Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_২২

মেনশনে পৌছানোর পর প্রিয়া এবং আদ্রিতা দু’জন ভেতরে চলে আসে।
মাধবী বেগম লিভিং রুমেই বসে ছিলেন। যেন ওদের অপেক্ষাই করছিলেন।
মাধবী বেগমের মুখশ্রী গম্ভীর। তিনি নিজের সোজা তাকিয়ে আছেন।
প্রিয়া, আদ্রিতার হাত ধরে ভেতরে প্রবেশ করে মাধবী বেগমকে দেখে একটু ঘাবড়ে যায়। নিজেকে নিয়ে তার চিন্তা নেই চিন্তা হচ্ছে আদ্রিতাকে নিয়ে।
মাধবী বেগম সোজা তাকিয়ে থেকেই বললেন,

“চলে এসেছো তোমরা? ‘

” হ্যা আম্মু।”

“যাও প্রিয়া রুমে যাও। আমার আদ্রিতার সাথে কিছু কথা আছে।”

“আম্মু।”

মাধবী বেগম, প্রিয়ার দিকে তাকায়। প্রিয়া মায়ের চোখ দেখে চুপ হয়ে যায়।

“যাও প্রিয়া রুমে যাও।”

প্রিয়া , আদ্রিতার দিকে তাকায়। আদ্রিতা এগিয়ে যায় মাধবী বেগমের দিকে।
লিভিং রুমের বাতাসও তখন থমথমে।
মাধবী বেগম উঠে দাঁড়ায়।

“চল রুমে চল।”

মাধবী বেগম আগে আগে এলেন এবং আদ্রিতা পিছু পিছু। মাধবী বেগম আদ্রিতার রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
আদ্রিতা একটা বাচ্চার মত পেছনে দাঁড়িয়ে আছে কাচুমাচু হয়ে। মাধবী বেগম ফিরে তাকালেন আদ্রিতার দিকে,

“আদ্রিতা, আমার তোর সাথে ঠিক কি করা উচিত? “

আদ্রিতা কথাটা শুনে চোখ তুলে তাকায়।

“কি রে সভাব এমন যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানিস না। আবার তলে তলে গোটা মাছটাই গিলে খাস। তোর মত এমন চরিত্রের মেয়ে খুবই কম পাওয়া যায়। নিষ্পাপ সেজে বড়লোক ছেলেদের কিভাবে আঁচলে বাঁধতে হয় খুব ভালোই জানিস। টাকা ছাড়া চিনিস তুই আদও কিছু? তোকে নিয়ে ঠিক কি করা উচিত আমাকে সেটা বল।”

মাধবী বেগমের এত গুলো কথা শুনে আদ্রিতা বাকরুদ্ধ। সে ছলছল নয়নে তাকিয়ে আছে।

“আমি কি করেছি?”

“তুই এত ন্যাকামি করিস কিভাবে আদ্রিতা? আমিত অবাক হয়ে যাচ্ছি।”

আদ্রিতা মাথা নুইয়ে নেয়। সে আর নিতে পারছে না এগুলো। তার কষ্ট হচ্ছে বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছে।

“শোন তুই একটা রাস্তার মেয়ে।”

আদ্রিতা কথাটা শোনা মাত্র চোখ তুলে তাকায়।
চোখে মুখে প্রশ্ন তার। এগুলো কি বলছে মাধবী বেগম।
আদ্রিতার মায়াবী মুখশ্রী দেখে মাধবী বেগমের রাগ হতে লাগে।
সে এগিয়ে এসে আদ্রিতার কুনুই চেপে ধরে।
দাঁতে দাঁত চেপে বলতে শুরু করে,

“তুই একটা কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে। এ বংশের রক্ত তোর ভেতরে নেই। তোকে আদ্রিস কুড়িয়ে পেয়েছিল রাস্তার কাছে। তুই যাকে মা বলো জানতি সে তোর মা ছিলই না কোন দিন। তোকে ঘরে আনার পর ওই মেয়েটাকেও হারিয়েছি আমরা।
তুই রাস্তার মেয়ে আদ্রিতা। তোর মত নোংরা রক্তকে আমি আমার ঘরের বউ কখনো বানাব না।
তোর জন্য এই তোর জন্য মিশু মা হারা। তোকে আদর যত্ন করে ঘরে তুলে অনামিকা মরে গেছিল। তোকে বাঁচাতে গিয়ে অনামিকাকে জীবন দিতে হয়েছিল। তুই কি চাচ্ছিস আদ্রিসকেও ওই ভাবে মেরে ফেলবি হ্যাঁ বল। “

আদ্রিতা আর নিতে পারছে না এসব। সে দু হাত কানে দিয়ে বসে পড়ে নিচে,

“প্লিজ বড় মা চুপ করুন আমি আর শুনতে পারছি না৷”

মাধবী বেগম, আদ্রিতার চুলের মুঠি ধরে আদ্রিতাকে দাঁড় করায়।

“সে দিন পির সাহেব বলেছিল তুই একটা রাস্তার কালো ছায়া। শুধুমাত্র আদ্রিসের জন্য আমি তোকে ঘরে তুলেছিলাম। অনামিকা নেহাত একজন দয়ালু মহিলা ছিল। তোকে নিজের বাড়িতে জায়গা দিয়েছিল। মেয়ে তুই তাকে খেয়ে নিলি। অনামিকার মত মৃত্যু কারোর না হোক।”

আদ্রিতা, মাধবী বেগমের হাতে হাত রাখে,

“ল লাগছে বড় মা।”

“এই অপয়া মেয়ে আমাকে বড় মা বলবি না। আমার ছেলেটাকে খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিস তুই।”

আদ্রিতার শরীরটা ছেড়ে দিয়েছে। এত বড় সত্যি সে সহ্য করতে পারছে না। তার চারিদিকে কেমন অন্ধকার হয়ে আসছে। চোখের সামনে কালো ডট পড়েছে।
আদ্রিতাকে ব্যালেন্স হারাতে দেখে মাধবী বেগম ধাক্কা দিলেন।
আদ্রিতার মাথাটা খাটের কোণায় গিয়ে জোরে বাড়ি খেয়েছে। এতে তার কিছু আসে যায়না।

“যদি আদ্রিসের ভালো চাস তবে দুরে থাবি ওর থেকে। অনামিকার মত আদ্রিসকে হারালে।তোকে জ্যান্ত কবর দেব আমি।”

আদ্রিতা আধখোলা চোখে অস্পষ্ট দেখল মাধবী বেগম যে চলে গেলেন।
আদ্রিতার কপাল বেয়ে তরল গড়িয়ে পড়ছিল। আদ্রিতা সেটা কি দেখার আগেই জ্ঞান হারায়।


ড্রিংকস এর পর ড্রিংকস করেই চলেছে আদ্রিস।
রেভেন, আদ্রিসকে থামাতে চাইছে কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না।

“বস এবার একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না?”

“আমার আর বেশি? হুহ।”

“বস অলরেডি ৪ টা বোতল শেষ। আপনি বাড়িতে ফিরবেন না? “

“বাড়িতে। হ্যাঁ ফিরবত। আমার আদ্রিতার কাছে। আমার আদ্রিতাকে বুকে নিয়ে ঘুমোতে চাই আমি।”

আদ্রিস মাতালের মত বকছে। রেভেন ঠিক বুঝেছে এখন আর কিছু হবার নয়।
সে আদ্রিসের থেকে গ্লাস নিয়ে নেয়,

“বস প্লিজ আপনি কন্ট্রোল করতে পারবেন না৷”

“উফ এটা কোন কথা।”

রেভেন আর কিছু বলবে তার আগেই ক্লাবের ভেতর ফায়ারিংয়ের শব্দ।
রেভেন কেঁপে ওঠে। আদ্রিসের সচরাচর কোন এলকোহলেই চড়ে না। কিন্তু আজ সে স্ট্রং এলকোহল নিয়েছে। তার উপর ৪ বোতল। সে পুরাই হারিয়ে গিয়েছে।
রেভেনের এবার সন্দেহ হতে লাগে। সে পকেট থেকে রিভলবার বের করে সোজা বার কাউন্টারের ছেলেটার দিকে তাক করে। কাউন্টারের ছেলেটা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

“কে টাকা দিয়েছে তোকে। বসকে এসব খাওয়ানোর জন্য।”

“আ আমি… “

“মিথ্যা বলিস না। তুই ধরা পড়ে গেছিস।রেভেন ভলকভের থেকে কেউ বাঁচতে পারে না। আমাকে নাম না বলে এক ইঞ্চি নড়বিত তুই শেষ।”

বার কাউন্টারের ছেলেটা ভয় পেয়ে যায়।

“জ জানিনা স্যার বিশ্বাস করুন আমাকে এই এলকোহল গুলো একটা লোক এসে দিয়ে যায় আর বলে ওনাকে খাইয়ে দিতে। আমি জানতাম না এতে ড্রাগস আছে।”

“তোকেত আমি।’

এরই মাঝে ফায়ারিং করতে করতে লোক গুলো ভেতরের দিকে চলে আসে। রেভেন আদ্রিসের গার্ড’স দের ম্যাসেজ করে আদ্রিসকে টেনে তুলে।
আদ্রিস নিজের পায়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছে না।
রেভেন আদ্রিসকে নিয়ে কোন মতে টেনে টুনে একটা রুমে নিয়ে আঁটকে দেয়।
এই মুহুর্তে এই এটাক টা পরিকল্পিত। এর মানে ওর মেইন টার্গেট আদ্রিস।
রেভেন পিস্তল লোড করে ফায়ারিং শুরু করে। আদ্রিসের গার্ডরা সম্পূর্ণ এড়িয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
তবে বিরোধী পক্ষের শক্তির তারিফ করা উচিত। রেভেন প্রফেশনালের মত সুট করছে কিন্তু ওদের কাবু করতে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় লেগে যায়।
প্রায় ছোটখাটো যুদ্ধ শেষে চারিদিকে কবরস্থান বনে গিয়েছে। ক্লাবটা পুরাই ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে। রক্তের ফোঁটা চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে।

রেভেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।


আদ্রিস, নিজের চোখের সামনে আদ্রিতাকে দেখতে পাচ্ছে।
মেয়েটা নিজের উপরের পোশাক খুলে ফেলেছে। অর্ধনগ্ন শরীরে আদ্রিসের উপরে এসে ওর সার্ট খুলতে শুরু করে।
আদ্রিস নেশালে চোখে তাকিয়ে আছে।,

” আদ্রিতা৷”

মেয়েটা থেমে যায়। আদ্রিতা কে। সে এদিক ওদিক তাকায়। না রুমেত কেউ নেই সে ছাড়া। মেয়েটা নিজের কাছে থাকা চাকুটার দিকে তাকায়। সেটা ঠিকঠাক আছে। মনে মনে বলে,

“ডোন্ট ওয়ারি লাড়া, হট সেক্টি বডি টাকে একবার টেস্ট করেই চাকু মেরে দেব৷”

লাড়া মেয়েটা যখন আদ্রিসের বুকে লিক করছিল তখন আদ্রিস ওকে টেনে নিজের নিচে ফেলে।
আদ্রিসের চোখের সামনে সে এই মুহুর্তে আদ্রিতাকে দেখতে পাচ্ছে।
আদ্রিস যখন আদ্রিতার ঘাড়ে নাক গুঁজে তখন তার নেশা কাটতে শুরু করে। এটা আদ্রিতা নয়। আদ্রিতার ঘ্রাণ এমন নয়।
আদ্রিসের চোখ দু’টো মুহুর্তে রক্তিম বর্ণ ধারণ করে।
সে মেয়েটার গলা চেপে ধরে ক্রোধে।
লাড়া চোখ বড় বড় করে নেয়।
আদ্রিসের নেশা কেটে গিয়েছে প্রায়।
লাড়া বুঝতে পারে এখন আর কিছু হবেনা।
সে পাশ থেকে চাকুটা নিয়ে আদ্রিসের বুকে ঢুকিয়ে দেয়। আদ্রিস স্ট্রং মেয়েটা ভেবেছিল যন্ত্রণা পেয়ে আদ্রিস তাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু আদ্রিস সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার গলা ধরে ঘুরিয়ে দেয় ৩৬০° বামে।
মেয়েটা মুহুর্তের ভেতরেই প্রাণ হারায়।
আদ্রিসের রক্ত মেয়েটার নগ্ন শরীরে বেয়ে বেয়ে পড়ছে।
আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়।
এমন সময় ধারাম করে শব্দ হয়ে দরজা খুলে যায়। রেভেন ভেতরে এসে আদ্রিসের বুকে চাকু আর একটা মেয়েকে মরে পড়ে থাকতে দেখে বুঝে যায় পরিস্থিতি। সে দৌড়ে আসে,

“বস। মাই গড চাকুটা অনেকটা ভেতরে চলে গিয়েছে।”

আদ্রিস বসে পড়ে সোফায়। তারও কষ্ট হচ্ছে।

“বস হসপিটালে চলুন।’

“না।’

” না কেন?’

“মেনশনে চল।”

“কিন্তু এটা?”

“ডক্টরকে আসতে বল।”

“ওকে।”

রেভেন আদ্রিসের কাঁধে কোর্ট উঠিয়ে দেয়। বুকের বাম পাশে বিদ্ধ চাকু নিয়েই আদ্রিস বেরিয়ে আশে।
ক্লাবে যারা বেঁচে ছিল সবাই দেখে যেটা। প্রায় ২০ জন গার্ডর সামনে একজন পুরুষ হেঁটে আসছে। তার শরীরের সামনের অংশ উন্মুক্ত। বুকের বাম পাশে চাকু বিদ্ধ হয়ে আছে। হাই কোর্ট তার হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পড়েছে। পুরুষটি এতটাই স্ট্রং যে কিনা ওই ক্ষত নিয়েও সাভাবিক ভাবে হেঁটে চলছে আর সিগারেট টানছে।


রেভেন গাড়িতে বসে।
আদ্রিস পেছনে বসে চোখ বন্ধ করে নেয়। তবে সিগারেট টানা বন্ধ করেনি।


মেনশনে গার্ড’স প্রবেশ করতে দেখে আসরাফ খান ভ্রু কুঁচকে তাকান।
সবাই ডিনার করতে বসেছিল।
শুধু আদ্রিতা আর প্রিয়া নেই।
আসরাফ খান এগিয়ে এসে দেখেন আদ্রিস হেঁটে আসছে। আদ্রিসের ক্ষত দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন,

আদ্রিস বিরক্তি নিয়ে বাবার দিকে তাকায়,
ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ করে বলে,

“সুস।।আই নিড সাইলেন্স ড্যাড।”

আদ্রিস সোজা গিয়ে সোফায় বসে। ডক্টর পেছনেই ছিল।
রেভেন, আরেকটা সিগারেট ধরে দেয় আদ্রিসকে। আদ্রিস সিগারেটে টান দেয়।
ডক্টর নিজের কাজ শুরু করে। চাকুটা বের করার সময় আদ্রিস চোখ বন্ধ করে নেয়।
মাধবী বেগম ছুটে এসেছেন,

“এসব কি করে হলো?”

রেভেন এগিয়ে যায়।

“আন্টি প্লিজ। বস রেগে যাবে। দু’টো মিনিট চুপ থাকুন।’

মাধবী বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ডক্টর চাকুটা বের করে সেখানে ঔষধ লাগিয়ে দেয়।

” স্যার সেলাই করা প্রয়োজন। আপনি চোখটা বন্ধ করে নিন। আমি ইনজেকশানের দিচ্ছি।”

“কোন প্রয়োজন নেই।’

” মানে?”

“কোন ইনজেকশনের প্রয়োজন নেই। এভাবেই সেলাই করুন৷”

“,স্যার সহ্য করতে পারবেন?”

আদ্রিস, ডক্টরের দিকে তাকায়। ডক্টর একটা শুঁকনো ঢোক গিলে নিজের কাজ শুরু করে।
আদ্রিস সিগারেট টানতে টানতে দেখে তার শরীরে কিভাবে সুই এপার থেকে ওপারে যাচ্ছে।
সেলাই শেষ হলো ডক্টর ব্যান্ডেজ করে দেয়।

“ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ভারি কাজ না করাই উচিত। ঔষধ লিখে দিচ্ছি বাম কাধ টা কম নাড়াবেন। ভালো হয় কেউ সার্ট পরিয়ে দিলে। নিজে পরতে যাবেন না।আর বেড রেস্ট…”

“স্টপ। “

ডক্টররে পুরো কথা শেষ হবার আগেই আদ্রিস চুপ করিয়ে দেয়। ডক্টর চুপ হয়ে যায়।

“ইউ ক্যান গো নাউ।”

ডক্টর রেভেনের থেকে পেমেন্ট নিয়ে বেরিয়ে যায়।

“বস ঔষধ! “

“আদ্রিতাকে রুমে আসতে বলো মম।
আর রেভেনকে গেস্ট রুমে থাকার বন্দবস্ত করে দেও।”

“বাবা আদ্রিতা কেন। আমাকে বল কি প্রয়োজন।”

আদ্রিস ফিরে তাকায়,

“আই ওয়ান্ট আদ্রিতা। দু বার বলব না।”

আদ্রিস উপরে চলে যায়।
রেভেন তাকিয়ে আছে সে দিকে।
মাধবী বেগম, আসরাফ খানের দিকে তাকায়,

“তোমার ছেলে পাগল হয়ে গেছে।”

“তাইত দেখছি।”

মাধবী বেগম গদ গদ করতে করতে আদ্রিতার রুমে যায়।
প্রিয়া বসে আছে আদ্রিতার পাশে। আদ্রিতার মাথায় ব্যান্ডেজ করা।
ওরা কিছু বলা বলি করছিল এমন সময় মাধবী বেগম আসায় দু’জন চুপ হয়ে যায়।


কিছুক্ষণ আগে।
প্রিয়া এসেছিল আদ্রিতার রুমে কোন একটা কারণে। সে এসে আদ্রিতাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে যায়।

“আদ্রিতা। আদ্রিতা কি হয়েছে?”

প্রিয়া সবাইলে ডাকে কেউই নেই বাড়িতে। মাধবী বেগম ঘরে দরজা দিয়ে বসে আছে। প্রিয়া অবাক হয়ে যায়। এরা এতটা নিচে কবে নামল।
প্রিয়া দ্রুত গিয়ে একটা নার্সকে কল করে।
নার্স এসে আদ্রিতাকে ব্যান্ডেজ করে দেয়। এবং কিছুক্ষণ পর আদ্রিতার জ্ঞান ফিরে।


এখন বর্তমান

“কি কান পড়া দিচ্ছিলি আমার মেয়েকে? “

“আম্মু আদ্রিতা আমাকে কিছুই বলেনি।”

“বেশ ভালো কথা। আমার ছেলে এসেছে। যখম হয়ে। তোর জন্য অপয়া। তোর অলক্ষুণে নজর যে দিকে যাবে সেই ধ্বংস হয়ে যাবে।’

” আম্মু।”

“তুই চুপ থাক। তোকে ডাকছে আদ্রিস। খবরদার যদি তুই ওকে কিছু নালিশ করেছিস মেরেই ফেলব।”

আদ্রিতা নিঃশব্দে সবটা শুনছে। কি বা বলার আছে।

“এখন বসে না থেকে যা৷”

আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়। সে ক্লান্ত তার মাথাটা ঝিম ধরে আছে। তার উপর বেশ খানিকটা কেটে গিয়েছে।

আদ্রিতা হেঁটে চলে যায়।
প্রিয়া উাঠে দাঁড়ায়,

“অতিরিক্ত করছো মা। অপয়া আর আবর্জনা তোমার অন্তরে আছে মা। সেটাকে পরিষ্কার না করলে পুরো পৃথিবী টাকেই আবর্জনা লাগবে। “

প্রিয়া বেরিয়ে যায় কথা গুলো বলে।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply