দিশেহারা (০৮)
সানা_শেখ
অনিমা চৌধুরী দ্রুত মেয়ের কাছে এসে দাঁড়ান। সোহা টলমল চোখে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। দেখতে দেখতে চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।
অনিমা চৌধুরী মেয়ের হাত ধরে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যান।
রুমে এসে মেয়েকে বিছানায় বসিয়ে টিস্যু পেপার দিয়ে চোখ-গাল মুছিয়ে দেন। সোহার হেঁচকি উঠে গেছে।
অনিমা চৌধুরী মেয়ের পাশে বসে বলেন,
“তুই ওই পাগলের সাথে কেন গিয়েছিস কাজি অফিসে?”
সোহা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,
“আমি গিয়েছি? তুমিই তো আমাকে জোর করে ভাইয়ার সাথে পাঠিয়েছিলে। আমি বার বার তোমাকে বলেছিলাম আমার সাথে যেতে কিন্তু তুমি তো রাজিই হলে না। সব কিছুর বেলায় তোমার সময় থাকলেও শুধু আমার বেলায় তোমার সময় নেই।”
অনিমা চৌধুরী একটু চুপসে যান। তবুও বলেন,
“তুই ওকে বিয়ে কেন করলি?”
“বাঘের খাঁচায় বন্দী করে দিয়ে জিজ্ঞেস করছো বাঘের থাবা কেন খেয়েছি!”
“ও তোকে ভয় দেখিয়ে বিয়ে করেছে?”
“হ্যাঁ।”
“ওকে ভয় পেয়েছিস কেন? তুই রাজি হয়েছিস কেন বিয়ে করতে?”
“ম’রা’র চেয়ে ভাইয়াকে বিয়ে করাটাই ভালো মনে হয়েছিল।”
“বিড়বিড় করে কী বলছিস?”
“কিছু না।”
“কান্না বন্ধ কর।”
“আমি ম’রে গেলে তুমি কষ্ট পাবে আম্মু?”
অনিমা চৌধুরী মেয়ের কথা শুনে আতকে ওঠেন। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বলেন,
“এসব কী বলছিস? ম’র’বি কেন তুই?”
“আমাকে লুকিয়ে রাখো আম্মু, আমি আর ভাইয়ার কাছে যেতে চাই না।”
“শ্রবণ তোকে মে’রে’ছে?”
দু’দিকে মাথা নাড়ায় সোহা।
“আমাকে দূরে কোথাও রেখে আসো যেন ভাইয়া হাজার খুঁজলেও আর না পায় আমাকে।”
“দূরে কোথাও যেতে হবে না, তুই এই বাড়িতেই থাকবি। আমি শ্রবণকে তোর ধারে কাছেও আর ঘেঁষতে দেবো না।”
দুপুর দুটো।
ডিএনএ নমুনা দিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে শ্রবণ স্পর্শকে নিয়ে এসেছে একটা রেস্টুরেন্টে।
দু’জন বসে আছে মুখোমুখি হয়ে। খাবার অর্ডার করে দিয়েছে।
স্পর্শ পলকহীন তাকিয়ে আছে শ্রবণের মুখের দিকে। শ্রবণকে পুরোপুরি চিন্তা মুক্ত লাগছে। খুশি খুশি দেখাচ্ছে। আজকে নিজে থেকেই ওর সাথে লাঞ্চ করতে চেয়েছে।
স্পর্শ ঢোঁক গিলে বলে,
“ভাইয়া।”
শ্রবণ ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে স্পর্শের মুখের দিকে তাকায়। শান্ত কন্ঠে বলে,
“বলো।”
শ্রবণ ওর ডাকে সাড়া দিচ্ছে দেখেই আশ্চর্যের চূড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে স্পর্শ। ও কল্পনাও করেনি শ্রবণ ওর ডাকে সাড়া দেবে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে যতবার ভাইয়া বলে ডেকেছে ততবার শ্রবণ সাড়া দিয়েছে আজ।
“এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? কিছু বলার থাকলে বলো।”
“আমি সত্যিই তোমার ভাই না?”
“এক সপ্তাহ পর তো ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসবেই, তখন-ই জানতে পারবে সত্যিটা। এখন তো আমার কথা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না।”
“তুমি সোহাকে ভালোবাসো?”
শ্রবণ তাকিয়ে থাকে স্পর্শের মুখের দিকে। ওর আজকে মায়া লাগছে স্পর্শকে দেখে। আহারে চেহারাটা কেমন হয়ে গেছে।
শ্রবণ দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে বলে,
“ভালোবাসি না।”
“তাহলে বিয়ে করলে কেন?”
শ্রবণ বলে না কিছু। স্পর্শ আবার বলে,
“আমার সাথে ওর বিয়ে হতো আর আমি তোমার ভাই না বলেই কী ওকে বিয়ে করেছ?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি তো জানতে আমি সোহাকে ভালোবাসি আর সোহাও আমাকে ভালোবাসে।”
“সেজন্যই তো বিয়েটা আমি করেছি। একটা সত্যি কথা বলি তোমাকে। তোমাদেরকে কষ্ট পেতে দেখলে আমার মনে শান্তি শান্তি লাগে। “
নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে স্পর্শ।
ওয়েটার দু’জনের অর্ডার দিয়ে যায়।
“স্পর্শ খাওয়া শুরু করো।”
স্পর্শ শ্রবণের মুখের দিক থেকে চোখ সরিয়ে টেবিলের ওপর রাখা প্লেটের দিকে তাকায়।
শ্রবণ খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। প্লেটের দিকে তাকিয়ে এক মনে খেয়ে চলেছে।
স্পর্শ প্লেট থেকে তুলে মুখে পুরে দেয়। চিবুলেও গিলতে পারছে না। গলা দিয়ে নামতে চাইছে না। সকালেও খাওয়া হয়নি ওর, না খেয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল। পেটে খিদে থাকলেও খেতে পারছে না।
শ্রবণের খাওয়া প্রায় অর্ধেক শেষ। স্পর্শের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“স্পর্শ খাচ্ছো না কেন? খাও, নাকী আমার সাথে খাবে না?”
“তোমার সাথে খাব না কেন ভাইয়া? খাচ্ছি তো।”
“হ্যাঁ খাও।”
খেতে ইচ্ছে না করলেও জোর করে খেতে শুরু করে স্পর্শ।
খাওয়া শেষে বিল পে করে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে দু’জন। বাইরে এসে একটা দোকানের সামনে দাঁড়ায় শ্রবণ, ওর সাথে স্পর্শও দাঁড়ায়।
শ্রবণ দুটো সিগারেট নেয়। একটা স্পর্শের দিকে এগিয়ে দিতেই স্পর্শ ধীর স্বরে বলে,
“খাই না ভাইয়া।”
শ্রবণ কপাল ভ্রু উঁচিয়ে বলে,
“ভদ্র ছেলে।”
স্পর্শ বলে না কিছু। শ্রবণ সিগারেটে ধরায়। পর পর দুটো সিগারেট শেষ করে তারপর দুটো সেভেন আপ এর ক্যান নেয়। একটা স্পর্শের দিকে এগিয়ে দিতেই স্পর্শ হাতে নেয়। শ্রবণ বিল পে করে গাড়ির দিকে আগাতে আগাতে ক্যানের মুখ খুলে খেতে শুরু করে। স্পর্শ নিজেও ক্যানের মুখ খুলে খেতে খেতে বড়ো ভাইয়ের পেছন পেছন গাড়ির কাছে এসে দাঁড়ায়। খালি ক্যান ফেলে দিয়ে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে শ্রবণ। স্পর্শ দ্রুত খাওয়া শেষ করে ফ্রন্ট সিটে উঠে বসে। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়ে গলা ছেড়ে গান ধরে শ্রবণ। ওর পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে এই গান।
“আমি মাটির একখান ঘর বানাবো
খেঁজুর পাতার ছাওনি দিবো,
বাঁশের খুটির বেড়া দিয়ে
মহা কালের ঘুম ঘুমাবো।
আরে…সাদা কাপড় পইড়া আমি
গান গাইবো আকাশ ছুমি,
ওপারেতে ঠোল পিটিয়ে আমার
বিয়ের দাওয়াত দিবো…।
আমি মাটির একখান ঘর বানাবো
খেঁজুর পাতার ছাওনি দিবো,
বাঁশের খুটির বেড়া দিয়ে
মহা কালের ঘুম ঘুমাবো….।”
পার্কিং এ গাড়ি রেখে দুই ভাই বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। দু’জনকে ফিরে আসতে দেখে সোফায় বসে থাকা সকলে উঠে দাঁড়ায়। স্পর্শ কারো সাথে কোনো কথা না বলে সোজা নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। পেছন থেকে ডাকতে ডাকতে এগিয়ে যান তনিমা চৌধুরী।
শ্রবণ নিজেও সোজা নিজের রুমে চলে আসে। বিছানায় বসতেই সোহার কথা স্মরণ হয়। ওর যে বউ আছে সেটা তো প্রায় ভুলেই গিয়েছিল এইটুকু সময়ের মধ্যেই। বসে থেকেই গলা ছেড়ে সোহাকে ডাকতে শুরু করে। কয়েক বার ডেকে চুপ হয়ে যায়। এভাবে ডাকতে ডাকতে গলা শুকিয়ে ম’রে গেলেও রুমের বাইরে থেকে কেউ শুনতে পাবে না।
বসা থেকে উঠে দরজার কাছে এগিয়ে এসে দরজা খুলে মাথা বের করে আবার গলা ছেড়ে ডাকতে শুরু করে সোহার নাম ধরে।
কয়েক বার ডেকেই চুপ হয়ে যায়। বুঝতে পারছে সোহা ওর হাত থেকে বাঁচার জন্য লুকিয়ে আছে কোথাও, ওর সামনে আসবে না এখন। সকালে কোনো কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
রুমের ভেতর থেকে বেরিয়ে সোহার রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজা খোলা দেখেই বুঝতে পারছে ভেতরে কেউ নেই তাই আর ভেতরে প্রবেশ করে না।
ঘাড় কাত করে অনিমা চৌধুরীর রুমের দিকে তাকায়। ওই রুমেরও দরজা খোলা। শ্রবণ মুচকি হেসে গেস্ট রুমের দিকে এগিয়ে যায়। স্পর্শের রুম আরেকটা গেস্ট রুম বাদে বাকি সব রুমের দরজা খোলা রয়েছে।
গেস্ট রুমের দরজায় জোরে জোরে করাঘাত করে কর্কশ গলায় বলে,
“সোহা বের হয়ে আয় বলছি নয়তো তোর কপালে দুঃখ আছে।”
ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসে না। শ্রবণের রাগী গলার স্বর শুনে ড্রয়িং রুমে বসে থাকা সবাই চলে আসে ওর কাছে। শ্রবণের গলার স্বর আর দরজায় করা আঘাত ধীরে ধীরে বাড়ছে।
মনে হচ্ছে দরজা ভেঙে ফেলবে। স্পর্শ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে।
রাগে শ্রবণের ফরসা চেহারা লাল হয়ে উঠেছে। মাথার চুল কিছুটা খাড়া খাড়া হয়ে গেছে রাগের কারণে। রাগ উঠলে ওর এমনিতেই হুশ থাকে না, কী করে না করে নিজেও বুঝতে পারে না।
বেশ কিছুক্ষণ পর দরজায় জোরে লাথি মে’রে গলা ছেড়ে মেডকে ডেকে শাবল নিয়ে আসতে বলে।
সামাদ চৌধুরী নাতিকে শান্ত হতে বলছেন কিন্তু তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। ওর রাগের কাছে কারো কোনো কথার দাম নেই।
দরজায় আবার লাথি দিয়ে বলে,
“তুই পাতালে গিয়ে লুকিয়ে থাকলেও আমার নাগালের বাইরে যেতে পারবি না, তোকে আমি খুঁজে বের করবোই। ভালোয় ভালোয় বেরিয়ে আয় নয়তো দরজা ভাঙবো সাথে তোর সব হাড়ও।”
অনিমা চৌধুরী বলেন,
“তুমি আমার মেয়ের সাথে কেনো এমন করছো? তুমি ছেড়ে দাও ওকে, ওকে নিজের মতো করে বাঁচতে দাও।”
শ্রবণ অনিমা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে হিস হিসিয়ে বলে,
“মুখ দিয়ে আর একটা কথাও বের করবেন না আপনি। লুকিয়ে থাকার বুদ্ধি আপনি ওকে দিয়েছেন তাইনা? নিজের মতোই চরিত্রহীন বানাবেন মেয়েকে তাইনা?”
“শ্রবণ।”
“গলার আওয়াজ নিচু করে কথা বলবেন আমার সামনে। আর আমার মুখ খোলাবেন না।”
চুপসে যান অনিমা চৌধুরী। সিয়াম এগিয়ে এসে তেজ দেখিয়ে বলে,
“আমি আমার বোনকে তোমার কাছে যেতে দেবো না। ও তোমার সাথে থাকবে না, তুমি জোর করে বিয়ে করেছো ওকে।”
“আমার সামনে একদম উঁচু আওয়াজে কথা বলবি না নয়তো তোর জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলবো। আগে তোর বোন থাকলেও ও এখন আমার ওয়াইফ।”
“তোমার ওয়াইফ হয়েছে বলেই তুমি ওকে টর্চার করবে আর আমি চুপচাপ দেখব? গতকাল সকলের চাপে চুপ ছিলাম বলে আজকেও চুপ থাকবো নাকী? সোহা যাবে না তোমার সাথে এটাই শেষ কথা।”
“পারলে আটকে দেখা। সোহা বের হ বলছি।”
“সিয়াম তুমি চুপ করে থাকো। দাদু ভাই শান্ত হও তুমি, সোহাকে বুঝিয়ে বললেই ও বেরিয়ে আসবে। তুমি মাথা ঠান্ডা করো আমি ওর সাথে কথা বলছি।”
“কোনো লাভ নেই, ভালোভাবে বললে কাজ হবে না। মেডের বাচ্চা শাবল নিয়ে আসছে না কেন এখনো? ওই মেডের বাচ্চা শাবল নিয়ে আয় দ্রুত নয়তো তোর মাথার মধ্যে শাবল ঢুকিয়ে দেব।”
স্পর্শ হা করে বড়ো ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সকাল থেকে দেখে আসা শান্ত নরম শ্রবণ এখন পুরো অশান্ত হয়ে উঠেছে। শ্রবণ যে এখন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বোঝাই যাচ্ছে। সোহা রুমের ভেতর থেকে বের হচ্ছে না বলে এমন করবে? সামান্য একটা কারণে এত রাগ? ফনা তোলা সাপের মতো ফোস ফোস করছে আর বাঘের মতো গর্জন। এখন রাগের মাথায় যেকোনো একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। বাবা কাকা কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছে না। কোথায় গেছে দু’জন?
শ্রবণ পুনরায় দরজায় লাথি দিয়ে বলে,
“কু/ত্তা/র বাচ্চা বের হবি নাকী বের করতে হবে আমার?”
রুমের ভেতরে বসে থাকা সোহা ভয়ে জড়সড়ো হয়ে গেছে। ওর পুরো শরীর কাঁপছে থরথর করে।
দরজা ভেঙে শ্রবণ ভেতরে আসলে ওকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না ওর হাত থেকে। মাকে এতবার করে বললো ওকে দূরে কোথাও রেখে আসতে কিন্তু ওর মা ওর কোনো কথা শুনলো না। এখন ওকে শ্রবণ নামক বাঘের হাত থেকে কে বাঁচাবে?
শ্রবণ সমান তালে দরজায় লাথি মে’রে’ই যাচ্ছে। দরজা বুঝি এখনই ভেঙে যাবে।
যা হয় হবে। বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে দাঁড়ায় দরজার কাছে। লম্বা একটা শ্বাস টেনে নিয়ে দরজা খুলে দেয়। শ্রবণ আবার লাথি মা’র’তে উদ্যত হয়েছিল। সোহাকে দেখে পা নামিয়ে নেয়। সোহার চোখ মুখ ফুলে উঠেছে কান্না করার কারণে।
শ্রবণ সোহার হাত চেপে ধরে নিজের রুমের দিকে আগায়। সিয়াম শ্রবণের হাত চেপে ধরে বলে,
“আমার বোনকে ছাড়ো।”
“হাত ছাড় বলছি।”
“তুমি আমার বোনকে ছাড়ো।”
শ্রবণ চিৎকার করে বলে,
“হাত ছাড় আমার।”
সোহা ভাইয়ের হাত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে,
“ভাইয়া ছাড়ো।”
সিয়াম ছাড়ে না। সোহা জোর করে ভাইয়ের হাত সরিয়ে দেয়। শ্রবণ ওকে টেনে নিয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করে গত কালকের মতো ছুঁড়ে ফেলে ফ্লোরে। সজোরে দরজা লাগায়। দরজা লাগানোর শব্দে যেন পুরো বাড়ি ঝনঝন করে ওঠে।
শ্রবণ এক পা এক পা করে সোহার দিকে আগায়। সোহা ভয়ে পেছাতে শুরু করে হাতে আর পায়ে ভর করে। শ্রবণকে পুরো উদভ্রান্তের মতো লাগছে। সোহার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন কলিজার পানিও শুকিয়ে গেছে। সেদিন তো প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল, আজকে কী হবে ওর? কেনো ওই রুমে বসে ছিল মায়ের কথায়? ওর এই বাড়ি আর শহর ছেড়েই পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
চলবে……….
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৬
-
দিশেহারা পর্ব ৪০
-
দিশেহারা পর্ব ১৯
-
দিশেহারা পর্ব ৩৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩২
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ৪৩
-
দিশেহারা পর্ব ৪২
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ১১