নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৭২ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
পরের দিন খান বাড়িতে যেন রাজকীয় উৎসবের সাজ সাজ রব পড়ে গেল। সকাল থেকেই শোরগোল শুরু হয়েছে। আরশি-শিহাব আর নেহাল-আরফাসহ দূরের অনেক আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়েই চলে এসেছে তুরাকে দেখতে। বাড়ির প্রথম নাতি বা নাতনি আসবে এই আনন্দে তুরাকে যেন সবাই মিলে মাথার ওপর তুলে রেখেছে। রৌশনি খান তো বাড়ির চাকর-বাকর থেকে শুরু করে সবাইকে কড়া নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন যে, তুরা যেন এক পা-ও মাটিতে না ফেলে, যা লাগে সব তার হাতের কাছে যাবে।
তনুজা খান রান্নাঘর আর তুরার রুমের মাঝে পাগলের মতো দৌড়াদৌড়ি করছেন। বারবার এসে জিজ্ঞেস করছেন।
“তুরা,কী খেতে ইচ্ছে করছে বল? ঝাল না কি টক? তুই যা বলবি আমি এখনি নিজ হাতে রান্না করে দিচ্ছি।”
আনোয়ার খান আর আশিক খান তো আরও এক কাঠি সরস। বাচ্চা এখনো পৃথিবীতে আসেনি, অথচ তারা এখনই বড় বড় শপিং ব্যাগ ভরে খেলনা আর ছোট ছোট জামাকাপড় নিয়ে হাজির হয়েছেন। এক কথায়, পুরো খান পরিবার এখন ওই অনাগত নতুন অতিথির খুশিতে মগ্ন।
রৌদ্র সোফায় বসে এই উৎসবের আমেজটা খুব আয়েশ করে উপভোগ করছিল। শিহাব একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, রৌদ্রকে একা পেয়ে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে পাশে বসল। তারপর হালকা গলা খাঁকারি দিয়ে বাঁকা হেসে বলল।
“উহুম উহুম! তো রৌদ্র সাহেব, শেষমেশ বাবা হয়েই যাচ্ছেন? বাহ! খবরটা কিন্তু বেশ রোমান্টিক!”
রৌদ্র শিহাবের রসিকতা বুঝতে পেরে ওর দিকে তাকাল। মুখে একটা আত্মবিশ্বাসী হাসি ফুটিয়ে সে শান্ত গলায় বলল।
“খবরটা যখন তোর কাছে এতই ভালো লেগেছে, তাহলে তুইও একটা খবর কিনে ফেল না!”
শিহাব একদম আকাশ থেকে পড়ল। সে রৌদ্রের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“খবর আবার মানুষ টাকা দিয়ে কেনে নাকি? কসম ভাই, কোনোদিন শুনিনি! খবর আবার কীভাবে কেনে শুনি?”
রৌদ্র একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে শিহাবের কাঁধে হাত রাখল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল আরশি সেখানে আছে কি না, তারপর নিচু স্বরে বলল।
“বোকা! খবর তো বাজারে বিক্রি হয় না। আরশিকে একটা গিফট কিনে দিবি, ডিনার করাবি তারপর দেখবি ও-ই তোকে এমন একটা ‘গুড নিউজ’ বা খবর ফ্রিতেই উপহার দিয়ে দিয়েছে! বুঝলি কিছু?”
রৌদ্রের কথার মানে বুঝতে পেরে শিহাবের কান-মুখ লাল হয়ে গেল। সে হড়বড়িয়ে বলতে লাগল।
“ধুর শা’লা তুই দিন দিন যা অসভ্য হচ্ছিস না! আমি তোর বোনের জামাই লাগি এইটা তুই ভুলে যাস না।”
শিহাবের কথায় রৌদ্র হেসে দিয়ে আরও একটু ঘেঁষে বসল। সে শিহাবের কাঁধটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বন্ধুর মতো আস্থার সাথে বলল।
“শোন, তুই আমার বোন জামাই হওয়ার আগে আমি তোকে বন্ধু মনে করি, তাই কোনো লজ্জা নেই। আমি জাস্ট তোকে হি্ন্টস দিলাম যে এবার তোদেরও একটা গুড নিউজ দেওয়ার সময় হয়েছে। সো মাইন্ড ইট।”
শিহাব রৌদ্রের কথায় লাল হয়ে তাকিয়ে রইল। এইদিকে আরফা আর নেহালের মধ্যে চলছে অন্য কাণ্ড। আরফাকে একপ্রকার জোর করে টেনে হিঁচড়ে রুমে নিয়ে এল নেহাল। তারপর বিছানায় হালকা করে আছড়ে ফেলে দরজাটা আটকে দিল। আরফা বিরক্তি নিয়ে উঠে বসে চিৎকার করে বলল।
“আপনার সমস্যা কী বলুন তো? আমাকে এভাবে জানোয়ারের মতো টেনে রুমে আনলেন কেন? মান-সম্মান কি একদম শেষ করে দেবেন?”
নেহাল আরফার সামনে এসে হাত নেড়ে অস্থির হয়ে বলতে লাগল।
“কেন আনলাম বোঝো না? ওইদিকে দেখো না, রৌদ্র কীভাবে কলার উঁচিয়ে ‘বাপ’ হয়ে বসে আছে! আর আমি এখানে বসে বসে ঘোড়ার ডিম পাড়ছি? রৌদ্রের ওই সম্মানটা দেখেছ? বাড়ির সবাই ওকে নিয়ে কী মাতামাতি করছে! আমারও এখন ওই সম্মানটা চাই। মানে সহজ কথা হলো আমিও এখন বাবা হতে চাই! আর তাই আমি ঠিক করেছি, তোমাকেও এখনই বাচ্চার আম্মু বানাব।”
নেহালের কথা শুনে আরফার চক্ষু চড়কগাছ! সে হতভম্ব হয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল।
“কীহহহ! আপনার মাথায় কি কোনো সমস্যা? নাকি পাগলা গারদ থেকে ছাড়া পেয়েছেন? এসব কী আজেবাজে বকছেন আপনি?”
নেহাল ততক্ষণে সিরিয়াস মুডে। সে শার্টের ওপরের বোতামগুলো একে একে খুলতে শুরু করল। আরফার দিকে শিকারি বেড়ালের মতো ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে যেতে বেশ রোমান্টিক কিন্তু জেদি গলায় বলল।
“হুম, একদম ঠিক ধরেছ! আমার মাথায় বিরাট বড় সমস্যা হয়েছে। আর এই সমস্যা একমাত্র আমি ‘বাপ’ হওয়ার পরেই ঠিক হবে। এখন আর কথা না বাড়িয়ে লক্ষ্মী মেয়ের মতো কাছে আসো সোনা, তোমাকে আজই বাচ্চার আম্মু বানিয়ে ছাড়ব!”
নেহাল হাত বাড়িয়ে আরফাকে ধরতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে আরফা এক দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে বিছানা থেকে সরে গেল। নেহাল আরফাকে ছোঁয়ার আগেই সে চিতার মতো দৌড়ে গিয়ে রুমের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে পড়ল। যাওয়ার সময় দরজার আড়াল থেকে মুখ বের করে ভেঙচি কেটে বলে গেল।
“ওরে আমার বাবা হওয়ার শখ রে! আপনি একাই রুমে বসে বসে খাটকে বাচ্চার আম্মু বানান, আমি গেলাম।”
বলেই আরফা ভোঁ-দৌড় দিল নিচে। নেহাল বেচারা ধরতে গিয়েও ধরতে পারল না। সে চরম অসহায় মুখ করে ধপ করে খাটে বসে পড়ল। দুই হাতে মাথার চুলগুলো জট পাকিয়ে এলোমেলো করে দিয়ে আক্ষেপের সুরে বিড়বিড় করল।
“বউ রে বউ! আমার এই কষ্টের হাহাকারটা তুই বুঝলি না? পাষাণ বউ একটা! রৌদ্রের সম্মান দেখে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে আর তুই আমাকে খাট নিয়ে থাকতে বলিস? যাহ আর কোনোদিন তোরে বাচ্চার আম্মুই বানাবো না।”
এদিকে ছাদে শিহাবও মেতে উঠেছে অন্যরকম এক দুষ্টুমিতে। আরশিকে জোর করে এক কোণে এনে দেয়ালে চেপে ধরে সে বেশ কায়দা করে বলল।
“শোনো বউ, আমি কবে বাবা হবো? তোমার ভাইকে ওইভাবে কলার উঁচিয়ে ঘুরতে দেখে আমার কিন্তু বড্ড হিংসা হচ্ছে!”
আরশি শিহাবের এমন সোজাসাপ্টা কথায় লজ্জায় লাল হয়ে গেল। কিন্তু সেও কম যায় না।শিহাবের কাঁধে দুই হাত রেখে তার নাকটা হালকা করে টেনে দিয়ে আদুরে গলায় বলল।
“ওলে আমার কিউট জামাইটার বুঝি এখন বাবা হওয়ার শখ জাগছে?”
শিহাব বাচ্চার মতো মাথা নেড়ে সায় দিল।
“হুম, অনেক শখ!”
আরশি হেসে দিয়ে বলল।
“পাগল! আল্লাহ যেদিন চাইবেন, সেদিনই হবে। ধৈর্য ধরেন।”
কিন্তু শিহাব এবার আরশির কোমর জড়িয়ে ধরে একদম তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“কিন্তু তার আগে আমাদের তো একটু হার্ডওয়ার্ক বা চাকরি করতে হবে, তাই না? আমরা নিজেরা চাকরি না করে শুধু আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ কীভাবে দিবে বলো?”
আরশি প্রথমে শিহাবের এই ‘চাকরি’র মানে বুঝতে পারল না। সে বড় বড় চোখ করে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। শিহাব তখন আরশির কানে কানে আরও একটু গভীরে গিয়ে ফিসফিস করল।
“বুঝলে না? মানে বাবা হওয়ার জন্য তো আমাদের আগে খাট ভেঙে চাষবাস করতে হবে! তাহলে চলো, এখন থেকেই খাট ভাঙা শুরু করে দিই?”
শিহাবের এমন নির্লজ্জ রসিকতায় আরশির সারা শরীর লজ্জায় শিউরে উঠল। সে শিহাবের কাঁধে একটা হালকা চাপড় মেরে মুখ লুকিয়ে বলল।
“যান! আপনার কি একটুও লজ্জা করে না? মুখে কি একদমই আটকায় না এসব বলতে?।”
শিহাবের কথায় আরশি লজ্জায় নুয়ে পড়ছে,। শিহাব আরশিকে আরও পরম আবেশে নিজের বুকের মাঝে টেনে নিল। আরশির কানের কাছে মুখ নিয়ে সে গম্ভীর কিন্তু ভালোবাসামাখা গলায় বলল।
“শুধু লজ্জা পেলে কি আর আমার বাবা হওয়ার শখ পূরণ হবে? শোনো আরশি, বাবা হতে গেলে মাঝেমধ্যে একটু অসভ্য, একটু ঠোঁটকাটা আর নির্লজ্জ হতেই হয়। আর আমি যেহেতু বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই এখন থেকে আমি তোমার কাছে ওই অসভ্য আর নির্লজ্জ জামাইটাই। ধরো আমাদের ভালোবাসাটাই হবে এক প্রকার #নির্লজ্জ_ভালোবাসা যেখানে এক ফোঁটা লোকদেখানো লজ্জা থাকবে না, থাকবে শুধু আমাদের দুজনের একান্ত পাগলামি। বুঝলে আমার মিষ্টি বউ?”
শিহাবের এমন খোলামেলা কথায় আরশি যেন লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে শিহাবের শক্ত বুকের ওপর ছোট ছোট কিল-ঘুষি মারতে মারতে মুখ লুকিয়ে আদুরে গলায় বলল।
“অসভ্য একটা!”
শিহাব সেই গালমন্দটুকুও যেন সুধা মনে করে গ্রহণ করল। সে আরশিকে আরও শক্ত করে বাহুবন্দি করে তৃপ্তির হাসি হেসে বলল।
“হুম, আমি অসভ্য, তবে শুধু তোমারই অসভ্য জামাই!”
আরশিও আর নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারল না। সেও শিহাবকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বুকের ধুকপুকানি শুনতে লাগল। ছাদের শান্ত বাতাসে তখন কেবল তাদের দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ। দুজনেই চোখ বন্ধ করে নিজেদের এই সুন্দর মুহূর্তটাকে অনুভব করতে থাকল।
সময় টা শীত নেমে এসেছে। বিকেলের মিঠে রোদটা পড়ে আসতেই চারদিকে হালকা হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শীতের এই আমেজটুকু গায়ে মাখতে খান বাড়ির সবাই ছাদে জড়ো হয়েছে। তুরা, আরশি, তিথি আর আরফা এই চারজন এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি আর আড্ডায় মগ্ন। বিশেষ করে তুরাকে নিয়ে সবার আদিখ্যেতার শেষ নেই।
তাদের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে সেই ‘অসভ্য’ বাহিনী থুক্কু, বাড়ির চার কৃতি সন্তান+মেয়ে জামাই। রৌদ্র, শিহাব, আয়ান আর নেহাল। রৌদ্র আর শিহাবের মধ্যে তখনো গোপন হাসি-ঠাট্টা চলছে, আর আয়ান বরাবরের মতোই কিছুটা চুপচাপ, হাতে কফির মগ নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে।আড্ডার মাঝপথে হঠাৎ নেহাল শয়তানি হাসি দিয়ে আয়ানের দিকে তাকাল। সে বেশ গলা চড়িয়েই বলল।
“তো আয়ান ভাই, রৌদ্র ভাই তো লাইনে চলে আসছে, পাক্কা বাপ হয়ে গেল! আপনার খবরটা কবে শুনব বলেন তো? আপনি কি সারাজীবন ওই গম্ভীর মুখ করেই বসে থাকবেন, নাকি ভাতিজা-টাতিজা আমাদের দেখাবেন?”
আয়ানের সিরিয়াস ভাব দেখে নেহাল একটু থমকে গেলেও আয়ান দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে কফির মগটা হাতে নিয়ে বেশ ভাব নিয়ে বলল।
“আসলে নেহাল, আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আমি আপনার বড় সুমুন্দি হই। শ্যালক বলে কথা! তাই একটু বুঝে-শুঝে প্রশ্ন করবেন, কেমন?”
আয়ানের এই সুমুন্দি মার্কা গম্ভীর বুলি শুনে শিহাব হো হো করে হেসে উঠল। সে আয়ানের পিঠে একটা ধুম করে চাপড় মেরে বলল।
“ধুর শা’লা! এসব সুমুন্দি-টুমুন্দি বাড়ির ভেতর রাখ। এখানে আমাদের আশেপাশে কোনো বউ নাই, তাই এই মুহূর্তে আমরা সবাই অনলি সিঙ্গেল আর জাস্ট বন্ধু, বুঝেছিস?”
নেহাল যেন এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল। শিহাবের ‘সিঙ্গেল’ হওয়ার দাবি শুনে সে মুহূর্তেই একটা শয়তানি চাল চালল। সে হঠাৎ আরশির দিকে মুখ ফিরিয়ে বেশ গলা উঁচিয়ে চিৎকার করে বলল।
“এ এ হে! আরশি দেখ তোর জামাই কী কয়? দুদিন পর যে দুই-তিন বাচ্চার বাপ হবে, সেই লোক বলতেছে সে নাকি সিঙ্গেল! তাড়াতাড়ি ঝাটা নিয়ে আয় তো, এই সিঙ্গাপুরকে একটু ঝাটা পেটা করে সোজা কর।”
শিহাবের তো আত্মারাম খাঁচা হওয়ার দশা! নেহাল যে এভাবে ধরিয়ে দেবে সে ভাবতেও পারেনি। সে তড়িঘড়ি করে নেহালের মুখ চেপে ধরল আর দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলল।
“শা’লা বেইমান! বন্ধুত্বের নামে কলঙ্ক তুই!”
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আরশি নেহালের সব কথা পরিষ্কার শুনতে না পেলেও ‘সিঙ্গেল’ আর ‘ঝাটা’ শব্দগুলো শুনে অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। শিহাব দেখল আরশি তার দিকেই তাকাচ্ছে, অমনি সে দাঁত বের করে একটা কাঁচুমাচু হাসি দিল। তারপর নেহালের ওপর থেকে হাত সরিয়ে হাফ ছেড়ে বিড়বিড় করে নেহালকে বলল।
“তোর সাথে বন্ধুত্ব করার আগেই আমি ছ্যাঁকা খাইলাম রে ভাই! আর না, মাফ চাই। তুই তো দেখছি জ্যান্ত ডিনামাইট, কখন কারে ফাটাবি ঠিক নাই।”
আরশি আড্ডা দিতে দিতে হুট করেই ঠিক করল ব্যাডমিন্টন খেলবে। এই শীতের বিকেলে ছাদের আড্ডার সাথে খেলার আমেজটা জাস্ট জমে যাবে। সে আর দেরি না করে একছুটে নিচে গিয়ে কগ আর ব্যাট নিয়ে এল। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতেই আরফা দূর থেকে আয়ানদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল।
“এই যে অসভ্য বাহিনী! আপনারা কি খেলবেন?”
অনেক দিন খেলা হয় না দেখে সবাই এক কথায় রাজি হয়ে গেল। তবে বাধ সাধল রৌদ্র। সে তুরাকে কোনোভাবেই খেলতে দেবে না। তার চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা যদি তুরা খেলার ছলে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়! কিন্তু তুরাও ছাড়ার পাত্রী নয়, সে ছোট বাচ্চার মতো জেদ ধরে বসে থাকল যে সে খেলবেই। শেষমেশ রৌদ্রকে হার মানতে হলো তার মিষ্টি জেদের কাছে।
ছাদের মাঝখানে নেট টানানো হলো। দল ভাগ করা হলো খুব ইন্টারেস্টিং ভাবে ১৫ পয়েন্টে গেম হবে। একদিকে চার নারী শক্তি (তুরা, তিথি, আরশি, আরফা) আর অন্যদিকে চার পুরুষ রত্ন (রৌদ্র, আয়ান, শিহাব, নেহাল)।
প্রথমেই কোর্টে নামল রৌদ্র আর তুরা। তুরা কগ ব্যাট দিয়ে সজোরে শট দিয়ে নেটের ওপাশে পাঠাল। রৌদ্রও খুব সাবধানে অথচ নিপুণভাবে সেটা ফিরিয়ে দিল। স্বামী-স্ত্রীর এই মিষ্টি লড়াই দেখে বাকিরা কোর্টের চারপাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে লাগল। পুরো ছাদ জুড়ে এখন হাসাহাসি আর উত্তেজনার রোল।
খেলার শুরুতেই তুরা একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে উল্টোপাল্টা শট দিয়ে ফেলল, আর অমনি কগটা নেটে আটকে গিয়ে সে ‘মরে’ গেল। তুরা ছোট বাচ্চার মতো মুখ কাঁদো কাঁদো করে দাঁড়িয়ে পড়ল, হার মেনে নেওয়াটা তার একদম পছন্দ নয়। রৌদ্র অবশ্য হারের কষ্টে না, বরং তুরা বেশিক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করেনি ভেবে মনে মনে একটু স্বস্তিই পেল।
এবার কোর্টে নামল আরশি। আরশি ছোটবেলা থেকেই রৌদ্রের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলে বড় হয়েছে, তাই দুজনের খেলাটা এবার বেশ স্পিডে জমে উঠল। কেউই কগ পড়তে দিচ্ছে না। দীর্ঘক্ষণ লড়াই চলার পর রৌদ্রের এক দুর্দান্ত স্ম্যাশে আরশি পরাস্ত হলো। ছেলেরা পরপর ২ পয়েন্ট পেয়ে গিয়ে খুশিতে নাচতে শুরু করল।
মেয়েরা তখন তিথিকে কোর্টে নামাল। তিথি শুধু শখের খেলোয়াড় নয়, তার হাত বেশ চালু। সে কোর্টে নামতেই খেলার মোড় ঘুরে গেল। রৌদ্রের সবকটা কঠিন শট সে খুব ঠান্ডা মাথায় ফিরিয়ে দিতে লাগল। শেষমেশ রৌদ্রের এক ভুল জাজমেন্টে তিথি পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল। রৌদ্র ‘মরে’ যেতেই মেয়েরা চিৎকার করে ছাদ মাথায় তুলল। তিথি! তিথি ফাটিয়ে দিয়েছিস।
রৌদ্র হার মেনে নিয়ে হাসতে হাসতে কোর্ট থেকে সরে দাঁড়াল। শিহাব আর নেহাল যখন যাওয়ার জন্য পা বাড়াচ্ছিল, তখন তিথির দিকে এক চ্যালেঞ্জিং দৃষ্টিতে তাকাল সবাই। শিহাব নেহাল সমস্বরে আয়ানকে নামতে বলল। আয়ানও আর কোনো কথা বাড়াল না,সোজা কোর্টে নেমে পড়ল।
রানিং…!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩