Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩


মাইটক্সিকহাসব্যান্ড

পর্ব_১৩

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

      হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

আবরার সবে মাত্র শরীরে সাবান দিয়েছে কুহেলির এরকম চিৎকার শুনে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে দৌড়ে গেল ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তারপর বিছানার দিকে যেতে যেতে বললো,

কি হয়েছে জান? এভাবে চিৎকার করলে কেনো?
তার কণ্ঠে উৎকণ্ঠা, চোখে ভয়।

কুহেলি তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কাঁপা কাঁপা গলায়, চোখে জল ভরে তাকিয়ে বলে,
আপনি… আপনি আমার জামা চেঞ্জ করেছেন তাই না…?

কথাটা শুনে আবরার মুহূর্তে স্থবির হয়ে গেল। যেন সময় থেমে গেছে। তারপর ধীরে ধীরে আবরারের মুখে বিস্ময় মিশে গেল ক্ষোভে।

মানে তুমি এটার জন্য চিৎকার করলে?
তার কণ্ঠ এখন ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে আগুন জ্বলছে।

কুহেলি মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে।

সেই মুহূর্তে কিছু একটা ভেঙে গেল আবরারের ভেতর। নিজের সংযম হারিয়ে সে হঠাৎ সামনে ঝুঁকে কুহেলির গালে এক সজোরে থাপ্পড় দিল।

চপাৎ!

আওয়াজটা রুমের নিস্তব্ধতাকে ছিন্ন করে ফেলল।

কুহেলি স্তব্ধ। গালে হাত রেখে অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে থাকে আবরারের দিকে তারপর কিছু ক্ষণ ঐভাবে তাকিয়ে থেকে আবরার কে বললো,

আপনি একটা হৃদয় হীন অসভ্য মানুষ আপনি আমার জামা কেনো চেঞ্জ করেছেন তাও আমার অনুমতি ছাড়া তারপর আবার কি করলেন..? আমাকে এমনি এমনি মারলেন..? আপনি একটা শয়তান আমি আপনার সাথে থাকবো না…!

আবরার হঠাৎ কুহেলি কে কোলে তোলে নিলো কুহেলি টাল সামলাতে না পেরে আবরারের গলা জরিয়ে ধরলো..! আবরার কুহেলি কে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে হাটা দেয়। কুহেলি ভয় পেয়ে ছটফট করতে করতে বলে এই আপনি আমাকে ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন কেনো..? আমাকে নামিয়ে দেন ভালো হবে না কিন্তু বলছি, নামান আমাকে।

আবরারের থুড়ায় শুনলো কুহেলির কথা। কুহেলি কে ওয়াশরুমে নিয়ে সোজা ঝর্ণার নিচে দাঁড় করিয়ে ঝর্ণা ছেড়ে দিলো সাথে সাথে কুহেলির পুরো শরীর ভিঁজে একাকার অবস্থা কুহেলি সরে আসতে চাইলো কিন্তু আবরার কুহেলি কে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো আর কুহেলির এতো টা কাছে গেলো যে দুই জনের শরীরে আর এক ইঞ্চি দূরত্ব নেই। কুহেলির বুক বুক ধক ধক করতে থাকে নিঃশ্বাস ভাড়ি হয়ে আসে…!

আবরার লাল টকটকে চোখের মনি দিয়ে তীক্ষ্ণ ভাবে কুহেলির দিকে তাকিয়ে বললো, তোমার শরীরে এমন কোনো জিনিস নেই যা আমার না দেখা তাহলে এভাবে ঢং করার কি আছে..?

তারপর একটু থেমে রাগি কন্ঠে বললো, আর তোর সাহস দেখে আমি অবাক হয় তুই বলিস আমার সাথে থাকবি না..? তর কি মনে হয় তুই থাকতে চাইবি তারপর আমি তকে আমার কাছে রাখবো..? হাই ফানি বোইন…! না আমি তকে আমার কাছে আটকে রাখবো আর হ্যাঁ দরকার হলে আমি তকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখবো তবুও তকে আমার কাছে রাখবো..! আর যদি পালানোর চেষ্টা করিস তাহলে কালে রাতের শাস্তির কথা তো মনে আছে তার থেকেও ভয়ংকর শাস্তি পাবি। আমি ভালো মানুষ না রে কলিজা আমি কথার চেয়ে বেশি মানুষ খুন করি তাই তকে খুন করতে আমার এক মিনিট লাগবে না। তাই চুপচাপ আমার কথা মতো থাক আমিও ভালো থাকবো তুইও শান্তিতে থাকবি নয়তো দুই জনি অশান্তি তে থাকবো…!

কুহেলি এবার কান্না করতে করতে বললো, আপনি আমার ফ্যামিলি কে খুন করেছেন..! কিন্তু এখন বলছেন খুন করেন নি। আপনি আমাকে মিথ্যা বলছেন কেনো বলছেন সত্যি বলুন..!

আবরার এবার কুহেলির দুই বাহু আরো শক্ত করে ধরে বললো, এই চিংড়ি মাছের বাচ্চা আমি যদি তর ফ্যামিলি কে মারতাম তাহলে অবশ্যই আমি বলতাম তর মতো চিংড়ি মাছের বাচ্চা দেখে আমি ভয় পাইতাম না। তকে আজকে সব প্রশ্নের উত্তর দিবো তবে হ্যাঁ কিছু সত্যি দেখার জন্য তৈরী থাকিস ভেঙে পড়লে আমি তর পাশে থাকবো না কারণ তুই আমার কথা বিশ্বাস করছিস না এখন তাই বলেই আবরার একটা সাদা টাওয়ার কোমড়ে পেঁচিয়ে রেগে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

আর কুহেলি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ি রইলো। কি বলে গেলো আবরার ওর মাথায় ঢুকছে না…!

~~

সকাল দশটা।
রোদ তখন ঠিক আলতোভাবে জানালার কাঁচ ছুঁয়ে গিয়েছে। কালো রঙের গাড়িটা শহরের ফাঁকা রাস্তায় নিঃশব্দে চলছিল। গাড়ির পিছনের সিটে বসে আছে আবরার একদম ডান পাশে। বাঁ দিকে কুহেলি। মাঝখানে যেন এক অদৃশ্য দেয়াল দু’জনের মাঝখানে জমাটবাঁধা নীরবতা।

ড্রাইভারের আসনে ড্রাইভার মনোযোগ দিয়ে স্টিয়ারিং ধরেছে, আর তার পাশের সিটে ফেটিক্স। পুরো গাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা এতটাই গাঢ় যে বাইরে টায়ারের ঘর্ষণের শব্দও স্পষ্ট শোনা যায়।

কুহেলি চুপচাপ বসে আছে। তার চোখ বারংবার চলে যাচ্ছে আবরারের দিকে চুপচাপ, এক ঝলক, আবার ফিরিয়ে নিচ্ছে। আবরারের মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই একদম পাথরের মতো স্থির। সেই সকাল থেকে ওয়াশরুমের ঘটনাটার পর থেকে সে আর একবারও কথা বলেনি, এমনকি কুহেলির দিকে তাকায়ওনি।

অথচ আবরার তো এমন নয়। সবসময়ই কুহেলির কাছাকাছি থাকে কিন্তু আজ যেন পুরো মানুষটাই বদলে গেছে। ঠান্ডা নির্লিপ্ত অচেনা এক আবরার।

গাড়ির কাঁচের বাইরে আলো-ছায়ার খেলা চলছে, কিন্তু ভেতরের পরিবেশ যেন ভারী হয়ে উঠছে প্রতি মুহূর্তে। কুহেলি মাথা নিচু করে বসে আছে, মনে একরাশ অজস্র প্রশ্ন ওনি কি রেগে গেছে? আমার ওপর? কিন্তু কেনো..? আবার নিজের প্রশ্নে নিজেই বিরক্ত হচ্ছে রেগে থাক আর যাই থাক তাতে আমার কি…?!

একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে সে জানালার বাইরে তাকাল। ঠিক তখনই গাড়িটা হঠাৎ থেমে গেল।

ফেটিক্স দ্রুত দরজা খুলে বাইরে নেমে গেল, তারপর গিয়ে পেছনের দরজাটা খুলে দিল। আবরার নিঃশব্দে গাড়ি থেকে নামল একটা বার্তাও নয়, একটা দৃষ্টিও নয়।

তারপর নামল কুহেলি নামলো,গাড়ি থেকে নামতেই ওর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।সামনের দৃশ্যটা যেনো হঠাৎ করেই সময়ের কুয়াশা ভেদ করে উঠে এসেছে একটা পুরনো, বিশাল বাড়ি। দেয়ালের রঙ চটে গেছে, জানালার কাঠে ছোপ ধরা শ্যাওলা। চারদিক ঘিরে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বাতাসে এক ধরনের স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ যেন বহু বছর কেউ এখানে পা রাখেনি।

বাড়িটার চারপাশে গাছ, তবে জঙ্গল নয় বরং গাছগুলো এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন কোনো প্রহরী, বহুদিন ধরে কারো জন্য অপেক্ষা করছে। মাথার উপর সূর্য আছে ঠিকই, কিন্তু আশ্চর্যভাবে এখানে রোদ পড়ছে না। চারপাশে কেমন ম্লান আলো, যেন সময় থেমে গেছে এই দোতলা প্রাসাদের গায়ে।

কুহেলির শরীরের ভেতর দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। সে আস্তে করে ফিসফিস করে বলল,
এই কানাডাতেও এমন ভুতুড়ে জায়গা আছে নাকি…? আর উনি আমাকে এখানে কেন এনেছেন…?

তার কণ্ঠের মধ্যে কৌতূহল আর ভয়ের মিশেল।

ঠিক তখনই আবরারের গলা ভেসে এল সামনে থেকে তোমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যই এনেছি।তার গলাটা ছিল ঠান্ডা, কিন্তু সেই ঠান্ডা ভাবের মধ্যেও একটা অদ্ভুত কর্তৃত্ব।সে হাঁটতে হাঁটতে যোগ করল,তাই বিরবির বাদ দিয়ে আমার পিছনে পিছনে আসো, সাদা চলের মালকিন।

শেষ কথাটায় হালকা বিদ্রূপের ঝাঁঝ ছিল, আর কুহেলির মনে একটুখানি দাহ লাগল তবু দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পেল না।

আবরার… দাঁড়াও!
বলে কুহেলি তাড়াতাড়ি তার পিছু নিল।

পাথরের তৈরি সিঁড়ি বেয়ে তারা বাড়িটার দিকে এগিয়ে গেল। প্রতিটা ধাপেই ধুলো জমে আছে, কোথাও কোথাও শুকনো পাতার খসখস শব্দ। চারপাশে কাকের ডাক, দূর থেকে বাতাসে জানালার কাচ টুং করে বাজছে।

বাড়ির ভেতরে পা রাখতেই কুহেলির মনে হলো, যেন এক ভিন্ন জগতে প্রবেশ করেছে সে দেওয়ালজোড়া ঝুলছে ধুলো পড়া চিত্রকর্ম বাতাসে একটা স্যাঁতস্যাঁতে ধাতব গন্ধ।আবরার কোনো কথা না বলে সোজা হেঁটে গেল করিডরের শেষ মাথায় থাকা এক ঘরের দিকে। কুহেলি দ্বিধায় পা টেনে টেনে এগোচ্ছে মনে অজস্র প্রশ্ন, কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারছে না।

আবরার দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই কুহেলির নিঃশ্বাস আটকে গেল।ঘরটা আধো আলোয় ঢাকা। মাঝখানে লোহার চেয়ারে শিকল দিয়ে বাঁধা এক মানুষ তাকরিম।তার শরীর জুড়ে নীলচে দাগ, হাত-পা কাঁপছে দুর্বলতায়। তার মুখের কোণে শুকনো রক্তের দাগ, আর চোখে একরাশ অসহায়তা।

আল্লাহ… কুহেলির ঠোঁট ফেটে শব্দ বেরোল।
পরক্ষণেই সে দৌড়ে যেতে চাইল তাকরিমের দিকে, কিন্তু হঠাৎই একটা শক্ত হাত তার কব্জি চেপে ধরল।

আবরার।চোখে অদ্ভুত এক শীতল আগুন।আগে ওর কথা শুনো, তারপর ওর কাছে যাবে।

কুহেলি থেমে গেল না, সে প্রায় চিৎকার করে উঠল,কি শুনবো? আপনি কী অবস্থায় ফেলেছেন ওকে? মানুষ না আপনি..!

তার গলার আওয়াজে পুরো ঘরটা যেন কেঁপে উঠল। কিন্তু আবরার নিঃশব্দ ঠোঁটে কোনো শব্দ নেই, চোখে শুধু কঠিন এক সিদ্ধান্ত।

তারপর ধীরে ধীরে সে মাথা ঘুরিয়ে পাশের দিকে তাকাল।একজন বডিগার্ড দাঁড়িয়ে ছিল অন্ধকার কোণে।আবরার চোখ দিয়ে হালকা একটা ইশারা করল কোনো শব্দ নয়, শুধু নির্দেশ।

বডিগার্ড বিন্দুমাত্র দেরি না করে এগিয়ে গেল তাকরিমের কাছে। তারপর ধাতব বালতি থেকে ঠান্ডা পানি তুলে তার গায়ে ছুঁড়ে মারল।

আঃ—!
একটা তীব্র গোঙানির শব্দ ছড়িয়ে পড়ল ঘরের প্রতিটি কোণে।

কুহেলির চোখ বড় হয়ে গেল, বুকের ভেতর দম আটকে গেল।সে চিৎকার করে উঠল,
থামুন! থামুন বলছি!

কিন্তু আবরার এখনো ঠান্ডা, নির্বিকার।
তার চোখ কুহেলির দিকে, ঠোঁট সামান্য নড়ল তুমি ওর সত্যিটা জানবে আজ। সবটা।

তাকরিমের চোখ ধীরে ধীরে খুলে গেল।তার নিঃশ্বাস ভারী প্রথমে দৃষ্টি অস্পষ্ট, তারপর ধীরে ধীরে ফোকাস হলো কুহেলি।তাকরিমের ঠোঁট কাঁপল সামান্য, কিন্তু শব্দ বেরোনোর আগেই তার দৃষ্টি সরে গেল পাশে দাঁড়ানো আবরারের দিকে।

আবরারের মুখে তখন সেই পরিচিত, ঠান্ডা অথচ ভয়ানক স্নান হেসে ধীরে ধীরে বললো,

সত্যিটা এখন বল আবরারের গলায় কর্কশ দৃঢ়তা।তোর জন্যেই আমার পাখি সে এক মুহূর্ত কুহেলির দিকে তাকিয়ে থামল, তারপর আবার তাকরিমের দিকে ঘুরল তোর জন্যেই আমার পাখিটাকে সামনে এনেছি।না হলে এই জীবনে আর কখনও তুই ওকে দেখতে পেতি না।

কুহেলি চোখে বিস্ময়ের সঙ্গে জন্ম নিলো এক অচেনা আতঙ্ক। ও আস্তে করে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
কি… কি সত্যি বলবে?

তাকরিম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মুখে ক্লান্তির রেখা, কিন্তু চোখে একরাশ অনুশোচনা।তার গলা ভাঙা, তবু প্রতিটি শব্দ যেন ভারী হয়ে বাতাসে ঝুলে রইল,

আমি বলছি, কুহেলি… শুনো।

কুহেলি একদম স্থির।মনে হচ্ছে যেন সময় থেমে গেছে, শুধু তাকরিমের ভাঙা গলার আওয়াজ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘর জুড়ে।

আবরার তখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে, চোখের কোণে একটুকরো বিজয়ের ঠান্ডা ঝিলিক।কুহেলির মনে হতে লাগল, সে যেন এমন এক সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছে যা তার পুরো পৃথিবীটাকে বদলে দেবে।

তাকরিম আস্তে করে বলল,কুহেলি তকে আমি কোনোদিনই পছন্দ করতাম না।

কুহেলি চমকে উঠল তার গলায় শব্দ আটকে গেল শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসের আওয়াজটুকু শোনা যাচ্ছে।

তাকরিমের গলা কাঁপছে, কিন্তু চোখে অপরাধবোধের চেয়ে ঘৃণাই বেশি।সব সময় তোরা আমাকে ছোট করে দিতি সবাই, এমনকি আমার নিজের মা-বাবাও।প্রতিদিন শুনতাম,দেখো কুহেলিকে, ওর মতো হতে পারো না?ওর মতো ভালো স্টুডেন্ট না, ওর মতো নম্র না, ওর মতো মিষ্টি ব্যবহার না তুই জানিস না, এই তুলনাটা কতটা কষ্ট দেয় একজন ছেলেকে।

তাকরিম থামল, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল, তারপর হেসে ফেলল এক তিক্ত, ফাঁকা হাসি।আমি ছেলে তুই মেয়ে অথচ তারা তোকে নিয়েই গর্ব করত।
আমি যেন তাদের চোখে কখনওই যথেষ্ট ছিলাম না।

কুহেলির চোখ ভিজে উঠল।সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু আবরারের উপস্থিতি তাকরিমের কণ্ঠের ভার সব মিলিয়ে বুকটা যেন জমে গেল বরফে।

তাকরিম বলল,তারপর একদিন একজনকে ভালো লেগেছিল আমার। আমি ভেবেছিলাম, অন্তত এবার মা-বাবা আমার পাশে দাঁড়াবে।কিন্তু না তারা কী করল জানিস?

তাকরিম হঠাৎ মাথা তুলে কুহেলির দিকে তাকাল, চোখে আগুন জ্বলছে।তারা তোকে দিয়েই আমার বিয়ের তারিখ ঠিক করল!

শব্দগুলো যেন ঘরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলো। কুহেলির মুখ সাদা হয়ে গেল।

তাকরিম বলল,সেই দিনটা আমি সহ্য করতে পারিনি।রাগে, অপমানে, হিংসায় আমি পাগল হয়ে গেছিলাম।তখন থেকেই সুযোগ খুঁজছিলাম কীভাবে তকে একেবারে শেষ করে দেওয়া যায়।

তারপর তর মা একদিন বললো তার নিজের দেশে আইসল্যান্ডের যেতে চাই গির্জায় একটা কাজে বেস আমিও পেয়ে গেলাম সুজোগ প্ল্যান করলাম ঐ দিন বোমা ফেলবো,আর তকে সহ মারবো..! কিন্তু তুই ঐদিন গির্জার ভিতরে গেলি না আমি ভাবলাম তর মা বাবা মারা গেছে তুই এমনি মরবি তাই আমি তর মা বাবা কে মারলাম আর এরিক আবরার নামের অনেক বড় মাফিয়া কিং আছে তা আমি আগে থেকেই জানতাম তাই ওর নাম নেয়ার জন্য কয়েক জন লোক ভাড়া করলাম আর কেউ কিছু বলার সাহস পেলো না।

ঘরটা নিস্তব্ধ কেবল কুহেলির কাঁপতে থাকা নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে রাগে, কষ্টে, আর বিশ্বাস ঘাতকতার জ্বালায় মুহূর্তে সে যেন অন্য এক মানুষ হয়ে গেছে।

কুহেলি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ গর্জে উঠলো তকে আমি ভালোবেসেছি! তকে ছাড়া কখনো অন্য কারো দিকে তাকাইনি! তাহলে তুই কিভাবে ভাবতে পারলি যে আমি তোর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি?

ওর গলা কাঁপছে, কিন্তু চোখে কোনো জল নেই। বরং জ্বলছে আগুনের মতো।আমি তো কখনো তোর ক্ষুদ্রতা দেখিনি সবসময় তো তোর গুণ দেখেছি। তোর ভালো দিকগুলোই ভালোবেসেছি আমি! তুই কীভাবে পারলি এমন কাজ করতে? তুই আমার মা-বাবাকে মেরে ফেললি..! তাও শুধু তর নোংরা মন মানষিকতার জন্য..!

কুহেলির শরীরটা কাঁপছে, কিন্তু সে থামছে না।
তকে তো আমি আজ আর ছাড়বো না!

এই চিৎকারে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে গেল।

কুহেলি সামনে এগিয়ে গেল চোখে তখন আর কোনো ভয় নেই, শুধু প্রতিশোধের আগুন। তার হাত কাঁপছে, মনে হচ্ছে নিজেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।

কুহেলি জানে না সে কী বলছে, কী করছে। শুধু জানে তার ভেতরের বিশ্বাস, ভালোবাসা, আর সহনশীলতা সব পুড়ে গেছে একসাথে।

ঘরের বাতাসে তখন শুধু কুহেলির গর্জনের প্রতিধ্বনি ভালোবাসার পরিণতি, যা এখন রক্তের প্রতিশোধে পরিণত হতে চলেছে।

কুহেলি দেখলো ঘরের এক কোণে একটা কুড়াল এক দৌড়ে যেয়ে কুড়াল টা হাতে নিলো তারপর পুনরায় তাকরিমের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, তুই আমার মা বাবা কে মেরেছিস তাই না..? তাকরিম এবার কিছু টা ভয় পেলো বললো, কুহেলি কি করতে চাইছো তুমি…?

কুহেলি এক ঘর কাঁপানো হাসি দিলো তারপর কুড়াল দিয়ে এক কোপ মারলো তাকরিমের মাথা বরাবর বেস দুই খন্ড হয়ে গেলো তাকরিম..!

আবরার বিস্ময় হয়ে দেখলো এই মেয়ে কি করছে..? তবুও কিছু বললো না জানে এখন থামালে কুহেলি চিৎকার চেঁচামেচি করবে তার থেকে ভালো নিজের মনের জ্বালানো আগুন মিটিয়ে নিজেই শান্ত হোক।

কুহেলি কোপাতেই থাকে নিজের মতো কোনো জ্ঞান নেই শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে ওর মা বাবা কে এই লোক টা মেরেছে..! প্রায় পনেরো মিনিটের পর কোপানোর পড় হঠাৎ কুহেলি কুড়াল টা হাতে থেকে ফেলে দিলো তারপর নিজের দিকে তাকালো দেখে পুরো শরীর রক্তে ভিজে গেছে..!

কুহেলির এবার ধ্যান ফিরে ওমনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে নিলে আবরার দৌড়ে এসে কুহেলি কে কোলে তুলে নেয় তারপর বাকা হেসে বলে আ’ম ইম্প্রেস মাই ফা*কিং স্কোয়াব….!

                   চলবে....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply