শেষ পাতায় সূচনা [২১]
সাদিয়াসুলতানামনি
[পর্বটি রোমান্টিক। যারা রোমান্সধর্মী লেখা পছন্দ করেন না, তারা প্লিজ ইগনোর করবেন।]
পূর্ণতা তাদের রুমে থম মেরে বসে আছে। জাওয়াদ শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসে তাকে এমন থম মেরে বসে থাকতে দেখে বুঝে যায়, সে আঞ্জুমানের এ বাসায় আসাটা পছন্দ করেনি। কিন্তু তারও যে কিছু করার নেই। আজ সকালেই এসেছে আঞ্জুমান। আগে প্রায়ই এমন আসতো হুটহাট।
জাওয়াদ পূর্ণতার সমানে হাঁটু গেড়ে বসে তার এক হাত নিজের দুইহাত দিয়ে চেপে ধরে। তারপর কিছু বলতে নিবে তাড আগেই পূর্ণতা বলে–
—এজন্য বুঝি আমি যখন আসার কথা বললাম, তখন উসখুস করছিলেন। সরাসরি মানা করতে পারছিলেন না, আবারও আনতেও চাচ্ছিলেন না। আমি এসে বুঝি সমস্যা করে দিয়েছি?
জাওয়াদ পূর্ণতার এহেন কথা শুনে কিছুটা বিরক্তবোধ করে। মেয়েটা এবার বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু সে তো আর পূর্ণতার মনের অবস্থা বুঝতে পারছে না। পূর্ণতার মনে জাওয়াদকে হারিয়ে ফেলার একটা আশঙ্ক তৈরি হয়েছে। জাওয়াদ গমগমে গলায় বলে–
—প্লিজ পূর্ণতা, নিব্বিদের মতো আচরণ করো না। আমি তখন দরজার সামনেও বললাম, তোমার বাসা, তোমার সংসারে তুমি এসেছো। এতে আমার সমস্যার কি আছে? আঞ্জুমান আমাদের মেহমান, আজ এসেছে। দুইদিন থেকে চলে যাবে। এটা নিয়ে প্লিজ কোন সিনক্রিয়েট করো না। দেখো আম্মু আঞ্জুমানকে অনেক ভালোবাসে। বলতে পারো, আমাদের চেয়েও। ওর সাথে কোন ঝামেলা করে আম্মুর চোখে খারাপ হয়ো না। অনেক কষ্টে আমাদের সম্পর্কটা স্বাভাবিক হচ্ছে, আমি আর কোন জটিলতা চাচ্ছি না। আমি এবার একটু শান্তিতে সংসার করতে চাইছি। প্লিজ তোমার কাছে এটা আমার রিকুয়েষ্ট।
জাওয়াদ এমন করে বলায় পূর্ণতা বেশ কষ্টই পায়। হ্যাঁ, সে সিনক্রিয়েট করে। কিন্তু কেন করে? তাকে তো বাধ্য করায় সিনক্রিয়েট করাতে জাওয়াদেরই পরিবার। এটা জাওয়াদ কেন দেখেও দেখছে না। শুধু কি তারা সকলে জাওয়াদের পরিবারের লোক বলে এত পাড় পেয়ে যাচ্ছে? সে কি চায় না, শান্তিতে সংসার করতে? সবসময় সবাই শুধু পূর্ণতার ভুল গুলোই দেখে কেন? এই সকল প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় পূর্ণতার জাওয়াদকে। কিন্তু সে করে না। চুপচাপ মেনে নেয় জাওয়াদের কথাগুলো।
রাতে সকলে একসাথে খেতে বসে। খাওয়া শেষ করে আঞ্জুমান সকলের সামনে পূর্ণতার হাত ধরে বলে–
—ভাবী আগে যা হয়েছে হয়েছে। আজ থেকে ভিন্ন কিছু শুরু হবে। জাওয়াদ ভাইয়া আমার ভাগ্যে ছিলেন না, তাই উনার আর আমার বিয়ে হয়নি। এই নিয়ে আমার মনে আর কোন আফসোস নেই। আমি সেসব কথা ভুলে গিয়েছি। আশা করি আপনিও সব ভুলে আমাকে জিনিয়ার মতোই ট্রিট করবেন।
সকলেই আঞ্জুমানের কথা শুনে খুশি হয়। মি. শেখও পূর্ণতা ও জাওয়াদের বিয়ে নিয়ে মন খারাপ করতেন, কিন্তু আজ আঞ্জুমানের কথা শুনে তার মনে জমে থাকা সকল সংশয় দূর হয়ে যায়। সকলেই আঞ্জুমানকে ভালো মনের মেয়ে মনে করে। কিন্তু তাদের সকলের চেয়ে একজন ব্যক্তি তার সম্পর্কে ব্যতিক্রম ধারণা পোষণ করে। ব্যক্তিটি আর কেউ না বরং পূর্ণতা। তার বাজপাখির ন্যায় চোখ আঞ্জুমানের চোখের ভাষা পড়তে সক্ষম হয়। সে এখানে পূর্ণতার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে এসেছে তা বুঝতে পূর্ণতার একটুও অসুবিধা হয় না। আর এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে তার প্রাণপ্রিয় শাশুড়ী এটাও সে সহজেই ধরতে পারে।
পূর্ণতাও সকলের সামনে আঞ্জুমানের সাথে ভাব করে নেয়। তারা দু’জন নিজেদের রুমে চলে যায়। জিনিয়ার স্কুল থাকায় সেও শুতে চলে যায়। মি.শেখও আঞ্জুমানের সাথে টুকটাক কথা বলে নিজেদের রুমে চলে যায়। ড্রয়িংরুমে থেকে যায় শুধু মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান।
মিসেস শেখ আঞ্জুমানকে বলে–
—এবার নিজের সংসার নিজে বুঝে নে। আর হ্যাঁ, তোর ফুফুমনিকে সবসময় নিজের পাশে পাবি তুই মা।
—তোমার জন্যই শেষবারের মতো চেষ্টা করছি। এবার হয় মারবো, নয়ত মরবো।
তাদের দু’জনের ঠোঁটেই শয়তানি হাসি ফুটে ওঠে।
পরেরদিন সকালে পূর্ণতা নাস্তা বানাতে এসে দেখে আঞ্জুমান ইতিমধ্যে সকল নাস্তা বানিয়ে ফেলেছে। রুটি শেকছে সে বর্তমানে। পূর্ণতা কিচেনে প্রবেশ করতে করতে বলে–
—তুমি এত সকালে কিচেনে কি করছো?
—রান্না করছিলাম ভাবী। আর এত সকাল কই, সাতটার উপরে বাজে।
—ঢাকায় এটাই তো অনেক। আর তাছাড়া তুমি শুধু শুধু মেহমান হয়ে রান্না করতে গেলে কেন? আমি তো আসছিলামই।
—আসলে কি বলো তো, আগে যেই কয়েকবার আমি এ বাসায় এসেছি প্রতিবার জাওয়াদ ভাইয়া আমার হাতের সুজির হালুয়া নাস্তায় খেতে চাইত। আমি যতদিন থাকতাম, প্রতিদিন সকালের নাস্তায় এটা অবশ্যই থাকা লাগত। তাই আরকি বানাতে চলে আসলাম।
আঞ্জুমানের কথা শুনে পূর্ণতার মেজাজ খারাপ হতে থাকে। জাওয়াদের সুজির হালুয়া পছন্দ ঠিক আছে, কিন্তু তার কথা হলো, তার স্বামীর জন্য তার না হওয়া সতীন কেন রান্না করবে? তার হাত তো ভালোই আছে।
পূর্ণতা হাসতে হাসতে আঞ্জুমানের হাত থেকে খুন্তিটা নিয়ে নিজেই রুটি উল্টে দিতে দিতে বলে–
—আরে তোমার ভাইয়ার খাবারে কত পরিবর্তন যে এসেছে। মিষ্টি সে একদম খেতে চায় না। যদি জিজ্ঞেস করি কেন খেতে চান না, উত্তরে কি বলে জানো?
—কি?
—বলে, তোমার মতো এত মিষ্টি একটা মেয়েকে খেয়েই তো কুল পাই না। আরো মিষ্টি খেলে তো অকালেই ডায়াবেটিস রোগ ধরে যাবে। কি দুষ্টু লোকটা ভাবো একবার!
কথাটা বলে পূর্ণতা হাসতে থাকে। এদিকে পূর্ণতার এমন কথায় আঞ্জুমানের শরীরে যেন কেউ আগুন লাগিয়ে দেয়।
পূর্ণতা নিজের হাসি থামিয়ে বলে–
—তোমাকে এসব বলছি বলে কিছু মনে নিও না। আসলে আমাদের দু’জনের বয়সের বেশি পার্থক্য নেই। আমরা ননদ-ভাবী কম বান্ধবী হয়ে থাকবো, কেমন?
পূর্ণতা মুখে এমন কথা বললেও, মনে মনে বলে, তোর মতো শাঁকচুন্নিকে আমার ছায়ার আশেপাশেও আমি রাখতে চাই না বিটকেল মহিলা।
আঞ্জুমান পূর্ণতার কথায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। বাকি সময়টুকু পূর্ণতা এমন আজগুবি কথা বলতে বলতে সবগুলো রুটি শেকে ফেলে। আঞ্জুমান দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো শুনে। তারপর পূর্ণতাই নাস্তা টেবিলে সাজিয়ে বলে–
—তুমি বসে রেস্ট নাও একটু, আমি তোমার ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে আসি। তাকে ডাকাও এক ধরণের যুদ্ধ বুঝলে। এই সাত-সকালেও বদ লোকটার আবদারের শেষ থাকে না। যাই যুদ্ধ জয় করে আসি।
কথাটা বলে পূর্ণতা আঞ্জুমানকে চোখ টিপ দিয়ে মিটমিট করে হাসতে হাসতে নিজেদের রুমে চলে যায়, এরপর আঞ্জুমানের মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয়। আঞ্জুমান রক্তচক্ষু নিয়ে সেই বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—আজ যেই দরজা তুমি বন্ধ করছো, একদিন সেটা তোমার স্বামী বন্ধ করবে তাও তোমার মুখের উপর। শুধু অপেক্ষা করো নিজের কৃতকর্মের ফল পাওয়ার জন্য।
পূর্ণতা রুমে এসে জাওয়াদকে পায় না। জাওয়াদ নিজেই উঠে ফ্রেশ হতে চলে গিয়েছে। পূর্ণতা ঘর গুছিয়ে জাওয়াদের অফিসের যাওয়ার জন্য ড্রেস বের করে ঘরে পায়চারি করতে থাকে। আজ জাওয়াদকে সে কিছুতেই হালুয়া খেতে দিবে না। প্রয়োজনে সে অফিস থেকে এসে বানিয়ে দিবে। তার জামাই কেন অন্য নারীর হাতের বানানো হালুয়া খাবে? সে কি অক্ষম নাকি বানাতে পারে না? পূর্ণতা ভেতরকার স্ত্রী সত্তা হিংসার আগুনে জ্বলছে।
কিছুক্ষণ পর জাওয়াদ ওয়াশরুম থেকে মাথা মুছতে মুছতে বের হয়ো আসে। ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজে সেদিকে তাকালে জাওয়াদকে দেখতে পায়। জাওয়াদও তার দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে বলে–
—শুভ সকাল পূর্ণ।
পূর্ণতা চঞ্চল পায়ে হেঁটে একদম জাওয়াদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তার চোখেমুখে এক আলাদা অস্থিরতা খেলা করছে। জাওয়াদ তাকে এমনভাবে আসতে দেখে ভরকে গিয়ে কয়েক কদম পেছনে যেতে নিলে পূর্ণতা তার গলায় থাকা টাওয়াল টেনে ধরে তাকে নিজের আরো কাছে নিয়ে আসে। হিসহিসিয়ে বলে–
—অ্যাঁই জামাই, আজ যদি হালুয়ার দিকে হাতও বাড়ান না তাহলে আপনাকে হালুয়া বানিয়ে আমি খেয়ে ফেলবো।
পূর্ণতার কথায় জাওয়াদ আরো ভরকে যায়। এই মেয়ের মাথায় সাতসকালে কি ভুত চাপলো আবার। জাওয়াদ থতমত খাওয়া গলায় বলে–
—খাবো না কেনো? তুমি তো জানো হালুয়া আমার পছন্দের।
—আমি বলেছি খাবেন না, তো খাবেন না। এর বদলে একটা মজার জিনিস খাওয়াবো আপনাকে। কি শুনবেন তো আমার কথা?
—কি খাওয়াবে? নাকানিচুবানি? ওটা তো রোজই খাই।
জাওয়াদ একটু ভয় ভয় নিয়েই বলে। সত্যিই তো। এই মেয়ে আজ পর্যন্ত তাকে নাকানিচুবানি ছাড়া আর ভালো কিছু খাইয়েছে তাকে বলে মনে পড়ে না। পূর্ণতা তার কথা শুনে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। তারপর বলে–
—না আজ আমার কথা শুনলে একটা ভিন্ন জিনিসই খাওয়াবো। সেটাও মিষ্টিই হবে আমার যা মনে হচ্ছে।
—আচ্ছা চলো। দেখি তোমার কথা শুনলে কি খাওয়াও। যদি জিনিসটা ভালো না হয়, তাহলে তোমার একদিন কি আমার যতদিন লাগে।
তারা দু’জন সকলের সাথে নাস্তা করতে ডাইনিং টেবিলে এসে বসে পড়ে। সকলে যে যার মতো নিয়ে নিয়ে খাচ্ছে। এরই মাঝে আঞ্জুমান পাকামি করে হালুয়ার বাটিটা হাতে নিয়ে জাওয়াদকে বলে–
—জাওয়াদ ভাই, তুমি তো হালুয়াই নিচ্ছো না। তুমি তো আমার হাতের হালুয়া পছন্দ করো। নাও।
কথাটা বলতে বলতে জাওয়াদের প্লেটে আঞ্জুমান হালুয়া তুলে দিতে নেয়, তখন পূর্ণতা টেবিলের নিচ দিয়ে জাওয়াদের পায়ে আস্তে করে খোঁচা মারে। জাওয়াদ খোঁচা খেয়ে পূর্ণতার দিকে তাকালে দেখতে পায়, পূর্ণতা চোখ গরম করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। জাওয়াদ একটা ঢোক গিলে নিজের প্লেটটা সরিয়ে নিয়ে বলে–
—আজ হালুয়া খেতে মন চাচ্ছে না। এমনিতেই বেশি খাওয়া হয়ে গিয়েছে।
জাওয়াদের কথা শুনে আঞ্জুমানের মুখটা চুপসে এইটুকুন হয়ে যায়। সে নিজের জায়গায় বসতে বসতে আঁড়চোখে পূর্ণতার দিকে তাকালে দেখতে পায়, পূর্ণতা নিজের প্লেটের দিকে তাকিয়ে হাসছে। আরো একবার পূর্ণতার কাছে গো হারা হেরে আঞ্জুমানের গা রাগে দা”উ দা”উ করে জ্ব”লতে থাকে। সকলে খেয়ে একে একে চলে যায়।
পূর্ণতা আর জাওয়াদ রুমে এসে নিজেদের অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকে। রেডি হতে হতে পূর্ণতা আয়নায় দেখতে পায় আঞ্জুমান ড্রয়িংরুমে বসে তাদের রুমের দিকে উঁকিঝুকি মারছে। তাদের রুমের লম্বা আয়নাটা একদম দরজার সোজাসুজি রাখা, যার কারণে দরজা খোলা থাকলে ড্রয়িংরুমে রাখা সোফা সহজেই দেখা যায় আয়নায়। দিনের বেলা দরজা এটে বসে থাকতে একটু লজ্জাই করে পূর্ণতার তাই তাদের রুমের দরজা অর্ধেক খোলা। সেই ফাঁক দিয়েই আঞ্জুমান উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।
হঠাৎই পূর্ণতার মাথায় আরেকটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে যায় তার না হওয়া সতীনকে জ্বালানোর জন্য। সে প্রায়ই রেডি হয়ে গিয়েছে। জাওয়াদ টাই বাঁধার জন্য তার পেছনে এসে দাঁড়ায়। পূর্ণতাকে বলে–
—তুমি তো রেডি হয়েই গিয়েছো, আয়নাটা একটু ছাড়ো এখন।
পূর্ণতা লিপস্টিক লাগিয়ে জাওয়াদের দিকে ফিরে। তারপর জাওয়াদের টাই টেনে ধরে তাকে নিজের আরেকটু কাছে নিয়ে এসে নিজেই বেঁধে দেয় টাইখানা। জাওয়াদ শান্ত বালকের ন্যায় দাঁড়িয়ে স্ত্রীর কাজ দেখতে থাকে। টাই বাঁধা শেষ করে পূর্ণতা বলে–
—আপনার মিষ্টি মুখ করানো বাকি আছে এখনও। করবেন নাকি একটু টেস্ট?
—এখন? তোমার আনতে আনতে লেট হয়ে যাবে অফিসের জন্য। বাসায় এসে নাহয়….
—আনা লাগবে না, এখানেই আছে।
—কোথায়?
উৎসুকভাব জিজ্ঞেস করে জাওয়াদ। পূর্ণতা তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিজের দুই পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে দুই হাত দিয়ে জাওয়াদের কাঁধ পেচিয়ে ধরে। তারপর হাস্কি গলায় বলে–
—এই তো আমার কাছে।
কথাটা বলে সে নিজেই তাদের দু’জনের ওষ্ঠ এক করে দেয়। প্রথমবারের মতো গভীর ভালোবাসার মিষ্টিমুখ করায় নিজের শ্যামসুন্দর পুরুষকে। অন্যদিকে তার এহেন কাজে জাওয়াদ হতভম্ব হয়ে যায়। আঞ্জুমান হা করে তাদের দেখতে গিয়ে সোফা থেকে ঠাস করে পরে যায়।
হঠাৎ জাওয়াদের কি হলো সে নিজেই জানে, সেও পূর্ণতার কোমড় দুই হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে তাকে আরেকটু উঁচু করে নিজের সাথে আরেকটুখানি মিশিয়ে নিজেও পূর্ণতার সাথে রেসপন্স করতে থাকে। এই একটু-আকটু কাছে আসা তো যেতেই পারে। গভীর স্পর্শ না হয় সকলের সম্মতি নিয়ে বিয়ের পরই হবে। তারও তো ইচ্ছে হয় বিটকেলরূপী এই প্রিয়তমাকে গভীর স্পর্শ দিতে। আঞ্জুমান আর সহ্য করতে পারে না তাদের এত মাখোঁ প্রেম। ক্রোধে গজরাতে গজরাতে সে তার ফুফুমনির রুমে চলে যায়।
সময়ের হুঁশ জ্ঞান হারিয়ে তারা একে অপরের ওষ্ঠে মেতে থাকে বহুক্ষণ। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে যখন শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে যায় তখন তারা একে-অপরের থেকে মুক্তি নেয়। শুরুটা অদম্য সাহস ও নির্লজ্জের মতো করলেও, কাজ শেষে পূর্ণতা অবস্থা লজ্জায় মরিমরি হয়ে যায়। সে নিজের লজ্জা লুকাতে জাওয়াদের বক্ষকেই নিজের লজ্জা নিবারণের আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয়।
একটু সময় নিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার পর জাওয়াদই প্রথম মুখ খুলে। সে পূর্ণতার লজ্জাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে বলে–
—এমন মিষ্টি প্রতিদিন পেলে, আজ থেকে হালুয়া নিজের জন্য হারাম করলাম।
পূর্ণতা লজ্জায় আরেকটু শক্ত করে জাওয়াদকে জড়িয়ে ধরে। জাওয়াদ তাকে লজ্জা পেতে দেখে নিঃশব্দে হেঁসে ওঠে।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা~১৭৪০
~চলবে?
[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৯
-
শেষ পাতায় সূচনা গল্পের লিংক
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯