পিদিমজ্বলারাতে. ১৮ ✍️ #রেহানা_পুতুল
উনাকে দেখেই একজন পুলিশ রাশভারী কণ্ঠে বললেন,
“তৌসিফ কে? ডাক দেন। নারী নির্যাতন ও মানহানি মামলায় তাকে এরেস্ট করতে এসেছি আমরা।”
পুলিশদের দেখে ঘরের ভিতর হতে হুড়মুড় করে সবাই বেরিয়ে এল। তাদের চোখেমুখে প্রগাঢ় বিস্ময়! সবাই শক্ত চোয়ালে অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশদের সামনে। সলিমুল্লা শক্ত গলায় পুলিশদের পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে মারলেন,
“আইন চলে প্রমাণের ভিত্তিতে। প্রমাণ ছাড়া আন্দাজে কারো হাতে হাতকড়া পরান যায় মিয়া? পুলিশ সার্টিফিকেট কই? আর মামলাটা দিলই বা কে? কন তো?”
“মামলা দিয়েছে ভিকটিম। পুলিশ সার্টিফিকেট লাগবে না এই মামলার। উপযুক্ত প্রমাণ হলেই হবে। উপযুক্ত প্রমাণ নিতেই আপনাদের দারস্থ হলাম। তারপরেই ধরব অপরাধীকে। ভিকটিমের বিবরণ হিসেবে আপনি তার শ্বশুর। রাইট?”
“হ রাইট। বসেন আপনারা। তাইলে কইলেন ক্যান ধরবেন?”
“পরের কথা আগে বলে কাজ এগিয়ে রাখলাম। কোনো নারী সাধে ভাসুরের ছেলের নামে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে না। তাই আমরা সত্যতা যাচাই করতেই এলাম। আপনি বাড়ির কর্তা। মুরুব্বি। আশাকরি মিথ্যা কিছু বলবেন না।”
তীর্যক স্বরে বলল একজন পুলিশ।
মর্জিনার নির্দেশে সাথি বসার জন্য চৌকি ও মোড়া এনে দিল উঠানে। পুলিশরা বসল।
অদূরে থেকেই জাহেদ, রাবেয়া ও তৌসিফ পুলিশদের দেখল। রাবেয়া ভীত হয়ে উঠলেন। ভীরু অথচ চঞ্চল গলায় আস্তে করে ছেলেকে অনুরোধ ও আদেশ করে বললেন,
“আল্লাগো! বাড়িতে পুলিশ আইল ক্যান? তোরে ধরতে আইছে মনে হয়? পিছনের ক্ষ্যাতে দিয়া চইলা যা বাপ। পলায়া যা কইলাম।”
“আরেহ ধুর মা! আমি চোর? পালাব কেন? দেখি কেন এল পুলিশ।”
তৌসিফ মাটি হাতেই চলে গেল বড় উঠানের দিকে। রাবেয়া ও জাহেদ ছেলের পিছন পিছন গেলেন ব্যতিব্যস্ত হয়ে। তারা গিয়ে পুলিশদের ঘিরে জড়ো হওয়া স্থানে পা রাখল। মুহূর্তেই একজন পুলিশ তৌসিফকে বলল,
“আপনার নাম?”
“তৌসিফ।”
“এনারা কে?”
“আমার মা,বাবা।”
“আপনি চাচীর গায়ে হাত তুলেছেন?”
“বিষয়টা এরকম নয়, আগে শুনেন বলছি।”
গুরুগম্ভীর স্বরে বলল তৌসিফ। পাশ হতে সলিমুল্লা বললেন,
“মিয়ারা আমার লগে কথা কন। আমার কথা শুনেন। আমি ঘরের প্রধান।”
পুলিশরা বলল,
“এতো শোনাশুনির টাইম নেই মুরুব্বি। পুলিশদের অনেক কাজ থাকে। আমরা একজন একজন করে জিজ্ঞেস করে সত্যতা প্রমাণ করব। ঘরের ভিতর আর কেউ আছে? তাদের ডাকেন। ভিকটিম কোথায়?”
“নাহ আর কেউ ভিতরে নাই। সবাই এখানে আছে। আপনাদের ভিকটিম এখনো বাড়ি ফিরেনি। যেতে আমার মাকে বলে গেল তার ছেলের দিকে খেয়াল রাখতে। উনি না-কি বোনের বাড়ি যাচ্ছে জরুরী কাজে। বিকালে আসবে। “
ভ্রুকুটি করে বলল সাথী। তার মা আগুন চোখে তার দিকে চাইল। সাথী তা না দেখার ভান করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল।
পুলিশরা একে একে প্রত্যেকেরে জিজ্ঞেস করল,
“এই ঘরের ছোট বউ মনির গায়ে হাত তুলেছে এই তৌসিফ। এটা সত্যি? সম্পর্কে আবার তারা কি-না চাচী ভাতিজা?”
রাবেয়া ও জাহেদ তাদের কিছু বলতে গিয়েও পারল না। তারা তাদের দু’জনকে থামিয়ে দিয়ে নিরস কণ্ঠে বলল,
“আপনাদের কিছু বলতে হবে না। চুপ থাকেন। মা,বাবা ছেলেকে নির্দোষ সাজাবেন। এটাই অতি স্বাভাবিক।”
রাবেয়া ও জাহেদ উৎকন্ঠিত মনে চুপ করে আছে অপরাধীর ন্যায়। তাদের স্বামী স্ত্রীর অনুনয়ের দৃষ্টি বাকিদের মুখের উপর ঘুরছে অনবরত। ভয়ে তটস্থ রাবেয়া। তার গলা শুকিয়ে আসছে। বারবার শুকনো ঢোক গিলছে সবার অলক্ষ্যে। মুখস্ত্রী ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করেছে মৃত মৎসের ন্যায়। সে মনে মনে আল্লাহর নাম জপছে। বড় বিপদ হতে মুক্তির দোয়া পড়ছে।
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই, ওয়া দারাকিশ শাকা-ই, ওয়া সু-ইল কদা-ই, ওয়া শামাতাতিল আ’দা-ই।
(হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কঠিন বিপদ, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, ভাগ্যের অশুভ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দিত হওয়া থেকে।)
তৌসিফও স্থির ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাহাড়ের মতো অবিচল! অটুট! কারো দিকে তাকাচ্ছে না। শিশু অভ্র তার কচি কণ্ঠে বলল,
“বড় ভাইয়া আমার আম্মুরে মারেনাই। ভাইয়া অনেক ভালো।”
সবাই হা হয়ে গেল অভ্র’র কথা শুনে। মর্জিনা দাঁত কিড়মিড়িয়ে গোপনে বলল,
“মা নাই দেইখা মুখ খুলতে পারলি। বাড়িতে থাকলে তোর মুখ আঠা দিয়া বন্ধ কইরা রাইখতো।”
পুলিশরা তার কথাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করল। সাথী দেখল সলিমুল্লার কথা তৌসিফের দিকেই যাচ্ছে। তার মনোবল বেড়ে গেল। তৌসিফ তাকে বিয়ে না করুক। তো কী হয়েছে। সে তার র* ক্তের চাচাতো ভাই। হৃদয়ের অমোঘ টান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সে সবাইকে অবিশ্বাস্যভাবে চমকে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে বলল,
” ছোট বলে ওর কথাকে ফেলে দিবেন না আপনারা। আমিও তার মতো করে বলতে চাই,তৌসিফ ভাই নির্দোষ। চাচীর গায়ে উনি হাত দেয়নাই। চাচী অসহ্যকর কিছু বলাতে ভাই তেড়ে আসছিল। সেটাকেই চাচী বানিয়ে ফেলছে গায়ে হাত দিছে। নারী নির্যাতন! মানহানি!”
সাথীর মা সিমা দপ করে গোপনে জ্বলে উঠল বারুদের ন্যায়। মেয়ে এটা কী বলল তৌসিফরে সেইফ করার জন্য? উপায়ন্তর না দেখে সেও দু’বাক্যে বলল,
“আমি আর কী কমু? আমার মেয়েই আমার কথা বইলা দিছে।”
এবার মর্জিনা পড়ে গেল ভারি বিপাকে। ইতিউতি চেয়ে বলল,
“তিনজনের সাক্ষ্য তো পাইলেন। আমিও কইতে চাই আমার নাতি নির্দোষ।”
সলিমুল্লা পুলিশদের উদ্দেশ্যে বললেন,
“তাইলে বাজিরা কী বুঝলেন? আমার নাতি নির্দোষ। তারা নতুন ঘর তুলতাছে। এইসব নিয়া চাচীর সাথে কিছু উত্তেজিত কথাবার্তা বিনিময় হইছে। এর বেশি কিছুই না। আপনারা চইলা যান। বাড়ি ঘরে এর চাইতেও বহুত গ্যাঞ্জাম হয়। বিবাদ হয়। আবার বিবাদ মিটেও যায়। “
“তাহলে উনি থানায় কেন গেল? মিথ্যা করে কেন ভাতিজার নামে অভিযোগ দায়ের করল? পুলিশকে হয়রানির কোনো মানে হয়? এখন তো দেখি তারেই এরেষ্ট করতে হয়? ফাজিল মেয়েলোক কোথাকার।”
কটাক্ষ করে বলল পুলিশ।
“পুলিশকে হয়রানি করা,পরিবারের মানহানি করা,এরজন্য তার উপযুক্ত শাস্তি পাওনা রেডি হইয়া গ্যাছে। আপনারা চইলা যান।”
সলিমুল্লার স্পষ্টবাদি কথা শুনে পুলিশ তিনজন চলে গেল। তৌসিফ অভ্রকে টেনে নিজের কোলের ভিতর জড়িয়ে নিল। কণ্ঠে এক পাহাড় মায়া ঢেলে বলল,
“আমার ছোট্ট ভাই। আমার খোকা ভাই। আমার র * ক্ত!”
আকস্মিক ঘটনার পরিবর্তিরূপ দেখে জাহেদ ও রাবেয়া হতবিহ্বল! কেন সবাই মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে তাদের ছেলেকে রক্ষা করল এর কোন সদুত্তর তারা খুঁজে পাচ্ছে না।
তৌসিফ নমনীয় গলায় দাদাকে জিজ্ঞেস করল?
“দাদা, কারণটা যদি বলতেন, অনেক শান্তি পেতাম।”
সলিমুল্লা ফণা তোলা সাপের মতো ফোঁসফোঁস করছেন। হেঁড়ে গলায় শোনালেন,
“কত বড় বেত্তুমিজ বেডি! থানায় চইলা গ্যালো? শ্বশুর শাশুড়ীর অনুমতির তোয়াক্কা করল না। তুই তার গলা টিপা ধরছত। এইটা অন্যায় হইছে সত্য। তার ফায়সালা আমি নিশ্চয়ই করতাম। তোরে দিয়া তার কাছে মাফ চাওয়াইতাম। বাড়িতে পুলিশ আসা মানেই তো বাড়ির ইজ্জত, পরিবারের ইজ্জত খোয়া হয় না? এইটা বেডি চিন্তা করল না। তুই আমার পরবর্তী বংশের প্রথম পুরুষ। পুলিশ তোরে ধইরা নিলে বাড়ির গৌরব বলতে আর কিছু থাকে? তাই তোরে বাঁচাইলাম। টাইট দিমু হেই বেডিরে। আসুক আইজ বাড়ি।”
“ওহ! তার মানে নাতির চেয়ে পরিবারের মর্যাদা বেশি গুরুত্ব পেল আপনার কাছে। বুঝলাম দাদা।”
দুষ্টুমির ছলে মধুর হেসে বলল তৌসিফ। ফের সে বলল,
“আমি মানছি, আমার কাজটি একদম ঠিক হয়নি উনার সাথে। আমি উনার কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিব দাদা।”
মর্জিনা মাথা ঝাঁকিয়ে বিষকণ্ঠে বলল,
“হেই বেডিরে সাহস দিছে কে? সেইটা বুঝেন। আপনার পোলায়। নইলে একলার তার অত হিম্মত অওনের কথা নয়।”
তৌসিফ ও তার মা,বাবা তাদের নতুন ঘরের দিকে চলে গেল ব্যস্ত পায়ে। তারা একে অপরকে আর কোনো প্রশ্ন করল না পুলিশের বিষয়টি নিয়ে। কেননা কারণটা সলিমুল্লা সবাইকে অবগত করেছে। মিস্ত্রিরা ঘরের কাজ করছে মনোযোগের সহিত। তৎক্ষনাৎ তৌসিফের মাথায় মনি ও জাবেদকে নিয়ে একটা বিষয় চলে এল। সে ঠোঁট বাঁকিয়ে ফিচলে হেসে উঠল।
অবসন্ন বিকেল ফুরিয়ে আসছে। মিস্ত্রীরা চলে গিয়েছে। নতুন এক রুমের ঘর প্রস্তুত। খাট বিছানো ও গোছানো শেষ। জাহেদ হাত মুখ ধুয়ে খাটের উপরে উঠে শুয়ে পড়ল। এই ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তাই রাবেয়া বড় দুটি পিদিম জ্বালিয়ে নিল। তাতেই এক রুমের ঘরটি আলোয় মাখামাখি হয়ে গেল। রাবেয়া এটা ওটা করছে। তৌসিফ যথাসম্ভব মাকে সাহায্য করল।
সে পুকুর ঘাটে গিয়ে পানির ঝাপটা মেরে হাতমুখ ধুয়ে নিল। ঘরের দিকে যেতেই পথের উপরে মনির মুখোমুখি হলো। মনি মাত্রই বাড়ির প্রাঙ্গণে পা রাখল। সে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। অদ্ভুত ও বিকৃত মুখে তৌসিফের পানে চাইল। তার হিসেবটা ছিল,তৌসিফকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। ঘরের পরিবেশ অস্বস্তিকর থাকবে। তখন সে বাড়ির বাইরে থাকলেই ভাল। বিকেল শেষ করেই বাড়ি ফিরবে। যেমনটি জাবেদ তাকে শিখিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এটা কী হলো। তার মাথা শোঁ শোঁ করে ঘুরছে। এলোমেলো পায়ে মনি ঘরে ঢুকল। সবকিছু শুনল। অভ্রর গালে পটাপট কয়েকটি থাপ্পড় মেরে বসল। সাথির সামনে ছুটে এল। বাঘিনীর ন্যায় তর্জন গর্জন করে বলল,
“তোরে আমি খাইছি মাইয়া। ওইবার একবার ট্যাবলেটের কথা কস। আইজ আবার মিথ্যা সাক্ষ্য দিলি তার নামে। তুই কী মনে করস ওই বদমাইস তোরে বিয়া করব? জীবনেও না। দেখিস। তোরে কত মায়া করি আমি। আর তুই আইজ করলি টা কি? দুধ কলা দিয়া কালসাপ পুষছি এতবছর।”
সাথি স্থবির হয়ে আছে। মনি চলে গেলে সিমাও মেয়ের গায়ে হাত তুলল। কয়েক ঘা বসিয়ে দিল সাথির পিঠে। বিতৃষ্ণাভরা মনে বলল,
“মনি যা কইছে সত্যই কইছে। দুই জায়ে দিলিতো শত্রু বানায়া। মন চায় তোরে কী যে করি। এতো পিরিত দেখানোর দরকার কী ছিল? লাভটা কী আমাগো?”
সাথি কান্না করতে করতে পড়ার টেবিলে চলে গেল। অভ্রও তার রুমে এলো কান্না করতে করতে। সাথী অভ্রকে জড়িয়ে ধরলো। তখন তৌসিফ ঘরে এলো পরিস্থিতি অনুধাবন করার জন্য। অভ্রকে খুঁজতেই সাথির রুমে গেল। দরজা খোলাই ছিল।
“কিরে অভ্র? ভাই, কি হয়েছে?”
“আম্মা মারছে ভাইয়া। পুলিশরে ওগুলা কইছি ক্যান বইলা। সাথিপুরেও মনে হয় তার আম্মা মারছে।”
ফোঁফানো স্বরে বলল অভ্র।
তৌসিফ অভ্রর মুখ মুছে দিল হাত দিয়ে। সাথির দিকে তাকাল এক পলক। পরক্ষণেই পা ঘুরিয়ে নিজেদের ঘরে চলে গেল। শার্ট প্যান্ট পরে নিল। মা,বাবাকে বলল,
“আমার নামে সাথি ও অভ্র সাক্ষ্য দিল বলে অনেক মার খেল মায়ের হাতে। আমি বড় মার্কেটে যাচ্ছি। কাজ সেরে ফিরে আসব। তোমরা দরজা লাগিয়ে থাকো।”
“এইটা কোন কথা? কী হারামির হারামি মা এগুলা। আইচ্ছা যা। আল্লার হাওলা। আইলে সব শুনমু।”
তৌসিফ বেরিয়ে যায়। পকেটে সযতনে ভরে নেয় সেই ট্যাবলেটের পাতাটা। হাতে নিয়ে নেয় তার বাবার চিকিৎসার সব প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্টগুলো। পরিবারের মর্যাদার কথা যেহেতু চাচা হয়ে ভাবল না। তাহলে ভাতিজা হয়ে সে কেন ভাববে আর?
চলবে..১৮
Share On:
TAGS: পিদিম জ্বলা রাতে, রেহানা পুতুল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পিদিম জ্বলা রাতে গল্পের লিংক
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৫
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৮
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৯
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১২
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৭
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ২