#মন_বোঝে_না (১৭)
#সানা_শেখ
সারাহ নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। ফারিশ তাকে বিছানা থেকে নামিয়ে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে দিলো হাতমুখ ধুয়ে আসার জন্য।…….
বালিশের দিকে নজর পড়তেই দেখল বালিশের অনেকটা জায়গা ভিজে গেছে চোখের পানি দিয়ে।
বিছানা গুছিয়ে জানালার পর্দা সাইড করে জানালা খুলে দিলো। ব্যালকনির দরজাটাও খুলে দিলো। বাইরের আলোয় আলোকিত হলো রুমটা। বাইরে প্রখর রোদ, বাতাসের ছিটে ফোঁটাও নেই।
ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো সারাহ। কেঁদেকেটে বেচারীর চোখমুখ ফুলে গেছে। চোখজোড়া লাল হয়ে রয়েছে, চুলগুলো এলোমেলো, চেহারা ফ্যাকাশে, কেমন বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে।
ফারিশ সারাহকে বিছানায় বসতে বলল। সারাহ-ও চুপচাপ বসে পড়ল। খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে সারাহর সামনে বসল ফারিশ। ভাত মাখাতে লাগল প্লেটের দিকে দৃষ্টি রেখেই। সারাহ তাকিয়ে রইল ভাইয়ের মুখের দিকে, ফারিশ কত ভালো, তাকে কত ভালোবাসে! আর সে কী ভেবে নিয়েছিলে তার ব্যাপারে। এই বাড়িতে না এলে সে কোনোদিন বুঝতেই পারতো না ভাই কী আর ভাইয়ের ভালোবাসা কাকে বলে। ফারিশের সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও ফাইয়াজের কাছে অনেক আদর ভালোবাসা পেয়েছে। আবার ফারিশ-ও তাকে ফাইয়াজের হাত থেকে অসংখ্যবার বাঁচিয়েছে। ফাইয়াজ তার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিতো আর প্রত্যেকবার তাকে হারিয়ে দিতো, তারপর বিভিন্ন শাস্তি নির্ধারণ করতো তার জন্য, ফারিশ জানতে পারলে সেসব শাস্তি থেকে সারাহকে বাঁচিয়ে দিতো।
ফারিশ সারাহর মুখের সামনে লোকমা তুলে ধরে বলল,
“হাঁ করো।”
সারাহ হাতের লোকমার দিকে তাকিয়ে ফারিশের মুখের দিকে তাকাল। ফারিশ আবার হাঁ করতে বলতেই হাঁ করল সারাহ। তার র’ক্ত লাল চোখজোড়া হতে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করল আবার।
ফারিশ টিস্যু পেপার দিয়ে চোখজোড়া মুছিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ওই শ’য়’তা’নের জন্য কাঁদতে নিষেধ করেছি না?”
সারাহ নাক টানতে টানতে বলল,
“ওই শ’য়’তানের জন্য কাদঁছি না এখন।”
“তাহলে কার জন্য কাদঁছো?”
“আবরার ভাই। উনি স…সত্যিই ম’রে গেছেন?”
“না। ওটা অন্য একজনের ডেড বডি ছিল।”
“উনি আ…আমার কথায় কষ্ট পেয়ে চ…চলে গেছেন। আমি আর জীবনেও কাউকে কিছু বলবো না, ভাইয়া।”
ফারিশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সারাহর ক্রন্দনরত মুখের দিকে। পুনরায় চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলল,
“তুমি নিজের জায়গা থেকে ঠিকই ছিলে, চেরি। তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো আরও বেশি রিঅ্যাক্ট করে ফেলত। যা হয়েছে ঝেড়ে ফেলো মাথা থেকে। আবরার ফিরে আসবে খুব শীগ্রই। একা সময় কা’টানোর জন্য হয়তো কাউকে কিছু না বলে চলে গেছে। যতই হোক ভালোবাসে তোমাকে, তোমার বলা কথাগুলো একটু বেশিই কষ্ট দিয়েছে ওকে, তাই তো এভাবে না বলে হারিয়ে গেছে। ও ফিরবে নিশ্চই, তুমি আর অপরাধ বোধে কেঁদো না এভাবে।”
আরেক লোকমা সারাহর মুখের সামনে তুলে ধরল। সারাহ মুখে নিয়ে চিবুতে শুরু করতেই ফারিশ আবার বলল,
“গতকাল বিকেলে আবির তোমাকে কী কী বলেছিল?”
সারাহ ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হেঁচকি তুলতে লাগল।
“বলো।”
সারাহ পানি খেয়ে হেঁচকি তুলতে তুলতে সবকিছু বলে দিলো। ফারিশের চোয়াল একদম শক্ত হয়ে গেল। আবিরকে এখন সামনে পেলে আগে তার জিহ্বা টেনে ছিঁড়তো, তারপর চোখজোড়া তুলে ফেলতো। কতটা নোংড়া মাইন্ডের হয়ে গেছে ভাবা যায়! নিজে লিভ ইন-এ থাকবে, বিয়ে করে সেই বউকে পরিবারের সকলের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখবে, সেই বউয়ের অগচরে আবার দ্বিতীয় বিয়েও করতে চাইবে তাতে কিছু না। সারাহ দুটো ছেলের সঙ্গে দুমিনিট কথা বলেছে তাতেই সে খারাপ হয়ে গেছে। আবার তাদের দুই ভাইয়ের সামনে যেতেও নিষেধ করেছে! গতকাল রাতেই যদি সবকিছু শুনতো সারাহর কাছে তবে রাতেই সে বিয়ে ভেঙে দিতো।
সকলের সামনে সাধু সেজে ছিল। গত বছর এক মাসের জন্য দেশে এসেছিল, তখন সারাহকে দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিল বিয়ে করার জন্য। আবিরের মা তো এমনিতেই সারাহকে পছন্দ করেন না, আবির সারাহকে বিয়ে করতে চাওয়ায় মুখের উপর নিষেধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আবির নাছর বান্দা, সে বাবা-মা আর ফারিশকে রাজি করিয়ে তবেই ক্ষান্ত হয়েছিল। আবিরের মা এঙ্গেজমেন্টের জন্য রাজি হলেও বিয়ের জন্য রাজি হন না। কথা হয় আবিরের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর জব নিয়ে তারপর বিয়ে করতে আসবে।
আবির এমনভাবে ফারিশের সঙ্গে কথা বলতো আর নিজেকে প্রেজেন্ট করতো যে সে দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। বোনের সুখের জন্য ফারিশ আবিরের কথা শুনতো, সে ভাবতো আবির তো সারাহকে ভালোবাসে তাই হারিয়ে ফেলার ভয়েই এত বেশি পজেসিভ। নিজে যা ইচ্ছে করবে কিন্তু সারাহ কিছু করতে পারবে না, সে কোনো ছেলের দিকে তাকাতেও পারবে না। তার বোনের উপর নজরদারি করার জন্য মানুষও লাগিয়ে রেখেছিল। অসভ্য চরিত্রহীন আস্ত শ’য়’তান, সামনে পেলে হামান দিস্তায় ছেচে ভর্তা বানিয়ে ফেলতো এই মুহূর্তে।
পুনরায় সারাহকে খাওয়াতে খাওয়াতে বলল,
“আবির কখনো ভালোই বাসেনি তোমাকে, ও তোমার রূপ সৌন্দর্যের মোহে পড়েছিল। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে কখনো খারাপ ব্যবহার করা যায় না, বাজে কথা বলা যায় না। আবির তোমাকে এত কিছু বলেছে অথচ তুমি একটা কথা বলতে পারোনি। ওকে ভালোবাসো বলেই ওকে কষ্ট দিতে পারোনি। আবরার তোমাকে ভালোবাসে, তাই তোমার সব কথা হজম করে চলে গেছে কিছু না বলে। ও তোমাকে কষ্ট দিতে পারেনি, বাজে কথা বলতে পারেনি কারণ ও তোমাকে ভালোবাসে। যদি বলা হয় আবির ডেইজিকে ভালোবাসে তবে সেটাও সত্যি নয়। ডেইজিকে ভালোবাসলে তাকে ঠকিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা চিন্তাও করতে পারতো না আবির। ডেইজি প্রেগন্যান্ট অথচ আবির ওকে ডিভোর্স দিয়ে চলে এসে তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে। ও মানুষ না, অমানুষ!”
সারাহ ফোঁপাতে লাগল আবার। চোখের পানি মুছে ফোঁপাতে ফোঁপাতেই বলল,
“আবরার ভাইয়ের সঙ্গে কী ঝামেলা হয়েছিল? উনি কেন এত বছর আপনাদের সঙ্গে কথা বলতেন না?”
ফারিশ লম্বা শ্বাস টানল। সারাহ এখনো এই বিষয়টা জানে না সে ভাবেনি। পুনরায় লোকমা তুলে মুখে পুরে দিয়ে বলল,
“অহিকে তো চেনোই, আবিরের যমজ বোন।”
মাথা নাড়ল সারাহ। ফারিশ আবার বলল,
“স্কুল কলেজ লাইফে অহি আবরারকে পছন্দ করতো, এটা আমরা কেউ জানতাম না তখন। অহি আবরারকে প্রপোজ করার পর আবরার রিজেক্ট করে দেয়। বারবার রিজেক্ট হয়ে অহির মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। রাতে আবরারকে একা পেয়ে ওকে টেনে নিয়ে গেস্ট রুমে ঢুকে যায় আর তারপর —
সারাহ নিঃশ্বাস আটকে রইল। এসব কী? অহি এমন কান্ড করেছে? তাও আবার আবরারের সঙ্গে? তারপর কী হয়েছিল? সারাহ পরের টুকু জানার আগ্রহে ফারিশের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ফারিশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে পরের টুকুও খুলে বলল। সব শুনে বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইল সারাহ।
ফারিশ আরেক লোকমা সারাহর মুখের সামনে তুলে ধরে বলল,
“এই জন্যই আবরার মেয়ে মানুষ পছন্দ করে না, কিন্তু কীভাবে তোমাকে ভালোবাসলো জানি না আমি। ওর শখের গিটারে বাইরের এক মেয়ে হাত দিয়েছিল বলে সেই গিটারটাই ভেঙে ফেলেছে।”
সারাহ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। ফারিশ তাকে খাওয়ানো শেষ করে ঘুমোতে বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল দরজা ভেজিয়ে দিয়ে।
সারাহ সেভাবেই বসে রইল একভাবে।
.
আবির একটা খোলা জায়গায় বসে সিগারেট ফুঁকছে। রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। রাগের মাথায় ডেইজিকে চড় মে’রে বসেছিল রাতে, ডেইজিও তাকে পাল্টা চড় মে’রেছে। তাকে নিজের বাড়ি থেকে বেরও করে দিয়েছে ডেইজি। ডিভোর্সও দিয়ে দিবে খুব শীগ্রই। আবিরের মতন চরিত্রহীন ছেলের সঙ্গে সে থাকবে না। হুমকিও দিয়েছে আবির যেন এই দেশে থাকতে না পারে সেই ব্যবস্থা করবে, সঙ্গে তার ক্যারিয়ারেরও বারোটা বাজিয়ে দিবে। বাচ্চা অ্যাবরশন করিয়ে ফেলবে সেই কথাও বলেছে। বাচ্চাকে নিয়ে আবিরের কোনো টেনশন নেই, সে কী বাচ্চা চেয়েছে নাকি?
সব এভাবে ঘেঁটে যাবে সে কল্পনাও করেনি। ডেইজিকে তার ভালো লাগে না মোটেও এমনটা নয়। ডেইজিকেও ভালো লাগে, সারাহকেও ভালো লাগে। ডেইজি হ*ট, সে**ক্সী, পাগল করা রূপ তার। কিন্তু সারাহ? সে কোমল, স্নিগ্ধ, মায়াবতী, পুরো আদুরে একটা মেয়ে। তার দুজনকেই লাগবে। জব হয়ে গেলে দুই বউয়ের ভরণ পোষণ করতে তার খুব বেশি কষ্ট হবে না। তাছাড়া ক্যারিয়ার নিয়ে ডেইজির অনেক বড়ো স্বপ্নও আছে। বর্তমানে সে ডেইজির টাকায়ই লাক্সারি লাইফ লিড করতো। বাড়ি থেকে যা দেওয়া হতো তা দিয়ে তার পনেরো দিনও চলে না।
ডেইজি সব জানলো কীভাবে সেটাই বুঝতে পারছে না। ডেইজি সারাহর ব্যাপারে জানতে পারবে এমন কোনো রাস্তা সে খোলা রাখেনি। সে নিখুঁত ভাবে দুই দিকই হ্যান্ডেল করে এসেছে এত দিন। রাগে মাথার চুল খামচে ধরল। হঠাৎ স্মরণ হলো ইশতিয়াকের কথা। ইশতিয়াক তার ব্যাপারে সবই জানে, সেও ইশতিয়াকের ব্যাপারে সব জানে। ইশতিয়াক তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি তো? সেই নিশ্চই ডেইজিকে সব বলেছে। আবির রেগেমেগে উঠে দাঁড়াল। আজকে ওই ইশতিয়াকের খবর আছে।
রাত থেকেই একের পর এক কল আসছে বাড়ি থেকে, সে কারো কল রিসিভ করেনি। শেষে না পেরে ফোন সুইচ অফ করে দিয়েছে।
ডেইজি একা বাড়িতে ড্রয়িংরুমের কোণায় বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদঁছে। সে এখনো মানতে পারছে না আবিরের প্রতারণা। সে আবিরকে অন্ধের মতন বিশ্বাস করতো, পাগলের মতন ভালোবাসে। সে না পারছে নিজেকে সামলাতে, আর না তো পারছে এসব মেনে নিতে। যেই আবির কোনোদিন তার দিকে গরম চোখে তাকায়নি সেই আবির রাতে তাকে চড় মে’রেছে।
আবিরকে ছাড়া সে কীভাবে বাঁচবে? আবির তো তার শ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে মিশে গেছে। সে মুখে যাই বলুক কোনোদিন পারবে না নিজের সন্তানকে খু*ন করতে। একদিনে তার জীবনের সবচেয়ে খুশির খবর এসেছে, আবার সবচেয়ে দুঃখের খবরও এসেছে। সে খুশিটাকে ঠিকভাবে অনুভবও করতে পারেনি, তার আগেই আবিরের দ্বিতীয় রূপ তার সামনে চলে এসেছিল।
গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল ডেইজি। দুই হাতে মাথার চুল খামচে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগল।
*****
আবরার নিজ বাড়ি, নিজ শহর ছেড়েছে আজ চৌদ্দ দিন। আজকের রাতের বাসে সে ঢাকায় ফিরবে। সে ঢাকা থেকে সোজা বান্দরবান চলে গিয়েছিল। সেখানে পুরো তেরো দিন পার করে গতরাতে কক্সবাজার এসেছে। এই চৌদ্দ দিনে পরিচিত কারো সঙ্গেই তার কথা হয়নি। আসার পথেই তার মোবাইল চুরি হয়ে গিয়েছিল, সেটা আর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও করেনি সে। তার ইচ্ছেই হয়নি খুঁজতে।
সূর্য ডুবে গেছে কিছুক্ষন আগেই। পশ্চিম আকাশ কমলা রঙে ছেয়ে আছে এখনো, কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলিয়ে যাবে তা। চাঁদের ম্লান আলো ছড়িয়ে পড়েছে ধরণীর বুকে। সমুদ্রের তীরে নির্জন জায়গায় সটান দাঁড়িয়ে আছে আবরার। কিছুক্ষণ পর পর ছোটো ছোটো ঢেউ এসে তার পা-জোড়া ছুঁয়ে যাচ্ছে। সে গভীর সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এক আকাশ সম ইচ্ছে ছিল—
তোমার হৃদয়ের স্পন্দন হবো,
নিকষ কালো রজনীতে আমায় ভাববে,
আর ক্ষণে ক্ষণে কাঁপবে।
কিন্তু নিয়তির কঠিন বেড়াজালে,
তুমি-আমি অনেক দূরে।
বেকুব মন বোঝে না,
তুমি যে আমার না!
হে প্রিয়তমা,
তুমি কী আমার হতে পারতে না?”
একটু থেমে আকাশের দিকে তাকিয়ে সুর ধরে গাইল,
“ঈশ্বর কী তোমার আমার মিলন লিখতে পারতো না..?”
চলবে……….
Share On:
TAGS: মন বোঝে না, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ৬০
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ১৮
-
মন বোঝে না পর্ব ১৯
-
দিশেহারা পর্ব ৭৩
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৬
-
দিশেহারা পর্ব ৩৫
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১৭ (অন্তিম)
-
মন বোঝে না পর্ব ১৮