শেষপাতায়সূচনা [০৩]
সাদিয়াসুলতানামনি
[গল্পের শেষের কথাগুলো পড়ার অনুরোধ রইলো🙏]
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় আপন গতিতে ছুটে চলেছে গাড়িগুলো। পথের দু’পাশে সবুজের সমারোহ যেন জীবনের প্রতিটি শ্বাসে নতুন সজীবতা ঢেলে দেয়। হঠাৎই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গভীর খাদ, যেন অজানা রহস্যের আঁধার ডেকে নিচ্ছে অন্তরকে। আর কিছুদূর এগোতেই পাহাড়ের বুক চিরে অবিরাম ছুটে চলেছে রূপালি জলের নাহার। সেই জলের কলতান যেন পাহাড়ি পাখির গানকে সঙ্গ দেয়, আবার চোখ ধাঁধানো ঝরনার ধারা যে কাউকে ঘন্টার পর ঘন্টা মুগ্ধ করে রাখতে পারে।
মাহবুব গাড়ি চালাতে চালাতে বারবার পাশের সিটে বসা জাওয়াদের দিকে চোরাচোখে তাকাচ্ছিল। কিছুক্ষণ আগেই যে ছেলেটা হাউমাউ করে কেঁদে বুক হালকা করেছে, সেই এখন অবিশ্বাস্য নীরবতায় ডুবে আছে। দুই চোখ একমুখে নিবদ্ধ ফোনের পর্দায়। সেখানে ভেসে আছে এক তরুণীর হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী।
মেয়েটির হাসি ছিল নির্মল, উজ্জ্বল, আরেকটু গভীরভাবে তাকালে মনে হয়, এ হাসির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আকাশভরা আনন্দ। নিচের পাটিতে ফুটে ওঠা সামান্য গ্যাজ দাঁত তার সৌন্দর্যে যেন অদ্ভুত এক নিখুঁত অসম্পূর্ণতা যোগ করেছে। সেই ত্রুটি সৌন্দর্যের পূর্ণতায় রূপ নিয়ে জাওয়াদের দৃষ্টি বন্দি করে রেখেছে।
অবশেষে জাওয়াদ ফোনটিকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে চোখ মুদল। চোখ বন্ধ হওয়ার মুহূর্তেই নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ল এক বিন্দু অশ্রু, স্মৃতির ও যন্ত্রণার নীরব স্বাক্ষর হয়ে। মাহবুব সেই ক্ষুদ্রতম অশ্রুবিন্দুকেও এড়িয়ে গেল না। তার দৃষ্টি ছিল শল্যের মতো সূক্ষ্ম; হয়তো এতটাই সূক্ষ্ম যে মানুষের ভেতরের অব্যক্ত বেদনা পর্যন্ত সে ধরতে পারছে।
বলাবাহুল্য, মেয়েটি আর কেউ নয় সে হলো পূর্ণতা, জাওয়াদের স্ত্রী ও সম্ভবত তারই সন্তানের মা। এই টুকু বিষয় মাহবুব আন্দাজ করল। কারণ, মাহবুব গত চার বছর ধরে পার্টনারশীপে জাওয়াদের সাথে বিজনেস করছে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত অগণিত বার জাওয়াদকে এই মেয়ের ছবির সাথে কথা বলতে দেখেছে। সে দেখেছে, কিভাবে এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ প্রিয়তমাকে হারিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে যায়।
উজ্জ্বল আকাশে হঠাৎই কালো মেঘে ঘনিয়ে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঝুমঝুমিয়ে ধরণী কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামতে শুরু করে। সিলেটে এমন আকস্মিক বৃষ্টি নতুন কিছু নয়। বৃষ্টির দাপটে সামনের রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না দেখে, মাহবুব গাড়িটা সদ্য কিছুদিন আগে চালু হওয়া একটা ছোট ক্যাফের সামনে পার্ক করে। তারপর জাওয়াদকে টেনে বের করিয়ে সেই ক্যাফের ভেতরে চলে যায়।
ওয়েটারকে দুই কাপ স্পেশাল চা অর্ডার দিয়ে এসে পুনরায় জাওয়াদের পাশে বসে পরে। তারপর আস্তেধীরে জিজ্ঞেস করে–
—”কি এমন হয়েছিল, যার কারণে তোর এত ভালোবাসা সত্ত্বেও সেই পাষণ্ড নারী তোকে ছেড়ে যেতে দু’বার ভাবেনি? গেলো তো গেলো নিজের সাথে বাচ্চাটাকেও নিয়ে গেলো।”
পূর্ণতাকে পাষণ্ড বলায় জাওয়াদের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। সে খপ করে মাহবুবের কলার খামচে ধরে হিসহিসিয়ে বলে–
—”আরেকবার আমার পূর্ণতার নামে আজেবাজে কথা বলবি, সেদিনই তোর আমার ফ্রেন্ডশিপ শেষ। আমার পূর্ণতা পাষণ্ড না। ওর মতো কোমল হৃদয়ের মানুষ আমি জাওয়াদ আজ পর্যন্ত দুটো দেখি নি। তাই ফর দ্যা ফার্স্ট এন্ড লাস্টবারের মতো ওয়ার্ন করলাম তোকে, এমন কথা জানি আমি আর কখনো না শুনি।
আর ছেড়ে যাবেই বা না কেনো? আমি কি ওকে ডিজার্ব করি নাকি? আমার মতো অপদার্থ, মেরুদণ্ডহীন, নিন্মমানের লোক পূর্ণতার মতো মেয়ের ভালোবাসার যোগ্য না। একটুও যোগ্য না।”
জাওয়াদ এমন কলার ধরায় ও উঁচু গলায় কথা বলায় ক্যাফে থাকা আরো কয়েকজন ছিল, তারাও তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। মাহবুব একটু বিব্রতবোধ করে। সে নিজের কলার থেকে জোর করে জাওয়াদের হাত সরিয়ে দিয়ে বলে–
—যে যা তাকে সেটাই বলেছি। নাহলে এত ভালোবাসার পরও যে ছেড়ে যেতে পারে, তার হৃদয় বলতে কিছু আছে নাকি?
মাহবুব ইচ্ছে করে এসব কথা বলছে, যাতে জাওয়াদ রেগে উত্তেজিত হয়ে তাকে সবটা বলে। এমনটা করার কারণ হলো, বিগত বছরগুলোয় সে অগণিত বার এই বিষয়ে জাওয়াদকে জিজ্ঞেস করেছে কিন্তু জাওয়াদ কিছুই বলেনি। আজ যদি উত্তেজিত হয়ে বলে তাহলে সে নিজেও না হয় চেষ্টা করবে, বন্ধুকে তার ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরিয়ে দিতে।
মাহবুবের ধারণাটাই একদম ঠিক হয়েছে। জাওয়াদ পূর্ণতার ব্যাপারে এসব উল্টা পাল্টা কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে যায়। আর রেগে উচ্চস্বরে বলে উঠে–
— পূর্ণতা পাষণ্ড নয়, আমার পূর্ণতার হৃদয় ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। ও আমায় ছেড়ে যায়নি বরং আমি ওকে বাধ্য করেছি আমায় ছেড়ে যেতে।
জাওয়াদের কথা শুনে মাহবুব হতভম্ব হয়ে যায়। জাওয়াদ নিজেই বাধ্য করেছিল পূর্ণতাকে তাকে ছেড়ে যেতে। কিন্তু কেনো? আর এখনই বা এমন আহাজারি, আকুতি-মিনতি কেন?
দরজায় অনবরত নক করার আওয়াজে পূর্ণতার হুঁশ ফিরে। সেই বিকেলে এসেছে পর থেকে ছেলেকে বুকে নিয়ে যে বসেছে, আর উঠেনি। ছেলে টাও মায়ের বুকের সাথে লেপ্টে ঘুমিয়ে আছে নিশ্চিন্তে যেনো, তার সব সুখের খোঁজ এই মায়ের বুকেই।
পূর্ণতা দরজা খুলতে যাওয়ার আগে তাজওয়াদকে বিছানা শুয়ে দেয় ঠিক করে। এই প্রথমবার লং জার্নি করে ছোট জানটা ধকল সামলে উঠতে পারছে না আজও। তাই এত ক্লান্তি তার।
পূর্ণতা তাজওয়াদকে শুয়ে দিয়ে দরজা খুলে। দেখতে পায় আরিয়ান এসেছে, তার হাতে বড় খাবারের ট্রে, মুখটা হাসি হাসি। আরিয়ান রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে–
—তোর বিদেশী ছেলে উঠেছে বোনু? আসল পর থেকে তেমন একটা কথাই বলা হলো না এখনও।
পূর্ণতা জোড়াতালির একটা হাসি দিয়ে বলে–
—না ভাইয়া। প্রথমবার এতটা পথে জার্নি করল তো, টায়ার্ডনেস কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।
আরিয়ান একটু দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলে–
—মাই বেড লাক। যাই হোক, খাবারের সময় নিচে গেলি না কেন?
টি-টেবিলের উপর খাবারের ট্রে’টা রাখতে রাখতে কথাটা জিজ্ঞেস করে আরিয়ান। পূর্ণতা কোন উত্তর দেয় না, আবারও ছেলের পাশে বসে চুপ করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। আরিয়ান অপেক্ষা করে পূর্ণতার উত্তরের জন্য। একটু পর পূর্ণতা বলতে শুরু করে–
—ফ্যামিলির মেম্বারদের মাঝে আমাকে আর তাজকে অযাচিত লাগত। তাই যায় নি…..
পূর্ণতা কথাটা শেষ করতে দেরি কিন্তু আরিয়ান ধমক দিয়ে দেরি করে না। সে রাগান্বিত গলায় বলে–
—থাপ্পড় চিনিস বেয়াদব! তুই আর তাজ কি আহমেদ পরিবারের বাহিরের? সকলের মাঝে তোদের অযাচিত লাগত কেনো? কেন নিজেকে আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখিস সবসময়?
পূর্ণতা অশ্রু সিক্ত চোখে মুখে হাসি ফুটিয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে–
—কারণ আমি ভালোবাসতে ভয় পাই। যাকেই আপন ভাবি সেই এক না একসময় হারিয়ে যায়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি না আর কাউকে ভালোবাসবো, না কারো মায়ায় জড়াবো। দিন শেষে আমার জন্য কেউ নেই আমার ছেলে ছাড়া। আমার নাম পূর্ণতা হলে কি হবে, আমার জীবনে সুখ-শান্তি বরাবরই অপূর্ণ।
আরিয়ানের ভীষণ মায়া লাগে পূর্ণতার কথাগুলো শুনে। ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর বাবাকে ঘিরেই তার জীবনটা ছিল। সেই বাবাও পাঁচ বছর আগে পূর্ণতাকে একা করে দিয়ে চলে গিয়েছে। মেয়েটা এতটাই অভাগী যে, যাকে জীবনের সবটা দিয়ে ভালোবাসল সেও কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিলো।
আরিয়ানের ফোন বেজে উঠে। ফোনটা বের করে দেখে তার ফিয়ন্সে ফোন দিয়েছে। আরিয়ানের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। সে ফোনটা সাইলেন্ট করে রুম থেকে বের হওয়ার আগে পূর্ণতার মাথায় হাত রেখে বলে–
—এতটা নিঃসঙ্গ মনে করিস না নিজেকে। যার কেউ নেই তার উপরওয়ালা আছে। আর উপরওয়ালা কারো প্রতি এতটা নিষ্ঠুর হন না, তুইও সুখ-শান্তি, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হবি।
কথাগুলো বলে আরিয়ান চলে যায় নিজের প্রেয়সীর সাথে কথা বলতে। নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে বেলকনিতে চলে যায় আরিয়ান। সেখানে গিয়ে আবারও কল লাগায় তার হবু বউ রুহিকে। কলটা রিসিভ হয় না প্রথমে। আরিয়ান ধৈর্য ধরে আরো ২/৩ বার দেওয়ার পর কলটা রিসিভ হয়। কল রিসিভ করেও রুহি কথা বলে না, মান হয়েছে তার।
মেয়েটা এমনই। আরিয়ানকে যখন সে কল করে, আরিয়ান যদি কোন কারণে সাথে সাথে রিসিভ করতে না পারে তখন সে এমন অভিমান করে থাকে। আর আরিয়ানকে নানান রকমের গিফট দিয়ে তা ভাঙাতে হয়। তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হলেও আকদটা আরো প্রায় একবছর আগেই করা হয়েছে। রুহী এবার মার্স্টার্স শেষ করেছে। এই এক বছরে আরিয়ান মেয়েটাকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছে। তার জীবনের প্রথম নারী বলে কথা।
আরিয়ান অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল কবে প্রিয়তমার পরীক্ষা শেষ হবে আর কবে তাকে নিজের বাড়িতে উঠিয়ে আনবে। অবশেষে তার আকাঙ্ক্ষিত দিনটি এসেই পড়েছে। কালকের দিনটা পার করে পরশুই রুহী তার বাড়িতে তা বউ হিসেবে আসতে চলেছে। এই খুশি যেনো তার আর ধরছে না।
আরিয়ান বেশ অনেকটা সময় নিয়ে রুহীর অভিমান ভাঙায়। শুধু কথায় রুহীর মান এবারও ভাঙে না, আরিয়ান তাকে প্রমিজ করে, তাদের হানিমুন থাইল্যান্ডে হবে। এটা শুনে মেয়েটা আর রাগ ধরে রাখতে পারে না। তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্রেমালাপ করতে। রাত গভীর হতে থাকে, কিন্তু তাদের প্রেমালাপ শেষ হয় না।
আরিয়ান তাদের বিয়ে নিয়ে তার পবিত্র, স্নিগ্ধ অনুভূতি গুলো বলছে। সে বলে–
—রুহী, জানো আমার এত খুশি লাগছে যে আমি তা শব্দে বলে বোঝাতে পারব না। আমি কতটা অপেক্ষা করেছি তোমাকে বউ করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য। অবশেষে তা পূরণ হতো চলেছে।
রুহী বেশ বিরক্ত বোধ করতে থাকে আরিয়ানের এমন ইমোশনাল কথাবার্তায়। সে বলেই বসে–
—হয়েছে তো বাবা! এত ইমোশনাল হয়ে যাওয়ার কি আছে তাই বুঝতে পারছি না আমি। বিয়ে যেহেতু আমাদের হয়েছে একদিন না একদিন আমায় তোমার বাসায় যেতেই হতো। এই স্বাভাবিক বিষয়টাকে নিয়ে এত খুশি হওয়ার কিছুই দেখছি না।
রুহীর এমন কাঠকাঠ গলায় বলা কথা শুনে আরিয়ানের এতক্ষণের সব খুশি, এক্সাইনমেন্ট দূর হয়ে যায়। সেখানে এসে ভর করে মলিনতা। সে নিষ্প্রাণ গলায় বলে–
—তুমি কি বিরক্তবোধ করছ আমার কথায় রুহী?
রুহী শেয়ানা প্রকৃতির মেয়ে। সে চট করে বুঝে যায় আরিয়ানের তার কথাটি পছন্দ হয়নি। আর আরিয়ানকে কিছুতেই অখুশি বা নারাজ করা যাবে না। তাহলে তার স্বর্ণের ডিম দেওয়া হাঁস হাত ছাড়া হয়ে যাবে।
এসব ভেবেই সে তড়িঘড়ি করে বলে–
—আরু জান, তুমি কি আমার কথায় মন খারাপ করলে? আমি তোমায় হার্ট করে কোন কথা বলতে চাই নি বেইব। আমি তো জাস্ট বলছিলাম, অনেকক্ষণ ধরেই তো আমরা এক টপিকে কথা বলছি, এবার অন্য টপিকে বলি কথা। প্লিজ?
আরিয়ান আজকালকার জেনারেশনের ছেলেদের মতো এত চালাক চতুর না। বরং সে বড্ড সহজ-সরল মনের একজন ছেলে। যাকে সে ভালোবাসে তার জন্য কলিজা ভুনা করে দিতেও সে পিছ পা হবে না, এমন টাইপের ছেলে সে। তার মনে এত প্যাচ নেই। তাই সে রুহীর এমন আহ্লাদে গলে যায়। তারপর তারা রুহীর পছন্দের টপিকে কথা বলতে শুরু করে। মানে বিয়ের পর তারা কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে, আরিয়ান তার জন্য কি স্পেশাল গিফট রেখেছে এসব।
রুহী আরিয়ানকে আহ্লাদ স্বরে আবদার করে বলে–
—জামাই, বাসর রাতে কিন্তু আমার ডায়মন্ডের সেট চাই-ই চাই। সেটাই আমি পরের দিন আমাদের রিসিপশন পার্টি পরব। কি মনে থাকবে তো তোমার?
আরিয়ান হাস্যোজ্জ্বল গলায় বলে–
—আমার বেগম সাহেবা এই প্রথম কিছু একটা চেয়েছে আর আমার তা মনে থাকবে না, এটা কখনো সম্ভবই না। আপনার আদেশ শিড়ধার্য ম্যাম।
রুহী খুশি হয়ে ফোনের মধ্যেই তাকে স্বশব্দে চুমু দেয়। আরিয়ানও প্রিয়তমাকে খুশি করতে পেরে ভীষণ খুশি হয়।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রমী বন্ধুমহলের কাছে পৌঁছে দিন।🤍
~চলবে?
শেষপাতায়সূচনা [০৪–খন্ডাংশ]
সাদিয়াসুলতানামনি
—মম, আই নিড টু গো টু ওয়াশরুম ইমিডিয়েটলি।
ঘুম ভাঙা গলায় তাজ কথাটি বলে ওঠে। পূর্ণতা ছেলেকে নিয়ে যায় ওয়াশরুমে। তারপর ফ্রেশ করিয়ে নিয়ে এসে খাওয়াতে বসে তাকে। দুই লোকমা খাবার খাওয়ার পর তাজ আর খেতে পারে না ঝালে। ছেলেটা অবিকল তার বাপের মতো হয়েছে, অথচ জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত একবার দেখা পেয়েছে তার পিতার। তাও পাঁচ বছর বয়সে।জাওয়াদও একদমই ঝাল খেতে পারত না।
পূর্ণতা আর সেই ঝাল খাবার খেতে দেয় না ছোট তাজকে। ছেলেকে নিজের ফোনে কার্টুন ছেড়ে দিয়ে নিজে বের হয়ে আসে রুম থেকে। রাত প্রায়ই অনেক হওয়ায় রিসোর্টের প্রায় সব স্টাফই ঘুমিয়ে পরেছে। ছেলেটাকে কি খাওয়াবে ভেবে মাথা উলটপালট হয়ে পূর্ণতার।
পূর্ণতাকে এই সময়ে রুম ছেড়ে আসতে দেখে একজন স্টাফ তার কাছে এগিয়ে আসে। জানতে চায় পূর্ণতার কি প্রয়োজন। পূর্ণতা বিষয়টা খুলে বললে, স্টাফটি জানায় সেফ ঘুমিয়ে পরেছে। পূর্ণতা তখন নিজেই বলে, সে রাঁধবে
স্টাফটি তাকে কিচেনে নিয়ে যেতেই পূর্ণতা পাক্কা রাধুনি হাতে ঝটপট একটা বোল স্যুপি নুডলস বানিয়ে নেয়। কাজ শেষ করে ব্যবহৃত সব বাসনকোসনও নিজেই ধুয়ে দেয়। স্টাফটি মানা করলেও পূর্ণতা শুনে না। শেষে আসার সময় ঐ স্টাফকে ধন্যবাদ দিয়ে রুমে চলে আসে।
পূর্ণতা রুমে আসতেই তাজওয়াদ আদোও আদোও গলায় প্রশ্ন করে ওঠে–
—মাম্মা, ইউ মন্সতার আনতেলের তাতে তুমি কেনু? আর আমাকে চেড়ে তুমি এত সেদেগুদে কুতায় গিয়েতিলে?
তাজওয়াদ কার্টুন দেখা বাদ দিয়ে পূর্ণতার ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে জাওয়াদ ও পূর্ণতার বিয়ের ছবি বের করে ফেলে। পূর্ণতা জাওয়াদকে ছেড়ে যাওয়ার সময় তার স্মৃতি বহন করে এমন কোন জিনিস নিজের সাথে নিয়ে যায়নি, একমাত্র তাজওয়াদকে ছাড়া। ইভেন আগের ব্যবহৃত মোবাইলখানা সে কানাডার ফ্ল্যাইটে উঠার আগেই এয়ারপোর্টেই ফেলে রেখে গিয়েছিল।
একদিন হুট করেই তার আগের আইডি সাজেশনে আসে। তখন সে পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট। জাওয়াদকে দেখার প্রবল তৃষ্ণা থেকেই সে তার আগের আইডির ওয়ালপেপার থেকে নিজেদের বিয়ের এই ছবিটি ডাউনলোড করে। যার জন্য সব হারালো, সেই তাকেই ভালোবাসতে ভালোবাসে পূর্ণতা।
[আজ পূর্ণতা আর জাওয়াদের অতীতের একটা বড় অংশ আসবে ইনশা আল্লাহ। আজকের পর্বটা পড়লেই আশা করি আপনার অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬