#প্রেমবসন্ত_২ ।৬৫।
#হামিদা_আক্তার_ইভা_Hayat
উত্তপ্ত দুপুর। কায়নাত পরীক্ষা শেষে আজ কলেজ গেটের বাইরে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল না। অর্ণ কি তবে চলে গিয়েছিল সকালেই? কায়নাত ভেবে খুশিই হলো বটে। লোকটা রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে কী বানিয়েছে! গুটি গুটি পা ফেলে কায়নাত বাড়ি ফিরল। এসে দেখল বারান্দায় তালা ঝুলছে। ময়না নিজের বারান্দা থেকে বলল,
“কিগো সুন্দরী, জামাইকে খুঁজছো নাকি?”
কায়নাত বলল,
“আপনার ভাই বাড়িতে আসেনি আর?”
“এসেছিল। ঘরের চাবি দিয়ে আবার চলে গেছে।”
“কিছু বলেনি?”
“না।”
ময়না ওকে চাবি দিয়ে নিজের ঘরে ছুটে গেল। কায়নাত তালা খুলে ঘরে ঢুকল। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে শরীরটা। অর্ণ কী তবে চৌধুরী বাড়ি গেছে ভাই-বোনদের সাথে দেখা করতে? কিন্তু অর্ণ তো কখনও এভাবে না বলে কোথাও যায় না। তাও আবার তাকে একা রেখে। তবু বেশি ভাবল না সে। দরকারি কাজ তো থাকতেই পারে। কায়নাত পরিষ্কার পরিপাটি হয়ে আজ নিজেই অর্ণর জন্য রান্না করল। লোকটা কিসব রান্না করে, খুব কষ্টে খেতে হয়। রান্না শেষে একা একা জেদ ধরে খেয়েও নিল সে। খেয়ে-দেয়ে একচোট ঘুমও হয়ে গেছে তার। সন্ধ্যার পর দিয়ে দরজায় শব্দ হলে কায়নাত ভাবল অর্ণ এসেছে। দরজা খুলতেই দেখা মিলল ময়নার সাথে। বিরক্ত হলো কায়নাত। তবু ওকে ঘরে নিয়ে এলো। ময়না গাল ভরে হেসে পুরো ঘরে চোখ বুলিয়ে বিছানায় বসে বলল,
“তোমার ঘরে আজকে প্রথম আসলাম। কী সুন্দর করে গুছাই রাখা সব।”
কায়নাত পাশে বসে বলল,
“উনিই সব গুছিয়ে রাখেন।”
“তোমার জামাই কিন্তু অনেক কাজ করে। তোমার পরনের জামা-কাপড় ধুয়ে কী সুন্দর করে নাড়িয়ে দেয়। এমন আমার জামাই হইলে ভালোই হইত।”
“বারণ করলেও শোনে না। যাকগে, আজ হঠাৎ আমার ঘরে এলেন যে?”
“একটু চিনি লাগত গো। তোমার ভাই নাকি এই রাইত করে সেমাই খাবে।”
কায়নাতের মাথা ধরে এলো ময়নার ভাষা শুনে। শুদ্ধ ভাষা বলতে গিয়ে মেয়েটার চোখ-মুখ উল্টে যাচ্ছে তবু থামবার নাম নেই। কায়নাত পুরো চিনির বয়মটাই ওকে দিয়ে দিল। ময়না মুচকি হেসে বেরিয়ে যাওয়ার পর কায়নাত অর্ণর নাম্বারে কল করল। সারা দিনে একটা কলও করেনি লোকটা। মেজাজ খারাপ হচ্ছে এখন। কল দেয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হলো। ওপাশ থেকে অর্ণ ব্যস্ত গলায় বলল,
“সব তোমার দেবরদের দোষ। ওরা আমায় সারাদিন ছাড়েনি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরছি আমি।”
কায়নাত বলল,
“আমার ভালো লাগছে না আপনাকে ছাড়া। বেশি দেরি করলে কিন্তু সারারাত বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখব বলে দিলাম!”
খট করে লাইন গেল। অর্ণ ফিরল ঠিক ৮টার দিকে। কায়নাত তখন শুয়ে শুয়ে অর্ণর অ্যানড্রয়েড ফোনে উকি-ঝুঁকি মারছে। দরজায় শব্দ হতেই দৌঁড়ে গিয়ে খুলল দরজা। সামনে দৃষ্টি যেতেই থমকে দাঁড়াল সে। অর্ণ হাতের বড় ফুলের তোড়া কায়নাতের দিকে এগিয়ে দিয়ে মাথা চুলকে বলল,
“পাক্কা ৪হাজার খরচ হয়েছে। এরপরও আমায় কীপটে বলো না।”
কায়নাত খিলখিল করে হেসে উঠল। হামলে পড়ল স্বামীর বুকে। অথচ সেখানে উপস্থিত আরও একজন সদস্য মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে অর্ণর পাশে। কায়নাত তাকে খেয়ালই করেনি। হঠাৎ কেউ পা জড়িয়ে ধরতেই কায়নাত চমকে উঠল। পিছিয়ে গেল দুপা। ছোট্ট আদি কপাল কুঁচকে ঘরে ঢুকল। বিছানার চাদর খামচে উঠল বিছানায়। দুই পা মেলে দিয়ে বলল,
“জুতো খুলে দাও শাশুড়ি মা।”
কায়নাত ফ্যালফ্যাল করে খানিকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে রইল। অর্ণ এসে ওর জুতো খুলতে খুলতে বলল,
“খুব ভাব বেড়েছে না?”
আদি বলল,
“তোমারও তো খুব ভাব। আমি একটু দেখালে কী হবে?”
“আমার সাথে তোমার পাল্লা দিয়ে চলতে হবে?”
“হ্যা।”
“এসব কোত্থেকে শিখেছ?”
“তোমার থেকে।”
“তোমার বাপ তোমায় পিটিয়ে বাড়ি থেকে যে বের করেনি এটা তোমার ভাগ্য।”
আদি ডান হাত দিয়ে মাথার চুল গুলো পেছন দিকে ঠেলে দিয়ে বলল,
“বাবাও আমায় ভয় পায়।”
“তুমি তোমার বাপকে জন্ম দিয়েছ নাকি তোমার বাপ তোমাকে জন্ম দিয়েছে?”
“কেউ কাউকে জন্ম দিইনি।”
অর্ণ হার মানল। চাপা নিশ্বাস ফেলে পিছু ফিরে তাকাল কায়নাতের দিকে। কায়নাত দরজার সামনে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে তখনও। অর্ণ কাছে ডাকল,
“কাছে এসো।”
কায়নাত এলো। বসল আদির পাশে।
“আপনারা বাইরে খেয়ে এসেছেন?”
অর্ণ বলল,
“তোমাকে ছাড়া একা খাব কী করে?”
“কিন্তু আমি তো খেয়ে ফেলেছি। বাবুর বোধহয় খুব খিদে পেয়েছিল। নাহলে আমিও কিন্তু আপনাকে ছাড়া কখনও একা খাই না।”
অর্ণ ড্যাবড্যাব করে কায়নাতের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে শব্দ করে হেসে ফেলল। আদি নাক ফুলিয়ে বলল,
“আমার বউকে অমন রাক্ষসের মতো পেটুক বানিও না শাশুড়ি মা।”
কায়নাত চোখ রাঙিয়ে আদির গাল টেনে ধরল।
“তোমার কাছে আমার মেয়ে দিব না, বেয়াদব ছেলে।”
আদি জোর করে নিজের গাল ছাড়িয়ে বলল,
“তুমি বেয়াদব মহিলা।”
“তুমি বেয়াদব ছেলে।”
“তুমি তুমি তুমি বেয়াদব।”
“তুমি বেয়াদব।”
অর্ণ আদির মুখ চেপে ধরল।
“কী হচ্ছে আদি? এভাবে মামির সাথে কেউ ঝগড়া করে? এসব কে শেখায় তোমায়?”
আদি বলল,
“আমার শ্বশুর।”
“তোমার শহুর কে?”
“স্বার্থ ভাই।”
অর্ণ কপাল চাপড়ে ধরল। এই স্বার্থ ওকে আর কী কী শেখাচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
আদি আজ ওদের সাথে থাকবে। মামুর সাথে এই বাড়ি আসবে বলে সেকি কান্না বাবাহ! বাধ্য হয়ে অর্ণ ওকে নিয়ে এসেছে এখানে। আদি অনেকদিন ধরে মামুর সাথে থাকে না। আগে যখন কায়নাতের ব্যাপারটা কেউ জানত না, তখন আদি প্রায় প্রত্যেকদিন মামুর বিছানা আগেই দখল করে রাখত। মামুর কাছে থাকলে কেমন শান্তি শান্তি লাগত। এখন মায়ের বিয়ে হয়েছে, সে চাইলেও মামুর কাছে থাকতে পারে না। এখনও মাঝরাতে মাঝে মধ্যেই অর্ণর নাম নিয়ে কেঁদে ওঠে সে। তখন বাবার আদুরে হাতের স্পর্শ পেয়ে মামুর কথা ভুলে যায়। সব কিছুই অর্ণর জানা।
রাত প্রায় ১১টার কাটা ছাড়িয়েছে। কায়নাত দুই মানবের মধ্যে এক জীবন্ত পুতুল। আদি গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে এক হাত দিয়ে, অন্যহাতে ফোন। অর্ণ আলতো করে চুমু খেল কায়নাতের পেটে। পেট টা এখনও সমান। সে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“ পেট বড় হতে এখনও অনেকদিন লাগবে। এতদিন আমি অপেক্ষা করব কী করে?”
কায়নাত বলল,
“এত অধৈর্য হলে হয়? এখনও অনেক গুলো মাস অপেক্ষা করতে হবে।”
অর্ণ ওর নরম পেটে আঙুল দিয়ে আঁকি-উকি করল খানিকক্ষণ। পেটের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আমার আব্বু, আপনি কবে বাবার কোলে আসবেন? আপনাকে দেখার জন্য ব্যাকুল এই হৃদয়।”
আদি বলল,
“তোমার মতো করে বাবাও মাকে চুমু খায়। আমার বউ এলে আমিও খাব।”
অর্ণ হতভম্ব হয়ে তাকাল ওর দিকে। কায়নাতের যেন মাথায় বাজ পড়ল। এই ছেলে এত পাকা কেন? বাপ-মার কথা বলতে পারলে নিশ্চয়ই মামা-মামুর কথাও সবাইকে বলে বেড়ায়?
কিভাবে কিভাবে যেন চোখের পলকে কেটে যাচ্ছে মাসের পর মাস। আচ্ছা, আমরা আমাদের জীবনের সেরা সময় গুলো বছরের পর বছর কেন ধরে রাখতে পারি না? কেন সেই সুন্দর মুহূর্ত গুলো ঝাপটে জড়িয়ে ধরতে পারি না? প্রশ্ন যদি এমন হয় তাহলে উত্তর আসে, ‘সময় কখনো কারোর জন্য থেমে থাকে না’। সেই ছোট্ট কিশোরীর জীবনেও না। মাঝে কাটল অনেক গুলো মাস। মেয়েটার পরীক্ষা শেষে স্বামীর হাত ধরে ঢাকায় ফিরেছিল সেই রেজাল্ট দেয়ার পর। ততদিনে মিলি বেগমের ঘর আলো করে একটা ফুটপুটে ছেলে সন্তান হয়েছে। ছেলের নাম সোহান। সোহেল মির্জা ছেলের সংবাদ শুনে খুব খুশি। কায়নাতও বড্ড খুশি হয়েছিল বাবাকে খুশি দেখে। সেসব কথা এখন পুরনো। খুব শীত বাইরে। জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখ আজ। কায়নাত তার ৭ মাসের উঁচু পেট নিয়ে বসে আছে চৌধুরী বাড়ির ছাদে। তার পায়ের কাছে আদাল আর নিশা। নিশা শুয়ে আছে মাথায় বালিশ দিয়ে আর আদাল কায়নাতের পায়ের গোড়ালি টিপে দিচ্ছে গত ঘণ্টা খানেক ধরে। কে বলবে এরা দেবর-ভাবি? বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ খুব যত্নে রেখেছে তাকে। সেইযে গ্রামে সুরঞ্জনা আপুর সাথে মেহরাবের বিয়ে হলো, তখন জারা এসেছিল বিয়েতে। বোকা আদাল তবু নিজের মনের কথা বলতে পারেনি সাহস করে। কায়নাতের খুব আফসোস! এই দেবর গুলো একটাও কাজের না।
“ও ভাবি?”
কায়নাত হাত ভরে আছাড় মুখে দিয়ে বলল,
“শুনছি।”
“আপনি বললে ও নিশ্চয়ই আসবে। একটাবার দেশে আসার কথা বলেই দেখুন না?”
কায়নাত কিছু একটা ভাবল। তারপর মাথা নাড়িয়ে বুঝাল সে কথা বলবে।
সন্ধ্যার আগ দিয়ে ওরা নিচে নেমে এলো। নিশা তৈরি হয়ে সবে বাড়ির বাইরে বের হয়েছে। আয়মান কল করেছিল ওর সাথে বাইরে যাবে বলে। ভাইয়ের কথা মতো বাড়ির বাইরে বেরোতেই স্বার্থর সাথে দেখা হলো। স্বার্থ একদম ওর সামনে বাইক থামিয়েছে। নিশা বলল,
“তুমি এই সময়ে এখানে কী করছ?”
“আগে বাইকে ওঠ।”
“আমি আয়মান ভাইয়ার সাথে..”
“আমিই ওকে বলেছি তোকে বের করার কথা। তোর বাপ তো আমার কথা বললে বের হতে দেবে না।”
নিশা ফিঁক করে হেসে ফেলল। উঠল ওর পেছনে। খোলা আকাশের নিচে সরু রাস্তা খানায় ছুটে যাচ্ছে স্বার্থর বাইক। ঢাকার শহরে রাত হলেও বুঝার কোনও উপায় নেই। চারপাশ আলোয় ঝকঝক করছে। নিশা ওর পেট শক্ত করে ধরে বলল,
“মিস্টার ফাজিল লোক, সময় কত গড়াল খেয়াল আছে?”
স্বার্থ বলল,
“আর একটু থেকে যা।”
“তারপর?”
“তুই কাছে থাকলে শান্তি লাগে।”
“তাহলে কাছেই রাখার ব্যবস্থা করো।”
বিনিময়ে স্বার্থ হাসল। সেই হাসি নিশার চোখ এড়াল। গাড়ি ঘুরল চৌধুরী বাড়ির রাস্তায়।
অন্যদিকে অর্ণ ব্যস্ত পায়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে সদর দরজা পেরোতেই এক অবাক কাণ্ড ঘটিয়ে বসল কায়নাত। গলগল করে বমি করে বসল অর্ণর শার্ট জুড়ে। আদাল বাইরে থেকে একটু আগেই সিঙ্গারা এনে দিয়েছিল ওকে। সেটা হাতে নিয়েই টোইটোই করে খাচ্ছিল।
অর্ণ ওর দুর্বল শরীরটা চেপে ধরল। সাঈমা ওপাশ থেকে চিৎকার করে উঠল,
“হায় হায়! বড় ভাবির বমি হইতাছে।”
রান্না ঘর থেকে ঝড়ের বেগে বের হলেন বেহরুজ বেগম। অর্ণ কায়নাতকে ধরে নিচে কমন ওয়াশরুমে নিয়ে গেল। দুজনের পুরো শরীরের যা-তা অবস্থা। নিচে তেমন কেউ ছিল না বলে অর্ণ লজ্জা লুকিয়ে তার মাকে বলল,
“এই অবস্থায় উপরে যাওয়া সম্ভব না মা। কাপড় গুলো…”
তিনি বুঝলেন। মাথা নাড়িয়ে নিজেই গেলেন ছেলের ঘরে। অর্ণ দরজা আটকে বালতি ভরে কায়নাতের খোলা চুল খোঁপা করল। খুব গম্ভীর গলায় বলল,
“কতবার বারণ করেছি এসব বাইরের খাবার খাবে না? কত ময়লা থাকে এসবে জানো?”
কায়নাত অর্ণর বুকে মাথা ঠেকিয়ে বলল,
“আমি খেতে চাইনি তো! আপনার বাবু খেতে চেয়েছে।”
“আমাকে শেখাচ্ছ তুমি? এবার লাস্ট, আর কিন্তু সহ্য করব না আমি।”
“আপনি আমায় বকছেন কেন?”
“তাহলে কী মাথায় তুলে নাচব?”
“বারণ করেছি?”
“তোমার একটুও শরম নেই না? এত বড় ঢেঙ্গি মেয়ে হয়েও একটুও শরম হয়নি?”
“আমায় খোঁটা মারছেন?”
অর্ণ হাল ছাড়ল। আর তর্ক করল না। দুজনে ফ্রেশ হয়ে যখন বের হলো, তখন বাড়িতে স্বার্থ ঢুকেছে নিশাকে নিয়ে। কায়নাতকে দেখেই স্বার্থ চোখ টিপ্ মারল।
“আমার সোনা ভাবি, কী খবর?”
অর্ণ চোখ পাকাল।
“কতবার বলব ওকে সোনা বলে ডাকবি না?”
“তোর কী জ্বলে? সামান্য সোনা ডেকেছি বলে কলিজা জ্ব*লে পু*ড়ে যাচ্ছে সোনা?”
(গল্পটা শেষ করে দিব। তোমাদের এত ভালোবাসার ইতি টানছি শীঘ্রই।)
#চলবে…
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩১.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৬