দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১৫
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
( বর্তমান )
“আদ্রিয়ানা মুখ ফিরিয়ে নিস না। তুই মুখ ফিরিয়ে নিলে যে আমরা বাঁচতে পারবো না”।
“খালার মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা বলে”…..
“কোন মুখে ক্ষমা চাইছো ? আমার উপর কতটা অত্যাচার টর্চার করেছো ভুলে গেছো”? তোমরা যদি অত্যাচার আর টর্চারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে তাহলে ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু তোমরা থাকো নিই। আমার থেকে সব কিছু লিখে নিয়ে ও তোমরা শান্ত হও নিই। কিছু টাকার বিনিময়ে আমাকে প্রতিতালয়ের মতো খারাপ জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছিলে। তোমাদের ক্ষমা নেই। তোমাদের কে আমি কখনোই ক্ষমা করবো না”।
…”মিস্টার পান্ডা আপনি ওদের কে কি শান্তি দিবেন তাড়াতাড়ি দেন। আমি ওদের আর্তনাদ চিৎকার শুনার জন্য অপেক্ষা আছি”।…
“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে আদনান তাঁর গার্ডদের কে উদ্দেশ্য করে বলে বলে”….
“তোমাদের ম্যাম কি বলছে শুনো নিই ? ওদের উপর টর্চার শুরু করো”।
“আদনানের কথা মতো দুইজন ছেলে গার্ড আদ্রিয়ানার খালুর হাতে ছুরি দিয়ে পোজ দিতে থাকে। আর দুইজন মেয়ে গার্ড আদ্রিয়ানার খালার হাতে পোজ দিতে থাকে। আদ্রিয়ানার খালা আর খালু ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকে। হাতে পোজ দেওয়া হলে গেলে সারা শরীর পোজ দিতে থাকে। আদ্রিয়ানার খালু আর খালা ব্যাথায় চিৎকার করছে। আর বারবার আদনান আর আদ্রিয়ানার কাছে ক্ষমা চাইছে”…
“সারা শরীর পোজ দেওয়া শেষ হলে ক্ষত স্থানে লবণ, মরিচের গুঁড়া, ঝাল কাঁচা মরিচ আর বোম্বাই মরিচ লাগিয়ে দেওয়া হয়। ওরা ব্যাথায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে। কিন্তু ওদের চিৎকার পাতল ঘর ভেদ করে বাহিরে যাচ্ছে না। খালা আর খালুর এমন অবস্থা দেখে আদ্রিয়ানার বেশ কষ্ট হয়। আদনানের হাত জড়িয়ে ধরে বলে “…
“মিস্টার পান্ডা এই খান থেকে চলুন। এইসব দেখতে আমার কষ্ট হচ্ছে”।
“মন নরম করে দেখলে তো কষ্ট হবেই। মন কে শক্ত করে ওদের চিৎকার আর চিহারার ভাব ভঙ্গি গুলো ইনজয় করো”।
” মিস্টার পান্ডা আপনি কি যাবেন” ?
“হুম যাবো”।
“তাহলে চলুন “
“আদনান উঠে দাঁড়ায়। আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে”….
“মিস্টার পান্ডা আমাকে কোলে তুলে নিন”।
“আদ্রিয়ানার কথা মতো আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নেয়। আদনান সামনের দিকে পা বাড়াতেই গিয়ে ও আবার থেমে যায়। আজিজের দিকে তাকিয়ে বলে”…
“শুনো আজিজ আজ সারাদিন ওদের কে এই ভাবেই টর্চার করবে। খাবার দেওয়া তো দূরের কথা এক ফোঁটা পানি ও দিবা না। আধ মরা হয়ে গেলে চেয়ার সহ নিয়ে গিয়ে চেয়ারের সাথে হাত পা গুলো ভালো করে বেঁধে চেয়ার সহ সমুদ্রের মাঝখানে ফেলে দিবে ওকেই ” ?
“ওকেই স্যার “!
“আদনান আদ্রিয়ানা কে নিয়ে পাতাল ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আর আজিজ আর কিছু গার্ড আদ্রিয়ানার খালু আর খালা কে টর্চার করতে থাকে”।…..
☘️
“বিকেল পাঁচটা। আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মাথা রেখে আদনান কে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। আদ্রিয়ানা মাথা টা একটু উপরে তুলে আদনানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে”….
“মিস্টার পান্ডা শুনেন না” ?
“শুনছি তো কইতরির মা আপনি বলেন না”।
“বলছিলাম যে আমার খালা আর খালু কে কি এইবার ছেড়ে দেওয়া যায় না,? অনেক তো টর্চার করলেন এইবার না হয় ছেড়ে দেন”।
“ঘরওয়ালী তুমি যদি এই কথা টা আর একটু আগে বলতে তাহলে ওদের কে বাঁচানো যেতো”!
….”মানে”…..
“আদনান আদ্রিয়ানা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে “….
“মানে হচ্ছে তোমার খালা আর খালু কে টানা সাত ঘণ্টা টর্চার করার পর আধমরা হয়ে গিয়েছিল বলে আজিজ তাদের কে সমুদ্রের একদমই মাঝখানে ফেলে দিয়ে আসছে। এতোক্ষণে মনে হয় সমুদ্রে থাকা প্রাণীর পেটে চলে গেছে”।
“আদনানের মুখে এমন কথা শুনে আদ্রিয়ানা হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে। আদনান আদ্রিয়ানা কে নিজের বুকে আগলে নেয়। আদ্রিয়ানার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে”……
“রিলেক্স বৌ রিলেক্স। তুমি কার জন্য কান্না করছো ? ওই লোক গুলোর জন্য, যে লোক গুলো তোমাকে দিনের পর দিন টর্চার করেছে তাদের জন্য। যারা কিছু টাকার জন্য খারাপ জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে তুমি তাদের জন্য কান্না করছো” ?
“আদ্রিয়ানা কান্না করেই যাচ্ছে। আদ্রিয়ানার চোখের পানিতে আদনানের টিশার্ট ভিজে গেছে। তাঁর পর ও আদনান আদ্রিয়ানা কে নিজের বুকে আগলে রেখেছে”।
“মিনিট দশেক পর আদ্রিয়ানার কান্না থেমে যায়। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা ঘুমিয়ে পড়েছে। আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু খেয়ে আদ্রিয়ানা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে”।
☘️
“রাত আটটার দিকে আদনানের ডাকে আদ্রিয়ানার ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ ডলতে ডলতে আদনানের বুকের উপর থেকে উঠে বসে আদ্রিয়ানা। আদনানের দিকে এক পলক তাকিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। টাওয়েল নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আদ্রিয়ানা। আদনান আদ্রিয়ানা কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানার ঘাড়ে মুখ বসিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা কেঁপে উঠে আদনানের হাত জড়িয়ে ধরে বলে”…
“মিস্টার মাফিয়া কি হচ্ছে টা কি”..?
“কইতরির মা কে আদর করা হচ্ছে”।…
“এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানা কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে কাছে টেনে নেয়। আদ্রিয়ানার দিকে কিছু টা ঝুঁকে বলে”…
“কইতরির মা কে কি একটা চুমু খেতে পারি”?….
“কইতরির বাপ তো দেখছি আজকাল পারমিশন নেওয়া ও শুরু করছে”…..
“পারমিশন নিলে ও দোষ না নিলে ও দোষ। দূর বাল পারমিশন নেওয়ার মাইরে সালাম”…
“এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে বলে”…
“এক মিনিট ওয়েট করো আমি এক্ষুনি আসছি”…
“এই কথা বলে আদনান কাবাটের দিকে এগিয়ে যায়। কাবাট খুলে কাবাট থেকে একটা শপিং ব্যাগ বের করে আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে আসে। শপিং ব্যাগ টা আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে”…
“এটা পড়ে রেডি হয়ে নাও তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো”।
“রাত সাড়ে আটটা বাজে আর আপনি বলছেন ঘুরতে যাবেন, এটা ঘুরতে যাওয়ার সময়”?…..
“আমার কাছে এটাই ঘুরতে যাওয়ার সময়”। এখন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।
“রাতের বেলায় ঘুরতে যেতে আমার ভালো লাগে না। আমি এখন ঘুরতে যাবে না”।
“ওকেই ঘুরতে যাওয়া লাগবে না। তবে এই ড্রেসটা তোমাকে পড়তেই হবে”…
“রাতের বেলায় কেনো ? কালকে পড়ি”?..
“নাহ এক্ষুনি পড়তে হবে”।
“কইতরির বাপ আসলেই কি ড্রেস টা পড়তে হবে”?…
“হুম পড়তে হবে”।
“আচ্ছা ঠিক আছে পড়ে আসছি”..
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা ওয়াস রুমের দিকে পা বাড়াতে যাবে ঠিক তখনি আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলে”……
“ওই দিকে কোথায় যাচ্ছ কইতরির মা”?….
“কইতরির বাপ ওই দিকে কি দেখা যায় দেখেন তো”…..
“আদনান তাকিয়ে বলে”……
“ওয়াস রুম”…
“আমি ওই খানেই যাচ্ছি”।
“কিন্তু কেনো”?….
“ড্রেস টা পড়ার জন্য”।
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলে”…
“ড্রেসটা আমার সামনেই পড়ো না”।
“আপনার সামনে মানে”?….
“আমার সামনে মানে আমার সামনে”।
“আপনার সামনে কেমন কি”?….
“আমার সামনে ড্রেস পড়তে কি কোন সমস্যা”?…
“শুধু সমস্যা না, সমস্যার বাপ”।
“কইতরির মা”?…..
“বলেন কইতরির বাপ”।
“তোমার শরীরে এমন কোন অংশ কি অবশিষ্ট আছে যে অংশ টা আমি দেখিনি, আমার ঠোঁট স্পর্শ করে নিই”?…..
“দুষ্টু পান্ডা”
“সব সময় শুধু দুষ্টু দুষ্টু কথা বলেন কেনো”?….
“দুষ্টু পান্ডা তো দুষ্টু দুষ্টু কথাই বলবে তাই না দুষ্টু পান্ডার বৌ”…
“হয়েছে আর দুষ্টু দুষ্টু কথা বলতে হবে না”।
“কইতরির বাপ আপনি কি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েছিলেন”?…..
“আমি তো ঘুমাই নিই, যেহেতু ঘুমাই নিই যেহেতু ফ্রেশ হওয়া লাগবে কেনো”?….
“ঘুমান নিই তো কি হয়েছে, শুয়ে তো ছিলেন তাই না? যান ফ্রেশ হয়ে আসুন”?
“ফ্রেশ হওয়া লাগবে”?…
“কইতরির বাপ ফ্রেশ হওয়া লাগবে মানে ? এটা কোন ধরনের কথা”? যান ফ্রেশ হয়ে আসুন”।….
“পানি যে ঠান্ডা ধরতে গেলেই তো আচার মারে”!….
“ছিঃ ছিঃ ছিঃ মিস্টার পান্ডা ছিঃ ছিঃ ছিঃ।
“কইতরির মা একদমই ছিঃ ছিঃ ছিঃ করবা না বলে দিলাম”!..
“ছিঃ ছিঃ ছিঃ করবো না তো কি করবো হা”? হায় আল্লাহ কার সাথে বিয়ে হয়েছে? একটা খাটাসের সাথে”।
“খাটাস মানে ? বৌ শেষ পর্যন্ত আমাকে খাটাস বানিয়ে দিলা”?…
“খাটাসের মতো কাজ করলে খাটাস বানিয়ে দেওয়া টা স্বাভাবিক না”?..
“খাটাস কিন্তু রাতের বেলা মুরগি ও খাই। কি বুঝাতে চেয়েছি তা বুঝতে পেরেছো তো”?..
“মিস্টার পান্ডা আপনি ঠান্ডায় ভয়ে হাত মুখ ধুতে পারছেন না গোসল কেমনে কর” ……..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা তাঁর আগেই আদনান বলে উঠে”….
“হাত মুখ ধুতে না পারলেই গোসল ঠিকিই করতে পারবো”।
“আদনান কথাটা বলে শেষ করতে না করতেই আদনানের রুমের দরজায় কেউ নক করে। আদনান আদ্রিয়ানা কে ছেড়ে দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে দেখে একজন সার্ভ এসেছে”…
“বিরক্ত করার জন্য সরি স্যার। রাত নয়টা বিশ বাজে ডিনারের সময় হয়ে গেছে ডিনার করতে আসুন”।
“আপনি যান আমরা আসছি”।
“সার্ভ চলে যায়। আদনান আদ্রিয়ানা দিকে এক পলক তাকিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে আদনান। টাওয়েল দিয়ে হাত মুখ মুছে টাওয়েল টা বারান্দায় মিলে দিয়ে আসে।
“বৌ চলো ডিনার করে আসি”?…
“হুম চলেন”…
“আদনান আর আদ্রিয়ানা ডিনার করতে চলে যায়, আধা ঘন্টার মধ্যে তাদের ডিনার করা শেষে হয়ে যায়। ডিনার করা শেষে আবার রুমে চলে আসে”। রুমে এসেই বেডের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে আদ্রিয়ানা। তা দেখে আদনান বলে”……
আর আমার নতুন পেইজ টা ফলো করে দাও প্লীজ।
আর পারলে আমার পেইজে একটা করে রিভিউ দিয়ে দাও। পেইজের অবস্থা ডাউন হওয়ায় গল্পের রিচ কমে গেছে। পোস্ট করলেও গল্প টা সবার কাছে যায় না”।
“রিচেক দেওয়া হয় নিই”…
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২