ডাকছে! ভ্যালেরিয়া আপা দরজায়! ওনাকে উত্তর দিন, না হলে উনি কি না কি ভাবতে থাকবেন…”
জাভিয়ান এক মুহূর্তের জন্যও ওর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হলো না। সে তান্বীর গলার কাছে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিয়ে এক গভীর কামড় বসাল। ওর পুরো শরীর তখন ঘামে ভিজে একাকার, পেশিগুলো তপ্ত লোহার মতো শক্ত হয়ে আছে।
জাভিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে, কামনায় জর্জরিত গলায় বললো “ডাকুক! ও যত খুশি ডাকুক, আমি এখন নড়ছি না। Try to understand, Jinnia… it hurts. My body is in literal pain right now. আমি এখন থামতে পারব না, থামলে আমি শেষ হয়ে যাব।”
জাভিয়ান তান্বীর সেই সিক্ত চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের হাতের বাঁধন আরও একটু টেনে ধরল। ভ্যালেরিয়ার ডাক আর দরজার শব্দ যেন এক ঝাপসা ধোঁয়া হয়ে ওর কানে বাজতে লাগল। জাভিয়ানের সম্পূর্ণ জগত এখন কেবল তান্বীর এই সঁপে দেওয়া শরীর আর ওর নিজের ভেতরের সেই তীব্র দহন।
জাভিয়ান আবার ও বললো “তুমি শুধু আমার দিকে ফোকাস দাও জিন্নীয়া। বাইরের জগতটা আজ আমাদের জন্য মৃত। Only you and me, tonight.”
চরম উত্তেজনার সেই মুহূর্তে ভ্যালেরিয়ার ক্রমাগত এবং জোরালো করাঘাত জাভিয়ানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। বাইরে থেকে ভ্যালেরিয়ার কণ্ঠস্বর এবার আরও তীক্ষ্ণ শোনাল, যেন কোনো বড় বিপদ ঘনিয়ে এসেছে।
জাভিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে এক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। ওর কপালে ঘামের বিন্দুগুলো মোমের আলোয় চকচক করছে। প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণা আর অতৃপ্ত কামনার এক সংমিশ্রণে ওর শরীর কাঁপছে, কিন্তু ভ্যালেরিয়ার এই অসময়ের ডাকাডাকি উপেক্ষা করার মতো নয়। ও এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিজেকে কিছুটা সংযত করল।
জাভিয়ান খুব দ্রুত তান্বীর হাতের বাঁধন খুলে দিল। তান্বী তখন ভয়ে আর লজ্জায় কুঁকড়ে আছে। জাভিয়ান বিছানার পাশ থেকে নরম কম্বলটা টেনে তান্বীর বিবস্ত্র প্রায় শরীরের ওপর ঢেকে দিল, যেন এক চিলতে ত্বকও বাইরে না থাকে। তারপর মেঝে থেকে নিজের টি-শার্টটা কুড়িয়ে নিয়ে দ্রুত শরীরে গলিয়ে নিল সে।
জাভিয়ান গলার স্বর যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। সে পুরো দরজা খুলল না, বরং অর্ধেকটা খুলে নিজের চওড়া শরীর দিয়ে তান্বীকে আড়াল করে দাঁড়াল। ওর চোখ দুটো তখনো রাগে আর উত্তেজনায় লাল হয়ে আছে।
জাভিয়ান অত্যন্ত কর্কশ আর বিরক্ত গলায় বললো “হোয়াট দ্য হেল, ভ্যালেরিয়া! এত রাতে ডিস্টার্ব করছ কেন? You better have a damn good reason for this.”
ভ্যালেরিয়া দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে জাভিয়ানের উস্কোখুস্কো চুল আর ওর অবিন্যস্ত বেশভূষা দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে বুঝতে পারল ও কী ভয়ানক এক মুহূর্তের মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ওর চোখেমুখে তখন এক তীব্র আতঙ্কের ছাপ।
ভ্যালেরিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে বললো “আই এম সরি জাভিয়ান, কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে। ‘মেইলস্ট্রোম’ আমাদের লোকেশন পেয়ে গেছে। ওরা শহরের উত্তর দিকে মুভ করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আমরা আর বের হতে পারবো না!”
মেইলস্ট্রোমের নাম শুনতেই জাভিয়ানের শরীরের রক্ত যেন এক লহমায় শীতল হয়ে গেল। কামনার সেই উত্তাল সমুদ্র নিমেষেই এক কঠিন বরফে পরিণত হলো। সে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা তান্বীর দিকে তাকাল, যে তখনো ভয়ে কাঁপছে। ভ্যালেরিয়ার কথাগুলো জাভিয়ানের কানে বিষের মতো ঢুকল। সে বুঝতে পারল, এই দুর্গের নিরাপদ আশ্রয়ে আজই হয়তো শেষ রাত। জাভিয়ান আবার ভ্যালেরিয়ার দিকে ফিরে চাইল। ওর কণ্ঠ এখন বরফের মতো ঠান্ডা আর ধারালো। “তুমি যাও আমি আসছি।”
কামনার সেই উত্তাল জোয়ারে এক বালতি ঠান্ডা জল ঢেলে দিয়ে ভ্যালেরিয়া চলে গেল।জাভিয়ান দরজাটা সশব্দে বন্ধ করে দিল। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, কপালে রাগের রগগুলো দপদপ করছে। ও টলমল পায়ে ঘরের মাঝখানে রাখা সোফাটায় ধপ করে বসে পড়ল। ওর নিশ্বাস এখনো স্বাভাবিক হয়নি, কিন্তু সেই উত্তাপ এখন প্রলয়ংকরী রাগে রূপান্তরিত হয়েছে।
তান্বী বিছানায় কম্বলের নিচে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “জাভিয়ান… কী হয়েছে? আপা ওভাবে ডাকছিল কেন?”
জাভিয়ান কোনো উত্তর দিল না। তার ভেতরে তখন এক ভয়ানক অস্থিরতা কাজ করছে। কত মাস, কত দিন ও এই মুহূর্তটার জন্য প্রতীক্ষা করেছে! আজ যখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল, তখনই নিয়তি ওকে বিদ্রূপ করল। রাগের মাথায় জাভিয়ান পাশে থাকা টেবিলের ওপরের দামী ফুলদানিটা এক ঝটকায় ফ্লোরে আছড়ে ফেলল।
ঝনঝন! শব্দে কাঁচের টুকরোগুলো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। তান্বী আতঙ্কে শিউরে উঠে দুহাতে কান চেপে ধরল। জাভিয়ানের এই রুদ্রমূর্তি ও আগে দেখেনি। ফুলদানিটা ভেঙেও যেন জাভিয়ানের রাগ কমল না। ও সোফা থেকে উঠে ধীর পায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে এল।
জাভিয়ান বিছানার ওপর ঝুঁকে পড়ল, ওর দুই হাত তান্বীর দুপাশে রেখে ওকে প্রায় বন্দি করে ফেলল। ওর চোখের সেই বাদামী মনিতে এখন কামনার বদলে এক বিধ্বংসী আগুনের আভা।
জাভিয়ান অত্যন্ত নিচু আর কাঁপা গলায় বললো “তুমি কি জানো জিন্নীয়া, কতদিন পর আমি তোমাকে এভাবে নিজের করে পেয়েছিলাম? কত রাত আমি ছটফট করেছি শুধু তোমাকে একবার ছোঁয়ার জন্য! আজ যখন সব বাধা পেরিয়ে তোমাকে নিজের মাঝে একীভূত করতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই সব শেষ হয়ে গেল। Everything is ruined!”
জাভিয়ান তান্বীর কপালে নিজের তপ্ত কপাল ঠেকাল। ওর শরীর এখনো উত্তেজনায় কাঁপছে। সে চোখ বুজে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল “মেইলস্ট্রোম আমাদের লোকেশন পেয়ে গেছে। আমাদের এই দুর্গ ছাড়তে হবে। তুমি এখানেই শুয়ে থাকো, একদম নড়বে না। আমি নিচে যাচ্ছি, কিছু জরুরি কাজ সারতে হবে। ডোন্ট ওরি, আমি আছি।”
মেক্সিকোর সেই নিঝুম রাত তখন এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের পূর্বাভাসে ভারী হয়ে উঠেছে। জাভিয়ান তান্বীর কপালে একটি প্রগাঢ় অথচ অস্থির চুমু খেল। সেই স্পর্শে এখনো লেপ্টে আছে এক তৃষ্ণার্ত দহন, যা আজ পূর্ণতা পাওয়ার আগেই থমকে গেল। জাভিয়ানের তপ্ত নিশ্বাস তান্বীর ত্বকে এক অতৃপ্ত আগুনের ছাপ রেখে যায়। সে আর এক মুহূর্ত বিলম্ব করল না; নিজের ভেতরের সেই দাউদাউ করা কামনার আগুনকে এক প্রকার জোর করেই অবদমিত করে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
তান্বী সেই নিস্তব্ধ ঘরে পাথরের মূর্তির মতো নিথর হয়ে পড়ে রইল।তার হাতের বাঁধন এখন মুক্ত, কিন্তু মনের ওপর জাভিয়ানের সেই উগ্র পৌরুষের যে অদৃশ্য শৃঙ্খল রয়ে গেছে, তা ছিন্ন করার সাধ্য ওর নেই। মেঝের ওপর ছড়িয়ে থাকা ভাঙা ফুলদানির তীক্ষ্ণ কাঁচগুলো মোমের শেষ টিমটিমে আলোয় ঝিলিক দিয়ে উঠছিল—যা মনে হচ্ছে ওদের এই অশান্ত, বুনো এবং অপূর্ণ মিলনের এক নির্বাক সাক্ষী। বাইরের ঝোড়ো বাতাসের হাহাকারের মাঝে তান্বী শুধু অনুভব করল, জাভিয়ান চলে গেলেও ঘরের প্রতিটি ধূলিকণায় ওর সেই মাদকতাময় ঘ্রাণ এখনো একচ্ছত্র রাজত্ব করছে।
চলবে……
(আমার পেইজে ইতিমধ্যে কিছু লোক রিপোর্ট করে দুটো পোস্ট আর একটা ভিডিও যেটা সেদিন দিয়েছিলাম ডিজায়ার এর ট্রিজার ওটা রিমোভ করে দিয়েছে।এখন পেইজে ইস্যু চলছে মানে পেইজ ডাউন হয়ে যাচ্ছে তাই আপনারা আমার সেই রিলস পেইজটা ফলো দিয়ে রাখুন কমেন্টে লিংক দিচ্ছি ওটায় ফলো দিন কারন এই পেইজ চলে গেলে বা কখনো অফ রাখলে ওই রিলসের পেইজে গল্প দিবো বা যেকোনো আপডেট পাবেন আমার সাবিলার ক্যানভাস গ্রুপে কিন্তু এছাড়া আমি না বলা পর্যন্ত আমার নামের অন্য কোনো পেইজে ফলো করবেন না! যেহেতু পেইজ এখন রিস্কে তাই আপনারা অবশ্যই গঠনমূলক কমেন্ট করবেন আর খুব তাড়াতাড়ি ৩ হাজার রিয়েক্ট কমপ্লিট করবেন।)
Share On:
TAGS: ডিজায়ার আনলিশড, সাবিলা সাবি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ২৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ২২
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ৯
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ৫
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ৮
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ২
-
ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ২৯