মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_১৯
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
(পর্ব টা তে কিছু রুমান্টিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে চাইলে স্কিপ করতে পারেন)
রাত নয়টা।
ফোনটা একটানা বাজছে বারবার, অবিরাম। স্ক্রিনে একই নাম, শায়লা।
কুহেলি বারবার কল করছে, তবু ওপাশে কোনো সাড়া নেই। রিংটোনের প্রতিটি কম্পন যেন কুহেলির ধৈর্যের সীমানা টানছে। অবশেষে তীব্র বিরক্তি আর অস্থিরতার মিশেলে সে ফোন নামিয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি একটা মেসেজ টাইপ করলো
ফোনটা ধর, বান্দনি! কখন থেকে ফোন করছি, তবু ধরছিস না কেনো!
মেসেজ পাঠানোর পরও সে জানে, হয়তো শায়লা এখনো ধরবে না। তবু অভ্যাসবশে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন কোনো উত্তর আসবে।
বুকের ভেতর অদ্ভুত এক ভার জমে ওঠে। কুহেলি ধীরে ফোনটা হাতে নিয়েই উঠে দাঁড়ায়। রুমের ভেতর তখন হালকা আলো, পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরে থেকে শীতল রাতের গন্ধ ঢুকে আসছে।
ও বেলকনির দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতেই হঠাৎ ধমকা হাওয়া এসে গায়ে লাগে নভেম্বরের রাতের বাতাস, ঠাণ্ডা আর ভিজে। সেই বাতাস শরীরের ভেতরে ঢুকে গিয়ে কুহেলির চামড়ায় কাঁপন তুললো, যেন কেউ অদৃশ্য হাতে ছুঁয়ে দিলো তাকে।
চাদর নেওয়ার কথা মাথায় এলেও, নেয় নি। হয়তো এই ঠাণ্ডাটা এখন তার দরকার মন জুড়ে জমে থাকা অস্থিরতাকে ছুঁয়ে দেখার মতো।
বেলকনির কোণায় গিয়ে দোলনায় বসে পড়ে কুহেলি। নিচে নরম আলোয় রাস্তার দৃশ্য, দূরে কুয়াশায় মোড়া শহর। বাতাসে কোথাও একটা নরম গন্ধ হয়তো শুকনো পাতার, হয়তো কোনো অজানা রাতের নিঃশ্বাস।
কুহেলি ফোনটা পাশে রেখে দুই হাত জড়িয়ে নেয় হাঁটুর ওপর।চোখের সামনে কুয়াশায় মোড়া আকাশ, অথচ ভেতরে ঝাপসা এক পৃথিবী..!
তারপর কুহেলি কুয়াশা মোড়ানো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।রাতের আকাশটা যেন মলিন ধূসর ক্যানভাস তারার ঝিলিক নেই, শুধু হালকা আলোয় ভেসে থাকা একরাশ নিঃসঙ্গতা। ঠাণ্ডা হাওয়ায় তার চুলগুলো মুখে এসে পড়ে, কিন্তু সে সরায় না। চোখদুটো এক অদ্ভুত শূন্যতায় ডুবে গেছে।
বুকে জমে থাকা কথাগুলো ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে আসে,
“আমি কি চাই, আমি নিজেই জানি না”
তার কণ্ঠটা এত নিচু যে বাতাসও যেন শুনে ফেলে।
আবরার না থাকলে খালি খালি লাগে অথচ ও পাশে থাকলে মনে পড়ে যায় আমার প্রতি করা ওর সেই রুক্ষ আচরণগুলো সেই রাগ সেই দহন, সেই শারীরিক অত্যাচারের কথা..!
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে কুহেলি চোখ বন্ধ করে।
ও স্পর্শ করলে কেন জানি ভেতরটা কেঁপে ওঠে, যেন কিছু একটা ভুল হচ্ছে কিন্তু ও দূরে গেলে বুকটা ফাঁকা লাগে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কেনো এমন হচ্ছে আমার সঙ্গে? আমি বুঝতেই পারছি না।
বাতাস হঠাৎ আরেকটু জোরে বয়ে যায়, সাদা চুলের ফাঁকে ছুঁয়ে যায় তার গলা, কাঁধ। কুহেলির শরীর হালকা কেঁপে ওঠে, সে দুই হাত জড়িয়ে নেয় নিজের গায়ে। ঠাণ্ডা হাওয়ার মধ্যে একটা অচেনা নিঃসঙ্গতা যেন তাকে আরও গভীর করে গ্রাস করে নেয়।
তারপর পুনরায় বিরবির করে বলে,
আজ সারাদিন আবরার আমার একটু খবরও নিলো না তাতে আমার এত খারাপ লাগছে কেনো? আমি নিজেও জানি না..!
ঠিক তখনই হঠাৎ একটা উষ্ণ পরশ কুহেলির কাঁধে ছুঁয়ে গেল।সে চমকে উঠলো। কাঁধে কেউ চাদর জড়িয়ে দিয়েছে নরম, গরম, পরিচিত। কুহেলি ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই বুকটা থেমে যায় এক মুহূর্তের জন্য।
আবরার।
হাতে এখনো চাদরের এক প্রান্ত ধরা, মুখে সেই নীরব দৃঢ়তা, আর চোখে অদ্ভুত কোমল আলো।
কুহেলি এক মুহূর্তের জন্য কিছু বলতে পারে না। সে অবাক হয়ে তাকায় আজ আবরার ওকে আগের মতো জড়িয়ে ধরেনি, কাছে টেনে নেয়নি বরং দূরে দোলনার অপর পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে পড়েছে।
নভেম্বরের ঠাণ্ডা হাওয়ায় দোলনাটা হালকা দুলে ওঠে, দু’জনের মাঝে যেন অদৃশ্য একটা সেতু তৈরি হয়।
কুহেলি মনের ভেতরটা একটু কেঁপে ওঠে এই দূরত্বটা কেন যেন আগের সব ঘনিষ্ঠতার চেয়ে বেশি গভীর লাগে।
আবরার কুহেলির দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর হালকা হাসি ফুটিয়ে মুচকি স্বরে বলে,
একা একা কি বিড়বিড় করছিলে, পাখি?
কুহেলি চমকে উঠে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় আকাশের দিকে, যেন কুয়াশার ফাঁকে উত্তর খুঁজছে।
তেমন কিছু না কণ্ঠটা কাঁপে অল্প।
তারপর একটুখানি সাহস সঞ্চয় করে বলে,
আপনি তো আজ আসবেন না বলেছিলেন।
আবরার হঠাৎ মৃদু হেসে উঠলো একটা ব্যথিত, ক্লান্ত হাসি। যেন সেই হাসির ভেতর জমে আছে অনেক না-বলা অভিমান আর অদৃশ্য যন্ত্রণা।
তার লাল টকটকে মনিওয়ালা চোখে শুধু নিদ্রাহীনতার কারণে নয়, যেন সেখানে জমে আছে কিছু দগ্ধ স্মৃতি।
আবরার কুহেলির দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বললো,
কেনো, পাখি আমি না এলে তুমি কি খুশি হতে?
কুহেলি থমকে গেল। চোখের পাতা কেঁপে উঠলো, ঠোঁট নড়লো, কিন্তু শব্দ বের হলো না। কিছুক্ষণ পর মাথাটা নিচু করে আমতা আমতা করে বলল,
না তেমন কিছু না।
তার কণ্ঠে ছিল একরাশ দ্বিধা, এক চিমটি সত্যি, আর অজানা ভয়ের মিশেল।
আবরার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর ঠান্ডা গলায় বললো,চলো, আগে খাবে। তারপর কথা বলবো।
এই বলে সে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
কুহেলি কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো ওর ভেতরে এক অচেনা প্রত্যাশা ছিল, আবরার হয়তো আগের মতো কোলে তুলে নেবে, আগের মতো ছুঁয়ে দেবে স্নেহে, রাগে।
কিন্তু আজ তা হলো না।
আবরার শুধু দরজার দিকে তাকিয়ে বললো,
কি হলো? উঠো, পাখি।
কুহেলি নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো। তার চোখে হালকা হতাশার ছায়া, কিন্তু ঠোঁটে কোনো অভিযোগ নেই। ধীরে ধীরে, গুটি গুটি পায়ে আবরারের পেছনে পেছনে রুমে ঢুকে গেলো।
রুমের ভেতর নরম আলো জ্বলছে, বাতাসে হালকা
আবরার এগিয়ে গিয়ে টেবিলে রাখা ট্রেটা ঠিকঠাক করলো।কুহেলি চুপচাপ বেডের ওপর বসল দু’হাত হাঁটুর ওপর রাখা, মাথা নিচু, চুলের কিছু গোছা কপালের ওপর এসে পড়েছে।
আবরার চুপচাপ এসে কুহেলির সামনে বসল।
রুমের তখন একদম নিস্তব্ধতা আর দূরের জানালা দিয়ে ঢোকা রাতের ঠান্ডা আলো।
টেবিলের ওপর রাখা ভাতের প্লেট থেকে একটা লোকমা তুলে নিয়ে আবরার কুহেলির মুখের সামনে ধরলো।কুহেলি প্রথমে কিছুটা দ্বিধা করলো ঠোঁট নড়লো, কিন্তু কোনো প্রতিবাদ এল না।
সে জানে আবরার ওর না খাওয়া মানবে না, যতক্ষণ না সে একটুখানি খায়, ততক্ষণ শান্ত হবে না।
চুপচাপ, বিনা বাক্যে কুহেলি লোকমাটা মুখে নিলো।একটার পর একটা, ধীরে ধীরে খেতে লাগলো। আবরার প্রতিটি লোকমা ঠিক মাপ মতো তুলে দিচ্ছিলো, যেন কোনো শিশুকে খাওয়াচ্ছে।
তাদের মাঝে কোনো কথা নেই, কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরও একরাশ মমতা ছড়িয়ে আছে যা শব্দ ছাড়াই বলে দেয়, আবরার এখনো ভাবে কুহেলির খাওয়া, কুহেলির ঘুম, কুহেলির প্রতিটি নিঃশ্বাসের কথা।
খাওয়া শেষ হলে আবরার টেবিলের পাশে রাখা পানির বোতল তুলে কুহেলির দিকে বাড়িয়ে দিলো,
তারপর এক গ্লাস পানির সঙ্গে একটা ট্যাবলেট হাতে নিয়ে বললো,এটা খাও, এখনই।
কুহেলি চুপচাপ ওষুধটা মুখে নিলো, পানি খেলো।
আবরার তখন কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো চোখে ছিল অদ্ভুত শান্তি, অথচ তার গভীরে লুকিয়ে থাকা ক্লান্তির রেখা স্পষ্ট।
কুহেলির ঔষধ খাওয়া শেষে আবরার বললো,
এবার ঘুমিয়ে পড়ো পাখি। আমার একটু কাজ আছে বাইরে যাবো। শুনেছি, আজ সারাদিন ঠিকমতো খাওনি, তাই এসেছিলাম।
কুহেলির চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। আবরারের কণ্ঠটা যেন শীতের রাতের নরম চাদরের মতো, ধীরে ধীরে ওর ওপর ছড়িয়ে পড়ে।
এবার শান্তিতে ঘুমাও বলেই আবরার চুপচাপ উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে পা বাড়াতেই পেছন থেকে হালকা ফুঁপিয়ে উঠার শব্দ শুনে থমকে গেলো।
এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এলো রুমে ঘড়ির টিকটিক শব্দ পর্যন্ত থেমে গেছে যেন।ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাতেই আবরারের বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো।
বিছানার কোণে বসে থাকা কুহেলি নিচের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।চোখের কোণ বেয়ে একের পর এক অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে, বিছানার চাদরে ছোট ছোট ভেজা দাগ তৈরি করছে।চুলের গোছা মুখের পাশে এসে পড়েছে, সে ঠিক করছে না কিছুতেই না। শুধু কাঁদছে।তার কাঁধের হালকা কাঁপুনি দেখে আবরারের গলা শুকিয়ে গেলো।
ও ধীরে ধীরে ফিরে এসে কুহেলির সামনে বসে পড়লো।নরম কণ্ঠে বললো,
কি হয়েছে, পাখি? রোজ রোজ কাঁদছো কেনো? আমি তো তোমাকে স্পর্শ পর্যন্ত করিনি। তুমি যেভাবে থাকতে চাও, সেভাবেই রেখেছি তোমাকে। তাহলে কেনো কাঁদছো? কিছু খারাপ লাগছে? বলো না আমায়..!
আবরারের কণ্ঠে মিশে গেলো এক অদ্ভুত মায়া আর অসহায়তা।তার চোখের গভীরে জ্বলে উঠলো অপরাধবোধের ছায়া যেন সে নিজেই বুঝে উঠতে পারছে না,সে কুহেলির জন্য কতটা প্রয়োজনীয় আর কতটা কষ্টের কারণ হয়ে উঠেছে।
কুহেলি আবরারের কণ্ঠে এমন কোমল সুর শুনে বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না আর থামাতে পারলো না।তার চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু একসময় হাওয়ায় মিশে গেলেও, গলার ভেতর আটকে থাকা কষ্টটা যেন একসাথে বেরিয়ে এলো হেঁচকির সঙ্গে।
কুহেলি কাঁপতে কাঁপতে বললো,
আ… আমার কোন ক… কথা আপনি মানেন যে আমি একবার না বলেছি তাই দ.. দূরে দূরে থাকছেন? নাকি… নাকি আমাকে আর ভালো লাগে না আপনার?
কুহেলির গলার স্বর ভেঙে যাচ্ছিল, কিন্তু কথাগুলো কাঁটার মতো আবরারের বুক ভেদ করে গেলো।ওর কণ্ঠে মিশে থাকা অভিমান, কষ্ট, আর ভালোবাসার ভারে রুমটা যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠলো।
কুহেলি নিজেও বুঝে উঠতে পারলো না সে কী বলে ফেলেছে এই রাগ, এই অভিমান আসলে ভালোবাসারই এক রূপ।ওর চোখে এখনো পানি চিকচিক করছে, ঠোঁট কাঁপছে, শ্বাস নিচ্ছে এলোমেলোভাবে।
আবরার স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ।
তারপর ঠোঁটের কোণে এক হালকা, ব্যথামিশ্রিত হাসি ফুটে উঠলো।চোখে যেন একচিলতে দুষ্টুমি, অথচ সেই হাসির গভীরে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘশ্বাস।তারপর আবরার বিরবির করে বললো,
তাহলে এই কারণেই মহারানীর অভিমান হয়েছে?
আবরার আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না।
এক ঝটকায় কুহেলিকে নিজের কোলে টেনে নিলো।কুহেলি চমকে উঠলো তার চোখে এখনো অশ্রু চিকচিক করছে, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু প্রতিবাদ করার শক্তিটুকু নেই।আবরারের বুকে মাথা ঠেকতেই ওর নিঃশ্বাসের গতি যেন ধীরে ধীরে মিশে গেলো আবরারের হৃদস্পন্দনের সঙ্গে।
আবরার নরম হাতে কুহেলির সাদা চুলের ভেতর আঙুল চালিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।
তার কণ্ঠে এবার এক অদ্ভুত শান্তি যেন অভিমান ভাঙাতে গলিত মধুর স্রোতে বললো,
তোমরা নারীরা বড্ডো অদ্ভুত!কাছে আসলে বলো দূরে চলে যেতে,আর দূরে গেলে বলো কাছে আসতে।আবার তোমাদের থেকে দূরে গেলে আমাদের হৃদয় পুড়ে আর কাছে আসলে অন্য কিছু করতে মন চাই..!এখন আমি কি করবো এটা বলে দাও আমার হৃদয়ের মহারানী
কুহেলি একদৃষ্টে আবরারের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো সেই চোখে কেবল রাগ বা আকাঙ্ক্ষা নেই, আছে এক অজানা টান, এক নিরব স্বীকারোক্তি। ঠান্ডা হাওয়া রুমের ভেতরে ঢুকে পড়ছে, কিন্তু তাদের দুজনের মাঝের উষ্ণতা ততক্ষণে রুম টাকে নরম আলোয় ভরিয়ে ফেলেছে।
হঠাৎ কুহেলি কাঁপা হাতে আবরারের গলার কাছে শার্ট খামচে ধরলো।তার চোখে তখন এক অদ্ভুত ঝড় অভিমান, ভালোবাসা আর দুর্বলতার মিশেল।
কণ্ঠটা কাঁপছে, গলা ভারী তবুও স্পষ্টভাবে বললো,
আমি জানি না কিছু কিন্তু আপনাকে ছাড়া আমার ঘুম আসে না।আপনার বুকে মুখ লুকিয়ে আমি ঘুমাই, এটা এখন আমার অভ্যাস হয়ে গেছে আর আমি এভাবেই ঘুমাবো, বুঝলেন?
কুহেলির এই একরোখা জেদের মধ্যে শিশুর মতো সরলতা ছিলো, আবার তাতে এমন কোমল আদর, যা আবরারের হৃদয়ে ঝড় তোলে।আবরার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, কুহেলির চোখে তাকিয়ে।তারপর ঠোঁটের কোণে আস্তে একটুখানি হাসি ফুটলো শব্দহীন, কিন্তু গভীর।সেই হাসিতে ক্লান্ত ভালোবাসার ছোঁয়া, সেই হাসিতে ছিলো একরাশ শান্তি।
সে কোনো কথা না বলে কুহেলির কাঁধে হাত রাখলো, আলতো করে ওকে শুইয়ে দিলো বিছানায়।তারপর নিজের দিক থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো,বাতাসে তখন একরাশ নরম শীত, জানলার পর্দা দুলছে আস্তে আস্তে।আবরার কুহেলির পাশে শুয়ে ওকে নিজের বুকে টেনে নিলো একটা নিরব আশ্রয়ের মতো।
কুহেলি চোখ বন্ধ করলো, মুখটা গুঁজে দিলো আবরারের বুকের মধ্যে।তার নিঃশ্বাসের ছোঁয়া মিশে গেলো আবরারের বুকে ওঠানামার সঙ্গে।
কিছুক্ষণ পর কুহেলির ফিসফিস করা কণ্ঠ শোনা গেলো এইভাবেই থাকবো এখন আর কিছু চাই না।
আবরার শুধু মাথায় হাত রেখে বললো,
ঠিক আছে, পাখি যেভাবে তুমি চাও, সেভাবেই থাকবে।
প্রায় পনেরো মিনিট যাওয়ার পরও আবরার খেয়াল করলো কুহেলি ঘুমায় নি। আবরার এতো ক্ষণ মন কে এটা বলে শান্তনা দিচ্ছিলো মেয়ে টা ঘুমিয়ে গেছে এখন আর ডিসটার্ব না করি কিন্তু মেয়ে টা তো ঘুমায় নি ওর মন এখন অন্য কিছু চাইছে। আবরার কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে হাস্কি কন্ঠে বললো,
পাখি তোমাকে যদি একটু আদর করি তাহলে কি তুমি খুব কষ্ট পাবে…!?
আবরারের এরকম নির্লজ্জ কথাই কুহেলি লজ্জায় কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হচ্ছে গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে গেছে।
আবরার কুহেলির চুপ থাকা কে সম্মতি ধরে নিলো আর এক মুহুর্ত দের না করে কুহেলির কোমর টা আরো শক্ত করে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেললো। কুহেলি কিছু উচ্চারণ করার আগেই অনুভব করলো ওর গোলাপি পাতলা অধরে উষ্ণতার স্পর্শ।কুহেলির বুকে ধকধক শব্দ করতে থাকে হৃদয় স্পন্দন বেড়ে চলেছে শরীর শিউরে উঠলো মুহুর্তে।কুহেলির ছোট্ট বদনে কম্পন বাড়লো।আবরারের হাত আস্তে আস্তে চলে গেলো কুহেলির জামার নিচে বেসামাল ভাবে স্পর্শ করতে লাগলো দেহের প্রতিটি ভাঁজে..! এরকম স্পর্শে কুহেলির পেট মোচড়ে দিয়ে উঠেছে।পাতলা অধরের উপরের এরকম লাগামহীন চুম্বন আর আবরারের হাতের একরকম বেসামাল স্পর্শে কুহেলি যেনো নীতিয়ে পড়লো পানিহীন গাছের মতো।নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ওর অধরের মারাত্মক ব্যাথা অনুভব করছে..! কুহেলি এবার উপায় না পেয়ে আবরার কে ধাক্কা দিলো কিন্তু তাতে লাভ হলো না আবরার এক চুল নড়লো না বরং আরো গভীর ভাবে চুম্বন করতে থাকে..!
অনেক সময় গড়ানোর পর কুহেলির অত্যাধিক নড়াচড়া আর হাঁসফাঁস রত কাহিল অবস্থা দেখে আবরার অধর ছেড়ে মাথা তোলে কুহেলির দিকে তাকায়..! সাথে সাথে দুই জন লম্বা নিঃশ্বাস ত্যাগ করে আবরার কুহেলির জামার ভিতরে থেকে হাত বের করে শক্ত করে জরিয়ে ধরে কুহেলির ছোট্ট নরম দেহ খানা। তারপর ফিসফিস করে বলে ঘুমাও পাখি নয়তো আমার নিজেকে কন্ট্রোল করতে অসুবিধা হবে..!
ব্যাস কুহেলি তাড়াতাড়ি আবরারের বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়। আর আবরার কুহেলির কে দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমের দেশে পাড়ি জমায় তা নিজেও জানে না অতপর একটা সুন্দর ও শান্তি ময় রাত…!
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১