ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||২১||
মাঝরাতের দিকে বৃষ্টি থেমে গেলো।কিন্তু এখনো এক নাগারে বিদ্যুৎ চমকে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে ভোরের দিকে আবার বৃষ্টি হবে।
হাই ওয়ের পাশের জঙ্গল টাতে ঘাপটি মেরে বসে আছে কমান্ডো টিম।তাদের পোশাক ভিজে জবুথবু অবস্থা।ভেজা পোশাক শরীরে কাঁপন তুলেছে।কিন্তু শক্ত পোক্ত অফিসার গুলো সেই কাপাকাঁপি কে বিশেষ পাত্তা দিলো না।
শকুনি চোখে চারপাশে গভীর নজর বুলিয়ে কানে সংযুক্ত হেড সেট ডিভাইস এর মাধ্যমে রাশেদ ফিসফিস করে বলে উঠলো
“হিউম্যান ডিটেক্টেড।
রাশেদের কথায় সকলেই সতর্ক পজিশন নিলো সেই সাথে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে শুয়ে স্ট্যান্ড এর উপর বন্দুক রেখে গুহার প্রবেশ মুখের দিকে ওঁৎ পেতে রইলো।ধীরে ধীরে সুড়ঙ্গের পাটাতন খুলে বেরিয়ে এলো এক মাঝবয়সী লোক।সে চারপাশে টর্চ লাইটের আলো ফেললো।বিশেষ পোশাকে আবৃত কমান্ডোদের শনাক্ত করতে পারলো না সেই লাইটের আলো।কমান্ডো গুলো ঘাস লতাপাতার সঙ্গে মিশে রইলো।এরপর বেরিয়ে এলো আরেকজন।তার মাথায় দুটো কার্টন।মাঝবয়সী লোকটাকে অনুসরণ করে চলতে চলতে সেই ছেলেটি বলে উঠলো
“রাত পোহানোর আগে কি মাল গুলো জাহাজে পৌঁছাতে পারবো সাহেব?
মাঝবয়সী লোকটা কিছুটা ভাবুক হয়ে জবাব দিলো
“আলবাত পারবো।দেখেছিস কেমন মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে?রাস্তায় আজ ট্রাক,কার্গো,কম চলবে।ফাঁকা হাই ওয়ে ধরে সহজেই পতেঙ্গা বন্দরে পৌঁছানো যাবে।
তাদের কথার মধ্যেই দুটো কন্টেইনার এসে দাড়ালো হাইওয়েতে।পুরো হাই ওয়ে ফাঁকা।কোনো গাড়ি চলছে না।ধীরে ধীরে সুড়ঙ্গ ধরে নেমে এলো আরো জন বিশেক মানুষ।সকলের মাথায়ই বড় বড় কার্টন।রণ স্যাটেলাইট ফোনে কর্নেল মেহেরাব কে কানেক্ট করে বলে উঠলো
“ফরেস্ট লিংক রোড টা বন্ধ করে দেয়া হোক আর্মির টহলে।রাস্তার দুই মাথাতেই চেকপোস্ট বসানো হোক ।কোনো গাড়ি যেনো দুই ঘণ্টার মধ্যে এই রোডে আসতে না পারে।এখানে মানুষের সংখ্যা বেশি।এক্সট্রা ফোর্স পাঠানোর অনুরোধ করা হলো।ডু ইউ কপি দ্যাট?
কর্নেল মেহেরাব জবাব দিলেন
“কপি দ্যাট।
ডিসকানেক্ট হলো লাইন।সকলেই দ্রুততার সহিত কন্টেইনার এ বক্স গুলো ভরতে লাগলো।এরপর পূর্ণ উদ্যমে আবার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করলো।
শ্রমিক গুলো সড়তেই সোলজার দুজন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে কন্টেইনার এর দিকে দৌড়ে গেলো এবং কিছু ঠাহর করবার আগেই মুখ চেপে ঘাড় মটকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গেলো।মিনিট পাঁচ না গড়াতেই ড্রাইভার এর পোশাক নিজেদের গায়ে জড়িয়ে কোমরে মিলিটারি গান গুঁজে পেঁচিয়ে মুখ বেঁধে রাখলো।ঘন্টা খানেক না গড়াতেই শ্রমিক গুলো আরো বক্স নিয়ে কন্টেইনার এ তুললো।এরপর মাঝবয়সী সেই লোক সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে ড।সামনের কন্টেইনার এর ড্রাইভার এর হাতে একটা সোনালী রঙের কয়েন দিয়ে বলে উঠলো
“পতেঙ্গা পৌঁছাতেই একজন পুলিশ অফিসার এগিয়ে আসবে।তাকে এই কয়েন দিবে।বাকি ব্যবস্থা সেই করবে।
বলতে না বলতেই গাড়ি ছেড়ে দিলো ড্রাইভার।এরপর স্পিড বাড়িয়ে ছুটলো ।
একা দাঁড়িয়ে রইলো মাঝবয়সী লোকটি।সে সুড়ঙ্গের মুখ ভালো করে আটকানোর জন্য হাটু মুড়ে বসলো।এমন সময় দুই পাশ থেকে রণ আর রাশেদ বন্দুক তাক করে বলে উঠল
“ইউ আর কামিং উইথ আস।
আকস্মিক মানব কন্ঠে হকচকিয়ে উঠলো মাঝবয়সী লোকটি।সেই সাথে আর্মি ক্যাম্পের টিম এসে ঘিরে ফেললো সুড়ঙ্গের চারপাশ।রণ সেই আর্মিদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো
“পুরো সুড়ঙ্গ সিস করে দাও।ভেতরে বিশ জনের মতো মানুষ আছে।সবাইকে ক্যাম্পে নিয়ে চলো।জতখন মুখ না খুলবে বিভিন্ন টর্চার চালাবে।প্রাণ যাতে না যায়।
মাঝবয়সী লোকটাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলো দুজন আর্মি।চিৎকার করে সাহায্য চাইতে চাইলো লোকটি।কিন্তু তার আগেই হাত বেঁধে মুখে কালো কাপড় বেঁধে দেয়া হল।
এদিকে সোলজার দুজন নিকটস্থ ক্যাম্পে সমস্ত বক্স আনলোড করে খালি কন্টেইনার নিয়ে ছুটলো পতেঙ্গার উদ্দেশ্যে।কোন পুলিশ অফিসার এসবে যুক্ত আছে তাকে এরেস্ট করা চাই আগে।
ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য ফাঁকা একটি ঘরে চেয়ারে হাত পা বেঁধে বসানো হলো লোকটিকে।এমন সময় তার ফোন বেজে উঠলো।উপস্থিত আর্মি টিম নিজেদের বন্দুক তার দিকে তাক করে টেনে মুখের কাপড় সরিয়ে শক্ত হুমকিতে বললো
“আমাদের কথার বাইরে একটু চালাকি করার চেষ্টা করলে এক্ষুনি ক্রস ফায়ার করে দেবো।
নিজের চারপাশে অগণিত বন্দুক দেখে ঘাবড়ে গেলো লোকটি।একজন অফিসার ফোন রিসিভ করে লাউডস্পিকার অন করলো।ফোন রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো
“কন্টেইনার এ মাল ভরেছো ওসমান?
ওসমান বন্দুকের পানে তাকিয়ে ফাঁকা ঢোক গিলে বলে উঠলো
“কয়েন সমেত মাল পাঠিয়ে দিয়েছি মালিক।
ওপাশের মানুষ অমায়িক হাসলো।এরপর বললো
“গুদাম ঘরে বাচ্চা গুলো একা পরে রয়েছে।দ্রুত তাদের গাড়িতে তুলে পতেঙ্গা পৌঁছে দাও।জরুরি কাজে আমাকে ঢাকা ফিরতে হচ্ছে।বাকি কথা সামনা সামনি হবে।
কেটে গেলো কল।শুরু হলো ওসমানের উপর অমানুষিক অত্যাচার।সইতে না পেরে ওসমান পাট গুদামের ঠিকানা বললো।অতঃপর জ্ঞান হারিয়ে চেয়ারে হেলে পড়লো।
ওসমানের থেকে ঠিকানা নিয়ে রণকে ইনফর্ম করলো উপস্থিত ক্যাপ্টেন।এরপর ওসমান কে আটকে রাখলো একটি ঘরে।
গুদাম ঘরের লোকেশন ট্র্যাস করে দৌড়াতে লাগলো রাশেদ আর রণ।আরো ঘন্টা খানেক দৌড়ানোর পর মিললো সেই পরিত্যাক্ত গুদাম।রণ যখন পাটকলের দরজার বাইরে এসে উপস্থিত হলো তখন ছোট ছোট বাচ্চার চাপা কান্নার স্বর এলো।সন্ত্পর্নে পজিশন নিয়ে পাট কলের চারপাশে নজর বুলালো রণ।দূরদর্শী স্কোপে নজর পাততেই ভেতরে বসে বসে ঝিমানো এক ব্যাক্তিকে দেখা গেলো।রণ স্যাটেলাইট ডিভাইসে জানালো
“ভেতরে অনেক বাচ্চা।রেসকিউ মিলিটারি ভ্যান ছাড়া চট্রগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এ এদের সরিয়ে নেয়া সম্ভব না।
কর্নেল মেহেরাব লাইন কেটে আর্মি রেসকিউ কভার ভ্যান এর ব্যবস্থা করলেন।রণ দৌড়ে গিয়ে লাথি দিয়ে খুলে ফেললো পরিত্যাক্ত দুর্বল দরজা।রাশেদ বাইরে থেকে পজিশন নিয়ে রাখলো।আকস্মিক শব্দে বসা থেকে ধরফরিয়ে উঠলো উক্ত ব্যক্তি।কিন্তু রণ’র অতর্কিত আক্রমণে কিছু বুঝে উঠবার আগেই ধরাশায়ী হলো সে।বাচ্চা গুলো রণ’র গায়ের অদ্ভুত পোশাক দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠলো।এতক্ষনে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আন্দ্রেই জোর গলায় বলে উঠলো
“সবাই কান্না থামাও।আর কিছুক্ষন পরেই আমরা বাড়ি যাবো।
আধ ঘন্টার মধ্যেই চারপাশ ঘিরে ফেললো আর্মি।ভেতর থেকে একে একে বের করা হলো বাচ্চা গুলোকে।এরপর তুলে দেয়া হলো গাড়িতে ।সব শেষে আন্দ্রেই উঠলো।উঠার আগে নিজের হাত বাড়িয়ে রণকে বলে উঠলো
“আমার চকলেট গুলো ফেরত দাও।
অল্প হেসে পকেট থেকে রণ চকলেট গুলো বের করে আন্দ্রেই এর হাতে দিয়ে বলে উঠলো
“আজকের সফল মিশনের সমস্ত ক্রেডিট তোমার।বলো কি চাই।
আন্দ্রেই প্রসারিত হাসলো ছোট ঠোঁটে।এরপর বললো
“তোমার মত হতে চাই।কি করলে হতে পারব বলো তো?
“ভালো করে পড়তে হবে।
বলেই অন্দ্রেই এর মাথায় হাত বুলালো রণ।আন্দ্রেই মন খারাপ করে বলে উঠলো
“আমার ওখানে স্কুল নেই।তাছাড়া আমার বাবা গরিব।কিন্তু তুমি দেখো আমি ঠিক একদিন তোমাকেও ছাপিয়ে যাবো
রণ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো
“তুমি পারবে।কারন তোমার মনোবল আমার চাইতেও শক্ত।
মিলিটারি ভ্যান ছেড়ে দিলো।লাফিয়ে গাড়িতে উঠলো আন্দ্রেই।এরপর হাত নাড়িয়ে বলে উঠলো
“আমাকে মনে রেখো ।আমার নাম আন্দ্রেই।আমি ও একদিন তোমার মত এই পাহাড় কে জয় করবো।
গাড়ি ছেড়ে দিলো।আন্দ্রেই মিশে গেল অন্ধকারে।রণ নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে মেহেরাব কে সংবাদ পাঠালো
“ইকো বেইজ,দিস ইজ মেজর রণ।মিশন একম্পলিশড।মাল্টিপল হস্ট্যাগেজ রেসকিউড। এরিয়া সিকিউর্ড।
“কপি দ্যাট, মেজর। অবস্থান ধরে রাখো। হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে।”
ভোর রাতের দিকে মৌনতার ঘুম ভাঙলো।ঘুম ভেঙেই রণ’র কথা মনে পড়লো তার।সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে।সেই বৃষ্টিতে নিশ্চিত রণ ভিজেছে।যদি ভিজে ভিজে রণ’র জ্বর বাধে তখন?ঐ কাবু অসুস্থ শরীর নিয়েই তাকে রাঙামাটি পাহাড়ে পরে থাকতে হবে।নিয়ম করে কেউ জলপট্টি দেবে না।নাতো কেউ মুখে তুলে দেবে ঝাল ঝাল গরুর মাংস কশা দিয়ে গরম ভাত।খেয়ে না খেয়ে ওখানেই পরে থাকতে হবে তাকে।মৌনতার কান্না পেলো।
সে বিছানা থেকে নেমে আলমারি থেকে স্যাটেলাইট ফোনটা বের করলো।এরপর বাটন চাপলো।কিন্তু লাইন ডিসকানেক্টেড।
মৌনতা ভয় পেয়ে গেলো।তার বুক কেঁপে উঠলো।অজানা শঙ্কায় টপ টপ করে চোখ বেয়ে জল গড়ালো।মৌনতা উদ্ভ্রান্তের ন্যয় মাথার চুল টেনে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো।সহসাই দরজায় কেউ নক করলো।মৌনতা ভয় পেলো আরো বেশি।হয়তো কোন খারাপ খবর দেবার জন্য কেউ এসেছে।মৌনতা দৌড়ে দরজা খুলতেই শায়লা কে দেখে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়ালো।নিজের ফোন মৌনতার পানে এগিয়ে ফিসফিস করে শায়লা বললেন
“রণ
মৌনতা ছো মেরে ফোন কানে তুলে ভেজা কম্পিত গলায় বললো
“হ্যা হ্যা হ্যালো…
শায়লা দরজা বাইরে থেকে আটকে চলে গেলেন।রণ মৌনতার গলা পেয়ে চোখ বুজে লম্বা শ্বাস টানলো।এরপর বললো
“তোর ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম জান!কিন্তু কি করবো বল?তোকে খুব মিস করছি।কথা না বলতে পেরে যন্ত্রনায় বুকের পাঁজর গুলো ভেঙে যাচ্ছিলো।
“আমি ঘুমাচ্ছি না রণ ভাই।তোমাকে স্যাটেলাইট ফোনে কল করছিলাম ।লাইন ঢুকছিল না।এক মুহূর্তের জন্য আমার প্রাণ বের হয়ে গেছিলো।তোমার কিছু হলে কি করে বাঁচবো বলো তো?
নেশা ধরা গলায় রণ বললো
“তোকে সমস্ত ভালোবাসা উজাড় না করে কি করে মরে যাই বল?মিশন শেষ হয়েছে।তাই লাইনে পাস নি।
মিশন শেষ হয়েছে শুনে মৌনতা স্বস্তি পেলো।সে আশা নিয়ে বলে উঠলো
“বাড়িতে আসবে?
“নাহ বাড়িতে যেতে পারবো না।যাবো ঢাকায়।নেক্সট অপারেশন ওখানে।
“আমি ঢাকা আসবো রণ ভাই?দোহাই লাগে না করো না।তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারছি না।কেনো তোমার মরণঘাতী ভালোবাসা আমায় জানালে?তুমি বিহনে প্রাণ তো দেহে থাকছে না।আমি যে উদাসী পাগলিতে পরিণত হচ্ছি।
রণ ঠোঁট এলিয়ে হেসে বলে উঠলো
“না জানালে আমি একা একা পুড়ে মরছিলাম যে?তোকে জানিয়ে কষ্টের ভার কমালাম অল্প।খুশি হোস নি?
“ঢাকা কবে আসবে রণ ভাই?
“আমি ঢাকা আসলেও তুই দেখতে পাবি না আমায়।অযথা পাগলামো করিস না।
“তুমি চাইলেই আমি তোমায় দেখতে পাবো।
মৌনতার কাতর গলা রণ বুঝলো।সে বলল
“কোথায় থাকবি?তোর বড় মামার বাসায়?
“হ্যা।
“এক ঘন্টা সময় দেবো ।চলবে?
“চলবে।
“তবে চুমু দে।
মৌনতার চোখের জল বাধন হারা হলো।সে ফোনে ঠোঁট ছুঁইয়ে আবেশীত গলায় চুমু দিলো।
রণ বুকে হাত দিয়ে বলে উঠলো
“কান্না ভেজা চুমুটা কলিজায় গিয়ে লাগলো রে বাবু।তুই কাদিস না।আমি সহ্য করতে পারি না।কবে বড় হবি বলতো?তুই কি ক্লাস সিক্স সেভেনের বাচ্চা?
“তোমার ভালোবাসা আমাকে ছোট বাচ্চা বানিয়ে ফেলেছে রণ ভাই।নিজেকে আমি অনেক বোঝাই।কিন্তু তোমাকে মনে পড়লে আমি নিজেকে সামলাতে পারি না।
“তাইলে বাকি জীবন কি করে থাকবি আমার সাথে?এত কাঁদলে তুই তো মরে যাবি।
“তোমার জন্য আমি মৃত্যুকে হাসি মুখে আলিঙ্গন করবো রণ ভাই।
টানা এক ঘন্টা কথা বলে লাইন কাটলো রণ।মৌনতা পুনরায় ফোন করলো রণ ‘র নম্বরে।ফোন রিসিভ হতেই মৌনতা অনুরোধ করলো
“তোমার একটা ছবি দেবে?
রণ শব্দ করে হেসে বলে উঠলো
“খুব দেখতে ইচ্ছে করছে বুঝি?
“হ্যা।মরন কালে যেমন পানি পিপাসায় আত্মা ফেটে যায় তেমন।
“দিচ্ছি দাঁড়া।
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে শায়লার হুয়াটস এপে রণ’র একটা ছবি এলো।মিলিটারি পোশাকে বন্দুক নিয়ে পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রণ।শক্ত চোয়াল,দূরদর্শী দৃষ্টি, কঠিন ঠোঁট।শ্যাম পুরুষটাকে মিলিটারি পোশাকে কেমন আকর্ষণীয় লাগছে।মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব চাইতে সুদর্শন মানুষ সে।মৌনতার ইচ্ছে হলো রণ কে শক্ত করে জড়িয়ে বুকের মাঝে চেপে থাকতে।কিন্তু তাদের দুজনের দূরত্ব শত শত মাইল।চাইলেও মানুষটাকে দেখা তো দূর কথাও বলা যায় না।
এক মনে মৌনতা ছবি টা দেখে বলে উঠলো
“আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো রণ ভাই।বেহায়া মন তোমার সান্নিধ্য চাইছে।
রণ আবেশীত গলায় বলল
“ঢাকা আয়, তোকে খুন করবো।পরে বাঁচতে চাইলে কিন্তু পারবি না।
“আমি বাঁচতে চাই না রণ ভাই।
“পরে আফসোস করবি না তো?
“না।
“ভেবে বলছিস?
“তোমাকে ছাড়া আর কিচ্ছু ভাবতে চাই না আমি।
“বিয়ে করবি ঢাকা এসে আমায়?
মৌনতা ভয় পেয়ে গেলো।বুকে কেমন একটা অনুভূতি হলো।সে উত্তর দিতে পারলো না।রণ হেসে বললো
“মজা করেছি।বাড়িতে ফিরে সকলের সম্মতিতে তোকে বিয়ে করবো।এতো চিন্তার সাগরে ভাসতে হবে না তোকে।
মৌনতা ফট করে শুধালো
“তোমাকে বিয়ে করলে তোমার কতোটা কাছে যেতে পারবো রণ ভাই?
“যতোটা কাছে এলে তুই কান্না করে বলবি,রণ ভাই আমাকে খুন করে ফেলো প্লিজ।এবং বার বার খুন হবার জন্য আমার কাছে প্রার্থনা করবি।
মৌনতা স্তব্ধ হয়ে রইলো।তার বুক ঢিপঢিপ করছে।লজ্জায় মাথা নুইয়ে আসছে।রণ ঘোর ধরা গলায় বলল
“আসবি এতোটা কাছে?
চলবে।
সারিকা হোসাইন – Sarika Hossain
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫