এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ১৯+২০
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ১৯
আজ সকাল সকাল নয়টার মধ্যেই সবাই রেডি হয়ে বের হয়ে গেল ।রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট করে সবাই একটু ঘুরতে বের হবে উদ্দেশ্য এটাই। সাথে তানিয়াও এলো। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত যা দেখছে এটলিস্ট এজন্য শ্রাবণকে মেঘলার সাথে একা আর ছাড়তে চায় না তানিয়া ।কেন যেন মনের মধ্যে এমন একটা অনুভূতি হচ্ছে শ্রাবণের ভিতর কিছু একটা হয়তো আছে মেঘলার জন্য যা হয়তো শ্রাবণ নিজেও জানেনা।
সকালে বাসা থেকে বের হতেই পেয়ে গেল একটি ভ্যান ।সবাই একটু চাপাচাপি করে হলেও ভ্যানে উঠে বসল ।এটাতেই মজা। শ্রাবণ ও সিয়াম বসলো ভ্যানচালকের সামনের সিট দুটোতে ।এবং একদম পিছনে মেঘলা ও রাফি। তানিয়া পা ঝুলিয়ে বসেনি ।ভ্যানের উপর চড়ে বসেছে ।লামিয়া বসেছে সিয়ামের পাশের সাইটে তবে পা ঝুলিয়ে ।সবাই পা ঝুলাতে ঝুলাতে ভ্যানে আনন্দ ফুর্তি করতে করতে স্কুলে যাচ্ছে।
রাফি প্রশ্ন করলো,” মেঘলা তুমি অনেকদিন পর স্কুলে যাচ্ছো তোমার কেমন লাগছে ?”
মেঘলা বললো,” আজকে আমার অনেক আনন্দ লাগছে ।আমি আমার বন্ধুদের বান্ধবীদের কত মিস করেছিলাম ।ছোটবেলা থেকে একসাথে ওদের সাথে বড় হয়েছি ।ওদের সাথে আমি বিকাল হলে খেলতে বের হয়েছি। কিন্তু শহরে তোমাদের বাসায় গিয়ে তো আর খেলতে পারিনি ।বাড়ির ভিতরে বসে থাকতে হতো ।আর গ্রামে আমি বিকালে প্রত্যেকদিন খেলতাম।”
রাফি উচ্ছ্বাসিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,” কি খেলতে ?মেঘলা হাসতে হাসতে বললো,” তুমি কখনো নাম শোনোনি এরকম খেলা খেলতাম ।”
রাফি বললো,” বলো না কি খেলা খেলতে ?”
এদিকে শ্রাবণ কান খাড়া করে সব কথাই শুনছে। মনে মনে ভাবছে আর মুচকি হাসছে ,”বাবা এমন একটা মেয়ের সাথে ওকে বিয়ে দিয়েছিল যে মেয়ে এখনো বাইরে বের হয়ে বান্ধবীদের সাথে খেলে ।তাহলে ছয় বছর আগে কি ছিল?”
মেঘলা হাসতে হাসতে বললো,” বরফ পানি ,বউ ছি ,গোল্লাছুট ,দারিয়া বান্ধা ,কুতকুত আরো কত কি?”
রাফি আগ্রহ ভরে জিজ্ঞেস করলো,” আচ্ছা বরফ পানি কিভাবে খেলে ?”
মেঘলা বলতে লাগলো ,” ধরো আমি বরফ হয়ে থাকবো। অপর পাশের একজন ধরো তুমি আমাকে ছুঁয়ে দিয়ে আমাকে পানি করে দিবে। আর বউছি খেলায় দুটো দল থাকে ।একটি দলের বউ থাকবে তারা বউ নিয়ে যাবে কিন্তু প্রতিপক্ষ দলের অনেকগুলো পাহারাদার থাকবে ।বউ নিতে দিবে না। একজন এক দমে এসে যদি বউকে নিয়ে যেতে পারে তাহলে নিয়ে যাবে প্রতিপক্ষ আটকানোর চেষ্টা করবে। প্রতিপক্ষ ধরে ফেলবে যদি দম শেষ হয়ে যায়।আর বাকিগুলো ………”
এমন সময় শ্রাবণ বলে উঠলো ,”থামবি তোরা পুরো রাস্তা পটর পটর পটর পটর স্কুলে চলে এসেছি ।তাড়াতাড়ি নাম সবাই ।”
মেঘলা তাকিয়ে দেখলো ,”হ্যাঁ সত্যি সত্যি তো স্কুলে চলে এসেছে। স্কুলের আশেপাশে পুরনো অনেক বন্ধু বান্ধবীদের দেখা যাচ্ছে ।মেঘলা তাড়াতাড়ি লাফিয়ে নেমে পড়ল ভ্যান থেকে।
নেমেই সাথে সাথেই স্কুলে দরজার কাছাকাছি গিয়েই দেখা হয়ে গেল দুজন বান্ধবীর সাথে ।সাথে সাথেই জড়িয়ে ধরে বান্ধবী তিনজন লাফালাফি শুরু করে দিল ।শ্রাবণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল এই মেয়ে এখনো এতটা বাচ্চা ঠিক কেমন করে তিনটি ব্যা*ঙের মতো লাফাচ্ছে।
শ্রাবণ ভ্যান ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সিয়াম এবং বাকি সবাইকে নিয়ে মেঘলার পিছু পিছু স্কুলের ভিতরে চলে আসলো ।স্কুলটি ২ তালা বিশিষ্ট বিল্ডিং।এমপিও ভুক্ত স্কুল ।যার জন্য বিল্ডিং টা অনেক বড় সামনে বিস্তর মাঠ এখানে ।সব বাচ্চারা খেলাধুলা করে এখানে।
ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল মেঘলা ওর ক্লাসের দিকে। পিছনে সিয়াম শ্রাবণ রাফি লামিয়া তানিয়া।
মেঘলা একা একা ক্লাসরুমের ভিতরে ঢুকবে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ।অলরেডি শুরু হয়ে গেছে ।ক্লাসের টিচার আছে বুঝিয়ে দিচ্ছে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবে ,তার আগে শ্রাবণ বলে উঠল,” মেঘলা দারা ।”
মেঘলা ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই বললো,” মনোযোগ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবি ।কোন একটি জায়গায় একটু যদি ভুল হয়ে যায় ভুলেও সে ভুল কপি জমা দিবি না ।সাথে সাথে স্যারকে বলবি অথবা আমাদেরকে বলবি।
আর যদি কোন জায়গায় কোন কনফিউশন থাকে কি লিখবি বা কি বসাবে আমরা এই জানালার কাছে আছি সাথে সাথে আমাকে ডাকবি ।ঠিক আছে ?”
মেঘলা বললো,”ঠিক আছে ভাইয়া ।”
বলেই ভিতরে চলে গেল বান্ধবীদের নিয়ে।
রেজিস্ট্রেশন এ কোন সমস্যা হলো না । ক্লাসের টিচাররা সব বুঝিয়ে দিয়েছে।ঠিক আধা ঘন্টা পর রেজিস্ট্রেশন করে বের হলো মেঘলা ।দরজা কাছে আসতেই হঠাৎ একটি ছেলে এসেই মেঘলা কে বললো,” কিরে মেঘলা তুই ?কতদিন পর স্কুলে এসেছিস ! স্কুলে কেন আসিস না ?তোকে কত মিস করেছিলাম জানিস?”
মেঘলা বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী।ছেলেটির নাম রনি ।সাইন্সের স্টুডেন্ট। মেধাবী ছাত্র এবং বিজ্ঞান তার খুব প্রিয় বিষয় ।মেঘলা ও ভাল ছাত্রী তবে বিজ্ঞান অতটা ভালো লাগে না বিধায় বাণিজ্য শাখা গ্রহণ করেছে।
রনি আর মেঘলা কথা বলছে পিছন থেকে তাকিয়ে আছে সবাই ।শ্রাবন প্রিন্সিপাল এর সাথে কথা বলে মাত্রই এসেছে।তাই আগের কথা গুলো শুনেনি।এসেই দেখলো মেঘলা একটি ছেলের সাথে দাঁড়িয়ে।শ্রাবণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।পর্যবেক্ষণ করছে ছেলেটিকে ।লম্বায় ৫ ফুট ৭/৮ “তো হবেই ।গায়ের রং ফর্সা সুন্দর। এক কথায় এই বয়সী মেয়েদের চকলেট বয় যাকে বলে ঠিক তেমনটাই চকলেট বয়। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা টাইপ। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছিলো শ্রাবন।
কথা বলা পর্যন্ত ঠিক ছিল হঠাৎ রনি করে বসল এক কাজ ।রনি একটি আঙ্গুল উঠিয়ে মেঘলার গালে টোল পরাস্থানে টাচ করে বললো,” তুই জানিস তোর হাসিটা কত মিস করেছি ?”
মেঘলা সাথে সাথে টোল পরা গাল আরো টোল ফেলে হেসে দিল।
সিয়াম ছোটবেলা থেকেই ওকে চিনে তাই কোন ভ্রুক্ষেপ করল না ।একসাথে বড় হয়েছে একসাথে খেলাধুলা করে কিন্তু শ্রাবণ আজ প্রথম দেখলো এবং এমন একটি দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না ।শ্রাবণের যেন মাথায় রক্ত উঠে গেল ।ওর বাড়ির মেয়ে অন্য ছেলে কেন টাচ করে দেখবে।
সাথে সাথেই শ্রাবণ ওইখান থেকে ডাক দিলো,” মেঘলা কাজ শেষ হয়ে গেছে ?”
মেঘলা চোখ তুলে তাকালো শ্রাবণের দিকে । বললো,” জি ভাইয়া রেজিস্ট্রেশন করা শেষ ।”
রনি ও তাকালো শ্রাবনের দিকে ।জিজ্ঞেস করল কেরে লোকটা ?
মেঘলা সবার সামনে বললো,” আমার বড় ভাইয়া হয়। আমেরিকা থেকে এসেছে লেখাপড়া করে ।আর ওই যে পাশেরটা উনি হচ্ছে উনার হবু বউ মানে বিয়ে হবে। আমাদের ভাবি ।এসো তোমাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি ।”
বলেই রনির হাত ধরে কাছাকাছি নিয়ে আসলো মেঘলা। অবাক নয়নে মেঘলার রনিকে হাত ধরার দৃশ্যটির দিকে তাকিয়ে আছে শ্রাবণ।এখনো হাতে হাত রেখে মেঘলা বলে যাচ্ছে বলে যাচ্ছে ।কাছাকাছি আসতে বললো,” ভাইয়া ও হচ্ছে রনি।আর উনি হচ্ছে শ্রাবণ ভাই ।আমার বড় আব্বুর বড় ছেলে বিদেশ থেকে এসেছে।”
রনি বললো ,”আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া ।কেমন আছেন ?”
শ্রাবনের যদিও কথার উত্তর দেওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না এই মুহূর্তে তারপরও ভদ্রতা বশত বললো,”এইতো ভাল আছি তুমি কেমন আছো?”
ছেলেটি বললো,” জি ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ।”
তারপর মেঘলা দিকে তাকিয়ে বললো,” কয়দিন আছো এখানে?তোকে আমি অনেক মিস করি প্লিজ কটা দিন থেকে জাও না? আজকে বিকালে খেলতে বের হবে?চলে ওসো মাঠে হ্যাঁ ?”বলেই বিদায় নিয়ে চলে গেল রনি।
রনি চলে যেতেই মন খারাপ নিয়ে রাফি বলল ,”ও তোমাদের সাথে কি খেলা করে ?”
মেঘলা বললো ,”বউ ছি তারপর বরফ পানি গোল্লাছুট সবই খেলা করে ।”
হঠাৎ ছোট্ট রাফি বলে উঠলো,” ও কি তোমাকে ছুঁয়ে দিয়ে পানি করে দেয় ?তুমি যখন বউ থাকো ও কি তোমাকে তুলে নিয়ে যায় ?”
মেঘলা বলল ,”হ্যাঁ নিয়ে যায় ।”
সাথে সাথে রাফির ছোট্ট মনটা যেন ভেঙে খানখান হয়ে গেল ।মনটা খারাপ হয়ে গেল ।ওর হবু বউকে কেন আরেকটা ছেলে ছুঁয়ে দিয়ে পানি করে ফেলবে ?দম দিয়ে নিয়ে যাবে?
এদিকে শ্রাবণ জানেনা কেন কিন্তু মেজাজ পুরোই বিগ্রে গিয়েছে ওর।র*ক্তচক্ষু নিয়ে বললো,” চল বাসায় চল ।”
সাথে সাথে লামিয়া বললো,” কেন ভাইয়া?আমরা ঘুরতে যাব না ?”
শ্রাবণ বললো,”এক থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দিব ।বাসায় যাব মানে এখন বাসায় যাব ।খাড়া দুপুরের রোদে কোথায় ঘুরতে যাব ?”
বলেই গেটের দিকে চলে গেল শ্রাবণ।
তানিয়াও অবাক হয়ে গেল ।ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে এসে এখন আবার এরকম করছে কেন ?তবে তানিয়া এতটা অবুঝ নয় বুঝতে পারছে রনি আসার পর থেকে শ্রাবণের মুড চেঞ্জ হয়ে গেছে ।তানিয়া বুঝতে পারছে না কি করবে ?এরকম চলতে থাকলে শ্রাবণ হাতছাড়া হয়ে যাবে ।এত বছরের অপেক্ষা কখনোই হাতছাড়া হতে দিবে না তানিয়া।
সবাই যার যার মতো মন খারাপ নিয়ে বাড়িতে চলে এলো ।লামিয়ার মন মন খারাপ ঘুরতে পারল না ।সিয়ামের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই ।ওর সবই চেনা সবই জানা ঘোড়ার প্রতি কোন আগ্রহ নেই ।রাফি মন খারাপ ওর মেঘলা কে আরেকজন ছুঁয়ে পানি করে দেয় শুনে ।কেমন যেন লাগছে ।এদিকে শ্রাবণ বিরক্ত কেন বিরক্ত সে নিজেও জানে না ।তানিয়া রয়েছে টেনশনে।
আর এত শত কিছু যার জন্য হয়েছে মেঘলা সে জানেই না কি ঘটিয়ে বসে আছে ।চুপচাপ বাদাম খেতে খেতে পা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে ভ্যান দিয়ে বাসায় ফিরল।
সবাইকে চুপচাপ বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখেই আসমা বেগম জিজ্ঞেস করলেন ,”কিরে তোরা না ঘুরতে বের হয়ে ছিলি ?”
সাবিহা সুলতানা উঠানে বসে কা*টাকাটি করছিলেন রোদের মধ্যে।দুপুরে রান্না বান্নার আয়োজন করছিল।
সাবিহা সুলতানা বলে উঠলেন ,”কিরে মেঘলা রেজিস্ট্রেশন ঠিকঠাক মতো করেছিস তো ?কোন ভুল করিস নি তো ?”
মেঘলা বাদাম খেতে খেতে উচ্ছ্বাসিত হয়ে বললো,”না মা কোন ভুল করিনি ।”বলেই নিজের রুমের দিকে চলে গেল ।ওর কোন মাথাব্যথা নেই ।শ্রাবণ র*ক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে রইল মেঘলা যাওয়ার দিকে।
তানিয়া আর এখানে দাঁড়ালো না ।সবকিছু বিরক্ত লাগছে আর তাছাড়া আসমা বেগমের সামনে দাঁড়াতে কেমন যেন ইতস্তত ফিল হয় তাই নিজের রুমে চলে গেল ।শুধু শুধু ঘুমটা নষ্ট হয়েছিল ।সবাই যার যার মত চলে গেলে ।শ্রাবণ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ছাদে নিজের রুমের দিকে হঠাৎ কি মনে করে যেন উল্টো ঘুরে আবার আসমা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো,” মা ছাদে আমার জন্য এক কাপ কফি পাঠাতে পারবে ?মাথাটা ভীষণ ধরেছে ।”
আসমা বেগম বললেন ,”ঠিক আছে তুই যা আমি কফি পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
শ্রাবণ কেন যেন ধরেই নিয়েছে মা মেঘলার কাছেই কফি দিয়ে পাঠাবে তাই ইচ্ছে করে কফি চেয়েছে ।হলো ও তাই ।১০ মিনিটের মধ্যেই মেঘলা ছাদের চিলেকোঠায় রুমের দরজায় এসে নক করতে লাগলো । বললো,” ভাইয়া ভিতরে আসবো ?”
শ্রাবণ পা ঝুলিয়ে খাটে বসেছিল ।হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ ।রাগ এখনো এক ফোটাও কমেনি ।বললো,”দরজা খোলা আছে ভিতরে আয়।”
মেঘলা অনুমতি পেয়ে রুমের ভিতরে ঢুকে দেখল শ্রাবণ ভাই বসে আছে পা ঝুলিয়ে বিছানার উপরে ।
কিন্তু কেন যেন দেখে মনে হচ্ছে হয়তো কোন কারনে মুড অফ তাই মেঘলা ধীরে ধীরে হেঁটে এসে কফির মগটি শ্রাবণের সামনে ধরে বললো,” ভাইয়া এই নিন আপনার কফি ।”
শ্রাবণ মাথা তুলে তাকালো ।চোখ দুটো যেন লাল টকটকে হয়ে আছে ।দেখেই সাথে সাথে অন্তর কেঁপে উঠল মেঘলার ।একি চোখের অবস্থা এরকম কেন ?
সাথে সাথে মেঘলা বললো,” ভাইয়া আপনি ঠিক আছেন ?আপনার চোখ এত লাল কেন কিছু হয়েছে?”
এমন কথার কোন উত্তর দিল না শ্রাবণ।কিছুক্ষণ এইভাবে তাকিয়ে থেকে বললো,” মেঘলা ?”
মেঘলা অবাক হয়ে বললো,” হুম ?ভাইয়া বলুন ।”
শ্রাবণ বললো,” ছেলেটিকে?”
মেঘলা বললো,” কোন ছেলেটি ভাইয়া ?”
শ্রাবণ বললো,” যার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলি আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলি?”
মেঘলা মুচকি হেসে বললো,” ও রনি ?ও তো আমার ছোটবেলার ফ্রেন্ড। সিক্স থেকে আমরা একসাথে পড়ি ।একসাথে খেলাধুলা করি ।ও তো আমাদের বাসায় আসে সবাই ওকে চিনে।”
শ্রাবণ মেঘলা দিকে তাকিয়ে বললো,” ছেলে মেয়ে কখনো ফ্রেন্ড হয় না ।”
মেঘলা বলে ,”হয় ভাইয়া ও তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।”
শ্রাবণ বললো,” তুই বুঝতে পারিস নি মেঘলা ।ছেলে মেয়ে কখনো ফ্রেন্ড হয় না তাই ও তোর ফ্রেন্ড না ।”
মেঘলা বললো ,”কেন তানিয়া আপু তো আপনার ফ্রেন্ড ছিল কত বছর একসাথে লেখাপড়া করেছেন।”
শ্রাবণ চুপ হয়ে গেল কথার কোন উত্তর নেই ।তাই বলে বসলো ,”আমি বড় আর তুই ছোট ।বড়দের হতে পারে ছোট কোন ছেলে মেয়েরা ফ্রেন্ড হতে পারে না।”
মেঘলা বলল ,”একসময় তো বড় হব ।এজন্য হতে পারে আর ছেলে মেয়েও ফ্রেন্ড হতে পারে ।ও শুধু আমার ফ্রেন্ড এবং বেস্ট ফ্রেন্ড।
আমার বাড়ির সবাই জানে ।বাবা জানে ভাইয়া জানে মা জানে সবাই জানে ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ।কেউ তো কখনো বলেনি ও তোর ফ্রেন্ড হতে পারবেনা?”
শ্রাবণ অবাক হয়ে যাচ্ছে মেঘলার যুক্তি তর্কে ।তারপর বলে বসলো ,”তোর বাবা আর তোর বড় বাবার পরে এই বাড়িতে বড় কে ?”
মেঘলা বলল ,”আপনি ।”
শ্রাবণ বললো,” এজন্যই আমি বলছি তাদের পরে এবারে মুরুব্বী আমি ।আর আমি বলছি ছেলে মেয়ে ফ্রেন্ড হতে পারে না। আমি তোর বড় ভাই তোকে বলছি এই ধরনের ফ্রেন্ডশিপ আমার কাছে একসেপ্টেড না ।আমার বাড়ির মেয়েদের অন্য কোন ছেলে টাচ করতে পারবেনা।”
মেঘলা নির্ভিক তাই বলে বসলো ,”ও মা এইবাড়ির মেয়েদের অন্য কোন ছেলে টাচ করতে পারবেনা আর এইবাড়ির ছেলেরা যে রাতের আঁধারে মেয়েদের টাচ করে বেড়ায়? আপুর সাথে তো আপনার এখনো বিয়ে হয়নি ঠিকও হয়নি আপনিও তো টাচ করেছেন তাহলে?”
শ্রাবণ নির্বাক হয়ে গেল এই মেয়ে ছোট হলে কি হয়েছে যুক্তি তর্কে এই মেয়ের সাথে পেরে ওঠা দায় ।আর কি করে বোঝাবে শ্রাবণ যে শ্রাবণ টাচ করেনি এটা এক্সিডেন্টলি সেই মেয়ে করে বসেছে ।শ্রাবণের কিছু করার ছিল না।
শ্রাবণ সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালো ।কফির মগ টেবিলে রেখে মেঘলার একটু কাছাকাছি এসে মেঘলা চোখে চোখ রেখে বললো,” আমার এসব পছন্দ না মেঘলা ।আমার বাড়ির মেয়েরা অন্য কোন ছেলেদের সাথে হাই-হ্যালো পর্যন্ত ঠিক আছে কিন্তু গায়ে স্পর্শ করে কেউ কথা বলতে পারবে না ।নেক্সট টাইম যেন মনে থাকে ।”
বলেই রুম থেকে বের হয়ে গেল শ্রাবণ।
মেঘলা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল শ্রাবণের যাওয়ার দিকে ।শ্রাবণ ভাইয়ের আবার কি হলো বুঝতে পারছে না মেঘলা ।এটা কি ধরনের নিয়ম কেউ একটু টাচ করতে পারবেনা ।শুধু গালে টোলের মধ্যে তো একটু ছুঁয়েছে ছোটবেলা থেকেই ওর সাথে এরকম করে ।হাসলে গালে আঙুল দিয়ে টাচ করে দেখে।
কিন্তু কই বাবা ভাই মা কখনো তো ওকে কেউ কিছু বলেনি ।এমনকি গ্রামের কেউ কিছু বলেনি ।গ্রামের সবাই জানে একসাথে খেলে পড়ালেখা করে বড় হয়েছে দুজন।
চলবে_
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ২০
দুপুরে কারো সাথে আর কোন কথাবার্তা বলেনি শ্রাবণ। শ্রাবণ খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকালে একটু শুয়ে ছিল রুমে ।বিকেলে ঘুম থেকে উঠেই দেখল যেন শৈত্যপ্রবাহ পড়বে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশ।
তাই রুম থেকে বের হয়ে সিঁড়ির কাছে এসেই দেখতে পেল লামিয়া কে।লামিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,” লামিয়া কফি পাঠা আমার রুমে।”
বলে ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দূরে মাঠের দিকে তাকিয়ে রইল শ্রাবণ ।আজ বিকেলে খেলতে যাওয়ার কথা মেঘলার। আচ্ছা মেঘলা কি আজকে খেলতে গিয়েছে?নাকি এখনো যায়নি? এসব ভাবনাচিন্তার মধ্যেই হঠাৎ করে দেখল কফি নিয়ে কেউ আসছে ।শ্রাবণ সাথে সাথে সি*গারেটটি লুকিয়ে পিছনে তাকাতে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ।কফি নিয়ে আর কেউ না উপরে উঠছে ছোট আম্মু সাবিহা সুলতানা।
শ্রাবণ সাথে সাথেই পিছনে ঘুরে দেয়ালের সাথে সি*গারেটটি ঘষে নিভিয়ে ফেলে রেলিং দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইল।
সাবিহা সুলতানা কফির মগ নিয়ে সামনে এগিয়ে এসে শ্রাবণের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,” আমি নিয়ে এলাম ।তোর সাথে কিছু কথা ছিল তাই ভাবলাম এখানে কথাগুলো সেরে ফেলি।”
শ্রাবণ ভয় পেয়ে গেল ।ভাবলো ছোট আম্মু আবার কি কথা বলবে ?তাই বললো,” ঠিক আছে আম্মু বল।”
সাবিহা সুলতানা কোনো ভূমিকা করলো না ।সামনে মাঠের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”তুই আমাদের ছেলে ছেলে হয়ে থাক সমস্যা নেই ।কিন্তু যেহেতু মেঘলা সাথে তোর সম্পর্কটা কেউ জানে না এবং তুই চাচ্ছিস না সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাই আমি বলব যে সম্পর্কে দুদিন পরে কোন অস্তিত্ব থাকবে না সেই সম্পর্কে এত অধিকারবোধ না থাকাই ভালো।
যেমন ওর বেশি কেয়ার করা ওর প্রতি যত্নশীল হওয়া ও কি করবে না করবে সেগুলো ডিসাইড করে দেওয়া ।এগুলো দরকার কি শুধু শুধু ?মেঘলা এখন উঠতি বয়সের মেয়ে ।আল্লাহ না করুক যদি তোর দিকে ঝুঁকে যায় তোর প্রতি কোন অনুভূতি সৃষ্টি হয়ে যায় ? তখন? এই সম্পর্কে তো কোন ভবিষ্যৎ নেই ! তাই আমি চাই না তুই ওর সাথে বেশি একটা মেলামেশা করিস ।চাচাতো বড় ভাই হিসেবে যতটুকু করা যায় তার চাইতেও একটু কম করবি ।প্রয়োজন বোধে একটু দূরত্ব বজায় রাখবি যেন ও ভয়ে তোর কাছে না আসে।”
শ্রাবণ বললো,” আম্মু আমি আসলে …….
আর বলে শেষ করতে পারলো না শ্রাবণ ।সাবিহা সুলতানা বলে উঠলেন ,”আমি তোর কাছে কোন ব্যাখ্যা জানতে চাইনি বা তোকে কোন দোষারোপ করছি না ।যা হয়েছিল ছয় বছর আগে তাতে তোর চেয়ে বেশি দোষ হয়তো আমাদের বড়দেরি ছিল ।তাই তোর উপরে জোর করে কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না ।কিন্তু আমি চাইনা আমার মেয়েটা যে সম্পর্ক জানে না সে সম্পর্ক ধরে ওকে কোনদিন কোন মানুষ বাজে কথা শোনাক বাজে ইঙ্গিত দেক কারন এই সম্পর্কটা তুই মানিস না ।কিন্তু সম্পর্ক তো একটা আছে ।তাই তোর সাথে এত মেলামেশা করাটাও হয়তো ঠিক না ।ও না হয় জানে না কিন্তু আমরা তো জানি তাই দূরত্ব বজায় রাখাই বেটার। আজ শুধু আমি মেঘলার মা হয়ে কথাগুলো বলছি তাই তোর কাছে হয়তো খারাপ লাগতে পারে কিন্তু তুই ভালো করে জানিস আমি ভুল কিছু বলিনি। আর আমি বুঝতে পারি হয়তো তানিয়ার সাথে তোর শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্ক নয় ।হয়তো এই সম্পর্ক বিয়ে অব্দি গড়াবে তাই এটাই কি ভালো নয় আগেভাগেই সবকিছু থেকে দূরে সরে যাওয়া। আর আমাদের তোর এই সিদ্ধান্তের উপরে কোন বিরূপ মন্তব্য নেই তুই যা ইচ্ছা হয় করতে পারিস কারণ জীবনটা তোর ।আমরা কোন ভাবেই তোকে কোন কিছু চাপিয়ে দিব না। শুধুমাত্র এটাই চাই আমার মেয়েটা যেন সবকিছু থেকে দূরে থাকতে পারে ।সেই ছয় বছর আগের কালো অতীত এর কোন প্রতিফলন যেন এখন ওর কোমল ভবিষ্যতে না পড়ে। তুই বড় ভাই বড় ভাই হয়ে থাক।”
এগুলো বলে সাবিহা সুলতানা আর এক মিনিট ও অপেক্ষা করলো না ।সিঁড়ি বেয়ে চলে গেল নিচে ।শ্রাবণ তাকিয়ে রইল ছোট আম্মুর যাওয়ার পানে ।কথাগুলো একটিও মিথ্যা বলেনি তারপরও কেন মেনে নিতে পারছে না শ্রাবণ ! কেন মনে হচ্ছে যেন শ্রাবণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কিছু করতে বলা হলো যা শ্রাবণ করতে চায় না।
সাবিহা সুলতানা চলে যেতেই কফি মগে চুমুক দিতে দিতে তাকালো সামনের মাঠের দিকে ।হঠাৎ শ্রাবণের চোখ পরল দুই বেনী করে একটি মেয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। একটি কুর্তা এবং একটি ঢোলা পায়জামা যেহেতু শীতের দিন তাই একটি সোয়েটার পড়া ।
লামিয়া ,সিয়াম ও রাফিও আছে ।তাদের সাথে সবাই মিলে দৌড়াদৌড়ি করে কিছু একটা খেলছে ।সাথে সেই ছেলেটা রনি ও সাথে আছে।কফির মগটি জোরে হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে ধরল শ্রাবণ।
ইচ্ছে করছে যেয়ে দুটো বকা দিয়ে প্রত্যেকটা কে জিজ্ঞেস করতে এই শীতের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি কেন করছে ?কিন্তু কোথাও যেন আটকে গিয়েছে শ্রাবণ ।মাত্রই সাবিহা সুলতানার বলা কথাগুলো কারণে শ্রাবণ যেতে পারছে না।
কফি খাওয়া শেষ সেই কখন । শ্রাবন কে কফি দেয়ার কথা বলেই লামিয়া ও মেঘলা দের সাথে বাহিরে চলে গিয়েছিল ।এখনো আসেনি ।তবে শ্রাবণ এখনো চাতক পাখির মত ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখছে প্রত্যেকটি দৃশ্য।
বউচি খেলছে মেঘলা লামিয়া রাফি রনি ও আরো ছয় থেকে সাতজন ছেলে মেয়ে ।দুইটি ভাগে ভাগ করে খেলছে ।সিয়াম বসে আছে সামনে মাঠের এক কোণে ।খেলছে না।
শ্রাবন ছাদে দাঁড়িয়ে দেখল মেঘলা বউয়ের জায়গায় দাঁড়িয়েছে রনি দৌড়ে দৌড়ে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে কাকে কাকে যেন ছুয়ে মেঘলা কে নিয়ে যাচ্ছে।হাত ধরা দৃশ্যটি দেখে এতটা দৃষ্টিকটু লাগলো শ্রাবণের কাছে সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলল শ্রাবণ।
হাত দুটো দিয়ে চেপে ধরেছে রেলিং এর একাংশ যেন ইট না হলে এতক্ষণে ভেঙ্গে ফেলত সবকিছু ।এত বিরক্ত লাগছে এত খারাপ লাগছে জানেনা কেন ?সাবিহা সুলতানা বলা কথাগুলোর কারণে নাকি সামনে দেখা দৃশ্যটির কারণে।
সন্ধ্যা ৭ টা ।সবাই একসাথে চা নাস্তা খাওয়া দাওয়া করবে তাই বুদ্ধি করল ছাদে চিলেকোঠার রুমে গিয়ে সবাই মুড়ি মাখা খাবে আর গানের কলি খেলবে।
যেমন ভাবা তেমন কাজ ।আসমা বেগম বললেন ,”তোরা উপরে যা আমি জমির ভাইকে দিয়ে মুড়ি মাখা পাঠিয়ে দিব ।তোরা যেয়ে খেলতে থাক ।”তাই সব গেদা বাচ্চারা উপরে উঠে গেল সাথে নিয়ে গেল কয়েকটা বালিশ আরো দুটো কম্বল।
তানিয়াও বের হলো এমনিএ সন্ধ্যার সময় যেত ।ওদেরকে দেখে বললো,” দাড়াও আমিও আসছি ।”
লামিয়া বলল ,”ঠিক আছে আপু আসেন।”
সবাই ছাদে চিলেকোঠার রুম খোলা পেয়েই হুড়মুড়িয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ল ।ঢুকে দেখল শ্রাবণ কোথাও নেই ।এদিক-ওদিক সবাই তাকাতে লাগলো ।দেখলো ওয়াশরুমে দরজাটা হালকা খোলা।
লামিয়া মাত্র ডাক দিল ভাইয়া কোথায় তুমি বলে।সাথে সাথে শ্রাবণের থুতনিতে ট্রিমার একটু উল্টোপাল্টা লাগায় একাংশ কেটে গেল ।
হালকা করে একটু গলায় টাওয়েল পেচিয়ে ট্রিমার করে নিচ্ছিল শ্রাবণ।
থুতনি তে একটু কাট হওয়ার সাথে সাথে আ করে উঠলো শ্রাবণ ।সাথে সাথে ট্রিমার টা অফ করলো ।লামিয়া আর মেঘলা দরজার কাছাকাছি থাকায় সাথে সাথে উঁকি দিয়ে বললো,” কি হয়েছে ভাইয়া ?”
শ্রাবণ তাকালো মেঘলার দিকে ।বিকালে তো তাও একটা সোয়েটার পড়া ছিল স্কার্ফ গায়ে দেওয়া ছিল এখন শুধু একটি কুর্তি এবং ঢোলা একটা পায়জামা পড়ে চলে এসেছে গায়ে কোন চাদর নেই।এতো বড় ধিঙগি মেয়ে ওড়না ও নেই গায়ে।
শ্রাবণ ঠান্ডার জন্য বিকেলে একটু গায়ে চাদর পেচিয়ে ছিল সেই চাদরটি খুলে চাদরটি সাথে সাথে মেঘলার সারা শরীরে পেচিয়ে দিয়ে বললো,” শীত লাগছে না তোর ?এটা পেচিয়ে থাক।”
মেঘলা খেয়াল করলো থুতনির একটু এদিকে হালকা একটু র*ক্তের মত বের হয়েছে ।তার মানে এখানেই ব্যথা পেয়েছিল শ্রাবণ ভাইয়া ।তাই মেঘলা বললো,” ভাইয়া আপনার এখানে এন্টিসেপটিক মলম লাগাতে হবে।”
শ্রাবণ মেঘলা দিকে তাকিয়ে একটু খোঁচা মরে বললো,” কেন এটার জন্য গ্রামীণ কোন নুসকা যেমন কোন গাছের পাতা বা কোন কিছুর রস এনে ঘষে লাগিয়ে দে।”
মেঘলা বললো,”” আছে তবে দিনের বেলা হলে দিতাম এখন রাত হয়ে গিয়েছে গাছের পাতা খুঁজতে বাইরে যাওয়া যাবে না ।তাই আপনার রুমে এন্টিসেপটিক ক্রিম আছে আমি নিয়ে আসছি।”
বলেই যেই চাদরটি খুলতে লাগল অমনি আবার শ্রাবণ বলে উঠলো ,”তোকে চাদর দিয়েছি শীত থেকে বাঁচার জন্য শরীরে পেচিয়ে রাখার জন্য খুলে ফেলার জন্য না।”
মেঘলা বললো,” কিন্তু ভাইয়া আমার তো এখন শীত ………আর বলে শেষ করতে পারল না মেঘলা ।সাথে সাথে শ্রাবণ মেঘলা দিকে তাকিয়ে বলল,” বড় ভাইদের মুখে মুখে তর্ক না করলে চলে না ?আমি যখন বলেছি নিশ্চয়ই কিছু বুঝে বলেছি ।সুন্দর করে চাদরটা পেচিয়ে রাখ।”
বলেই টাওয়েল ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে রেখে আলমারির কাছে গিয়ে একটি হুডি বের করে নিল। সাথে সাথে হুডি পরে বললো,” তোরা সবাই আমার রুমে কি করছিস?”
লামিয়া বলে উঠল ,”আমরা সবাই গানের কলি খেলব এখানে আর মুড়ি মাখা খাব ।জমির চাচা একটু পরে মুড়ি মাখা দিয়ে যাবে।”
শ্রাবন অবাক হয়ে বললো,” কেন তোদের রুমে কি তোরা খেলতে পারতি না ?আমার রুমে এসে ডিস্টার্ব করতে হবে কেন ?যা আমার কাজ আছে আমার রুমে ।এখন আমাকে ডিস্টার্ব করতে পারবি না ।”
সাথে সাথে লামিয়া বলে উঠলো ,”মোটেও না নিচে সবাই কাজ করছে ওইখানে আমরা গান গেলে সবার ডিস্টার্ব হবে তাই চিলেকোঠার রুমে চলে এসেছি। অল্প একটুক্ষণ বেশিক্ষণ না প্লিজ আমাদের থাকতে দাও।”
বলেই সাথে সাথে সবাই কম্বল বালিশ সহ হুড়মুড়িয়ে বিছানায় উঠে পড়লো ।শিয়াম ও ধীরে ধীরে বিছানায় উঠলো ।রাফি লাফিয়ে লাফিয়ে মেঘলার কাছাকাছি বসলো ।তানিয়া বসলো খাটের একপাশে শ্রাবণ একটি চেয়ার নিয়ে বসলো খাটে উঠল না।
প্রথমে গান শুরু করলো লামিয়া,”ও আমার …
বন্ধু গো ….
চিরসাথী পথ চলার ….
তোমার জন্য গড়েছি আমি
মানজিল ভালোবাসার….
র দিয়ে।এবার রাফির টার্ন।
রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি
বাংলাদেশের নাম।
ম দিয়ে এবার সিয়াম।
মধু মালতি ডাকে আয়
ফুলো ফাগুনের এ খেলায়।
আ দিয়ে…. মেঘলা
আমার মনের মধ্যে খানে
মন যেখানে হৃদয় যেখানে
সেখানে তোমাকে আমি
রেখেছি কতনা যতনে
তোমার বুকের মধ্যেখানে
মন যেখানে হৃদয় যেখানে
সেখানে আমাকে রেখো
আর কোথাও যাবো না জীবনে।
চলবে__
Share On:
TAGS: এক শ্রাবণ মেঘের দিনে, নীলা রহমান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৫৬+১৫৭
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮০
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৫+১৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৬১(শেষ)
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৮