পদ্মপ্রিয়া
পর্ব_১৩
ঈশিতারহমানসানজিদা
বিয়ে বাড়ি কেমন স্তব্ধ হয়ে আছে। সাজানো গোছানো সবকিছু, সব আলোকসজ্জা খুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে বরের বাড়িতে তার উল্টোটা হচ্ছে। ওখানে সবাই কেমন আনন্দে মেতে আছে। নতুন বউকে সাদরে গ্রহণ করে ঘরে আনা হয়েছে। সকলেই খুশি। ফয়েজের মা ভাবি সাহারাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন গুরুজনদের সাথে। ভারি সাজ খুলে সুতির শাড়ি পরানো হয়েছে সাহারাকে। এতো মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে গেছে সাহারা। তবুও মানুষ আসা যাওয়া করছে। এতকিছু করতে করতে রাত এগারোটা পার হয়ে গেছে। হাঙ্গামা, ড্রামা শেষ করে ফয়েজ কে বাসর ঘরে পাঠানো হলো। তবে সাধারণ বউ খাটের উপর ঘোমটা দিয়ে বসে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে। ফয়েজের ক্ষেত্রে তার উল্টোটা হয়েছে। সাহারা রুমে নেই, দরজা লক করে বারান্দায় পা বাড়ায় সে। খাটে বসে থাকার পরিবর্তে বউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ব্যাপারটা অদ্ভুত। এই মেয়েটার সাথে এখনো কথা হয়নি বলতে গেলে। কিভাবে কথা শুরু করবে বুঝতে পারে না ফয়েজ। গলা খাঁকারি দিতেই সাহারা পেছন ফিরে তাকায়। চমকে উঠে বলে,’সরি সরি, আসলে রুমের ভেতর ভালো লাগছিলো না তো। আর ওরা বললো আপনার আসতে দেরি হবে এজন্য।’ বলতে বলতে মাথা নিচু করে ফেলে সাহারা।
‘ইটস ওকে, অনেক রাত হয়ে গেছে ঘুমিয়ে পড়ো।’
‘এখনই?’ বিস্ময়ের ঘোর কাটে না সাহারার,’না মানে কিছুনা চলুন।’
মাথাটা হ্যাং হয়ে গেল। ওর কাজিন এর থেকে শুনেছে বাসর রাতে স্বামী স্ত্রী অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করে। গিফট দেয়, এখন ওর স্বামীর ভেতর সেরকম কোন কিছু দেখছে না। মনে মনে কত কি ভেবে রেখছিল তাতে অলরেডি বালু পড়ে গেছে। খানিকটা অসহায় লাগলো বটে, কিছু করার নেই। এই ছেলে বোধহয় রসকষহীন। তবে এর সাথে কীভাবে মানিয়ে নিবে এ নিয়ে দোটানায় পড়ে গেল। খাটের উপর বসে চিন্তায় মগ্ন হলো। ততক্ষণে ফয়েজ চেঞ্জ করে এসেছে। বাইরে যা গরম, বৈশাখ মাসে বিয়ে করাটাই মস্ত বড় ভুল হয়েছে। পাতলা টিশার্ট গায়ে জড়াতেই আরাম পেল। রিমোট হাতে নিয়ে এসির টেম্পারেচার ষোলো তে দিয়ে খাটের উপর প্রান্তে আরাম করে বসলো। এখন একটু ভালো লাগছে। সাহারার দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা এখনও গভীর ভাবনায় ডুবে আছে। তুড়ি মেরে জিজ্ঞেস করলো,’এক্সকিউজ মি! হোয়াট হ্যাপেন্ড?’
সাহারা মাথা তোলে,’কিছু না, আমার ঘুমানো ভালো না। হাত পা ছুড়াছুড়ি করি। যদি লেগে যায় মনে দোষ রাখবেন না।’
বলতে বলতে দুপা তুলে নিজের শোবার জায়গায় গিয়ে বসলো। ফয়েজ মৃদু হেসে বলল,’সমস্যা নেই, আমারও ঘুমানো ভালো না। যদি কেউ গায়ে হাত পা তুলে দেয় তাকে জাপটে ধরে শুয়ে থাকি যেন নড়চড় না করতে পারে।’
সাহারা কি বলবে ভেবে পেল না, আহাম্মকের মতো কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে মাথা নাড়ে। তা দেখে ফয়েজ হাসে, তবে আগের চেয়ে শব্দ করে। মাথা নেড়ে বলে, ‘ভয় পেলে নাকি?’
‘ভয় পাওয়ার কি আছে, আপনি বাঘ না ভাল্লুক যে ভয় পাব।’
‘বাঘ ভাল্লুক ভয় পাও বুঝি?’
‘জানি না, সামনাসামনি দেখিনি তো। চিড়িয়াখানায় যেতে হবে। তখন বোঝা যাবে।’
ফয়েজ মাথা নাড়ে। অতঃপর কিছু সময় চুপ করে থাকে। কথা গোছাতে পারছে না। পরে ভাবলো বউয়ের সাথে কথা বলতে আবার গোছানো লাগে নাকি। উঠে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুললো। গিফট বক্স টা এনে সাহারার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,’প্রথম তো অতো বুঝতে পারছি না, দেখো যদি তোমার পছন্দ হয়।’
‘আমি বুঝি দু চার বার বাসর করে এসেছি।’ কথাগুলো বিড়বিড় করে বললো যাতে ফয়েজের কানে না পৌঁছায়। সাহারার এমন বিড়বিড় করা দেখে ফয়েজ বললো,’কি হলো?’
‘না কিছু না। প্রথম প্রথম যে গিফট দিয়েছেন এটাই অনেক।’
তাড়াহুড়ো করে খুলতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধলো। হঠাৎ করেই লোডশেডিং হলো। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ফয়েজ দ্রুত ফ্লাশ অন করলো। বললো, ‘ভয় পেলে?’
মাথা নেড়ে না বোঝায় সাহারা। বাইরে হৈচৈয়ের আওয়াজ আসছে। দেখার জন্য দ্রুত বাইরে বের হয় ফয়েজ। ওর বাবা ভাই মিলে ডেকোরেশনের লোকদের সাথে কথা কাটাকাটি করতেছে। এই গরমে লোডশেডিং হচ্ছে বেশি এজন্য জেনারেটর আনা। এখন বলছে তেল শেষ হয়ে গিয়েছে। আগে কেন মজুদ রাখা হয়নি এ নিয়ে বাকবিতন্ডা। বিয়ে বাড়ির সবাই বাইরে বেরিয়ে এসেছে গরমের ঠেলায়। নতুন বউ সবে বাসর ঘরে ঢুকেছে আর এই অবস্থা। সবাই কেমন করে তাকাচ্ছে। নতুন বউয়ের সামনে মান সম্মান রইল না। কারো কারো হাতে পাখা দেখা যাচ্ছে। আজ একটু বেশিই গরম পড়েছে।
খানিক বাদে কারেন্ট এলো, আলোকিত হলো চারপাশ। ফয়েজ এবার রুমের উদ্দেশ্য পা বাড়াতেই দেখলো একপাশে আজমাঈন চুপচাপ বসে আছে। সেদিকে এগোয়, কাঁধে হাত রেখে বলে,’কি ব্যাপার? তখন থেকে এমন চুপচাপ বসে আছিস যে? কি করেছিস বল তো? কোন ঝামেলা?’
আজমাঈন মাথা তোলে,’কিছু না, তুই এখানে কেন এসেছিস? যা রুমে যা।’
‘আরে ভাই, এই লোডশেডিংয়ে বাসর তো দূরে থাক, ঠিকমতো রুমে বসতে পারি কিনা কে জানে!’
আইশা কোথা থেকে দৌড়ে এসে বলে,’এই পাখা টা নিয়ে যাও ভাইয়া, রাতে কারেন্ট গেলে ভাবিকে বাতাস করো।’
ফয়েজ পাখাটা নেড়ে নেড়ে দেখলো,’ভাইয়ের থেকে তুই কিন্তু কম না! তোর বোনকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দে, নাহলে কার সাথে ভাগে কে জানে!’
শেষ কথাটা আজমাঈনের উদ্দেশ্য বলে চলে যায় ফয়েজ।
নূর কল্পনাবিলাসী মেয়ে, ওর কল্পনার জগতে ভীষণ সুন্দর। সেখানে ভালোবাসা আদরের কমতি নেই। মেঝেতে বসে খাটের উপর মাথা রেখে কল্পনায় ডুবে থাকতে ভালো লাগে ওর। এখন সেভাবেই বসে আছে, ওর কল্পনায় রেহানা এসেছে। মাথায় পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর নূর চোখ বন্ধ করে তা অনুভব করছে। এতে মনটা শান্ত হয়েছে যেন। চোখে ঘুম চলে এসেছে কখন টেরই পেলো না। যখন ঘুম ভাঙ্গল তখন মধ্যে রাত। ধড়ফড়িয়ে ওঠে নূর, এশার নামাজ পড়া হয়নি। উঠতে নিলে চোখ পড়লো খোলা ম্যাকবুক এর দিকে। মেইল বক্স ওপেন করা, কাছে টেনে নিতে দেখলো আজমাঈন ওর মেইলের রিপ্লাই করেছে। ওপেন করতে ইচ্ছে না করলেও সে ওপেন করলো।
আন্তরিকভাবে দুঃখিত, এতোটা ভাবা হয়তো আমার ঠিক হয়নি। যদি কোনভাবে আপনাকে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। মানুষ মাত্রই ভুল।
এমন বার্তা খানি আজমাঈন পাঠিয়েছে নূরের বার্তার বিপরীতে। নূর বেশ ভালো করেই জানে সে একজন অনুভূতিশূন্য নারী। কারো পাঠানো প্রেমের বার্তার ভাষা সে বোঝে না। সংসারের স্বপ্নও দেখে না। কাজেই ওর কাছে রাশেদ সাহেবের যত্ন ভালোবাসা ব্যতীত সবকিছুই মূল্যহীন। আজমাঈন তাকে তেমন কিছু ভেবে শাড়িটি উপহার দেয়নি। হয়তো বন্ধুত্বের মান রাখতে দিয়েছে। শুধু শাড়ি দিলে হয়তো ব্যাপারটা এতদূর গড়াত না। কেননা শাড়িটি বিশেষ একদিনে পছন্দ করেছিল নূর। এজন্যই বিষয়টা ভালোভাবে নেয়নি সে। কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে আজমাঈন কে। প্রফেশনাল কাজের বাইরে তাদের কথা বলা বা গিফট দেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের মানুষজন ভালো ভাবে দেখবে না বিষয়টা।
যেখানে ঘরের মানুষের মনে খুঁতখুঁত করছে সেখানে বাইরের মানুষের কথা তো বাদই। দুপুর থেকেই কেমন ভারি ভারি লাগছে নূরের। নামাজ পড়লে মনটা হালকা হবে। আগামীকাল বৌভাত, সে ব্যতীত বাসার সকলে যাবে। তখন একা বাড়িতে শান্তি মত ঘোরাফেরা করা যাবে। তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ হতেই দরজায় টোকা পড়লো। এতো রাতে কে আসতে পারে? কাজের মহিলাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নূরের ভালো লাগছিলো না এজন্য। দরজা খুলে দেখলো অনুপমা দাঁড়িয়ে। মৃদু হেসে বলল,’ভেতরে আসো ভাবি, কিছু বলবে?’
অনুপমা ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলে,’বসব না, কালকে সবাই ও বাড়িতে যাব, তুমি যাবে কিনা শুনতে এলাম। নাহলে তোমার বাবা তো রাগ করে বসে থাকবেন।’
‘আমি কোথাও যাইনা এটা তো জানো ভাবি, অতো মানুষের ভিড়ে যাব না।’
‘সেটা তোমার বাবাকে বলে দিও, আর হ্যাঁ না গেলে তোমার গাড়িটা দিও। মানুষ অনেক তো, একটা গাড়ি বেশি থাকলে গাড়ি ভাড়া কমে যাবে।’
নূর মাথা ঝাঁকিয়ে গাড়ির চাবি এনে দিলো। বললো, ‘আমি আব্বুকে বলে দিব যে যাব না। এ নিয়ে কথা বলবে না।’
অনুপমা কেমন দায়সারা ভাব নিয়ে চলে গেল। নূর তার প্রস্থান নিরবে দেখলো। আল্লাহ ওর পরীক্ষা নিচ্ছেন, এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নূর। একদিন একটা ভালো সময় আসবেই ওর জীবনে। এ আশাতে প্রহর গুনছে সে।
সকাল থেকে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বরের বাড়ির সকলের জন্য গিফট কেনা হয়ে গেছে। ফল মিষ্টি পিঠা প্যাকেট করা হয়ে গেছে। দশটার দিকে সবাই রেডি হওয়া শুরু করেছে। রেহানা ও যাচ্ছেন, এজন্য তিনি নূরকে ডাকলেন। বললেন,’বাড়িতে কেউ থাকবে না। তুমিও সাথে চলো।’
নূর এক পলক রাশেদ সাহেবের দিকে তাকায়, সকালেই সে বাবাকে না করে গেছে। বাড়িতে তো দারোয়ান ছাড়াও কাজের লোকেরা থাকবে। এরা থাকলেই তো দিব্যি থাকা যায়। রেহানা হয়তো মেয়ের ভাবনা বুঝলেন। তিনি বলেন,’কাজের লোকেরাও যাবে, এমন ফাঁকা বাড়িতে থাকার দরকার নেই তোমার।’
স্ত্রীর কথায় একমত হলেন রাশেদ সাহেব,’ফাঁকা বাড়িতে থাকা ঠিক হবে না তোর, আমার সাথে চল। বেশিক্ষণ থাকার দরকার নেই। তুই আমি আগে আগে চলে আসব।’
নূর মাথা নিচু করে চলে এলো। ওখানে গেলেই তো ফের আজমাঈনের মুখোমুখি হতে হবে। যেটা নূর চায়না। কিন্তু কি আর করার। অগত্যা গাঁয়ে বোরকা জড়িয়ে সবার সাথে যেতে হলো। নূরের গাড়ি যখন গেইটের সামনে এসে থামলো আজমাঈন তখন সবাইকে ভেতরে আসার জন্য আপ্যায়ন করছিল। বসার জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছিল। গাড়ির দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ ফেরায় সে। আর কখনোই সেদিকে ফিরে তাকাবে না এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তা শাড়ি পাঠানো টা ঠিক হয়নি এটা পরে বুঝেছে। সেদিন কোন মনে শাড়িটি কিনেছে তাও বুঝতে পারেনি। আজকাল নিজেকে কেমন অচেনা লাগে আজমাঈনের। তা ঠিক করেছে এখন থেকে একটু বদলাতে হবে।
তাই গেইটের সামনে থেকে সরে আসে। বন্ধুর বিয়ের বড় দায়িত্ব তার। ফয়েজের বড় ভাইয়ের সাথে সেও হাত লাগায়। তবে নূরের জন্য আলাদা বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলাদা একটা রুমে ওকে বসানো হয়েছে। সাহারার সাথে দেখা করে কোনরকমে খেয়েছে সে। আর থাকা যাবে না এখানে। কখন জানি আজমাঈনের সামনে পড়ে যায়। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় সহায় হলো না। সিঁড়ির কোনায় টান লেগে হাঁটুর দিক থেকে বোরকা লম্বা ভাবে ছিঁড়ে গেল। হতভম্ব হয়ে বোরকা চেপে ধরে দেখলো সিঁড়ির কোণে পেরেক গাঁথা। দ্রুত নেমে একপাশে দেয়ালে ঠেস মেরে দাঁড়িয়ে রইল। বোরকার নিচে লম্বা কুর্তি পরেছিল সেটাও দেখা যাচ্ছে। কি বিচ্ছিরি অবস্থা। সবসময় কি ওর সাথেই হয়! চোখে পানি চলে এলো ওর। এখন কাকে ডাকবে? নিজের পরিচিত কাউকে দেখতে পারছে না। পাশ কাটিয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছে, কেউ জিজ্ঞেস করছেও না যে কি হয়েছে।
অসহায় হয়ে ওখানেই দাঁড়িয়ে রইল নূর। আজমাঈন দ্রুত সিড়ি বেয়ে নামছিল। চলেই যাচ্ছিল প্রায়, বাম পাশে তাকাতেই নূরকে সাদা বোরকা পড়া অবস্থায় দেখতে পেল। মেয়েটা হাত দিয়ে বোরকা চেপে ধরে কিছু একটা আড়াল করতে চাইছে। আজমাঈন কে দেখে দু’কদম সরে দাঁড়ায় নূর। কিছুক্ষণ স্থির ভাবে চেয়ে থেকে আইশা খুঁজে আনে আজমাঈন। ভাইয়ের এমন জরুরি তলবে আইশা এলো নূরের কাছে। জিজ্ঞেস করে,’কি হয়েছে আপু?’
নূর যেন আশার আলো ফিরে পেলো। বললো,’সিঁড়ির সাথে ধাক্কা লেগে বোরকা ছিঁড়ে গেছে।’
আইশা মাথা কাত করে দেখে বললো,’সর্বনাশ!! এখন কি হবে? আমি তো বোরকা আনিনি বিয়ে বাড়িতে। এই অবস্থায় বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। তুমি আমার সাথে আসো।’
আইশা নিজের রুমে নিয়ে নূরকে বসায়। চিন্তিত হয়ে বলে,’এবার বলো কি করতে পারি তোমার জন্য? যা বলবে তাই করব।’
‘আমি বুঝতে পারছি না কিছু, বোরকা তো ছিঁড়েছে তার উপর কুর্তি টাও ছিঁড়ে গেছে। এভাবে বাইরে বের হতে পারব না।’
‘এতো মানুষের ভিড়ে কারো কাছে সাহায্য চাইতেও পারব না।’
আইশা একটু ভেবে বলে,’তোমাদের বাড়ি তো খুব একটা দূরে না। এক কাজ করলে কেমন হয়, আমি গিয়ে তোমার বোরকা নিয়ে এলাম তারপর তুমি পরলে?’
‘ভালোই হয় তবে তুমি পারবে?’
‘অবশ্যই পারব, তুমি শুধু বলো কোথায় তোমার বোরকা রাখা?”
‘আমার রুমের আলমিরার ভেতরেই আছে। তুমি গেলেই পাবে।’
আইশা নূরের কাছে তাহমিনা কে বসিয়ে বের হলো। আজমাঈন কে গিয়ে ধরলো,’ভাইয়া, আপুর বোরকা অনেকটা ছিঁড়ে গেছে। তাদের বাড়ি থেকে বোরকা আনতে হবে চলো যাই।’
নূরের কোন কাজে ইনভলব হতে ইচ্ছে না করলেও তাকেই যেতে হবে বোধহয়। যেহেতু মেয়েটা বিপদে পড়েছে তাই সাহায্য করা উচিত। তবে আগে বিষয়টা রাশেদ সাহেব কে জানানো দরকার। তার মেয়ে সে বুঝবে। নিজে না গিয়ে আইশা কে পাঠায় সে। রেহানা বেগম এবং রাশেদ সাহেব বসেছিল একসাথে। সেখানে গিয়ে আইশা সবটা বলতেই রেহানা বলে উঠলো,’দেখেছো মেয়ের কান্ড? যেখানেই যাক একটা না একটা কান্ড ঘটাবেই। একটু দেখে শুনে হাঁটবে না?’
‘নসিবে থাকলে কি আর করার। তোমাকে অতো ভাবতে হবে না।’ অতঃপর আইশাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘নূর কোথায়?’
‘আমার ঘরে বসিয়ে এসেছি, আম্মু সাথে আছেন। আপু বললো বাড়ি থেকে তার বোরকা এনে দিলে পরে যেতে পারবে।’
রেহানা বললেন,’সেকি তুমি কেন যাবে? তুমি মেহমান, তোমাকে যেতে হবে না। আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কোথায় কি বলতে হয় বোঝে না। কিছু মনে করো না। আমি বাসায় লোক পাঠাচ্ছি।’
‘না না আন্টি, আমিই আপুকে জোর করেছি সে কিছু বলেনি।’
রাশেদ সাহেব বললেন,’আচ্ছা ঠিক আছে ও যাক। মেয়ে মানুষ, নূরের বিষয়টা ভালো বুঝবে। বাসার চাবি নিয়ে যাও।’
আইশা লাফাতে লাফাতে চাবি নিয়ে ভাইয়ের কাছে যায়। তার পর দুই ভাইবোন মিলে রওনা হয়। যেতে যেতে আইশা বলে,’আচ্ছা ভাইয়া, তোমার সাথে নূর আপুর একটা কানেকশন আছে তাই না।?’
সকাল থেকে বেশ গম্ভীর হয়ে আছে আজমাঈন। আইশা খেয়াল করেছে, কারণটা ধরতে পারছে না। এজন্য প্রশ্ন করা। আজমাঈন বলে,’কানেকশন থাকবে কেন? তেমন কিছু না।’
‘তুমি বলতে চাইছো সবকিছু কাকতালীয়? রিং, আতর, তোমার ঘাড়ি তারপর আজকের বিষয় টা? বড় কথা সব কিছু তো তোমার চোখে পড়ে তাই না। এজন্য বললাম আরকি। মাঝে মাঝে মনে হয় ডাল মে কুছ কালা হে। কিন্তু কি কালা সেটাই বুঝতে পারি না। তুমি কি জানো?’
‘বকবক করে মাথা খাস না।’
‘ওকে ওকে, কিন্তু আমি তো খুঁজে বের করব ই।’
পাক্কা বিশ মিনিটের রাস্তা, জ্যাম না থাকায় তাড়াতাড়ি চলে গেল ওরা। সদর দরজার তালা খুলে দোতলায় উঠলো। নূরের রুমের দরজা খোলাই। নব ঘুরিয়ে আইশা ভেতরে ঢুকে বলে,’তুমিও ভেতরে আসো ভাইয়া।’
আজমাঈন বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে বলে,’তুই যা, আমার দরকার নেই।’
আইশা খানিকটা ভয় প্রকাশ করে বলে,’ভয় করে ভাইয়া। আমি শুনেছি যারা ধার্মিক হয় তাদের সাথে নাকি জ্বিন থাকে।’
আজমাঈন চোখ পাকায়। আইশা ফের বলে,’ভালো জ্বিন ই থাকে, তবে এটা কাউকে পেলে ঘাড় মটকে দেয়।’
আজমাঈন এক পা ভেতরে দিয়ে বলে,’এসেছি, এখন যা করার তাড়াতাড়ি কর গিয়ে। দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
ভাইয়ের এমন কাছে ঠোঁট টিপে হাসে আইশা। তবে ভেতরে আসতেই আতরের গন্ধ টা তীব্র হলো। এই গরমে আবহাওয়া যেন শীতল হয়ে এলো। ঠান্ডা বাতাসে শরীর কাঁপন ধরলো আজমাঈনের। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ভেতরে এসে দাড়ালো। ঠিক ভুল যাচাই করলো না, আইশা তখন সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। আলমিরা থেকে বোরকা বের করে এগিয়ে আসতেই ড্রেসের সঙ্গে টান লেগে টেবিল থেকে নূরের কাগজপত্র গুলো পড়ে যায়। আইশা তুলতে গিয়ে দেখলো সেটা। আজমাঈন বললো, ‘আবার কি হলো? কি দেখছিস? ওঠ তাড়াতাড়ি!’
আইশা মাথা তুলে বলে,’নূর আপুর ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড।’
আজমাঈন থমকে গেল, ওখানে নিশ্চয়ই নূরের ছবি আছে। একবার কি দেখবে? আচমকা বলে ফেললো, ‘দেখি!’ কার্ড হাতছ এগিয়ে এলো আইশা।
চলবে,,,,,,
সত্যি বলতে আপনাদের কিছু মন্তব্য পড়ে আমি চরম হতাশ। সবাই শুধু সবার দিকটাই দেখলো। গল্প দেরি করে দিলে আপনাদের মুড নষ্ট হয়ে যায়, আগ্রহ পান না। আবার অনেকে প্রতিদিন গল্প চায়। অথচ গল্প দিলে নেক্সট লিখে দৌড় মারে।
আমি মানুষ, রোবট নই। আমার নিজেরও মুড আছে, সেটাকে আমারই ভালো করতে হয়। কয়েক লাইন মন্তব্য না লিখে আপনারা যদি আমার মুড নষ্ট করেন তাহলে আমার কোন দায় নেই প্রতিদিন গল্প দিয়ে আপনাদের মুড ঠিক করার। এমন মন্তব্য পেলে সত্যি লিখতে ইচ্ছে করে না।
Share On:
TAGS: ঈশিতা রহমান সানজিদা, পদ্মপ্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১১
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১২
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১৪
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৯
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৬
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৮
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৫
-
পদ্মপ্রিয়া গল্পের লিংক