প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
৩.
ড্রয়িংরুম থেকে গলা উঁচিয়ে অর্ণকে ডাকছে স্বার্থ।অর্ণ ঘাড় ঘুরিয়ে যখন নিচের দিকে তাকালো তখন কায়নাত পিছু ফিরে দরজার সামনে একটা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঘরের অন্যপাশে চলে গেলো।অর্ণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফের ঘরের দিকে তাকালে দেখে কেও নেই।বিরক্ত হয়ে হাঁটা ধরে সিঁড়ি দিকে।
নিচে স্বার্থর সাথে শেহের ঝগড়া করছে টাকা নিয়ে।দুজনের একজনেরও টাকা নেই কাছে।পুরো ফকির হয়ে বসে আছে।অর্ণ নিচে নামতেই ওরা চুপ করে গেলো।ভ্রু কুঁচকে স্বার্থ বলল,
“তুই না বুকে ব্যথা পেয়েছিলি?ব্যথা এখনো আছে?”
অর্ণ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“ঠিক আছি।”
সকালে নাস্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।অর্ণ নিজ ভঙিমায় সোফায় গিয়ে বসল।সবাই এলে তারপর একসাথে খাবার দেয়া হবে।আতিয়া বেগম গলা উঁচিয়ে নিধিকে ডাকছেন।নিধি বোধহয় ওয়াশরুমে গেছে।উপর থেকে মাহি চিৎকার করে বলল,
“বড় আপা বাথরুমে গেছে দাদি।কী লাগবে আমাকে বলো।”
আতিয়া বেগম আড়চোখে অর্ণর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“সবাইকে নিয়ে নিচে আয়,কেও যেন বাদ না থাকে।আর ওকেও নিয়ে আসিস।”
মাহি মাথা নেড়ে দাদির ঘরে ঢুকল।কায়নাত ঘরের মধ্যে পায়চারী করছিল।গতকাল রাতে আতিয়া বেগম একজোড়া মাঝারি সাইজের হাতের বালা দিয়ে গেছেন।বলেছেন এই চুড়ি সব সময় পড়ে থাকতে।সে সেটা পরেনি।বরং রেখে দিয়েছে যত্ন করে।মাহি ঘরে এসে বলল,
“সবাইকে নিচে খেতে ডাকছে।”
কায়নাত বলল,
“আমি নিচে যাব না,তোমরা গিয়ে খেয়ে আসো।”
“দাদা কিন্তু ভীষণ রাগী।তিনি যদি জানেন তুমি নিচে খেতে যাওনি তাহলে নিশ্চিত দাদির সাথে রাগারাগী করবেন।”
কায়নাত ঠোঁট কামড়ে ধরল।সে চায় না তার জন্য কারোর মধ্যে ঝামেলা হোক।নিধি ওয়াশরুম থেকে বের হলে জামা কাপড় ঠিক করে ঘরের বাইরে এলো।জয়া,সুহা,নিশা আগে থেকেই চেয়ার দখল করে বসে আছে।সিঁড়ির কাছে আসতেই কায়নাত একটু ভীতু হলো।বাড়ি ভর্তি ছেলে মানুষ।এত ছেলেদের মধ্যে সে কখনোই যায়নি।কেন যেন একটু ভয় হলো।মাথার কাপড় ঠিক করে নিধির হাত ধরে বলল,
“আমি নিচে না যাই?এত মানুষের মধ্যে আমার প্যানিক এ্যাটাক উঠে যাবে নিশ্চিত।”
নিধি মুচকি হেসে বলল,
“কিছু হবে না,চলো।”
ডাইনিং টেবিলে খাবার পরিবেশন করতে করতে আতিয়া বেগম মুচকি হাসলেন।ছেলেরা সবাই বসে গেছে।অর্ণর পাশে প্রেম বসেছে।আর তাদের পাশের চেয়ার গুলোতে বাকিরা।কায়নাতরা নিচে নামতেই নিধু একটু গলা চওড়া করে বলল,
“কায়নাত,তুমি আমার পাশে বসো তো।”
অর্ণর হাত থেমে গেলো।নামটা যেন খুব চেনা তার,তবুও চোখ তুলে সামনে তাকালো না।কায়নাত চেয়ারে বসতেই আতিয়া বেগম তাকে খাবার বেড়ে দিলেন।কায়নাতের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।অচেনা এক মেয়েকে হঠাৎ এই বাড়িতে দেখে যেন সবাই অবাক।তবে কিছু মানুষ কালই জেনেছেন লতার বড় মেয়ে সে।মাশফিক চৌধুরী কাল রাতে বেহরুজ বেগমের থেকে শুনেছেন কায়নাতের কথা।তিনি খাওয়া শুরু করার আগে মুখে হাসি টেনে বললেন,
“কায়নাত,কেমন আছো মা?”
কায়নাত চোখ তুলে ডান পাশে তাকিয়ে দেখল একজন লোক।সাহেব সাহেব একটা ভাব আছে।তিনি মুচকি হেসে তাকিয়ে আছেন তার দিকে।সে মাথা ঝাঁকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ।আপনি ভালো আছেন?”
“খুব ভালো আছি।কাল কখন এসেছ?”
“সন্ধ্যার পর এসেছি।”
মাশফিক চৌধুরী মাথা নাড়লেন।টুকটাক কথা বলার মাঝেই সবার খাওয়া প্রায় শেষের দিকে।কায়নাত চোখ তুলে সামনে তাকালো।দুজন ছেলে বসে আছে পাশাপাশি।দেখতে কিছুটা একই রকম।সে তাড়াতাড়ি দৃষ্টি সরিয়ে নিল।অর্ণ হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়াল।আড়চোখে সামনে বসা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখল মাথায় এত বড় ঘোমটা দিয়ে মাথা নিচু করে খাচ্ছে যে নাক ছাড়া কিছু দেখা যাচ্ছে না।সে বিরক্ত হয়ে বাড়ির বাইরে হাঁটা ধরল।স্বার্থরাও তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে বন্ধুর পিছু নিল।
এই বছর যেন শীতটা একটু বেশিই পড়েছে।যেখানে স্বার্থরা সবাই হুডি পড়ে শীতে কাঁপছে সেখানে অর্ণ পাটলা কাপড়ের শার্ট জড়িয়ে দিব্যি হেঁটে যাচ্ছে সরু রাস্তায়।স্বার্থ,শেহের এবং মেহরাব হচ্ছে অর্ণর ছোট বেলার বন্ধু।ঢাকায় একই এলাকায় তাদের বাসস্থান।এই তিন বাঁদর তার বন্ধু হলেও মানুষ ভাববে এরা তার ছোট ভাই প্রেমের জানে জিগার বন্ধু।মাশফিক চৌধুরীর চার ছেলে।বড় ছেলে অর্ণ,মেজো ছেলে প্রেম,সেজো ছেলে আদাল এবং ছোট ছেলে আয়মান।অর্ণ বন্ধুদের সাথে বাইরের দেশে ছিল বহু বছর।বর্তমানে তারা সবাই বাংলাদেশেই থাকে।অর্ণ বাবার কোম্পানিতে হাত দিয়েছে।অন্যদিকে তার বন্ধুদের অবস্থাও একই।
চারজন চার ধরনের মানুষ।অর্ণ এবং মেহরাব যেখানে খুব গম্ভীর,সেখানে স্বার্থ আর শেহের পুরোই বাচ্চা।এই দুইজন ছেলে সব সময় অর্ণর তিন ভাইয়ের পেছনে পড়ে থাকে।বিশেষ করে প্রেম।বেচারা হসপিটালে গিয়েও শান্তি পায় না।এই দুই বাঁদর ঠিক বিরক্ত করতে পৌঁছে যায় সেখানে।মানুষ তো বলে স্বার্থ আর শেহেরের বউ হচ্ছে অর্ণর ছোট ভাই প্রেম চৌধুরী।এর থেকে লজ্জার আর কিছু হয়?কিন্তু এদের বোঝাবে কে?সব গুলোর মাথার ঘিলু ঘাটা।”
•
বিকেলের দিকটা কেমন যেন ঝিম ধরা।শীতের সূর্যের আলোও যেন অলস হয়ে পড়েছে।চৌধুরী বাড়ির উঠোনে কিছু কাজ চলছে।আতিয়া বেগম বসে আছেন দোলনায়।জয়া, সুহা, নিশা আরও অনেক মহিলারা পাশে বসে আলাপ করছে বিয়ের সাজসজ্জা নিয়ে।আর উপরে,কায়নাতকে যে ঘর দেয়া হয়েছে সেই ঘরের বারান্দায় নিঃশব্দে বসে আছে মেয়েটা।মাথার ঘোমটা নামিয়ে দিয়েছে,সূর্যের আলোয় মুখে পড়ছে একফালি উষ্ণতা।কিছুক্ষণ পর নিধি এসে বলল,
“তুমি সারাক্ষণ জানালার ধারে বসে থাকো কেন? নিচে আসো না কেন?”
কায়নাত হালকা হেসে বলল,
“বাড়িটা খুব বড়,মানুষও অনেক।আমি তো নতুন,কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না।”
“ভয় পাও?”
“ভয় না,অস্বস্তি।”
নিধি মেয়েটার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।অদ্ভুত শান্ত একটা মেয়ে,কিন্তু চোখের গভীরে একরাশ চাপা দুঃখ।সে বলল,
“চলো,বাইরে একটু হাঁটি।উঠোনে সবাই আছে।”
“তুমি যাও,আমি আসছি একটু পর।”
নিধি কিছু না বলে চলে গেলো।কায়নাত চুপচাপ নিচের দিকে তাকালো।বাগানের পথে চারজন ছেলে হাঁটছে।অর্ণ,স্বার্থ,শেহের আর মেহরাব।ওদের হাসির শব্দ উঠোন পর্যন্ত ভেসে আসছে।অর্ণ হাত পকেটে ঢুকিয়ে গম্ভীর মুখে হাঁটছে,অন্য তিনজন হাসতে হাসতে কথা বলছে।
শেহের বলল,
“তোর ভাই প্রেমকে না আমি একদিন পিটাবো! হসপিটালেও আমার নাম ধরে চ্যাঁচায়!শালা কাল রাতে যা তা কাণ্ড করেছে।”
স্বার্থ বলল,
“ওরে পিটাইতে গেলে প্রথমে তোকে ধরবে প্রেমা আপা নিজে!”
মেহরাব চুপচাপ শুনছে,হঠাৎ বলল,
“তোদের মুখ বন্ধ করতে একটা কাজ করা দরকার। তোরা দুইজন বিয়ে কর,তারপর প্রেমাকে একা ছেড়ে দে।”
“ভালো কথা,প্রেমা কই?ওরে তো সকাল থেকে দেখছি না।”
“বড় দাদিকে আনতে গেছে প্রেম আর আদাল।”
অর্ণ থেমে গেলো কিছুটা দূরে,তাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু গলায় বলল,
“বাচ্চাদের মতো আচরণ করতে লজ্জা করে না তোদের?”
স্বার্থ গম্ভীর মুখ করে বলল,
“তুই প্যাঁচা বলে আমাদেরও প্যাঁচা সেজে বসে থাকতে হবে?”
অর্ণ কোনো জবাব না দিয়ে হাঁটতে লাগল সামনে।তার চোখের দৃষ্টি একবার উঠে গিয়ে থেমে গেলো উপরের এক কোণার বারান্দায়।সেখানেই এক সপ্তদশী ভেজা চুল মেলে বসে ছিল।অদ্ভুত নীরব,অচেনা অথচ যেন কোথাও গভীর পরিচিত একটা অনুভূতি সেই দৃষ্টিতে।গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরেছে বোধহয়।লম্বা চুল গুলো মেঝেতে ছড়িয়ে আছে নিজ মনে।
অর্ণ হালকা ভ্রু কুঁচকালো,তারপর আবার চোখ ফিরিয়ে নিল।মেয়েটার ঝাপসা মুখখানা কেমন পরিচিত মনে হলো।কোথাও কী দেখেছে সে?
বাগান থেকে আতিয়া বেগম চোখ উঁচিয়ে কায়নাতের দিকে তাকালেন।গলা ছেড়ে বললেন,
“এই বুড়ি,নিচে আয়?উপরে একা একা কী করছিস?”
কায়নাত বারান্দা থেকে নামার আগে মাথায় আঁচলটা টেনে নিল।আতিয়া বেগমের ডাক এড়ানোর উপায় নেই,তাই ধীরে ধীরে পা ফেলল ঘরের বাইরে সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে।প্রতিটা ধাপ নামার সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতরটা কেমন কেঁপে উঠছে একটা অচেনা অস্বস্তিতে।
ড্রয়িংরুমের সামনে এসে থামল সে।বাইরে থেকে পুরুষ কণ্ঠে কথোপকথনের শব্দ ভেসে আসছে।একটু দ্বিধায় দাঁড়িয়ে ছিল,ঠিক তখনই সামনেই দাঁড়ানো একজন মানুষ ঘুরে দাঁড়াল।
অর্ণ চৌধুরী দু’হাত পকেটে রেখে দাঁড়িয়ে ছিল সদর দরজার পাশে।সামনের দিক থেকে আলো এসে পড়েছে মুখে,তার গম্ভীর চোখ দুটো যেন হঠাৎ স্থির হয়ে গেলো।লোকটা সামনে দাঁড়াতেই তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন অদ্ভুতভাবে ধক করে উঠল।
মাথায় নরম কাপড়,মুখে অল্প আলো পড়ছে, চোখ নিচু,পায়ের শব্দও প্রায় শোনা যায় না।ওর দৃষ্টি একবারও উপরে ওঠেনি।অর্ণর চোখের দিকে তাকানোর সাহস যেন তার নেই।
কায়নাত হাতের আঙুল মুঠো করে শাড়ির আঁচলের প্রান্ত শক্ত করে ধরল।মুহূর্তেই পাশ কেটে হাঁটতে শুরু করল।চলে যাওয়ার সময় একফোঁটা চুল নেমে এলো কপালের ওপর,আলোয় ঝলকে উঠল সেটুকু।
অর্ণর কপালে গভীর ভাঁজ পড়ল।চোখের পলক না ফেলেই তাকিয়ে রইল সে।
এই মুখটা,এই দৃষ্টি, এই হাঁটার ভঙ্গি সব যেন কোথাও দেখা!কোথায়? কবে?
কায়নাত সদর দরজা পেরিয়ে একবার পিছু ঘুরে দাঁড়াল।ঘাড় ঘুরিয়ে অর্ণর দিকে তাকাতেই চোখে চোখ পড়ল দুজনের।মেয়েটা ভয়ে এবার এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না।তীক্ষ্ণ,ধারাল সেই সৃষ্টি দিয়েই যেন লোকটা বুকের ভেতর ছুড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছিল,শুধু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃষ্টি মিলিত হওয়ায়।
•
সন্ধ্যার আযান দিয়েছে বেশ খানিকক্ষণ আগে।সবাই নামাজ শেষে জড়ো হয়েছে ড্রয়িংরুমে।কায়নাতও ব্যতিক্রম নয়।সাথে আছে বাড়ির বড় দুই ছেলে।নাজনীন এবং হাসান।বাড়ির মুরব্বিরা নেই এখানে।নিধি কায়নাতকে নিয়ে রান্না ঘরে এসেছে বড় ভাইদের জন্য চা বানাতে।কায়নাত আড়চোখে ড্রয়িংরুমে সবাইকে একবার দেখে নিধিকে বলল,
“আচ্ছা আপু,কার বিয়ে হচ্ছে?”
নিধি কাজে হাত রেখে মুচকি হেসে বলল,
“আমার ভাইয়ার।”
“তোমার ভাইও আছে?”
“আমরা ৫ ভাই-বোন।আমার আগে আরও দুজন বড় ভাই আছে,আর আমার পরে দুটো বোন।সুহা আর মাহিকে দেখেছো?ওরা আমার ছোট।বলতে পারো এই বাড়ির বড় মেয়ে আমি।”
“ওমাহ,তাহলে কাল রাতে যে আপু ছিল,ওই আপুটা কে?”
“ওর নাম নিশা।ও হচ্ছে মেজো চাচার মেয়ে।”
“ওহ আচ্ছা।”
নিধি শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে একবার কায়নাতের ভাবুক বদনে চোখ বুলিয়ে বলল,
“একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”
“করো।”
“তুমি তো এই বাড়ি এর আগেও এসেছিলে তাই না?”
কায়নাত মাথা নাড়ায়।
“তখন তো আমি খুব ছোট।কিছু মনে নেই।”
“কিছুই মনে নেই?”
কায়নাত মাথা নত করল উত্তর না দিয়ে।নিধির কপালে গাঢ় ভাঁজ পড়ল।সে বুঝতে পারছে না কায়নাতের মনোভাব।চা হয়ে গেলে দুজন রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো।তখন অর্ণও এসে হাজির হয়েছে সেখানে।সোফায় বসতে না বসতেই হাসান বলল,
“আমাদের বংশেরই বোধহয় দোষ আছে।সব ছেলেরাই বুড়ো হওয়ার পর বিয়ে করে।নাজনীনের তো একটা ব্যবস্থা হয়েই গেলো,এখন প্রেমের একটা ব্যবস্থা কর অর্ণ।”
প্রেম নাক কুঁচকে বলল,
“ভাইয়া বিয়ে না করলে আমি করব কী করে?কত করে বললাম,ভাইয়া বিয়েটা করো নাহলে আমি বুড়ো হয়ে গেলে কোনো শ্বশুরের মেয়েকে আমি পাব না।”
অর্ণ ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ফ্লোরের দিকে তাকালো।হাসান আড়চোখে অর্ণর গম্ভীর মুখ দেখে নাজনীনের দিকে তাকালো।নিধি সবাইকে চা এনে দেয়ার পর সবাই চুপ করে গেলো।
কায়নাত নিধির পাশে বসে নিঃশব্দে কাপের ভেতর চায়ের রঙ মিলিয়ে যেতে দেখছে।কাপ থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছে, সেই ধোঁয়ার আড়ালেই যেন লুকিয়ে আছে কত অজানা কথা, কত অচেনা অনুভূতি।ড্রয়িংরুমে সবাই গল্পে মেতে আছে, কিন্তু তার মন অন্যখানে, অদ্ভুত এক শূন্যতা বুকের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অর্ণ সোফায় বসে আছে গম্ভীর মুখে।ফোনটা হাতে নিলেও তাতে তার মন নেই সেখানে।নিধি হাসানকে কিছু একটা বুঝিয়ে বলছে, কায়নাত মাথা নিচু করে কাপের দিকে তাকিয়ে।
স্বার্থ ও শেহের তখনও হাসাহাসি করছে।শেহের মজা করে বলল,
“অর্ণ,তোর এই গম্ভীর ভাবটা বিয়ের দিনও থাকবে? কনে দেখেও যদি মুখটা প্যাঁচার মতো করে রাখিস তাহলে তো ইমেজ শেষ!”
প্রেম হেসে বলে উঠল,
“কনে কাঁদবে! কারণ এ গম্ভীর চেহারা দেখে তো কেউ ভাববে আদালতে বিচারক এসে বিয়ে পড়াচ্ছে!”
সবাই হেসে উঠল,কেবল অর্ণর মুখে হাসি এলো না।সে শান্তভাবে চায়ের কাপ তুলে নিয়ে এক চুমুক খেল।তারপর নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল।
আতিয়া বেগম তখন পাশের ঘর থেকে বললেন,
“অর্ণ, এই আসবি একটু? কথাটা শুনে যা।”
অর্ণ উত্তর না দিয়েই সেই ঘরের দিকে গেলো।অর্ণ প্রস্থান করার পর স্বার্থ কায়নাতের দিকে তাকিয়ে নিধিকে বলল,
“ওকে তো চিনতে পারছি না।ও কে?”
নিধি বলল,
“ছোট চাচির বড় মেয়ে,কায়নাত সুবাহ।”
“ওহ।”
অর্ণ নিচতলায় বড় চাচার ঘরে গিয়ে দেখল সেখানে বেহরুজ বেগম ও মাশফিক চৌধুরী গম্ভীর মুখে বসে আছেন।আজগর চৌধুরী থমথমে মুখে কাঠের চেয়ারে গম্ভীর হয়ে বসে।অর্ণ নিজেও গাম্ভীর্য বজায় রেখে ঘরে প্রবেশ করল।আতিয়া বেগম বললেন বিছানায় বসতে।অর্ণ চুপচাপ বসল সেখানে।
আজগর চৌধুরী অর্ণর দিকে একবার তাকিয়ে বললেন,
“তুমি গত ৭ বছর ধরে আমার সাথে কথা বলো না এটা ঠিক আছে,তাই বলে আজও চুপ করে থাকবে?সত্যি আর কতদিন চাপা থাকবে?”
অর্ণর চোয়াল শক্ত হলো।বেহরুজ বেগম দাঁত চাপলেন ছেলের নীরবতা দেখে।মাশফিক চৌধুরী বউকে থামাতে গিয়েও থামাতে পারলেন না।বেহরুজ বেগম বললেন,
“জারার সাথে বিয়ে ঠিক করার সময় কেন সব কিছু আমায় খুলে বলোনি?বিয়ে কী তোমার কাছে ছেলে খেলা মনে হয়?”
অর্ণ লম্বা শ্বাস টেনে ডান হাত দিয়ে ঘাড় চুলকে বলল,
“অতীত শুধু অতীতই।ওসব মনে রেখেই বা লাভ কী?”
আতিয়া বেগম আশ্চর্য হয়ে বললেন,
“বিয়ে তো অতীত হতে পারে না ভাই।”
(২k রিয়াক্ট পূরণ করার চেষ্টা করবেন।আমার লিখতে কষ্ট হয় না?পরের পর্ব গুলো পেতে পেইজ ফলো দিয়ে রাখুন।😾💔
যাইহোক,আমি অনেকদিন ধরে কারোর কমেন্টের রিপ্লাই দিতে পারছি না।ব্যস্ততার জন্য সময় হয় না,তবে এখন থেকে ট্রাই করব পাপীর দল।ভালো আছেন সবাই?)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪