Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৫


মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

পর্ব_২৫

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

     হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

সকালের মিষ্টি রোদ আবরার কুহেলির উপরের পড়েছে। সেই আলোর নরম উষ্ণতায় আবরারের ঘুম ধীরে ধীরে ভাঙলো। চোখ খুলতেই নিজের অবস্থান বুঝতে পারলো—সে এখনো সাদের ফ্লোরেই শুয়ে আছে। রাতের আবেগ, কান্না,তারপর আদর সব মনে পড়লো।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই আবরারের দৃষ্টি আটকে গেলো কুহেলির দিকে।

কুহেলির মুখটা এখন অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে।
ঠোঁট শুকিয়ে গেছে।নিঃশ্বাস ভারি—অনিয়মিত, যেনো বুকের ভেতর কিছু আটকে আছে।

আবরার প্রথমে ঠিক বুঝতে পারছিল না। কিন্তু পরের মুহূর্তেই স্বভাবসিদ্ধ উদ্বেগে তার হাত ছুটে গেলো কুহেলির গালে।

আর ছুঁতেই চমকে উঠলো,

—এতো গরম..!

তার গলার স্বর থমকে গেলো।হৃদস্পন্দন হঠাৎ যেনো আচমকা বেড়ে গেল।

পাখি পাখি, শুনতে পাচ্ছো?আবরার নিচু গলায়, প্রায় কাঁপা স্বরে ডাকলো।

কিন্তু না কুহেলির চোখ সামান্যও নড়লো না।
মেয়েটা কোনো সাড়া দিলো না।শুধু তীব্র জ্বরের উত্তাপে নিঃশ্বাস আরও ভারি হয়ে উঠলো।

এক সেকেন্ডের মধ্যেই আবরার ভেতরটা ভেঙে পড়লো।সে বুঝতে পারলো গতরাতে তার অতিরিক্ত আদর আর আবেগের চাপে মেয়েটা ক্লান্ত হয়ে পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে গেছে।

শিট!নিজের মুঠি শক্ত করে ফিসফিস করলো আবরার।ভয়, অপরাধবোধ, আর তীব্র উদ্বেগ তার চোখে ঝলসে উঠলো।

সে এক ঝটকায় উঠে বসলো।

তারপর কোনো দ্বিতীয় চিন্তা ছাড়াই দুই বাহু দিয়ে কুহেলিকে সাবধানে তুলে নিলো কোলে।মেয়েটার মাথা তার বুকে হেলে পড়লো। নিঃশ্বাসের গরম বাতাস আবরারের শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে।

আবরারের হাত সামান্য কাঁপছিল, তবুও সে কুহেলিকে আরও শক্ত করে ধরে সাদের থেকে বেরিয়ে এলো।

সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই তার পদক্ষেপ ভারি হয়ে গেলো—চোখের সামনে একটাই দৃশ্য বারবার ভেসে উঠছে—কুহেলির নিস্তেজ মুখ, ফ্যাকাসে ঠোঁট, জ্বরের উত্তাপে ভারি শ্বাস।

আর আবরারের বুক ধকধক করছে একটাই চিন্তায়—পাখি আমার কিছু হয়ে গেলো নাকি?

সেই আতঙ্ক তাকে তাড়িয়ে নিয়ে যেতে লাগলো সিঁড়ির নিচের দিকে দ্রুত।

রুমে ঢুকেই আবরারের বুকের ধুকপুক ধ্বনি যেনো পুরো রুমজুড়ে প্রতিধ্বনি তুললো।সে কোনো কিছু না ভেবে তাড়াহুড়ো করে কুহেলিকে বিছানায় শুইয়ে দিলো।মেয়েটার নিস্তেজ শরীরটা তার বুকের মধ্যে আশঙ্কার ঠাণ্ডা ঢেউ তুলছিল।

এক মুহূর্তও নষ্ট না করে আবরার ফোন বের করলো।কাঁপা আঙুলে নাম্বার টিপে ডা. আসিফা কে কল দিলো।

কল ধরতেই আবরারের দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠলো,
ডা. আসিফা এখনই আসোন যত দ্রুত পারো খুব জরুরি।ডা. আসিফা কিছু বলতে যাচ্ছিল।কিন্তু অপেক্ষা করার মতো সময় আবরারের নেই।সে কোনো জবাব না শুনেই ফোন কেটে দিলো।

ফোনটা পাশে ফেলে দিয়ে আবরার আবার কুহেলির দিকে ঝুঁকল।মেয়েটার আঙুলগুলো গরম নিস্তেজ কোনো শক্তি নেই।

আবরার কুহেলির মিষ্টি, ছোট্ট হাতটা নিজের বড় হাতের মধ্যে ঢুকিয়ে নিলো।তার আঙুল বুলিয়ে ফিসফিস করে ডাকতে লাগলো

রোজ..! এই রোজ, please open your eyes..!
শুনতে পাচ্ছো?পাখি প্লিজ…!

তার গলা শুকিয়ে আসছে এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধ ভীতি বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধছে।

আবরারের মন আজ তীব্র অস্থিরতায় দুলছে।
যে মানুষটা কাউকে পাত্তা দেয় না যার এক চোখের ইশারায় মানুষ কাঁপে যে নিজের নির্মমতা নিয়ে গর্ব করতো।সেই মানুষটাই এখন কাঁপছে। মেয়েটার একটুখানি নিস্তেজ দেখে।

কেমন যেনো এক অচেনা ভয় অচেনা দুর্বলতা অচেনা অনুভূতি আবরারের বুক চেপে ধরলো।

ভাবা যায়?

এই নিষ্ঠুর, কঠিন মানুষটারও কেউ আছে
যাকে হারানোর ভয় তাকে এভাবে অসহায় করে দিতে পারে!

আবরার কুহেলির গাল ছুঁয়ে আবার ডাকলো

রোজ প্লিজ আমার দিকে তাকাও।দেখো আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে প্লিজ পাখি উঠো।তার কণ্ঠ ভাঙা, কাঁপা, উদ্বেগে ভরপুর।কুহেলির নিস্তেজ বুক উঠানামা করছে আর আবরারের বুকের ওপর ভর করে নামছে আতঙ্কের ভার।

হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক করে কড়া নাড়ার শব্দ।

আবরার তৎক্ষণাৎ নিজের ভেতরের সব ভাঙাভাব, অস্থিরতা গোপন করে নিলো।চোখের পলকে কঠিন, পাথর-মুখো সেই পুরোনো রূপে ফিরে এলো।গলা নামিয়ে গম্ভীর স্বরে বললো,

ভিতরে আসো।

দরজা খুলে ডা. আসিফা ঢুকলেন।রুমের পরিবেশ দেখে তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য বিস্ময় ঝলকে উঠলো—শুধু আবরারের ওভারসাইজ শার্টে মোড়া অচেতন কুহেলি আর তার পাশে বসে থাকা অপ্রতিরোধ্য আবরার

কিন্তু বিস্ময় প্রকাশ করার সাহস তার নেই।

আবরার হালকা মাথা ঝাঁকিয়ে ইশারা দিতেই
ডা. আসিফা কুহেলির পাশে গিয়ে বসলেন।
তিনি নরম হাতে কুহেলির কপাল ছুঁয়ে দেখলেন তাপমাত্রা অনেক বেশি।পালস দেখলেন চোখের পাতা টানলেন তারপর গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে শ্বাস ছাড়লেন—একটা স্পষ্ট, অপ্রকাশিত অভিমান, বিরক্তি এবং পেশাগত দায়িত্বের মিশ্র সুর যেনো সেই নিঃশ্বাসে ফুটে উঠলো।

তারপর দক্ষ হাতে ইঞ্জেকশন বের করে কুহেলির হাতে দিলেন।কুহেলির শরীর সামান্য কেঁপে উঠলো।

সবশেষে মাথা তুলে আবরারের দিকে তাকালেন।
এক সেকেন্ড দুই সেকেন্ড তার চোখে এক ধরণের অস্বস্তি—চিকিৎসক হিসেবে বলতে বাধ্য, কিন্তু মানুষ হিসেবে বলতে সংকোচ।

আলতো করে বললেন

স্যার উনি খুব দুর্বল।তার শরীর এতটা চাপ এতটা স্ট্রেস নিতে পারে না।আপনি অর্থাৎ একটু দেখে-শুনে ইন্টিমেট হবেন, প্লিজ।

রুমে তীব্র নীরবতা নেমে এলো।

এক মুহূর্তের জন্য আবরারের চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে উঠলো।তার ধাতব দৃষ্টি ডা. আসিফার উপর পড়তেই তিনি ঠোঁট কামড়ালেন, যেনো কথা বলার ভুলটা বুঝতে পারলেন।

আবরার ঠাণ্ডা, ধারালো স্বরে বললো

আপনারপ্র কাজ শেষ?

ডা. আসিফা ভড়কে গিয়ে তৎক্ষণাৎ মাথা নোয়ালেন।

জি শেষ।

তাহলে যেতে পারেন।

ওর কণ্ঠের তীক্ষ্ণতা পুরো রুম কাঁপিয়ে দিলো।
আর কিছু না বলে ডা. আসিফা দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন পায়ের শব্দ না তোলার চেষ্টা করেও
তার জুতার শব্দ কানে শোনালো।

দরজা খুলে বাইরে যাওয়ার সময় তিনি শেষবার কুহেলির দিকে তাকালেন—অসহায়, নিস্তেজ, নিষ্পাপ মেয়েটা—কিন্তু আবরারের উপস্থিতি তাঁকে আর একটি শব্দ বলার সাহস দিলো না।

দরজা বন্ধ হওয়া মাত্র রুম আবার নীচু, ভারী নীরবতায় ঢেকে গেলো

আবরারের চোখ আবার কুহেলির দিকে ফিরলো এবার আগের তুলনায় আরো তীক্ষ্ণ, আরো অধিকারী,আরো অদ্ভুতভাবে উদ্বিগ্ন।

~~

আধা ঘণ্টা পর..!
কুহেলির চোখের পাতা সামান্য কাঁপলো।
ধীরে ধীরে ভারী চোখ খুলতেই প্রথমেই যেটা দেখলো,তা হলো—তার একদম পাশে বসে থাকা আবরার।

চোখ খোলা মাত্রই আবরারের ভিতরে যেনো অন্য এক জগৎ জেগে উঠলো।স্বস্তি, উদ্বেগ, আরেকটু অপরাধবোধ—সবকিছু একসাথে তার মুখে ফুটে উঠলো।

আবরার তৎক্ষণাৎ ঝুঁকে এলো কুহেলির দিকে

পাখি তোমার এখন কেমন লাগছে?ঠিক আছো? জানো, আমি কতো টেনশন করছিলাম।

তার গলা সত্যিই কেঁপে উঠলো।তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরে মাথা নিচু করে বললো,

আ’ম সরি।

কুহেলি চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড।হঠাৎই তার মুখে বিস্ময়ের ছাপ

গ্যাংস্টার মাফিয়া? আমাকে সরি বলছে?

পরক্ষণেই গুমরা মুখে চোখ ছোট করে আবরারের দিকে তাকিয়ে নিচু কণ্ঠে রাগ চেপে বললো,

এখন সরি হবে?নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেন না!দুইবার অজ্ঞান করলেন আমাকে!তারপর আবার ডাক্তার ডাকেন!এসবের জন্য আমার মান-সম্মান ফালুদা করে দিলেন!কি ভাববে সবাই? বলুন তো?

এক নিশ্বাসে সব বলে ফেললো কুহেলি।
গাল ফোলা, চোখে অভিমান,ঠোঁট খানিকটা বাঁকা দেখলে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে রাগী বাচ্চা।

আবরার হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই
কুহেলিকে কোলে তুলে নিলো।কুহেলি চমকে কিছু বলার ওঠার আগেই আবরারের বাহুদ্বয় তাকে শক্ত করে নিজের বুকে আটকে নিলো।

তার ডান হাত কুহেলির কোমর জড়িয়ে ধরেছে—
এতো শক্ত করে যে মনে হয়,মেয়েটাকে আর কখনো ছাড়বে না।অন্য হাতটা কুহেলির মাথার ওপর স্নেহভরা স্পর্শে বুলিয়ে দিচ্ছে।

গভীর, ভারী কণ্ঠে আবরার বললো—কি করবে বলো?তোমার জামাইটা একটু বেশি কন্ট্রোললেস।
চাইলেও নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে না।
তোমাকেই এভাবেই সহ্য করতে হবে এতে কিছু করার নেই, পাখি।

কুহেলি মাথা নিচের দিকে দিয়ে মিনমিন করে বললো,

হু আমার মতো ভোলাবালা একটা বাচ্চা মেয়ের উপর একটা ষাঁড় নিজের সব বল প্রয়োগ করে,
তারপর এসে বলে কন্ট্রোল করতে পারি না!

মিনমিন করে বললেও আবরারের কানে একদম পরিষ্কারই গেলো শব্দগুলো।

ওর কপাল সঙ্গে সঙ্গে কুঁচকে গেলো।

কি? আমি ষাঁড়..?

কুহেলি বেঙ্গু ভঙ্গিতে মাথা দোলালো

হু! আপনি ষাঁড়।তাও আবার অসভ্য ষাঁড়।
যে আমাকে আদর করতে করতে আধমরা বানিয়ে দেয় অসভ্য ষাঁড়!

আবরারের চোখে সেই পরিচিত দুষ্টু ঝিলিক।কুহেলির গাল দুটো তখনো লাল, মাথা নিচু কিন্তু বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত কাঁপুনি।

আবরার ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে তার মুখের সামনে মুখ রেখে মুচকি হেসে বলল,

তোমার মধ্যে আমার নেশা আছে, হরিণী।

কুহেলি মুহূর্তে শ্বাস আটকে গেল। আবরার আরও কাছে ঝুঁকে গলা ভারী করে বলল,

আগে ড্রিঙ্কস করতাম কিন্তু তোমার শরীরের যে ফিল, যে গন্ধ, যে উষ্ণতা পাই সেই নেশা আর কোথাও পাইনি।

কুহেলি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।তার বুকটা কেমন ছটফট করে উঠল ভয়, লজ্জা, আর অদ্ভুত এক আকর্ষণের মিশ্রণে।

আপনি আগে ড্রিঙ্কস করতেন?তার কণ্ঠটা কেমন কেঁপে ওঠে।

আবরার শান্ত ভঙ্গিতে বলে,হ্যাঁ। আমি গ্যাংস্টার, কুহেলি। ড্রিঙ্কস, সিগারেট এসব আমার নেশা ছিল।ইভেন এখনো আছে।

কুহেলি তা শুনেই চোখ বড় বড় করে তাকায় তারপর ঠোঁট কামড়ে নিচু কণ্ঠে অকপটভাবে বলে ফেলে,আপনি এসব আর খাবেন না। যখনই মন চাইবে আমার কাছে আসবেন। এসব নেশা খারাপ।

বলেই নিজের কথায় নিজেই চমকে উঠে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে।

মুহূর্তে আবরারের হাসি থেমে যায়। চোখের দৃষ্টি বদলে গিয়ে আরও গভীর হয়। ধীরে ধীরে কুহেলির হাত দুটো ধরে মুখের সামনে থেকে সরিয়ে নেয়।

তারপর নিচু গলায়, ভাঙা এক নেশামাখা স্বরে বলে,

তাই বলো, আমার সব নেশা ছেড়ে তোমার কাছেই আসবো? মাই ফাকিং হোয়াইট রোজ?!

কুহেলির বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন যেন ধপ করে ওঠে।

আবরার চোখ নামিয়ে কুহেলির ঠোঁটের দিকে তাকায়, তারপর বলল,

ড্রিঙ্কসের নেশা ছাড়তে পারবো কিন্তু তোমার নেশা কখনো না।

সেই মুহূর্তে কুহেলির মনে হয় তার পুরো দুনিয়া যেন আবরারের সেই চোখের ভেতর আটকে আছে।

কুহেলি হঠাৎ মুখটা গম্ভীর করে আবরারের বুকে হাত ঠেলে সামান্য সরল। দু’চোখে অভিমান জমে আছে।

আচ্ছা আপনি কি শুধু আমার শরীরের জন্যই এত আদর, এত যত্ন করেন? আমাকে ভালোবাসেন না?

প্রশ্নটা হালকা হলেও আবরারের মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই বদলে গেল। তার ঘন ভ্রুগুলো কুঁচকে উঠল, চোখে তীক্ষ্ণ একটা ঝলক।তারপর ভারি কন্ঠে বললো,

ভালোবাসা মানে কি জান?সেই তো মাঝ রাতে ভালোবাসার কথা বলে টেনে নিয়ে ব্যাথা দেওয়া। আচ্ছা ইন্টারেস্ট ছাড়া তো ভালোবাসা হয় না। তাহলে ঐ ওয়ার্ড টার কি প্রয়োজন..?!আদর কি কম হয়েছে রাতে আরো লাগবে?

কুহেলির চোখ বড় হয়ে গেল।ওর গাল দপ করে লাল হয়ে উঠল লজ্জায় আর রাগে মিশে।

আবরার দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে তাকালো কুহেলির দিকে।

কুহেলি সেটা দেখে আরও নাক-মুখ কুঁচকে বলল,

“অসভ্য ষাঁড়!”

আবরারের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে বিপজ্জনক এক হাসি ফুটে উঠল।সে কুহেলির থুতনি আঙুলে তুলে ধরল, চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে বলল

“আমাকে ষাঁড় বললে আবার তোমাকেই আধমরা করে ফেলবো, হরিণী..!

কুহেলি আর উপায় না পেয়ে আবরারের বুকে মুখ লোকায় তা দেখে আবরার শব্দ করে হাসে। আবরারের হাসির শব্দ শুনে কুহেলিও মুচকি হাসে আবরারের বুকে।

~~

বিকেল পাঁচটা।
সারাদিন কুহেলির পাশেই ছিল আবরার। জ্বরটা এখন অনেকটাই কম, কুহেলির গালেও হালকা লালচে রঙ ফিরে এসেছে। তাই আবরার আধা ঘণ্টা আগে কাজে বেরিয়েছে।সেই সুযোগে কুহেলি নিঃশব্দে বাগানের এসেছে হাঁটতে।একাই এসেছে কোনো মেইড নিয়ে আসে নি।আসার সময় দেখলো সব কয়টা মেইড ঝিমাচ্ছে। কুহেলি ভাবলো হয়তো সারাদিন কাজ করে সবাই তাই ক্লান্ত হয়ে ঝিমাচ্ছে এতে মায়া হলো কুহেলির তাই আর ডাকে নি। একাই হাতে এসেছে।

হঠাৎ

গেটের সামনে একসাথে দশটা কালো গাড়ি এসে দাঁড়াল।ইঞ্জিনের গর্জন পুরো বাগান কেঁপে উঠল।

কুহেলি চমকে গেল।এতো দ্রুত আবরার ফিরতে পারে? মাত্র তো আধ ঘণ্টা হলো গেছে!

কিন্তু পরের মুহূর্তেই ভুল বুঝতে পারল।

গাড়ির দরজা খুলে যে লোকটা নামল তাকে চিনতে এক সেকেন্ডও লাগলো না।
শায়লার ভাই—ফাহিম।

সদা-ভদ্র মুখ,কিন্তু আজ অদ্ভুত একটা ধার আছে তার দৃষ্টিতে।

কুহেলি ভদ্রতায় হালকা হাসল।
ফাহিম ভাইয়া? আপনি হঠাৎ? আর এখানে!

ফাহিম মুচকি হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে অদ্ভুত ঠাণ্ডা কিছু লুকানো।একটিও কথা না বলে সে ধীরে ধীরে কুহেলির দিকে এগিয়ে এলো।
কি হলো ভাইয়া? কিছু বলবেন… কথাটা শেষ হবার আগেই

ফাহিম ঝট করে রুমালটা কুহেলির মুখে চেপে ধরল।

কুহেলির চোখ বড় হয়ে গেল, হাত-পা ছটফট করল—সেকেন্ড দশেক তারপরই শরীর ঢলে পড়ল।

ফাহিম কুহেলির নিথর দেহটাকে আলতো করে কোলে তুলল।তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে এক কর্কশ, বাকা হাসি ফুটে উঠল।

অবশেষে তোমাকে পেয়ে গেলাম কিউটি।

ফাহিম নিঃশব্দে কুহেলির নিথর শরীরটাকে কোলে তুলে নিল। তার পদক্ষেপে একটুও শব্দ নেই যেন অনেকদিন ধরে পরিকল্পনা করা কোনো কাজ অবশেষে সফল হয়েছে।

গাড়ির দরজা খুলতেই দুইজন লোক দ্রুত সামনে এগিয়ে এসে বডিগার্ডের মতো চারদিক ঢেকে দাঁড়াল। ফাহিম কুহেলিকে বুকে চেপে ধরে পিছনের সিটে উঠে বসল।

দরজা বন্ধ হওয়া মাত্রই ড্রাইভার ইঞ্জিন স্টার্ট দিল
গাড়ি গুলো ঘূর্ণিঝড়ের মতো গেট পেরিয়ে উধাও হয়ে গেল।গাড়ির ভেতর ক্ষীণ আলো।নরম সিটে কুহেলির মাথা ফাহিমের কাঁধে হেলে পড়েছে। কুহেলির মুখে এখনো অচৈতন্য ঠোঁট সামান্য ফাঁকা, নিশ্বাস অগভীর।

ফাহিম আঙুল বাড়িয়ে তার এলোমেলো চুলগুলো কানে গুঁজে দিল।তার স্পর্শে অদ্ভুত এক মালিকানার আগ্রাসী কোমলতা।

মৃদু, মোটা, শান্ত ভয়ংকর স্বরে ফাহিম বলল,

ফাইনালি তোমাকে পেলাম, কিউটি।

তার কণ্ঠে একধরনের বিজয়, একধরনের উন্মাদ ভালোবাসা।আঙুল কুহেলির গালের ওপর দিয়ে নামিয়ে এনে থুতনিতে থামালো।তারপর নিচু কন্ঠে বললো,

আর তোমাকে হারাতে পারবো না।
সবসময় সবসময় তুমি আমার কাছেই থাকবে।

গাড়ির ভেতর আলো-ছায়ার মাঝে তার চোখ দুটো লালচে ঝিলিক দিচ্ছিল।

কুহেলির ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস বললো,

আবরার নিশ্চয়ই তোমাকে কষ্ট দিয়েছে তাই না?
চিন্তা করো না, কুহেলি।আমি তোমাকে কষ্ট দেবো না। কখনো না। কারণ..!

সে গভীর শ্বাস নিল, যেন কোনো পাগল আবেগ তাকে গ্রাস করছে

কারণ তুমি আমার বাগানের সবচেয়ে সুন্দর সবচেয়ে মূল্যবান ফুল।আর এই ফুলটাকে আমি কারও হাতে পড়তে দেবো না।

ফাহিমের বুকে কুহেলিকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।আস্তে গাড়ি শহর থেকে মিলিয়ে যেতে লাগলো—কুহেলির অসহায় নিস্তব্ধ দেহকে সাথে নিয়ে।

                      চলবে....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply