কাজরী-৭
সাবিকুননাহারনিপা
শিরিন বাজখাঁই গলায় প্রশ্নটা করলেন,
“তোমার ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান কে সামলাবে? ইশান? “
ওয়াজেদ চৌধুরী শীতল চোখে স্ত্রীকে দেখলেন। শিরিনের তর্ক করার স্বভাব আছে। সব জায়গায় নাক গলানো স্বভাব টের পেয়েছেন বিয়ের একদিন পর থেকে। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সেই বিষয়েও মতামত জাহির করার চেষ্টা করতো। ওয়াজেদ চৌধুরী স্বাভাবিক গলায় বললেন,
“আমি তো স্বাভাবিক গলায় যথেষ্ট জোরে কথাটা বললাম। তুমি শুনতে পাওনি কেন? “
শিরিন তার স্বামীর চোখ রাঙানোকে আজ উপেক্ষা করে বলল,
“শুনতে পেয়েও প্রশ্নটা করেছি কারণ তোমার কথাটা উইয়ার্ড লাগছে তো তাই। “
চৌধুরী সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন,
“তোমাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই। আগেও বাধ্য ছিলাম না, এখনো বাধ্য নই।
শিরিন দমে গেলেন। নমনীয় গলায় বললেন,
“ইশান ব্যবসা রিলেটেড কোনোকিছু বুঝবে? ও’কে দায়িত্ব দেবার কারণ বুঝতে না পেরেই প্রশ্নটা করা৷ “
চৌধুরী সাহেব উপহাসের সুরে বললেন,
“তা তুমি ব্যবসা বুঝতে শুরু করলে কবে থেকে শিরিন? ডাক্তারি পাশ করে সেটা নিয়েও তো কোনোদিন ভাবতে দেখিনি তোমাকে। ফ্যামিলি পলিটিক্স সামলেছ, সেটাই করো। আর আমি এক কথা দুইবার আমি বলি না, কিন্তু আজকে বলতে হচ্ছে, আমার সমস্ত ব্যবসা, প্রতিষ্ঠানের লাভ, লস, ইনভেস্ট, ঝূকি সবকিছুর হিসাব ইশানের সিদ্ধান্তে হবে। ইশান যেকোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটার উপর আর কারও কোনো কথা থাকবে না। ইশানের সিদ্ধান্তে কারোর কোনো সমস্যা থাকলে সে নির্দ্বিধায় সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারে। “
শিরিন স্তব্ধ গলায় বলল, কী! আর নিশান! নিশানের কী হবে?
চৌধুরী সাহেব স্ত্রীর চোখে চোখ রেখে বললেন,
“নিশানকে তো আমি ত্যজ্যপুত্র করিনি। “
শিরিন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।
চৌধুরী সাহেব নির্লিপ্ত গলায় বলল,
“এখন আসতে পারো শিরিন। আশা করি ভবিষ্যতে এই বিষয়ে তুমি আমাকে আর প্রশ্ন করবে না। “
শিরিনের হতভম্ভ ভাব কাটে না। চৌধুরী আজ তাকে রীতিমতো ঘর থেকে বের করে দিচ্ছেন! দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরী হতে হতে এতোটা অসম্মানের জায়গায় পৌছে গেছে!
নিশান বুঝতে পারছে না এক্সাক্টলি কী হচ্ছে। খুব স্বাভাবিক ভাবে ইশান আর কাজরীর বিয়েটাকে দেখেছিল। ওয়াজেদ চৌধুরী রাজনৈতিক ঝামেলা এড়ানোর জন্যই কাজরীর সঙ্গে ইশানের বিয়ে দিয়েছিলেন বলে ওর ধারণা। অন্য কিছু তার মাথায় থাকতে পারে এটা মনে হয়েছে। কিন্তু আজকের সিদ্ধান্তে মনে হয়েছে যে বাবার মাথায় অন্য প্ল্যান চলছে। অন্য প্ল্যান যদি চলেও থাকে নিশানের সেখানে কিছু করার নেই। বাবার সামনে দাঁড়িয়ে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহস আর যোগ্যতা কোনোটাই তৈরী হয় নি ওর। সবকিছু মেনে নেয়া ছাড়া আর উপায়ও নেই। নিশান বুঝতে পারলো যে তার অপ্রিয়, ইরিটেটিং ছোট ভাই এবার থেকে আরও বেশী ধৈর্যের পরীক্ষা নিবে।
“মাঝেমধ্যে আমার প্রতি তোমার আচরণ দেখলে মনে হয় আমাকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছ। “
শিরিন চৌধুরী তার ছোট ছেলের দিকে শীতল চোখে তাকালেন। ইশান বসে আছে মায়ের ঘরের সোফায়। তার মুখ হাসি হাসি। শিরিন বজ্রকন্ঠে বললেন,
“আজকাল তোমার আচরণও প্রমাণ করে দিচ্ছে যে আমি হয়তো তোমাকে গর্ভে ধারণ করিনি। হসপিটালে অন্য কারও সঙ্গে বাচ্চা বদল হয়ে গেছিলো। “
ইশান হো হো শব্দ করে হাসলো। ফলের ঝুড়ি থেকে একটা আপেল তুলে নিয়ে কামড় দিয়ে বলল,
“ছোটবেলা থেকে আমাকে অযোগ্য, আর নিশান কে যোগ্য প্রমাণিত করার জন্য তোমার অনেক চেষ্টা ছিলো। “
“তোমার এই ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে আমি আর কোনো ব্যখ্যা দিতে ইচ্ছুক নই ইশান। তুমি যেহেতু ভেবে নিয়েছ আমি খারাপ মা, তাহলে তাই। এটা ভেবে খুশি থাকো। “
ইশানের মুখে বেদনার ছায়া। ও বলল,
“এটা ভেবে খুশি হওয়া যায় না। বরং দু:খ হয় যে এমন মায়ের সন্তান আমি। “
শিরিনও কষ্ট পেলেন। তার চোখের কাঠিন্যতা মুছে বিষাদ নেমে এলো। বললেন,
“আমাকে অপরাধী প্রমাণের চেষ্টা কোরো না। আমি তিন সন্তান কে সমান স্নেহ, মমতা দিয়েছি। তুমি আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছ। আমি চেয়েছি তুমিও নিশানের মতো ফোকাসড হও, সবকিছুতে এগিয়ে থাকো। “
“নিশানের মতো কেন? আমি তো আমার মতো হবো। এই ভুল টা করে তুমি আমার ছোটবেলাটা নষ্ট করেছ। আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিয়েছ। সবকিছুতে নিশানের সঙ্গে তুলনা। ভালো কিছু করলেও তুলনা করার জন্য নিশান কে টেনেছ। “
“আচ্ছা আমি ভুল, তুমি আর তোমার বাবা সঠিক। এখন তোমার বাবা যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা করে দেখিয়ে দাও যে তুমি সেরা। তিনি তোমাকে যোগ্য ভেবেছেন, নিশ্চয়ই তার ভাবনা ভুল হবার কথা নয়। সম্ভবত তিনি রিটায়ার্ড করবেন, তাই তার জায়গাটা পাকাপোক্ত ভাবে তোমাকে দেবার ইচ্ছে৷ সেটা কাজে লাগাও। “
ইশান আধখাওয়া আপেল টা রেখে বলল,
“তোমারও সেটা করা উচিত। চৌধুরী প্যালেসের চাবির গোছাটা আমার বউকে দিয়ে তুমিও অবসর উপভোগে যেতে পারো। কাজরী তোমার চেয়ে স্মার্ট আছে, সব সামলে নিতে পারবে। “
শিরিন রক্তচক্ষু নিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। ইশান মায়ের অগ্নিরুপ কে তোয়াক্কা না করেই বেরিয়ে এলো।
নিশান ওর মায়ের মতো ভুল করলো না। ইশানের অর্ধেক রাজা হবার ব্যাপার টা স্বাভাবিক ভাবে নেয়ার চেষ্টা করলো। চেষ্টাটুকু মাত্র। ভেতরের আগুন প্রকাশ করলো না। সেই ছোট থেকে নিশান বাবার বাধ্য ছেলে। বাবা যেমন চেয়েছেন ও তেমন করেছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব কিছুই বাবার ইচ্ছেমতো হয়েছে। ম্যাথমেটিকসে খুব আগ্রহ থাকলেও ও’কে পড়াশোনা করতে হয়েছে বিজনেস স্টাডিজ নিয়ে। সেটা মেনে নিয়েছে। নিজের থেকেও বেশী বড় করে দেখেছে বাবার ইচ্ছেকে। অবশ্য সেটায় মায়ের ইন্দনও কম ছিলো না। মা কানের কাছে মন্ত্র পড়ে গেছেন একটানা। বাবার উত্তরসুরি তোমাকে হতে হবে নিশান। তুমি অন্য দশজনের মতো নয়, তুমি কেন ইশানের মতো সময় নষ্ট করবে। নিশানও দিনরাত এক করে লেগে থেকেছে। যে সময় টা ইশান পার্টি, মদ, বন্ধু, বান্ধব নিয়ে মেতে থেকেছে সেই সময়টা নিশান ইকোনোমিকস এর মোটা মোটা বইয়ে মুখ গুজে বসে থেকেছে৷ সরকার, রাজনীতির মোটা দাগের বইয়ে ডুব দিয়ে থেকেছে। আর এখন বাবা ইশান কে যোগ্য মনে করছেন কোন যুক্তিতে সেটা ও জানেনা। বাবা জানেন দুই ভাইয়ের সম্পর্ক খুব খারাপ না হলেও খারাপ। যেটুকু আন্তরিকতা না দেখালেই নয়, সেটুকুই শুধু দেখানো হয়। এছাড়া দুজনের আলাদা করে কনভার্সেশন হয় না। ইশানের একটা খারাপ স্বভাব আছে। সব জায়গায় ই নিশানকে খোঁচা মেরে কথা বলে। ছোট থেকে নিশান কে উপরে আর ও’কে নিচে রাখা হয়েছে, দুই চোখে দেখা হয়েছে সেটা বারবার বুঝিয়ে দেয়।
নিশানের কয়েক রাত নির্ঘুম কাটছে। সিগারেট ফুকতে ফুকতেও অসহ্য হয়ে উঠেছে। এমন কেউই নেই যাকে ও নিজের মনের কথাগুলো বলে হালকা হবে। একটা বিষয় ই মিলাতে পারছে না। যদি ইশান কেই সব দেয়া হয় তবে কেন ও’কে আকাশের কাছাকাছি নিয়ে নিচে পা ফেলার সবকিছু কেড়ে নেয়া হলো।
নিশানের জন্য নতুন ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনা হয়েছে। আগে যে গাড়িটা ব্যবহার করতো সেটার চেয়ে দ্বিগুণ দাম প্রায়। নিশান একটু অবাক হলো। ম্যানেজার ইরফান কে জিজ্ঞেস করলো,
“আমার জন্য নতুন গাড়ি?”
“ইশান স্যার বললেন তাই। “
নিশানের ভালো, খারাপ কোনোরকম অনুভূতিই হলো না। শিরিনকেও বিষয় টা অবাক করেছে। ইশান অবশ্য হালকাভাবে ব্যাপার টা নিলো। সে বলল,
“আরেহ ব্রো লেটস সেলিব্রেট। সবকিছুতে কারণ খুঁজলে হবে! “
নিশান শুষ্ক ধন্যবাদ জানালো। ইশান সুইট জেশ্চার দেবার জন্য একটু জড়িয়েও ধরলো। তারপর বলল,
“তবে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। কাজরীকে নিয়ে ওর বাসায় নিয়ে যাবে। আমি আজ যেতে পারছি না, তাই তুমি যাবে।”
নিশান মায়ের দিকে তাকালো। শিরিন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালেন না। নিশান হেসে বলল,
“আচ্ছা।”
“থ্যাংক ইউ। তোমার নতুন গাড়ির প্যাসেঞ্জারকে সাবধানে নিয়ে যেও। “
ইশানের হঠাৎ ভালো রুপ, উচ্ছ্বাস নিশান কিংবা শিরিন কেউই সহজ ভাবে নিতে পারছে না। গোপনে কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলছে, কেউ আক্রোশে ফেটে যাচ্ছে।
কাজরীকে লাল জর্জেট শাড়িতে কাজরীকে সুন্দর লাগছে। গলায় কানে হালকা হিরের গহনায় বেশী চমৎকার লাগছে। ইশান সরাসরি তাকিয়ে আছে কাজরীর শাড়ির আড়ালে স্পষ্ট দৃশ্যমান কাজরীর মেদহীন পেটের দিকে। কাজরী বুঝতে পেরে আড়াল হলো। ইশান ইচ্ছে করে ওভাবে দেখতে তাকিয়ে থাকতে চায় নি। নজর চলে গেল হঠাৎ, আর সরিয়ে নিতেও ইচ্ছে করলো না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বলল,
“সরি সুইটহার্ট, আমি আসলে তোমার সঙ্গে যেতে পারছি না। এবার তুমি একাই ঘুরে এসো। “
কাজরী মনে মনে ভাবলো, তোমার না যাওয়াই আমার জন্য মঙ্গল। কিছু সময় অন্তত শান্তিতে থাকা যাবে৷ ইশান যেন ওর মনের কথা বুঝে ফেলল নিমিষেই।
“তুমি কিছুক্ষন রিলাক্সে থেকে নতুন কিছু ভাবতে পারবে। নাটকের পরের অংশে কিভাবে তোমার বোনকে ইউজ করতে পারবে। “
কাজরী ইশানের দিকে তাকালো। বলল,
“আমার সম্পর্কে যে অভিযোগ আনছ সেটার প্রমাণও দাও। প্রমাণ যদি না দিতে পারো তবে সেই বিষয়ে কিছু বলে আমাকে রাগিয়ে দিও না। “
ইশান দুই পা এগিয়ে এলো কাজরীর দিকে। কাজরী ড্রেসিং টেবিলের পাশে দাঁড়ানো ছিলো, ইশান কে এগিয়ে আসতে দেখে ও ঠিক দুই পা পিছিয়ে গেল। ইশান আরও দুই পা এগোয়, কাজরী দুই পা পিছিয়ে গেলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। ইশান ওর কাছাকাছি এসে থেমে যায়৷ ঠোঁটে রহস্যময় হাসি, চোখে খেলা করছে দুষ্টমি। কাজরীর নাকের পাটা ফুলে উঠছে। ও তৈরী হচ্ছে ইশানকে ধাক্কা মারার জন্য। যদি ও’কে ছুঁতে আসে তাহলে ধাক্কা মারবে। ইশান হঠাৎ ই পিছিয়ে গিয়ে বলল,
“আজকের দিন টা থাক৷ আজ আমার জন্য বিশেষ দিন। তোমার জন্য ম্যুড নষ্ট করব। এতোটা ইম্পর্ট্যান্স পাওয়ার যোগ্য তুমি না। “
কাজরী তীর্যক হেসে বলল,
“ওহ রিয়েলি! তা আজকের দিন টা তো তুমি সেলিব্রেট করতে পারছ আমার জন্য। আমাকে বিয়ে করার গিফট পেয়েছ। এম আই রাইট? “
ইশানের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। চোখের দৃষ্টিও কঠিন। কাজরী মৃদু হেসে বলল,
“বাই দ্য ওয়ে, কনগ্রাচুলেশন। “
কাজরী ইশানের সামনে থেকে হেটে গেল গর্বিত ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে। ইশান কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর যাবার পথে।
“আজ ই ফিরবে? “
“ইশান যেমন চাইবে। ও চাইলে ফিরতে হবে। “
কাজরী হাসি দিয়ে কথাটা বলল। শিরিন আর কথা বাড়ালেন না। এই মেয়েটিকে তিনি কখনো, কোনোভাবে পছন্দ করতে পারবেন না। তিনি এমন পুত্রবধূ আশা করেছিলেন যার সঙ্গে তার আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হবে। কাজরীর মতো মেয়ের সঙ্গে সেটা ইহজনমে সম্ভব না।
গাড়িতে উঠতে যাবার সময় ইশান এসে নিশান কে বলল,
“সাবধানে নিয়ে যাবে ব্রাদার। ভাইয়ের সুন্দরী বউয়ের ভালো করে টেক কেয়ার করবে। “
কাজরী ইশানের দিকে তাকালো। ও হাসি দিয়ে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে বলল,
“বাই সুইটহার্ট। “
নিশান গাড়ি ড্রাইভ করছে। কাজরী ওর পাশে বসে আছে। তাও ভালো পেছনে বসে ও’কে ড্রাইভার হিসেবে ট্রিট করে নি। নিশানকে বেশ অন্যমনস্ক লাগছে, কাজরী খেয়াল করলো বিষয় টা। জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি কী আপসেট?”
নিশান চমকে উঠলো। কাজরীর সঙ্গে ওর প্রথম সরাসরি কথা বলছে। নিশান স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি ঠিক আছি। “
কাজরী ওর দিকে তাকিয়েই বলল,
“তোমাকে ডিস্টার্বড লাগছে। “
নিশান হাসার চেষ্টা করলো। কাজরীর সঙ্গে ও কথা বাড়াতে চায় না, একে তো ইশানের বউ তার উপর কাজরীও চিন্তা ভাবনায় বেশ জটিল। কিন্তু কাজরীর আগ্রহ আছে কথা বলার। বাড়িতে একটা মানুষ নেই যার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা যায়! তাই ও একটু বেশীই চেষ্টা করলো নিশানের সঙ্গে কথা বলবার।
“ইশান এতো বকবক করে আর তুমি এতো কম কথা বলো! স্ট্রেঞ্জ!”
নিশান রুক্ষস্বরে জবাব দিলো,
“অবাক হবার কিছু নেই। আমরা আপন দুই ভাই হলেও আমাদের স্বভাবে অমিল, চরিত্রও একরকম নয়। “
কাজরী ঠেস দিয়ে কথা বলার ধরনে প্রতিক্রিয়া দেখালো না। ও বলল,
“আমার আর আল্পনারও কোনো মিল নেই। আমাদের সবকিছুই ভিন্ন। তবে দুজন দুজন কে এতো অপছন্দ করি না যেটা তুমি আর তোমার ভাই একজন আরেকজন কে করো। “
নিশান চুপ রইলো। কথা বাড়াতে চাইছে না। কাজরী হয়তো ওর পেট থেকে কোনো কথা বের করতে চাইছে৷
বাকীটা রাস্তা দুজনেই চুপচাপ রইলো। ইশান বেশ কয়েকবার কাজরীকে কল করলো, ও রিসিভ করলো না। বলছিল খুব কাজ আছে, এক ঘন্টায় এতোবার ও’কে কল করাই বোধহয় খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।
সোবাহানবাগের এই বাড়িটায় আখতারউজ্জামান পরিবার নিয়েই একাই থাকেন। আয়তনে বড় বিল্ডিং এ পরিবার বলতে শুধু আল্পনা আর তিনি। এছাড়া পাঁচ, ছয়জন কাজের লোক। এখন কাজরীকে নিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিনজন। আখতারউজ্জামান মেয়ে, জামাইকে ওয়েলকাম করতে নিজে এলেন। ইশানের বদলে নিশান কে দেখে একটু বিরক্তবোধ করলেন বটে। নিশান অনিচ্ছায় আতিথেয়তা গ্রহণ করতে রাজী হলো।
আখতারউজ্জামান মেয়েকে প্রশ্ন করলেন,
“ইশান কেন এলো না?”
“ব্যস্ত আছে। “
“এমন কী ব্যস্ত যে সে তোমার কথার গুরুত্ব দিলো না?”
কাজরী বাবার চোখে চোখ রেখে দৃঢ় গলায় বলল,
“আমি ইশান কে কন্ট্রোল করছি না। “
“কিন্তু করতে হবে। আর তুমি নিজেকেও নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে নাও। সেদিন তোমার আচরণ বেপরোয়া ছিলো, মিসেস চৌধুরীকে পয়েন্ট আউট করে কথা বলে ভুল করেছ। এতো তাড়াহুড়োর তো কিছু নেই৷ কটা দিন ধৈর্য্য ধরে ভালো বউ হবার চেষ্টা করতে পারতে। “
“আপনি যা এক্সপেক্ট করছেন সেটা আমি না, আল্পনা ফুলফিল করতে পারবে। আমার জায়গায় তাকে পাঠালে আপনার জন্য ভালো হতো, সে সবকিছু আপনার পছন্দমতো করতে পারতো। “
আখতারউজ্জামান চোখ নামিয়ে নেয়। ছোট মেয়ের চোখে চোখ রেখে তিনি বেশীক্ষন কথা বলতে পারেন না।
চলবে……
(বেশী করে কমেন্ট করুন।)
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ৮+৯
-
কাজরী পর্ব ৩
-
কাজরী পর্ব ৬
-
কাজরী গল্পের লিংক
-
কাজরী পর্ব ১০
-
কাজরী পর্ব ১
-
কাজরী পর্ব ৪
-
কাজরী পর্ব ২
-
কাজরী পর্ব ৫