জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২৬
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
আদ্রিসের মুখোমুখি বসে আছে আসরাফ খান। আদ্রিসের চোখে মুখে ক্রোধের ছায়া। সে বাবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,
“ড্যাড, আপনি স্টিল এটা ভাবেন আদ্রিস খান ভীষণ দুর্বল রাইট?”
আসরাফ খান তাচ্ছিল্য হাসলেন,
“তুমি দুর্বল নও এটাই আমার সব থেকে বড় সমস্যা আদ্রিস।”
“ড্যাড দিস ইজ লাস্ট টাইম আই এম আস্কিং ইউ। হোয়ার ইজ সি?”
আসরাফ খান বিরক্ত ভঙ্গিতে বললেন,
“আই ডোন্ট নো আদ্রিস। বার বার কেন আমাকেই জিজ্ঞেস করছো তুমি? সমস্যা কি তোমার? আমি সকাল থেকে কাজের চাপে আছি। বাড়িতে পর্যন্ত ফিরিনি।”
“ওকে এক এক বার পেতে দেও ওর পা দুটো ভাঙবই তার সাথে এর পেছনো যত গুলো মানুষ জড়িত সবার কবর খুঁড়ব।”
“যা করবা করো। আমি সত্যি এবার কিছুই করিনি। আদ্রিতা নিজে না যেতে চাইলে ওকে কেউই পাঠাতে পারে না কোথাও।”
“এই জন্যই ওর পা দু’টো আগে ভাঙব৷”
“এজ ইয়োর উইস। তোমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি পা ভাঙবে না গোটা মেয়েটাকেই ভেঙে রাখবে সেটা তোমার ব্যক্তিগত বিষয়।”
আদ্রিস ঘাড় কাত করে হাসে,
“ফাস্ট টাইম তোমার কোন কথা শুনতে ভালো লাগল ড্যাড। ঠিকই বলেছো। আমার সম্পত্তি । ইফ সি ইজ নট মাইন আই উইল লাভ টু বার্ন হার এলাইভ।”
আসরাফ খানের চোখ জোড়া অবাকের চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে আদ্রিসের শেষ কথাটা শুনে।
আদ্রিস বসা থেকে উঠে বেরিয়ে যায়।
রেভেন আদ্রিসের জন্য ওভার কোট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বাহিরে।
আদ্রিসকে বের হতে দেখে রেভেন এগিয়ে যায়,
“ব বস ঠান্ডা অনেক বাহিরে।”
আদ্রিস কোট টা নিয়ে নেয়।
আদ্রিসের ফোন বের করে কল করে সায়ের কে,
“হ্যালো আদ্রিস।”
“ভাইয়া, ১ ঘন্টার ভেতর প্রশাশন হাতে চাই।”
“মানে? কিভাবে কি করব আমি?’
” জানিনা কিভাবে কি করবে। আমি জাস্ট ১ ঘন্টা সময় দিচ্ছি আমাকে জাস্ট লিংক করে দেও। আমি কমান্ড দেব সবার কাছে পৌঁছে যাওয়া চাই।”
“ভাই তুই বাংলাদেশে আছিস ওটা রাশিয়া নয়৷”
আদ্রিস গাড়ির দরজায় হাত দিয়ে থেমে যায়।
“দ্যাট’স হোয়াট আই এম ট্রাইং টু সে, রাশিয়ার ক্রাসনোইয়ার্স্ক ক্রাই এর থেকে ১৬ গুণ ছোট দেশটায় কন্ট্রোল করতে পারবে না।”
“তুই যা বলিস সব সময় এত দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয়না৷”
“আমার আদ্রিতার প্রশ্ন ভাইয়া। জাস্ট এই একটা কাজ করো। এরপর ওর পায়ে আমি সেকল দেব।”
কথাটা বলে আদ্রিস কল কেটে দেয়। ওপাশ থেকে সায়ের কিছু বলার সুযোগ পায়না।
সায়ের কল কেটে মাথায় হাত রাখে,
“আদ্রিস তুই আমাকে কবে মেরেই ফেলবি বেয়াদব।”
সায়ের, আদ্রিসকে গালাগালি করলেও সে জানে এই কাজটা না করলে আদ্রিস লঙ্কা বানিয়ে দেবে নিজের বাড়ি শহ সব জায়গাকে।
সে ফোন করে কাউকে,
“হ্যালে। মি. জাভিয়ান৷”
দুপুরের তীব্র রোদ তাপ মাথায় নিয়ে আদ্রিতা স্কুলের পেছনে এসেছিল।
এরপর গাড়িটা দেখতে পায়। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পর তার কিছুই মনে নেই।
চোখ খুলতে নিজেকে অদ্ভুত একটা জায়গা আবিষ্কার করে আদ্রিতা৷
চারিদিকে খড়কুটো ছড়ানো। কোন কিছুর গোদাম লাগছে। আদ্রিস উঠে বসে। মাথায় হাত রাখে। কি হচ্ছে তার সাথে কিছুই বুঝতে পারছে না সে।
আদ্রিতা এদিক ওদিক তাকায়।
না জায়গাটা সে চেনে না।
সামনে ভাঙাচোরা একটা জানালা। বাহিরের ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই ভাঙার ফাঁকে প্রবেশ করে রুমে।
মৃদু আলোতে যতদুর দেখা যাচ্ছে।
আদ্রিতা বের হবার সময় কোন শীতের জামা পরে আসেনি। তার এখন বড্ড শীত করছে।
আদ্রিতা উঠে দাঁড়ায়।
আশেপাশে সব কিছুই নীরব তবে পাশের দরজার ওপাশ থেকে কারোর কথা শোনা যাচ্ছে।
আদ্রিতা কাঁপা পায়ে হেঁটে যায় সে দিকে।
দরজার ওপাশে কিছু লোক কথা বলছে,
“কিরে ভেতরের মোইয়াডারে কি করতে বলছে ওই ম্যাডাম?”
“মেয়েটাকে কাল ট্রাকের মাইয়াদের লগে দুবাই পাঠায় দেওনের কথা বলছে।”
“তার মানে এইডাও পতিতা হইব?”
“হ যেটা কইছি এইটাই।”
“তয়লে হেরে আইজ রাইতে ভোগ করলে কেমন হয়?”
আদ্রিতা কথাটা শোনা মাত্র মুখ চেপে ধরে নিজের।
“আমিও হেডা ভাবছি ওই ম্যাডামে কইছে যা খুশি তাই করতে। হে মেলা সুন্দরী আছে। কি কও সাব?”
“হ প্রথম আমি যাইব৷”
“হ বস আপনি প্রথম যাইবেন এইডাই হইব৷”
“চল তাইলে? “
“হ শেষ প্যাকটা লিয়ে লই। রাইত পইরা আছে তাইনা।”
আদ্রিতা কথা গুলো শুনে ভয়ে পিছিয়ে যেতে লাগে।
এদিক ওদিক কিছুই ভালো দেখা যাচ্ছে না। ভাঙা জানালটার কাছে গিয়ে পালনা দু’টো খুলে ফেলে। কাঠের পালনায় ঘুন ধরেছে। ফলে আলতো ছোঁয়ায় সেটা খুলে আসে।
জানালাটা ফাঁকা কোন লোহা দেওয়া নেই। জানালা খুলতে বেশ খানিকটা আলো প্রবেশ করে রুমটায়। আদ্রিতা এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে ভালো করে। অনেক বছরের পুরাতন একটা পরিত্যক্ত বাড়ি। খড়ের গাদা ওপাশে।
আদ্রিতার হাইট ছোট। সে জানালা পর্যন্ত পৌছাতে পারবে না।
আদ্রিতা পাশের খড়ের গাদা থেকে খড় টেনে নিয়ে আসতে লাগে।
এটা করতে গিয়ে ঘর্ষণের শব্দ বাহির পর্যন্ত পৌঁছে যায়। লোক গুলো শব্দ শুনতে পেয়ে চিৎকার করে ওঠে,
“কে কে ওখানে?”
আদ্রিতা মুখে হাত চেপে খড়ের গাদার পেছনে বসে পড়ে। ভয়ে তার ছোট্ট শরীর থরথর করে কাঁপছে।
শহরের হাইওয়ে দিয়ে পরপর ৬-৭ টা গাড়ি স্প্রিডে ছুটে চলেছে। আশেপাশের প্রতিটা গাড়িকে পেছনে ফেলে এত দ্রুত ছুটে চলেছে যে আশেপাশের গাড়ি গুলো হটাৎ এমন স্প্রিড দেখে ভয় পেয়ে যাচ্ছে।
আদ্রিস আছে সব থেকে প্রথম গাড়িটায়৷
আদ্রিস ফোনের সাথে ব্লুটুথ কানেক্ট করে এয়ারপড কানে দেয়,
“এটেনশন এভরিঅন, শহর থেকে বের হওয়া প্রতিটা গাড়ি সার্চ করে। প্রতিটা মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসবে। আজ যদি আদ্রিতা আমার বুকে ফিরে না আসে তাহলে আমি আগুন লাগিয়ে দেব। দিস নট মাই রিকোয়েস্ট দিস ইজ মাই কমান্ড।”
আদ্রিসের ভয়ঙ্কর হুঙ্কার শুনে সবাই এলার্ট হয়ে যায়। সায়ের ইতিমধ্যে সব রকম ব্যাবস্থা করে ফেলেছে। প্রশাসন আপাততঃ আদ্রিসের কনট্রোলে।
আদ্রিসের পেছনের গাড়িতেই রেভেন বসে।
রেভেন গাড়ির স্প্রিড ম্যাচ করতে পারছে না আদ্রিসের সাথে।
রেভেন আদ্রিসের কথা গুলো শুনে ফেন কেটে দেয়৷ এমন সময় ডিটেকটিভের থেকে রেভেনের কাছে কিছু ইনফরমেশন আসে।
রেভেন ম্যাসেজ ওপেন করে।
তার কাছে আদ্রিতার ডিটেইলস এসেছে।
রেভেন দ্রুত নিজের গাড়িটা পাশে থামিয়ে দেয়।
সামনের দিকে তাকাতে থেকে পেছনের সব গাড়ি গুলো তাকে ওভারটেক করেছে।
রেভেন দ্রুত, আদ্রিসকে কল করে,
“হ্যালো।”
“বস ম্যামকে পেয়ে গেছি।”
আদ্রিসও ব্রেক করে।
আদ্রিসের গাড়িটা থেমে গেলে পরপর সব গুলো গাড়ি থেমে যায়।
“আমি আপনাকে ম্যাসেজ পাঠাচ্ছি। “
আদ্রিতাকে লাস্ট টাইম ওদের হাই স্কুলে দেখা যায়। এরপর আদ্রিতাকে একটা গাড়িতে উঠতে দেখা যায়। সেই গাড়িটার নাম্বার প্লেট দেখে তার বর্তমান লোকেশন বের করেছে পুলিশ।
‘আওরিয়ার চর গ্রাম।’ ইন্ডিয়ান বার্ডার থেকে কিছুটা দুরে এই গ্রামটা।
আদ্রিস, রেভেন কে কল করে,
“কত সময় লাগবে যেতে?”
“বস ২ ঘন্টা।”
“ইন্ডিয়ান বার্ডারেও চেকপোস্ট বসা।”
“ওকে বস।”
আদ্রিতা খড়ের পালার পেছনে লুকিয়ে থাকে। ওখানে ছেলে ছিল ৪ জন। তাদের ভেতর ২ জন ভেতরে এসে আদ্রিতাকে না দেখে পাগলের মত খুঁজতে থাকে। আদ্রিতা নিজেকে পুরোটা খড়ের পালার ভেতর ঢুকিয়ে নিয়েছে।
“ভাই দেখো জানালা ভাঙা।”
“মাইয়া পলায়ছে?”
“হ।”
“চল দ্রুত কতক্ষণ আগে পলায়ছে কে জানি।”
“হ ভাই ওই ম্যাডাম জানলে আমাগো খবর আছে।”
ছেলে গুলো সব বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা বের হয়।
তার এজমা আছে। নিঃশ্বাস আঁটকে আসছে।
আদ্রিতা বুকে হাত দিয়ে বসে পড়ে মাটিতে।
কিছুক্ষণ বসে থেকে ভাবে। এখন বসার সময় নয়। ওরা ফিরে আসবে যে কোন সময়ে।
আদ্রিতা বেরিয়ে পড়ে।
গ্রামটা অতিব সাদামাটা। সব মাটির ঘর। তাও মনে হচ্ছে কেউ থাকেনা। অন্ধকারে ভালো দেখাও যাচ্ছে না।
আদ্রিতা এদিক ওদিক না তাকিয়ে দৌড়াচ্ছে প্রাণপণে।
যদিও অন্ধকার। তার উপর পায়ে নেই জুতা শরীরে নেই শীতের কাপড়। কনকনে শীতে পা দু’টো যেন জমে যাচ্ছি। ইটের কুটি পায়ে লেগে কেটেছে দু তিন জায়গা।
তবুও আদ্রিতা থামছে না। সম্মান না থাকলে এ জীবনের কি মূল্য।
আদ্রিতা বহু দৌড়ে একটা বাড়ি দেখতে পায়।
সে দিকে এগিয়ে যেতে নিলে দেখে একটা লোক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়াছে।
কিছুক্ষণ পর একটা মহিলা বেরিয়ে এলো। হূম ছাড়তে ছাড়তে,
“কিছে ভাই?”
“এই দিকে কোন মাইয়া আইছে?”
“কই নাত। আমিত কেবল ঘুমাইলাম।”
“ও আসলে আমাকে কইওত।”
“আবার ধরা মাল পলায়ছে নাকি?”
“হ ভাবি। পাইলে কইও। ভাই আমাগো মাইরা ফেলবে ।”
“আইচ্ছা কইবনে।”
ছেলেটা বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা এসব শুনে আড়ালে লুকায়।
এ বাড়িতেও বিরাট এক খড়ের গাদা আছে। আদ্রিতা তার পেছনে গিয়ে লুকায়।
লোকটা হেঁটে এসে কারোর পদধ্বনি শুনতে পায়।
এদিক ওদিক তাকায় এবং হাতের টর্চ লাইটা জ্বালে। কিন্তু আশেপাশে কাউকে না দেখে সামনের দিকে অগ্রসর হয়৷
আদ্রিতা হাফ ছাড়ে।
কি করলো সে। কি হলো এগুলো কিছুই বুঝতে পারছে না সে।
প্রচন্ড ঠান্ডা লাগছে তার৷
কি করবে এখন সে।
আদ্রিতা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।
হটাৎ করেই চুলে কারোর শক্ত মুঠি অনুভাব করে ফিরে তাকায় আদ্রিতা।
“মা** এইখানে লুকাছোস তুই? তোর লাইগা আমার সুয়ামি কি না কষ্ট করতেছে।”
আদ্রিতা কান্না করে দেয়। মহিলার হাতটা ধরে বসে।
“আ আমাকে ছাড়ুন প্লিজ আমার লাগছে। বিশ্বাস করুন আমি তেমন মেয়ে নই। আমাকে সাহায্য করুন।”
“আরে চু**** তোরে আমি সাহায্য করব? কি ভাবোস নিজেকে? নায়িকা অপু বিশ্বাস নাকি? এরাকম কত জনে কয়। আমার সুয়ামি তোগো টেকা দিয়া কিনা আনে। সালির ঘরের সালি।”
আদ্রিতা মহিলার পায়ে পড়ে যায়। বার বার ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু মহিলা তা না করে আদ্রিতাকে টানতে টানতে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়।
“এই সালি চুপ। কথা কইস না। গেরামের মানুষ জাগাবি নাকি মা** মাইয়াগো কথা কইতে নাই এত।”
আদ্রিতা, মহিলার দু পায়ে হাত রাখে,
“আমি এমন মেয়ে নই আপু। প্লিজ এমন করবেন না।”
“এই সালি থাম। বেইন্ধা রাখব নাকি হ্যাঁ! “
মহিলা এসব বলছিলই এমন সময় বাহিরে একটা গাড়ি এসে থামে।
“ওইত সুয়ামি আইছে। এইবার হে তোরে ঠিক করব।”
মহিলা বলতে বলতে ৪ জন লোক ভেতরে প্রবেশ করে,
“এই মাইয়া কি ঘোলডা খাওয়ালো মাইরি।”
“হ ভাই। বাধুম হেরে?”
“নয়। হেরে আগে বিলাস করি।”
লোকটার ঠোটে বিশ্রী হাসি। আদ্রিতা ভয়ে মহিলার পা দু’টো ধরে বার বার বলছে ছেড়ে দিয়ে। মহিলা আদ্রিতাকে লাথি মেরে বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা চারজনকে এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে পিছিয়ে যেতে লাগে। ওদের ভেতরে একজন আদ্রিতার পরনের ওড়নায় হাত দিতেই,
“ব্যাং ব্যাং ব্যাং।”
চলবে?
পরবর্তী পর্ব দুর্বল হৃদয়ের জন্য নয়।
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৪