বিমাইলাভার
পর্ব-১৫
সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)
নৈঋতা ভাবলো দিলশাদ বুঝি তাকে একবারে ছেড়ে দিয়েছে। সে এক মুক্ত বিহঙ্গ। যার কোনো বাধা নেই। হোটেল রুমে পায়ের উপর পা তুলে বসে কিছু একটা ভাবছে সে।একবার চিন্তা করছে এলোমেলো করে দিবে সকল কিছু আবার ভাবছে কী প্রয়োজন? দিলশাদ এতোগুলো বছর তাকে দেখাশোনা করেছে, একা একা থাকতে পারবে এতোটুক বড় করে দিয়েছে এজন্য তার শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ। কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে নয়, নৈঋতা খুবই মধ্যবিত্ত একটা হোটেলে অবস্থান করছে। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তার মাঝে কোনো চিন্তা নেই।এতোটা অবুঝ সে নয়, সে জানে যদি আর একটা বার এটিএম কার্ড থেকে টাকা তোলে তাহলে ওর সন্ধান পাবে দিলশাদ।পেলেও খোঁজ করবে বলে মনে হয় না।আজ সত্যি সত্যি নিজেকে এতিম লাগছে, কিন্তু মন খারাপকে পাত্তা না দিয়ে টিভি ছেড়ে বসলো। টিভিতে একটা বাংলা সিনেমা চলছে।সিনেমার নাম যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।নায়িকা খলনায়িকার মধ্যে বেশ রোমাঞ্চকর কথোপকথন। খলনায়িকা নায়ককে বলল, “যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ মানে আমার প্রতি তোমার অবহেলা।” এই কথাটা কি নৈঋ পারতো দিলশাদকে বলতে?তাদের কি এই শত্রু শত্রু সম্পর্ক? কেন ঘুরে ফিরে ওই মানুষটাই চিন্তায় আসে এটা বুঝতে পারে না সে।
টিভি দেখতে দেখতে কখন ঘুম নেমেছে চোখে বুঝতেই পারেনি।ঘুম ভাঙলো বেশ রাত করে। পেট ক্ষুধায় কাহিল হয়ে আছে। কিন্তু দেয়াল ঘড়িতে রাত বারোটা। খাবার কি পাওয়া যাবে? ভাবতে ইচ্ছে হলো না।শরীর ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি।এক মুহূর্ত জোড় খাটানোর কারণে সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে রইল ওই একটা ঘরের বিছানার উপর।
ঘরে চলছে টিভি, সাত দিনের অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে বুক করা এই হোটেলে প্রথমেই নৈঋতা বলেছে তার প্রয়োজন হলে সে ডাকবে অযথা কেউ যেন তাকে বিরক্ত না করে। তাই ওই বন্ধ ঘরে কি চলছে সেটা কেউ দেখলো না।ধীরে ধীরে কাটলো প্রায় ত্রিশ ঘন্টা।এই ত্রিশ ঘন্টা নৈঋতা অবচেতন অবস্থাতেই পড়েছিল।টিভি চলছে, মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে।জ্ঞান ফেরার পর মাথার পিছনে তীব্র ব্যথা অনুভব হলো।ফ্লোরে পড়ে আছে মেডিসিনের বোতলটা।জ্ঞান হারানোর আগে তার বুকে পিঠে তীব্র ব্যথা হচ্ছিলো তখন দুটো ঔষধ কোনো রকমে গিলে খেয়েছিল সে। ভাবলো এজন্যই বুঝি ঘুমটা ভালো হলো।টিভিটে এখন নিউজ চলছে।সকাল এগারোটার খবর। সে উঠে বসে টিভি বন্ধ করলো।গা দিয়ে কেমন একটা চিটচিটে ভাব, মনে হয় জ্বর এসে ছেড়েছে।আয়নায় তাকাতেই চমকে উঠেছে নিজেকে দেখে।চোখের নিচের কালী এবং মুখ যেন শুকিয়ে গেছে।দেখে মনে হচ্ছে দীর্ঘ দিনের রোগী। মনে মনে হাসলো একবার।চুলগুলোয় হাত দেওয়া যাচ্ছে না।দিলশাদের পছন্দ লম্বা চুল।এখন এই চুল রাখার প্রয়োজন মনে হচ্ছে না। আশেপাশে কোনো বিউটি পার্লার থেকে কাটিয়ে নিবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো। দীর্ঘ সময় গোসল করে বেরিয়ে এলো।ফোন নেই তার কাছে। টাকাটা সাথে নিয়ে বেরিয়ে এলো। এই মুহুর্তে কিছু খাওয়াটা আগে দরকার।
রিশিপশনে আসতেই ম্যানেজার জানালো গত দুদিন কখন সে ফিরেছে?রুম সার্ভিস দেওয়ার জন্য লোক পাঠিয়েছিল কিন্তু দরজার নো ডিস্টার্ব সাইন দেখে ফিরে এসেছে।কোনো সমস্যা হয়নি তো? নৈঋতা কিছু সময় ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে টিভির দিকে তাকালো। ওয়েটিং রুমের টিভিতে তখন এক দিন পরের তারিখ।সে কোনো ভাবে নিজেকে সামলে এগিয়ে গেল রেস্তোরাঁয়। ধোঁয়া উঠা গরম ভাতের সাথে আলু ভর্তা আর মুরগীর মাংস দিয়ে ভাত খেলো। এতো ক্ষুধা তার পেটে ছিল ভাত খাওয়ার আগেও বুঝতে পারেনি। বিল মিটিয়ে আশেপাশে মার্কেটটা একটু ঘুরে ফিরে দেখছিল সে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পাশে বসে সে চারপাশে তাকিয়ে দেখছিল। অদ্ভুত মায়া যেন লুকিয়ে আছে এখানে। বিশ টাকার বাদাম কিনে পাড়ে বসে খেল।সূর্যাস্তের আগ অবধি সেখানেই বসে রইল।কিছু ভাবলো না, কারোর কথাই না।কেবল দূরে নদের দিকে তাকিয়ে রইল।
রাতে হোটেলের গেট দিয়ে প্রবেশ করার সময় কেমন একটা অনুভূতি তাকে জেকে ধরেছে।মনে হচ্ছে আবার এখানে ঘুমালে আর ভোর দেখতে পারবে না।হয়তো ঘুমের মাঝেই চলে যাবে সে। হোটেলের করিডোরটা অস্বাভাবিক নীরব।
নৈঋতা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চাবিটা ঘোরাতে ঘোরাতে থমকে গেল। বুকের ভেতর অজানা একটা শঙ্কা ঢেউ তুলছে। মনে হচ্ছে, এই দরজাটা খুললেই সব শেষ হয়ে যাবে।করিডোরের এক প্রান্তে ভারী বুটের শব্দ।
একটা নয়, দুটো নয়—চার-পাঁচ জোড়া পায়ের এগিয়ে আসার শব্দ।এই শব্দগুলো তার চেনা।সে দ্রুত হাতে চাবি ঘোরাতে লাগলো।তালা খুললে ভিতরে প্রবেশ করলে বেঁচে যাবে কিন্তু হলো না।একটা বলিষ্ঠ হাত সে থামলো তার হাতে।যেখানে জ্বলজ্বল।করছে কালো হীরের আংটিটা।
নৈঋতার বুকের ভেতরের অজানা ভয়টা তাকে ঘিরে ধরলো।ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাতেই চোখে পড়লো সেই মুখ—
কালো শার্টের কলার আধখোলা, চোয়ালের রেখায় কঠিন ছায়া, চোখে আগুনের মতো একরোখা স্থিরতা।তার পেছনে চার-পাঁচজন লোক নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে। করিডোরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, আলো পর্যন্ত কেমন যেন ম্লান।ভয়ংকর ঠাণ্ডা স্বরে বলল,
“এত কষ্ট করে লুকালে, শেষ পর্যন্ত তো এই দরজার সামনেই থামতে হলো। নিজের কি অবস্থা করেছো মাই কিড্ডো?”
“চলে যান মি.দিলশাদ।আমাকে শান্তিতে থাকতে দিন, আপনিও থাকুন।”
“আমার জীবনে শান্তি বলে কিছু নেই, মাই প্রিন্সেস।আমার আছে শুধু দখল আর লড়াই। আর তুমি—এই দুটোর মাঝখানে পড়ে গেছো।”
” আমি যাবো না।চলে যান, গত দিন চলে যেতে বলেছিলেন।আমি চলে এসেছি।”
“গত চারটে দিন আমি কুকুরের মতো তোমাকে খুঁজেছি। কুকুর চিনো কিড্ডো? ঠিক কুকুরের মতো খুঁজে বেরিয়েছি তোমাকে।”
দিলশাদ এগিয়ে এসে তাকে এক হাতে তুলে নিলো।কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“মাই সুইট লিটল ট্রাবল, তোমার আমি ছাড়া গতি নেই।আমার তুমি ছাড়া শান্তি নেই।প্রয়োজনে আমি তোমাকে শেকল দিয়ে বন্দী করবো তবুও তুমি পালাতে পারবে না বেবিগার্ল।”
চলবে( একটু রেসপন্স করলে কালকেও দিবো।প্রমিইইইইইস)
Share On:
TAGS: বি মাই লাভার, সাদিয়া খান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বি মাই লাভার পর্ব ৫+৬
-
বি মাই লাভার পর্ব ১
-
বি মাই লাভার পর্ব ৯+১০
-
বি মাই লাভার গল্পের লিংক
-
বি মাই লাভার পর্ব ১১+১২
-
বি মাই লাভার পর্ব ৩
-
বি মাই লাভার পর্ব ৭+৮
-
বি মাই লাভার পর্ব ২
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৩+১৪
-
বি মাই লাভার পর্ব ৪