Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮


জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_১৮

পানির গভীরে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে আদ্রিতার শরীরটা। চারিদিকে শুধু পানি। হটাৎ উপর থেকে আদ্রিসের চিৎকার শোনা গেল।

“আদ্রিতা। ওই আমার হাত ধর আদ্রিতা। আদ্রিতা হাত ধর আমার।”

আদ্রিতা চাইল ধরতে কিন্তু পারল না। চোখ জ্বলছে ওর মনে হচ্ছে ও মরে যাবে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে আদ্রিসের হালকা আভাটাই যেন আদ্রিতার কাছে অসম্ভব ভালো লাগল।

হটাৎ করেই মুখের উপর মগ ভর্তি পানি পড়ায় কাশি দিয়ে ওঠে আদ্রিতা৷
আদ্রিস শক্ত করে ধরে রেখেছে আদ্রিতার ছোট্ট দেহ খানা।
আদ্রিতা চোখ খুলতে পারছেনা। জ্বালা করছে প্রচন্ড। ওদিকে ওর নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। গলা থেকে বুক পর্যন্ত ঝাল ঝাল হয়ে গিয়েছে।
আদ্রিস শক্ত করে ধরে রাখে,

“ঠিক হয়ে যাবে। আমরা এক্ষুনি হসপিটালে যাব। এক্ষুনি যাব।”

ঐশী বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে,

“ওকে ছেড়ে দেওনা আদ্রিস। এমনিতেও ও মরে গেলে সবার শান্তি।”

কথাটা শোনা মাত্র আদ্রিসের মুখশ্রী রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। আদ্রিস ঘাড় ঘুরিয়ে সোজাসুজি ঐশীর দিকে তাকায়। আদ্রিসের চাহনি দেখে ঐশী ভয় পেয়ে যায়। এই মুহুর্তে তাকে কোন ভয়ঙ্কর রাক্ষসের মত দেখাচ্ছে।

“হোয়াট ডিড ইউ সেইড? কি বললি আবার বল!”

আদ্রিসের ভয়ঙ্কর চাহনি দেখে ঐশীকে মাধবী বেগম সরিয়ে নিয়ে যায়।
প্রিয়া এসে আদ্রিসের পাশে দাঁড়ায়।

“সময় নেই ভাইয়া আদ্রিতার অবস্থা ভালোনা। দ্রুত চলো। কিছু হয়ে যাবে।”

“কিছু হবেনা।”

চিৎকার করে ওঠে আদ্রিস। উপস্থিত সবাই সে চিৎকার শুনে কেঁপে ওঠে,

“কিছু হবেনা। সি হ্যাভ টু লিভ। ফর মি। আমার পুরো জীবনটা ওর জন্য উৎসর্গ করেছি। ওর কিছু হয়ে গেলে সব ধ্বংস করে দেব। মৃত্যুও তোকে আমার থেকে দুরে নিতে পারবে না। বুঝেছিস আদ্রিতা। “

আদ্রিস , কথা গুলো বলছিল আর আদ্রিতার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল।

“ভ ভাইয়া। হস হসপিটাল।”

আদ্রিস আর এক মুহুর্ত দেরি না করে আদ্রিতাকে নিয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে।
মিশু তাকিয়ে রইল ওদের যাওয়ার দিকে।
আদ্রিসের চোখে আজ হিংস্রতা, পাগলামি, ভয় সব দেখেছে মিশু।
আদ্রিসকে অন্য কোন নারী পাবে এটা অসম্ভব।
মিশু ভেতর থেকে কাঁপছে। এই সাইকো যখন জানবে এই কর্মকান্ড তাদের দুজনের তখন কি হবে। মেরেই ফেলবে।


কিছুক্ষণ আগে।

ফোনে কথা বলছিল আদ্রিস। হটাৎ আদ্রিতার চিৎকার শুনে বুকের ভেতর ধক করে ওঠে তার। আদ্রিতা চিৎকার করেছে প্রিয়ার নাম ধরে।
প্রিয়াও ডাইনিং টেবিলের কাছে ছিল। প্রিয়া দৌড়ে আসতে আসতে উপর থেকে আদ্রিস দৌড়ে নেমেছে। আদ্রিস কোন টর্নেডোর গতিতে ছুটে বাগানে চলে যায়। মাধবী বেগম আদ্রিসকে দৌড়াতে দেখে পিছু নেয়। প্রিয়াও পেছনে পেছনে যায়। আদ্রিস বাগানে পৌঁছে, চোখের সামনের দৃশ্য দেখে আদ্রিস এক সেকেন্ডের জন্য ঘাবড়ে যায়।
আদ্রিতার উপরেই ঝালের গুড়া উল্টে পড়ে আছে।
আদ্রিস ভেবে পাচ্ছিলনা তার কি করা উচিত।
আদ্রিস দৌড়ে গিয়ে আদ্রিতার পরনের সোয়েটার ওড়না খুলে ফেলে।
আশেপাশে পানি বলতে সুইমিংপুল দেখতে পায়। আদ্রিতাকে নিয়ে সোজা সুমিংপুলে লাফ দেয়।
আদ্রিতাকে পুরোপুরি ক্লিন করার চেষ্টা করে। সুইমিং পুল মরিচের গুড়ার রং ধারণ করেছে।
প্রিয়া তা দেখে দ্রুতই ভেতর থেকে টাওয়াল নিয়ে আসে।
আদ্রিস সুইমিংপুলে বার বার আদ্রিতার গালে ট্যাপ করছিল আর আদ্রিতাকে জাগানোর ট্রায় করছিল। কিন্তু আদ্রিতা নিঃশ্বাস নিতে না পারার কারণে কেমন নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে।
আদ্রিস আদ্রিতাকে ক্লিজ করে উঠে আসে। প্রিয়া ওদের টাওয়াল জড়িয়ে দেয়।


আদ্রিসের গাড়ি বেরিয়ে গেলে মাধবী বেগম, ঐশীর হাত ধরে বলে,

“তুমি কি পাগল ঐশী। ওই সময় ওর সামনে ওগুলো কেন বলতে গেলে? আদ্রিস সাইকো একটা। তোমাকে মেরেই ফেলবে।’

ঐশী ভয় পেয়ে যায়। সে হাঁটু গেড়ে মাধবী বেগমের সামনে বসে পড়ে।

” মামনি আমার ভুল হয়ে গেছে। আজকের মত আমাকে মাফ করে দেও।’

“আমি কিভাবে মাফ করব? চিন্তা করিস না আমি দেখছি কি করা যায়। আর হ্যাঁ আদ্রিসের সামনে এমন কিছু আর বলবে না। ওকে দুর করতে হলে আরেক পথ অবলম্বন করতে হবে। এইসব করে কিছুই হবেনা৷’

ঐশী কথাটা শুনে তুতলে যায়।

” এ এই সব মানে। আ আমি কিছু করিনি।”

“ঐশী চুলত আর বাতাসে পাকেনি। বয়সে পেকেছে। তোমার ঘাবড়ে যাওয়া ভয় পাওয়াই আমাকে বলে দিচ্ছে তুমি কি করেছো।’

” সরি মামনি।’

“আদ্রিসের সামনে এসোনা। দুরে থেকো।”

“ওকে।”

“যাও ঘরে যাও।”

ঐশী উঠে চলে যায় নিজের রুমে।


হসপিটালের ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। আদ্রিস এক প্রকার ভাঙচুর শুরু করে দিচ্ছে।
প্রিয়া ওকে থামাতেই পারছে না। এমন সময় রেভেন এসে পৌঁছায়। আদ্রিসের ফোন দিয়ে প্রিয়া রেভেনকে কল করে।
রেভেন এসে দেখে আদ্রিস ডক্টরের কলার্ট ধরে রেখেছে। রেভেন দৌড়ে ডক্টরের কলার্ট ছাড়ায়।

“বস শান্ত হন।”

“শান্ত মাই ফুট। হারামজাদা আমার আদ্রিতার কিছু হলে সব আগুন জ্বালায় দেব।”

“স্যার এভাবে করলে ডক্টররা ট্রিটমেন্ট দিবে কিভাবে। প্লিজ ম্যামের এজমা আছে ভুলে গেছেন? দেরি হলে সমস্যা। ওনাকে ওনার কাজ করতে দিন।’

আদ্রিস শান্ত হয় কথাটা শুনে। রেভেন ডক্টর কে ইসারা করে। ডক্টর ভয়ে ভয়ে সেখান থেকে চলে যায়।

” ভাইয়া শান্ত হও।”

“হ্যাঁ বস শান্ত হন।”

আদ্রিস বসে পড়ে একটা বেঞ্চে। কাঁচের গ্লাস দেওয়া তার সামনে। ওপাশে দেখা যাচ্ছে আদ্রিতাকে অক্সিজেন মাক্স পরানো হচ্ছে। ইনহেলার আর কাজ করছে না। সে নিঃশ্বাস নিতেই পারছে না।

রেভেন পাশ ফিরে প্রিয়ার দিকে তাকায়। প্রিয়া একটু দুরে দাঁড়িয়ে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভয় পেয়ে আছে। রেভেন গিয়ে প্রিয়ার পাশে দাঁড়ায়,

“বস ভিজে গেল কিভাবে?”

“সুইমিংপুলে লাফ দিয়েছিল।”

“ওহ। এসব হলো কিভাবে?”

“জানিনা। হুট করেই আদ্রিতা চিৎকার দিয়ে উঠল। আমি আসতে আসতে দেখি ভাইয়া লাফ দিয়েছে আদ্রিতাকে নিয়ে পুলে।”

“এত রেগে কেন গেল?’

” ডক্টর বলেছে ইনহেলার কাজ করছে না। (অক্সিজেন স্যাচুরেশন) ৯৪% এর নিচে নেমে গেছে। এটা শোনা মাত্র ভাইয়া রেগে গেল। “

“আহা বসও না। এমনই করে সব সময়।”

“ভয় হচ্ছে ভাইয়াকে দেখে। ভাইয়া পুরাই সাইকোদের মত আচরণ করছে।”

রেভেন, আড় চোখে তাকায় প্রিয়ার দিকে। এত টুকু দেখেই এমন ভয় পেয়ে গেছে। যদি আসল আদ্রিসকে দেখত তাহলে কি হতো।

“আচ্ছা আমি কফি নিয়ে আসি। আমি নিশ্চিত ম্যাম ঠিক হয়ে যাবে। আপনি বসুন প্লিজ চিন্তা করবেন না।”

প্রিয়াকে বসিয়ে রেভেন কফি আনতে চলে যায়। ভেতরে আদ্রিতার ট্রিটমেন্ট চলছে।
আদ্রিস, আদ্রিতার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

কিছুক্ষণ পর রেভেন কফি নিয়ে এসে প্রিয়াকে দেয়।

“ধন্যবাদ।”

রেভেন এবার আদ্রিসের দিকে এগাতে প্রিয়া ওর হাত ধরে বসে। রেভেন হটাৎ থমকে যায়। প্রিয়া বুঝতে পারে সে কি করেছে তাই দ্রুত হাত ছেড়ে দিয়ে বলে,

“ইয়ে ম মানে। এখন গেলে ভাইয়া ভড়কে যাবে।”

“ইট’স ওকে। কিছু হবেনা।”

রেভেন মৃদু হেসে এগিয়ে যায়। প্রিয়া কফিতে সিপ নিয়ে তাকিয়ে আছে সে দিকে।

“বস৷”

আদ্রিসের চোখ যেন সরছে না।

“বস কফি নিন। আপনার শরীর ভেজা এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ম্যামের কি হবে।”

আদ্রিস হাত বাড়িয়ে কফি নিয়ে নেয়।

“আপনার জন্য শুকনা কাপড়ের ব্যাবস্থা করি?”

“হুম।”

“ওকে।”

আদ্রিসের দৃষ্টি সামনে থেকে সরছে না। সে তাকিয়েই আছে সামনের দিকে।

“রেভেন।’

” হ্যাঁ বস।”

“আমি যে সিক্রেট ক্যামেরা ইনস্টল করেছি ওটার ফুটেজ টা খুঁজে বের কর। কি হয়েছিল একটু আগে আমিও জানতে চাই।”

“ওকে বস।”

রেভেন, আদ্রিসের জন্য কাপড় নিতে যায়।


ঘন্টা ৪ কেটে গেল।
আদ্রিতার মুখটা এখন একটু সাভাবিক হয়েছে। রক্তিম ভাবটা কমেছে। তবে অক্সিজেন চলমান। এখনো নিঃশ্বাস নিতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছে।
ডক্টর এখান বলেছে ভেতরে যাওয়া যাবে। আদ্রিস বসে আছে আদ্রিতার পাশে। পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে আদ্রিতার দিকে।
প্রিয়া ভেতরে আসে,

“ভাইয়া।”

“হুম।”

“বাড়িতে যাও খেয়ে এসো। বিকাল হয়ে গেছে।”

“তোর খিদে পেলে যা।”

“ভাইয়া এমন ত না। আমার খারাপ লাগছে তুমি সেই কখন থেকে এভাবে বসে আছো।”

আদ্রিস হাসে,

“আমিত পুরোটা জীবন বসে থাকতে পারি রে। এটাত তবুও কয়টা ঘন্টা।”

প্রিয়া আদ্রিসের সামনে বসে।

“খুব ভালোবাসো?”

আদ্রিস, ফিরে চায় প্রিয়ার দিকে।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply