নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_২৫
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
সাদির দিকে তাকিয়ে পিহু কপাল কুচকে বলে উঠলো…
-“আচ্ছা সত্যি করে বলুন তো আপনি হাসছেন কেন..?
পিহুর কথায় সাদি নিজের ঠোঁটে চেপে রাখা হাসি লুকিয়ে ফেললো নিমিষেই গম্ভীর হয়ে গেলো আবার।তারপর গম্ভীর কন্ঠেই বললো…
-“চোখের ডাক্তার না আমি হার্টের ডাক্তার নয়তো তোর ভুল ভাল দেখা আমি ঠিক করে দিতাম স্টুপিড।
সাদির কথা পিহুর সন্দেহ কাটলো না তবে এটা শিওর যে সাদি তাকে আর মারবে না।যেহেতু কাগজ কলমে চুক্তি করে নিয়েছে তবে প্রশ্ন হলো ছবি আর ভিডিও কেন করলো প্রমান রাখার জন্য। আচ্ছা প্রমান যদি রাখার হয় সেটা পিহু রাখবে সাদি কেন রাখলো।পিহু আবারো কপাল কুচকে সাদির দিকে তাকালো।সাদি ও তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো এতক্ষন। পিহু তাকাতেই চোখাচোখি হয়ে গেলো দুজনের।পিহু চোখ সরিয়ে নেয় সাথে সাথে।
পিহু সাদির দিকে না তাকিয়ে বলে উঠে…
-“একটা প্রশ্ন করি আপনাকে..?
-“হয়ে গেছে..?
-“মানেহ..?
-“একটা কথা জিজ্ঞাসা করা হয়ে গেছে।
-“আচ্ছা দুটো প্রশ্ন করি আপনাকে..?
-“হয়ে গেছে।
-“ধুর।
পিহুর রাগ উঠলো। সিরিয়কস সময়ে মানুষ এভাবে মজা নেয় নাকি।পিহুর রাগ দেখে সাদি মনে মনে হাসলো।এতদিন মেয়েটাকে ভালো করে দেখে নি সে।তবে জ্বর থাকা কালীন তিন দিনে মেয়েটাকে খুব করে দেখেছে।পিহু রাগী কন্ঠে সাদির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“রাগাবেন না..?
-“আমি রাগালাম কখন..?
-“আচ্ছা সত্যি করে বলেন তো আপনি ওই ছবি তুললেন কেন..?
-“কোন ছবি..?
-“সেলফি..?
সাদি বোধহয় বুজছিলো পিহু এই প্রশ্ন টা করবে উত্তর ও তার কাছে প্রস্তুত ছিলো। তবে কেন জানি বলতে ইচ্ছা হলো না।মেয়েটাকে আরো একটু রাগাতে ইচ্ছা হলো তার।যদিও এই আচরন তার সঙ্গে যায় না।তবে তার মন তো মানতে নারাজ। ছোট্ট পিহুর সাথে বাচ্চামি করতে ইচ্ছা হচ্ছে তারও।রগাতে ইচ্ছা হচ্ছে বেশ।সাদি বুকে হাত গুজে গম্ভীর কন্ঠে পিহুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“আমি রুমে যাচ্ছি দশ মিনিটের মাঝে আমার রুমে কফি নিয়ে আসবি..?
-“মানে..?
-“চোখের সাথে কানের ডাক্তার ও দেখিয়ে নিবো সমস্যা নেই কফি নিয়ে আই..?
পিহুর রাগ উঠলো বেশ।কথায় কথায় অপমান সহ্য করা যাচ্ছে না।পিহু রাগী কন্ঠে বলে উঠলো..
-“পারবো না।
-“কি বললি…?(সাদি বেশ রাগী কন্ঠে কথাটা বলে উঠে)
-“না মানে মাত্রই তো দুপুরের খাবার খেলেন আর এখন কফি খাবেন..?
-“খাওয়ার রুটিন হয়তো তোর কাছ থেকে শিখা লাগবে না।ঘড়ির টাইম ধরে দশ মিনিট তার মধ্যে আমার রুমে কফি সহ তোকে চাই।
-“আমাকে চাই মানে..?
সাদি প্রসঙ্গ বদলাতে কঠিন কন্ঠে বলে উঠে…
-“এক চড় দিবো স্টুপিড যা বলেছি তাই কর..?
-“মাত্র কিন্তু চুক্তিতে সিগনেচার করেছি আপনি আর আমাকে মারবেন না..।
সাদি আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলো না তবে প্রকাশ ও করলো না কয়েকবার জরে জোরে শ্বাস নিয়ে রুষ্ট কন্ঠে বললো…
-“চুক্তিপত্রে সময় রাত বারোটাই শুরু হবে আর একটা কথা বললে ঠাটিয়ে তোর গাল লাল করে দিবো।
পিহু বুজলো যে ঘটনা অন্য দিকে চলে যাচ্ছে।ফাও ফাও পাগল নেড়ে মার খাওয়ার দরকার নেই।ওর চেয়ে ভালো যা ব্লেছে শুনি অন্তত আমার রুম থেকে বের হোক তারপর আমি রুমে ঢুকে রাত বারোটার আগে আর বোম ফেললেও বের হবো না।পিহুকে চুপ থাকতে দেখে সাদি আবার বলে উঠলো…
-“টাইম শ্য্রু হয়ে গেছে..?
-“যাচ্ছি তো আজব..!
পিহু মনে মনে সাদি কে উদ্ধার করে দিতে দিতে রুম থেকে ব্ব্রিয়ে গেলো।রাগ হলো তার।সে বেশ ভালোই বুজেছে সাদি ইচ্ছা করে রাগাচ্ছে তাকে।রাগাক না রাত বারোটার পর থেকে তার ও দিন শুরু হবে।সেও নাবিলের সাথে ঘুরে ঘুতে তাকে রাগাবে।নিজের মনে একা একা বিড় বিড় করতে করতে রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো।
পিহুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুজে সাদি বিড়বিড় করে বলে উঠলো…
-“বড্ড বোকা তুই সুইটহার্ট। আমার কথাগুলো কি সুন্দর বিশ্বাস করে নিলি।তবে সরি রে এই প্রথম কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিলাম তোকে।তবে এই মিথ্যার জন্য যদি তোকে নিজের করে পাওয়া যায়।তবে আমি সাদি বার বার বলতে চাই।
ফাইজ বিছানায় বসে পা দুলাচ্ছে আর দাত দিয়ে নোক কাটছে। ইশানের সাথে কথাকাটি হচ্ছে তার।
এক পর্যায়ে ইশান বলেই ফেললো…
-“তুই জানিস আমরা কিছুদিনের মধ্যে চলে যাবো তার আগে আমার সব সম্পত্তির ভাগ নিয়েই যাবো।
-“তো ভাই তোমরা তোমাদের সম্পত্তি নাও না আমার কি..?
-“তুই বোজার চেষ্টা কর একটু।
-“কি বুজবো..?
-“আমরা যে কাজ করতে এসেছি সে কাজ হয়ে যাক তার পর তোর কাজ তুই মিটাশ।
-“আমার ভালো লাগছে না..?
-“বিয়ে তো করবি না।তাহলে অপেক্ষা কর আমার সব কিছু মিটে যাস তার পর মনের সুখে একদিনের জন্য উপভোগ করিস পরের দিন দেশ ছাড়বো।
ফাইজ ইশানের দিকে টেরা চোখে তাকিয়ে বললো..
-“সত্যি বলছো..?
-“হুম তিন সত্যি..?
-“কত দিন লাগবে..?
-“এইতো কালকেই বলবো..?
-“আর না মানতে চাইলে..?
-“ফোর্স করবো..?
বলেই ইশান হাসলো।ইশানের সাথে ফাইজ ও হাসলো। ফাইজ যানে ইশানের মাথায় সকল ধরনের খারস্প বুদ্ধি ভরা।ইশানরাডুবাই তে চলে যাচ্ছে।কিন্তু যাওয়ার আগে তার সকল সম্পত্তির ভাগ নিয়ে যাবে।এক চুল পরিমান ছেড়ে দেওয়ার মন মানষিকতা তার নেই।ফাইজ এর বিয়ে ঠিক হয়েছে ডুবাই এর একটা মেয়ের সাথে সেখানের স্থানীয়।সেজন্য তারা এবার সেখানেই থাকবে।তবে আজ পিহু কে দেখে ফাইজ এক ছোট্ট আবদার করে বসেছে।তবে এখন তা পুরন করা অসম্ভব। কারন এখন পিহুর কোনো ক্ষতি হলে তাদের সবাইকে জেল এ যেতে হবে।ওর চেয়ে ভালো যাওয়ার আগে ফাইজ এর ইচ্ছাটা পুরন করবে। আর যদি পারে নিজেও।
তাদের এ নোংরা মন মানষিকতা চার দেয়ালের ভিতরেই আবদ্ধ থাকলো বাইরের একটা মানুষ ও জানতে পারলো না।একটা নিশ্পাপ ফুল কে নষ্ট করার কত নির্মম খারাপ কথা ভেবেছে।নিজের আপন বোনের মতো মেয়েটাকে নোংরা নজরে দেখেছে।বাইরের পিচ্চি পিহু ঘুনাক্ষরেও বুজতে পারলো না ঘরের ভেতরের দুজনের জঘন্য ইচ্ছার কথা।
পিহু কফি সাদির হাতে দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।রিতিমতো ভয়ে কাপছে সে।যেই ভয় টা করেছিলো সেটাই হলো।সাদি কফির কাপ টা বেড সাইট টেবিল এর উপর রেগে ঝাঝালো গলায় বলে উঠলো…
-“তোর মন সব সময় কই থাকে।কমন সেন্স আছে তোর মাঝে..?
পিহু মাথা নিচু করে রইলো তার বলার মতো কিছুই নেই।বলার ভাষাও নেই।পিহুকে চুপ থাকতে দেখে সাদি আবারও বলে উঠে…
-“তোরে কত বার বলেছি অচেনা বাইরের মানুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখবি আর তুই কি করলি পুরো চুল খুকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছিস।
-“ভুল করে পড়ে গেছিলো.. (পিহু মিনমিনিয়ে বলে উঠে)
পিহুর এই ছোট্ট কথা এতক্ষন রাগ কন্ট্রোল করে থাকা সাদি নিমিষেই প্রচন্ড রেগে গিয়ে পিহুর গাল চেপে ধরে।পিহু ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠে। চোখ দিয়ে পানি চলে আসে।পিহুর মনে হচ্ছে তার গালের চামড়া ছিড়ে সাদির হাত ভিতরে ঢুকে যাবে।সাদি তেজি গলায় বলে উঠে…
-“ভুল করে পড়ে গেলো তো তুলিস নি কেন তুই।মানুষ্কে দেখিয়ে বেড়াতে খুব ভালো লাগে।নাকি ওরে তোর পছন্দ হয়েছে কোনটা।
পিহু সাদির হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। খুব যন্ত্রনা করছে তার মুখে।সাদি এক পলক সেদিকে তাকিয়ে ছেড়ে দেয় পিহুকে সাথে সাথে পিহু ও দ্বিগুন তেজে বলে উঠে…
-“তো আপনার কি আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করবো ইচ্ছা হলে শরী/র দেখিয়ে বেড়াবো।আপনি বলার কে…?
এবার সাদির বেশ রাগ হয়। মুখে মুখে তর্ক তার কোনো কালেই পছন্দ না।তার উপর একে তো সে খেয়াল করেছে ছেলেটার খারাপ দৃষ্টি।ইচ্ছা করে পিহুর হাত ছোয়ার জন্য পানির গ্লাস চাওয়া।খেতে খেতে পিহুর গলার দিকে বার বার তাকানো।ফাইজ এর প্রত্যেক টা পদক্ষেপ পিহুর প্রতি সাদি খেয়াল করেছে।আর এই মেয়ে বলে কিনা দেখিয়ে বেড়াবে আর তার কি। সাদি রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ঠাশ করে পিহুর গালে চড় বসিয়ে দেই। এত জোরে লাগে যে পিহু ছিটকে মাটিতে পড়ে যায়।সাদি রাগে হাটু মুটে বসে পিহুর মুখ উচু করে ধরে বলে উঠে…
-“খুব বেশি বেড়েছিস তুই।খুব জানতে ইচ্ছা করছে আমি বলার কে তাইনা।আমি তোর….
চলবে…..
(আমি তোর কি..?আজকের পর্ব কেমন লাগলো বলে জাও।ভুল ক্রুটি ক্ষমা করো।সামনে কি হতে যাচ্ছে।কেও বাজে মন্তব্য করবেন না)
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৪(ক+খ)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৮