ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
১০
হাতে ক্যানুলা, মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরিহিত তনিমা শুয়ে হাসপাতালের বেডে। বেহুঁশ তনিমার শ্বাস চলছে ধীরগতিতে। যান্ত্রিক মেশিনে আঁকাবাঁকা জীবন রেখা যাচ্ছে ক্রমশই। রিফাত হাতের ফাইলে তনিমার সকল রিপোর্ট চেক করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নার্সের হাতে তুলে দিল সেটি। বেহুঁশ তনিমার দিকে তাকিয়ে রিফাত নার্সের উদ্দেশ্যে বলল…
‘ পেশেন্টের পরিবারের লোকজন আসেনি?
‘রোগীর বাবা এসেছিল স্যার। ওনাকে নিচে পাঠানো হয়েছে প্রেসক্রিপশনের মেডিসিনগুলো আনতে।
‘ পেশেন্টের সাথে আর কেউ নেই?
‘ পেশেন্টের বাবাকে ছাড়া আর কাউকে তো দেখিনি, স্যার।
বয়স্ক নার্সের কথাগুলো শুনতে শুনতে রিফাত পুনরায় তনিমার দিকে তাকায়। মেয়েটিকে সে চেনে, তার স্টুডেন্ট হয় মেয়েটি। সেই সাথে এই মেয়েটির ভাইকে মারিদ পিটিয়েছিল আরও ছয়-সাত মাস আগে। মেয়েটি তখন সেখানেই ছিল। সেই সুবাদে রিফাত এই মেয়েটিকে চেনে। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে রিফাত তনিমাকে হাসপাতালে দেখবে, তা আশা করেনি। মেয়েটির রিপোর্টের ফাইল ঘেঁটে রিফাত যতটুকু বুঝল, মেয়েটির গুরুতর অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। হাতে-পায়ে মোটা আস্তিনের প্লাস্টার পড়েছে। মাথার একপাশে আঘাত পাওয়ায় অ্যাক্সিডেন্টটাও গুরুতর হয়েছে। ইতিমধ্যে তনিমা মেয়েটির রাতেই মাথায় সার্জারি হয়েছে। রিফাতের ধারণা মতে খুব সম্ভবত তনিমার অ্যাক্সিডেন্ট কাল কোনো একটা সময়ে হয়েছিল। কিন্তু কোন সময়টাতে হয়েছিল আপাতত রিফাত জানে না সেটা। কাল রাতে সে হসপিটালে ছিল না। রাতের ডিউটি ডাক্তারের পরামর্শে তনিমার সার্জারি হয়েছে। সেও একজন সার্জন হিসাবে আপাতত রেগুলার চেক-আপে রোগীকে দেখতে এসেছে মাত্র। তবে তনিমার ডাক্তার অন্য কেউ। রিফাত না। রিফাত তনিমাকে দেখে ক্যাবিন হতে বের হতে হতে আবারও তনিমাকে এক পলক দেখে বেরিয়ে গেল।
রিফাত সারাদিনের ডিউটি শেষে সন্ধ্যার দিকে পৌঁছাল মারিদের অফিসে। গায়ের সাদা অ্যাপ্রোনটা গাড়িতে রেখে রিফাত ছয়তলা ভবনের তিনতলায় উঠল লিফটে করে। সুন্দর পরিপাটি গোছানো অফিস মারিদের। ছয়তলা ভবনের পুরোটাই মারিদের অফিস। তবে প্রত্যেক ফ্লোর, আলাদা আলাদা সেক্টরে বিভক্ত করা। মারিদের সকল ব্যবসায়িক কাজের মূল শাখা ধানমন্ডির এই ছয়তলা ভবনটি। এখান থেকেই দেশ-বিদেশের সকল শাখার কাজ পরিচালনা হয়ে থাকে মারিদের। মূলত মারিদকে সকাল নয়টা থেকে রাত বারোটা অবধি এই অফিসেই পাওয়া যায় বেশিরভাগ সময়। বিকেল পাঁচটার দিকে অফিস ছুটি হয়ে গেলেও ছয়তলা ভবনের প্রতি সেক্টরের ম্যানেজারের সাথে বেশকিছু কর্মীকেও দেখা যায় বেশ রাত করে বাড়ি ফিরতে। হয়তো প্রত্যেকে কর্মী নিজেদের কাজের হিসাবের ফাইল জমা দিতে দিতে এতোটা দেরি হয় তাদের। আজও রুটিনমাফিক তাই হচ্ছিল। রিফাত অফিসে ঢুকতে হলরুমের দু’পাশে স্টাফদের চেয়ারগুলো খালি পেল। তবে পিওন কাশেমকে দেখল চা-কফি হাতে মারিদের কেবিন হতে বেরোতে। মারিদের অফিসে পিওন কাশেম রিফাতকে দেখেই হাসি মুখে সালাম দিয়ে বলল….
‘রিফাত স্যার, কফি খাবেন? কফি দিব?
রিফাত ক্লান্তিময় গলায় শুধালো…
‘দিলে ভালো হয় কাশেম ভাই। আজ বেশ ক্লান্ত আমি।
রিফাতের কথায় কাশেম লোকটা তৎক্ষনাৎ বলল…
‘ তাহলে স্যার, কড়া করে আপনাকে একটা ব্ল্যাক কফি দিই? আপনার ভালো লাগবে।
‘দেন, আপনার যেটা ভালো মনে হয়।
কাশেম লোকটা সম্মতি দিয়ে চলে যেতে নিলে রিফাত ফের প্রশ্ন করে বলল…
‘ কাশেম ভাই, আপনার স্যার কি কেবিনে আছে ?
‘জ্বি স্যার, আছে।
‘আচ্ছা, আপনি যান! আমি দেখছি।
কাশেমকে বিদায় করে রিফাত মারিদের কেবিনের দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতে দেখল মারিদ কেবিনের চেয়ারে বসে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে। আর হাসিব কোমর ঝুঁকে মারিদকে ল্যাপটপের স্ক্রিনে কিছু একটা দেখাচ্ছে। হয়তো প্রজেক্ট প্রসঙ্গে কিছু একটা হবে। তবে রুমের অপর পাশে মারিদের ম্যানেজার সোফার টেবিলে একগাদা ফাইল চড়িয়ে কোনো কিছুর হিসাব মিলাচ্ছেন তিনি। অসময়ে রিফাতের আগমনে সকলেই তাকাল দরজার দিকে। রিফাত রুমে ঢুকতে ঢুকতে সকলের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়ে বসল মারিদের মুখোমুখি অপর পাশের চেয়ারে। রিফাতকে দেখে মারিদ হাতের ইশারায় হাসিবসহ ম্যানেজারকে চলে যেতে বললে তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে কেবিন হতে বের হয়ে যেতেই মারিদ গা এলিয়ে বসল চেয়ারে। ক্লান্তিতে গলার টাই টেনে ঢিলে করতে করতে গম্ভীর গলায় রিফাতের উদ্দেশ্যে বলল…
‘কী চাই?
‘তোকে।
‘ ফ্রী না আমি।
‘ তোর বেশি সময় লাগবে না। এক ঘন্টা চলবে।
রিফাতের কথায় মারিদ বেশ বিরক্ত গলায় শুধালো…
‘তোর আমাকে পাগল মনে হয় রিফাত?
মারিদের কথায় রিফাতও মারিদকে শুধিয়ে বলল…
‘আসলে বিষয়টা তুই যেভাবে দেখছিস, তেমনটা না।দেখ আমাদের মনে হচ্ছে তুই অসুস্থ! সেজন্য ডাক্তার দেখাতে বলছি। এতে সমস্যা কোথায়?
‘তোর আমাকে কোন দিক থেকে অসুস্থ মনে হচ্ছে শুনি? আমার দৈনন্দিন কাজকর্মে তোরা কোনো অস্বাভাবিক আচরণ দেখেছিস? তাহলে আমি কেন তোদের কথায় ডাক্তার দেখব?
মারিদের কথায় রিফাত মারিদকে বুঝাতে চেয়ে বলল…
‘ দেখ মারিদ! শারীরিক অসুস্থতা ছাড়াও অনেক মানসিক অসুস্থতা আছে, যেটা আমরা সহজে ধরতে পারি না। আমার মনে হচ্ছে তুই মানসিক হ্যালুসিনেশনে ভুগছিস। অতিরিক্ত ভাবনা থেকে তোর চারপাশে একটা কল্পনার জগৎ বানিয়েছিস। সেই কল্পনা থেকে তোর হ্যালুসিনেশন হচ্ছে কাউকে নিয়ে। তোর মনে হচ্ছে তোর জীবনে অপরিচিতা নামে কেউ একজন আছে। যার সাথে তুই নাম-পরিচয়বিহীন ছয় মাস যাবত কথা বলেছিস।যার অস্তিত্ব তুই ছাড়া কেউ শুনতে পায়নি আজও। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, তোর অপরিচিতা তোর হ্যালুসিনেশনের ভ্রম ছাড়া কিছুই নয়। কারণ তুই যে নম্বরে কথা বলতি, সেই নম্বরটা বিগত দুই বছর ধরে বন্ধ। তাহলে তোর কাছে কীভাবে ছয় মাস ধরে কল আসবে? তাও নাম-ঠিকানা না দিয়ে?
রিফাতের কথায় মারিদ বেশ বিরক্ত বোধ করল। আজ বিগত কয়েকদিন ধরে মারিদকে রিফাত আর রাদিল মিলে বুঝাচ্ছে মারিদ সাইক্রিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিতে। যেটা মারিদ মানতে নারাজ। তাছাড়া
আজকাল মারিদ চেষ্টা করছে অপরিচিতাকে নিয়ে না ভাবতে, সেখানে রিফাতের অপরিচিতাকে নিয়ে বারবার কথা বলাটা মারিদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। মারিদ বিশ্বাস করে সে কোনো অসুস্থ মস্তিষ্কের রোগী নয়। আর না অপরিচিতা তার হ্যালুসিনেশন। মারিদ রিফাতের কথায় বিরক্তির স্বরে বলল….
‘ তুই যাবি? তোর এত প্যাঁচাল ভালো লাগছে না আমার। বের হ।
মারিদের কথায় রিফাতও অধৈর্য্যের নেয় বলল…
‘একবার ডাক্তার দেখাতে সমস্যা কোথায় তোর? সকলের মনের সন্দেহ অন্তত দূর হলো।
‘ কে কি সন্দেহ করলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি জানি অপরিচিতা আমার হ্যালুসিনেশন নয়। তাই ডাক্তার দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না।
রিফাত বুঝতে পারলো মারিদকে রাগিয়ে ডাক্তারের কাছে নেওয়া সম্ভব না। সেজন্য বুদ্ধিমান রিফাত মারিদকে শান্ত মস্তিষ্কে প্রশ্ন করে বলল…
‘আচ্ছা, তুই প্রমাণ করতে পারবি অপরিচিতা তোর হ্যালুসিনেশন নয় সেটা? যদি পারিস? তাহলে আমরা কেউ তোকে আর ডিস্টার্ব করব না কথা দিচ্ছি। তুই শুধু আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিবি ঠিকঠাক, আশা করছি এতে তুই নিজেই বুঝতে পারবি আমি কেন তোকে এতবার সাইক্রিয়াট্রিস্ট দেখাতে বলছি।
রিফাতের কথায় মারিদ বিরক্তি চোখে তাকাল। তার জীবন নিয়ে সকলের এতো মাতামাতি পছন্দ হচ্ছে না। রিফাত মারিদকে চুপ থাকতে দেখে সে চট করে প্রশ্ন করে বলল…
‘ আচ্ছা অপরিচিতা মেয়েটি তোকে কখনো মেসেজ করেছে? দেখাতে পারবি?
মারিদ মনে করার চেষ্টা করল, আদৌও তাদের কখনো মেসেজে কথা হয়েছিল কিনা? মারিদের যতটুকু মনে পড়ে, সে কয়েকবার অপরিচিতাকে মেসেজ করেছিল কিন্তু ফোনের ওপাশ থেকে কখনো অপরিচিতার মেসেজ তার ফোনে আসেনি।
রিফাতের কথায় মারিদ সেইভাবে উত্তর দিয়ে বলল…
‘না।
মারিদের কথায় রিফাত ফের মারিদকে শুধিয়ে বলল…
‘তোদের কখনো মেসেজে কথা হয়নি?
‘ না। তবে আমি মেসেজ করেছিলাম কয়েকবার, সে কখনো মেসেজের উত্তর করেনি। সরাসরি ফোনে কথা হতো আমাদের।
‘ আচ্ছা এমনটাও তো হতে পারে। তুই তাঁকে হ্যালুসিনেশন করে মেসেজ পাঠাতি আসলে ফোনের ওপাশের কেউ ছিল না বলে তোর মেসেজে উত্তর আসেনি কখনো?
মারিদ ফের বিরক্তি কন্ঠে বলল…
‘ তোকে কতবার বলব, আমি মেসেজ পাঠালে সে কল দিতো। সেজন্য সে হয়তো মেসেজের উত্তর দেয়নি।
‘ আচ্ছা তাহলে তোদের কল লিস্ট দেখাতে পারবি?
‘ফোন ভেঙে ফেলেছি। কল লিস্ট নেই।
‘মেসেজ নেই! কল লিস্ট নেই। ঠিকানা নেই। মেয়েটির নামও জানিস না। দেখতে কেমন সেটাও বলতে পারিস না। এসব বিষয়গুলো তোর কাছে কখনো অদ্ভুত লাগেনি?
রিফাতের কথায় মারিদের কাটকাট উত্তর আসল তক্ষুনি। বলল…
‘না।
রিফাতের ধারণা মারিদ একজন মানসিক ভুক্তভোগী রোগী। সেজন্য মারিদকে রাগানো এই মূহুর্তে রিফাতে ঠিক হবে না। এতে রিফাত তার প্রয়োজনীয় তথ্য মারিদ থেকে পাবে না। রিফাত মারিদকে সাইক্রিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যেতে না পারলেও মারিদের দেওয়া তথ্য সাইক্রিয়াট্রিস্টের সঙ্গে শেয়ার করে পরামর্শ চাইবে কি করা যায়। মারিদকে কিভাবে এই হ্যালুসিনেশন থেকে বের করা যায় সেই পন্থা বের করবে। সেজন্য রিফাত রয়েসয়ে মারিদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগল…
‘আমার ধারণা মতে তুই যে নম্বরের তথ্য বের করেছিস, সেখানে কিন্তু কোনো কল লিস্ট ছিল না মারিদ। তুই শুধু অপরিচিতার সিমটা কার নামে ছিল সেই তথ্য বের করেছিস। আমার ধারণা মতে তুই যদি তাতিয়ানের নম্বরের কল লিস্ট বের করিস, তাহলে সেখানে অপরিচিতার সাথে তোর কথা হয়েছে এমন কোনো কল আদান-প্রদান লিস্টে বের হবে না। দেখা যাবে, দুই বছর আগে তাতিয়ানের কল লিস্ট বের হলো কিংবা তুই একাই ওই নম্বরে কল দিতি এমন কোনো কল রেকর্ড বের হলো। আসলে ফোনের ওপাশে কেউ ছিল না, তখন কী করবি?
মূলত রিফাত মারিদকে বোঝাতে চাইছে অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন। একটা কাল্পনিক চিত্র। যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ মারিদ সেটা মানতে নারাজ। এজন্য মূলত রিফাত আর রাদিল দুজনে চাচ্ছে মারিদকে সাইক্রিয়াট্রিস্ট দেখাতে। যাতে মারিদের ভুলভ্রান্তিগুলো মারিদের চোখে পড়ে। রিফাত ফের মারিদকে প্রশ্ন করে বলল….
‘আচ্ছা মেয়েটি কখনো তোকে তার পরিবারের সম্পর্কে কিছু বলত? ওরা কয় ভাই-বোন কিংবা পরিবারের কে কে আছে, সেসব নিয়ে কখনো বলেছে তোকে?
‘না।
‘এই ছয় মাসে একবারও বলেনি?
‘দুই একবার অপরিচিতা তার বাবার সাথে আমার তুলনা দিয়েছিল। বলেছে অপরিচিতার জীবনে তার বাবার পরের স্থানে আমি। এর বাইরে অপরিচিতা কখনো তার পরিবার সম্পর্কে আমাকে বলেনি।
মারিদের কথায় রিফাত ফের বলল…
‘ আচ্ছা এমনটাও তো হতে পারে তুই হ্যালুসিনেশন করে অপরিচিতা নামক একটি অস্তিত্ব বানিয়ে তার বাবার পরের স্থানে নিজেকে বসিয়েছিস?
রিফাতের কথায় মারিদ চট করে রেগে গিয়ে বলল…
‘কতবার বলব, অপরিচিতা আমার হ্যালুসিনেশন নয়।
‘অপরিচিতা তোর হ্যালুসিনেশন নয় বাস্তব, সেটাও তো তুই প্রমাণ করতে পারছিস না। কোথাও কোনো অস্তিত্ব নেই তোর অপরিচিতার। তুই তো সব জায়গায় খোঁজ করেছিস, সেখানে তোর সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু পাস নি। সেজন্য বলছি, একবার অন্তত ডাক্তারের পরামর্শ নে। দেখ ডাক্তার কী বলে।
রিফাতের কথায় মারিদের মধ্যে কোনো ভাবাবেগ দেখা গেল না। মারিদ নিজের কথায় অটুট। অথচ মারিদকে নিয়ে রিফাতসহ মারিদের পরিবারও চিন্তিত। বিগত একটা মাস মারিদ অপরিচিতার খুঁজে দিশেহারা। আর আজকাল মারিদ কেমন নিশ্চুপ থাকে। তবে মারিদ যখনই কথা বলে, তখনই রগচটা আর বদমেজাজি আচরণ করে সবার সাথে। এতে মারিদের পরিবারসহ রিফাত-রাদিলও চিন্তিত। মূলত রাদিলই রিফাতকে পরামর্শ দিয়েছিল মারিদকে ভালো সাইক্রিয়াট্রিস্ট দেখাতে। মারিদ হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ হতে পারে, সেজন্য দিন দিন এমন উগ্র আচরণ করছে। রাদিলের কথাটা রিফাতেরও যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে। কারণ মারিদের পিছু পিছু রিফাতও অপরিচিতাকে বেশ কয়েক জায়গায় খোঁজ করেছে কিন্তু সেখানে অপরিচিতা নামক কোনো অস্তিত্বের খোঁজ পায়নি তাঁরা। এতে রিফাতেরও ধারণা, মারিদ অপরিচিতা নামক কাউকে হ্যালুসিনেট করছে দীর্ঘদিন ধরে আর সেটা মারিদ স্বীকার করতে চায় না। মূলত মারিদ বুঝতে পারছে না অপরিচিতা মারিদের বাস্তবতা নয়, কাল্পনিক অস্তিত্ব। রিফাত মারিদের বিরক্ত ভঙ্গি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত স্বরে পুনরায় বলতে লাগল…
‘দেখ মারিদ! আমরা কেউ তোর খারাপ চাই না। আমরা সবাই তোর শুভাকাঙ্ক্ষী। রাদিল কিছুক্ষণ আগেও আমায় ফোন করে বলেছে তোকে নিয়ে সাইক্রিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে। আমাদের ধারণা তুই মানসিক রোগে ভুগছিস। মনের সন্দেহের জন্য অন্তত তুই একবার আমার সাথে ডাক্তারের কাছে চল। এতে তোর সমস্যা হবার কথা না তাই?
রিফাতের কথায় অধৈর্যের মারিদ হঠাৎ চটে গেল রিফাতের উদ্দেশ্যে বলল…
‘ বা’ল এক কথা কতবার বলব তোদের, অপরিচিতা আমার কোনো অবাস্তব কল্পনা নয়। একই কথা বারবার কৈফিয়ত দিতে ভালো লাগছে না। যা, তোরা আমার কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী লাগবে না। বের হ।
অস্থির অশান্ত মারিদ রিফাতকে বেরিয়ে যেতে বলে সে নিজেই অফিস হতে বেরিয়ে গেল রাগান্বিত ভঙ্গিতে। অশান্ত মারিদের কোনো কিছুতে শান্তি লাগছে না অপরিচিতার অনুপস্থিতিতে। এখন আবার রিফাত, রাদিল দু’জন বলছে অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন। আসলেই কি অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন? অশান্ত মারিদ অপরিচিতাকে নিয়ে আর ভাবতে বসল না সেদিন হতে। অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন হোক কিংবা বাস্তবতা। মারিদের আর অপরিচিতার খোঁজ করবে না। অপরিচিতা মারিদের জীবনে ঘোলাটে হয়েই থাক আজীবন। মারিদ আর অপরিচিতার খোঁজে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করবে না।
মারিদের এই জেদে এইভাবে দিন যাচ্ছিল। রিফাত রাদিল অনেক বলেও মারিদকে আর ডাক্তার দেখাতে পারল না। শেষে রিফাত-রাদিল দু’জনই হাল ছেড়ে দিল, যখন দেখল মারিদ অপরিচিতাকে খুঁজে পাগলামি করছে না।
তারপর? তারপর দিন এইভাবে যাচ্ছে। তনিমা হঠাৎ গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টের পর হাসপাতালের বিগত দশ দিন কাটিয়ে বাড়ি ফিরল। বাড়িতে আরও একটা মাস রেস্ট নিয়ে যখন কলেজে গেল তখনই শুনতে পেল সোহাগ নতুন প্রেমে জড়িয়েছে কারও সাথে। সোহাগের প্রেমের খবর শুনে তনিমা ছুটে গিয়েছিল সোহাগকে প্রশ্ন করতে, কেন সে তনিমার সাথে চিঠিতে প্রেমময় আলাপ করে এখন অন্য কারও সাথে প্রেমে জমেছে। অথচ সেদিন সোহাগ ক্লাসের সকলের সামনেই তনিমার ভুল সংশোধন করে জানিয়েছিল, সোহাগ কোনোদিন তনিমাকে চিঠি লেখেনি। আর না তনিমার কোনো চিঠি সোহাগের অবধি পৌঁছেছিল কখনো। প্রথমে তনিমা সোহাগকে অবিশ্বাস করেছিল, ভেবেছিল ক্লাসের সবার সামনে সোহাগের চিঠি লেখা বিষয়টি প্রকাশ করতে চাচ্ছে না বলেই সে তনিমাকে অস্বীকার করছে। অথচ সোহাগ যখন প্রমাণ দিল তার হাতের লেখাসহ আর কিছু প্রমাণ দেখাল তনিমাকে, তখনই তনিমা প্রচণ্ড ধাক্কায় ভেঙে পড়ল। তনিমা এতদিন সোহাগ ভেবে কাকে চিঠি লিখত? কে তনিমার চিঠির উত্তর দিত, সেই সন্ধানে দিশাহারা হয়ে উঠল তনিমা। দিন দিন তনিমা চিঠি লেখা মানুষটাকে খুঁজতে গিয়ে তার মায়ায় জড়িয়ে পড়ল। অদেখা মানুষটার প্রতি অদ্ভুত ভালোবাসা জন্ম নিল। অথচ তনিমার জানা নেই, তনিমার ভীষণ অপছন্দের মানুষটাকেই সে চিঠি লিখত এত দিন।
মারিদের অপরিচিতাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা আর তনিমার চিঠি লেখা মানুষটাকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টায় দিন, সপ্তাহ, আর সপ্তাহ মাসে, আর মাস বছরে ঘুরে গেল। সালটা ২০১৫ থেকে ২০১৬-তে পৌঁছাল। জানুয়ারি মাস। প্রচণ্ড কনকনে শীতের আভাস। রাদিলও লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রির শেষ করে বাংলাদেশে এসেছে আরও সাত-আট মাস আগে। সুখও এসএসসি পরীক্ষার্থী। ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা সুখের। এখন জানুয়ারি মাস। নাক-মুখ ডুবিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে সুখের। চারপাশে শুধু ব্যস্ততা। সবার জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে। মারিদ অফিস থেকে বাড়ি, বাড়ি থেকে ফ্যাক্টরি, কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট, দেশ-বিদেশে নিজের ব্র্যান্ড প্রসারে ছুটছে। এইতো, এইভাবে দিনগুলো যাচ্ছিল। কিন্তু কোনো একটা পিছুটান ছিল মারিদের। হয়তো অপরিচিতার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাই মারিদের মনের কঠোরতার কারণ। কিন্তু মারিদ সেটা মানতে নারাজ। সে অপরিচিতা ছাড়া ভালো নেই—এটা সে মানতে নারাজ। অপরিচিতা হারিয়ে গেছে আজ প্রায় এক বছর হতে চলল। সেই দিনের পর হতে অপরিচিতার দ্বিতীয় কোনো কল আসেনি মারিদের ফোনে। সকলেই ধরে নিয়েছে অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন ছিল। এজন্য আজকাল মারিদের পরিবার বেশ চাপ দিচ্ছে মারিদকে বিয়ে করতে। মারিদ অবশ্যই বিয়ে নিয়ে হ্যাঁ বা না কিছু বলেনি। আজকাল তার মানুষ বিশ্বাস হয় না। অপরিচিতার জন্য গোটা মেয়ে জাতিকে মারিদের ছলনাময়ী মনে হয়। যেখানে নারী জাতিকে বিশ্বাস হয় না, সেখানে সে একটা মেয়েকে বিয়ে করে বউ বানাবে কীভাবে?? যেদিন মারিদের মেয়েদের প্রতি পুনরায় বিশ্বাস জন্মাবে, সেই দিনই কাউকে নিজের জীবনে জায়গা দেবে, নয়তো না।
~~
‘আপনি আমাকে ভুলে গেছেন ব্যবসায়িক সাহেব? আজ কত দিন হলো আপনার সাথে কথা হয় না আমার। আমার জন্য আপনার মায়া হয় না? আমি কিন্তু আজও আপনাকে মনে রেখেছি।
‘ আপনি ছলনাময়ী অপরিচিতা। আজীবন পাশে থাকবেন বলেও হারিয়ে গেছেন কেন?
‘ আমি হারাইনি। আপনার দেখার চোখ আমাকে খুঁজতে পারেনি। ভালো করে খুঁজুন, আমি আপনার আশেপাশেই আছি।
‘আপনি আবারও মিথ্যা বলছেন অপরিচিতা। আমি আপনাকে সব জায়গায় খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পাইনি। আপনি সত্যি হারিয়ে গেছেন।
‘আমি হারিয়ে গেলে এখন আসলাম কীভাবে?
মারিদ অপরিচিতার কন্ঠে শোনে সামনে তাকাল। কালো একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে সামনে। মারিদ সেই ছায়াটি অনুসরণ করে বলল…
‘ আপনি কোথায় অপরিচিতা? আমার সামনে আসুন। আমি আপনাকে দেখব।
মারিদের উতলা কন্ঠে অন্ধকার হতে ফের ভেসে আসল অপরিচিতা মিষ্টি হাসির সুর। অপরিচিতা বলল…
‘আপনি দেখি আমার বিরহে পাগল হয়ে গেছেন ব্যবসায়িক সাহেব। আমি তো শুদ্ধ পুরুষ চেয়েছিলাম আপনি তো দেখি প্রেমিক পুরুষ হয়ে বসে আছেন?
মারিদ জেদি গলায় বলল…
‘ আপনি আমাকে নিয়ে উপহাস করছেন অপরিচিতা?
মারিদের কথায় অন্ধকার ছায়া হতে ফের অপরিচিতা কন্ঠে ভেসে আসল। অপরিচিতা বলল…
‘উপহাস না। আপনাকে সত্যিটা বলছি ব্যবসায়িক সাহেব। আচ্ছা, আপনার আজও আমার সাথে দেখা করতে মনে চায়?
‘হ্যাঁ, অনেক মন চায় অপরিচিতা। প্লিজ আপনি আমার সামনে আসুন। আমি দেখব আপনাকে।
মারিদের কথা শেষ হতে হতে তৎক্ষনাৎ শোনা গেল অপরিচিতা গলা। বলল…
‘তাহলে আসুন আমার সামনে। এই তো আমি এখানে দাঁড়িয়ে। দেখে নিন আপনার অপরিচিতাকে।
একটা অন্ধকার ছায়া ধরে মারিদ এগোচ্ছে। অপরিচিতার গলার স্বর শোনা গেলেও আশেপাশে কোথাও অপরিচিতার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না। মারিদ অন্ধকারে তলিয়ে অস্থির ভঙ্গিতে অপরিচিতার খোঁজ করছে। উত্তেজিত গলায় চিৎকার করছে..
‘অপরিচিতা আপনি কোথায়? চারপাশে এত অন্ধকার কেন? আপনি আমার সামনে আসুন। অপরিচিতা? অপরিচিতা?
পরপর মারিদের চিৎকারের ডাকে একটা ঠান্ডা শীতল হাত মারিদের উষ্ণ গরম হাতটা টেনে সামনে নিয়ে যাচ্ছে। অপরিচিতার কোনো সাড়া শব্দ আর পাওয়া গেল না। আর না মারিদের হাতটা চেপে ধরা মানুষটাকে দেখতে পারল সে। কেমন কালো আর ভূতের একটা ছায়া মারিদের হাত চেপে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে। কিছুদূর এগোতে সেই ছায়াময়ী মানুষটা আঙুল তুলে মারিদকে কিছু একটা দেখিয়ে বলল…
‘ওইটা আমার বাড়ি। আমি ওই ঘরে থাকি ব্যবসায়িক সাহেব। দেখে নিন আমাকে।
মারিদ অপরিচিতার দেখানো আঙুলের দিকে তাকাতেই দেখতে পারল একটা অন্ধকার কবর। কবরটা দেখেই মারিদের শরীরে কেমন ঘাম ঝরতে লাগল। দরদর ঘামে যখন মারিদ ভিজে একাকার, তখনই মারিদ অস্থির উত্তেজিত ভঙ্গিতে অপরিচিতার খোঁজ করল। কিন্তু আশপাশে কাউকে আর দেখতে না-পেয়ে মারিদ পুনরায় চিৎকার করে অপরিচিতাকে ডাকল দিশাহারা হয়ে…
‘অপরিচিতা? অপরিচিতা? অপরিচিতা?
মারিদের চিৎকারের সাথে সাথে মারিদ ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠে বসল। প্রচণ্ড শীতেও তার শরীর বেয়ে দরদর ঘাম ঝরতে লাগল। মারিদ বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে আশেপাশে তাকাল। এটা তার রুম। এর মানে মারিদ এতক্ষণ অপরিচিতাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল। স্বপ্নের কথা মাথায় আসতে মারিদ চট করে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখে নিল। ২টা ১০ মিনিট। এর মানে এখন মধ্যরাত। আর মধ্যরাতে স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। যদি সত্যি হয় তাহলে কি মারিদের অপরিচিতা আর বেঁচে নেই? নাকি এটাও মারিদের ভ্রম? মারিদ অপরিচিতাকে নিয়ে অতিরিক্ত কল্পনা করে বলে এখন স্বপ্ন দেখছে? আচ্ছা, মারিদের আরও একবার অপরিচিতাকে খুঁজে দেখা উচিত? অস্থির অশান্ত মারিদ গায়ের কম্বল সরিয়ে উঠে দাঁড়াল। রুম ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে বসল। অশান্ত মনে মারিদ পুনরায় ভাবতে বসল, অপরিচিতা নামক এই একটা শব্দ তার জীবনে বিগত একটা বছর ধরে ঝড় তুলে রেখেছে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, কাজ কোনো কিছুতে সে শান্তি পাচ্ছে না। সবকিছুতে অপরিচিতাকে খুঁজে বেড়ায়। টানা ছয়টা মাস মারিদ একটা মানুষের সাথে রাতদিন এক করে কথা বলেছে, তারপরও একদিন ফোন আসল অপরিচিতা বিপদে। সে পাগলের মতোন অপরিচিতার খোঁজ করতে গিয়ে দেখল, অপরিচিতা নামক কোনো অস্তিত্ব নেই। এমন একটা পরিস্থিতিতে মারিদের আসলে কী করা উচিত বুঝতে পারছে না। অনেক খোজাখুজির পর মারিদ জেদ ধরে অপরিচিতার খোঁজ বন্ধ রেখেছিল এই ভেবে, হয়তো অপরিচিতা ছলনাময়ী। মারিদের সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ভাবে এসব লুকোচুরি খেলছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সবকিছুর খোলাসা করার জন্য হলেও মারিদের অপরিচিতাকে খোঁজা উচিত। অপরিচিতা মারিদের হ্যালুসিনেশন নাকি বাস্তবতা সেটা মারিদ অপরিচিতাকে খোঁজে বের করলেই বুঝতে পারবে।
মনস্তাত্ত্বিক মারিদ দু’হাতে মাথা চেপে ঝুঁকে বসে রইল প্রায় অনেকটা সময়। হঠাৎই মারিদের মনে হলো, তার কাছে তো অপরিচিতা পাঠানো চিঠিগুলো আছে এখনো! অপরিচিতা যেহেতু চিঠি লিখেছে, তার মানে অপরিচিতা মারিদের কোনো হ্যালুসিনেশন নয়। এই চিঠির খোঁজ করলেই তো মারিদ অপরিচিতা অবধি পৌঁছাতে পারবে। চিঠির কথা মাথায় আসতে মারিদ তৎক্ষণাৎ দৌড়ে গিয়ে তার কবার্ট যত্ন করে তুলে রাখা চিঠির বাক্সটা বের করল। সেখানে প্রায় বিশটার অধিক চিঠি যত্ন করে তুলা মারিদের। মারিদ চিঠি গুলোতে হাত বুলাল। তনিমার দেওয়া শেষ চিঠি খুলে পড়তে পড়তে ভাবল, এবার যতকিছুই হোক না কেন, সে অপরিচিতার অবধি পৌঁছাবেই, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ায় কোনো কিছু মারিদকে আটকাতে পারবে না অপরিচিতাকে খুঁজে বের করতে। হয়তো মারিদের অপরিচিতাকে বের করতে সময় লাগতে পারে কিন্তু অপরিচিতার ঘোলাটে অধ্যায় পরিষ্কার করবেই।
[ গল্পটা দ্রুত দেওয়া চেষ্টা করব। দ্বিতীয়ত গল্পের কাহিনি ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে। আমি কাহিনি না গুছিয়ে হুট করে কাহিনি মেলে ধরতে পারছি না এতে গল্পটা খাপছাড়া হয়ে যাবে। তবে এটা রিদ-মায়ার মতোই একটা রোমান্টিক উপন্যাস হবে]
রিদমায়ারপ্রেমগাঁথা বইটি অর্ডার করতে নিচের লিংকে মেসেজ করুন।
[ বানান ভুল ম্যানশন করবেন কমেন্টে]
চলিত…
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৩
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৩
-
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫