জেন্টাল_মন্সটার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_১৯
রেভেন লাঞ্চ নিয়ে এসেছে কেবিনে। আদ্রিস এবং প্রিয়াকে দেখে এগিয়ে যায়।
“বস লাঞ্চ।”
আদ্রিস, প্রিয়ার দিকে তাকায়,
“লাঞ্চ করে বাড়িতে চলে যা। রেভেন তোকে পৌঁছে দেবে।”
“তুমি যাবে না? “
“না।”
“খাবেও না? “
“ও না উঠলে আমি খাব না। আর একটা প্রশ্ন করবি না।”
আদ্রিসের কন্ঠ শীতল তবে রাগ ভাবটা নেই।
রেভেন, ইসারা করে প্রিয়াকে চুপ থাকতে বলে।
প্রিয়া খাবার নিয়ে রেভেনকে দেয়।
দু’জন খেয়ে বেরিয়ে যায়।
আদ্রিস বসে থাকে আদ্রিতার পাশে।
গাড়িতে বসে সিট বেল্ট লাগাচ্ছিল প্রিয়া এমন সময় রেভেন প্রিয়ার সামনে একটা বোতল রাখে। প্রিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকায়। কোল্ড ড্রিংকস।
“ও মা আপনি কিভাবে জানলেন আমার এটা চাই।”
“নাথিং জাস্ট গেস করেছি।”
প্রিয়া মিষ্টি হাসে,
“থ্যাংক’স৷”
রেভেন মৃদু হাসে। প্রিয়া রেভেনের দিকে তাকায় আড় চোখে। হাসিতেও লোকটাকে সুদর্শন লাগে। খুবই সুদর্শন।
“জানেন আমার বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করছে না।”
“কেন?”..
” বাড়িতে গেলে আম্মু শুরু করে দিবে। যদিও আমি দরজা বন্ধ করে দেব। তাও ছাড়বে না।’
“টেল মি ওয়ান থিংক।”
“হোয়াট?”
“Why does auntie hate ma’am this much?”
প্রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“মম মনে করে ভাইয়ার যাওয়ার পেছনে আদ্রিতার হাত ছিল। যদিও এটা সত্যি নয়। আমি তখন ছোট থাকলেও এখন বুঝি ড্যাডই ভাইয়াকে এমন কোন সর্ত দিয়েছিল যার ফলে ভাই দেশ ছেড়েছিল।”
“ত আন্টি সব সময় ম্যামকে টর্চার করে?”
“আপনার কি মনে হচ্ছে আম্মু এটা করেছে?”
“তাহলে কে?”
“আরে না না। আমার আম্মু আদ্রিতাকে হেট করে বাট এতটা জালিমি করবে না। এটা অন্য কেউ করেছে।”
“বসের থাকতে ম্যামের কোন ক্ষতি হয়েছে এটা আমিই মেনে নিতে পারছি না। তবে যাই বলেন মিস প্রেমা। সে যেই হোক আপনি হলেও মনে করেন তার আয়ু কমে আসছে।’
প্রেমা বড় বড় চোখ করে তাকায়।
” আ আয়ু কমে আসছে মানে? মেরে ফেলবে নাকি ভাইয়া?”
রেভেন বুঝতে পারে এখন সে কি বলে ফেলেছে। রেভেন মৃদু হেসে বলে,
“জাস্ট কিডিং। বলছিলাম এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেছে?”
“হুম একবার আদ্রিতাকে ঠান্ডার ভেতর সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছিল ঐশী। তখন আদ্রিতার ক্লাস ৯ এর ফাইনাল পরিক্ষা ছিল। তারপর প্রায় ৫ দিন জ্বর ছিল ওর। শুধু আমি বাদে কেউ ওর কাছে যেত না। এভাবেই আদ্রিতার ৫ টা বছর কেটেছে।”
রেভেন কথা গুলো শুনে মনে মনে বলে,
“বস জানতে পারলে ঐশীর শরীরের চামড়া ছিলে ফেলবে।”
প্রিয়া, রেভেনকে চুপ দেখে বলে,
“কি হলো? কথা বলছেন না যে।”
“আপনার মেনশন চলে এসেছে।”
প্রিয়া সোজা তাকায়।
“ও সরি। থ্যাংস মি . রেভেন।’
” মোস্ট ওয়েলকাম মিস প্রিয়া।”
প্রিয়া মৃদু হেসে বেরিয়ে যায়। রেভেনকে হাত উঠিয়ে টাটা দিয়ে ভেতরে চলে আসে। রেভেনও টাটা দিয়ে গাড়ি ঘোরায়।
প্রিয়া বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে লিভিং রুমে মিস্টার এবং মিসেস মির্জা এসেছে।
আদ্রিতার মুড নষ্ট হয়ে যায়। সে দিনইত এদের তাড়িয়েছে আদ্রিস। তাহলে এরা আবার কিভাবে।
মিসেস খান, প্রিয়াকে দেখে এগিয়ে আসে
“এসো প্রিয়া আঙ্কেল আন্টিকে সালাম দেও।”
“আসসালামু আলাইকুম।’
” ওয়ালাইকুম সালাম প্রিয়া। এদিকে এসো মা আমাদের পাশে বসো। সে দিন আদ্রিসের উপর বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। পরে তোমার বাবা বোঝাল। এসো মা পাশে এসে বসো।”
প্রিয়া মায়ের দিকে তাকায়। মিসেস খান ইসারা করে বসতে বলে।
প্রিয়া বিরক্ত হয়ে মিসেস মির্জার পাশে বসে।
“আমার ছেলেও আসছে। তোমরা একটু ঘুরে এসো। দেখা যাবে যে এতে তোমাদের বিয়ের আগের বন্ডিং ভালো হবে ‘
বিয়ের আগের কথাটা শুনে প্রিয়া অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকায়। মিসেস খান হাসছেন।
প্রিয়া লোকের সামনে মা বাবার অপমান করতে চায়না। তাই সে উঠে দাঁড়ায় এবং নিজের রুমে চলে যায়। মিসেস মির্জা হেসে বলেন,
” লজ্জা পেয়েছে। আজ কালকার মেয়েরা না। ভীষণ লজ্জা পায়। “
“হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন।”
প্রিয়া শব্দ করে দরজা বন্ধ করে দেয়।।তার বিরক্ত লাগছে। ওই ছেলেটার সাথে সে কোন মতেই বাহিরে যেতে চায়না।
কিন্তু কি করবে সে।
প্রিয়া বিছনায় বসে। রেভেনকে সে চেনেনা। কিন্তু তার সাথে কাটানো সময় গুলো তার বার বার মনে পড়ছে।
প্রিয়া মাথার চুল টেনে ধরে।
“আআহ। এরা কি মা বাবা। এর থেকে সৎ মা বাবা ভালো হয়৷”
বিকালের প্রহর শুরু হয়েছে।
সূর্যের তেজ নেই। শীত বাড়ছে ক্রমশ। আদ্রিস তখনো সেভাবেই বসে আছে।
আদ্রিতা হটাৎ করেই নড়াচড়া করে ওঠে। আদ্রিস সেটা দেখে নড়েচড়ে বসে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা ধিরে চোখ খুলে তাকায়।
“আদ্রিতা।”
আদ্রিতা চোখ খুলে সামনে আদ্রিসকে দেখে হেঁসে দেয়। আদ্রিস সেই হাসির দিকে তাকিয়ে আছে।
আদ্রিতার মাথায় হাত রাখে,
“নিঃশ্বাস নিতে আর কষ্ট হচ্ছে কি? কোথাও জ্বালা পোড়া করছে? ডক্টর ডাকব?”
আদ্রিতা বাম হাতে অক্সিজেন মাক্স টা খুলে ফেলে।
“কি হলো খুললি কেন? কষ্ট হচ্ছে না?”
“না। ঠিক আছি। “
“বসবি?’
” হুম৷”
আদ্রিস, আদ্রিতাকে ধরে বসিয়ে দেয়।
“আপনি কখন থেকে এখানে?”
“কখন থেকে থাকার কথা?”
“জানি না৷”
আদ্রিস দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
“আমি ছাড়া তোর এত নিকটে কাউকে এলাউত করব না। তাই আমিই এখানে।”
আদ্রিতা হেসে দেয়। গত ৫ বছরে প্রতিবার অসুস্থতায় সে যাকে খুঁজত সেই মানুষটার নাম আদ্রিস। আদ্রিসের শূণ্যতা তাকে ভেতর থেকে খালি বানিয়ে দিয়েছে।
“কোথাও জ্বালা পোড়া করছে?”
“না।”
“ওকে। তোকে খাবার খেতে হবে।”
আদ্রিতা মাথা নাড়ায়।
“উহু। খেতে ইচ্ছে করছে না।”
“না করলেও খেতে হবে। “
আদ্রিতা, আদ্রিসের চোখে মুখের দিকে তাকায়।
আদ্রিসের চোখে ক্লান্তি স্পষ্ট।
“আপনি খুব ক্লান্ত? “
“কে বলেছে?”
“আমি।’
“ভুল ভাল ছাড়া সঠিক বলতে পারিস তুই?’
আদ্রিতা ভেংচি কাটে,
আদ্রিস, হুট করেই আদ্রিতার চোয়াল ধরে বসে। শক্ত করে না আলতো করেই।
আদ্রিতা ফিরে তাকায় আদ্রিসের চোখে।
” ভেংচি কাটবি না। তোর ঠোঁট কামড়ে কেটে দেব এরপর ভেংচি কাটলে।”
আদ্রিতা নিজের হাত দিয়ে ঠোঁট ঢেকে ফেলে।
আদ্রিস মাথা নুইয়ে মৃদু হাসে।
“কলড মি জেলাস বাট, তোর ঠোঁটে লেপ্টে থাকা লিপস্টিক টুকুনকেও আমি ঘৃণা করি। ওটা আমার থেকেও তোর বেশি কাছে থাকে। “
আদ্রিতা তাকিয়ে থাকে অবাক নয়নে।
আদ্রিস খাবার বেড়ে আদ্রিতার সামনে ধরে।
“খাইয়ে দিন।”
“কেন?”
“দিন না। “
আদ্রিস, আদ্রিতাকে খাইয়ে দেয়। আদ্রিতার জোড়াজুড়িতে নিজেও খেয়ে নেয়।
“আমরা বাড়িতে যাব না? “
“না।”
“হসপিটাল ভালো লাগে না।”
“হসপিটালে কেউ ভালো লাগার জন্য থাকেনা। ভালো লাগার জন্য অন্য বহুত জায়গা আছে।”
“এহ। “
আদ্রিস, আদ্রিতার দিকে তাকায়। আদ্রিসের চোখ দেখে আদ্রিতা চুপ হয়ে যায়।
আদ্রিস এতক্ষণ যে বসে ছিল বসেই ছিল না সে ওয়াসরুমে গেছে না একটা সেকেন্ড নড়েছে। না পানি খেয়েছে।
আদ্রিতাকে বিছনায় শুইয়ে দিয়ে সে ওয়াসরুমে চলে যায়। হসপিটালের কেবিনে আপাততঃ তারা দু’জন। এটা প্রাইভেট কেবিন।
ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে আদ্রিস দেখে তার ফোনে রেভেন ভিডিও পাঠিয়েছে। আদ্রিস সেটা সেভ করে নেয়। তবে এখন দেখেনা। এখন সে টায়ার্ড তার ঘুম প্রয়োজন।
আদ্রিস সোফায় গিয়ে বসে। আদ্রিতা আদ্রিসের সব কাজ কর্ম পর্যবেক্ষণ করছে।
আদ্রিসকে সোফায় বসতে দেখে আদ্রিতা উঠে বসে।
সে যে বেডে শুয়ে আছে এটা অনেকটা বড়। প্রাইভেট কেবিনের বেড গুলো বেশ বড়ই হয়।
আদ্রিতা নিজেকে এক কোণায় নিয়ে বলে,
“এদিয়ে আসুন। “
আদ্রিতা মাথা উচু করে তাকায়
“কোথায়? “
আদ্রিতা ইসারা করে। নিজের পাশে। আদ্রিস মৃদু হাসে।
সে কেন বাহানা করেনা। সোজা উঠে আদ্রিতার পাশে চলে আসে।
বেড টা বড় হলেও এতটা বড় নয় যে দু’জনের স্পর্শ হওয়া সম্ভব নয়। আদ্রিতা সরে যেতে নিলে আদ্রিস ওর কোমড় ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে।
আদ্রিতা তাকায় আদ্রিসের দিকে,..
“ডেকেছিস যখন ঠিকঠাক ভাবে দায়িত্ব পালন কর। এমনিতেও আমি ক্লান্ত আমায় ঘুমোতে দে।”
কথাটা বলে আদ্রিস, আদ্রিতাকে নিয়ে শুয়ে পড়ে।
আদ্রিতা কেন বাঁধা দেয়না।
আদ্রিসকে কম্বল জড়িয়ে দেয়। আদ্রিতা মনে মনে ভাবে।
“সময়টা থেমে গেলে কি বড্ড ক্ষতি হয়ে যাবে। থেমে যাকনা সময়টা৷”
আদ্রিস হুট করেই আদ্রিতার ঘাড়ে চুমু খায়। আদ্রিতা কেঁপে ওঠে। এরপর আর আদ্রিসের হালচাল বোঝা গেলনা। আদ্রিতাও চুপ হয়ে রইল। রুমের ভেতর তখন নিরবতা। এক জোড়া আগুন পাখি নিজেদের বাহুডোরে ভালোবাসা বিনিময় করছে নীরবে।
ভালোবাসা হয় আত্মার, মনের, দেহেরত শুধু চাহিদা মাত্র।
খান মেনশন,
“মম আমি যাবনা কেথাও। তুমি বুঝতে পারাছো না। ছেলেটাকে আমার পছন্দ না।”
“তোমাকে যেতে হবে প্রিয়া। আমি কথা দিয়েছি ওদের।”
“বাহ আমার কাছে জিজ্ঞেস না করেই আমার বিষয়ে কথা দেওয়ার সাহস কোথায় পাও তোমরা?”
“প্রিয়া বেশি বকছো গায়ে হাত তুলতে বাধ্য করোনা।”
ওদের ঝামেলার মাঝে ঐশী এসে বলে,
“প্রিয়া আপু তুমি এমন।করছো কেন? মামনি, আঙ্কেল তোমার ভালোই চায়।”
প্রিয়ার একে ছিল আদ্রিতার রাগ তার উপর এই রাগ মিলে ওর মুখশ্রী রক্তিম বর্ণ ধারণ করে।
হাতের কাছের ফুলদানি তুলে ঐশীর দিকে ছুঁড়ে মারে। জাস্ট কিছু ইঞ্চির জন্য সেটা ঐশীর লাগেনি। ঐশী ঘটনাচক্রে ভয়ে ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে নিজের জায়গায়।
“চুপচাপ থাক। তুই ছোট ছোটর মত থাক। আমাকে শেখাতে হবেনা।
আর মম তুমি। ওই আবালের সাথে আমি কোথাও যাব না। আমি বেরিয়ে যাচ্ছি বাড়ি থেকে। ওই আবাল আসলে বলবা আমি বাড়িতে নেই।”
মাধবী বেগম জানেন প্রিয়াকে এই মুহুর্তে কিছু বললে প্রিয়া আরও রেগে যাবে।
“প্রিয়া কোথায় যাচ্ছো? কি বলব?”
“বলো প্রিয়া বয়ফ্রেন্ড এর সাথে গিয়েছে।”
প্রিয়া বেরিয়ে যায়।
প্রিয়া যেতে ঐশী বলে,
“দেখেছো মামনি প্রিয়া আপু কেমন হয়ে গেছে।”
“তোমার লাগেনিত?’
” না। কিন্তু ভয় করছে। “
ঐশীর ঢং করে বলে। মিসেস খান ঐশীকে জড়িয়ে ধরে।
“ইট’স ওকে।”
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মন্সটার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক