Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২


প্রিয়তার_পূর্ণতা

Nadia_Afrin

বিয়ের পরদিনই নতুন বউয়ের দশভরি গহনা গায়েব!
বাতাসের বেগে যেন খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে।অথচ বউয়ের ঘুম ভাঙার নাম নেই।মোষের মতো ঘুমোচ্ছে সে।ঘর ভর্তি মানুষজনের ফিসফিসানিকে উপেক্ষা করে ঘরে প্রবেশ করে প্রলয়।
প্রলয় হলো সেই লোকটি।প্রিয়তার স্বামী।এ বাড়ির বড়ো ছেলে।
চারপাশে চোখ বুলিয়ে ধীর স্বরে বলে,”প্রিয়তা?এইযে প্রিয়তা শুনছেন?”

কোনো উত্তর আসেনা।ঘুমে তখনও বিভোর সে।
প্রলয় এবার তার মাথায় হাত দিয়ে ডাকে।
প্রিয়তার ঘুম ভাঙে।ধীরে ধীরে উঠে বসে সে।মাথাটা ঝিম ধরে আছে।
মৃদু কান্নার রোল শোনা যাচ্ছে।পাশ ফিরে দেখছেন শাশুড়িমা কপাল চাপড়ে কাঁদছেন।
প্রিয়তাকে তাকাতে দেখে সে একপ্রকার ঝাপিয়ে পড়ে তার ওপর।বিলাপ করতে করতে বলে,”সব লুট হয়ে গেছে গো বউমা।তোমার বিয়ের সব গহনা লুট হয়ে গেছে।জানালা ভেঙে চোর ঢুকে সব নিয়ে গেছে।শুধু তোমার গুলো নয়,আমার আলমারিতে থাকা গলার চেইন সহ হাতের আংটি নিয়ে গেছে।
এ আমাদের কী সর্বনাশ হলো?
সোনা খোয়া যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়।নতুন বউ ঘরে আসতে না আসতেই এ কী অঘটন ঘটে গেল।”

মনে হলো ঘুরেফিরে দোষটা আমার কাধে আসছে।
অথচ গহনা গুলো আমার।তবুও চুপ রইছি আমি।আসলে কী বলবো বুঝতে পারছিনা।মাথার ঝিমোট ভাবে সব গুলিয়ে যাচ্ছে।

এক মহিলা প্রশ্ন করে,”তোমরা দুজন ঘরে ছিলে তাও কীভাবে চুরি হলো?বুঝতে পারোনি কিছু?”

“বুঝলে কী আর চুরি হতে দেই?
আমার শরীরটা রাতে বেশিই খারাপ করেছিল।ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়েছি।দোষটা আসলে আমারই।আমিই ম*রার ঘুম ঘুমাচ্ছিলাম।
বউটার দোষ নেই।বেচারা সারাদিনের ক্লান্তিতে গভীর ঘুমিয়েছিল।
আমারই সতর্ক হওয়া উচিৎ।বিয়ে বাড়ি।কতো মানুষজন।না জানি কে করেছে হাত সাফাইটা।পরিচিত কেউই করেছে।নিঃশব্দে জানালার ছিটকিরি কেটেছে।আলমারির চাবি খুঁজে বের করে আলমারি থেকে গয়না বের করেছে।
পরিচিত না হলে এতো কিছু করতে পারে?”

এক মহিলা ক্ষেপে গিয়ে বলল,”কী বলতে চাইছো তুমি?
কে চুরি করেছে?আমরা নাকি?খেয়ে কাজ নেই আমাদের?তোমার ধন-ধৌলত চুরি করার মতো রুচি আমাদের নেই।বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে এসে অপমান করা হচ্ছে?
থাকবোই না এ বাড়িতে।চলো সবাই।”

মা কান্নাভেজা কন্ঠে বলে,”হ‍্যা যাও যাও।আমার ক্ষতি হয়েছে আমি দুটো কথাও বলতে পারবোনা।”

মা কান্না শুরু করলেন।
এবার আমারো কান্না পেল।বিয়ের গহনা আমার।নানুর শেষ স্মৃতি।মা শুনলে কষ্ট পাবে।
হুহু করে কাঁদতে শুরু করেছি।
শাশুড়িমা দৌড়ে এসে আমার হাত চেপে ধরে বলল,”শান্ত হও মা।যা ক্ষতি হওয়ার দুজনেরই হয়েছে।আমি নিশ্চিত এই কাজ পরিচিত কারোর।
এজন্যই সবার গায়ে লাগছে আমার কথা।
তুমি কোনো চিন্তা করোনা বউমা।
তোমার গহনা আমি ফিরিয়ে আনবোই।আমার মেজোভাই পুলিশ।ছোট বোনের স্বামী আর্মি।সবাইকে খবর দিয়েছি আমি।ওরা বলেছে এক সপ্তাহের মধ্যে সব খুঁজে বের করে দেবে।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

আমি চোখের পানি মুছছি।
প্রলয়ের একজন ভাবি এলেন।সম্ভবত ফুফাতো ভাইয়ের বউ।
বললেন,”আচ্ছা আন্টি কালতো ওদের বাসর রাত ছিল।তোহ প্রিয়তা আপনার ঘরে কেন?”

মা মুখ বেজার করে বললেন,”আমার শরীর অসুস্থ ছিল এজন‍্য ওকে থাকতে বলেছি।ওদের বিয়ে যখন হয়েছে সারাকালই একসঙ্গে থাকবে।”

“হ‍‍্যা তবে ঐরাতটা স্পেশাল ছিল।”

“হ‍্যা তুমি এসেছো আরেক নাটক শোনাতে।মনে হয় ঐরাত ছাড়া যেন আর ওরা এক ঘরে থাকতে পারবেনা।আমরা বিয়ে হয়ে এসে তিনদিন শাশুড়ির পা টিপেছি শুধু।তিনদিন পর স্বামীর ঘরে দিয়েছিল আমাদের।
আর একটা রাত অসুস্থতার জন্য বউটাকে কাছে রেখেছি দেখে কতো কথা!”

উনি বললেন,”আপনি আগের বারও,,,,,,”

শাশুড়িমা ধমক দিয়ে বলল,”চুপ করো নিঝুম।তুমি বড্ড কথা বলো সব বিষয়ে।যাও কাজ করো গিয়ে।বউ মানুষ কাজের বাড়ি এসে কাজ না করে ঘুরে বেড়ায় শুধু।”

ভাবিটা মুখ গোমড়া করে চলে যায়।
প্রলয় আমায় দাঁড়াতে বলে।কিন্তু আমি বসেই আছি।
প্রলয় আমার হাত ধরে হুট করে।চমকে গিয়ে তাকাই।সে টানতে টানতে আমায় ঘরে নিয়ে যায় তার।বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ড্রয়ার থেকে কিছু একটা বের করতে করতে বলে,”বেশ হয়েছে।আপনার মতো অধিক মহান মেয়েদের জন্য এটাই ঠিক।”

কান্নাভেজা কন্ঠে বললাম,”আপনি কেন আমার সঙ্গে এমন করছেন?আমি কী করেছি?
আমার দোষটা কোথায়?”

লোকটা আমার দিকে বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে রয় কিছুপল।
একটা রুমাল হাতের মাঝে দিয়ে বলে,”নিন।চোখের পানি মুছে নিন।কাঁদলেই তো ফিরে পাবেন না গহনা।
আমায় একটু সময় দিন।আমি দেখছি কী করা যায়।
ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন।আপনার মুখটা ভীষণ ফুলো ফুলো লাগছে।”

উনি চলে যায়।আমি দু-দন্ড ঝিম ধরে বসে থেকে ওয়াশরুমে চলে যাই।সোজা গোসল সেরে বের হয়েছি।সুতি একটা থ্রিপিছ পড়েছি।একটু পর ভারী পোশাক পড়বো।আজ আমার বউভাত।
কিন্তু মনে কোনো আনন্দ নেই।বিয়েতেই খুশি নেই,আর তো বউভাত!

বিছানায় বসলাম।চোখ পড়ে পাশেই।একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স।হাতে নিতেই দেখলাম এটা উনার।মানে তার।আসলে স্বামী মানিনা তাকে।
প্রলয় সরকার পুরো নাম।
লোকটার বয়স আঠাশ।যখন শুনেছিলাম উনার এটা দ্বিতীয় বিয়ে,ভেবেছিলাম বয়স্ক কোনো লোক হবে।
কিন্তু বিয়ের সময় দেখলাম উনি ইয়াং।যাক একটা দিক তো ভালো হলো!অন্তত লোকসমাজে বুড়ো লোককে বিয়ে করেছি বলে ঠাট্টার পাত্র হতে হবেনা।
এই প্রলয় লোকটা ভীষণ কর্কশ।এসেছি থেকে আমার সঙ্গে ভালো ব‍্যবহার করেনি।কেমন যেন রহস‍্যজনক কথা বলে।আগা-মাথা কিচ্ছু বুঝিনা।

আপন মনে এসবই ভাবছিলাম,ঘরে এলেন তিনি।মানে উনি।প্রলয়!
হাতে খাবারের থালা। সাইডে থালা রেখে বললেন,”খেয়ে নিন।আমি একটু আসছি।”

সে আবারো চলে যায় ঘরের বাইরে।
আমি বসে আছি উদাস মুখে।খেতে ইচ্ছে করছেনা।বারবার গহনার কথা মনে হচ্ছে।মাকে কী জবাব দেব?
পছন্দের বালাটি কী আদৌ আর ফেরত পাবো?
চোরের হাত পড়লে জিনিস অক্ষত থাকে?
মৃত নানুর শেষ সম্বলটুকুও রাখতে পারলাম না?মা কতো ভরসা,বিশ্বাস করে তার মায়ের জিনিস গুলো আমানত হিসেবে দিয়েছিল আমায়।আমি ধরে রাখতে পারলাম না।
বাড়িতে নতুন বউ শুভকামনা হয়ে আসে।আমি এলাম অপয়া হয়ে।
এ দাগ কখনো মুছবে গা থেকে?

আনমনেই চোখ থেকে একফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে।
তখনই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে প্রলয়।
আমি একটু আড়াল হয়ে চোখের পানি মুছি।লুকায়িত কান্না সবার নজরে আসতে নেই।

উনি বললেন,”এখনো খাননি আপনি?কখন খাবেন?একটু পর প্রোগ্রাম শুরু হবে।”

আমি জবাব দিলাম না কোনো।
উনি একপ্রকার বিরক্ত হয়েই আমার সামনে বসলেন।
পরোটায় সবজি নিয়ে মুখের সামনে ধরলেন।
আমার ইতস্তত বোধ হলো।নিষেধ করলাম।
উনি ধমক দিয়ে বললেন,”নাটক করবেন না।আপনাকে নিয়ে বসে থেকে নাটক করার মতো সময় আমার নেই।তাই বলছি দ্রুতই খেয়ে নিন।
অন‍্যথায় আমি জোর করতে বাধ‍্য হবো।”

সকালের ঘটনায় এমনিতেই আমার মনে দাগ কেটে আছে,তারমাঝে এর এমন ব‍্যবহার!
হুহু করে কেঁদে উঠি আমি।
উনি তাতে কর্ণপাত না করে খাবার আবারো মুখের সামনে ধরেন।
কাঁদতে কাঁদতেই খেয়ে নেই।মনে অভিমান জমা হয়েছে।কিন্তু কার ওপর অভিমান করছি আমি?
উনাকে আমি আমার কেউ মনে করিনা।

খাবার শেষে সবে মাত্র পানি খাচ্ছি এমন সময় রিপা আসে ডাকতে।বলে,”তোমার কসমেটিকস সব দাও ভাবি।নিয়ে যাই।সাজাতে এসেছে তোমায়।আমি সব নিয়ে যাচ্ছি।তারপর তুমি এসো।

বললাম,”এ ঘরেই নিয়ে এসোনা।সব শাড়ি,মেকআপ তো এ ঘরেই আছে।”

ও প্রলয়ের দিকে একবার তাকিয়ে বলে,”উনারা আমাদের ঘরে বসেছে।আমরাও সাজবো।
সব নিয়ে চলো আমাদের ঘরে।দামি শাড়ি মেকআপ গুলো সবই দাও।আমরা আমাদের জিনিস দিয়েই সাজবো।”

প্রলয় হয়ত কিছু বলতে যাবে,তার আগেই আমি উঠে দাঁড়াই।লাগেজ থেকে সব বাহির করতে নেই।
আটকে দেয় প্রলয়।
বলে,”আপনারা যান।আমি দিয়ে আসবো।”

রিপা বলে,”দাওনা সব।আমি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।”

প্রলয় শোনেনা কোনো কথা।
আমায় চোখের ইশারায় যেতে বলে।রিপার মুখটা দেখে মনে হলো রেগে গেছে।রাগাটাই স্বাভাবিক!
সব বিষয়ে উনার এতো মাথা ঘামানোর কী দরকার?

চলে গেলাম আমি।
আমি পিছে।রিপা আগে ঘরে ঢুকলো।সঙ্গে সঙ্গে ননাস সুমা আপু বলে ওঠে,”এনেছিস সব?দুজনে ভাগাভাগি করে নেই চল।”

আমি যখনই ঘরে ঢুকেছি ওমনি সবার মুখ বন্ধ।
বুঝলাম না বিষয়টা।কী আনবে?কী ভাগ করবে?
প্রশ্নটা করেই ফেললাম,”কী ভাগাভাগি করার কথা বলছেন আপু?”

আপু আমতা আমতা করে বলে,”ঐ খাবার।ওকে খাবার আনতে বলেছিলাম।”

আমি ‘ও’ বলে বিছানায় গিয়ে বসলাম।
দুজন মেয়ে এগিয়ে এলো।আমায় সাজাবে তারা। সব কোথায় জানতে চাইলো।
এবার বেশ রাগ হলো আমার।
আমার জিনিস নিয়ে উনার এতো মাথা ব‍্যাথার কী আছে?

রিপাকে বললাম,”রিপা তুমি প্লিজ আর একবার ঐ ঘরে যাও।উনাকে গিয়ে বলো আমি চাইছি সব।নীল রঙের লাগেজে সব রাখা আছে।শাড়িও বের করে রেখেছি আমি।প্লিজ নিয়ে এসো।”

রিপা হনহন করতে করতে চলে যায়।
ঘরে গিয়ে দেখে প্রলয় সব গোছাচ্ছে।রিপাকে দেখে বলে,”এসেছিস?নেহ এগুলো নিয়ে যা।”

“তখন দিলেনা কেন?”

“সব গোছানো ছিলনা তাই।নিয়ে যা এখন।”

রিপার হাতে একটা শাড়ি ও নীল ব‍্যাগের কসমেটিকস দিয়ে দেয়।শাড়ি দেখে রিপা বলে,”একটা শাড়ি?”

“হ‍্যা।মানুষ একজন,শাড়ি চৌদ্দটা পড়বে?”

প্রলয় সামনের দিকে এগোতে নেয়।
পেছন থেকে রিপা বলে,”তোমার কী মনে হচ্ছেনা তুমি একটু বেশি বেশিই করছো ভাইয়া?”

প্রলয় কড়া গলায় বলে,”হ‍্যা করছি।সুতরাং সতর্ক হ।একই ঘটনা রিপিট করার চেষ্টা করিসনা।প্রিয়তার কোনো ক্ষতি আমি প্রলয় বেঁচে থাকতে হতে দিচ্ছিনা।”

রিপা দ্রুত গলায় বলে,”এসব কী বলছো ভাইয়া?আমরা কেন তোমার বউয়ের ক্ষতি করবো?উনিতো আমাদের ভাবি।”

“আগেরজনও তাই ছিল।”

রিপা আর কোনো কথা বলেনা।জিনিসগুলো নিয়ে চলে যায় সে।

ইতিমধ্যেই তখন আমার বেসিক স্কিন কেয়ার শুরু হয়ে গেছে।রিপাকে দেখলাম নত মুখে ঘরে ঢুকছে।সুধালাম,”সব ঠিকঠাক এনেছো?”

মেয়েটা কোনো জবাব দিলনা।জিনিসগুলো বিছানায় রেখে চলে গেল।
আমি সাজায় মন দিলাম।সাজ শেষে স্টেজে নিয়ে বসানো হলো।
চুপচাপ বসে আছি আমি।এখনো আমার মায়েরা আসেনি।চিন্তায় আছি মাকে কী জবাব দেব।
এমন সময় এক মহিলা এলো।
বলল,”কাল কী দিয়ে শাশুড়ি বধুবরণ করেছে?তোমায় উপহারে কী দিয়েছে প্রিয়তা?
স্বামী এতোবড়ো চাকরি করে।শুনেছি পারিবারিক ব‍্যবসাও আছে।নিশ্চয় হার টার দিয়েছে।তা কোথায় সেটা?তোমার গুলো তো চুরিই গেল!
ওটাও গেছে নাকি?নতুন বউয়ের গায়ে সোনা নেই দেখছি।বনেদি ঘরের মেয়ে,বউ।বউভাতের দিনে গা খালি থাকলে মানায়?”

উনারা একপ্রকার ভৎসনা করেই কথাগুলো বলল।
অপমানে আমি মুখ ছোট করলাম।মাথা নিচু করে রইলাম।

দূর থেকে এ দৃশ্য দেখে প্রলয়।
রেগেমেগে মায়ের ঘরে যায় সে। রাগান্বিত স্বরে বলে,”গহনার সেটটা কোথায় মা?প্রিয়তার জন্য যে গলার হার,দুল,চুড়ি বানানো হলো সেগুলো কোথায়?ওকে দাওনি?”

মা ঝাঁঝালো স্বরে জবাব দেয়,”না দেইনি।”

“কেন?”

“সবে এক গহনা চুরি গেল।আবার ওতো ভারী গহনা পড়তে দেব?পাগল নাকি আমি?যদি ডাকাতি হয় এবার!
আর পড়ার সময় কী গেল?সারাজীবনই পড়তে পারবে।আজই পড়তে হবে তার কী মানে?”

প্রলয় কঠোর গলায় বলে,”আমি প্রলয় সরকার বেঁচে থাকতে আমার বউয়ের গা থেকে গহনা ডাকাতি হবে এটা সম্ভব?
তোমার ওতো চিন্তা করতে হবেনা মা।গহনা বের করে দাও দ্রুত।বাকিটা আমি দেখবো।”

“তুই কী একটু বেশিই বুঝছিস না?”

“বেশি বুঝছি দেখেই হয়ত এখনো পরিস্থিতি হাতের মুঠোয় আছে।”

“আমি তোর মা প্রলয়।”

“সেজন‍্যই বলছি গহনাটা দিয়ে দাও।”

মা এবার প্রলয়ের কাধে হাত রেখে বলে,”দ‍্যাখ বাবা আমি তোর ভালোর জন্য বলছি।
এছাড়াও সামনে তোর ছোট বোনটার বিয়ে।ওর জন‍্যও তো কিছু রাখতে হবে বল।”

“ওর জন্য নেই মা?আমার বউয়ের জন্য বানানো গহনা দিয়ে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে?”

মা অপমানে মুখটা ছোট করলেন।
প্রলয় রিপাকে জিজ্ঞেস করলো গহনা কোথায় রেখেছে।

রিপা আলমারির দিকে ইশারা করে।

প্রলয় আলমারি খুলে গহনা বের করে চলে যেতে নেয় সে।
হঠাৎ কী যেন মনে করে বলে,”আলমারি থেকে নাকি তোমার চেইন আংটি চুরি হয়েছে।এটা হয়নি?”

“হয়ত খুঁজে পায়নি চোর।এখন এটাও কী আমার দোষ?চুরি হলেই ভালো হতো।”

প্রলয় হাসতে হাসতে বলে,”তুমি জগৎ জননী সাপের চেয়েও বিষধর।”

চলে যায় সে।
মা রাগে ফোসফোস করতে করতে বলে,”দ‍্যাখ এবার আমি কী করি।আগের বারের কথা মনে নেই?
এবার ওর চেয়েও খারাপ অবস্থা করবো মেয়েটার।কতোক্ষণ ওকে রক্ষা করতে থাকবে প্রলয়?
ছুটি শেষ হলো বলে।
সাপ বললি না আমায়?দ‍্যাখ এবার সাপ হয়েই ছোবল দেব তোর বউকে।
রিপা এসিড এনে ঘরে রাখ।জ্বলসে দেওয়া সময় এসে যাচ্ছে।”

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply