অন্তরালে_আগুন
পর্ব:৩৯
তানিশা সুলতানা
মায়ের কলে ঘুম ভেঙ্গে যায় নুপুরের। পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখা মেলে অপরিষ্কার এলোমেলো একটা কক্ষের। বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। এখানে মানুষ থাকে নাকি গরু-ছাগল?
মাথা ব্যথায় টনটন করছে। কপালের চারটে সেলাই পড়েছে। একটুখানি এদিক ওদিক ঘাড় নাড়ালেই আহত স্থানে টান পড়ে। এবং প্রচন্ড যন্ত্রণায় সারা শরীর অবশ্যই আছে।
এই যে এই মুহূর্তে আর মোড়া ভেঙে উঠতে গিয়ে পেলো মাথায়। মনে হচ্ছিল জানটা বোধ হয় এখুনি বেরিয়ে যাবে। মুখ দিয়ে একটু শব্দ বের করারও শক্তি ছিলো না। কিছু মুহূর্ত গড়াতেই ব্যথা কমে আসে। এবং সোজা হয়ে বসতে সক্ষম হয় নুপুর। পরপরই বালিশের কোনা থেকে ফোন খানা নিয়ে রিসিভ করে।
ওপাশ থেকে ভেসে আসে চিন্তিত এবং ভয়ার্তক একটা কন্ঠস্বর
“নুপুর ঠিক আছো তুমি? কখন থেকে কল করছি।
মাকে আশ্বস্ত করতে নুপুর বলে ওঠে
“ঘুমোচ্ছিলাম আম্মু।
এখনই ঘুম ভাঙলো। আমার জন্য চিন্তা করো না। আমি নিজের খেয়াল রাখবো। তোমরা এখন কি করছো?
সোনিয়া বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে
“কি আর করব
তোমার জন্য চিন্তা করছিলাম।
তোমার ভাই আর বাবা প্রচুর ক্ষেপে আছে। পুলিশ স্টেশনে গিয়ে বসে ছিল অনেকক্ষণ। কিন্তু পুলিশ কোন রকমের সাহায্য করতে রাজি নয়।
“আম্মু আমি এখান থেকে যেতে চাই না।
তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না কতগুলো মেয়ের জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। বৃষ্টিকে চিনতে আম্মু?
এসএসসি পরীক্ষায় যে তার বাবার সাথে গিয়েছিলো। ওই মেয়েটাকে ওরা বিদেশে পাচার করেছে। জানিনা এখন সে কি রকম অবস্থায় আছে। ম/রে গেছে কি না সেটাও জানি না।
এভাবে তো চলতে পারে না বলো।
এসবের শেষ দেখা উচিত।
সোনিয়া বেগম মেয়েকে সাহস দিয়ে বলে ওঠে
“আমিও চাই না তুই ফিরে আয়।
ভয় পাবি না কাউকে। একটা জীবন শুধু শুয়ে বসে আরাম করে নিজেরটা চিন্তা করে কাটিয়ে দেওয়াতে জীবনের কোনো স্বার্থকতা নেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, অন্যায়কে দমন করে, মাথা উঁচু করে ২ ঘন্টা বেঁচে থাকাতেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা।
আমি আমার মেয়েকে হারতে শেখায় নি। তাকে নিজের জন্য বেঁচে থাকা শিক্ষা দেয় নি। আমার মেয়ে সব্বাইকে ভাল রাখবে।
“তুমি এভাবেউ আমাকে সাহস দিও আম্মু। আমি পারবো। আমাকে যে পারতেই হবে।
কল কাটে সোনিয়া বেগম। নুপুর কিছু মুহূর্ত ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে। এটা নওয়ানের ফোন। কিন্তু এখানে রেখে গিয়েছে কেনো বুঝতে পারল না ঠিক। হয়তো তার জন্যই রেখে গিয়েছে।
ভাবতেই নূপুরের ঠোঁটের কোণের হাসি চওড়া হয়।
ইদানিং লোকটা আশেপাশে থাকলে ভালো লাগে। লোকটাকে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে মন চায়।
নওয়ানের ব্যবহৃত পারফিউমের গন্ধে মাতাল মাতাল লাগে নুপুরের। এত সুন্দর সুঘ্রান।
বাংলাদেশে এরকম পারফিউম পাওয়া যায় না। ভীষণ দামি এবং এক্সপেন্সিভ পারফিউম এটি। নুপুর গুগল হতে এ পারফরমের প্রাইস এবং তৈরি সম্পর্কে জেনেছে।
পৃথিবীর সব থেকে দামি পারফিউম হলো শুমুখ (Shumukh), যার মূল্য প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০.৮ কোটি টাকা)। এই পারফিউমটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) ডুবাই শহরে তৈরি করা হয়েছে। শুমুখ পারফিউমটি ৩ লিটার মুরানো গ্লাসের বোতলে ভরা, যা ৩,৫৭১টি হীরা, ২.৫ কেজি ১৮-ক্যারেট সোনা, ৫.৯ কেজি বিশুদ্ধ রূপা, মুক্তা এবং সুইস টপাজ দিয়ে সজ্জিত। এই পারফিউমটি তৈরি করতে প্রায় ৩ বছর এবং ৪৯৪টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে ¹ ² ³।
শুমুখ পারফিউমটির সুগন্ধে রয়েছে স্যান্ডেলউড, মস্ক, ফ্র্যাঙ্কিনসেন্স, অ্যাগারউড এবং অ্যাম্বার। এটি একটি জেন্ডার-নিউট্রাল পারফিউম, যা মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধির সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
পারফিউম নিয়ে গবেষণা শেষ করতে না করতেই কক্ষে নওয়ানের আবির্ভাব ঘটে। প্রচন্ড তাড়াহুড়োয় কক্ষে ঢোকে। বরাবরের মতোই ঠোঁটের ভাজে সিগারেট রয়েছে । ব্যস্ত ভঙ্গিমায় পরনের টিশার্ট খুলে ফেলে। এবং তা ছুড়ে ফেলে অজানা উদ্দেশ্যে। সোফা ছাড়িয়ে ব্যালকনির দরজার সামনে গিয়ে পড়ে টিশার্ট টি। উন্মুক্ত হয় খাঁচ খাঁচ পাজর, ফুলো ফুলো মার্সেল। বুকের দুই পাশের কয়লার পানে নজর পড়তেই শুকনো ঢোক গিলে নুপুর। আঁখি পল্লব বন্ধ করে ফেলে। এবং কিছু মুহুর্ত পরে আবারও চোখ খুলে। সিগারেটে ঘনঘন টান দিয়ে নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ওড়াতে থাকে। এবং সিগারেট এর বাকি অংশ নুপুরের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপরে থাকা ফোন খানা হতে কারো নাম্বারে ডায়াল করে। ফোন লাউড স্পিকারে দিয়ে কাবাডের নিকট চলে যায়। নুপুর ক্যাচ ধরে ফেলে এবং সেটি জানালা দিয়ে ফেলে দেয়।
নওয়ান কাবাড খুলে সাদা রংয়ের টি-শার্ট বের করে। এবং ব্যস্ত ভঙ্গিমায় সেটি গায়ে চাপিয়ে নেয়।
ততক্ষণে বল্টু কল রিসিভ করে ফেলেছে। উত্তেজিত হয়ে ইতোমধ্যেই কয়েকবার বলে ফেলেছে
“ভাই
কোন কাজ আছে কি? আপনি ঠিক আছেন? আমি কি আসবো?
মাঝে মধ্যে নুপুরের ভীষণ অবাক লাগে। বল্টু ছেলেটা কি দিয়ে তৈরি? সে নওয়ানকে এতো ভালোবাসে কেনো? তার ভালোবাসা একদম নিঃস্বার্থ। মানতেই হবে
নিষ্ঠুর পৃথিবীর বেঈমান মানুষদের ভিড়ে নওয়ান তালুকদার একজন সঠিক মানুষকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছে।
“বল্টু গাড়ি রেডি কর।
গার্ডদের আসতে বল। আমি আর চাঁদ একটু বেরোবো।
ওপাশ থেকে বল্টু কি বলল শোনা গেল না। তবে নুপুর ঘোর প্রতিবাদে সুরে বলে ওঠে
“আমি কোথাও যাচ্ছি না। এখানেই থাকবো।
নওয়ান শুনলো তবে জবাব দিল না। ফোন কেটে পুনরায় ড্রেসিং টেবিলের সামনেই রাখে। স্পে এর মতো একটা বোতল হাতে নিয়ে হা করে তরল জাতীয় কিছু মুখে স্পে করে। এবং মুখের কাছে হাত নিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে দেখে গন্ধ আসছে কিনা।
তারপর নুপুরের দিকে এগিয়ে যায়।
প্রথমে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে নরম স্বরে বলে
“তুমি না চাইলেও তোমায় এখানে থাকতে হবে।
কারো সাধ্য নেই নওয়ানের থেকে তার চাঁদকে ছিনিয়ে নিবে।
বলতে বলতে কোলে তুলে নেয় নুপুরকে। এবং ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়। চোখ মুখের অবস্থা নাজেহাল। এখনো ভ্রুতে রক্ত লেগে আছে। জামা কাপড় যদিও আগেই পাল্টানো হয়েছে।
নওয়ান ওয়াশরুমে গিয়ে ওকে নামিয়ে দেয়। আগে থেকে একটা টুল রাখা ছিলো সেখানে। নুপুরকে সেটায় বসায়। তারপর টিস্যু ভিজিয়ে খুবই যত্ন সহকারে মুখে লেগে থাকা রক্তগুলো মুছে দেয়। মগে পানি নিয়ে হাত পা ধুইয়ে দেয়। তারপর যেভাবে কোলে করে নিয়ে গেছিলো ঠিক সেভাবেই আবার কোলে করে রুমে ফিরিয়ে আনে। বসিয়ে দেয় খাটের উপর। ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে ক্রিমের ডিব্বা নিয়ে মুখে মেখে দেয়৷ এবং চুল গুলো আঁচড়িয়ে বিনুনি গেঁথে দেয়।
শেষমেশ ওড়না খানা দিয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে নিয়ে বলে
” চলো চাঁদ।
“মায়ায় ফেলতে চাচ্ছেন? লাভ হবে না। ধ্বংস আমি করবোই।
নওয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে নুপুর।
“মায়া বড্ড ভয়ংকর চাঁদ
ধ্বংস অনিবার্য জেনেও কমানো যায় না।
কবি বলেছিলো
” ধ্বংস দেখতে চাই নি আমি
ধ্বংসই হলো আপন
মায়ায় ফেলে মারলে আমায়
শুনলো না বুকের কাঁপন
ছলনাময়ী বলি কি করে?
আজও সে হৃদয়ের রাণী
একটু ভালোবাসা দিলেও পারতো
শুনতো অভাগার বাণী
নুপুরের হাঁসফাঁস লাগতে শুরু করে। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলে ওঠে
“নওয়ান তালুকদার বোধহয়
নওয়ান নুপুরের ঠোঁটের ওপর আঙুল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলে
” ডোন্ট ওয়েস্ট টাইম।
লেটস গো
তারপর নুপুরের হাত ধরে বেরিয়ে যায় কক্ষ থেকে।
বেওথা থেকে কিছুটা এগোলেই ফায়ার সার্ভিস অফিস দেখা যায়। সে অফিসের পাশেই উঁচু দেওয়াল আবৃত একখানা একতলা বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িটাই আনুদের। আগে তারা গ্রামে থাকতো। তারপর মেয়েদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য গ্রামের জমিজমা সব বিক্রি করে মানিকগঞ্জে বাড়ি বানালো। ভালোই কাটছিলো তাদের দিন। সুস্থ এবং সুন্দর একটি হ্যাপি ফ্যামেলি। মেয়েদের সুখের জন্য আনুর বাবা সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলো। কখনোই তাদের একটা ইচ্ছে অপূর্ন রাখেনি। মেয়েদের থেকেও কখনো তার কিছু চাওয়ার ছিল না। শুধু একটাই কথা বলতো
“আম্মাজান আমার তো কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমি চাই আপনারা দুই বোন পড়ালেখা করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। বৃদ্ধ বয়সে বাবা মায়ের সঙ্গী হবেন। আপনাদের যতটা ভালোবাসা দিয়ে বড় করছি আপনারাও আমাদের ততটা ভালোবাসা দিয়েন”
আনু তখন বাবার হাত ধরে কথা দিয়েছিলো “আমি অনেক বড় হবো বাবা। আপনার নাম উজ্জ্বল করবো। আমার পরিচয়ে আপনাকে সবাই চিনবে। বলবে ওই দেখ আনুর বাবা আসছে। তোমাদের সর্বক্ষণ খুশি রাখবো আমি”
কথা রাখলো না আনু। পূরণ করলো না বাবার স্বপ্ন। খুশি রাখার কথা দিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলো।
অনুর বাবা মা পাগল হয়ে গিয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে কি সব বলে চলেছে বোধহয় তারা নিজেরাও জানে না। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশটা বড্ড ভারী লাগে। সেই ভার সহ্য করার ক্ষমতা সব বাবার থাকে না।
আনুদের বাড়ির উঠোনে শত শত মানুষ। মেয়েটার এইভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না। আহারে কতো কথাই না বলেছে তাকে নিয়ে, কত অভিযোগ। তবে আজকে সবার সেই কটুক্তি বা অভিযোগ সবটাই শেষ হয়ে গেছে। ভর করেছে একরাশ আফসোস এবং অনুতাপ।
সাংবাদিকরা নিউজ কাভার করছে। প্রতিটা নিউজ চ্যানেল আনু এবং আবিরের লাভ স্টোরি বলে চলেছে। আবির নামক ছেলেটা ভীষণ বাজে, নির্দোষ এবং নিরীহ একটা মেয়েকে বাজে ভাবে ঠকিয়েছে। তাকে পতিতালয়ের ব* বানিয়েছে। শেষ মুহূর্তে তে ইট দিয়ে আঘাত করতে করতে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।
কেনো?
কি এমন পাপ করেছিল আনু?
আবিরেরই বা কি ক্ষতি করেছিলো?
আবিরের মা আশা বেগম টিভিতে নিউজ দেখছে। তাচ্ছিল্য হাসি ফুটে ওঠে তার ঠোঁটের কোণে।
গত পরশুদিন হঠাৎ করে আবির তার কাছে আসলো। তার পা জড়িয়ে ধরে কোলে মাথা রাখে। এবং বলে
“বিশ্বাস করো আম্মু
আমি আনুকে অনেক ভালোবাসি। ও আমাকে যতটা ভালবাসে তার থেকেও বেশি আমি ওকে ভালোবাসি।
কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই বলো আম্মু?
বাবার কথা না শুনলে তিনি আর কখনোই যোগাযোগ করবে না আমাদের সাথে। আমি তো বুঝতে পারি, তুমি বাবাকে ঠিক কতটা মিস করো।
আচ্ছা আম্মু
আমাদের জীবনটা এমন কেনো হলো?
অন্যরকমও তো হতে পারতো। ছোট্ট একটা ঘর আর অফুরন্ত সুখ থাকতে পারতো আমাদের সংসারে।
আশা বেগম ছেলের কথার প্রতিত্তরে সেদিন কিছু বলতে পারে নি। কি বলবে?
সে তো স্বেচ্ছায় এমন জীবন বেছে নিয়েছিলো।
কিভাবে ছেলেকে বলতো
” তোর বাবার থেকে বড় পাপী আমি। আমারই পাপের ফল তোরা ভোগ করছিস”
ভোর পাঁচটায় আনুর মৃ/ত্যু হয়েছে। তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে আসতে আটটা বেজে যাবে। সাদা রঙের অ্যাম্বুলেন্সের প প শব্দে সিফাতের সামনে এসে থামে। এটাতেই তারা ফিরবে। কান্না পাচ্ছে না। শুধু মনে হচ্ছে “আনুর মতো তারও লম্বা একটা শান্তির ঘুম চাই। আর কোনদিনও সেই ঘুম ভাঙবে না। নিষ্ঠুর দুনিয়ার নিষ্ঠুর মানুষদের আর দেখতে হবে না।”
কিন্তু চাইলেই কি আর সব পাওয়া যায়?
অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সিফাতকে বলে “আমার পাশে বসুন। একটা লাশের সঙ্গে
বাকিটা শেষ করার আগেই সিফাত জবাব দেয়
” সে আমার ভালোবাসা। আমার আনু। ঘুমিয়ে পড়েছে মানে সে লা/শ নয়। আমার আনু ভীষণ ক্লান্ত। ছোট্ট একটা মানুষ কত কি সহ্য করলো।
আর কত?
তাই তো ক্লান্তি দূর করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি ওর পাশে শুবো। আরেকটা সিট ঠিক করুন।
অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ভীষণ বিরক্ত। তবুও সিফাতের কথা মতো বসার জায়গায় আরেকটা সিট এনে দেয়।
আনুর মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়েছে। মুখটাও সাদা চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলো। তবে সিফাত সেটা সরিয়ে দেয় এবং নিজে টানটান হয়ে পাশে শুয়ে পড়ে আনুর পাশে। এক হাতের দুরত্ব তাদের মাঝে। ডান পাশ ফিরে ওর মুখ পানে তাকিয়ে শুয়ে থাকে।
এম্বুলেন্স চলতে শুরু করে।
সিফাতের দৃষ্টি ফেরে না, চোখের পলক পড়ে না। কি শান্তির ঘুম ঘুমুচ্ছে মেয়েটা। একটু বেশিই সুন্দর লাগছে। নূরের মতো জ্বল জ্বল করছে মুখ খানা। হঠাৎ মনে হয় মাত্র ৩-৪ ঘন্টা সে আনুর সাথে শুয়ে থাকতে পারবে। আর আজকের দিনটাই শুধু দেখতে পারবে। তারপর এ জীবনে আনুর এই সুন্দর মুখটা আর দেখা হবে না।
বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। আঁখি পল্লব ভারী হয়। বা হাত বাড়িয়ে ছুৃয়ে দেয় আনুর গাল। কি ঠান্ডা। আর কেমন শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
চিৎকার করে কেঁদে ওঠে সিফাত। অসংখ্য চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে আনুর ললাট। বুকের মাঝে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে। কাতর স্বরে বলতে থাকে
“আমায় ছেড়ে যেও না আনু। আমি কিভাবে বাঁচবো? কার অপেক্ষায় থাকবো? লুকিয়ে কার হাসি দেখবো?
তুমি আমার ছিলে না এটা আমি মানতে পেরেছিলাম। কিন্তু তোমার মৃ/ত্যু মানতে পারছি না।
আনুরে আমায় মে/রে ফেলো না।
আনু
আমার আনু
আমায় ছেড়ে যেও না আনু
সিফাতের চিৎকারে গোটা এম্বুলেন্স কেঁপে ওঠে। ড্রাইভারের চোখে পানি জমে। সিফাতের কান্না বুকে বিঁধছে তার। সে মেনে নিতে পারছে না। এ কেমন হৃদয় কাঁপানো আহাজারি?
নিঃসন্দেহে মৃ/ত মেয়েটি ভীষণ ভাগ্যবতী।
চলবে
Share On:
TAGS: অন্তরালে আগুন, তানিশা সুলতানা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন গল্পের লিংক
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৪