“আমি তোমাকে ভালোবাসি উদ্যান ভাই। তুমি মিম আপুর সাথে কথা বলবে না। আমার খারাপ লাগে খুব।”
বাক্যটি উচ্চারণ করতেই সজোরে থাপ্পড় পড়ে রাফসার গালে। ষোড়শী কন্যা আকস্মিক আঘাতে একপাশে হেলে পড়েছে, রেলিং এর সাথে মাথা বারি খেয়ে কপালে ডান পাশে কেটেছে। নিজের ডান হাত অনায়াসে গালে চলে যায়।কপাল থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ষোড়শী কন্যা যেন কাঁদতে ভুলে গেছে। কখনো মা’র না খাওয়া ননীর পুতুলটা শক্তপোক্ত হাতের পুরুষলী চড় খেয়ে হতভম্ব হয়ে যায়।মাথা তুলে সামনে তাকাতেই চোখে পড়ে শখের পুরুষকে #উদ্যানরাওদফরাজী। রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই।
দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে।
“তু.. তুমি আমাকে মারলে উদ্যান ভাই?”
“হ্যাঁ মেরেছি। তোর সাহস কি করে হয়?আমাকে ভালোবাসার কথা বলার?নাক টি’প দিলে এখনো দু’ধ বের হয়,সে আবার ভালোবাসি বলে।”
রাফসা উদ্যানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলে।
“আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি উদ্যান ভাই। তুমি মারো কাটো যাই করো। আমি কখনো তোমায় ঘৃণা করতে পারব না।কারণ, আমি তোমাকে ভালোবাসি অনেক।”
এবার বোধহয় মাথায় রক্ত উঠে গেল উদ্যানের।রাফসাকে নিজ থেকে দূরে সরিয়ে পুনরায় চড় মেরে বসে। আগের চেয়ে দ্বিগুণ জোরে চড় খেয়ে শব্দ করে কেঁদে উঠে রাফসা।
উদ্যান রাগে কটমট করছে।রাফসার দুই বাহু ধরে। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে।
“আমার হাতে আর মা’র খেতে না চাইলে এখানেই থেমে যা রাফসা।তোকে আমি শুধুই বোনের নজরে দেখি।”
“না আমি কিছু জানিনা। তুমি আমাকে বিয়ে করবে। তুমি শুধু আমার। তুমি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলবে না।”
উদ্যান তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল।
“কি বললি ?তোকে আমি বিয়ে করব?কি আছে তোর মাঝে বল তো একটু।না আছে রুপ,আর না আছে গুণ।তোর তো গায়ের রং চাপা।”
উদ্যানের এহেন আচরণে বুক কেঁপে উঠল ষোড়শী কন্যার।তার উদ্যান ভাই,তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। বুকটা খাঁ খাঁ করছে।
কাঁপা কাঁপা গলায় অস্পষ্ট স্বরে বলে।
“তুমি আমাকে এসব নিয়ে খোঁটা দিচ্ছো?
উদ্যান পুনরায় কটাক্ষ করে বলল।
“এসব খোঁটা না।যা সত্যি তাই বললাম।মিম’কে দেখেছিস? গায়ের রং কি ফর্সা মাইরি। চুলগুলো তোর চুলের মতো ছোট না। পড়াশোনায় অনেক ভালো।তোর মতো তো আর কোনো রকম তেত্রিশ পেয়ে পাশ করে না।আর তুই ভাবলি কি করে আমি একজন ডাক্তার হয়ে তোকে জীবনসঙ্গী করব!!”
রাফসা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। উদ্যানের কথাগুলো যেন শুধু কানে ঢোকেনি— সেগুলো সরাসরি দিয়ে আছড়ে পড়ছে তার ভেতরে নীরব, সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায়। যেখানে তার দুর্বলতা ছিল—সেখানে আজ উদ্যান আঘাত করল।
তার গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষ — নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকেই সমাজ তাকে শিখিয়েছে, সৌন্দর্যের একটা নির্দিষ্ট মান আছে, আর সে সেই মাপে পুরোপুরি ফিট করে না। তবুও ষোড়শী কন্যা রাফসা কখনো তা পাত্তা দেয়নি। বাবার আদরের ননীর পুতুল সে। ভাইয়ার কলিজা, মায়ের রাজকন্যা। কখনো গায়ের রং নিয়ে না ভাবলেও আজ তার শিরায় শিরায় এ কথাটাই প্রশমিত হচ্ছে। তার ভালোবাসার মানুষ উদ্যান ভাই আজ তাকে গায়ের রং নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করল।
অবাকের রেশ কাটিয়ে রাফসা মৃদু হেসে বলে।
″তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না উদ্যান ভাই?”
উদ্যান গম্ভীর গলায় স্পষ্ট করে বলে।
“না, তুই শুধুই আমার বোন।আর কিছুই নয়। দয়া করে সিনক্রিয়েট করিস না। দু’দিন পর আমার ফ্লাইট।তোর এই আজাইরা কথা শুনে আমি এই দুদিন নষ্ট করতে চাই না।”
উদ্যানের এহেন কাটকাট উওরে ভেতর চুরমার হয়ে যায় রমনির। উদ্যানের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। উদ্যান নিজেও কপালে বিরক্তিকর ভাঁজ ফেলে চেয়ে আছে রমনীর পানে। গুমোট পরিবেশটা হঠাৎ করে পাল্টে গেল। ঝংকার কাঁপিয়ে বেজে ওঠে উদ্যানের মুঠোফোন। ফোনের দিকে তাকাতেই উদ্যানের মুখে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে। স্পষ্ট দেখেছে রাফসা।
“হ্যাঁ মিম বলো।”
উদ্যানের আচরণে হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাফসা।এতো ভালো আচরণ করে মীমের সাথে।
“হ্যাঁ, অবশ্যই আমি আসবো। তুমি অপেক্ষা কর আসছি।”
ওপাশের কথা শুনতে না পারলেও উদ্যানের কথায় বুঝতে পারছে দু’জন কোথাও যাবে। উদ্যান কানে ফোন নিয়ে কথা বলতে বলতে রাফসার দিকে একপলক তাকিয়ে ছাদ থেকে নেমে যায়।
উদ্যান চলে যেতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠে রাফসা। বয়ঃসন্ধির পর থেকে উদ্যানের প্রতি এহেন টান অনুভব করে।তার পার্সোনালিটি, বরাবরই রাফসাকে মুগ্ধ করে এসেছে। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে রমনীর।
বিরবির করে বলে।
“আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি উদ্যান ভাই। কিন্তু তুমি আমার মনে আজ যে আঘাত হেনেছো,তা আমার সাত জন্মের স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। কিন্তু,, কিন্তু আজকের পর থেকে তোমার প্রতি সব অনূভুতি আমি বিলীন করে দেবো।আমাকে অযোগ্য বলেছো ঠিক আছে।যদি এই অপমানের যথাযথ শোধ না তুলি আমার নাম #সাদিয়াফরাজীরাফসা নয়।”
জরাজীর্ণ শরীরটা নিয়ে হেলতে দুলতে ছাদ থেকে নেমে যায় রাফসা।
.
.
.
ফরাজী বাড়িতে সন্ধ্যায় নাস্তা বানানোর ধুম পড়েছে।ফরাজী বাড়ির তিন বউ রান্নাঘরে এটা সেটা বানাতে ব্যস্ত।আর মাএ দু’দিন পর ফরাজী বাড়ির বড় ছেলে ডাক্তারির উচ্চ শিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ড পাড়ি জমাবে। উদ্যানের মা মিসেস রাহেলা ফরাজী এই কয়েকদিন ধরে ছেলের জন্য বিভিন্ন রকমের নাস্তা বানিয়ে প্যাকেট করছে।হাতে হাতে ওনার দুই জা সাহায্য করেছে।ফরাজী বাড়ির বড় বউ লুৎফা ফরাজী।মেঝো বউ রাহেলা ফরাজী। ছোট বউ হুসাইফা ফরাজী। বাড়ির তিন কর্তা রাজনীতি মিটিং এ আছে। ফরাজী বাড়ির গত এিশ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। খুব ভালো নাম ডাক তাদের। রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। কর্তারা খুব একটা সেদিকে মাথা ঘামায় না। তারা সর্বদা রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বাড়ির ব্যবসা দেখা শোনা করে বাড়ির বউ ছেলে রোহান এবং উদ্যান। উদ্যানের চেয়ে দুমাসের ছোট রোহান।
.
.
.
রাফসা নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে থম মেরে কিছুক্ষণ বসে রইল।বুকটা ধরফর করছে। চোরাবালির মতো খাঁ খাঁ করছে।আজ বোধহয় মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেললো।কখনো গায়ের রং নিয়ে মাথা ব্যথা না থাকলেও আজ প্রচুর পরিমাণের আফসোস হচ্ছে।কেনো আল্লাহ কালো করে বানালো।কালো মেয়েদের যে এই সাদা চামড়ার সমাজে দাম নেই।না ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। উদ্যানের তখনকার কথাগুলো মাথায় ঘুরছে। এখন অক্টোবর মাসের শেষ দিকে। এপ্রিলে রাফসার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। পড়ালেখায় এতো ভালো না।তবে ততোটাও খারাপ না। শুধু পড়তে ইচ্ছে করে না। প্রায় একঘন্টা ধরে বিছানায় বসে এক ধ্যানে নিচে তাকিয়ে আছে। কিছু ভাবছে রাফসা।এই নিয়ে দু’দিন অপমানিত হলো। কিন্তু আর নয়। নিজেকে ভেঙ্গে চুরে তৈরি করবে।বসা থেকে উঠে বসে ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।ঘন চিকন ভ্রু।লোকে দেখলে অবশ্যই বলবে ভ্রু প্লাক করা। কিন্তু,রাফসার ভ্রু গুলো এমন। চোখগুলো মাঝারি সাইজের। পাপড়িগুলো কিছুটা ঘন। গোলগাল চেহারা।নাকটা উঁচু নয়।কিছুটা বোচা। ঠোঁটের কোণে এসে দৃষ্টি আটকে। ঠোঁটের নিচে কিনারায় বাম পাশে মাঝারি সাইজের একটা কুঁচকুঁচে কালো তিল।যেটা পুরো চেহারার উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসলে তিলটার কারণে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।গায়ের রং টা কালো নয়।শ্যামলা গায়ের রং। চুলগুলো কোমর ছুঁইছুঁই।হালকা সোজা চুলগুলো নিচের দিকে এসে বাঁকানো।রাফসা সচরাচর চুল আচঁরায় না। চুলগুলো সবসময় উসকোখুসকো থাকে। নিজের শরীরের যত্ন কখনোই নেয় না।মা নিতে চাইলেও দেয় না। উদাসীন সে সবকিছুতে। কিন্তু আজ নিজেকে একটুখানি গুছিয়ে নিতে ইচ্ছে করছে।হাত বাড়িয়ে চিরুনি তুলে নিয়ে চুলে চালায়। তিনদিন মাথা না আচরানোর কারণে দলা পাকিয়ে আছে।সময় নিয়ে খুব যত্ন সহকারে জোট ছুটিয়ে বেণি করে চুলে। মুখে ময়শ্চারাইজার দেয়। ব্যাস এতেই অনেকটা সুন্দর লাগছে। তারপর জানালার ধারে রাখা পড়ার টেবিলে এগিয়ে যায়। চেয়ার টেনে বসে পড়ে। বাংলা বইটা বের করে।সুভা গল্পটা আধ ঘন্টা মনোযোগ দিয়ে ইমপোর্টেন্ট লাইনগুলো দাঁগিয়ে পড়ে।সুভাকে নিজের সাথে অজান্তেই তুলনা করে। বাকশক্তি সুভা কখনো প্রতাপের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনি।আর রাফসা উদ্যানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে শুধু পেয়েছে অবহেলা, অপমান, অবজ্ঞা।
রাত এখন এগারোটা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পড়ছে রাফসান।বই খাতা গুছিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ায়। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ না থাকলেও সায়েন্স নিয়েছে।যার একমাত্র কারণ উদ্যান। ডিনার করার জন্য রাফসা নিচে নেমে আসে।ফরাজী বাড়িতে এটাই নিয়ম। একসাথে বসে খাওয়া।ধীর কদম ফেলে রাফসা সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে। ইতিমধ্যে সকলে টেবিলে বসে পড়েছে।ফরাজী বাড়ির জনসংখ্যা বেশি হওয়ার দরুন ড্রাইনিং টেবিল অনেকটা বড়।রাফসা নিজের বরাদ্দকৃত চেয়ারে বসে পড়ে।তবে চোখ তুলে সামনে তাকাতেই উদ্যানের সঙ্গে চোখাচোখি হয়।ওর পাশে মিম বসে আছে।মিম ওদের ফুফাতো বোন।রাফসা চোখ নামিয়ে নিল। ভুলেও দ্বিতীয় বার চোখ তুলেনি। সর্বক্ষণ পরিবেশ মাতিয়ে রাখা মেয়েটা আজ একেবারে চুপচাপ হয়ে খাচ্ছে।এ বিষয়টা কারোই হজম হচ্ছে না। হুসাইফা ফরাজী মেয়ের পাতে তরকারি তুলে দিতে দিতে বলে,
“কোথায় ছিলি সারা সন্ধ্যে? নাস্তা করলি না। শরীর খারাপ লাগছে?”
রাফসা হালকা করে বলে,
“তেমন কিছু না আম্মু। কিছু মাস পর পরীক্ষা তো তাই পড়ছিলাম।”
ডাইনিং এ যেন বোমা পড়েছে।সবাই ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছে।যেই মেয়েকে ধরে বেঁধে পড়ানো যায় না।সেই মেয়ে কিনা আজ নিজেই পড়েছে। সকলের চোখে অবকতার ছাপ।রাহেলা ফরাজী অবাক হয়ে বলল।’তোর কি শরীর খারাপ মা?এমন কথা বলছিস।”
রাফসা বোধহয় কিছুটা বিরক্ত হলো।সবার এহেন দৃষ্টি বিরক্ত লাগছে। ঠান্ডা গলায় বলে ।”আমার দিকে না তাকিয়ে খাবার খাও।এমন করছো কেন?”
সবাই কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দেয়।মিম হেসে বলে।”বাহ্। আমাদের রাফসা দেখছি চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। খুব ভালো করে পড়াশোনা কর ।”
রাফসা চোখ তুলে তাকায়। উদ্যান নিজেও কপাল কুঁচকে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।যার দরুন চোখাচোখি হয় আবারো।রাফসা খেতে খেতে বলল।”সবসময় মানুষ এক থাকে না মিম আপু। মানুষ মাএই পরিবর্তনশীল।”
এহেন কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় উদ্যানের।মেয়েটা আজ অনেক ভদ্র হয়ে গেছে দেখছে।গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে কথা বলা মেয়েটা আজ যথেষ্ট মার্জিত ভাবে কথা বলছে। ধীরে ধীরে। উদ্যান নিঃশ্বাস ফেলে খাওয়াৎ মন দেয়।তবে খানিক বাদে বাদেই চোখ তুলে রাফসার দিকে তাকাচ্ছে।যার কিনা এদিকে কোনো হুঁশ নেই।এক ধ্যানে খাবার খাচ্ছে।মনে হচ্ছে আশেপাশে কেউ নেই।আর থাকলেও ওর যায় আসে না। উদ্যান যতবার চোখ তুলে তাকাতো ততোবার রাফসাকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখতো।তবে আজ একটাবারের জন্য চোখ তুলে তাকাচ্ছে না।এতে ভেতরে ভেতরে হাঁসফাঁস লাগছে।রাফসা খেয়ে উঠে পড়ল।কোনো কথা না বলে চলে যায়। সেদিকেই তাকিয়ে রইল উদ্যান রাওদ ফরাজী।
চলবে….?
প্রেয়সীর_অনুরাগ
লেখনিতে —#Sadiya_Jahan_Simi
সূচনা_পর্ব
(পড়ে দেখুন। আপনাদের ভালো লাগলে কন্টিনিউ করব।নয়তো এখানেই সমাপ্তি।)
Share On:
TAGS: প্রেয়সীর অনুরাগ, সাদিয়া জাহান সিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেয়সীর অনুরাগ গল্পের লিংক
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৯
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৮
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৫(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭(প্রথমাংশ + দ্বিতীয়াংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৬
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৪
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১০