শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
সাদিয়াসুলতানামনি
তুমুল বর্ষণকে মাথায় নিয়েই রাত বারোটার দিকে অর্ধভেজা অবস্থায় পূর্ণতা ছেলেকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ছুটতে ছুটতে হসপিটালের ভেতরে প্রবেশ করে। তার পেছনে থাকা টনি তাকে ছাতার নিচে আসতে বললেও সে সেসব কথা উপেক্ষা করেই ছুটে আগে আগে হসপিটালে প্রবেশ করে।
হসপিটালের ভেতরে প্রবেশ করে পূর্ণতা চিৎকার দিয়ে ডাক্তারদের ডাকতে থাকে। তার চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে কয়েকজন নার্স বের হয়ে আসে। তারা পূর্ণতার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? তখন পূর্ণতা জানায়, তাজওয়াদের অতিরিক্ত জ্বরের কারণে খিচুনি শুরু হয়। সেটা একটু পর কমতেই সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে।
পূর্ণতার কথা শুনে নার্স তাড়াতাড়ি দৌড়ে গিয়ে একজন ডাক্তার নিয়ে আসে। ডাক্তার এসেই শুরুতে পূর্ণতার একটু আগের করা বোকামির জন্য তাকে ঝাড়ে। একে তো বাচ্চাটার এত জ্বর, তারউপর তার গায়ে বৃষ্টির পানি লাগিয়েছে। ডাক্তারটি তাজওয়াদকে কেবিনে নিয়ে গিয়ে তার ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে দিতে বলে একজন নার্সকে। পূর্ণতা তো কিছুতেই ছেলেকে দিবে না। ডাক্তারটি অনেক কষ্টে তার থেকে তাজওয়াদকে নেয়। তারপর নার্সটির কোলে তুলে দেয়। নার্সটি চলে যায় অচেতন তাজওয়াদকে কোলে তুলে।
এদিকে ছেলেকে নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন আর হারিয়ে ফেলার ভয়ের কারণে পূর্ণতা তখনই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যেতে নিলে একজন সুঠামদেহী পুরুষ এসে তাকে আগলে নিয়ে নিজের বক্ষ মাঝে। পুরুষটি নিজেও কাক ভেজা হয়ে রয়েছে, কিন্তু সেদিকে তার বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই। সে পূর্ণকে বুকে নিয়েই নিচে বসে পড়ে। তারপর পূর্ণতার গালে আলতো চাপড় দিতে দিতে বলে–
—পূর্ণ! অ্যাঁই পূর্ণ! কি হলো তোমার? চোখ খুলো পূর্ণ। আমাদের তাজের কিচ্ছু হবে না। তুমি চোখ খুলো প্লিজ। আল্লাহ এ আমায় কি কি পরীক্ষায় ফেলছেন। রহম করুন মাবুদ! ডাক্তার… ডাক্তার আমার পূর্ণর কি হলো? একটু দেখুন তাকে।
~অতীত~
ঐ ঘটনার পর থেকে দিনকে দিন পূর্ণতা আবারও আগের মতো চুপচাপ, গম্ভীর, গোমড়ামুখো হয়ে যেতে থাকে। বাসায় যতটা সম্ভব কম থাকার ও কম কথা বলার চেষ্টা করে। যেটুকু না করলেই নয় তাই করে। জাওয়াদের সাথেও দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতগুলো দিন পর সে নিজের অহেতুক জেদের কারণে করা ভুলটা উপলব্ধি করতে পারছে। জিনিয়ার সাথেও বেশি একটা কথা বলে না। তার সাথে আগের মতো হৈ-হুল্লোড়, দুষ্টুমিতে মেতে থাকে না।
জাওয়াদ তার ইন্ট্রোভার্ট স্বভাব থেকে বের হয়ে পূর্ণতার সাথে স্বাভাবিক আর পাঁচটা স্বামীর মতো আচরণ করতে পারছে না। আবার পূর্ণতার এই মিইয়ে যাওয়া বিষয়টাও তাকে বড্ড পীড়া দিচ্ছে। সে বুঝতে পারে তার মায়ের করা ঐ কাজটা পূর্ণতাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আর ঐ কারণেই সে জাওয়াদের থেকেও দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাওয়াদের পূর্ণতার আগেপিছে ঘোরার পরিমাণ এখন সকলের কাছে ওপেন সিক্রেট। মি.শেখ ছেলেকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে তাকে অনেক সময় নিয়ে সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক করার বিষয়ে বুঝিয়েছেন। জাওয়াদও বুঝেছে, সেও এখন চায় সম্পর্কটা স্বাভাবিক হোক। কয়দিনই বা আমরা বাঁচব। মৃত্যুর কোন নিশ্চিয়তা নেই। যতদিন বেঁচে আছি বাবা-মা, বউ নিয়ে মিলেমিশে সংসার করাতেই তো প্রকৃত সুখ।
মি.শেখ নিজের মিসেস কেও বুঝিয়েছেন। কিন্তু সে বুঝেছে কিনা এই বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। মি.শেখ পূর্ণতাকে সেই চড় মারার বিষয়ের জন্য সরিও বলেছে, পূর্ণতা বলেছে সে কিছু মনে করেনি। তিনি ও জাওয়াদ সব কিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টায় কোমড় বেঁধে লেগে পরেছে, কিন্তু বউ – শ্বাশুড়ির মধ্যকার সম্পর্ক এতকিছুর পরও ঠিক হচ্ছে না।
একদিন জাওয়াদ নিজেই যায় তার মায়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে। সেদিনের ঘটনাটা হলো~
—আম্মা আসবো?
মিসেস শেখের রুমের দরজায় নক দিয়ে জিজ্ঞেস করে জাওয়াদ। মিসেস শেখ তখন শুয়ে ছিলেন। বাসায় আপাতত তারা তিনজন। জিনিয়া গিয়েছে কোচিংয়ে আর মি. শেখ নামাজে। পূর্ণতা রুমে অফিসের কাজ করছে।
মিসেস শেখ শোয়া থেকে উঠে বসে জাওয়াদকে রুমে ঢোকার পারমিশন দেয়। জাওয়াদ পারমিশন পেয়ে বেডে মায়ের পায়ের কাছে গিয়ে বসে। মিসেস শেখকে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে হালচাল জিজ্ঞেস করে। মিসেস শেখ জানায় তার পায়ের বাতের ব্যথা উঠেছে তাই শুয়ে ছিলেন। জাওয়াদ মিসেস শেখের ঔষধের বক্স থেকে ডাক্তারের প্রেসক্রাইড করা তেল দিয়ে কিছুক্ষণ মায়ের পা মালিশ করে দেয়। এতে মিসেস শেখ কিছুটা আরাম অনুভব করে এবং তার বাতের ব্যথাটাও অনেকটা কমে যায়।
হাত ধুয়ে এসে জাওয়াদ পুনরায় মায়ের পাশে এসে বসে পড়ে। তার মা হাসি হাসি মুখে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া দিতে থাকে। ছেলেটা তার অনেক শখের। তাদের বিয়ের চারবছর পর অনেক কষ্টে জাওয়াদ হয়। হওয়ার পরও তাকে ও তার ছেলেকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে শুধু মাত্র জাওয়াদের গায়ের রঙের কারণে।
জাওয়াদ কালো বলে কোন বাচ্চা তার সাথে মিশতে চাইতো না। এই গায়ের রঙের কারণে স্কুল, কলেজ এবং ভার্সি সব জায়গাতেই তাকে বহু কথা শুনতে হয়েছে। ছোট থাকতে সেসব কথা শুনে বাসায় এসে মায়ের কোলে মুখ গুঁজে কাঁদত সে। তার কান্না দেখে মিসেস শেখও কাঁদত। বড় হওয়ার পর সে কাঁদত না ঠিকই, এমনকি মায়ের সাথে শেয়ারও করত না। কিন্তু তার কষ্ট গুলো মিসেস শেখ তার মুখের দিকে তাকিয়েই জেনে যেতেন। জাওয়াদের হাতে গোণা যেই কয়েকটা ফ্রেন্ড আছে, তার মধ্যে তার মায়ের নামটি থাকবে সবার উপরে। মায়ের সাথে সে তার সকল কথা শেয়ার করে। এজন্য কাজিন মহলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হলেও, সে এসবে কান দেয় না।
জাওয়াদ তার মায়ের হালকা কুঁচকে যাওয়া হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। তারপর শান্ত গলায় বলে–
— আম্মা আপনার কাছে একটা আবদার, আবদার না বলতে পারেন অনুরোধ। রাখবেন আমার অনুরোধটা?
মিসেস শেখ তার বয়সের অভিজ্ঞতার দরুন বুঝতে পারে জাওয়াদ কি বলতে এসেছে। তাও সে হাসিমুখে ছেলের কথায় সম্মতি জানায়। মায়ের সম্মতি পেয়ে জাওয়াদ বলে–
—আম্মা পূর্ণতা কি মেয়ে হিসেবে অনেক খারাপ? ওকে নিয়ে কি সংসার করা যায় না? ওকে কি আপনি আঞ্জুৃমানের জায়গাটা দিতে পারবেন না আম্মা?
মিসেস শেখ যদিও আন্দাজ করেছিলেন, জাওয়াদ এই কথাগুলোই বলবে। কিন্তু তার আন্দাজ সত্যি হয়ে যাওয়ায় তার মুখটা গম্ভীর হয়ে যায়। সে থমথমে গলায় বলে–
—যাবে না কেন? অবশ্যই যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তোমার মায়ের ওয়াদার খেলাফ হবে এই আরকি। আমি আমার বাপ-মা হারা ভাতিজির কাছে কোনদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। এছাড়া আর কিছুই না।
জাওয়াদ এসব কথা শুনে একটু অস্থির হয়ে ওঠে। সে উত্তেজিত গলায় বলে–
—তা কেন হবে আম্মা। আমরা সবাই মিলে একটা ভালো ছেলে দেখে আঞ্জুমানের বিয়ে দিয়ে দিবো। আপনি তো ওকে সুখী দেখতেই আমার সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্যে ছিলো না ওর-আমার বিয়ে। তাতে কি হয়েছে? ওর সুখটাই তো মোক্ষ বিষয়, তাই না?
মনে করেন, বিয়ের পর কোন কারণে আমরা সুখী হতে পারলাম না তখন তো আপনার ছেলে আর ভাতিজি দুইজনই অশান্তিতে থাকত। এটা কি আপনি সহ্য করতে পারতেন?
মিসেস শেখের কথাগুলো কতটা অযৌক্তিক তা জাওয়াদ তার কথা দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছে। ঠিকই তো। বিয়ের পর যদি জাওয়াদ আর আঞ্জুমান সুখী না হয়, তখন কি সে তার প্রিয় দুই সন্তানকে এমন অবস্থায় সহ্য করতে পারবে? কিন্তু জেদী মিসেস শেখ তা মানতে নারাজ। সে তার কথাতেই অটল রইলেন মনে মনে। মুখে চুপ রইলেন।
জাওয়াদ আবারও বলতে থাকে আগের চেয়েও নরম ও কোমল গলায়–
—আম্মা, আমার সবচাইতে কাছের বন্ধু আপনি। আপনার কাছে আমি খোলা বইয়ের মতো এটা আপনি ভালো করেই জানেন। তাই আপনাকেই প্রথমে জানাচ্ছি, আমি পূর্ণতাকে ভালোবেসে ফেলেছি। ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি ঐ বজ্জাত মেয়েটাকে।
ছেলের মুখে সরাসরি এমন কথা শুনে মিসেস শেখ বেশ চমকে যান। তার লাজুক, স্বল্পভাষী ছেলে যে তাকে এমন ডাইরেক্ট নিজের বউকে ভালোবাসার কথা বলে দিবে সে স্বপ্নেও কল্পনা করেন নি। ছেলে তাহলে চিরদিনের জন্য হাত থেকে এটা সে বেশ ভালো করেই উপলব্ধি করতে পেরেছে।
জাওয়াদ এবার কণ্ঠে কাতরতা নিয়ে বলে–
—আম্মা, এবার প্লিজ আপনি সবকিছু ভুলে গিয়ে পূর্ণতাকে মেনে নেন না। প্লিজ আম্মা, আমার জন্য। আপনার কালা মানিকের এই অনুরোধটুকু রাখেন না আম্মা। মেয়েটা একটু মাতৃস্নেহ পাওয়ার জন্য কত হাহাকার করে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না আম্মা।
ও আমাকেও বলে না ওর কষ্টগুলো, নিজেকে কেমন গুটিয়ে নিয়েছে আমার থেকে। ওর এই নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া আমায় অনেক কষ্ট দিচ্ছে আম্মা। ও আগের মতো হাসে না, আমাকে নাকানিচুবানি খাওয়ায় না, হৈ-হুল্লোড় করে না। এমন শান্তশিষ্ট মেয়েই আমি সবসময় পছন্দ করতাম, যার কারণে আঞ্জুমানকে বিয়ে করতে মত দিয়েছিলাম। কিন্তু…. কিন্তু পূর্ণতার এই নিরবতা আমায় অদ্ভুত পীড়া দিচ্ছে আম্মা। আপনি প্লিজ ওর সাথে সম্পর্কটা স্বাভাবিক করে নেন না, আমার অনুরোধ আপনার কাছে।
কথাগুলো বলতে বলতে জাওয়াদের অজান্তেই কখন যে তার চোখে অশ্রুরা এসে ভীর করেছে সে নিজেও জানে না। মিসেস শেখ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে জাওয়াদের মুখাবয়ব প্রত্যক্ষ করেন। জাওয়াদের চোখ থেকে শুরু করে তার নিঃশ্বাস অব্দি বলে দিচ্ছে সে পূর্ণতাকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছে। নিজের বউকে ভালোবাসবে স্বাভাবিক কথা, কিন্তু এই স্বাভাবিক কথাই মিসেস শেখের কাছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় অস্বাভাবিক কথা।
সে নিজেকে কিছুটা ধাতস্থ করে জোরপূর্বক হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে–
—আচ্ছা বেশ। মিয়া-বিবি রাজী, তো আমি কাজী হয়ে কি কাজ করবো। তোমার সুখই আমার কাছে প্রধান বিষয় আব্বা। তুমি সুখী থাকলেই আমি খুশি, এতে আমার ওয়াদা ভঙ্গ হলে হোক।
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি ঐ মেয়েকে নিজের ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিবো, কিন্তু তোমাকেও আমার কয়েকটা কথা শুনতে হবে এবং রাখতেও হবে। তাহলেই আমি ঐ মেয়ের সাথে মিলি মিশে সংসার করবো, অন্যথায় না। কি রাখবে তো আমার কথাগুলো?
জাওয়াদ খুশি হয়ে যায় তার মায়ের কথা শুনে। তার মা পূর্ণতাকে মেনে নিয়েছে এতেই জানি সে খুশিতে আত্নহারা। সে তার মা’কে প্রচন্ড বিশ্বাস করে। তার মনেই হয়েছিল, সে যদি তার মাকে এই আবদারটি করে তাহলে তার মা তার দিকে তাকিয়ে হলেও আবদারটি রাখবেন। আর হয়েছে তাই।
জাওয়াদ খুশি খুশি মনেই বলে–
—বলেন আম্মা। আমি আপনার সব কথা রাখব ইনশা আল্লাহ
—ভেবে বলছো তো জাওয়াদ? আমার কথাটা শোনার পর মনে হতেই পারে, আমি তোমাদের উপর নিরব নির্যাতন চালাচ্ছি। তাই ভেবে দেখো রাখতে পারবে কিনা আমার কথা।
মায়ের এহেন কথা শুনে জাওয়াদের কপালে ভাজ পড়ে যায়। তাও সে দৃঢ় গলায় বলে–
—আমি আপনাকে ওয়াদা করছি আম্মা, পূর্ণতাকে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আপনি আমায় যা করতে বলবেন তাই করবো।
—বেশ তাহলে শুনো, আমি আমার অভিজ্ঞতার জেরে একটা কথা বলছি তুমি শুধু বলবে, কথাটা সঠিক কিনা।
—হুম।
—তুমি আর পূর্ণতা এই দেড়-দুই মাসের সংসারে একবারও কাছাকাছি এসেছো?
জাওয়াদ তার মায়ের প্রশ্ন শুনে হতভম্ব হয়ে যায়। সে ভেবেছিলো কি আর তা মা প্রশ্ন করছে কি। সে বড় অস্বস্তিতে পরে যায়। তাই সে নজর লুকাতে চায় মিসেস শেখের থেকে। মিসেস শেখ ছেলের অস্বস্তি বুঝতে পারেন সহজেই, তারও যে অস্বস্তি হচ্ছে না এমন না। কিন্তু জাওয়াদ-পূর্ণতার সম্পর্কটাকে আগে বাড়ানো আটকাতে এটাই একটা পন্থা। যদি সব হয়েও যায় তাহলেও সে কিছু একটা করে পূর্ণতাকে জাওয়াদের জীবন থেকে সরিয়ে দিবে। আর না হয়ে থাকলে তো তার জন্য প্লাস পয়েন্ট।
মিসেস শেখ ছেলের হাত ধরে বলেন–
—একটু আগেই বললে, আমি তোমরা সবচাইতে কাছের বন্ধু। বন্ধু মনে করেই না হয় বলো কথাটা।
জাওয়াদ আমতা আমতা করে বলে–
—না, কাছাকাছি আসা হয়নি আমাদের একবারও।
মিসেস শেখ মনে মনে এমনই একটা কথা শোনার জন্য দোয়া করছিলেন উপরওয়ালার কাছে। সে নিজের খুশি মনেই চেপে উপরে গুরুগম্ভীর হয়ে বলতে শুরু করেন–
—আচ্ছা বেশ। এখন আমি বলি তোমায় কি করতে হবে। তোমাদের বিয়েতে যেহেতু তোমার বাবা-মা ও পূর্ণতার বাবা অনুপস্থিত ছিলো তাই, আমি চাই তোমাদের আবারও বিয়ে দিতে আমাদের বড়দের উপস্থিতিতে।
এক মাস পর যেহেতু জিনিয়ার পরীক্ষা তাই আমি চাচ্ছিলাম জিনিয়ার পরীক্ষার পর তোমাদের দু’জনকে আমারও বিয়ে দিতে আমাদের উপস্থিতিতে। এখনই করতে পারি কাজটা আমরা, কিন্তু আমি পূর্ণতাকে আরেকটু যাচাই-বাছাই করে নিতো চাই আমার কালা মানিকের জন্য। ছেলে আমার কালো হলে কি হবে, এমন রত্ন পূর্ণতার বাবা একশ রাষ্ট্র খুঁজলেও পাবে না।
আর পূর্ণতাকে আমি এ-ই দেড় মাসে নিজের হাতে গড়ে নিতে চাই। অফিস করুক সে, এতে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমার সাথে মিলেমিশে সংসার করতে হলে, আমার কিছু নির্ধারিত নিয়ম তাকে মানতে হবে। যদি সে আগামী এক-দেড় মাস এই নিয়মগুলো মেনে চলতে পারে তবেই আমি শারমিন শেখ কথা দিচ্ছি তোমাকে, আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তোমাদের বিয়ে দিবো এবং বাসরঘর সাজাবো। কিন্তু এই দেড় মাসে তোমরা দু’জন কাছাকাছি আসতে পারবে না। কি পারবে তো আমার কথা রাখতে? নাকি বউয়ের আঁচলে বাঁধা পড়ে মা’কে ভুলে যাবে?
মিসেস শেখ একটু ইমোশনাল হয়েই শেষের কথাটা বলে। জাওয়াদ নিতান্তই সরল মনে মায়ের কথাগুলোতে সম্মতি দিয়ে দেয়। একদিকে তার জন্মদায়িনী মা। যার উদরে দশমাস দশ দিন থেকেই এই পৃথিবীর আলো দেখতে পেরেছে। অন্যদিকে জীবনের প্রথম ভালোবাসার নারী। জাওয়াদ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবে, পূর্ণতাকে যদি কেউ জাওয়াদের জন্য জ্বলন্ত কাঠকয়লার উপর হাঁটতে বলে। তাহলে পূর্ণতা এক মিনিট সময় ব্যয় ব্যতীত তাই করবে। এই বিশ্বাস ও ভরসা থেকেই জাওয়াদ তার মাকে ওয়াদা করে।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুমহলের নিকট গল্পটি পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা~১৮৭০
~চলবে?
[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৬