দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১১
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“জাবির রায়হান চৌধুরীর What’s app একাউন্টে আদ্রিয়ানা ছবি সেন্ড করে দেয় সামির”! ছবি সাথে মেসেজে লিখে দেয়”,,,,
“দোস্ত তোর দেওয়া বর্ণণা অনুযায়ী এই একটা মেয়েকেই খুঁজে পেয়েছি”! দেখতো এই মেয়ে টা কি না” ?
“মেসেজ টা পাঠিয়ে দিয়েই গোসল করতে চলে যায় সামির”! মিনিট দশেক পর গোসল করে বের হয়ে এসে দেখে বেডের উপর থাকা ফোন টা বাজছে”। সামির বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে ফোন টা হাতে তুলে নেয়”। জাবির কল করেছে তাই সঙ্গে সঙ্গে ফোন টা রিসিভ করে সামির”।
“দোস্ত এতো দিন পর একটা কাজের কাজ করেছিস”! এটাই সেই মেয়ে যাকে দেখে এই জাবির রায়হান চৌধুরী উস্টা খাইয়া তাঁর প্রেমে পড়ে গেছে”! বাই দা ওয়ে দোস্ত ওর নাম্বার নিয়েছিস” ?
“হুম নিয়েছি”!
“তাড়াতাড়ি নাম্বার টা সেন্ড কর”!
“জ্বী না এতো সহজে তো নাম্বার দেওয়া যাবে না। আগে ট্রিট্র দিবি তাঁর পর নাম্বার পাবি” ?
“তোর কেমন ট্রিট্র লাগবে শুধু বল”!
“ট্রিট্র মানেই তো খাওয়া দাওয়া। খাওয়া দাওয়া ছাড়া আর কেমন ট্রিট্র চাইবো”?
“আমি টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি তোর যা ইচ্ছে তাই খেয়ে নিস ওকেই” ?
“ওকেই” ?
“এখন তো নাম্বার টা দে প্লীজ” ?
“ফোন রাখ আমি WhatsApp একাউন্টে মেসেজ করে পাঠিয়ে দিচ্ছি” ?
“আচ্ছা ঠিক আছে ফাস্ট পাঠা” !
“সামির ফোন কেটে দিয়ে আদ্রিয়ানার ফোন নাম্বার টা জাবিরের WhatsApp একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়”! আদ্রিয়ানার নাম্বার পাওয়ার সাথে সাথেই আদ্রিয়ানা কে কল দেয় জাবির”! রিং পড়ার সাথে সাথেই রিসিভ হয়ে যায়”।
“আসসালামুয়ালাইকুম” ?
“ওয়ালাইকুমুস সালাম”। কেমন আছেন?
“জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো” কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না” ?
“আমাকে আপনি চিনবেন না” ?
“আপনি তো আমাকে চিনেন তাই না” ?
“হুম”।
“তাহলে আমিও আপনাকে চিনবো আপনার নাম টা বলুন”।
“জাবির রায়হান চৌধুরী”!
“কি বললেন ? আপনার নাম কি ?
“জাবির, জাবির রায়হান চৌধুরী”।
“আপনি কি সত্যি জাবির রায়হান চৌধুরী ” ?
“কোন সহেন্দ আছে ?
“নাহ কোন সহেন্দ নেই! তা আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেলেন” ?
“পেয়েছি কোন এক ভাবে”!
ওও আচ্ছা।
“বাই দা ওয়ে এখন মেন কথায় আসা যাক”
, আমি জানি না তোমার নাম কি, কিন্তু প্রথম দেখায় আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলছি। তোমার সাথে কথা বলে মনে হয়েছে তুমি আমার জীবনের জন্য বিশেষ কেউ। তোমার চোখ, তোমার কথা, সবকিছুই আমাকে আকর্ষণ করে। আমি জানি না তুমি কি ভাবছো, কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি।
I love you,,,,,
“জাবিরের মুখে এমন কথা শুনে অবাকের দ্বিগুন পর্যায়ে যায় জারা”! জাবির রায়হান চৌধুরী আমাকে প্রপোজ করছে আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি”। জাবিরের কথা জারা বাস্তবে ফিরে”,,
“কি হলো মেয়ে চুপ করে আছো কেনো” ?
“কককই চুপ করে আছি” কথা বলছি তো” ?
“এই ভাবে কথা বলছো কেন” ?
“আসলে আমি নার্ভাস হয়ে গেছি” ?
“কেনো” ?
“আপনার কাছ থেকে প্রপোজ পেয়ে”।
“ওও আচ্ছা তা তুমি কি রাজি” ?
“হুম রাজি”! তবে আমার কিছু শর্ত আছে”I
“বলে ফেলো কি শর্ত” ?
“আমরা কখনো ভিডিও কলে কথা বলবো না”! একে অপরের সাথে দেখা ও করবো না “। বিয়ের সময় হলে তখন ফ্যামিলি কে জানিয়ে বিয়ে করে নিবো”. যতদিন না আমাদের বিয়ে হবে ততদিন ভিডিও কল বা দেখা কোনটাই করবো না। শুধু মেসেজে আর অডিও কলে কথা হবে ওকেই ?
“ওকেই ডান”!
“তাহলে love you too…
“এর পর থেকে শুরু হয় জাবির রায়হান চৌধুরী আর আদ্রিয়ানা মানে জারার প্রেম কাহিনী”!
( বর্তমান )
“জাবিরের এক হাতে সিগারেট আরেক হাতে ড্রিঙ্কস”। জাবির একবার ড্রিঙ্কসের বোতলে চুমুক দিচ্ছে আরেকবার সিগারেট টানছে। জাবিরের চোখে একটা বিষন্নতা, যেন কোনো কষ্ট ভুলতে চাইছে সে”।
“জাবিরের চোখের বিষন্নতা বলে দিচ্ছে, তার হৃদয়টা ভেঙে গেছে। হয়তো কোনো ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছে, নয়তো কোনো স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সে চাইছে সব ভুলে যেতে, কিন্তু স্মৃতিগুলো তাকে তাড়া করছে। সিগারেট আর ড্রিঙ্কস তার কাছে সাময়িক শান্তির উৎস, কিন্তু আসল কষ্টটা রয়েই যাচ্ছে”।
“জাবিরের গলায় আঁচড় লেগে যাওয়া কান্নাটা যেন আবার উঠে আসছে। সে চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
গান একটা গান গাইলে হয়তো কষ্ট টা একটু কমবে। এটা ভেবে ড্রিঙ্কসের বোতল রেখে দিয়ে পাশে থাকা গিটার টা হাতে তুলে নেয় জাবির”। এই গিটার টাই তাঁর সুখ দুঃখের সঙ্গি”।
“জাবিরের আঙ্গুলগুলো গিটারের তারে আলতো করে স্পর্শ করলো। একটা মৃদু সুর বেজে উঠলো, যেন তার হৃদয়ের কান্নার প্রতিধ্বনি। সে চোখ বন্ধ করে গাইতে শুরু করলো”,,,
” ভিতর কান্দে শখি আমার তোমার লাগি দেখলা না”,,,
” আর কত কাল রাখবা তোমার মন ভিবাগী বুঝলাম না”,,
“তোমার মনের মনি কোঠায় দাও না আমায় একটু ঠাঁই”,,
“তোমার মনের মনি কোঠায় দাও না আমায় একটু ঠাঁই”,,
“মন আর মানে না”,,,,
“ভিতর কান্দে শখি আমার তোমার লাগি দেখলা না”,,
“আর কত কাল রাখবা তোমার মন ভিবাগী বুঝলাম না”,,,,
“গান শেষ হতেই ফ্লারে বসে পড়ে জাবির”। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে নোনাজল “। জাবিরের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। সে গিটারের তারে মুখ গুঁজে ভেঙে পড়লো। তার কাঁধের কম্পনে বোঝা যাচ্ছে, সে কতটা ভেঙে পড়েছে।”
☘️
“সকাল দশটা। এইমাত্র আদনানের ঘুম ভেঙেছে”। চোখ মেলে পাশ ফিরতেই তার হৃদয়টা যেন থমকে গেলো – আদ্রিয়ানা পাশে নেই! এক লাফে বিছানা থেকে উঠে সে রুম থেকে বেরিয়ে এলো, যেন তার শরীরে বিদ্যুতের মতো শক্তি খেলে গেছে। আদ্রিয়ানা কে খুঁজতে খুঁজতে নিচে চলে যায় আদনান”! নিচে নেমে কিসের যেন একটা মিষ্টি গন্ধ পেলো, যা তার নাকে এসে লাগলো। রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো, আদ্রিয়ানা রান্না করছে। আদনানের মুখে ফুটে উঠলো একটা অবিশ্বাস্য হাসি। আদনান ধীর পায়ে আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে গেলো। পিছন থেকে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানার ঘাড়ে মুখ গুজে দিলো”!
“অবশেষে পান্ডার ঘুম ভেঙ্গেছে তাহলে” ?
“অবশেষে মানে ? মাত্র তো দশটা বাজে”!
“দশটা আপনার কাছে মাত্র মনে হচ্ছে “?
“হুম”!
“যান ফ্রেশ হয়ে আসুন” ?
“কি নাস্তা তৈরি করেছো বৌ” ?
“পরতা আর চা”!
“ওও আচ্ছা তা এখানে কি রান্না করছো” ?
“ভাত, গরুর মাংস আর চিংড়ি মাছ দিয়ে পালন শাক”।
“বৌ তুমি রান্না করতো পারো” ?
” জ্বী মিস্টার পান্ডা আপনার বৌ সব রান্নাই করতে পারে”!
“তাহলে তো ভালোই ?
“হুম এখন আমাকে ছাড়ুন আর গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন যান” ?
“আদনান আদ্রিয়ানা কে ছেড়ে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়”। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসে”। “আদ্রিয়ানা আদনান কে নাস্তা দেয় আদনান খাওয়ার শুরু করে”। খাওয়া শেষে আদ্রিয়ানা কে রান্নার কাজে হেল্প করতে থাকে আদনান”।
☘️
“রাত এগারোটা।” “আদনান কোন শব্দ না করেই বেড থেকে উঠে বসে”। আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন”। আদনান আস্তে করে বেড থেকে নেমে ছাঁদে চলে যায়”।
“পায়ের উপর পা তুলে মনের সুখে সিগারেট পোড়াচ্ছে আর ফেসবুক স্কোর করছে আদনান”। বিয়ের পর থেকে সিগারেট খাওয়া হয় নিই তাঁর”। ফেসবুকের একটা পোস্টে চোখ আটকে যায় আদনানের”। “বাসর ঘরের ছবি”।
“বালের পোস্ট টা সামনে আসার আর সময় পেল না”। রাত এগারোটা সময়ই সামনে আসতে হলো ? এখন কি করি ? আমার তো বাসর করার নেশা উঠে গেছে”!
” বাল আর কন্ট্রোল করতে পারছি না। DNA উত্তেজিত হয়ে গেছে। যে করেই হোক বৌ কে বাসর করার জন্য রাজি করতে হবে! কিন্তু কি ভাবে” ?
“কি করা যায়? “কি করা যায়? “কি করা যায় ?
“আইডিয়া” ? Google আছে না। Google থাকতে চিন্তা কিসের” ?
“কথা টা বলেই Google এ প্রবেশ করে আদনান”
“বাসর করার জন্য বৌ কে রাজি করানোর ভালো মানের কিছু টিপস্ দাও তো ?”
“লে Google সরি ব্রো বাসর করার জন্য বৌ কে রাজি করানোর কোন টিপস্ আমাদের কাছে নেই। তবে আপনি যদি বাসার করার জন্য উত্তেজিত হয়ে থাকেন তাহলে একটা কাজ করতে পারেন। বৌয়ের সামনে গিয়ে মাতলামির অভিনয় করা শুরু করেন। আপনার মাতলামি দেখে বৌ যদি ভয় পায় তাহলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাম সেরে ফেলুন”।
“আদনান ফোনের দিকে তাকিয়ে বলে”,,
“গুড আইডিয়া”!
“এই কথা বলে ছাঁদের উত্তর পাশে যায় আদনান”। ছাঁদের উত্তর পাশে একটা সুইমিং পুল আছে। সুইমিং পুলের ডান পাশে ড্রিঙ্কস মানে লাল পানি রাখার ব্যবস্থা আছে। যেখানে সব সময় ড্রিঙ্কস থাকে”। আদনান একটা লাল পানির বোতল হাতে তুলে নেয়। বোতলের ঢাকনা খুলে ড্রিঙ্কস খেতে খেতে পা বাড়ায় রুমে দিকে”। মিনিট দুয়েকের মধ্যে রুমে পৌঁছে যায়”। রুমে ঢুকতেই দেখে আদ্রিয়ানা বেডের উপর বসে আছে”। আদনান কে দেখে বেড থেকে নেমে আদনানের দিকে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানা”।
“ওয়াক থু মিস্টার পান্ডা আপনি নেশা করেছেন” ?
বড় পর্ব দিয়েছি আশা করি তোমরা ও বড় বড় রেসপন্স করবা আর গল্প টা সম্পর্কে বড় বড় অনুভূতি প্রকাশ করবা। কেউ next next, next part , পরের পর্ব এইসব বলবা না ওকেই ?
( সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই )
চলবে,,,,,,
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২