এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ৩৪+৩৫
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ৩৪
শ্রাবণ চলে যাবে হঠাৎ আবার ঘাড় ঘুরিয়ে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,” ভালো থেকো তানিয়া। আমি একটু পর বের হব যাওয়ার সময় হয়তো দেখা হবে না ।তাই ভালো থেকো।”
শ্রাবণ চুপচাপ তানিয়া জানে ।শ্রাবণ যেভাবে বিদায় নিচ্ছে তানিয়ার কেমন যেন লাগছে ।মনে হচ্ছে এই দেখায় কি শেষ দেখা হবে ?এভাবে কেন বিদায় দিচ্ছে শ্রাবণ ?তাহলে কি শ্রাবণ ওকে বিয়ে করবে না?
মনে মনে ভাবছে তানিয়া ,”আমি ভুল করেছি কিছু বুঝে উঠতে পারিনি ।মেঘলার প্রতি তোমার অন্যরকম দৃষ্টি আমার সহ্য হয়নি।তোমাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার ভিতরটা এত নাড়িয়ে দিয়েছিল যে আমি বুঝে উঠতে পারিনি আমার কি করা উচিত ! প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও !”
তানিয়া দৃষ্টি না বলা কথা শ্রাবণ বুঝতে পারছে কিন্তু শ্রাবণ নিরুপায়।
শ্রাবণ ধীরে ধীরে হেঁটে সিঁড়ির কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো ।দাঁড়িয়ে পিছনের দিকে না তাকিয়ে বললো,” মেঘলা আমার কফি নিয়ে উপরে।”
মেঘলা দাঁড়িয়েছিল । হন্তদন্ত হয়ে বলে উঠলো,”জি ।”
শহিদুল খান রফিকুল আলম এবং সাজ্জাদ খান রান্নাঘরে থাকা সাবিহা সুলতানা আসমা বেগম সবাই যেন অবাক হয়ে গেল।
এই মুহূর্তে মেঘলা কে কফির কথা বলে এখান থেকে ডেকে নেওয়ার কারণটা কি ?যেহেতু সবাই জানে বিয়ের কথা। শুধু রফিকুল আলম ছাড়া।
রফিকুল আলম এমনি অবাক হল তানিয়ার জন্য আজ এতটা অপমানিত হতে হল তাই তানিয়ার দিকে তাকাল।
তানিয়া অপমানিত ভীষণভাবে অপমানিত ।মাথা নিচু করে বসে আছে ।চোখ থেকে দু ফোটা পানি পরলো।
তানিয়া জানে ভুল করেছে মিথ্যা বলেছে অন্যায় করেছে কিন্তু সবকিছুতে শ্রাবণকে পাওয়ার জন্যই করেছে ।গত তিনটা বছর শ্রাবণকে পাওয়ার জন্য কি করেনি ?তাই শ্রাবণ বাধ্য হয়ে বলেছিল ঠিক আছে বাংলাদেশের যেয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিও যদি পরিবার রাজি হয় তাহলে বিয়ে হবে। তাই শ্রাবণের কথা শোনা উচিত ছিল ।একটু অপেক্ষা করা উচিত ছিল ।শ্রাবণ বারবার বলেছিল ওর পরিবার একটু ঝামেলার মধ্যে আছে ঝামেলাটা শেষ হলে ওর বাবার সাথে কথা বলবে কিন্তু তানিয়া কিসের ভয়ে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নিজ হাতে সব শেষ করে দিল।
সবার নীরবতা ভেঙে আবার শ্রাবণ বলে উঠলো ,”কফি বানাতে জানিস ?আমি কেমন কফি খাই জানিস?”
মেঘলা হকচকিয়ে গেল । বললো,” আমি তো কোনদিন বানায়নি ।”
শ্রাবণ ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে বললো,” শিখিস নি কেন ?বাড়িতে কেউ না থাকলে কি আমি কফি খাবো না ?আজকে নিজের হাতে বানিয়ে তারপর উপরে নিয়ে আসবি ।”
বলেই সিড়ি ভেঙে উপরে চলে গেল শ্রাবণ।যেন সবার উত্তর দিয়ে গেল ।
তানিয়াকে কিছু না বলেই কত কিছু বুঝিয়ে গেল শ্রাবণ।
মেঘলা কোন কিছু না বলে সবার সামনে থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল রান্নাঘরের দিকে ।আসমা বেগম পানি বসিয়েছিলেন।
মেঘলা কে রান্নাঘরে ঢুকতে দেখেই চুলার ছেড়ে দিল মেঘলাকে ।জায়গা করে দিয়ে বলতে লাগল শ্রাবণ কিভাবে কফি খায় ।আগে শিখিয়ে দিল কপি একটি কাপে নিয়ে কিছুক্ষণ সেটাকে ব্লেন্ড করে ফোম তৈরি করতে হবে ।তারপর সেখানে ধীরে ধীরে জাল দেওয়া দুধ ঢেলে দিতে হবে চিনি খায় না শ্রাবণ।
রফিকুল আলম সবার দিকে তাকিয়ে বললেন ,”আসলে আমি না জেনে আসার জন্য দুঃখিত ।আমার হয়তো আগে সবকিছু জেনে নেওয়া উচিত ছিল।”
রফিকুল আলম বড় বিজনেসম্যান ।সে জানে কিভাবে সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করতে হয় ।এখানে সম্পূর্ণ দোষটাই তানিয়ার তানিয়া তথ্য গোপন করেছে এবং মিথ্যা কথা বলে রফিকুল আলমকে কনভিন্স করে এখানে এনেছে ।যেখানে যে ছেলের সাথে সম্পর্কের কথা বলছে সেই ছেলে সবার সামনে বলে গেল কোন সম্পর্ক নেই এবং সত্য তাই ।উনি তানিয়া চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরেছেন সমস্ত কিছুই ছিল তানিয়া জল্পনা কল্পনা ।ও কোন মতে শ্রাবণকে পেতে চাইছিল ।তাই রফিকুল আলম বললেন ,”আপনাদের কষ্ট দিলাম আর আমারও একটি মিটিং আছে যদি কিছু মনে না করেন আমি যেতে চাইছি ।”
উনি আসলে এখানে আর দাঁড়াতে চাচ্ছেন না ।তানিয়াকে বললেন ,”যাও লাগেজ গুলো নিয়ে আসো।”
তানিয়া চুপচাপ উঠলো ।নিজের রুমে লাগেজ গুলো নিবে তার আগে একটু ভাবলো শ্রাবণের সাথে কথা বলবে ।তানিয়া ধীরে ধীরে উপরে উঠে গেল শ্রাবণের রুমের উদ্দেশ্যে। শ্রাবণের রুমের কাছাকাছি আসতেই নক করলো তানিয়া ।শ্রাবণ জানে তানিয়া এসেছে তাই বললো,” হ্যাঁ ভিতরে আসো।”
তানিয়া বললো,” চলে যাচ্ছি শ্রাবণ ।আমাকে কি মাফ করে দেওয়া যায় না ?আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য সব কিছু করেছি ।আর কেউ না জানুক তুমি তো জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি?
ভুল হয়ে গেছে আমার তুমি যখন বলবে তখনই বিয়ে হবে ।সময় লাগলে সময় নাও কিন্তু বিয়েতে অস্বীকার করো না।”
শ্রাবণ বললো,” দেখো তানিয়া বিয়েটা এক কথার কিছু না ।তুমি তোমার বাবার সাথে যাও যদি আমাদের ভাগ্যে বিয়ে থাকে অবশ্যই হবে ।আমরা চাইলেও হবে না চাইলেও হবে। অন্তত আমি এটাই বিশ্বাস করি বিয়েটা ভাগ্যের ব্যাপার যার সাথে আল্লাহ জুটি লিখে রেখেছে তার সাথে হবেই।”
এমন সময় মেঘলা কফি নিয়ে এলে ভিতরে ওদের কথা শুনেই চলে যেতে চাইলো কিন্তু শ্রাবণ মেঘলার উপস্থিতি টের পেয়ে বললো,” ভিতরে আয় যেতে হবে না।”
মেঘলা আসলে এই মুহূর্তে অস্বস্তিকর পরিবেশে ঢুকতে চাচ্ছিল না ।তারপরও ঢুকে ধীরে ধীরে কফি এগিয়ে দিয়ে বললো,” ঠিক আছে আসছি ।”
শ্রাবণ বললো,”চাপকে দুধদাঁত গুলো ফেলে দিবো।যেতে বলেছি আমি? যেতে হবে না দাঁড়া কথা আছে তোর সাথে আমার।”
তানিয়া শ্রাবণের দিকে তাকালো ।মেঘলা সামনে যে এসব বলতেও লজ্জা লাগছে ।তানিয়া বললো,” ঠিক আছে আসছি ।”
শ্রাবণ বললো,” ভালো থেকো তানিয়া ।”
তানিয়া চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে গেল।
চোখের পানি মুছতে মুছতে বারবার বলতে লাগলো ভাগ্যে থাকলে হবে। তানিয়া এত ভাগ্যে বিশ্বাসী ছিল না ।নিজের পাওনা নিজে বুঝে নিতে বিশ্বাসী ছিল ।সবকিছুই করেছিল তাহলে হয়তো ভাগ্যের জন্যই হেরে গেল তানিয়া।
মেঘলা ভয় পাচ্ছে কেন মেঘলা কে দাঁড় করিয়ে রাখল ।
শ্রাবণ কড়া চোখে তাকালো মেঘলার দিকে ।তাকিয়ে বললো,” কি বলেছিলি আমি আমেরিকায় কি কি করি ?আমি ওর সাথে কি কি করেছি ?মুখে মুখে কি করি?তিন বছর একসাথে ছিলাম ওকে আমি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি বিয়ের জন্য ?এগুলো তোর মাথায় কিভাবে এসেছিল?”
মেঘলা হয়ত মনে মনে জানতো এসব নিয়ে কিছু একটা বলবে ।মেঘলা বলতে লাগলো ,”না আসলে আমরা মনে করেছিলাম।”
শ্রাবন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জোরে একটি ধমক লাগায়ে দিল । বললো,” চুপ ! মনে করেছিলি ?ধুপধাপ কিছু একটা মনে করে আমার চরিত্রে কলঙ্কের দাগ এঁকে দিলি ?তিন বছর আমি ওর সাথে ছিলাম ?এসেই ওকে নিয়ে এসেছি বিয়ে করতে?আমার চরিত্রের কতটুকু কলঙ্ক লাগিয়েছিস বলতে পারিস?”
মেঘলা এবার কান্না কান্না হয়ে গেল । বললো,” আমি কি একা ভেবেছি বাড়ির সবাই ভেবেছে।”
শ্রাবণ বললো,”চুপ বেয়াদপ? বাড়ির সবাই ভেবেছে কিন্তু কেউ আমাকে খারাপ কথা বলেনি তুই আমাকে সোজা চরিত্রহীন ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছিস। তাও কেন বলেছিলাম আমার বাড়ির মেয়েদের বাহিরে ছেলে কেন স্পর্শ করবে? আর তার জন্য তুই আমার চরিত্রের রফা দফা করে ছেড়েছিলি।”
শ্রাবণ আরো কড়া কিছু বলবে তার আগেই মেঘলা দৌড় দিয়ে বাইরে চলে গেল । শ্রাবণ হকচকিয়ে গেল।যাওয়ার আগে অবশ্য মেঘলা বলে গেল ,”কফি খান মাথা ঠান্ডা করেন।”
চলবে__
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ৩৫
শ্রাবণ রুমে বসে কিছু টুকিটাকি কাজ করছিল হঠাৎ এমন সময় ফোন আসলো ।ফোনে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলো উকিলের নাম্বার।
ফোনটা রিসিভ করবে কি করবে না ভাবছে শ্রাবণ ।হঠাৎ করে কেমন যেন দোনোমনায় ভুগছে শ্রাবণ ।ফোন ধরে কি বলবে বুঝতে পারছে না যেনো। রিসিভ করতেও ইচ্ছে করছে না।তবে কিছুক্ষণ পরে হলেও ফোনটি রিসিভ করল শ্রাবণ।
ফোন রিসিভ করতে ওপাশ থেকে উকিল বলে উঠলো ,”হ্যালো স্যার কেমন আছেন?”
শ্রাবণ বললো,” জি এইতো ভালো ।ওপাশ থেকে বলে উঠলো স্যার আপনি বলেছিলেন ঢাকায় এলে বাকি প্রসেস গুলো করতে ।”
শ্রাবণ বললো,” আচ্ছা ওই যে ১০ লাখ টাকার কথা বলেছিলেন কাবিনের টাকা পরিশোধ করে দিয়ে তারপর ডিভোর্সের কথা।কাবিনের টাকা তো ছেলের পরিশোধ করতে হয় তাই না ?আই মিন ছেলে নিজের টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে হয়।”
উকিল বললেন ,”জি হ্যাঁ নিজের টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে হয় তবে কিছু ক্ষেত্রে ছেলের বাবা মা ও সাহায্য করতে পারে বা যেকোনো জায়গা থেকে টাকাটা মূলত মেয়ে পেলেই হল।”
শ্রাবণ মোবাইল ফোনটি লাউডে করে চলে গেল ওর পার্সোনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অ্যাপস এ ।গিয়ে দেখল সেখানে টাকা আছে অনলি ২৫ লাখ। ইজিলি দিয়ে দেওয়া যায় ।হঠাৎ করে শ্রাবণের মাথায় আসলো একাউন্টে কত টাকা আছে বা টাকা আছে কিনা আদৌ এটা তো কেউ জানে না ।শ্রাবণ বললো,” এই মুহূর্তে তো আমার কাছে টাকা নেই ।আপনি তো জানেন আমি মাত্র আমেরিকা থেকে এলাম ।দুই এক মাস পর আমি টাকা ইনকাম করে যদি দেই সমস্যা হবে?”
উকিল বললো,” জি না সমস্যা হবে না তবে প্রসেস টা একটু দীর্ঘায়িত হবে আর তাছাড়া আপনাদের এত টাকা আংকেল কে বললেই তো …… শ্রাবণ বলে ,”না না ব্যাপারটা কেমন দেখায় ! আমার ডিভোর্সের জন্য আমি পরিবারে কারো কাছ থেকে টাকা কেন নেব বলুন?”
উকিল বললেন ,”আচ্ছা ঠিক আছে যেহেতু একটু প্রসেস দীর্ঘায়িত হলে সমস্যা নেই তাহলে টেক ইওর টাইম।”
বলেই ধন্যবাদ দিয়ে ফোন রেখে দিলেন উকিল।
শ্রাবণ হতবাক হয়ে ধপাস করে বিছানায় বসে পড়ল ।কি করলো এই কাজটা ?কেন করল ?নিজের মনকে প্রশ্ন করছে শ্রাবণ।
এই ধরনের একটি মিথ্যা কথা হঠাৎ করে ওর মুখ দিয়ে কেন বের হলো ?ওতো তরিঘড়ি করে দেখেছিল ওর একাউন্টটে এখনও ২৫ লাখ টাকা আছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেখানে পার্টটাইম জব করত শ্রাবণ।সমস্ত টাকায় একাউন্টে জমা হয়েছিল। কখনো প্রয়োজন হয়নি, তাই প্রয়োজনের বাইরে খরচ করেনি কিন্তু কেন এই মিথ্যে কথাটা বলল শ্রাবণ নিজের মনকেই বারবার প্রশ্ন করছে ।কিন্তু কোন জুতসই উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।
শ্রাবণ দুই হাত দিয়ে নিজের চুল মুঠো করে ধরলো। কি হচ্ছে ওর সাথে কিছুই বুঝতে পারছে না ।ও কি চায় কি করবে কি করা উচিত যেন একটা গোলকধাঁধা মধ্যে আছে ।কোন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।মন বলছে এক কথা মস্তিষ্ক বলছে আরেক কথা।
ঠিক এমন সময় দরজার কাছ ঘেঁষে গান শুনছে গুনগুন করে ।
“আমি তো প্রেমে পড়িনি
প্রেম আমার উপরে পড়েছে।”
শ্রাবণ কান খাড়া করে শুনল হ্যাঁ এটা মেঘলার ভয়েস ।মেঘলা গান গাইছে ।শ্রাবণ সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেল ।মনে মনে বললো,”পাকনা মেয়ে গানটা কি গাইছে ! প্রেমে পড়ে নি প্রেম ওর উপরে পড়েছে !”
আজকে ওর উপরে প্রেম পড়াচ্ছি। সাথে সাথে হেঁটে দরজা কাছে আসতে দেখলো মেঘলা নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল। চুল ঝাড়তে ঝাড়তে যাচ্ছিল রুমে।শ্রাবণ সাথে সাথে ডেকে উঠল ,”মেঘলা এদিকে আয়।”
মেঘলার পা জোড়া থমকে গেল ।হঠাৎ করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ।দেখল শ্রাবণ ভাই পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে ।দশ হাত দূরত্ব হবে তবে চেহারায় চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ ।মেঘলা মনে মনে বললো,” এইরে কাম সারছে ।এই বান্দা নিশ্চয় আমার গান শুনে ফেলছে ।”
মেঘলা হাতের নখ দাঁতে কাটতে কাটতে আমতা আমতা করে সামনে এসে বললো,” কিছু বলছেন ভাইয়া?”
শ্রাবণ পা থেকে মাথা পর্যন্ত চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখল মেঘলাকে ।মনে হচ্ছে একটু আগেই গোসল করেছে ।চুল ঝাড়ছিলো। চুল এখনো ভেজা ভেজা ।হলুদিয়া গালের রঙ্গে টোল পরা হাসি দেখলেই গলে যাওয়ার কথা ।কিন্তু না আজকে গলবে না শ্রাবণ।সাথে সাথে ধমক দিয়ে বললো,” এই তোর বয়স কত হয়েছে?”
মেঘলা সাথে সাথেই বললো,” ১৬+” ।
“যেমন করে বললি মনে হচ্ছে ১৮ +। যাইহোক ,প্রেম তোর উপরে কিভাবে পড়ে ?প্রেম কি কোন মানুষের শরীর যে ঠাস করে তার উপরে পড়ে গেল ?এরকম বিদঘুটে গান কোত্থেকে শিখেছিস তুই?”
মেঘলা অবাক হয়ে বললো,” এটা তো বিদঘুটে গান না ভাইয়া ।এটা হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চুর অনেক নামিদামি একটা গান ।অনেক হিট গান।”
শ্রাবণ বললো ,”আইয়ুব বাচ্চুকে আর ওর গান তুই আমাকে শিখাবি ?চাপকে দাঁতগুলো সব ফেলে দিব বে*য়াদব ।আমি বলতে চাচ্ছি প্রেম মানুষের উপরে আবার কিভাবে পড়ে আর তুই এই বয়সে এই গান কেন যাচ্ছিস?”
মেঘলা অবাক হয়ে বললো,” গানের সাথে বয়সের কি সম্পর্ক ?গান যখন গাইতে পারবো তখন থেকেই তো গাইবো?”
শ্রাবণ বললো ,”না গাইতে পারলে গাই বি না।এটা কোন লজিক হলো না ।যেমন এখনো তুই অনেক কিছুই করতে পারিস কিন্তু তুই চাইলেও করতে পারবি না।”
মেঘলা এবার হতবাক থেকে হতকুত*তা হয়ে বলল,” কি যা তা বলছেন ভাইয়া ?অনেক কিছুই করতে পারি ?কিন্তু চাইলেও করতে পারব না ?কি করতে পারি আমি?”
শ্রাবণ বিরক্ত হয়ে মনে মনে একটা গালি দিয়ে ফেলল ,”বেয়াদবের বাচ্চা ” শিট ! পরক্ষণে মনে পরল বেয়াদবের বাচ্চা বলা যাবে না ।নিজের আপন চাচার মেয়ে তাহলে তো নিজের রক্তকে গালি দেওয়া হয়।
শ্রাবণ নিজের মনকে নিজের সংশোধন করে বললো,” আচ্ছা আমাকে শ্রাবণ ভাইয়া বলে কেন ডাকিস?”
মেঘলা বললো,” ও মা তাহলে কিভাবে ডাকবো ?ভাইয়াকে ভাইয়া বলবো না তো কি বলবো ?”
শ্রাবণ বললো,” ভাই বলবি কিন্তু শেষের যে একটু বেশি জোর দিয়ে য় লা*গাস সেটা বলবি না ।বলবি শ্রাবণ ভাই।”
মেঘলা বললো,” শেষের অন্তঃস্থ বর্ণটা কি দোষ করেছে ?সবকিছুই থাকতে পারলে য় টা থাকতে পারবেনা?”
শ্রাবণ বললো,” না থাকতে পারবে না ।এখন থেকে শ্রাবণ ভাই বলে ডাকবি ।যদি আরেকবার শুনি শ্রাবণ ভাইয়া বলেছিস তাহলে আমিও তোকে যেভাবে ডাবিয়ে দুই ভাইয়া বলে ডাকিস সেভাবে ডাবিয়ে একটা চ*র লাগিয়ে দিব গালের মধ্যে।”
অবচেতন মনেই মেঘলার হাত উঠে গেল গালের মধ্যে ।তারপর খেজিয়ে উঠে বললো,” কথায় কথায় এত ঝাড়ি মারেন কেন ?কথায় কথা আমার দাঁত ফেলে দিতে চান কেন ?আমার দাঁত আপনাকে কি করেছে ?কামড় দিয়েছি আপনাকে?”
বলেই সাথে সাথে হুড়মুড়িয়ে পা ফেলে চলে গেল নিজের রুমে ।শ্রাবণ হা হয়ে রইলো ।এই মেয়ে ওকে পুঁচকি একটা মেয়ে ওকে কথা শুনিয়ে যায় ! আর কি বলে গেল কা*মড় দিয়েছে কিনা?
শ্রাবণ অবাক হয়ে গেল ।পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে যায় প্রত্যেকবার এই মেয়ের সাথে কথা বলতে গেলে ।কিছু একটা বললেই খেজি মেরে উঠে ।আর কত বড় সাহস ওকে কি বলে গেল ?কথায় কথায় ধমক দেন কেন ?চিন্তা করা যায় ?লামিয়াও তো ছোট বোন লামিয়াকে ধমক দিলে লেজ গুটিয়ে বি*ড়ালের মত রুমে চলে যায় ।তাকাবার ও সাহস পায় না আর এই মেয়ে চারটি কথা না শুনিয়ে যেন শান্তি হয় না।
“এই মেয়ের পিছনে নিজের পরিশ্রমের ১০ লক্ষ টাকা খরচ করবে শ্রাবণ? জীবনেও না।১০ পয়সাও না।তুই সারাজীবন এমনি পরে থাক বেয়াদদবের বাচ্চা। ধ্যাত বেয়াদদপ। বাচ্চা বলা যাবে না।”মনে মনে শ্রাবণ।
সরি লেইট হলো।
Share On:
TAGS: এক শ্রাবণ মেঘের দিনে, নীলা রহমান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৩
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯০
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪২
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১২৮+১২৯
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৬
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১০১+১০২
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৩০+১৩১+১৩২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫২
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৯