Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬


মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

পর্ব_১৬

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

     হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

(পর্বটি রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করতে পারেন…!)

রাত তখন গভীর। শহরের আলো নিস্তেজ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে দূরের রাস্তা থেকে হালকা গাড়ির শব্দ,মাঝে মাঝে বাতাসে উড়ে আসা শুকনো পাতার মৃদু খসখস সবকিছু মিলে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।

আবরার চুপচাপ বেলকনির দিকে এগিয়ে যায় দরজাটা আধখোলা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কুহেলি নিঃশব্দ, একদম স্থির। ওর আঙুলগুলো শক্ত করে রেলিং ধরে আছে, যেন সেই ঠান্ডা লোহার ওপরেই ভর দিয়ে নিজেকে সামলাচ্ছে চুলগুলো সাদা আর সোনালি আভায় মেশানো বাতাসে উড়ে এসে মুখ ঢেকে দিচ্ছে বারবার।

আবরারের বুকের ভেতর জমে থাকা রাগটাও তখনো শান্ত হয়নি ও একটুও ভাবলো না দ্রুত এগিয়ে গিয়ে কুহেলির হাত টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।কুহেলির নিঃশ্বাস আটকে গেল মুহূর্তে চোখ বন্ধ হয়ে গেল ভয়ে যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে সেই এক সেকেন্ডে।

আবরারের মুখ তখন কুহেলির খুব কাছে, আবরারের লাল টকটকে চোখে আগুনের মতো দপদপে রাগ, আর গলায় নিম্ন স্বরের গর্জন।

আমাকে ধাক্কা মেরে চলে আসিস?এতো সাহস তোকে কে দিয়েছে, কুহেলি…!?

বারান্দার বাতাস থেমে গেছে যেন। দূরের আকাশে ঝুলে আছে আধচাঁদ, তার ম্লান আলো পড়েছে কুহেলির মুখে ফ্যাকাশে, ভয় মেশানো তবুও অদ্ভুত এক সাহস লেগে আছে চোখে।

আবরারের বুকে এখনো উঠছে-নামছে রাগে। মুখটা এতটা কঠিন যেন সেই মুখ থেকে কোনো দয়া ঝরবে না আর।

আবরার কখনোই কুহেলির নাম ধরে ডাকে না কিন্তু আজ ওর ঠোঁটে কুহেলির নামটাও ভাঙা স্বরে আটকে গেল, রাগে কাঁপতে থাকা নিঃশ্বাসে যেন শব্দগুলো জ্বলে উঠলো।

কুহেলি বুঝতে পারছে আজ ওর উপরে আবরারের রাগ সীমা ছাড়িয়ে গেছে তবুও ভেতরের ভয় চেপে, সাহস সঞ্চয় করে পিটপিট করে তাকালো তার দিকে।

গলাটা শুকিয়ে গেছে, তবুও কাঁপা গলায় বলল,
আপনি… আপনি আমাকে এমন একটা বিষয় জিজ্ঞাসা করেছেন যা আমার সম্মানে লেগেছে। আপনি কিভাবে এমন কথা বলতে পারলেন আমাকে…?

কুহেলির চোখে তখন আঘাত আর অভিমান মেশানো জল।

আবরার একচুলও নড়লো না। বরং তার মুখের রেখাগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠলো। ঠান্ডা, রাগি স্বরে বলল,
তুই আমার। তকে আমি যা ইচ্ছে বলবো, বুঝলি?

বাতাস যেন মুহূর্তেই ভারি হয়ে গেল।তারপর সে আরও এক ধাপ এগিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আর তুই আমাকে ধাক্কা দিস? এত বড় সাহস তর! এমন অবস্থা করবো সাত দিন একটানা বিছানা থেকে উঠতে পারবি না।

কুহেলি কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবরার কুহেলির অধর জোরা নিজের অধরের আয়ত্ত্বে নিয়ে উন্মাদের মতো চুম্বক করতে থাকে কখনো পুরো ঠোঁট মুখের ভিতরে নিয়ে নিচ্ছে আবার কখনো শুধু চুম্বন করে মাঝে মাঝে দুই একটা কামড় বসাচ্ছেন…! তারপর এক হাত ঢুকিয়ে দেয় কুহেলির জামার ভিতরে শক্তপোক্ত হাত দ্বারা পুরো শরীর জোরে স্পর্শ করতে থাকে। আজকের স্পর্শে কোনো কোমলতা নেই শুধু আছে হিংস্রতা…! থর থর করে কাঁপতে থাকা কুহেলি কে নিঃশ্বাস পর্যন্ত নেওয়ার সুজোগ দিচ্ছে না।

বেশ কিছু ক্ষণ পর আবরার কুহেলির ঠোঁট ছেড়ে দেয় সাথে সাথে কুহেলি জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে বুক প্রচন্ড পরিমানে উঠা নামা করছে। এতে আবরার কে আরো আকৃষ্ট করে। পুনরায় মুখ ডুবায় কুহেলির গ্ৰীবদেশে ছোট্ট ছোট্ট চুম্বনে ভরিয়ে দেয় কুহেলি নিজেকে সামলাতে হিমশিম খায়। আবরার এবার গ্ৰীবদেশে চুম্বনের পরিবর্তে চুষে নিতে থাকে যেনো মৌচাক থেকে কেউ মধু চুষে নিচ্ছে…!কুহেলি এবার নিজেকে সামলাতে না পেরে আবরারের বড় বড় চুল গুলো শক্ত করে ধরে আবরার এতে আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে এক হাত দিয়ে কুহেলির কোমড় ধরে পেঁচিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।

আর এক হাত দিয়ে কুহেলির জামার চেইন খুলে ফেলে কুহেলি এবার ভয় পেয়ে যায় কাঁপা কন্ঠে অনেক কষ্টে বলে,

প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন আমি এখন এই সবের জন্য প্রস্তুত না…!

আবরার থেকে যায় লাল টকটকে চোখের মনি দিয়ে কুহেলির দিকে তাকায় তারপর কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি কন্ঠে বলে,

আমার তোমাকে চাই মাই ফা*কিং হোয়াইট স্কোয়াব। আর তোমার প্রস্ততের মাই রে বাপ…! আমি যখন বলেছি আমার এখনই তোমাকে চাই মানে এখনি চাই…!

কথা খানা বলা শেষ করেই আবরার এক টান দিয়ে কুহেলি জামা খানা খোলে ফেলে কুহেলি কে বেলকনির ফ্লোরে শুয়ে দিয়ে নিজেও শুয়ে পড়ে কুহেলির উপরে। এমনতেই ফ্লোর থেকে ঠান্ডা উঠছে যাতে কুহেলির শরীর বরফ হয়ে যাওয়ার উপক্রম তার উপরের আবরারের মতো এক জন মানুষ এভাবে ভর ছেড়ে দিয়েছে কুহেলি আর থাকতে না পেরে ছটফট করতে করতে বলে,

প্লিজ অনন্ত এখানে থেকে উঠুন রুমে চলুন ফ্লোর অনেক ঠান্ডা…!

আবরার সেই চিরচেনা স্নান হেসে বললো, যদি এভাবেই ছটফট করো তাহলে একদম সুইমিং পুলে নিয়ে বরফের মধ্যে বা*সর করবো তাই চিংড়ি মাছের মতো ছটফট না করে চুপচাপ থাকো এটাই তোমার জন্য বেটার…!

আবরারের কথা খানা শুনে ও একদম চুপসে যায় কারণ আবরার যে সাইকো করতেও পারে তার থেকে এখানেই ভালো। কুহেলি আর কিছু বললো না।কুহেলি কে চুপ হতে দেখে আবরার বাকা হেসে কুহেলির গ্ৰীবদেশে মুখ ডুবিয়ে দেয় তারপর আস্তে বক্ষদেশে তারপর শরীর জোরে চুম্বন করতে থাকে কুহেলি বারংবার কেঁপে উঠছে যা আবরার কে আরো উন্মাদ করছে…! আর কুহেলির চোখ দিয়ে টপ টপ অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

আবরার এক বার তাকালো কুহেলির দিকে সাদা চুলের রানি ফর্সা মুখ চোখে ভিজে আছে গোলাপি অধর থর থর করে কাঁপছে সব মিলিয়ে মায়াবিনী বললেও কম হবে..!

তারপর কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে, গভীর হাস্কি কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,

ভালোবাসা কী তা আমি জানি না আর জানতে চাওয়ারও প্রয়োজন বোধ করি না তবে একটা জিনিস বুঝেছি তুমি আমার নেশা হয়ে গেছো মাই ফাকিং হোয়াইট রোজ।যেমন কেউ প্রতিদিন ড্রিঙ্কস করে,আর একদিন না করলে শরীর কেঁপে ওঠে,ঠিক তেমনি তোমার কাছ থেকে দূরে থাকলে আমার ভিতরটা অস্থির হয়ে যায়।তোমাকে না দেখে, তোমার গন্ধ না পেয়ে, তোমার কণ্ঠ না শুনে
এক মুহূর্তও থাকতে পারি না আমি…! কি জাদুকর তুমি…!?

আবরারের কথাই কুহেলির নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল, আবরারের কথা গুলো ঘোর লাগার মতো ছিলো..! আবরার পুনরায় কুহেলির অধর খানা নিজের আয়ত্বে নিয়ে পুরোপুরি ভাবে ডুব দিলো কুহেলির মাঝে সারা রাত এই অত্যাচার চলতে থাকে আবরার শেষ রাতের দিকে ক্লান্ত হয়ে কুহেলির বুকের উপরে ভর ছেড়ে দেয় কুহেলির অবস্থা বেহাল নীভু নীভু চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে কিছু ক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান হারায়…!

আবরারের সেই দিকে খেয়াল নেই ও ঘুমিয়ে যায় কুহেলির বুকের মধ্যে।

রাত টা আবরারের জন্য মধুর হলেই কুহেলির জন্য বিষাক্ত..!

আচ্ছা এই সাইকো আবরার কি কখনো কুহেলি কে ভালোবাসবে..? নাকি সারাজীবন শুধু এই ভাবে পাগলামি করে যাবে….!?

~~

বেলকনির ফ্লোর জুড়ে সকালের মিষ্টি রোদ ঢেলে পড়েছে সাথে হালকা বাতাস রোদের এক টুকরো সরাসরি এসে পড়েছে আবরারের মুখে চোখ কুঁচকে সে একটু গড়াগড়ি খায় তারপর ধীরে পাশে তাকায়।কুহেলি ওর বুকের ওপর গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে চুলগুলো এলোমেলো, নরম মুখটা আধখোলা যেন স্বপ্নের ভেতরও কিছু বলতে চাচ্ছে। আবরারের দৃষ্টি গিয়ে থামে ওর চোখের কোণে সেখানে শুকনো অশ্রুর দাগ রাতের কান্নার চিহ্নগুলো এখন সূর্যের আলোয় আরও স্পষ্ট।

আবরার মৃদু হাসে। ঠোঁট কামড়ে নিজের মনে বলে ওঠে,ছোট্ট পাখিটা কাল রাতে কেমন কেঁদেছিল..!

তার মনে পড়ে যায় গত রাতের সবকিছু, কুহেলি কে আদর করার প্রতিটা মুহুর্ত যা ওর কাছে কেমন মিষ্টি মুহুর্ত লাগছে…!

হঠাৎ কুহেলির গাল ছুঁয়ে দেখে আবরার। চমকে ওঠে শরীরটা ঠান্ডা। অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা।

তার কপাল ভাঁজ পড়ে যায়। প্রথমে ভাবে হয়তো ঘুমের কারণে, তারপর দ্বিতীয়বার ছোঁয়—আরেকটু দৃঢ়ভাবে। না, ভুল হয়নি। কুহেলির শরীর নিস্তব্ধ, রক্তহীন ঠান্ডা।

আবরারের বুকের ভেতরটা যেন হিম হয়ে আসে। বাইরে রোদ বেড়ে চলেছে, পাখিরা ডাকছে, অথচ বেলকনির সেই ছোট্ট জায়গায় সময় থমকে আছে।

পাখি…!
আবরার ডাকে। কণ্ঠে কাঁপন।

কোনো সাড়া নেই।

আবরার আর দেরি করল না বুকের ভেতর অজানা ভয়, উৎকণ্ঠা মিশ্র ঝড় বয়ে যাচ্ছে ও উঠে দাঁড়ালো তারপর কুহেলির নিস্তব্ধ শরীরটা ওর কোলে তুলে নিলো সে একটা কাগজের পুতুলের মতো হালকা লাগছে।বেলকনির ফ্লোরে রোদ পড়ে আছে, অথচ আবরারের পায়ের তলায় জমে আছে ঠান্ডা ঘাম। ও নিঃশব্দে দ্রুত পায়ে হেঁটে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।

ঝর্ণার নিচে দাঁড়ালো কুহেলি কে কোলে নিয়েই তারপর হাত বাড়িয়ে শাওয়ারের নল খুলে দিল। বরফ ঠান্ডা পানি ঝরে পড়লো কুহেলির মাথার ওপরে, চুল ভিজে কপালে লেগে গেল, গায়ের প্রতিটি শিরা তিরতির করে কেঁপে উঠল।

এক মুহূর্ত নিস্তব্ধতা তারপর কুহেলির চোখ মিটমিট করে নড়ল। নিঃশ্বাসের হালকা শব্দ।আবরার থমকে গেলো।ওর বুকের ভেতর যেন আগুনের পরশ বয়ে গেল।

কুহেলি ধীরে চোখ খুলে তাকালো অচেনা আলো, ঠান্ডা পানি, আর আবরারের উদ্বিগ্ন মুখ। কয়েক সেকেন্ড ও বুঝতে পারছিল না, কোথায় আছে সে। দৃষ্টিটা এদিক-ওদিক ঘুরে আবার স্থির হলো আবরারের মুখে।

তারপর নিঃশব্দে ঠোঁট নড়ল, কণ্ঠ কাঁপল
আমাকে ছেড়ে দিন।

আবরার তাকিয়ে রইল এক দৃষ্টিতে, কুহেলি আবরার কুহেলি চোখ নামিয়ে নিলো, নিঃশ্বাস টেনে বলল দুর্বল স্বরে,আপনার মুখ আমি দেখতে চাই না।

ওর কণ্ঠে কাঁপুনি, তবুও একধরনের তীব্র ঘৃণা যেন গত রাতের সব উষ্ণতা হিম হয়ে গেছে অনুতাপে।

আবরার ঠোঁট কামড়ে বললো, কিন্তু কালকে রাতে তো সবি দেখে ফেলেছো…!

আবরারের এরকম নির্লজ্জ কথাই যেনো কুহেলির কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হতে লাগলো।

তবুও ও লজ্জা এক সাইটে রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বললো, দয়া করে আমাকে পানির নিচে থেকে সরান আমার পুরো শরীর জ্বলছে..! কালকে রাতে তো জানোয়ারের মতো খেয়েছেন আমার পুরো শরীর জোরে দেখুন পুরো শরীরে দাগ আপনার হিংস্রার…!

আবরার গম্ভীর কন্ঠে বললো, চুপ করো নয়তো এখানে আবার শুরু করবো আমার কিন্তু অনেক দিনের ইচ্ছে বাথরুমে বউয়ের সাথে রুমাঞ্চ করার তাই চুপ থাকলে তোমার জন্য ভালো আর না করলে তোমার জন্যই মন্দ এখন তোমার ইচ্ছে..!

কুহেলির আর কোনো কথা বললো না খুব রাগ হচ্ছে আবরারের উপরে কিন্তু কিছু করতে পারবে না আর কথা বললেও বিপদ তাই চুপচাপ থাকায় ভালো। শুধু শুধু ঘুমন্ত সিংহ কে জাগানোর কি দরকার..? তার থেকে চুপচাপ থাকায় বেটার..!

বেস কিছু ক্ষণ পর কুহেলি কে ফ্রেশ করে আবরার নিজেও ফ্রেশ হয়ে কুহেলি কে কোলে নিয়ে বাথরুম থেকে বের হয়। কুহেলির শরীরে শুধু ওর সাদা শার্ট আর ওর শরীরে শুধু একটা সাদা তোয়ালে পেঁচানো।

তারপর আবরার কুহেলিকে ধীরে ধীরে বেডে বসাল। কুহেলির মুখটা এখনো ফ্যাকাশে চোখে ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তা। ভেজা চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ছে বিছানার চাদরে।

আবরার কিছু না বলে ফোনটা হাতে নিলো। পর্দায় দ্রুত কয়েকটা শব্দ টাইপ করে পাঠিয়ে দিলো কোনো এক অজানা নম্বরে। স্ক্রিনে আলো জ্বলল, তারপর নিভে গেল যেন তার মুখের মতোই নিস্তব্ধ।

কুহেলি তাকিয়ে আছে। নিঃশব্দে, চোখের পাতা না নেড়ে। যেন প্রতিটি মুহূর্তে বোঝার চেষ্টা করছে, এই মানুষটা এখন কী করছে কেন করছে।

আবরার আলমারির দিকে গেল। পোশাক বের করে ধীরে ধীরে পরতে লাগল। হাতের নড়াচড়া দৃঢ়, কিন্তু মুখে এক অদ্ভুত শান্ত ভাব যেন সবকিছু আগেই ঠিক করা ছিল।

বাইরে তখন সূর্যের আলো আরও উজ্জ্বল।
ঠিক দশ মিনিটের মাথায় দরজায় টোকা পড়ল
ঠক ঠক ঠক।

আবরার এক মুহূর্ত থামল তারপর নিঃশব্দে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজা খুলতেই দেখা গেল তিনজন সার্ভিস স্টাফ দাঁড়িয়ে আছে, ট্রের ওপর সাজানো গরম গরম ভিন্ন নাস্তা।

তারা ট্রেটা এগিয়ে দিলো। আবরার নিজেই হাতে নিয়ে দরজাটা আবার বন্ধ করে দিলো। রুম টা আবার আগের মতো নিঃস্তব্ধ।ও ট্রেটা টেবিলের ওপর রাখল, তারপর ধীরে কুহেলির দিকে ফিরে এলো।

কুহেলি তখনও চুপচাপ বসে, হাঁটু জড়িয়ে, চোখ দিয়ে শুধু আবরারকে দেখছে। একটিও শব্দ নেই, কিন্তু সেই নীরব দৃষ্টিতেই কত প্রশ্ন, কত অব্যক্ত কথা জমে আছে।

আবরার খাবার নিয়ে এসে চুপচাপ এসে কুহেলির পাশে বসল।রুম জুড়ে এখন শুধু নিঃশব্দতা আর গরম খাবারের ঘ্রাণ ভাসছে। বাইরে থেকে ভেসে আসছে রোদের আলো, ধীরে ধীরে বিছানার কিনারে ছড়িয়ে পড়ছে।

আবরার ট্রের ওপর থেকে খাবারের থালা তুলে নিলো চামচে ভাত তুলে কুহেলির সামনে ধরল।
কুহেলি প্রথমে চুপ করে তাকিয়ে রইল, কিছু বলল না। তারপর, যেন হঠাৎ নিজের ক্লান্তি টের পেল ক্ষুধার দাহটাও। নিঃশব্দে চামচটা হাতে নিয়ে খেতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ কোনো কথা নেই শুধু কুহেলির খাওয়ার নরম শব্দ, আর আবরারের গভীর দৃষ্টি ওর ওপর স্থির।

দুই-তিনবার খাওয়ার পর কুহেলি হালকা গলায় বলল,আপনি… খাবেন না?

আবরার ঠোঁটে সামান্য হাসি টেনে দিলো, তবে সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই নিচু স্বরে বলল,

যাকে ঘৃণা করো, ,তার কথা জেনে কী করবে?

কুহেলি থমকে গেল তারপর মিনমিন করে বললো,
আপনিও তো আমাকে ভালোবাসেন না, ওর গলায় একরাশ কষ্ট, তাহলে কেন এই যত্ন?

আবরার কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।লাল টকটকে
চোখে যেন ভেতরের কোনো ভার জমে আছে। কিন্তু তা বুঝার ক্ষমা সবার নেই। আবরার ধীরে বলে উঠল,

আবরার বললো, আমি তোমাকে ভালোবাসি না যত্ন করি কারণ হলো তোমার শরীর আমার চাই প্রতিদিন চাই তার জন্য তো তোমাকে যত্ন করা আমার কর্তব্য তাই না…!

কথা খানা বলে আবরার নির্ভিক ভাবে কুহেলি কে খাওয়া তে লাগে…!

আবরারের কথাটা যেন ছুরি হয়ে বিঁধল কুহেলির বুকের ভেতর ওর চোখের পাতা কেঁপে উঠল, তারপর নিঃশব্দে দুই চোখ ভরে উঠল পানিতে। একফোঁটা, দু’ফোঁটা তারপর সেই অশ্রুগুলো গাল বেয়ে নেমে গেল নিঃশব্দে যেন নীরব প্রতিবাদ।

আবরার একবার আড়চোখে তাকাল, কিন্তু কোনো কথা বলল না। ঠোঁটের কোণে হালকা একটা রেখা যা শুধু নীরবতার পর্দার আড়ালে কিছু অজানা ভাবনা।

রুমের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।কুহেলি মুখ নামিয়ে চুপচাপ খেতে থাকল। প্রতিটি কণাই যেন গলায় আটকে যাচ্ছিল, তবুও থামল না। হয়তো ক্ষুধার চেয়ে অভিমানই বেশি পোড়াচ্ছিল ভেতরে।

খাওয়া শেষে আবরার ট্রেটা সরিয়ে রাখল। তারপর ড্রয়ার খুলে একটা ছোট সাদা ট্যাবলেট বের করে কুহেলির হাতে দিলো।পেইন কিলার খেয়ে নাও।

কুহেলি এক মুহূর্ত ওর দিকে তাকাল চোখের ভেতর তখন শুধু প্রশ্ন, কোনো উত্তর নেই। আবরার কিছু না বলে মুখ ফিরিয়ে নিলো।

ঠিক তখনই ঠক ঠক।দরজায় টোকা পড়ল।

দু’জনেই একসঙ্গে তাকাল দরজার দিকে।
আবরার ধীরে উঠে দাঁড়াল প্রতিটি পা যেন ওজন টেনে নিচ্ছে মেঝের দিকে দরজার কাছে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দরজা খোলে দেখে ফেটিক্স।

দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফেটিক্সকে দেখে আবরারের চোখে হালকা কৌতূহল আর সতর্কতা লেগে গেল।

কি হয়েছে এত সকালে? কী চাই?আবরারের কণ্ঠে তীব্রতায় মিশে ছিলো ধকল আর অস্থিরতা।

ফেটিক্স কিছু না বলে মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল। তারপর নিঃশব্দে বলল,স্যার… শিশা এসেছে।

শিশার নাম শুনে আবরারের কপালে অজানা ভাঁজ তৈরি হলো।মনে মনে বললো, এতো সকালে কেনো এসেছে তবে মুখে বললো,ঠিক আছে, তুমি যাও। আমি আসছি।ফেটিক্স দ্রুত সরিয়ে নিলো দরজা থেকে, নিঃশব্দ হয়ে গেল।

আবরার ধীরে কুহেলির দিকে ফিরে তাকাল। চোখে এক গভীর চিন্তা, নিঃশ্বাসে হালকা অস্থিরতা।

আমি নিচে যাচ্ছি। আমার কাজ আছে। তুমি রেস্ট নেও। ঠিক আছে?!

কুহেলি কোনো শব্দ করল না। শুধু মাথা সামান্য নেড়ে, নিঃশব্দে সম্মতি জানালো। চোখে কিছুটা ভয়, কিছুটা অদ্ভুত প্রশান্তি যেমন কেউ চলে গেলেও সব ঠিকঠাক আছে বলে ভেবেছে।

আবরার রুম থেকে একবার তাকাল কুহেলির নীরব দৃষ্টি, চুল ভেজা, আর শূন্যতায় মিশে থাকা সেই অজানা অসহায়তা। তারপর ধীরে ধীরে বের হয়ে গেল।

দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম টা আবার নীরব হয়ে গেল।শুধু বাতাসের হালকা দুল, আর বেডে বসে থাকা কুহেলির নিঃশব্দ শ্বাস।সেই নিঃশব্দতায় যেন রুমের প্রতিটি কোণ আবরারের উপস্থিতির প্রতিফলন বহন করছে যেখানে প্রেম, অসহায়তা এবং অজানা ভয়ের এক অদ্ভুত মিশ্রণ।

                          চলবে.....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply