প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
১১.
ভোরের আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়তেই শেহের বের হলো সবাইকে নিয়ে।দুষ্টু আদি অর্ণর কোলে উঠেছে জোর করে।অর্ণ নিতে চায়নি,সে অসুস্থতার বাহানা দিয়ে মামুর মন গলিয়েছে।আদি মিটিমিটি হাসছে মামুদের জ্বালাতে পেরে।ওরা গ্রামের কাঁচা সরু রাস্তা ধরে হাঁটছিল।আদির মিটিমিটি হাসির শব্দ শুনতেই অর্ণ কপাল কুঁচকে আদির দিকে ফিরল।আদি মামুর চাহনি দেখে বলল,
“তুমি এমন করো তাকাচ্ছ কেন?আমি কী এখন হাসতেও পারব না?”
অর্ণ বলল,
“তুমি তো এমনি এমনি হাসো না।কী বাঁদরামি করার ইচ্ছে হয়েছে আবার?”
“মামু,তোমার বউয়ের সাথে কাল আমি ঝগড়া করেছি জানো?”
“কেন?”
“ভাবি শুধু শুধু আমার পেছনে লেগে থাকে।”
প্রেম বিরক্ত হয়ে বলল,
“ভাবি নয় মামি।তোর তো দেখি তোর মামির মতোই মাথার জয়েন্ট ছেড়া।”
“তুমি বেশি জানো?সে আমার মামুর বউ হলে আমার মামি হয় কী করে?”
শেহের অর্ণর কোল থেকে আদিকে নামিয়ে দিয়ে হাত ধরে সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“দুষ্টুমি বাদ দে।সে তোর মামি হয় ভাবি নয়।”
আদি মুখ বাঁকিয়ে স্বার্থর দিকে তাকিয়ে দেখল স্বার্থ সিগারেট খাচ্ছে।ওরা একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসল সবাই।স্বার্থ সিগারেট খাচ্ছে দেখে আদি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে ছিল।স্বার্থ ভ্রু-কুঁচকে বলল,
“খাবি নাকি?”
আদি ঘনঘন মাথা নাড়ায়।শেহের ধমক দিয়ে বলে,
“তুই কী ভালো হবি স্বার্থ?”
স্বার্থ শেহেরকে পাত্তা না দিয়ে সিগারেট দূরে ফেলে দিলো।আদি দৌঁড়ে গিয়ে সিগারেট তুলে নিতেই আয়মান ছুটে গিয়ে হাত থেকে সিগারেটের টুকরো’টা ফেলে দিয়ে ধমকে উঠল।
“থাপ্পড় চিনিস?”
আদি ঠোঁট উল্টে বলল,
“বড় মামু তো খায়।আমি একটু খাই?”
অর্ণ বিব্রত হয়ে এগিয়ে এলো।হাঁটু মুড়ে আদির সামনে বসে বলল,
“আমি খাই বলে তোমারও খেতে হবে?”
আদি ভাব নিয়ে দাঁড়ায়।ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
“তোমার বউ বলেছে আমাকে নাকি মিনি অর্ণ চৌধুরীর মতো লাগে।এখন তোমার মতো না হলে মিনি হলাম কী করে?”
“কে বলেছে?”
“তোমার পুতুল বউ।”
“আমার পুতুল বউ কে?”
“ওইযে যার মাথায় সমস্যা।”
অর্ণ আশ্চর্য হয়ে বলল,
“কার মাথায় সমস্যা?”
“তোমার পুতুল বউয়ের।”
“আমার পুতুল বউ কে?”
“যার মাথায় সমস্যা।”
অর্ণ বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল।বিচ্ছুটা প্রচুণ্ড বেশি জ্বালায়।আয়মান আদির মাথায় হালকা চাপড় মেরে বলল,
“তুই আর মানুষ হলি না আদি।মামিকে কেউ এসব বলে?সে তোর বড় মামি হয়।”
আদি বলল,
“সে নিজেই তো বলে,তার নাকি মাথায় সমস্যা।”
প্রেম পেছন থেকে গলা চওড়া করে বলল,
“মাথায় সমস্যা আছে এটা সত্যি কথা।ভাবির জন্য এখন অব্দি চারটে চড় খাওয়া শেষ আমার।”
অর্ণ চোখ গরম করে তাকাল।প্রেম মুখ বাঁকিয়ে দৃষ্টি ফেরাল।
•
জয়াকে ঘিরে বসে আছে নিশা,নিধি,নুসরাত,কিছু আত্মীয় ভাইয়েদের বউ আর কায়নাত।জয়া সকাল সকাল বিরক্ত হলো সবাইকে দেখে।সে মুখ কালো করে বলল,
“কী সমস্যা?সবাই আমার দিকে অমন করে তাকিয়ে আছো কেন?”
নিশা বলল,
“কাল রাতে কী হলো?আমাদেরও বলো?”
নিধি নাক ছিঁটকে উঠে দাঁড়াল।আর যাইহোক,আপন ভাইয়ের বউ জয়া।সে লজ্জায় সেখানে থেকে প্রস্থান করলে কায়নাত আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করে,
“কী হয়েছে কাল?”
জয়া মুখ ভার করে বলল,
“কী হবে?”
একজন সম্পর্কে ভাবি হয়।সে ঠাট্টা করে বলল,
“নাটক কম করো ননদী।সোহাগ রাতে সোহাগ পাওনি?”
জয়া মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“সোহাগের সাগরে ভেসেছি ভাবি।জামাই যে এত সোহাগ করতে পারে,সেটা আমার আগে জানা ছিল না।”
ভাবি বললেন,
“সে কথা তো আমরাও জানি।হয়েছে কী সেটা বলবে না?”
“এসব বলা যায়?”
“কেন যাবে না?”
জয়া বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল।কেউ তো পিছু ছাড়ছে না।এখন কী নিজের ইজ্জত খেয়ে বলতে হবে বাসর রাতে জামাই কান ধরিয়ে ওঠবোস করিয়েছে?
কায়নাত ভাবিকে থামিয়ে দিলো।সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“অনেক হয়েছে ভাবি।ওদের পার্সোনাল ব্যাপার ওদের মধ্যেই থাকুক।আপনারা সবাই নিচে খেতে যান।আমি ওকে নিয়ে আসছি!”
সত্যি’ই এবার সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।নিশা যাওয়ার আগে ঠোঁট টিপে ফিসফিস করে বলল,
“এখন ছাড়ছি বলে ভেবো না ছেড়ে দিচ্ছি।তোমার সাথে পরে দেখা হচ্ছে।”
সবাই ঘর থেকে বের হলে জয়া পা মেলে দিয়ে বলে,
“আমার পা এত ব্যথা!বদমাইশ লোকটা কাল রাতে কী করেছে জানিস?”
কায়নাত মুখ কুঁচকে ফেলল।
“তোর কী মাথায় সমস্যা?স্বামী-স্ত্রীর এসব কথা কাউকে বলতে হয় না।”
জয়া দাঁত চেপে বলল,
“কীসের স্বামী-স্ত্রী?উনি কাল রাতে আমাকে দিয়ে কান ধরে ওঠবোস করিয়েছে।”
কায়নাত বিস্মিত চোখে তাকায়।বাসর রাতে জামাই নতুন বউকে কান ধরিয়ে ওঠবোস করিয়েছে?সে বিস্মিত কণ্ঠে শুধোয়,
“সত্যি?বাসর রাতে কেউ এমন করে?”
“নাজনীন ভাই তো করেছেন।”
“এক থাপ্পড় মারব।ভাই কিরে?জামাই হয় জামাই।দাদির ভাষায় খাটি বাংলায় লাং হয় লাং।”
হঠাৎ দরজার সামনে কারোর গলার কণ্ঠস্বর শুনে ওরা দু’জন সেদিকে ফিরে তাকায়।নাজনীন এসে দরজার সামনে কপাল কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে।কায়নাত হকচকিয়ে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,
“তাড়াতাড়ি নিচে আয়।খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
কায়নাত চলে যেতেই নাজনীন গম্ভীর পায়ে ঘরে প্রবেশ করে দরজা চাপিয়ে দিলো।তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জয়াকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে বিছানায় গিয়ে বসল।মেয়েটা সকালে গোসল করে লাল-সোনালি রঙের একটা শাড়ি পরেছে।নাজনীনের জানা মতে এই শাড়ি রেখা বেগমের বৌভাতের শাড়ি।মা নিশ্চই বউমাকে দিয়েছেন।
জয়া দরজার দিকে এগিয়ে গেলে নাজনীন বলে ওঠে,
“ওই দাঁড়া!”
জয়া পিছু ফিরে দাঁত চেপে বলে,
“ভারী নির্লজ্জ লোক আপনি।কাল না এত লেকচার দিলেন জামাই নিয়ে?বলি বিয়ে করা বউকে কে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে?লজ্জা করে না আপনার?”
“তাহলে কী বলে ডাকব?”
“তুমি বলে ডাকবেন।”
“কাছে আয় তো!”
“কোন দুঃখে?”
নাজনীন চোখ রাঙিয়ে তাকাল।জয়া রাগ নিয়ে এগিয়ে এলো কাছে।নাজনীন পাঞ্জাবির হাতা গুটাতে গুটাতে বলল,
“আমার আম্মা কখনো বাবার সাথে গলা তুলে কথা বলেননি।দাদিও তাই।তাহলে তুই এমন চুন্নির মতো হয়েছিস কেন?আমার সাথে এভাবে গলা তুলে কথা বলার সাহস হয় কী করে?”
জয়া চোখ ছোট ছোট করে নাজনীনের কাণ্ড দেখে আগে।লোকটা পাঞ্জাবির হাতা গুটাচ্ছে।সে পরিস্থিতি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরে শাড়ির কুঁচি ভালো করে চেপে ধরে।নাজনীন হঠাৎ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালে জয়া দরজার দিকে দৌঁড়ে গিয়ে চিৎকার করে বলে,
“ও মা,নাজনীন ভাই আমাকে মেরে ফেলল।”
বলতে বলতে ছুটে গেল বাইরে।নাজনীন হাতে জুতা নিয়ে ছুটল তার পিছু।সিঁড়ি দিয়ে শব্দহীন সোনালি রঙা নূপুর পায়ে দৌঁড়ে নামছে নববধূ।আর পিছু ছুটছে তার’ই স্বামী।ডাইনিং টেবিল ও নিচে বাড়ি ভর্তি মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন চলছিল।সাতসকালে নতুন জামাই-বউয়ের এমন কাণ্ড দেখে সবাই হতভম্ব।রেখা বেগম বাকরুদ্ধ ছেলেকে এভাবে ছুটতে দেখে।জয়ার লম্বা আঁচল মাটি ছুঁয়েছে বহুক্ষণ আগে।তার ভেজা চুল চোখ-মুখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই মুহূর্তে।সে হাঁপাতে হাঁপাতে শাশুড়ির পেছনে গিয়েই লুকালো।নালিশ করে বলল,
“দেখো বড় আম্মা দেখো।তোমার ছেলে আমায় এই সাতসকালে মারার জন্য কিভাবে ছুটছে।”
নাজনীন দাঁত চেপে বলল,
“তুমি জানো আম্মা ও কী করেছে?”
লতা বেগম বললেন,
“কী করেছে?”
“আপনার মেয়ে আমার মুখে মুখে কথা বলে।তুই-তুকারিও করে।”
জয়া হতবাক নাজনীনের কথায়।লতা বেগম মেয়ের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালেন।রেখা বেগম জয়ার কান চেপে ধরে বললেন,
“এত বড় সাহস?জামাইকে তুই-তুকারি করিস?আবার আমার কাছে নালিশও দেয়া হচ্ছে?”
নাজনীন এগিয়ে এসে মায়ের থেকে ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে নিজেই ওর কান চেপে ধরল।কায়নাত দূর থেকে হতবাক হয়ে ভাসুরের কাণ্ড দেখছে।এমন করে অর্ণ যদি সবার সামনে তার কান চেপে ধরে তাহলে তার ইজ্জত থাকবে?সবাই লজ্জা না দিবে তাকে?শুকনো ঢোক গিলল মেয়েটা।সে নিজেও তো অর্ণর সাথে গলা উঁচু করে কথা বলে।
রেখা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে জয়াকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বললেন,
“হয়েছে থাম তোরা।বিয়ে হতে না হতেই ঝগড়া শুরু করেছিস।ও নাহয় ছোট মানুষ তাই বলে তুই কী বাচ্চা?”
নাজনীন বলল,
“বউ বানিয়ে ঘরে তুলেছি বেয়াদবি করার জন্য?আরেকবার এমন করলে তুলে এক আছাড় মারব।”
জয়া রেগে বলল,
“আমি মনে হয় বসে বসে কাহিনি দেখব?আমার হাত পা নেই?আমিও সুযোগ বুঝে দৌঁড়ে পালাব।”
উপস্থিত সবাই হেসে ফেলল জয়ার কথা শুনে।পরিস্থিতি শান্ত হলে সবাই খেতে বসে।খাওয়া দাওয়া শেষে রাহেলা বানু বেহরুজ বেগমকে বাগানে ডাকলেন।বাড়ির সব পুরুষ মানুষ বট তলায় গেছেন অনুষ্ঠানের কাজে।দুপুরে গ্রামের মানুষদের সেখানে খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়েছে।
বেহরুজ বেগম বাগানে গিয়ে রাহেলা বানুর পাশে বসলেন।রাহেলা বানু গম্ভীর হয়ে বসে ছিলেন সেখানেই।বেহরুজ বেগম আসতেই তিনি বললেন,
“তোমার বড় মাইয়ার কী খবর?বিয়া টিয়া আর দিবা না?”
বেহরুজ বেগম বললেন,
“নুসরাত তো এখন আর ছোট নেই।ওর যদি কখনো মনে হয় জীবন সঙ্গী দরকার তাহলে আমরা ভেবে দেখব।”
“কিন্তু তোমার মাইয়ার হাভ-ভাব তো আমার ভালো ঠেকল না।”
“কেন?”
“অর্ণর ওই চশমা পরা বন্ধুর নাম কী?ওই পোলার লগে তোমার মাইয়ার কী চলে?”
বেহরুজ বেগম মুখ খানা গম্ভীর করে ফেললেন।শক্ত গলায় বললেন,
“ভাবনা-চিন্তা করে মন্তব্য করুন।শেহের অর্ণর বন্ধু হয়।ওরা ছোট থেকে নুসরাত আর নিশাকে বড় হতে দেখেছে।নিজেদের বোনের মতোই দেখে।”
“তুমি রাগো কেন?আদির কথা হুনো নাই?ওয় যে ওই পোলারে আব্বা কইয়া ডাকে।”
“আদি বাচ্চা মানুষ।দুষ্টুমি করে ডেকেছে।”
“পোলা মাইনষের নজর কিন্তু ভালো না বেহরুজ।একে তো তোমার ডিভোর্সি মাইয়া আবার যুবতী।পোলা মানুষ ভোগ…”
বেহরুজ বেগম থামিয়ে দিলেন তাকে।কিছুটা কড়া গলায় কণ্ঠ উঁচু করে বললেন,
“অনেক হয়েছে ফুপু।আপনি আমার মেয়ের সম্পর্কে তখন থেকে যা-তা বলে যাচ্ছেন।আর শেহেরকে আপনি কতটুকুই বা চেনেন?ছোট থেকে ওকে দেখে আসছি আমি।এমন ধরনের ছেলে সে নয়।”
রাহেলা বানু মাথা ঝাঁকালেন।পান চিবিয়ে বললেন,
“আমার কথার এত ভুল ধরো কেন?তোমার মাইয়া যুবতী নারী।তার ছোট পোলার লাইগা হয়তো বিয়া নিয়া ভাবে না কিন্তু বাপ মা হিসাবে তোমাগো ভাবা উচিত।”
বেহরুজ বেগম কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে নিঃশব্দে উঠে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন।ড্রয়িংরুমে শেহেরদের সাথে আদি হাসা-হাসি করছিল।তিনি সেই দৃশ্য দেখে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা ধরলেন।সবাই হয়তো দুয়েকদিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরে যাবেন।সন্ধ্যায় সব ব্যস্ততা শেষে আজগর চৌধুরী অর্ণ আর কায়নাতকে নিজের ঘরে ডেকেছেন।কায়নাত দাদার ঘরে গিয়ে দেখল শ্বশুর-শাশুড়ি,আর অর্ণ উপস্থিত সেখানে।কায়নাত মাথায় কাপড় টেনে ঘরে প্রবেশ করল।আতিয়া বেগম তাকে বসার জায়গা করে দিলেন অর্ণর সামনে।আজগর চৌধুরী নীরবতা ছিন্ন করে বললেন,
“অনেক তো হলো,এবার ঘরের বউ ঘরে তুলে নেয়ার সময় হয়েছে।আমি চাইলেই তো কায়নাতকে এই বাড়িতে রেখে দিতে পারব না।”
মাশফিক চৌধুরী মাথা নাড়লেন।বললেন,
“তা তো অবশ্যই।”
তিনি কায়নাতের দিকে ফিরে তাকালেন।ঠোঁটে মিষ্টি হাসি টেনে মৃদু স্বরে বললেন,
“শুনেছি তুমি নাকি এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিবে?”
কায়নাত মাথা নাড়ায়।তিনি বলেন,
“বেশ ভালো।আমি তোমার কলেজে গিয়ে কাল কথা বলে আসব।টেস্ট পরীক্ষা তো শেষ হয়েই গেছে তাই না?”
“জি।”
“আমি চাচ্ছি তোমাকে আমাদের সাথে ঢাকায় নিয়ে যাব।সেখানে নাহয় টিচার রেখে দিব তোমাকে পড়ানোর জন্য।পরীক্ষার সময় এসে শুধু এখান থেকে পরীক্ষা’টা দিয়ে যাবে।”
কায়নাত চোখ তুলে শ্বশুরের দিকে তাকায়।সে শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে আড়চোখে অর্ণর গম্ভীর আনন দেখে বলে,
“ঢাকায় যাওয়া কি খুব বেশি দরকার?”
“ঢাকায় তোমার আসল বাড়ি মা।নিজের বাড়িতে থাকবে নাতো কোথায় থাকবে?”
“এখানে থাকা যাবে না?”
অর্ণ ধমক দিয়ে বলল,
“ঢাকায় যেতে আপনার সমস্যা কী?”
মেয়েটা চমকে তাকায়।বেহরুজ বেগম ছেলেকে ধমক দিয়ে বলেন,
“তুমি আবার ওকে বকছো কেন?আমরা কথা বলছি না?”
“কী কথা বলছ আম্মু?এই বেয়াদব মহিলা সব সময় বেশি কথা বলে দেখেছ তুমি?”
কায়নাত বিরক্ত হলো।এদের রক্তে বোধহয় সমস্যা আছে।সব গুলো ভাই’ই বজ্জাত।একজন বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে বউকে জুতা নিয়ে দৌঁড়ানি দেয়,আরেকজন শুধু ধমকায়।
আজগর চৌধুরী বললেন,
“মাশফিক যা বলছে সেটাই হোক।কায়নাত তাহলে তোমাদের সাথে ঢাকা যাচ্ছে।”
অর্ণ উঠে দাঁড়াল।কায়নাতকে দেখে বলল,
“যাবে ভালো কথা তাই বলে সেখানে গিয়ে বাঁদরামি যেন না করে।”
সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।কায়নাত মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করল কিছুক্ষণ।সে নিজেও বের হলো ঘর থেকে।রাত যখন ১১টা ছাড়াল তখন কায়নাত শাশুড়িদের সাথে হালকা কাজ শেষ করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এলো।নিজের ঘরের দিকে যাওয়ার আগে দেখল অর্ণর ঘরের দরজা হালকা খোলা।সে ঠোঁট টিপে এগিয়ে গিয়ে উকি মারল ভেতরে।অর্ণ ঘরে পায়চারী করতে করতে ফোনে কথা বলছিল।সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লোকটাকে পর্যবেক্ষণ করল।অর্ণ তার থেকেও বেশি ফরসা।কায়নাতের কাছে মনে হলো দরকারের থেকে একটু বেশি’ই লম্বা অর্ণ।সে কাছে গেলে অর্ণর মুখ দেখতে পারে না।ঘাড় উঁচু করে তারপর চোখে চোখ রাখতে হয়।
কায়নাত দরজার ফাঁক দিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল অর্ণর দিকে।লোকটা কপাল কুঁচকে ফোনে কিছু বোঝাচ্ছে—মাঝে মাঝে হাঁটছে,কখনো থেমে দু’একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলছে।
মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে ভাবল,
“লোকটার মেজাজ দেখি চব্বিশ ঘণ্টাই তেঁতো! এমন সিরিয়াস হয়ে কেন থাকে?”
ঠিক সেই মুহূর্তেই অর্ণ ফোন কানে রেখেই দরজার দিকে মুখ ঘোরাল।কায়নাত চমকে উঠল।
তার শরীরের সব হাড় যেন একসাথে কাঁপল।
অর্ণর ঠান্ডা,তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দরজার ফাঁক দিয়ে সোজা তার চোখে এসে বিঁধল।কায়নাত শ্বাস আঁটকে রেখেছে।হঠাৎ দরজা ধীরে ধীরে আরও খুলে গেল।অর্ণ ভেতর থেকেই ঠেলে দিলো দরজা।অর্ণ কিছুটা কণ্ঠশব্দ নিচু,গম্ভীর,ভরাট গলায় বলল,
“কী করছেন আপনি?”
কায়নাত লাফিয়ে পেছনে সরে গিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
“কিছু না…মানে…দেখছিলাম…মানে—কিছুই না!”
অর্ণ ফোনটা কেটে পকেটে ঢুকিয়ে রাখল।দরজায় হ্যালান দিয়ে হাত ভাজ করে দাঁড়াল।
“আপনার আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখার দরকারটা কী?”
কায়নাত মুখ কালো করে বলল।
“দরকার নেই।আমি তো দেখিনি আপনাকে।”
“তাহলে কী?দরজা দিয়ে উকি মারছিলেন কেন?”
“আমি তো উকি মারিনি।দরজা বাতাসে খুলে গেছে।”
কথা বলেই অনুতাপে ঠোঁট কামড়াল।
উফ! মুখটা কেন সব সময় উল্টো-পাল্টা কথা বলে?
অর্ণ ধীরে ধীরে দু’পা এগিয়ে এলো।
কায়নাত শুকনো ঢোক গিলল।সামনের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তার।লোকটার ছায়া বড় বড় হয়ে পড়ছে তার মুখে।
“আপনি অনেক বেফাঁস কথা-বার্তা বলেন ম্যাডাম।”
(চলে এসেছি।কয়েকদিন গল্প দিতে পারিনি গ্রামে গিয়েছিলাম বলে।বিকেলে এসে এইটুকু লিখেছি মাত্র।সবাই একটু বেশি বেশি কমেন্ট করবেন।পেইজের রিচ ডাউন হয়ে গেছে।রেসপন্স করুন সবাই।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১