আদিল মির্জাস বিলাভড…
— ২২
মৃদু হলদে আলোয় রুমের ভেতরটা কেমন ধোঁয়াশা-ধোঁয়াশা। গা ছমছমে একটা পরিবেশ। গ্লাস ওয়ালের পাশের রিক্লাইনার চেয়ারে মাথা এলিয়ে রাখা ঋণা সদাগরের চোখজোড়া বন্ধ। শরীরে স্লিভলেস, ফিনফিনে পাতলা মসৃণ কাপড়ের নাইটি। উচ্চতা হাঁটু সমান। হাতে উইনস্টন এক্সএস নামক ইন্টারন্যাশনাল সিগারেট। পায়ের ওপর রাখা পা দুটো দৃশ্যমান। ফর্সা পা দুটোতে একটা লোম মাত্র নেই। চকচক করছে। পাশেই টি-টেবিল। তার ওপরে ওয়াইনের বোতল, ওপাস ওয়ান রাখা। ডায়মন্ডের মতো চকচকে গ্লাসে অল্প ঢালাও। খুব সম্ভবত কিছুটা খাওয়া হয়েছে। বাম পাশের ভেতরের দেয়ালে ঝুলছে আঁকা ছবি। নিচের শেলফে স্থিরভাবে বসে আছে Marantz অ্যাম্প্লিফায়ার। তা থেকে খুব মৃদু আওয়াজে গান শোনা যাচ্ছে। গায়কের ইংরেজি লিরিকসের পাশাপাশি হঠাৎ হঠাৎ নিজেও সুর মেলাচ্ছে ঋণা। সেই সুর ভাঙল কালো পোশাকে আবদ্ধ ঋণার পার্সোনাল বডিগার্ড— হাসানের ইতস্তত কণ্ঠে –
‘বস!’
ঋণা চোখ মেলে তাকায় না। শুধু হাতটা বাড়িয়ে দেয়। হাসানের হাতটা সামান্য কাঁপে। আইপ্যাড দিতে সংকোচবোধ করছে যেমন! তা চোখবুঁজেই, একমুহূর্তে যেন বুঝতে পারে ঋণা। মুহূর্তে তাকাল। হকচকিয়ে সোজা হয়ে বসল। কেড়ে নিলো আইপ্যাড। স্ক্রিনের ছবি দেখে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। থমকাল হৃৎপিণ্ড। অবিশ্বাস নিয়ে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকল। প্রতিক্রিয়া দেখে হাসান ঢোক গিলল। তবুও নিজের ভীতি সরিয়ে স্বাভাবিকভাবে আজকের অনুসরণের আপডেট দেয়ার চেষ্টা করে গেলো। ঋণা যেন ওসব শুনল না। কম্পিত হাতটা নাড়িয়ে কোনোরকমে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বিড়বিড়িয়ে প্রশ্ন করতে থাকল –
‘হু’জ শি? হু’জ শি? হু’জ দিস বিচ?’
হাসান বাজেভাবে ঘাবড়ায়। গায়ের পশম অবধি দাঁড়িয়ে পড়ে ওর। তবুও জবাব দিতে সামান্য দেরি করে না।
‘প্রিন্সেসের ন্যানি। নাম রোযা—’
ওর কথা শেষ হতে পারে না। ঋণা হাতের কাছে থাকা ওয়াইনের গ্লাস ছুঁড়ে মারল। তা সোজা এসে লাগল হাসানের কপালে। চোখের পলকে কপাল ফেটে গড়গড় করে র ক্ত বইতে থাকল। গ্লাসটা মাটিতে পড়ে ভেঙে কয়েক টুকরোতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। হাসান আর্ত নাদটুকুও করে না। করে না র ক্তে ভিজে যাওয়া চোখ মোছার চেষ্টাটুকুও। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে শুধু তীব্র ব্যথাটুকু সহ্য করে নেয়। ঋণা চিৎকার করে ছুঁ ড়ে মারে হাতের আইপ্যাড। ভেঙে গুড়িয়ে যায় ওটা। সমানে প্রশ্ন করে –
‘হোয়াট দ্য হেল ইজ গোয়িং ওন? আমিরার ন্যানিকে ও কোলে নেবে কেনো? কোন স্পর্ধায়! কী সম্পর্ক! ও মাই গড। আম গোয়িং ইনসেন।’
বলতে বলতে ঋণা অস্থিরভাবে পায়চারি করতে করতে ডাকল, ‘হাসসায়ায়ান, আমাকে কিছু কীভাবে জানানো হয়নি? এসব কী হচ্ছে! কে এই মেয়ে? আমি কিছু জানি না কেনো?’
হাসান তখনো শান্ত থাকতে চেয়ে বলে গেলো, ‘পাব্লিক্যালি আজই প্রথম এমন কিছু হয়েছে। মির্জা বাড়ির ভেতরে সিকিউরিটি টাইট। কিছু জানা সম্ভব হয় না, হয়নি। লাস্ট টাইম প্রিন্সেস আক্র মণ হলে এই মিস রোযাই প্রিন্সেসকে প্রটেক্ট করে। আজ– আজ স্যার নিজে এসে উনাকে কো…কোল….’
হাসান আর সাহস পেলো না বাকিটুকু কথা শেষ করার। ঋণা মতো চিৎকার করে উঠেছে। চিৎকারের শব্দে আরও দুজন বডিগার্ড হন্তদন্ত ভাবে এসে দাঁড়িয়েছে দুয়ারে। ঋণা পাগলের মতো সবকিছু ভাঙতে শুরু করল। হাওয়ায় ভেসে যাওয়া কণ্ঠে বিলাপ শুরু করল –
‘আমি ওকে… আমি ওকে ভালোভাবে জানি, চিনি। ও এমনি এমনি একটা মেয়েকে কখনো কোলে তুলবে না মাঝরাস্তায়। কিছু একটা হচ্ছে! কী হচ্ছে? তুই এক্সাক্টলি কী বুঝলি? কী সম্পর্ক হতে পারে? ওদের ভেতর? বল..বল বল।’
হাসান দাঁতে দাঁত পিষল। চোখবুঁজে বলল, ‘আমার মনে হয়েছে… মনে হয়েছে স্যার… স্যার ওই মেয়েকে প–পছন্দ করে…’
ঋণা তীব্র বেগে এসে খামচে ধরল হাসানের গলা। হিসহিসিয়ে উঠল, ‘সম্ভব না। আদিল কাউকে পছন্দ করতে পারে না। পারবে না।’
হাসান নড়ল না। শুধু অনুভব করল ওর দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঋণা ওকে ছেড়ে দিলো। নিজের ছোটো চুল গুলো খামচে ধরল। বিড়বিড় করল –
‘…আদিল ইউ কান্ট ডু দিস টু মি। ইউ কান্ট। আমি কখনো হতে দেবো না। কখনো না।’
ঋণা বড়ো বড়ো শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করতে চাইল। র ক্তিম চোখে যখন তাকাল মনে হলো চোখ দিয়ে আগু ন বেরোচ্ছে। হিং সায় ওর পুরো অস্তিত্ব জ্বলে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। কণ্ঠ হিং স্র হয়ে ওঠে –
‘এই খান*** -কে আজই আমি আমার সামনে চাই। আজই। ওকে নিয়ে আয়।’
বাকিটা হিং স্র সিংহের মতন গর্জে বলে, ‘যতো দ্রুতো সম্ভব এই *** আমি আমার সামনে চাই। বুঝেছিস?’
হাসান সহ বাকিরা তৎক্ষণাৎ দৃঢ়তার সাথে বলে, ‘ইয়েস বস।’
হাসান বেরিয়ে এলো চটজলদি। হাঁটতে হাঁটতে অভ্যস্ত ভঙ্গিতে পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালে চেপে ধরল। র ক্ত পড়া বন্ধ করতে আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করল না। বরঞ্চ বডিগার্ডসদের নির্দেশনা দিতে থাকল ব্যস্ত গলায়। নিজের সাথে ছয়জন নিয়ে তখুনি ওভাবে এই রাতবিরেত বেরিয়ে গেলো উত্তরার এই বিলাসবহুল পেন্টহাউস থেকে।
.
এই পেন্টহাউস ঋণার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ব্যক্তিগত আরামের স্থান। এখানটা ভীষণ সুরক্ষার ওপর থাকে। ঋণা এবং তার পার্সোনাল বডিগার্ডস ব্যতীত কেউ প্রবেশ করতে পারে না। স্বয়ং তার বাবা, আলমগীর সদাগরও না। বরাবরই আলমগীর সদাগর কঠিন নজরে রাখতে চায় তার ওপর। খাটাতে চায় বাহাদুরি। যেভাবে সারাটাজীবন চালিয়ে এসেছে। নাচিয়ে এসেছে পুতুলের মতো। জন্ম দিয়ে পৃথিবীতে এনেছে বলেই এতো দায়বদ্ধতা থাকতে হয় বুঝি?
থাকতে পারেই। কিন্তু ঋণা আর সেই ছোটোটি নেই। তাকে আর ইশারায় নাচাতে পারবে না। দায়বদ্ধতাও সে আর মানবে না। চলবে না আলমগীর সদাগরের ইশারায়।
ঋণা এসে ঢুকেছে নিজের বেডরুমে। ফোন বাজছে সমানে। স্ক্রিনে ভাসছে ‘ড্যাড’ শব্দটি। ঋণা ফোন ধরল না। তাকাল দেয়ালে। বেডের পাশে খুব বড়ো ছবির ফ্রেম ঝোলানো। ছবিটি ভীষণ সাদামাটা। দুজন নর-নারী নির্বিকার মুখে দাঁড়িয়ে আছে পাশাপাশি। পুরুষের পরনে ভীষণ স্টাইলিশ হোয়াইট থ্রিপিস স্যুট। নারীর শরীরে কুচকুচে কালো মিনি ড্রেস। যার লেন্থ থাই পর্যন্ত। তখন তার আর আদিলের বয়স কতো ছিলো? আদিলের সম্ভবত তখন সাতাশ আঠাশ। ঋণার পঁচিশ ছিলো। বাবার টাকাপয়সার তোপে বিগড়ে যাওয়া অল্পবয়সী রমণী তখন সে। যার রগরগে গর্ব, রাগ, অধৈর্য্যতা। যার চোখে সবকিছু তুচ্ছ, এমনকি বাবা-মা হারানো এতিম আদিল মির্জাও। সম্পত্তি, টাকাপয়সার দিকে দিয়ে আদিল আর তাদের অবস্থান তখন অনেকটা একই নৌকার ওপর ছিলো। কিন্তু তখন সদাগরদের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ছিলো পাওয়ার যা আদিল মির্জার তখনো পুরোপুরি হাতে আসেনি। অগত্যা আদিল মির্জার প্রয়োজন ছিলো তীক্ষ্ণ, পাওয়ারফুল হাতিয়ার। যা দ্বারা সে আন্ডারওয়ার্ল্ডে জড়ানোর পাশাপাশি বাবা-মায়ের হ ত্যা র প্রতিশোধ নিতে পারবে।
আদিলের প্রয়োজন ছিলো তাদের পাওয়ার আর তাদের প্রয়োজন ছিলো আদিলের অগনিত অর্থের। তাদের বিয়েটা একটা চুক্তি ছিলো মাত্র। চার বছরের কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ। চার চারটি বছরে আদিল একইরকম থাকলেও, একইরকম থাকতে পারেনি ঋণা। সে যে বাজেভাবে জড়িয়ে পড়েছিল অনুভূতির বেড়াজালে। অথচ তার যে অনুভূতি নামক কিছুতে জড়ানো নিষিদ্ধ! সে তার বাবা — আলমগীর সদাগররের দামী গুটি ছিলো। যেই গুটিকে প্রয়োজনে যেখানে ইচ্ছে সেখানেই বসিয়ে দিতো। গুরুত্ব দেয়নি মেয়ের মতামতের, ইচ্ছের…প্রয়োজনের।
ঋণা এগিয়ে যায় ছবিটির কাছে। হাত উঠিয়ে ছোঁয় ফ্রেম। শুধুমাত্র এই লোককে ভালোবেসে সে জীবনের প্রথম নিজের বাবার বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করেছিল। পেটে ধরেছিলো এই লোকের অংশকে। তার জন্ম দেয়া সন্তান যেভাবে ভালোবাসে…ওভাবে কী কখনো ঋণাকে ভালোবাসতো যদি তাদের সংসার দীর্ঘস্থায়ী হতো? পারতো কখনো তাকে স্ত্রী হিসেবে পুরোপুরি ভাবে মেনে নিতে? সম্ভবত না! কিন্তু তারপরও যে তার যে বড়ো আফসোস হয়। বড্ড! বুকের শিশু ফেলে বাবার কথায় চলে এলো! বিয়ে করে নিলো বাবার কথামতো অর্থমন্ত্রী আব্দুস সোবহানকে! আদিল বাঁধা দেয়নি। টু-শব্দও করেনি, যেমনটি করেনি চার-চারটা বছর।
ঋণার দৃষ্টি গাঢ় হয়। চোখে ভাসে আইপ্যাডে দেখা ছবি গুলো। আদিল কোলে তুলে নেয় ওই মেয়েটিকে! কী গভীর চোখে চেয়ে থাকে! মুহূর্তে চোয়াল শক্ত হলো ঋণার। কপালের রগ ভাসল। আদিলের ছবিটি ছুঁয়ে বিড়বিড় করল –
‘মিসেস মির্জা আমি ব্যতীত আর কে হতে পারে? কার স্পর্ধা আছে? আমি হতে দেবোইতো না। সরিয়ে ফেলব। মে রে ফেলব আমি সবাইকে, আদিল। আই স্যুয়ের।’
—
নিপা বেগম দেয়ালের সাথে একদম মিশে আছেন। থরথর করে কাঁপছেন। তার সর্বশরীর ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। নুইয়ে রেখেছেন মাথা। আজিজুল সাহেব ক্রাচ ধরে কোনোরকমে দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে আগলে রেখেছেন। তার চোখে ভয়। অসহায়ভাবে বন্ধ দরজার দিকে তাকাচ্ছেন, পরমুহূর্তেই তাকাচ্ছেন মেয়ের রুমের দিকে। রাজু বাবামায়ের পেছনে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। ও ভয়ে ভয়ে ঢোক গিললেও আগ্রহ হারায় না। মাথাটা বাড়িয়ে ডাগরডোগর চোখে দেখে সোফায় বসা মানুষটি সহ হঠাৎ করে বাড়িতে প্রবেশ করা প্রত্যেকজনকে। ওদের সবার হাতে কী বড়ো বড়ো অস্ত্র! আর সোফায় বসা লোকটা! রাজু ওই লোকের চোখেও তাকানোর সাহস পায় না। সে কেনো? তার বাবা-মাই তো একদম ভয়ে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থায়। হবে না? তাদের যে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ব ন্দুক ধরে রাখা। এইযে তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে দুজন বডিগার্ড। নড়লেই নাকি স্যু ট করে দেবে!
আদিল অস্থিরভাবে গলার টাই-টা টেনে ঢিল করল। কালো রঙের শার্টের বোতাম গুলো ডান হাতে খুলতে খুলতে বাম হাতটা সোফার হাতলে রাখল। ছড়িয়ে বসা অবস্থায় পায়ের ওপর পা তুলল। আড়চোখে ওই বাচ্চা মাথাটা লক্ষ্য করে এবারে ডাকল –
‘ওই… এদিকে আসো।’
রাজু ভয়ে মৃদুস্বরে সীৎকার করল। মাথাটা লোকাল বাবার পিঠে। আজিজুল সাহেব অনুনয়ও করতে পারলেন না। পাশে দাঁড়ানো বডিগার্ড মুরগির গলা ধরে ওঠানোর মতো করে, রাজুকে একহাতে তুলে এনে দাঁড় করালো আদিল মির্জার সামনে। রাজুর আত্মসম্মানবোধে লাগল বড়ো। কিন্তু কিছু বলার সাহস পেলো না ভয়ে। গুটিয়ে গেলো সামনের মানুষটির দৃষ্টির সামনে। আদিল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে খুঁজে পেলো, ছেলেটার চোখ আর চোয়াল রোযার মতো। এক দেখায় বোঝা যায় না। অনেকক্ষণ ধরে দেখলে সিমিলারিটিস লক্ষ্য করা যায়।
‘কী নাম?’
রাজু কাঁপল। জবাব দেবার সময় অনুভব করল ওর প্রস্রাবের চাপ পড়েছে। ঊরুতে ঊরু চেপে কোনোরকমে জবাবে বলে, ‘রা…রাজু।’
আদিল আওড়াল, ‘রোযা…রাজু! হুম..ম্যাচিং ম্যাচিং!’
আজিজুল সাহেব সাহস জুগিয়েছেন একটু। স্ত্রী, সন্তানের জন্য মাঝেমধ্যে মৃ ত্যুও যে সদরে গ্রহণ করতে পারবেন। আওয়াজ তুলেই প্রশ্ন করলেন –
‘কী দোষ আমাদের? কেনো আমরা নিজেদের বাড়িতে অপরাধীদের মতো আটক হয়ে আছি?’
আদিলের ধৈর্য্য নেই জবাব দেবার। সে ঘড়ির দিকে দৃষ্টি ফেলল। রাত দশটা ঊনিশ। আজিজুল সাহেব জবাব না পেয়ে পুনরায় মুখ খুললেন –
‘আপনারা বেরিয়ে যান আমার বাড়ি থেকে।’
নিপা বেগম স্বামীর কণ্ঠে সাহস পেলেন। দ্রুতো বললেন, ‘আমরা পুলিশ কেইস করব।’
আদিল তাকাল ভদ্রমহিলার দিকে। দৃষ্টি পেয়ে নিপা বেগম ঠকঠক করে কেঁপে উঠলেন। স্বামীর পেছনে গাঢ়ভাবে লোকাতে চাইলেন। ভীষণ আগ্রহ নিয়ে আদিল প্রশ্ন করল –
‘আপনার মেয়েকে ছোটোবেলায় কী খাওয়াতেন?’
নিপা বেগম এমন পরিস্থিতিতে, এমন একখান প্রশ্ন আশা করেননি। মস্তিষ্কও কাজ করল না ভয়ে। শুধু মুখ আপনাআপনি চলল –
‘ম…মধু….’
আদিলের আগ্রহ বাড়ল, ‘মধু? মধু খাওয়ালে তো সুইট হওয়ার কথা! আর?’
‘বাদা..বাদাম।’
আদিল কৌতূহল হয়ে বলল, ‘এগুলোর উপকারিতা কী? ঘাড়ত্যাড়া, জেদি হওয়া?’
নিপা বেগম বুঝলেন না। হাঁসফাঁস করলেন। ওসময় প্রবেশ করল শান্ত আর এলেন। দুজনের হাতে জিনিসপত্র। ওদের পেছন প্রবেশ করেন একজন বৃদ্ধ। বয়স প্রায় ষাট ছুঁইছুঁই। বৃদ্ধর শুভ্র রঙা বুক সমান দাঁড়িগুলোও যেন কাঁপছে ভয়ে। কোনোরকমে মাথাড় শুভ্র রঙা টুপিটা ভালোভাবে পরলেন। শান্তর ইশারায় চুপচাপ এসে দাঁড়ালেন। আড়চোখে দেখলেন একেকটি দানবের মতো পুরুষদের হাতের অ স্ত্র। এলেন নির্বিকার মুখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে আদিলের সোফার পেছনের বাম সাইডে। শান্ত ভীষণ বিনয়ের সাথে বলল –
‘বসুন, বসুন।’
বৃদ্ধ জুবুথুবু হয়ে বসলেন। এদিক-ওদিক তাকাতেও ভয় পাচ্ছেন। এরচেয়েও ভয় পাচ্ছেন সামনে বসা পুরুষটিকে। আদিল অবশ্য তাকালো অবধি না। তার দৃষ্টি অদূরের রুমের দরজার দিকে। ওদিকে চেয়ে থেকে হাত বাড়াল। শান্ত একটা লাল রঙের ডানহিল সিগারেটটের প্যাকেট ধরিয়ে দিলো। আদিল প্যাকেট খুলে একটা ঠোঁটে চেপে লাইটার দিয়ে ধরাল মাথাটা। সিগারেটে টান দিয়ে বিড়বিড় করল কিছু। আচমকা এলেনের হাতের পি স্তলটা নিজের হাতে তুলে নিলো।
.
তীব্র শব্দে রোযার ঘুমন্ত শরীরটা কেঁপে উঠল। বন্ধ চোখের পাতা কাঁপল। আড়মোড়া নড়তেই পুনরায় ভয়ংকর শব্দটা ফের হলো। পাশাপাশি চিৎকার শোনা গেলো কিছু কণ্ঠের। রোযার চোখ খোলার আগে শরীর আতঙ্কে উঠে বসল। শুনতে পেলো তৃতীয় দফায় গু লির আওয়াজ। ঠিক তার খোলা দরজায় গু লি করা হয়েছে। ছিদ্র হয়ে আছে তিন-তিনটে। রোযা আতঙ্কে নীল হয়ে বিছানা থেকে নামতে নামতে চিৎকার করে ডাকল –
‘মা! মায়া….’
বলতে বলতে ও জুবুথুবু, এলোমেলো শাড়ির আঁচল বুকে জড়িয়ে এসে দাঁড়াল দরজার সামনে। মুহূর্তে চোয়াল ঝুলে এলো। হতবিহ্বল ও তাকাল বাবা-মায়ের দিকে। যাদের মাথার ওপর ব ন্দুক। নিপা বেগম আর্ত নাদ করেন। ইতোমধ্যে বুঝেছেন এতসব এই মেয়ের জন্য হচ্ছে। তিনি বলতে চাইলেন, পালিয়ে যা! অথচ নেহাত তা বলা বোকামি বৈ কিছু না। কোথায় পালাবে আর কীভাবেই বা পালাবে? কেনোই বা পালাবে? জানেন না তিনি। কিন্তু কিছু একটা হবে বুঝতে পারছেন।
রোযা ভাববার আগে দৌড়ায়। এক ঝটকায় বাবা-মায়ের সামনে থেকে সরিয়ে দেয় বডিগার্ড দুটোকে। নিপা বেগম, আজিজুল সাহেব মেয়েকে সাবধানও করতে পারেন না। কারণ এরপূর্বেই বড়ো বাধ্য ভাবে বডিগার্ড দুটো কিছুটা সরে গিয়ে দাঁড়াল। নামিয়ে রাখল অ স্ত্র। নুইয়ে রেখেছে মাথাটা। মুখটা হা হয়ে এলো রাজুর। তাকাল বড়ো বোনের দিকে। রোযা তখন রাগে কাঁপছে। ওর বিষ্ময় যেন আকাশ ছুঁয়েছে –
‘কী হচ্ছে এসব? আপনি আমার বাড়িতে গুন্ডামি করছেন কেনো?’
শান্তর মুখটা চুপসে গেলো। থমথমে হয়ে এলো। গুন্ডা? এলাকার লো ক্লাস গুন্ডাফান্ডা লোকেদের সাথে তাদের তুলনা হয়? আশ্চর্য সম্বোধন!
আদিল অবশ্য ওই প্রশ্নের ধার ধারেনি। দ্রুতো ইতোমধ্যে হাওয়ার বেগে উঠে দাঁড়িয়েছে। এতো দ্রুতো কাছে এলো যে রোযাই ভয়ে কয়েক কদম পেছাতে বাধ্য হলো। নিপা বেগমের বাহু থেকে ওকে একরকম টে’নেহিঁ’চড়ে বের করল। ওকে টানতে টানতে কদম বাড়ালে আ’র্তচিৎকার করে ওঠেন আজিজুল সাহেব। রোযা নিজেও আতঙ্কে বাকরুদ্ধ প্রায়। আদিল ওকে একঝটকায় রুমে ঢুকিয়ে দিলো। দুয়ারে দাঁড়িয়ে আপদমস্তক ওকে দেখে নির্বিকার কণ্ঠে বলল –
‘নাইস ওয়েস্ট, বাট আনফরচুনেটলি নট ফর পাব্লিক।’
দরজা বাইরে থেকে লাগাতে লাগাতে আদেশ ছুঁড়ল, ‘শাড়ি ঠিক করে বেরিয়ে আসো। ইউ’ভ ফাইব মিনিটস।’
রোযা তখন ভয়ের চেয়ে বেশি রাগে কাঁপছে। জেদের বশে মুহূর্তে আটকাল আদিলের বন্ধ করতে চাওয়া দরজা। টে’নেহিঁ’চড়ে দরজা মেলে ও বাইরে বেরুতে চেয়ে একগুঁয়ে আচরণের সাথে বলে গেলো –
‘আমার শরীর। আমি পাব্লিককে দেখাবো নাকি কী করবো, তা একান্তই আমার ব্যাপার। হু আর ইউ টু টেল মি হোয়াট টু ডু?’
আদিল দরজার সামনে থেকে সরল না। শুধু দৃঢ় চোখে চেয়ে শান্তভাবে পুনরায় বলল, ‘ভেতরে ঢুকে শাড়ি ঠিক করে বেরিয়ে আসো।’
রোযা তখনো আ গুন চোখে চেয়ে আছে। দু-হাত তুলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ধাক্কা মার ল আদিলের বুকে। ওকে সরিয়ে সে বেরুতে চাইলো, ওভাবেই! ধাক্কায় অবশ্য আদিল টলল। দু-কদম পিছিয়েও গেলো। পরমুহূর্তে যখন তেড়ে গেলো তখন নিজের ধৈর্য্যর ‘ধ’ও অবশিষ্ট নেই। চোখের পলকে কদম বাড়িয়ে রুমের ভেতর ঢুকল আদিল। এলোমেলো শাড়ি ভেদ করে বেরুনো দৃশ্যমান ধবধবে ফর্সা কোমরে পাঁচ আঙুল বসানোর মতো করে জাপ্টে ধরল। ভীষণ শব্দ করে লাগাল রুমের দরজা। সেই শব্দে কাঁপল রোযা। বাইরে থেকে আজিজুল সাহেব, নিপা বেগম, রাজুর চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছে। ওদের কণ্ঠে ভয়, আ র্তনাদের স্পর্শ এবার।
রোযা ব্যথায় গোঙাল। শীতল স্পর্শে শিউরে উঠল। ছটফটিয়ে দু-হাতে আদিলের হাত সহ আদিলকে সরাতে ব্যাকুল হয়ে পড়ল। আদিল ছাড়ল না। উল্টো বিনা দ্বিধায় খামচে ধরলো এলোমেলো কুচিগুলো। কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলল –
‘যেহেতু ঠিক করতে পারবে না, তাহলে পরার কী দরকার? খোলাই থাক।’
আদিল পরমুহূর্তেই টান দিয়ে শাড়িটা খুলবে এমন পরিস্থিতিতে রোযা চোখমুখ বুজে খামচে ধরে রুক্ষ, পুরুষালী হাতটা। দাঁতে দাঁত পিষে সমানে আওড়াল –
‘ঠিক করছি। ঠিক করছি।’
আদিল সময় নেয় হাত সরিয়ে আনতে। একসময় নিজেও সরে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ দেখে রোযার বন্ধ চোখের পাতা, কাঁপতে থাকা ঠোঁট। আওড়ায় –
‘দ্রুতো!’
আদিল বেরুতেই রোযা দুর্বল ভাবে ফ্লোরে বসে পড়ল। ওর পাজোড়া শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। ধড়ফড় করছে বুকের ভেতরটা। পরমুহূর্তেই চোখে ভাসে বাবা-মা-ভাইয়ের অসহায় মুখ। নিজেকে সামলে ফের উঠে দাঁড়ায়। দ্রুতো পরনের শাড়ি ঠিক করে নেয়। কুচি ঠিক করতে হাতটা ঠকঠক করে কাঁপে। শাড়িটা এখনো অল্প অল্প ভেজা ভেজা। পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। সম্ভবত জ্বর আসতে পারে।
.
শান্ত স্পষ্ট অনুভব করল বসের ক্রো ধ। আদিল মির্জাকে এমন বাজেভাবে রাগিয়েও পৃথিবীর বুকে শ্বাস নিতে পারা চারটি খানি কথা নয়। মিস রোযা দীর্ঘয়ু নিয়ে এসেছে। নাহলে কী সে এখনো দিব্যি তেজ দেখিয়ে বেড়াতে পারতো? সম্ভব? শান্ত তাকাল আদিলের মুখের দিকে। চোখমুখ অন্ধকার করে রেখেছে। হাতের সিগারেট পায়ের তলায় পিষিয়ে উঠেছিল তখন। একটা সিগারেট কী সে বাড়িয়ে দিবে? কিন্তু এমন এক সময় সিগারেট খাওয়াটা মোটেও ভালো বিষয়ে হবে না। তাই আর সাধল না। আড়চোখে তাকাল শুধু।
নিপা বেগম, আজিজুল সাহেব অসহায় চোখে দেখছেন মেয়ের রুমের দরজা। তাদের দৃষ্টির সামনে বেরিয়ে এলো রোযা। শাড়িটা ভালোভাবে গুছিয়ে নিয়েছে। মেরুন রঙের আঁচলটা ঝুলছে বেশ। রোযা এসে এবার আর বাবা-মায়ের দিকে গেলো না। সোজা তাকাল সোফায় বসা আদিলের দিকে। থমথমে গলায় প্রশ্ন করল –
‘আপনি কী চাচ্ছেন?’
আদিল ও প্রশ্নের উত্তর করে না। নির্বিকার ভঙ্গিতে শুধু বলে, ‘এসে বসো।’
কথার ধরন শুনেই রোযার রাগটা মাথা চড়ল প্রায়। তাকাল সোফার দিকে। হুজুরের মতো দেখতে একজন বৃদ্ধ ভীত বদনে বসে আছেন। রোযা সন্দেহ চোখে বৃদ্ধকে দেখে ফের আদিলের দিকে তাকিয়ে বলল –
‘আপনি হয় বলুন কী কারণে এসেছেন, নাইলে বেরিয়ে যান! এটা ভদ্রলোকের বাড়ি। আমি কাজ ছেড়ে দিয়েছি যেহেতু, অর্থাৎ আমি আপনার কর্মচারীও নই মিষ্টার মির্জা। আর আমাকে আপনি অর্ডার করবেন কেনো? হু ডু ইউ থিংক ইউ আর?’
শান্ত যতবার ভাবে মিস রোযা বোধহয় আর তার চোপা চালিয়ে তাকে বিষ্ময়ের শীর্ষে তুলতে পারবে না, তার পরমুহূর্তেই ওই চোপার জোরে শান্ত হিমালয় ছুঁয়ে ফেলে। আজকেও সে অবাকের চূড়ান্তে। ওটা মুখ নাকি রাইফেল? আদিল অবশ্য শুধু চেয়েই আছে। বেশ আগ্রহ নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রোযাকে বিরক্ত করে তবেই মুখ খুলল –
‘শান্ত!’
শান্ত বড্ড বাধ্য, উতলা। ফটাফট মাথাটা এগিয়ে বলে, ‘ইয়েস বস।’
আদিল রোযার চোখে চেয়েই প্রশ্ন করল, ‘হু ডু ইউ থিংক আই এম?’
শান্ত দ্রুতো বলল, ‘আদিল মির্জা।’
আদিল ডান ভ্রু দুলিয়ে সাবলীলভাবে বলল, ‘আই এম আদিল মির্জা।’
রোযা চোখজোড়া বুঝে ফেলে। তার ইচ্ছে করছে ছুটে গিয়ে লোকটার গালে দুটো চ ড় বসাতে। সেদিন কেনো একটা মে রেছিলো সে? পরপর দু-তিনটে বসিয়ে দেয়া উচিৎ ছিলো। অসভ্য, ইতর…গুন্ডা কোথাকার! রোযা কয়েক কদম এগিয়ে এসে সোজা বৃদ্ধকে দেখিয়ে প্রশ্ন করল –
‘আপনার আমার বাড়িতে কাজ কী? আর উনি কে?’
শান্ত, ভীষণ শান্ত গলায় নিজের বসের হয়ে জবাবে বলল, ‘কাজি।’
রোযার ভেতরটা মুষড়ে ওঠে। আতঙ্কে বলে ওঠে, ‘উনার আসার কারণ?’
আদিল জবাব দেয় না। দেয় না শান্তও। পিনপতন নীরবতা ভাঙল রোযার দ্রুতো দরজার দিকে যাওয়া কদমে শব্দে। সবাইকে চমকে ও বডিগার্ডদের সরিয়ে দরজা খুলে ধরল। হাতের ইশারা করে পরিষ্কার ভাবে বলল –
‘বেরিয়ে যান।’
আদিল একইরকম দৃষ্টিতে কিছুমুহূর্ত দেখে শাড়িতে মোড়ানো শরীরটা। তখনের ভেজা চুলগুলো শুকিয়েছে প্রায়। আদিল ওই ব্যস্ত বদনে চেয়ে থেকেই আঙুলে আঙুল ঘেঁষে চুটকি বাজাল। অমনি চুপচাপ দাঁড়ানো বডিগার্ডস দুটো ফের পি স্তল তাঁক করেছে নিপা বেগম আর আজিজুল সাহেবের দিকে। একজন বেশ সফল ভাবে ট্রিগার প্রেস করে ফেলেছে। রোযা ওই দৃশ্যে চিৎকার করতে করতে দেখল গু লিটা নিপা বেগমের পাশ দিয়ে ছুঁড়ে গিয়ে দেয়াল ছুঁয়েছে। নিপা বেগম প্রায় জ্ঞান হারানোর পথে। ভদ্রমহিলা চিৎকার করে বসে পড়েছেন ফ্লোরে। আজিজুল সাহেব নিজেও বসে স্ত্রীকে নিজের পেছন আগলে নেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত।
রোযা তেড়ে আসে আদিলের দিকে। ওর চোখ জ্বলছে। চোখের কোণ ভেজা। রাগে ফুঁসছে আবার ভয়ে কাঁপছে। ও দিশেহারা হয়ে যখন আদিলে ওপর হামলা করতে চাইল, তার পূর্বেই ওকে কেমন সহজেই ধরে ফেলল বসে থেকে। নিজের আয়ত্তে নিয়ে ওর শরীরটা নিজের পাশে বসিয়ে আদেশ ছুঁড়ল –
‘শুরু করুন।’
বৃদ্ধ এবারে মুখ খোলার একটু সাহস সঞ্চয় করল, ‘জোরপূর্বক বিয়ে তো ঠি….’
রোযা বিষ্ময়ের চূড়ান্তে পৌঁছে আছে। ‘বিয়ে? কার বিয়ে? কীসের বিয়ে! আপনি পা গল হয়ে গেছেন?’
‘আমার পেসেন্স লিমিটেড রাইট নাউ। কয়েকটা লা শ পড়ার আগে চুপচাপ যা বলা হয় করো। আম রানিং লেইট!’
রোযা সোফা থেকে দ্রুতো উঠতে চাইলে আদিল ওর ঊরু চেপে ধরে বসাল রুক্ষ ভঙ্গিতে। বিরক্ত নিয়েই বলল –
‘এমন লাফালাফি করো না তো। এভাবেই লো আইরনের একটা শরীর তোমার। যখনতখন, যেখানে-সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ো। এখন আবার অজ্ঞান হলে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য্য কিংবা সময় দুটোর একটাও আমার হাতে নেই।’
রোযা অপমানবোধ করল। তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে থাকল। নাকের পাটা দুটো ফুলেফেঁপে উঠছে। কোনোরকমে অপমান পাশে রেখে উদ্বিগ্ন ভাবে প্রশ্ন করল –
‘আপনি আমাকে বিয়ে করতে কেনো চাইছেন?’
আদিল জবাব দেবার প্রয়োজনবোধ করল না। বৃদ্ধ তখন একটু নাকচ করার সাহস করলেও এখন আর পারলেন। বিয়ে পড়ানো শুরু করতে চাইলেই রোযা হতবিহ্বল হয়ে উঠে দাঁড়াতে উতলা হলো। হচ্ছে কী! সে কেনো বিয়ে করবে? তাও এই হনুমানকে? অসম্ভব! অবিশ্বাস্য!
‘আমি আপনাকে বিয়ে করব না।’
আদিল বুঝে গিয়েছে এই মেয়ে ত্যাড়ার গড ফাদার। ঝামেলা করবেই! সে এলেন আর শান্তকে ইশারা করতেই পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে তাণ্ডব চলল। মনে হলো মুভির কোনো ক্লিপ। রোযা শক্ত মনের মেয়েমানুষ। কান্নাকাটি তার ধ্বারা হয়ই না। অথচ আজ সে কেঁদেছে। তিনটা গু লি আরেকটু হলে তার মাথার ভেতর ঢুকে যেতো! ভয়ে ভয়ে, থেমে থেমে অনিচ্ছুক ভাবে যখন মুখ দিয়ে তিন কবুল বেরুলো…মনে হলো একটা জাদু হয়ে গিয়েছে চারিপাশে। রোযা থমকে গেলো। বুঝল, সে আশ্চর্যজনক ভাবে ম্যারিড। তার এই লোকটার সাথে বিয়ে হয়ে গিয়েছে!!!
আদিল হাত বাড়াল। শান্ত বক্সটা বাড়িয়ে দিতেই তা নিলো। বক্স খুলে আংটি-টা হাতে নিয়ে রোযার হাতের অনামিকা আঙুলে পরিয়ে দিলো এক মসৃন ভঙ্গিতে। রোযা হতবিহ্বল হয়ে শুধু নিজের আঙুলের জ্বলজ্বল করা ডায়মন্ডের আঙটিটা দেখল। যার গায়ে ছোট্টো অক্ষরে স্পষ্ট করে লেখা –
‘আদিল মির্জা’স বিলাভড।’
~~~ #নাবিলা_ইষ্ক
চলবে…….
Share On:
TAGS: আদিল মির্জাস বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১০
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৯
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২০
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৮
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৪
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২১