জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২৩
আদ্রিতা হাঁটছে। তার পা দু’টো অসাভাবিক ভাবে কাঁপছে। মাথায় আঘাতটা গভীর। সেলাই লাগত বোধহয়।
জীবনের প্রতিটা সেকেন্ড কেমন বিষন্নতায় কাটে। আঘাত পেতে পেতে অন্তত টা এখন রক্তখরণ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আর তেমন আঘাত লাগেনা।
নিজেকে এই সবে অভস্ত্য করে ফেলেছে।
রেভেন দাড়িয়ে আছে আদ্রিসের রুমে।
আদ্রিসকে চেঞ্জ করতে সাহায্য করছে।
আদ্রিস সার্টটা পরে বিছনায় বসে পড়ে।
সিগারেট জ্বেলে জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে।
একটা চাঁদ উঠেছে। অর্ধেক চাঁদ।
আদ্রিস সে দিকেই তাকিয়ে আছে।
“স্যার এই অবস্থায় স্মোক না করলেই হতো।”
আদ্রিস কিছু বলবে এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে। আদ্রিস সিগারেট টা ডাস্ট বক্সে ফেলে দেয়,
“আয়।”
দরজা ঠেলে ঐশী ভেতরে আসে। রেভেন ঐশীকে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
আদ্রিস, ফিরে চায়৷
ঐশীকে দেখে মেজাজ টা বিগড়ে যায়। চোখ দু’টো রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে মুহুর্তেই।
রেভেন কিছু খারাপ হওয়ার আভাস পাচ্ছে,
“তুমি এখানে কি করছো?”
“এটা কেমন কথা? আমি অবশ্যই আদ্রিসকে দেখতে এসেছি। আদ্রিসের অবস্থা ভালো নয় যে।”
ঐশী এগিয়ে আসবে এমন সময় আদ্রিস বলে ওঠে,
“তুমি কি আদ্রিতা?”
ঐশী ভ্রু কুঁচকে নেয়,
“এমন কেন বলছো আমি ঐশী৷”
“আমি আদ্রিতাকে আসতে বলেছি। তুমি বেরিয়ে যাও। আমি বিরক্ত হচ্ছি।”
“কিন্তু আদ্রিস।”
আদ্রিসের হাতের কাছে ছিল একটা ফুলদানি। আদ্রিস ফুলদানিটা হাতে উঠিয়ে ঐশীর দিকে ছুঁড়ে মারে।
রেভেন থ মেরে যায়। ঐশীও। সে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। একটু হলেই এসে ওর মাথায় লাগত। প্রচন্ড রেগে যায় ঐশী। মনে মনে দাঁত পিসতে পিসতে বলে,
“ভাই বোনের সমস্যা টা কি।”
রেভেন তড়িঘড়ি করে বলে,
“প্লিজ আপনি বাহিরে জান আপু। স্যার রেগে যাচ্ছে।”
ঐশী আর কিছু বলেনা বেরিয়ে যায়।
ঐশী বেরিয়ে গিয়ে দেখে অপর দিক থেকে আদ্রিতা হেঁটে আসছে।
ঐশীর রাগ হতে লাগে। কি করলে এই মেয়েটাকে সে সব জায়গা থেকে সরিয়ে দিতে পারবে। ঐশী বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে।
“আসব৷”
আদ্রিসের হৃদয়টা কোমল হয়ে আসে।
রেভেন, আদ্রিতাকে দেখে বলে,
“আমি ওগুলো পরিষ্কার করে দিয়ে চলে যাচ্ছি।”
আদ্রিতা ভেতরে প্রবেশ করে আদ্রিসের দিকে চায়। আদ্রিসের ব্যান্ডেজ দেখে আদ্রিতা কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়।
“কি হয়েছে?”
“এদিয়ে আয়৷”
আদ্রিতা, আদ্রিসের দিকে তাকায়। আদ্রিস, আড় চোখে তাকায়৷
“ফাস্ট৷ “
আদ্রিতা এগিয়ে যায় ধির গতিতে। আদ্রিসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়,
আদ্রিস, আদ্রিতাকে ধরে নিজের কোলে বসায়।
আদ্রিতা মাথা নামিয়ে নেয়।
“মাথায় কি হয়েছে?”
আদ্রিতার চোখ ছলছল হয়ে ওঠে। আদ্রিস এমন ব্যান্ডেজ দেখে বুঝেই গিয়েছে এটা হয়ত প্রিয়া করেছে। এলোমেলো হাতের ব্যান্ডেজ। রক্ত লেগে লাগে পাশ দিয়ে।
আদ্রিস নিরবে তাকিয়ে থাকে আদ্রিতার দিকে।
তার চোখের সামনে সব ভেসে আসতে লাগে।
আদ্রিতাকে একা পাঠিয়ে সে ভুল করেছে। আদ্রিতার সাথে কি ঘটেছে এটা কল্পনা করেই আদ্রিসের মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে টেনে বিছনায় শুয়ে পড়ে।
“আপনি ডেকেছিলেন কেন?”
“এই মুহুর্তে কোন কথা না বলেই খুশি হব আমি।”
আদ্রিস, আদ্রিতার শরীরে কম্ফোর্ট জড়িয়ে দেয়। আদ্রিতা, আদ্রিসের বুকে মাথা রেখে শান্তি পেল। তার মুহুর্তের ভেতর চোখের সামনে সব শান্ত হয়ে গেল। দুনিয়ার সব চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু ঘুমিয়ে যেতে মন চাইছে।
“আদ্রিস ভাইয়া।’
” হু।”
“আমি ঘুমিয়ে গেলে আমাকে রেখে চলে যাবে নাত?”
আদ্রিস, যে পাশে অক্ষত সেই পাশেই আদ্রিতাকে রেখে। আদ্রিস, আদ্রিতাকে জড়িয়ে নেয় আরও শক্ত করে,
“কখনো যাবনা। তুই নিশ্চিন্তে ঘুমা।”
আদ্রিতা ঘুমিয়ে যায়।
রেভেন পরিষ্কার করে এগিয়ে আসে আদ্রিসের দিকে,
আদ্রিসের দৃষ্টি তখনো ঘুমন্ত আদ্রিতার দিকে স্থির। সে আদ্রিতার মাথার ক্ষতটার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না। ঘাড়টা ঘুরিয়ে সোজা করল। সিলিং এর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“কি অদ্ভুত রেভেন। যার জন্য রাশিয়ার বিখ্যাত শহরে ৪০ একড় জমিতে প্রাইভেট ভিলা তৈরি আছে। সে কিনা সামান্য খাবার আর পোশাকের জন্য কথা শুনতে হয়। বার বার আঘাত পেয়ে ক্ষতবিক্ষত হতে হয়।
আমার ওদের ঠিক কি কি শাস্তি দেওয়া উচিত ? ঐশীকে কেটে লবন মরিচ মাখি?”
শেষ বাক্যটা এতটা ভয়ানক ছিল যে রেভেন নিজেও কেঁপে ওঠে।
“বস। এভাবে আর কত দিন?
আপনি কেন সব কিছু সয়ে নিচ্ছেন? এই বাচ্চা মেয়েটার উপর এত অত্যাচার সহ্য হচ্ছে না৷”
আদ্রিস চোখ দু’টো বন্ধ করে নেয়,
“সব কিছু সহজে হয় না রেভেন। সম্পর্ক চাইলেই মুছে ফেলা যায় না। মম ড্যাড আমাকে জন্ম দিয়েছে। শুধুমাত্র ওই জায়গায় আমি বাধাপ্রাপ্ত। আমি সব কিছু করতে পারি কিন্তু এটা অস্বীকার করব কিভাবে? দেই আর মাই প্যারেন্ট’স। “
রেভেন এই কথার উত্তর খুঁজে পায় না। এটাত সত্য।
“বস এবার কি করব?”
“আমার পিস্তলে গুলি লোড দে।”
“কেন?”
“দে।”
“ওকে।”
রেভেন, আদ্রিসের সর্ট গান বের করে গুলি লোড দেয়।
“রেভেন।”
“বস।”
“ও বলেছে আমি যেন ওকে না ছেড়ে যাই। তুই ওর পাশে থাকিস।”
এই প্রথম আদ্রিস কোন কথা বলতে গিয়ে ওর গলা ধরে আসছে। রেভেন সেটা অনুভব করে। ভালোবাসা মানুষকে কতটা অসহায় বানিয়ে ফেলে।
রেভেন মাথা নামিয়ে নেয়।
“জি বস আমি আছি।”
আদ্রিস ধিরে আদ্রিতাকে বালিশে শুইয়ে দেয়। আদ্রিতার কপালে চুমু খায়।
এরপর রেভেনের থেকে সর্ট গানটা নিয়ে নিচে চলে আসে।
লিভিং রুমে সবাই বসে আছে। আসরাফ খানের গম্ভীর মুখশ্রী।
“নেওয়াজ। তুমি মেয়েটাকে আটকাতে পারো কি? আমি সব দিক দিয়েই অক্ষম।”
“আমি কিভাবে আটকাব ভাই? ওকে কি কোথাও পাঠিয়ে দেব?”
আসরাফ খানের চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ঐশী কথাটা শুনে লাফিয়ে ওঠে,
“হ্যা হ্যা ঠিক বলেছেন। ওকে কোথাও পাঠিয়ে দিন।”
ঐশীর কথাটা শেষ হতে না হতেই,
“ব্যাং ব্যাং ব্যাং। “
গুলির শব্দ শুনে উপস্থিত সবাই ভয় পেয়ে যায়।
সবাই কানে হাত দিয়ে নিচে বসে পড়ে।
আদ্রিস নিচে নেমে আসে।
আসরাফ খানের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
“আর ইউ ডাম্প আদ্রিস?”
আদ্রিস, আসরাফ খানের পাশে থাকা ফুলদানিতে গুলি করে, তার সাথে আশেপাশে যত গুলো জিনিস ছিল সব গুলোতে গুলি করে। আসরাফ খান মাটিতে বসে পড়ে কানে হাত দিয়ে। মাধবী বেগম চিৎকার করে ওঠেন,
“আদ্রিস।”
আদ্রিসের মুখশ্রী গম্ভীর। সে হেঁটে এগিয়ে আসে।
“বসে থাকুন ড্যাড। উঠবেন না।”
“আদ্রিস।”
“ড্যাড আপনাকে না মারতে পারি। ঐশীকে মারতে দুই সেকেন্ড ও ভাবব না।”
“আদ্রিসের বাবা উঠো না। প্লিজ।”
মাধবী বেগম, ঐশীকে জড়িয়ে ধরে।
“আপনার বাড়িতে কি ঘটছে সেই জ্ঞান আপনার নেই ড্যাড?”
আদ্রিস এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
“যদি আপনি জানতেন তাহলে এত বড় অন্যায় হতে দিলেন কিভাবে?”
“কিসের অন্যায় হতে দিয়েছি?”
“আপনি খুব ভালো করেই জানেন সব।
আপনার মনে পড়ে সে দিনের কথা?”
“কোন দিনের কথা?”
আদ্রিস তাচ্ছিল্য হাসে,
”ওহ মনে পড়বে কি করে? মনে পড়ার জন্যত মেমোরিটা ভালো হওয়া প্রয়োজন তাইনা?”
আদ্রিস সোফায় গিয়ে বসে,
“আমি আদ্রিস খান ভিক্ষা চেয়েছিলাম। আপনার কাছে আমার কলিজা আমানত রেখে গিয়েছিলাম।”
আদ্রিস বাবার দিকে তাকায়,
”আমার জীবনের প্রথম বিশ্বাসঘাতক আপনি ড্যাড। আমার কথা আপনি রেখেছিলেন? দিয়েছিলেন আমার কলিজা অক্ষত আমাকে?”
“আমি বলেছিলাম শুধুমাত্র ওর কিছু না হলেই আমি দেশ ছাড়ব। আপনি কথাও দিয়েছিলেন আমাকে। তাকে অক্ষত রাখবেন।’
আদ্রিস বাবার চোখে চোখ রাখে,
“আমি কতটা অসহায় ছিলাম মনে পড়ে আপনার? সে দিন এভাবেই হাঁটু গেড়ে বসে আপনার কাছে ভিক্ষা চাইছিলাম আমি। ডু ইউ রিমেম্বার? “
“ত তুমি কি রিভেঞ্জ নিচ্ছো?”
আদ্রিস বাঁকা হাসে,
“ইফ ইউ থিংক দিস ইজ রিভেঞ্জ দেন ইট ইজ ড্যাড।”
“আদ্রিস।”
“ড্যাড, আপনার স্ত্রী আমার কলিজায় আঘাত করেছে। আজ একটা অচেনা মেয়ে আমার বুকে চাকু মেরেছে। বিশ্বাস করেন এর থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে আমার এখন। যখন আমি দেখলাম আমার কলিজার মাথাটা ফাটিয়ে দিয়েছে আপনার স্ত্রী।”
“বিহেব আদ্রিস সি ইজ ইয়োর মম।”
“দ্যাটস হোয়াই এখানে আপনি বসে আছেন। নাহলে মম বসে থাকত।”
“আদ্রিস পাগল হয়ে গিয়েছো।”
“কাইন্ড অফ। ঐশীর হিসাব কাল মেটাব। আমি শুধুমাত্র এই একটা লাস্ট ওয়ার্নিং দিতে এসেছি। এরপর ওর শরীরে একটা আচ পড়লে আমি সব ধ্বংস করে দেব।”
আদ্রিস উঠে চলে গেল।
উপস্থিত সবাই তাকিয়ে রইল। আশেপাশে সব কিছু ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। সব কিছুতে গুলি করেছে আদ্রিস।
চলবে?
( রেসপন্স করো।)
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৯
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক