ভালোবাসার_সমরাঙ্গন || ৩ ||
সারিকা_হোসাইন
কাঁচারী ঘরের কাঠের চেয়ারটায় বসে শার্টের কলার টেনেটুনে ঠিক করলো অংক মাস্টার পিয়াল।এবছরই ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স শেষ করেছে সে।ছেলেটা যথেষ্ট মেধাবী।বাবা এলাকার মেম্বার।মানুষজন তাদের সম্মান করে।হাতে প্রচুর অবসর সময় এখন।সাদমান মির্জার অনুরোধেই মৌনতা কে পড়াতে এসেছিলো মাস তিনেক আগে।মেয়েটা অংকে একদম শূন্য।সাধারণ যোগ বিয়োগ গুন ভাগই তার মাথায় ঢুকে না।পিয়াল ভেবে পায়না এই মেয়ে প্রাইমারি গন্ডি কিভাবে পেরিয়েছে?পিয়ালের মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় ঠাটিয়ে চড়িয়ে মেয়েটার সবকটা দাঁত ফেলে দিতে।সারাক্ষণ ই তার হাত নিশপিশ করে।কিন্তু মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী।মেয়েটির মিষ্টি হাসি আর চোখের রংঢং পিয়ালকে কেমন কাবু করে।পিয়ালের বুকে ধড়াস ধড়াস ঢোল বাজে।অদ্ভুত অনুভূতি শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয়।পিয়াল বহু অন্বেষণ করে বের করেছে সেই অনুভূতির সঠিক সংগা।পিয়ালের মনে মৌনতার জন্য ভালোলাগার সৃষ্টি হয়েছে।হয়তো এটা ভালোবাসা নয়তো মোহ।পিয়াল এখনো সঠিক শব্দের নাম ঠিক করতে পারেনি।কিন্তু তার আগে মৌনতার মনে কি আছে তা জানা প্রয়োজন।এজন্য পিয়াল আকার ইঙ্গিতে প্রশংসা করে মৌনতার মন বোঝার চেষ্টা করে।পিয়ালের প্রশংসায় মৌনতা হেসে কুটিকুটি হয়।পিয়াল ঠিক করেছে আরো কয়েক দিন গেলে নিজের মনের কথা জাহির করবে মৌনতার কাছে।কিন্তু মৌনতা দের সামনে তারা চুনোপুঁটি।ধনসম্পদ, ক্ষমতা,যোগ্যতা কিছুতেই তারা মৌনতা দের সমান নয়।পিয়াল প্রায়ই মনকে ধমকে অনুভূতি গুলোর গলা টিপতে চায়।কিন্তু বেয়ারা মন কি আর শাসন বারণ বুঝে?
পিয়ালের ভাবনার মাঝেই চামেলি এলো চা আর বেলা বিস্কুট নিয়ে।ট্রেয়ের মধ্যে বেলা বিস্কুট দেখেই পিয়ালের রাগ তরতর করে মস্তিষ্ক ছুলো।বে-স্বাদের এই বিস্কুট বড্ড অপছন্দ তার।কিন্তু মৌনতার পছন্দ ।তাই মৌনতার সাথে নিজের পছন্দ মেলাতে সেও মৌনতা কে জানিয়েছিলো বেলা বিস্কুট তার ও বেশ পছন্দ।এমনকি পোলাও মাংস আর বেলা বিস্কুট একসাথে রেখে তাকে একটা নির্বাচন করতে বললে সে বেলা বিস্কুট ই বেছে নেবে।ব্যস হয়ে গেলো কান্ড।মৌনতা তার মাকে এই বিষয়ে জানাতেই রোজ রোজ মিলছে বেলা বিস্কুট।মাস তিন ধরে এই খড়খড়ে বিস্কুট খেয়ে জিভ একদম নষ্ট হয়ে গেছে।আজকাল মুখরোচক খাবার ও টেস্ট লাগে না।জিভে শুধু বেলা বিস্কুট এর স্বাদ ঘুরে।
চামেলি চলে যেতেই লম্বা ঘোমটা টেনে মৌনতা এলো।অদ্ভুত রূপে মৌনতাকে দেখে গলা ঝাড়লো পিয়াল।এরপর বলে উঠলো
“একি মৌনতা সাবেরি! এতবড় ঘোমটা কেনো?
মৌনতা কথার উত্তর না দিয়ে বললো
“স্যার সত্যি করে বলুন তো আমার গানের গলা কি বেসুরা?
সবেই দুধ চায়ে চুমুক দিয়েছে পিয়াল।মৌনতার প্রশ্নে দুধ চা তার নাকে মুখে উঠে গেল।খেতে খেতে মিথ্যে বলা যায়না।কিন্তু সত্যি বললেও পছন্দের মানুষের মন ভাঙবে।তাই বিষম খেয়ে কেশে মাথা চাপড়ালো পিয়াল।এরপর রয়ে সয়ে বললো
“যে এই কথা বলেছে সে গান বাজনার কিচ্ছু বুঝে না মৌন।তোমার উপর জন্মানো হিংসা আর রাগ থেকে সে এমন কথা বলেছে।তুমি ওসবে কান দিও না।তুমি সঙ্গীত সাধনা চালিয়ে যাও।দেখবে একদিন রুনা লায়লাকেও ছাপিয়ে যাবে।
মৌনতা সামান্য ভরসা করলো পিয়ালের কথা।এরপর বললো
“একটা গান শোনাবো আপনাকে?
পিয়াল তাৎক্ষণিক মাথা নাড়ালো।সে গান শুনতে চায়না।এমন আওয়াজ কানে গেলে মাথায় অসহনীয় যন্ত্রনা হয়।পুরোটা সন্ধ্যা মাথা চিনচিনে ব্যথা করে।পিয়ালের।মাথা নাড়ানো দেখে মৌনতা চোখ বিস্ফারিত করলো।ঘটনা ঘেঁটে যাচ্ছে আন্দাজ করে পিয়াল বলে উঠলো
“আগে গত কালের অংক গুলো সলভড করে দেখাও,এরপর গান শুনবো।নয়তো তোমার সুরের মূর্ছনায় আমি সব তালগোল পাকিয়ে শুধু গানই শুনতে চাইবো সারাক্ষণ।
এমন সময় শায়লা এসে উপস্থিত হলো কাঁচারী ঘরে।সে মৌনতার পাশের চেয়ারটা টেনে বসলো।এরপর বললো
“আলাদা গানের মাস্টার আছে বাবা।সেই বরং সুরের রাগী মূর্ছনায় হুশ হারাক।তুমি বরং যেটা পড়াতে এসেছো সেটাই পড়াও।অলরেডি দুবার মুখে চুনকালি মেখেছি।আর মাখতে চাই না।এবার সরাসরি গলায় দড়ি দেবো।
পিয়াল ভয়ে ইতস্তত করে বলে উঠলো
“জ জ জি আন্টি।বুঝতে পেরেছি।
শায়লা কপাল কুঁচকে বললো
“তোমার মা আমারে খালা মানে।তুমি আমারে আন্টি বলো কিভাবে?তোমার মায়ের খালা তোমারও খালা?আমাকে ভাবি ডাকবে।মৌনতা তোমার দুঃসম্পর্কের ভাগ্নি।বুঝলে?
কপট শায়লার কাছে পিয়াল বিপাকে পড়লো।বলার মতো কিছু না পেয়ে উত্তর করলো
“রক্তের সমন্ধ না থাকলে একটা বলে সম্বোধন করলেই হলো।
শায়লা পিয়ালের নখদর্পণে থেকে ইতোমধ্যে তার মনের বাসনা আঁচ করে ফেলেছেন।তাই মুঠো ভর্তি টাকা পিয়ালের পানে এগিয়ে বলে উঠলো
“এই মাসের আর তিন দিন আছে।আগামী মাসে থেকে তোমার আসার আর প্রয়োজন নেই।নতুন মাস্টার আসতেছে।
শায়লার কথা পিয়ালের মাথায় বজ্রপাতের ন্যয় আঘাত করলো।টাকা হাতে না নিয়েই পিয়াল শুধালো
“আমি কি খারাপ পড়াচ্ছি আন্টি?
শায়লা মাথা নাড়িয়ে বললো
“তুমি যথেষ্ট ভালো পড়াও।কিন্তু মাগনা মাস্টার থাকতে টাকা দিয়ে কেন পড়াবো?রণ আসছে বাড়িতে।ওই পড়াবে।
বলেই টাকা গুলো পিয়ালের হাতে গুঁজে দিয়ে তরতর করে উঠে গেলেন শায়লা।যাবার আগে কড়া চোখে মেয়েকে শাসালেন
“পরীক্ষার আগে গান বাজনার নাম আবার মুখে আনলে গলা টিপে মেরে ফেলবো।জানিস তো কোন বাঘের খপ্পরে পড়তে যাচ্ছিস!তাই ঘিলুতে ভালো করে সব পড়া ঢুকিয়ে নে।নয়তো গালের চামড়ায় ফোস্কা পরে যাবে।আমি মোটেও ফেরাবো না।কারন তোর মতো খোদার খাসির লাগাম সেই ধরতে পারবে।আমরা দেওয়ান মির্জাকে ভয় পেলেও সে কিন্তু পায়না।মনে রাখিস তার চোখের দৃষ্টিতে দেওয়ান মির্জা স্বয়ং কাঁপে।
বলেই চলে গেলেন শায়লা।রণ’র ভয়ে মৌনতার মুখ রক্তশূন্যতা পাণ্ডু হলো।পিয়াল নিজেও ঘাবড়ে গিয়ে তাড়া দেখালো
“সমীকরণের অংক টা করে দেখাও দেখি।কালই হাতে কলমে শিখিয়েছি।
মৌনতা বিড়বিড় করে বললো
“ভুলে গেছি স্যার।
প্রথম বারের মতো মৌনতার মাথায় চাটি মেরে পিয়াল বলে উঠলো
“তোমার মতো গোবরে ভরা মাথা বাপের জন্মে দেখিনি।প্রতিদিন সকালে গামলা ভর্তি গু খেও।যদি একটু বুদ্ধি হয়।
পিয়ালের সুন্দর চেহারাটা মৌনতার কাছে এই মুহূর্তে বিশ্রি লাগলো।ইচ্ছে করলো কলমের নিপটা পিয়ালের চোখে গেঁথে দিতে।এরমধ্যেই পিয়াল গর্জে উঠলো
“কি হলো বই খুলছো না কেনো?
এবার চোখ বড় বড় করে দাঁত কামড়ালো মৌনতা।এরপর পায়ের কাছে পড়ে থাকা ইট তুলে পিয়ালের মাথায় বসিয়ে বলে উঠলো
“আমাকে চোখ গরম করে ধমকানো?এতো বড় স্পর্ধা?পিয়াল,গিয়াল,শিয়াল।হু!
মৌনতার রণ মূর্তিতে কেঁপে উঠলো পিয়াল।সুন্দরী মৌনতা হঠাতই কেমন পিশাচিনি রূপে পরিণত হলো।এদিকে শায়লা রসুই ঘরে ঢোকার আগেই পিয়ালের গগন বিদারী চিৎকারে পুরো মির্জা বাড়ি কেঁপে উঠলো।ভয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন শায়লা।বাড়িতে উপস্থিত সকল কাজের লোক,দেওয়ান মির্জা নিজে ,আরো সকলেই দৌড়ে এলো।এসে পিয়ালের রক্ত মাখা মুখশ্রী আর মৌনতার আগ্রাসী রূপ দেখতে পেলো।ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলেন প্রত্যেকে।বই খাতা গুছিয়ে মৌনতা গলা তুলে বলে উঠলো
“আপনি মোটেও ভালো পড়ান না।তিন মাসে জত টাকা নিয়েছেন সব ফেরত দিবেন।গাধা মাস্টার কোথাকার।
বলেই পিয়ালের হাত থেকে শায়লার দেয়া টাকা ছো মেরে নিয়ে হনহন করে উঠে চলে গেলো।দেওয়ান মির্জা সম্বিৎ ফিরে পেতেই দৌড়ে পিয়ালের কাছে এসে বলে উঠলো
“অংকের মাস্টার কে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নেবার ব্যবস্থা কর আক্কু।ছেলেটা বোধ হয় মরেই গেলো।
এদিকে আজ ইংরেজি মাস্টার তাড়াতাড়ি পড়াতে এসেছিলো মৌনতা কে।তার জরুরি কাজ পড়েছে কোথাও।কাঁচারী ঘরের দরজায় এসে এসব দৃশ্য দেখে সে আলগোছে সটকে পড়লো।যাবার আগে কাজের মেয়ে চামেলিকে বলে গেলো
“এই বদমেজাজি ডাকাত মেয়েকে আমি আর পড়াবো না।মির্জা সাহেব কে বলবে আমার মাইনে টা বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসতে।
মির্জা বাড়ির প্রকান্ড উঠানোর এক কোনের আমগাছের মোটা শেকড়ে বসে বসে রোদ পোহাচ্ছে মৌনতা।সেদিনের ঘটনার পর থেকে বাড়িতে শায়লা তার উপর স্টিম রোলার চালায়।মোটা ঢাকার বিনিময়ে সেদিন পিয়াল আর তার বাবার মুখ বন্ধ করা গেছে।টুক্কু ঘটক যেই পাত্র এনেছিলেন ,পিয়ালের ঘটনা কেন্দ্র করে সেটাও ফস্কে গেছে।সাদমান মির্জা,শায়লা দুজনেই মেয়ের উপর রাগে বোম হয়ে আছেন।এদিকে মৌনতার দুই ভাই মাহীর আর মুইন ফোনেই বোনকে ইচ্ছেমতো শাসিয়েছে।বাড়িতে ফিরে আছড়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি ও বের করার হুমকি দিয়েছে।রঙিন জীবনটা মুহূর্তেই কেমন বেরঙ আর পানসে হয়ে গেলো মৌনতার।
আমগাছের শেকড় থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাড়ির চারপাশে নজর বুলালো।বিশাল এরিয়া নিয়ে মির্জা বাড়ির অবস্থান।প্রকান্ড উঠানের পর দূতলা বিশিষ্ট বিশাল বিল্ডিং।বাড়িটা দেওয়ান মির্জার বাবার আমলের।বাড়ির চারপাশে অসংখ্য ফল ফুলের গাছ।উঠান পেরোলেই লম্বা দীঘি মতন পুকুর।এলাকার আশপাশের মানুষ এখানে ধোয়া ধায়ীর কাজ করে।মাঝে মাঝে হাঁসের পাল সাঁতরে বেড়ায় এমাথা হতে ও মাথা।উঠান পেরুলেই বিশাল লোহার গেট।গেটের দুই পাশে ফুলের বাগান।বড় বড় জানা অজানা ফুলের সমাগম সেখানে।কালের বিবর্তনেও মির্জা বাড়ি সদম্ভে দাঁড়িয়ে আছে ফতেহ পুর গ্রামে।
মৌনতা হাটতে হাটতে পুকুর পাড়ে এলো।এমন সময় কয়েকজন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে দৌড়ে এলো।তারা উচ্ছাস ভরা গলায় মৌনতা কে শুধালো
“মৌনপু ডাঙ্গুলি খেলবে?
বাচ্চাদের সরল আহ্বানে মৌনতার মন খারাপ দূরে পালালো।সে তাৎক্ষণিক রাজি হলো।তাই খেলার জায়গা হিসেবে মৌনতাদের বাড়ির সামনের রাস্তার ফাঁকা জায়গাটা ঠিক হলো।কারন এখানে মানুষের তেমন সমাগম নেই।আর এই রাস্তায় সচরাচর কেউ হাটেও না।শুধু মির্জা বাড়ির মানুষ জন নিজেদের সুবিধার্থে শর্টকাট হিসেবে এই রাস্তায় বাজারে যায়।
একে একে ডাঙ্গুলি পিটতে লাগলো সকলে।যার টা জতো দূরে যায় তার তত উচ্ছাস।এভাবে খেলতে খেলতে মৌনতার সময় এলো।মৌনতার গর্তে ডাঙ্গুলি রেখে হাতের লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে উপরে তুললো।এরপর বসালো শক্ত বাড়ি।ডাঙ্গুলি অনেক দূরে চলে গেলো।পাড় করলো বাকি বাচ্চাদের গন্ডি।দ্বিতীয় বার ও তারই পালা।এবার আর ও পূর্ণ উদ্দ্যমে বাড়ি বসালো মৌন।
কিন্তু ঘটলো বিশাল বিপত্তি।মৌনতার ডাঙ্গুলি হঠাৎ ঝনঝন শব্দ তুললো।চারপাশের উচ্ছাস মুহূর্তেই পিনপতন নীরবতায় ছেয়ে গেলো।পিছনের বাচ্চা গুলো ভয়ে জড়সড় হয়ে মৌনতার পিছনে লুকিয়ে পড়লো।ঘটনা কি হলো বুঝতে সামনে তাকালো মৌন।তাকাতেই তার হাতের লাঠি মাটিতে খসে পড়লো।ভয়ে কান্না পেলো তার।সর্বাঙ্গ ঝাকুনি দিয়ে কেঁপে উঠলো।ধীরে ধীরে পিছাতে লাগলো মৌন।কিন্তু মোটা কাঁঠাল গাছটায় তার পিঠ ঠেকে গেলো।বাচ্চা গুলোও মৌনতার জামা খামচে ধরে গাছের পেছনে লুকালো।
ধীরে ধীরে নিজের কালো রঙা জিপ থেকে কপাল চেপে ধরে বের হলো রণ।গাড়ির দরজাটা সপাটে লাগিয়ে সামনের ফ্রন্ট কাঁচ টা পরখ করলো।ডাঙ্গুলির আঘাতে তা চূর্ণবিচূর্ণ।রণ’র কপাল গড়িয়ে রক্ত ঝরে শ্যম রঙা হাতটাও রঙিন হলো।সেই রক্তাক্ত কপাল নিয়েই মৌনতার সামনে দাঁড়ালো রণ।ভয়ে মৌনতা মনে মনে বলে উঠলো
“ইয়া আল্লাহ আমার মরন দাও।নইলে এই আজরাইল আমাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
কিন্তু মৌনতার মরন হলো না।দোয়া ইউনূস পড়তে গিয়ে গুলিয়ে ফেললো মৌনতা।লা ইলাহা ইল্লা আনতা’র পর আর কিচ্ছু মনে নেই তার।ভয়ে কেঁদে ফেললো মৌনতা।কিন্তু শব্দ হলো না ।রণ একদম মৌনতার সম্মুখে এসে দাড়ালো।মেয়েটার ফর্সা কপালে,নাকে আর চিবুকে মুক্তা দানার ন্যয় ঘর্ম বিন্দু জমে গেছে ইতিমধ্যে।গাল দুটো পাকা টমেটোর ন্যয় হলো।গলার কণ্ঠা হাড় ভেসে উঠলো।এরপর চোখ খিচে বুজে জামা খামচে ধরলো।
মৌনতার ভয়ার্ত মুখ দেখে রণ শুধালো
“খুব ভয় করছে?তোকে কিছু বলেছি এপর্যন্ত?
মৌনতা চোখ বুঝেই মাথা নাড়ালো।রণ ঠোঁট এলিয়ে শব্দ হীন হাসলো।এরপর আবার চোখ রাঙিয়ে বাচ্চা গুলোকে সড়তে ইশারা করলো।রণ’র ইশারা পেয়েই মৌনকে ফেলে বাচ্চা গুলো পগাড়পার হলো।রণ মৌনতার একদম কাছে এসে হিসিসিয়ে বললো
“এবার তোকে একবারে মেরে তবেই ফিরবো আমি।দিন দিন বড্ড বেয়াড়া হচ্ছিস তুই।চোখ মেলে দেখ কিভাবে ওয়েলকাম করেছিস আমায়।”
মৌনতা ভয়ে ভয়ে এক চোখ খুললো।এরপর আরেকটা।ভ্রুয়ের উপর অনেক খানি কে টে গেছে।এবার সত্যি সত্যি অপরাধবোধ কাজ করলো মৌন’র।মানুষটা এতদিন বাদে বাড়ি এলো আর সে এভাবে তাকে আঘাত করলো?
মৌনতা নিজেকে স্বাভাবিক করে রণ’র হাত চেপে ধরলো।এরপর অনুরোধ করে বললো
“ইচ্ছে করে করিনি ভাইয়া।যদি জানতাম আজ তুমি আসবে তবে বাড়ির বাইরেও বের হতাম না।বড় মাকে কিচ্ছু বলো না প্লিজ।আমি তোমাকে একশো টাকা দেবো।সেই সাথে তোমার কপালে ব্যান্ডেজ করে দেবো।মায়ের দুধের কসম।
রণ’র হাসি পেলো পেট ঠেলে।কিন্তু নিজেকে কন্ট্রোল করে চোখ মুখে কাঠিন্য এনে বললো
“কাউকে কিচ্ছু বলবো না এক শর্তে।
“ক ক কি শর্ত?
“যখন যেভাবে ডাকবো ওভাবেই তোর আমার সামনে হাজির হতে হবে।পালিয়ে বেড়াতে পারবি না।বল রাজি?
মৌন ফাঁকা ঢোক গিলে বড় বড় চোখে রণ’র পানে তাকিয়ে রইলো।এরপর মাথা উপর নিচ করে কম্পিত গলায় বলল
“র র রাজি।এবার যাই?
“যাহ।
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩১