দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১৪
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“পাতাল ঘরে থাকা সবচেয়ে বড় সোফা টাই গা এলিয়ে দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে মাফিয়া কিং জহির আদনান চৌধুরী। তাঁর ডান পাশে বসে তাঁর ডান হাত জড়িয়ে ধরে আছে তাঁর অর্ধাঙ্গিনী আদ্রিয়ানা। মাফিয়া কিং জহির আদনান চৌধুরীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে আদ্রিয়ানার খালু আর খালা। তাদের দুজনের চোখে ভয়ের চিহ্ন, শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। মাফিয়া কিংয়ের দিকে তাকানোর সাহসও তাদের নেই, মাথা নিচু করে আছে। তাদের দুজনের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে, হৃদয়টা যেন বুক থেকে বেরিয়ে আসবে”।
“মাফিয়া কিং জহির আদনান চৌধুরী একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়লেন”। তারপর আদ্রিয়ানার খালু আর খালার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আদনানের হাত থেকে সিগারেট টা কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়”।
“মিস্টার পান্ডা আপনাকে সিগারেট খেতে বারণ করছি না” ?
“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে আদনান আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে বলে”…
“কোন কাজ করার সময় হাতে সিগারেট না থাকলে কাজে মন বসে না”। সিগারেট ছাড়া এতিম এতিম লাগে। আজকের জন্য দুই টান খেতে দাও”……..
“আদনান কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই আদ্রিয়ানা আদনানের মুখে পর পর দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়”।
“শুধু দুই টান খেতে চেয়েছেন তাই দুই টা থাপ্পড় দিয়েছি। পরের বার যদি সিগারেট হাতে তুলে নেন তাহলে কয়টা থাপ্পড় পড়বে তা আমার থেকে ভালো আপনি জানেন”।
“আদনান অসহায় দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে থাকে”। তা দেখে আদ্রিয়ানা বলে”…..
“এইভাবে তাকিয়ে না থেকে ওদের কে কি করবেন তা করুন।” আর আপনার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে আমি কিন্তু আপনার এই দুর্বলতা দেখে অনেক খুশি হয়েছি ।” আজ থেকে আমাকে ভয় পাবেন আর বৌয়ের কথায় উঠবস করবেন ওকেই ” ?
“যার নাম শুনলে সবাই ভয়ে থরথর করে কাঁপে, যার কথায় সবাই উঠবস করে সেই কিনা বৌয়ের কথায় উঠবস করবে” ?
“হুম”। আপনি যত বড়ই বাঘ হোন না কেন বৌয়ের সামনে বিড়াল হয়ে থাকবেন ওকেই” ?
“আমি বিড়াল হয়ে থাকবো” ?
“হুম বিড়াল হয়ে থাকবেন”!
“আদ্রিয়ানার মুখে এমন কথা শুনে আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে “…..
“মিস্টার পান্ডা এদের কে কি করবেন তাড়াতাড়ি করেন নয়তো আপনার গালে আবার ও থাপ্পড় পড়বে”!
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে বলে”…..
“কইতরির মা তোমার হাতের থাপ্পড় আমার কাছে সিগারেটের চেয়েও বেশি নেশা লাগে। আমি ভাবছি, তোমাকে আমার ব্যক্তিগত থাপ্পড়দাতা হিসেবে নিয়োগ দিব”।
“মিস্টার পান্ডা। আপনি কি আমার সাথে ফ্লার্ট করছেন? অবশ্য ফ্লার্ট করলে ও সমস্যা নেই আপনাকে দিন রাত থাপ্পড় দিতে আমার ভালোই লাগবে”।
“আদনান মুচকি হেসে বলে”….
” ফ্লার্ট না, ঘরওয়ালী। আমি শুধু তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করছি। আর তুমি জানো, তোমার এই রাগী চেহারা আমার কাছে খুবই আটরাক্টিভ লাগে”।
“আদ্রিয়ানা বলে, বেশি কথা না বলে, ওদের কে শাস্তি দিন। নাহলে কিন্তু আমি আপনাকে আরো একটা থাপ্পড় দিব”।
“আচ্ছা ঠিক আছে ওদের শাস্তির ব্যবস্থা করছি”
“এই কথা বলে আদনান আবার ও সোফায় গা এলিয়ে দেয়। পায়ের উপর পা তুলে আদ্রিয়ানার খালু আর খালার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে”…….
…”তোদের সম্পত্তির দরকার ছিলো তোরা সম্পত্তি পেয়েছিলি। সম্পত্তি পাওয়ার পর ও আমার বৌ কে বিক্রি করে দিয়েছিলি কেনো”…..?
…”আদ্রিয়ানার খালু আর খালা দুজনেই মাথা নিচু করে চুপ করে আছে”..!
..”আদনান আবার ও শান্ত কন্ঠে বলে”…
“তোদের দুইজনকে কিছু জিজ্ঞেসা করছি”।
“আদ্রিয়ানার খালা আর খালু এখনো মাথা নিচু করে চুপ করে আছে। কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। ভয়ে থরথর করে কাঁপছে”।
“আদ্রিয়ানার খালু আর খালা কে চুপ করে থাকতে দেখে আদনানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। আদনান সুজোরে লাত্থি মারে আদ্রিয়ানার খালুর বুকে। লাথি খেয়ে উল্টো হয়ে পড়ে যায় আদ্রিয়ানার খালু। স্বামী কে লাথি মারার আদনানের পা জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয় আদ্রিয়ানার খালা”।
..”আমাদের অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। আমাদের কে ক্ষমা করে দিন”..!
“আদনান আদ্রিয়ানার খালার কাছ থেকে নিজের পা ছাড়িয়ে নিয়ে বলে”…
…”ক্ষমা এতোই সোজা চাইলি আর পেয়ে গেলি”..
…”আদ্রিয়ানার খালা আবার ও মাথা নিচু করে ফেলে”…!
…”আমার বৌ কে যতটা কষ্ট দিয়েছিস তাঁর দ্বিগুন কষ্ট আমি তোদের দুইজনকে দিবো। কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে তোদের কে শেষ করবো”…
..”এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানার খালা আর খালু দুজনকেই লাথি মারে”। বাম হাত টা একটু উপরে তুলে হাতের থুরি বাজায় আদনান। দুইজন ছেলে কার্ড আর দুইজন মেয়ে গার্ড এগিয়ে আসে। আদ্রিয়ানার খালা আর খালু কে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। আদনানের দিকে এক পলক তাকিয়ে চারজন গার্ড হাতে চুরি তুলে নেয়। তা দেখে আদ্রিয়ানার খালা আর খালু দুজনেই একসাথে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে”…
…” আমাদের কে এইবারের মতো ছেড়ে দিন। আমরা আদ্রিয়ানার সব সম্পত্তি ফিরিয়ে দিবো আর আদ্রিয়ানার কাছে ক্ষমা চাইবো”…
“এই কথা বলে থেমে যায় আদ্রিয়ানার খালা। পরক্ষনেই আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে আবার বলে উঠে”..
“আদ্রিয়ানা মা আমার, আমাদের কে ক্ষমা করে দে। তুই আমাদের কে ক্ষমা না করলে উনি আমাদের কে মেরে ফেলবে। আমাদের কে ক্ষমা করে দে তুই”।
“এই কথা বলে কান্না করে দেয় আদ্রিয়ানার খালা। খালার কান্না দেখে মন গলে যায় আদ্রিয়ানার। কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর উপর করা অত্যাচারের কথা মনে পড়তেই মুখ ফিরিয়ে দেয় আদ্রিয়ানা”। দিনের পর দিন তাঁকে অত্যাচার করা হয়েছে।
( অতীত )
“আদ্রিয়ানার বয়স তখন ১৫। তার জীবন ছিলো সুন্দর, বাবা-মার ভালোবাসায় ভরা। কিন্তু একদিন, এক গাড়ি এ্যাক্সিডেন্টে তার বাবা-মা মারা যান। আদ্রিয়ানা একা হয়ে যায়, তার জীবনের সবকিছু যেন থমকে যায়”।
“বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আদ্রিয়ানার ঠাঁই হয় তার খালামনির বাসায়। খালামনি মণি তাকে আশ্রয় দেয়, কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিলো অন্য। সম্পত্তির লোভে আদ্রিয়ানা কে নিজের বাড়িতে জায়গা দিয়েছিলো। আদ্রিয়ানার বাবা তত বেশি বড়লোক না হলে ও তাঁর কোন কিছুর কমতি ছিল না। ভালোয় অর্থ সম্পদ ছিল তাঁর। আদ্রিয়ানার খালা মণি আদ্রিয়ানা কে ভুলিয়ে বালিয়ে আদ্রিয়ানার কাছ থেকে সব সম্পত্তি লিখে নেয়, আর তারপর তার উপর শুরু হয় অত্যাচার। তাকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করাতে শুরু করে”।….
“আদ্রিয়ানা প্রতিদিন ভোর ৫টায় উঠে কাজ শুরু করে। ঘর পরিষ্কার, রান্না, বাসন মাজা, সব কাজই তাকে করতে হয়। খালা মণি তাকে একটুও বিশ্রাম নিতে দেয় না। আদ্রিয়ানা কাঁদতে কাঁদতে কাজ করে, কিন্তু খালা মণির তাতে কিছু যায় আসে না। বরং কাজে একটু ভুল হলেই গরম খুন্তি ঝাড়ুর বাড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি খেতে হতো তাঁকে”।.
“সারাদিন খাটানোর পর ও আদ্রিয়ানা কে ঠিকমতো খেতে পর্যন্ত দিতো না তাঁর খালা মণি। কত রাত যে না খেয়ে পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমিয়েছে তাঁর কোন হিসাব নেই”।
“খালামণির অত্যাচার টর্চার সহ্য করতে করতে দুই বছর কেটে যায়। আদ্রিয়ানা এখন সতেরো বছরে পা রেখেছে। আদ্রিয়ানা দেখতে একদমই পরীর মতো সুন্দর। পাঁচ ফিট লাম্বা। গায়ের রং ফর্সা, চোখ দুটো হরিণের চোখের মতো। হাঁটু পর্যন্ত লম্বা চুল। এক কথাই একটা পরী। আদ্রিয়ানা যত বড় হতে লাগলো তাঁর সৌন্দর্য ততই বাড়তে থাকলো। আদ্রিয়ানার উপর চোখ পড়ে তাঁর খালুর। আদ্রিয়ানার খালার সাথে কথা বলে প্রতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য বলে। আদ্রিয়ানার খালা প্রথমে রাজি না হলেও শেষে ঠিকই রাজি হয়”।
“ছয় হাজার শব্দের পর্ব দিয়েছি আজকে আশা করি পর্ব ছোট নিয়ে কোন অভিযোগ করবেন না”।
“আর মাথায় টেনশন নিয়ে গল্প লিখছি তোমাগো রাইসা ভাবী আর আংকেল আন্টি বাইক এক্সিডেন্ট করছে। রাইসা কে ডাক্তার দেখানোর জন্য আংকেল আর আন্টি বের হয়েছিল। আংকেলের নিজের বাইক আছে তাই বাইক নিয়েই বের হয়েছে। ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময় এক্সিডেন্ট করে। তোমাগো ভাবী হাতে পায়ে অনেক ব্যাথা পেয়েছে। আন্টির মাথা পেটে গেছে। আর আংকেলের পা ছিলে গেছে। তোমাগো পিচ্ছি ভাবী কে নিয়ে টেনশনে আছি। এক পলক দেখতে ও যেতে পারছি না। চাইলেই তো আর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব না। আশা করি বুঝতে পারছো আমার ব্যাপার টা “।
..”রিচেক দেওয়া হয় নিই”!….
চলবে……
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩