“আমার ভাইয়ের যেই বন্ধুকে আমি এককালে রিজেক্ট করেছিলাম, সেই বন্ধু এখন বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাই র্যাঙ্কের একজন অফিসার। মেজর মেজবাহ ইফতেখার। এই নামটা আমাকে আজ ভাবাচ্ছে ভীষণ। উনি আজ আমাদের বাসায় এসেছেন ভাইয়ার ইনভাইটেশনে। আমি নিজের ঘরে লুকিয়ে আছি কলি। উনার সামনে যেয়ে দাঁড়াবো কোন মুখে? সেই মুখ তো আমার নেই। পাঁচ বছর আগে উনাকে আমি অপমান করেছিলাম। শুধু অপমান নয়, প্রচন্ড রকমের অপমান করেছিলাম। উনার মতো প্রবল আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিত্ববান পুরুষ মানুষও সেদিন মাঝরাস্তায় আমার সেই বিদঘুটে কর্মকাণ্ড আর গলা চড়াও করা বন্ধ করতে অনুরোধ করেছিলেন খুব কোরে৷ আমাকে বলেছিলেন, “প্লিজ আকসা, এটা পাবলিক প্লেস। একটু চুপ যাও প্লিজ। মানুষ শুনছে, দেখছে আমাদের। আমার দিকে কিভাবে তাকিয়ে আছে দেখো। বড্ড বেশি অপমানিত বোধ করছি। অথচ আমাকে কেউ কোনোদিন পিঞ্চ করে একটা কথা বলারও সাহস পায় না৷ এলাকায় এতোটাই শান্ত-ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত আমি। অথচ আজ তুমি আমার সব মান-সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিলে। লোকে আমাকে বখাটে ভাবছে। যদিও আমি তা নই। ভালো লাগার কথা জানানো বুঝি অপরাধ? ঠিক আছে, তোমাকে আমি এই প্রথম এবং শেষবার বললাম। আর কখনো তোমার সামনেও আসবো না। তবু দয়া করে একটু চুপ করো আকসা। সবাই আমাকে খারাপ ভাবছে।”— এই জটিল কথাগুলো নিজের মান-সম্মানের খাতিরে উনি আমাকে অবলীলায় বলে দিয়েছিলেন। শত কাকুতিমিনতি করেও আমাকে থামাতে পারেননি। আমি তো রীতিমতো লোক জড়ো করে ফেলেছিলাম। একটা কেচ্ছা হয়ে যাচ্ছিল সেদিন। সবাই বলাবলি করছিল— “এই ছেলেটাকে নাকি ভদ্র ভাবতাম। অথচ এ তো দেখি পথেঘাটে মেয়েদের ডিস্টার্ব করে বেড়ায়।” সেদিন উনাকে আমার জন্য মিথ্যে অপবাদ পেতে হয়েছিল। তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। মাত্র সতেরো বছর বয়সের বাচ্চা একটা মেয়ে। সবকিছু খেলনা ভেবে নিতাম। তাই উনার প্রপোজাল নিয়েও প্রচন্ড হাসি-তামাশা করেছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি, উনি আসলে উচ্চবাচ্য করার মতো তেমন কিছুই বলেননি সেদিন আমাকে। বরং, খুব ভদ্রভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আমি— আমি কি করে ফেললাম! এখন অনুতপ্ত বোধ করছি। আজ এতগুলো বছর পরে উনি আমাদের বাড়িতে এসেছেন। এর আগে অবশ্য ভাইয়ার কাছে শুনেছিলাম, উনি নাকি রাজশাহী ছেড়েছেন চাকরির জন্য। কি চাকরি, তা জানতাম না। আজ স্বচক্ষে দেখে নিলাম। আমি কী করবো কলি? বাইরে ডাক পরছে আমার। যাওয়া কি উচিত হবে?”
আকসা ঘরের মধ্যে প্রচন্ড উদগ্রীব হয়ে পায়চারি করছে। নখ কাটছে দাঁতে। অস্থির হয়ে পরলে এই কাজটা করার বাজে অভ্যাস রয়েছে ওর। কলি ফোনের ওপাশ থেকে ঠান্ডা মাথায় বললো, “বাইরে যা আকসা। একদিন না একদিন তো তার সামনে তোকে পরতেই হবে। সেই সাক্ষাৎকার না-হয় আজই হলো। তুই যে অনুতপ্ত বোধ করছিস— এটাই যথেষ্ট। প্রয়োজন পরলে ক্ষমাও চেয়ে নিবি।”
“উনি আমাকে মাফ করবেন বলে মনে হয় না। আমি একটা বড় অন্যায় করেছিলাম উনার মতো প্রবল আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ছেলের সাথে। উনি কি এতো সহজে ভুলে যাবেন?”
“বাইরে গিয়ে তো দেখ আগে। হতে পারে, এতোগুলো বছরে সবকিছু ভুলে-টুলে গেছে। তুই নার্ভাস হবি না। হাসি মুখে কথা বলবি, কেমন?”
“আচ্ছা।”
“তাহলে যা, গিয়ে সাক্ষাৎ করে আয়। সাক্ষাৎকার কেমন হয়— এসে জানাবি আমাকে।”
“ঠিক আছে।”
“আকসা, ও আকসা—”
আকসা কলির সাথে কথা শেষ করে ফোনটা রিডিং টেবিলের ওপরে রেখেছে, তখনই ওর বড় ভাইয়ের চতুর্থবারের মতো ডাকটা শোনা গেল। আকসা জর্জেট ওড়নাটা ফেলে একটা সুতির ওড়না গায়ে-মাথায় ভালোভাবে জড়িয়ে রুম থেকে বের হলো। আকসার রুমের সোজাসুজি ড্রয়িংরুম। তারপরে ডাইনিং। সবাই ডাইনিং-এ বসে ছিল। মেইন কোর্স খাওয়া শেষে ডেজার্ট আইটেম চলছিল তখন। আকসা আজ দুপুরে খেতেও বের হয়নি। রুমে বসে মা’কে বলেকয়ে রুমেই খাবার আনিয়ে খেয়েছে।
আকসা ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুম থেকেই উঁকি দিয়ে দেখলো, ওর বড়ভাইয়ের পার্শ্ববর্তী চেয়ারে মেজবাহ বসে আছে। আইসক্রিমের কাপে চামচখানা নাড়াচাড়া করছে। পাশে ওর বড়ভাই ইফান মেজবাহকে কি যেন একটা ব্যাপারে কথা বলছে। মেজবাহ’র ঠোঁটের কোণে সেই চিরপরিচিত একরাশ মুগ্ধকর হাসি লেগে রয়েছে। ওই হাসি দেখে আকসা এবার কিছুটা ভরসা পেল। ডাইনিং-এ প্রবেশ করলো। ইফান ওকে খেয়াল করে বললো, “কীরে? এতোক্ষণ ডাকলাম যে তোকে? কোথায় ছিলি?”
“ঘুমাোচ্ছিলাম ভাইয়া।”
আকসা একটু মিথ্যে বললো। মেজবাহকে বুঝতে দেওয়া যাবে না, তার আসার হেতুতে অস্বস্তিতে পরে আকসা বাইরে আসেনি। ওর বড়ভাই এবার ওকে উদ্দেশ্য করে বললো, “আকসা এই-যে আমাদের মেজবাহ। চিনতে পেরেছিস ওকে? দ্যাখ, ছোকরা কেমন বড় হয়ে গেছে। তিনি আজ আমাদের সেই ক্রিকেট লাভার মেজবাহ নয়। মেজর মেজবাহ আহমেদ। মেজবাহ, ওকে মনে আছে তোর?”
মেজবাহ এবার মুখটা উঠিয়ে আকসার দিকে তাকালো। চোখে চোখ পরতেই আকসা বললো— “আসসালামু আলাইকুম।”
আকসাকে অবাক করে দিয়ে মেজবাহ মুচকি হেঁসে জবাব দিলো, “ওয়ালাইকুমুস সালাম। বাচ্চা মেয়ে তো দেখি বড় হয়ে গেছে। ভালো আছো?”
আকসার চোখ একটু কাঁপলো। অগোচরে ভ্রু কিঞ্চিৎ কুঁচকালেও সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে মৃদু হেঁসে জবাব দিলো, “জি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।”
আকসার কেমন জানি বোধ হলো। ও এতোটাও ভালো আচরণ আশা করেনি। ভেবেছিল, মেজবাহ হয়তো কথা-ই বলবে না ওর সাথে। আর যদিওবা কথা বলে, তবে মুখটা বাংলার প্যাঁচের মতো হয়ে থাকবে। কিন্তু এ-তো দেখি ঘটনা উল্টো! আকসা তবু মনে মনে খুশি হলো খুব। যাক বাবা, লোকটা তারমানে পুরোনো সব ঘটনা ভুলে গেছে।
ইফানের কথায় আকসা টেবিলে বসলো৷ তারপর একটা আইসক্রিমের কাপ নিয়ে আইসক্রিম খেতে ব্যস্ত হলো৷ খাওয়ার ফাঁকে অগোচরে মাঝেমধ্যে মেজবাহকে দেখতে লাগলো৷ লোকটা ওর দিকে আর একবারও তাকায়নি। বরং, সামনের চেয়ারে যে একজন মানুষ বসে আছে, সেই খেয়ালই নেই যেন। দিব্যি গল্প করে চলেছে আকসার মা আর ভাইয়ের সাথে। ইফান মেজবাহকে বললো, “তোকে কত মিস করি জানিস। তুই সেই যে পাঁচ বছর আগে জবের জন্য চট্টগ্রামে গেলি, এরপর থেকে তোর দেখা-সাক্ষাৎ পাই খুব কম। রাজশাহীতে আসিস তা-ও বছরে দু-একবার। ফোনে কথা হলেও কী মন ভরে? আমি তো লোকজনকে তোর নামে অভিযোগ করি যে, আমার বাচ্চাকালের বন্ধু আমাকে ভুলে গেছে।”
ইফানের কথায় মেজবাহ মুচকি হলো৷ তারপর ছোট্ট করে জবাব দিলো, “জবের জন্য ব্যস্ত ছিলাম অ্যাক্সুয়ালি। আমাদের জব— জানিস-ই তো কেমন? ছুটি খুবই কম পাওয়া যায়।”
“আর এক্সকিউজ দিস না তো। তোকে এতো করে বলতাম আমাদের বাসায় আসতে। কতবার ইনভাইট করলাম। আজ আসলি তাও কতদিন পর। পাঁচ বছর কি কম কথা! আগে তো আমাদের বাড়িতে আসতিস অনেক।”
“আগের সময় আর এখনের সময়ের মধ্যে ডিফারেন্স অনেক।”
মেজবাহ’র এই কথাটা আকসার নিকটে গম্ভীর-ই শোনালো বেশ। ও এবার খাওয়া থামিয়ে মেজবাহ’র দিকে তাকাতেই দেখতে পেল, মেজবাহ ওর দিকেই কেমন অদ্ভুতভাবে জানি তাকিয়ে আছে। আকসা একটু অপ্রস্তুত হলো৷ সৌজন্যতামূলক হাসিও দিলো। তৎক্ষনাৎ মেজবাহ ওর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে ইফানের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত হলো৷ আকসার মা আয়েশা পারভীন নাওয়াবি সেমাইয়ের ডেজার্ট বোলটা মেজবাহ’র দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “এটা খাও বাবা। তুমি তো তেমন কিছুই খেলে না।”
“মিষ্টি একটু কম খাই আন্টি।”
মেজবাহ ভদ্রতাসূচক হেঁসে কথাটা বলতেই পাশ থেকে ইফান বলে উঠলো, “হ্যাঁ মা, ও তো মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খায়। তোমার মনে নেই? আগে যখন ও আমাদের বাসায় আসতো, তখন তুমি চা বানালে চায়ে চিনি দিতে নিষেধ করতো। আর এখন তো ও আরো বেশি ডিসিপ্লিনড হয়ে গেছে। মিষ্টিজাতীয় কোনো খাবারই খায় না। দেখো না, এক্সারসাইজ করে বডি কেমন বানিয়েছে।”
ইফান বেশ চটপটে। কথা বলে বেশি। আর এদিকে মেজবাহ চুপচাপ, কথা বলে কম। এককথায় বলা চলে, ইন্ট্রোভার্ট পার্সন। আকসা এবার সরাসরি মেজবাহ’র দিকে তাকালো। তার পরনে একটা ডিপ-অ্যালমন্ড ওল্ড মানি স্যাক্সন ক্যাবল পোলো টি-শার্ট আর ব্ল্যাক কালার ফর্মাল প্যান্ট। বাঁহাতে ওল্ড মানি টাইমপিস ওয়াচটা দেখতে দারুণ লাগছে। পূর্বের সেই ঝাঁকড়া চুল এখন আর্মি কাট। হাতে একটা সিম্পল চিকন তুর্কিশ রূপার আংটিও পরা। লোকটার যেই জিনিসটা সবচেয়ে বিশেষ তা হলো তার চোখ। চোখের মণি হালকা সবুজ রঙের। যেটাকে হ্যাজেল চোখ বলা হয়। অ্যালমন্ড শেপড। মেজবাহ’র সেই চোখ আকসার ওপর পরতেই ও তড়িঘড়ি করে চোখ সরিয়ে নিলো।
মেজবাহ এবার টেবিলের ওপর থেকে ফোনটা তুলে নিয়ে পকেটে রেখে আয়েশা পারভীনকে উদ্দেশ্য করে বললো, “তাহলে আন্টি, যেই কথা বলেছিলাম সেটা-ই কিন্তু থাকলো। আপনারা আগামী শুক্রবার আমাদের বাসায় আসছেন। সবার ইনভাইটেশন রইলো কিন্তু।”
আয়েশা বেগম হেঁসে “আচ্ছা বাবা” বলে সম্মতি জানালেও ইফান একটু বাঁধা দিয়ে বললো, “তুই তো এখানে আছিস দিন পনেরোর মতো। আমরা নাহয় লেট করে যাই?”
“উহুঁ, লেট করা যাবে না। আন্টি কখনো আমাদের বাসায় যাননি। মামনি কিন্তু তোদের জন্য অ্যারেঞ্জমেন্ট করবেন। শিওর আসবি শুক্রবার। আমি কনফার্ম ধরে নিলাম। তুই না আসলেও সমস্যা নেই। আন্টি গেলেই হবে।”
ইফান আলতোভাবে মেজবাহর পিঠে একটা চাপড় বসিয়ে মৃদু হেঁসে বললো, “আচ্ছা যাবো। আমরা সবাই-ই যাবো।”
“এখন উঠি তাহলে।”
মেজবাহ উঠতেই ইফান ওর হাত টেনে ধরে বললো, “আরেকটু থাক। মাত্র তো এলি।”
মেজবাহ ঘড়িতে সময় দেখে বললো, “স্যরি, সময় নেই হাতে। একবার ছোটমণিদের বাসায় যেতেই হবে। নাহলে উনি রাগ করবেন। আজ সন্ধ্যায় যাওয়ার কথা ছিল। এখন তো বিকাল হয়েই এসেছে। সেখানে পৌঁছাতে সন্ধ্যা। তুইও চল আমার সাথে।”
মেজবাহ ইফানকে টেনে ধরলো। ইফান আবার না করলো না৷ মেজবাহ ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মুখে না বললেও ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড এভার। ওর সঙ্গ সহজে ছাড়ে না ইফান। ছেলেটা ভীষণ ভদ্র এবং মার্জিত। ওর সঙ্গ ইফানের খুব ভালো লাগে। এজন্যই সুযোগ পেলেই ওর সঙ্গে থাকে। এতোগুলো বছরের বন্ধুত্বে এটাই ঘটে চলেছে। দূরে থাকলেও বন্ধুত্বে কোনো খামতি নেই। ইফান বাসায় পরা পরনের টি-শার্টটা খুলে তৈরি হয়ে আসতে ওর ঘরে গেল। আয়েশা পারভীন তখন টেবিল থেকে সব এঁটো প্লেট আর খাবার সরিয়ে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়েছেন। আকসা এতোক্ষণ চুপচাপ ফোন দেখার ভান করছিল। এবার সবাই যেতেই খেয়াল করলো, ডাইনিং-এ শুধুমাত্র ও আর মেজবাহ ইফতেখার। ওর হঠাৎ এবার ক্ষমা চাওয়ার কথাটা মাথায় এলো। চটপট মেজবাহ’র দিকে তাকালো। মেজবাহ ফোন স্ক্রল করছিল তখন৷ আকসাকে গুরুত্বপূর্ণ কেউ হিসেবে যেন ধরছেই না ও। এমনটাই বোধ হলো আকসার৷ তবুও ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য কথা বলার চেষ্টা করলো। হালকা কাশি দিয়েও যখন মেজবাহ’র মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারলো না, তখন হালকা স্বরে ডাকলো, “মেজবাহ।”
মেজবাহ তৎক্ষনাৎ মুখ তুলে আকসার মুখপানে তাকিয়েই বললো, “মেজবাহ ভাইয়া, ওকে?”
“জি?”
আকসা ঠিক বুঝতে পারলো না। তাই প্রশ্নটা করলো। মেজবাহ জবাব দিলো, “কারেকশন করিয়ে দিলাম। বয়সে খুব সম্ভবত বছর সাতেকের বড় হই তোমার। বড়দের কীভাবে সম্মান করতে হয় জানো না? নো প্রবলেম। না জানলে আমি শিখিয়ে দিচ্ছি। এখন থেকে মেজবাহ ভাইয়া বলে ডাকবে। বলো, মেজবাহ ভাইয়া।”
আকসা স্তব্ধ বনে গেল। এই লোক না কিছুক্ষণ আগেও হেঁসে হেঁসে ওর সাথে কথা বলছিল? হঠাৎ কি হলো! আকসা ভেবে পেল না। ওকে চুপ থাকতে দেখে মেজবাহ একটু ধমকানোর সুরে বললো, “কি হলো? বলো, কুইক!”
আকসা পারলে এখানে বাচ্চাদের মতো কেঁদে দেয়৷ এই বাইশ বছরের জীবদ্দশায় কখনো কেউ ওকে সামান্য ধমক তো দূর, উচু গলায়ও কথা বলেনি। ছোটবেলা থেকে প্রচুর আহ্লাদ পেয়ে বড় হয়েছে ও। সেই মেয়েকে কিনা এই লোক ধমকে কথা বলছে। আকসা কান্নারত স্বরে বলে উঠলো, “স্যরি মেজবাহ। আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
ওর কান্নারত কন্ঠস্বর শুনেও মেজবাহ গললো না। অদ্ভুত শীতল এবং গম্ভীর স্বরের মিশ্রণে পাল্টা প্রশ্ন করলো, “হোয়াই আর ইউ সে’ইং সরি টু মি? আই ডোন্ট সি এনি রিজন আই শুড ফরগিভ ইউ। হোয়াট ডু ইউ মিন, হুহ?”
আকসা থতমত খেল। ওর চোখ ঠিকরে অশ্রুকণা বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য আন্দোলন শুরু করেছে যেন। আকসা কেঁদে দিলো বলে৷ তখনই ওর ভাই সেখানে চলে আসলো। আকসা যেন প্রাণে পানি ফিরে পেল। আর কিছুক্ষণ মেজবাহ’র সামনের বসে থাকলে ও সত্যিই কান্না করে দিতো। এতো কঠোর আচরণ নেওয়া যায় না। কেউ কখনো করেওনি আকসার সাথে। হঠাৎ করেই ও মেজবাহকে ভয় পেতে শুরু করলো।
চলবে
গল্পের নাম— #সীমান্তরেখা [সূচনা পর্ব]
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
[নতুন গল্প এটা গল্পের সমাপ্তি হ্যাপি এন্ডিং হবে এবং সম্পূর্ণ গল্প ফেসবুকেই দেওয়া হবে। নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন। এটা সম্পূর্ণ রোমান্টিক একটা গল্প। আপনারা রেসপন্স করবেন প্লিজ। নিয়মিত আসবে গল্পটা।]
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২২
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৩
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৯
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৬
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৪
-
উড়াল মেঘের ভেলায় গল্পের লিংক
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৭
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১২
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৮