আদিল মির্জাস বিলাভড
— ১৯
হৃদি ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে রোযার পাতলা কোমর। আবার পরমুহূর্তেই কেমন ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ভীষণ ভাবে রেগে যাওয়ার ভাণ ধরে। বাচ্চা বাচ্চা মুখের দু-গাল ফুলিয়ে, দু-হাত কোমরে রেখে বড়ো বড়ো চোখে চেয়ে প্রশ্ন করে –
‘তুমি দেরি করেছো কেনো? আজ তোমার আরও দ্রুতো আসার কথা না? হুঁ? বলোও? তাকিয়ে আছো কেমন! কী ভেবেছো? মিষ্টি করে তাকিয়ে থাকলে আমি গলে যাবো? প্রশ্ন করব না? তাহলে তুমি ভুল, স্নো-হোয়াইট। আমি ভীষণ রেগেছি।’
রোযা জবাব দেয় না। নীরবে কিছুক্ষণ দেখে মিষ্টি মুখটা। যখন সে ওর ন্যানি হয়ে আসে —এইটুকুন একটা বাচ্চা ছিলো মেয়েটা! ওর বয়স কতো ছিলো তখন? বড়োজোর এক বছর কয়েকটি মাস মাত্র! ধরতে গেলে, সে ওই বাচ্চাটা পেলেছে এতোগুলো বছর! কতটা আদরে রেখেছে তা শুধু সেই জানে! হৃদয়ের কতটা জুড়ে ওর অস্তিত্ব তা শুধু খোদা জানেন। রোযার ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। সে হঠাৎ হৃদিকে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে কোলে তুলে নেয়। হেঁটে গিয়ে বসে লিভিংরুমের নরম সোফাটার এককোণে। ওকে বুকে জড়িয়ে রোযা চুপ রয়। একটু পরপর শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে যায় আপনমনে।
হৃদি বোধহয় বুঝতে পারে তার স্নো-হোয়াইটের মন ভালো নেই। ওমনি কেমন বিড়াল ছানার মতো চুপটি মেরে বুকে পড়ে রইলো। দু-হাত বাড়িয়ে রোযার গলাও জড়িয়ে ধরল। মাথাটা কাঁধে রেখে চোখ বুজে থাকল অনেকটা সময়। আর একটি টুশব্দ অবধি করল না।
পিনপতন নীরবতা চারপাশটা জুড়ে। সিঁড়িগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন মরিয়ম বেগম। হাতে গরম দুধের গ্লাস। তিনি অদূর থেকেই নরম দৃষ্টিতে দেখছেন। ঠোঁটে মৃদু হাসির উপস্থিতি। মৃদু শব্দতে আড়চোখে তাকালেন দরজার দিকে। শান্ত, এলেন, স্বপণ সহ ক্লান্ত দাঁড়িয়ে আছে ওখানটায়। ওরাও আড়ে আড়ে দেখছে। দেখবে না? সুন্দর দৃশ্য যে! মন ভালো করার মতো। বুকে প্রশান্তির ঝড় বইয়ে দেয়ার মতো।
মরিয়ম বেগম দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন ওসময় দেখলেন, শান্ত হঠাৎ করে পকেট হাতড়ে দ্রুতো নিজের স্মার্টফোন বের করছে। চটপট একটা ছবি তুলল রোযা-হৃদির এই মিষ্টি মুহূর্তটুকুর। এরপর ফোনে কীসব যেন করছে! মিটিমিটি হাসছে কেমন!
ব্যস, ওতেই আরও পাকাপোক্ত হয় ভভদ্রমহিলার ভাবনারা। তিনি মির্জা বাড়ির কাজের লোক তো আজ অনেকগুলো বছর। অল্পস্বল্প হলেও অন্যদের তুলনায় ভালো জানেন যতটুকু জানেন। আদিল মির্জার কাছের লোক শান্ত আর এলেন। ওরা আদিল মির্জার ছায়া। আদিল মির্জার অস্তিত্ব! ওই ছায়ারা যখন এতোটা আগ্রহ, সচেতন… কৌতূহল কারো প্রতি, তখন ঘাপলা তো একটা আছেই। সচেতন হলেন মরিয়ম বেগম নিজেও। আরও নিবিড়ভাবে দেখলেন রোযাকে….
রোযা তখন হৃদির দু-গাল ধরে মুখটা নিজের মুখের সামনাসামনি এনে কপালে চুমু বসিয়েছে। তখনকার পাকাপাকা কথার উত্তরে বলে –
‘খুব বড়ো হয়ে গেছো, হুঁ?’
‘আম সিক্স!’
‘ওহ? বড়ো তবে? কেমন বড়ো আর কতটুকু?’
‘উম…এতো বড়ো আর আর আর….
রোযা চাপা স্বরে হেসে ওঠে। হৃদির নাক টেনে ইশারা করে মরিয়ম বেগমের দিকে। মরিয়ম বেগম দুধের গ্লাস সহ এগিয়ে এলেন। রোযা গ্লাসটা নিয়ে ধীরেসুস্থে মিষ্টিমিষ্টি কথা বলে হৃদিকে খাওয়াতে ব্যস্ত হয়। মেয়েটা দুধ খেতেই চায় না! কেনো? আশ্চর্য! তাদের রাজু তো ছোটোবেলা থেকে দুধ খেতে উল্টো উতলা হয়ে থাকতো। এখনো প্রত্যেকদিন নিপা বেগম রোজ এক গ্লাস করে দেন। ছেলেটা আরও উতলা থাকে। নিজেই সেধে আসে মাঝেমধ্যে মিস গেলে। এই বাচ্চাটা এমন দুধ বিদ্বেষী হলো কেনো?
‘দুধ ভালো লাগবে না কেনো? মজার তো। সুগার দেয়া সামান্য। কেনো ভালো লাগে না, সোনা?’
হৃদি ঠোঁট ভেঙে আওড়ায়, ‘ভালো লাগে না।’
মরিয়ম বেগম আড়চোখে তাকালেন দুয়ারের দিকে। দুটো দুয়ারের বডিগার্ড ব্যতীত সব বাগানে চলে গেছে। এতে তিনি আশ্বস্ত হলেন। কণ্ঠ নামিয়ে হঠাৎ করে বলে বসলেন –
‘স্যার, দুধ পছন্দ করেন না। শুনেছি বাচ্চা থাকতেও তিনি এমন ছিলেন।’
রোযা মুহূর্তে চুপসে গেলো। তাকাল হৃদির মুখের দিকে। চোখের মণির রং ধূসর। ভাসা ভাসা চোখ, চোখা নাক, পাতলা ঠোঁট পরিষ্কার ভাবে বোঝায় এই আদিল মির্জার ফটোকপি। শুধু চেহারায় না…পছন্দ-অপছন্দেও এই মেয়ে বাবার পদচারণ অনুসরণ করছে।
‘স্নো–স্নোহোয়াইট…..’
রোযার ভাবনারা ফানুশ হয়ে উড়ে যায়। চমকে তাকায় কোলের মধ্যে মিশে থাকা মিষ্টি মুখটির দিকে। আওড়ায়, ‘হুম, সোনা?’
হৃদি আরেকবার ভালোভাবে দেখল রোযার পরনের শার্ট, প্যান্ট। এরপর রোযার সুন্দর মুখ। কিঞ্চিৎ কৌতূহল, আগ্রহী কণ্ঠে প্রশ্ন করে –
‘ইসন্’ট দিস মাই ড্যাড্’স শার্ট? অ্যাম আই রং?’
রোযা লজ্জায় দিশেহারা হলো। বাচ্চার চোখে চোখ মেলাতে পারল না। ইশ! কী বিচ্ছিরি একটা পরিস্থিতি! কোনোরকমে দাঁতে দাঁত পিষে জবাবে বলে –
‘হুম, আমার কাপড়চোপড় ন…নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আপাতত পরেছি।’
হৃদি মুহূর্তে উচ্ছ্বাস নিয়ে জানাল, ‘ইট স্টিল স্মেলস লাইক ড্যাড।’
রোযা চমকে ওঠে। শিউরে ওঠে। তার পুরো শরীর মিইয়ে আসে। খামচে ধরে পেটের দিকের শার্ট। পেরেশানিতে এতোসব খেয়াল করেনি ও। ভাবেনি কাপড়চোপড় নিয়ে আর তেমন। এখন হৃদির কথায় কেমন নাকে এসে ভাসছে কোলনের ঘ্রাণ। পুরুষালি কোলনের ঝাঁজালো সুবাস এখনো কেমন আছে। শার্ট কি ধোঁয়া হয়নি? রোযা চমকে তাকাল মরিয়ম বেগমের দিকে। মরিয়ম বেগম তখন অসহায় চোখে চেয়ে আছেন হৃদির দিকে। অবুঝ হৃদি ফুলের মতো হাসছে।
রোযার ইচ্ছে করছিল তখুনি এই কাপড়চোপড় শরীর থেকে খুলে ছুঁড়ে ফেলতে। কেনো এই লোকের কাপড়ই হতে হলো? তাও আবার ওই লোকের নিজের ব্যবহার করা শার্ট-প্যান্ট দিয়েছে! ছিহ! এতো বড়লোক মানুষ নাকি উনি! নতুন কিছু কি ছিমানুষের তো ওঠানো থাকে! ব্যবহার করা দিয়েছে তারওপর আবার সন্দেহ আছে ধোঁয়া কি-না! কোনো আক্কেল কী আছে? রোযার গা রীতিমতো কাঁটা দিয়ে উঠছে।
.
শান্তর কথা শুনে ধ্রুব সমানে কাশছে। মাথার ভেতরটা মুহূর্তের জন্য পুরো ফাঁকা হয়ে আছে। বেচারা কাশতে কাশতে প্রায় পড়ে গেল বাগানের জমিনের ছাঁটা সবুজ ঘাসের বুকে। ও থুবড়ে পড়তেই থোর আর তিতান ছুটে এসে মুখ চাটতে চাইলে বেচারা দ্রুতো দু-হাতে ওদের মুখ সরিয়ে দেয়। ওদের চোখ রাঙিয়ে কোনোরকমে হন্তদন্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়িয়েই চেঁচিয়ে ফেলল –
‘হোয়াট! চ’ড়! চ’ড়? আর ইউ কিডিং মি?’
শান্ত নির্বিকার চোখে চেয়ে আছে। যেন দৃষ্টি দিয়েইবোঝাল, ‘ডু ইউ থিংক, অ্যাম আই?’
ধ্রুব ঢোক গিলল। ধড়ফড় করছে ওর বুকের ভেতরটা। বড়ো বড়ো চোখে তাকাল এলেনের দিকেও। যেন এলেন থেকে শুনতে চাচ্ছে, এসব মজার কথা! কিন্তু এলেন আরও নির্বিকার! কোনো কৌতুকের স্পর্শ নেই। ধ্রুব নিজেকে শান্ত করে মাথাটা এগিয়ে নিয়ে কণ্ঠ নামিয়ে ভয়ে ভয়ে ফের জিজ্ঞেস করল –
‘আসলেই ওই পুচকে… এক পিপড়ার মতো দেখতে মিস রোযা ব–বস…আমাদের বসকে চ-চ’ড় মে’রেছে? আদিল মির্জাকে?’
বলতে বলতে বেচারা অবিশ্বাসের শেষ সীমানায় পুনরায় পৌঁছাল। এলেন এযাত্রায় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ডান হাতে বুক ডলে অস্থির ভঙ্গিতে বলল –
‘জানিস না কী ভয় যে পেয়েছিলাম! এতো ভয় আমি বসের বেল্টকেও পাই না।’
ধ্রুবের পাশে স্বপণ, ক্লান্ত। ওরা বারবার চোখের পলক ফেলছে আশ্চর্যের সপ্তমে পৌঁছে। মুখ দিয়ে শব্দ বেরুচ্ছে না। স্বপণের ভাবনা অন্যদিকে মোড় নেয়। এযাত্রায় প্রশ্ন করে –
‘কে-কেনো এইধরনের কাজ করল? মানে বস কী করেছে? শুধু শুধু তো আর মা’রেনি তাই না? এতো পা’গল তো উনাকে লাগে না। বেশ ভদ্র।’
শান্ত আর এলেন চোখ চাওয়াচাওয়ি করল। প্রত্যুত্তরে দুজনেই নিশ্চুপ হয়ে পড়ল। কোন মুখে বলবে ওসব? ওদের দুজনকে এমন চুপ দেখে আগ্রহ জন্মাল বাকিদের মধ্যে। আরও জোড়ালো ভাবে জিজ্ঞেস করে গেলো। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই জানাল এলেন। এতে আরও কিংকর্তব্যবিমুঢ় সবগুলো। ধ্রুব ফিসফিস করে প্রশ্ন করল –
‘বস… বস কী রেগে আছেন?’
শান্ত হেলান দিয়ে দাঁড়াল গাছের সাথে। একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলল –
‘রেগে শুধু! বো’ম হয়ে আছেন। পারছেন না পুরো বাড়িতে আ’গুন ধরিয়ে দিতে। আমি ভয়ে কাছে ঘেষছি না।’
.
রোযাকে পেয়ে পুরো বাড়ি জুড়ে হৃদির প্রফুল্লতার চিহ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে। উ’ন্মাদনার শীর্ষে ও। কোনোকিছুতে না নেই। সেদিন একটু ঠান্ডা লেগেছিল বাচ্চাটার। টানা সপ্তাহ খানেক ঔষধ নির্দেশ আছে। ঔষধ খেতে চাইতো না ও।
অন্যদিন অনেকবার করে বলে বলে খাওয়াতে হতো। অথচ আজ রোযার শুধুমাত্র মিষ্টি করে একবার বোঝাতে হয়েছে। ওমনি খেয়ে নিয়েছে। আজ বড্ড বাধ্য, বড্ড মিষ্টি! ওর রুম ভরতি জন্মদিনের উপহার। গতকাল যারা এসেছিল বার্থডে পার্টিতে —সবাই দেশের মান্যগণ্য লোকজন্। তাদের উপহারও তো তেমন।
হৃদি উচ্ছ্বাসের সাথে রোযাকে সাথে নিয়ে উপহার আনবক্স করতে বসেছে। ও তো আর বাচ্চা বাচ্চা হাতে পারছে না। মরিয়ম বেগম আর রোযাকেই খুলে খুলে দেখাতে হচ্ছে। সর্বপ্রথম ও খুঁজে খুঁজে রোযার উপহার গুলোই খুলছে। প্রত্যেকটা বক্স খুলেই মুগ্ধ হচ্ছে। আহ্লাদে গলে যাচ্ছে। ধরে, পরে আবার দেখাচ্ছে কেমন! রোযার কী যে ভালো লাগছিল! ভাষায় ব্যক্ত করা যাবে না। সে মুগ্ধ চোখে পাখির মতো কিচিরমিচির করা মিষ্টি কণ্ঠ, মুখ নির্নিমেষ দেখল।
রোযার উপহার গুলো খোলার পরেই মেয়েটার আসল রূপ বেরুলো। আর কোনো উপহারে তেমন আগ্রহ নেই ওর। কেমন নির্বিকার চোখে এক দৃষ্টি তাকিয়ে হাত নাড়িয়ে বলছে –
‘সরিয়ে ফেলো মরিয়ম ন্যানি। এগুলো সরিয়ে ফেলো।’
রোযা অসহায় গলায় বলে, ‘সোনা, তোমার কি উপহার পছন্দ হচ্ছে না?’
হৃদি চোখজোড়া পিটপিটিয়ে চাইল। কেমন ঠোঁট ভেঙে বলল, ‘কিন্তু এসব তো আমার সবই আছে।’
রোযা জোরপূর্বক হাসে। নিজমনে আওড়ায়, ‘কী নেই তোমার বড়লোকের বেটি?’
হৃদি অবশ্য বুঝল তার নির্বিকার হাবভাব তার স্নো-হোয়াইটের পছন্দ হচ্ছে না। ওমনি নিজের মধ্যে কেমন টেনেটুনে নিজের মধ্যে উচ্ছ্বাস জড়ো করল। এরপরের উপহার গুলো আগ্রহ নিয়ে খোলার চেষ্টা করছে। নিজের উচ্ছ্বাস বোঝাতে শব্দও করছে। এতে আরও অসহায় হলো রোযা। তাকিয়ে থাকল বাচ্চাটার দিকে। মরিয়ম বেগমও হেসে সমানে মাথা দোলাচ্ছেন। রোযা চট করে ওর গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে হেসে বিড়বিড় করে বলে –
‘দুষ্টু একটা! অভিনয় করা শিখে গেছো, হুম?’
হৃদি দু-গাল ভরে হাসল। চোখে তারা ভাসিয়ে বলল, ‘আই ক্যান ডু এনিথিং ফর ইউ। আই লাভ ইউর স্মাইল, স্নো-হোয়াইট।’
রোযার ভেতরটা ফের উথাল-পাতাল আনন্দের জোয়ারে ভেসে যায়। অন্যরকম সুখে চোখ ভিজে ওঠে। দু-হাতে হৃদিকে জড়িয়ে আওড়ায় –
‘আই লাভ ইউর এভ্রিথিং, মাই প্রিন্সেস।’
চোখ বুজল রোযা। নিজের ভেতরের অশান্তি কমে এলো। মনে হলো সে পারবে এই সমস্যা থেকে বেরুতে। তাকে শুধু ঠান্ডা মাথায় সবটা সামলাতে হবে। একটু মাথা নোয়াতে হবে। কিছুটা বাধ্য হতে হবে। তাহলেই সে ঝামেলা ছাড়া বেরুতে পারবে। হয়তোবা একটু কানেকশনও থাকবে বাচ্চাটাকে মাঝেমধ্যে দেখার! রোযা যে কখনো পারবে না ওকে পুরোপুরি ভুলতে! রোযা ফিসফিস করে আওড়ায় নিজ মনে –
‘আই অলসো ক্যান ডু এনিথিং ফর ইউ, মাই চাইল্ড….আই ক্যান বেয়্যার এনিথিং।’
হৃদি মাথা তুলে তাকায়। জিজ্ঞেস করে, ‘কী বললে?’
রোযা হাসে। বলে, ‘বললাম, আমি হৃদিকে ভালোবাসি।’
‘তাই? কতটা? বলো বলো? বলোওঅঅঅঅঅঅ!’
রোযা ডিভান ছেড়ে উঠে দাঁড়াল হৃদিকে কোলে নিয়ে। ওর কোমর ধরে ঘোরাতেই মেয়েটা খিলখিল করে হেসে উঠল। ঘর ভরে এলো যেন ওই হাসির ধ্বনিতে। ওকে ঘোরাতে ঘোরাতে মিহি স্বরে গেয়ে উঠল রোযা –
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি,
ওগো তোমাকে ভালোবাসিইই
ভালোবাসি শুধু তোমাকে….’
.
সন্ধ্যা হবে বলে। সূর্যের আলোটা র ক্ত লাল প্রায়। রোযা ছোটো করে শ্বাস ফেলল। তাকাল ব্যস্ত হৃদির দিকে। ও খেলছে একটা চলন্ত বার্বি দিয়ে। বেশ ব্যস্ত। ওর পাশে শাপলা বেগম আছেন। নজর রাখছেন। রোযা বেরিয়ে এলো রুম ছেড়ে। করিডোর ফাঁকা। নিচের ফ্লোরও। দুয়ারে শুধু অচেনা দু-জন গার্ড। শান্ত, এলেন সহ আদিল মির্জার কাছের কোনো বডিগার্ড নেই। রোযা ওদের কাউকে না দেখে মরিয়ম বেগমকে খোঁজ করলেন। বিকেলের দিকে ভদ্রমহিলাকে পাঠিয়েছিল বেরুনোর পারমিশন চাইতে। সে যে আবার অপমানিত হতে চায় না! যদি বেরুতে নিলে আবার বাঁধা দেয়? অসম্মানের বিষয় না? এইজন্যই আগেভাগে পাঠিয়েছিল মরিয়ম বেগমকে। উনি কিছুইতো এসে জানাল না!
রোযা আপাতত মরিয়ম বেগমকেই খুঁজছে। সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে ফের মনে পড়ে গতকাল রাতের ঘটনা! মুহূর্তে মুখটা কালো হয়ে এলো। মেঘ জমল হৃদয়ের আঙিনায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে নেমে আসলো নিচে। মরিয়ম বেগমকে পাওয়া গেলো রান্নাঘরে। রান্নাঘরে আরও দু-জন আছেন। এই বাড়ির কাজের লোকদের কমবেশ সবাইকে চেনা রোযার। সপ্তাহে দিন গুনে ওদের কাজের দিন থাকে। রোযা ডাকল মরিয়ম বেগমকে। মরিয়ম বেগম দ্রুতো কদমে এগিয়ে এলেন। অসহায় হয়ে বললেন –
‘আমি গিয়েছিলাম। আমাকে কিছু বলেনি।’
রোযার রাগের মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি অসহায় লাগছে। আজ সারাটাদিন সে উদাস হয়ে কাটিয়েছে। বহু কষ্টে কাটিয়েছে একটু আশায় যে প্রতিদিনের মতো হয়তোবা রাতে তাকে যেতে দেওয়া হবে। তার হাতে ফোন নেই। পরিবারের কারো সাথে কোনো কথা হয়নি তাই। ওরা বাসায় পৌঁছেছিল কি-না তাও ভালোভাবে জানে না। হৃদি না থাকলে মনে হয় রোযা পা’গল হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ভর্তি থাকতো নাহয় আদিল মির্জা থাকতো। তখন তো শুধু চ’ড় মে রেছিল। এবারে সোজা একটা বু’লেট বুকের ভেতর ছুঁড়তো। যত্তসব গুন্ডা একটা!
রোযা বিড়বিড় করে নিজেই এগুলো দুয়ারের দিকে। নিজের ভাগ্য পরিক্ষা করছিল আরকি! অথচ দুয়ারে পা-ও ফেলতে পারেনি। ওমনি বাইরে থেকে লম্বাচওড়া পালোয়ানের মতন দেখতে লোকটা গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে বলল –
‘ম্যাডাম, আপনার বেরুনোর পারমিশন নেই।’
রোযা আর এদের সাথে মুখ লাগাল না। তার ভীষণ রাগ লাগছে। ইচ্ছে করছে কিছু একটা করতে। বরাবরই ভীষণ মেজাজী মানুষ সে। অল্পতেই রাগ লাগে, মেজাজ খারাপ হয়। তারওপর নিজের ওপর কেউ জোর ফোলাবে এটা জীবনেও মানতে পারেনি। মানেনি। নিজের বাবা-মা-ই কতো বাধ্য ছিলো ওর। সেখানে এখন তার সাথে কী হচ্ছে? রোযা বাইরেটা দেখতে চাইলো। আশেপাশে কোথাও আদিল মির্জার হাতের কাছের একটা বডিগার্ডও দেখা গেল না। সব কোথায় গেলো? রোযা ফিরে এলো মরিয়ম বেগমের কাছে। প্রশ্ন করল,
‘স্যার কি বাড়িতে নেই?’
মরিয়ম বেগম ওপরের দিকে তাকালেন। মাথা দুলিয়ে বললেন,
‘আছে। ওপরে।’
তারমানে বডিগার্ড গুলোও সব ওপরে। রোযা সীদ্ধান্ত নিলো সে ওপরে যাবে। যদি সামনে পেয়ে যায় ওদের মধ্যে কাউকে? ওদের দিয়ে না-হয় কথাবার্তা বলবে! রোযা সিঁড়ি ধরল। প্যান্টের ল্যান্থের সাথে পা-টা বারবার লেগে যাচ্ছে। যাবে না? ওই স ন্ত্রাসের পা তো ইয়া বড়ো। কোথায় ওই পা আর কোথায় রোযার! তারওপর প্যান্টের কাপড় পিচ্ছল। মুড়িয়েও রাখা যায় না। খুলে সেই ঝুলে ফ্লোরে মিশে যায়, হারায় ওর পা-জোড়া। হাঁটতে ঝামেলা হয়। সে পরে আছে এই বাড়ির কারো একজোড়া স্লিপার। স্লিপার গুলো ফোমের। বেশ আরামদায়ক। শব্দ হয় না কোনো। রোযা নিঃশব্দে দোতলায় এসে তিনতলার সিঁড়ি ধরল।
এই বছরটা গেলে সম্ভবত পাঁচ বছর হবে সে এই বাড়িতে কাজ করছে। এই পাঁচ বছরের মধ্যে একবারও রোযা তিনতলায় আসেনি। ছাঁদ তো দূরের বিষয়! সে তো ভালোভাবে দোতলটাই দেখেনি। হৃদির রুম পর্যন্তই তার আগ্রহ। তবে আজ সিঁড়ি বাইতে বাইতে তার মনে কিঞ্চিৎ আগ্রহের জন্ম হয়। আশপাশটা দেখতে দেখতেই উঠে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় স্বপণ আর ক্লান্তকে। ওরা ছাঁদে ওঠার সিঁড়িগুলোর সামনে। গার্ড দেবার মতো দাঁড়িয়ে আছে। রোযা শান্ত হলো। যাক, এদের তো পাওয়া গেলো! দ্রুতো এগিয়ে গিয়ে বলল –
‘এইযে…শুনুন। আমাকে বলবেন কেনো আমাকে বেরুতে দেওয়া হচ্ছে না? সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমার বাড়ি ফিরতে হবে। স্যারের সাথে কথা বলে বাইরের গার্ডদের আমাকে বেরুতে দিতে বলুন।’
স্বপণ নির্বিকার মুখে বলল, ‘ম্যাডাম আপনার বসের সাথে কথা বলতে হবে।’
রোযা ঘনঘন শ্বাস ফেলল। তার আসলেই ওই লোকের মুখোমুখি হতে ইচ্ছে করছে না। তার এখনো সবটা চোখে ভাসছে। গলা টিপে ধরা, বু’লেট ছোড়া…সব! রোযা অনিচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে প্রশ্ন করে –
‘কোথায় স্যার?’
স্বপণ তার সামনে থেকে সরে গেলো। কানের ব্লুটুথে ফিসফিস করে কী বলল কে জানে! কথা শেষ করে এসে জানাল, ‘ওপরে যান ম্যাডাম। বস ওপরে।’
রোযার গায়ে রীতিমতো আ’গুন ধরে উঠছে যতবার এরা ম্যাডাম ম্যাডাম করছে। রোযা কি ওর হাত থেকে পি’স্তলটা নিয়ে ঠোঁটে গু লি ছু’ড়বে? ছু’ড়লে নিশ্চয়ই শিক্ষা পেতো! বেরুতো ম্যাডাম ম্যাডাম বলা! কঠিনভাবে চোখ রাঙাল তবে তর্কে গেলো না। তর্কে গিয়ে লাভ নেই সকালেই বুঝেছে। ওরা একদম পুতুল যেন। একটা কথা শোনে না। অগত্যা ধরল ছাঁদের সিঁড়ি। বুকের ভেতরটা ঢিপঢিপ করছে। ভয় হচ্ছে। হবে না বুঝি? এইতো গতকাল রাতেই দুটো বু লেট ছুঁড়েছিল। একটুর জন্য রোযা বেঁচে ফিরেছে। সেধেপড়ে কে যেতে চায় মৃ ত্যুর দিকে? তাকে তারপরও যেতে হচ্ছে। তার ভেতরটা ছটফট করছে বেরুনোর জন্য, বাসায় ফেরার জন্য।
ছাঁদের গ্লাসের দরজার ওপর পাশে শান্ত আর এলেন দাঁড়িয়ে সৈনিকের ন্যায়। ওদের দেখে পুনরায় দাঁড়িয়ে পড়ল রোযা। কদম ফেলল না ভেতরে। এখান থেকেই বলার চেষ্টা করল –
‘স্যারকে বলুন, আমি বাসায় ফিরতে চাচ্ছি।’
এতো সুন্দর করে জিজ্ঞেস করায় রীতিমতো নিজের ওপর রোযার ধিক্কার আসছে! কোথায় সে দুটো চটকানা মা রবে তা-না! ছিহ! অপরদিকের শান্ত-এলেন নির্বিকার। কোথাও না তাকিয়ে ভীষণ শ্রদ্ধার সাথে বলল –
‘ভেতরে আসুন ম্যাডাম। বসের সাথে কথা বলুন।’
রোযা মুখে দুটো বিশ্রীরকমের গা’লি এলো। তার মনেই আওড়াল। কদম বাড়াল ছাঁদের ভেতর। সে প্রবেশ করতেই শান্ত আর এলেন বেরিয়ে গেলো। দরজার বাইরে গিয়ে দাঁড়াল। এতে সামান্য হকচকাল রোযা। পরমুহূর্তেই নিজেকে শান্ত করে সামনে তাকিয়ে থতমত খেলো। কদম আর বাড়ানোর সাহস পেলো না। ছাঁদে যে সুইমিংপুল আছে তাইতো অভাগী সে জানতো না! আদিল মির্জা পুলে। সাতার কাটছে পানিতে শব্দ করে। বাথরোব, পিস্তল, ড্রিংক ঠিক পুল ল্যাডারের পাশে। এখনো পুরোপুরি সূর্য ডোবেনি। অর্ধেক সূর্যের রক্তিম আলোয় চারপাশটা মুগ্ধ করার মতো হলেও রোযা আর দৃষ্টি তুলে তাকাল না। এগুলো না আর একটি কদম। রোযা জানে সে সামান্য, তুচ্ছ! এমন কারো সাথে ঝামেলা করার সামর্থ্য তার নেই। এখান থেকেই সে স্বাভাবিকভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে নিবে। ওই চড়ের জন্যই তো লোকটা এমন করছে তাই না? সে জানাবে, সে ভুলবশত চড় মে রেছিল। বুঝতে পারেনি। তাকে যেন মাফ করে দেয়। মাথা নিচু করলেইতো আর কেউ ছোটো হয় না, তাই না? মাফ চাইলে যদি ঝামেলা মিটে যায় তাহলে ক্ষ তি কী? রোযা নিজের মনকে বোঝাল। শক্ত করল নিজেকে। অনিচ্ছুক হয়েও এবারে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল –
‘আই’ম সরি স্যার। আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দিন।’
প্রত্যুত্তরে একটা গম্ভীর স্বরের ফিচেল হাসির ধ্বনি কর্ণগোচর হতেই অপমানে রোযার স্বাভাবিক মুখে মেঘ জমল। তবে দৃষ্টি তুলে তাকাল না। আদিল সাতার থামিয়েছে। এসে পৌঁছেছে পুল ল্যাডারের সামনে। বেশ আরাম করে হেলান দিয়ে আছে।রোযা সন্তর্পণে একটা ট্যাটু দেখতে পেলো। চওড়া ডান কাধের ওপর। সম্ভবত খুব গাঢ় এক ক্ষ তর ওপর একটা বাজপাখির ট্যাটু। রোযা আরও নুইয়ে ফেলে দৃষ্টি।
আদিল ভীষণ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকল অদূরে শক্তপোক্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা নারীর দিকে। যার পরনে তার কাপড়চোপড়। আদিল সাবলীলভাবে বলতে শুরু করল –
‘তারমানে….’ রোযা মুহুর্তে দৃষ্টি তুলে তাকায়। আদিল চোখ দিয়ে রোযার কোমরের দিকটা ইশারা করে বাদবাকি কথা শেষ করে –
‘আমার কোনো ভুল ছিলো না। তাইতো?’
রোযা দাঁতে দাঁত পিষে রাগে। কতবড়ো লুচ্চালাফাঙ্গা! রাগান্বিত মুখেই রোযা দুটো শব্দ বলে, ‘ছিলো না।’
‘ওহ। তাহলে মেইবি আই ক্যান টাচ হোয়েনএভার আই ওয়ান্ট?’
রোযার চোখমুখ পাথরের মতো শক্ত হয়। দৃষ্টি দিয়ে যেন আ’গুন বেরোয়। চোয়াল রীতিমতো কাঁপে কথা বলার সময় –
‘আপনি বাড়াবাড়ি করছেন, মিষ্টার মির্জা!’
আদিল জবাবে শুধুই তাকিয়ে থাকে এক দৃষ্টিতে। চোখের পলকও যে পড়ে না তার। এই রূপ যেন সেই দিনের…যেদিন হৃদিকে আগলে নিয়েছিল! আদিল কতদিন ওই রাগান্বিত মুখ কল্পনা করেছিল! রোযা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কঠোর ভাবে বলল –
‘আমার উচিত হয়নি ওমন একটা কাজ করা। এইজন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আপনি প্লিজ আপনার লোকদের বলে দিন আমাকে যেতে দিতে। আমি বাড়ি ফিরব।’
আদিল পুল ল্যাডার বেয়ে এবারে উঠতে উঠতে আওড়াল, ‘দিস ইজ নট ফেয়ার মিস রোজ-আ…ইজ ইট?’
রোযা চমকে তাকাল। আদিলের শরীরে শুধু একটা ছোটো প্যান্ট! লজ্জায় ও দ্রুতো দৃষ্টি নামায়। আদিল কোনোরকমে শরীরে বাথরোব পরে। খোলাই থাকে রোবটা। ওভাবেই কদম বাড়ায় রোযার দিকে। এতে মেয়েটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পিছিয়ে পালাতে চায় একদম। কিন্তু তা করে না। দাঁড়িয়ে রইলো অটল। স্বাভাবিকভাবেই বলল –
‘তাহলে? কী করতে হবে?’
আদিল এসে দাঁড়াল রোযার সামনাসামনি। তাদের মধ্যে বেশ খানিকটা দূরত্ব। আদিল মাথা নুইয়ে বলল –
‘আমি তোমার কোমর ছুঁয়েছিলাম, তাইতো? বিপরীতে তুমিও আমার কোমর ছোঁউ। বরাবর? অ্যান্ড দ্যান ইউ স্ল্যাপড মি…আদিল মির্জাকে চ’ড় মেরেছো। ওয়াও…সাচ অড্যাসিটি। কিন্তু আমি লেডিসদের গায়ে হাত তুলি না…. ‘
রোযা নিজমনে ভেঙাল! কতবড়ো মিথ্যেবাদী! গলা টিপে কে ধরেছিল? তখুনি খেয়াল করল আদিল কদম বাড়িয়েছে। বিপরীতে রোযা দ্রুতো পিছিয়ে গেলো। মুহূর্তে আরও নুইয়ে এলো আদিলের মাথা। লোকটা নিজের কথা শেষ করল কণ্ঠ নামিয়ে —
‘হাউ এবাউট…… আ ঢিপ কিস ফর দ্যাট স্ল্যাপ?’
রোযার মাথার তার মুহূর্তে ছিঁ’ড়ে গেলো। কাজ করল না মস্তিষ্ক। রাগে, অপমানে থরথর করে কাঁপল ঠোট। চোখজোড়া লাল হয়ে এলো। ভাবাভাবির ধার সে এবারো ধারল না। তার ডান হাতটা সেদিনের মতো উঠে গেলো সজোরে। অথচ আদিল ইতোমধ্যে এই বাঘিনীর রূপ, কর্মকাণ্ডের সম্পর্কে অবগত। ধেয়ে আসা হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিতে চোখের পলকের প্রয়োজন পড়ল না। হাতটা শক্ত করে চেপে ধরেই মুহূর্তে রোযাকে ঘুরিয়ে ফেলল। ওর পাতলা হাতটা প্যাঁচিয়ে ধরল মসৃন পিঠে। সেই পিঠ এসে দ্রিম করে স্পর্শ করল আদিলের প্রশস্ত, উন্মুক্ত… ভেজা বুক। রাগে কাঁপতে থাকা রোযার হাতে আরও গাঢ়ভাবে শ ক্তি ব্যবহার করতেই ব্যথায় মেয়েটা ককিয়ে ওঠে। আদিলের মুখটা তখন রোযার ঘাড়ের কাছটায়। মেয়েটার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে আদিলের কোলনের ঘ্রাণ। ফর্সা ঘাড়ের দিকে চেয়ে মুগ্ধ হয় আদিল। মুখ বাড়িয়ে ওখানটায় ঠোঁট ছোঁয়াতে গিয়েও ছোঁয়ায় না। কানের খুব কাছে আওড়ায় মাত্র –
‘ইউ’ভ গট সাম নার্ভস, মিস রোজ-আ…অ্যান্ড আই লাইক ইট।’
রোযা মুষড়ে ওঠে। ধস্তাধস্তি করেও হাত ছাড়াতে পারে না। বরঞ্চ ব্যথায় চোখ ভিজে যায়। আদিলের ঠোঁটজোড়া একেবারে কানে লতি স্পর্শ করে ফেলে –
‘আই ফাইন্ড জয় ইন টেইমিং টাইগার্স….’
চলবে ~~
® #নাবিলা_ইষ্ক।
Share On:
TAGS: আদিল মির্জাস বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৯
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২০
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৬
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১১
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৬
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৮
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৫