Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৪৩


দিশেহারা (৪৩)

সানা_শেখ

“মা… মা… মামা, তু… তুমি এত রাতে এখানে কেন?”

“কী হয়েছে তোর? এভাবে কথা বলছিস কেন?”

“ক… কই?”

“আমার হাসান কিন্তু জীবনেও এভাবে কথা বলে না পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন।”

আবার কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায় হাসান। আসলেই তো, ও তো জীবনেও এমন তুতলে তুতলে কথা বলে না। ঘাবড়ে গিয়ে আজকে এমন হচ্ছে। যদিও হাসান ঘাবড়ালের এভাবে কথা বলে না কখনো।
সেন্টার টেবিলের ওপর থেকে পানির গ্লাস হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পানি পান করে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে বলে,

“তুমি আজকে ঘুমাওনি এখনো?”

“ঘুমোতেই যাচ্ছিলাম কিন্তু—

“কিন্তু কী?”

রেজোয়ান আহমেদ চুপ করে রইলেন। ওনার চোখমুখ গম্ভীর। হাসানের টেনশন বেড়েই চলেছে। বেচারা, কিছু না করেও ফেঁসে গেল। সব দোষ ওই বাচালের বাচ্চার।

“মামা।”

“হ্যাঁ, বল।”

“তুমি বলো।”

“কী বলব?”

“কীসের জন্য এসেছ?”

“রিতা এসেছিল কেন?”

ফট করে উল্টো ঘুরে দাঁড়ায় হাসান। মামা কী ওদের দুজনের কোনো কথা শোনেনি নাকি শুনেও প্রশ্ন করছে?

“কী হলো? ওদিকে ঘুরলি কেন?”

হাসান মামার দিকে ঘুরে দাঁড়ায় আবার। মৃদু স্বরে বলে,

“রিতা এই বিয়ে করবে না।”

“কোন বিয়ে?”

“যেখান থেকে আজকে দেখতে এসেছিল।”

“তোকে বলেছে?”

“হুম।”

“এই বিয়ে না করলে কোথায় করবে?”

হাসান চুপ করে থাকে। রেজোয়ান আহমেদ বলেন,

“কথা বলছিস না কেন? বিয়ে করবে না বলেছে কাকে করবে এটা বলেনি?”

উপর নিচ মাথা নাড়ায় হাসান।

“কাকে করবে বলেছে?”

হাসান হাত তুলে নিজেকেই দেখায়। গম্ভীর স্বরে বলে,

“আমাকে করবে, ভালোবাসে আমাকে।”

রেজোয়ান আহমেদ গম্ভীর স্বরে বলেন,

“তুই করবি?”

“তুমি যদি রাজি থাকো তাহলে।”

“তুই ভালোবাসিস রিতাকে?”

হাসান চুপ হয়ে থাকে। রেজোয়ান আহমেদ একই কথা পর পর কয়েকবার জিজ্ঞেস করেন।

“দুই বছর ধরে আঠার মতো লেগে আছে, ভালো না বেসে থাকা যায়?”

“তার মানে তুইও ভালোবাসিস?”

উপর নিচ মাথা নাড়ায় হাসান।

“আমার মেয়েকে চড় দিয়েছিস কেন?”

“দিয়েছি তো একটা, ওকে আরও একশোটা চড় দেওয়া উচিত। আর গত দুই বছরে তোমার মেয়ে আমাকে যেই পরিমাণ জ্বালিয়েছে তাতে ওকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখলেও কম হয়ে যাবে।”

“তুই জ্বলেছিস তাই তো আমার মেয়ে তোকে জ্বালাতে পেরেছে।”

“একদম মেয়ের হয়ে সাফাই গাইবে না। হাজারবার বলেছি ওটাকে বিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করো, তখন শোনোনি আমার কথা।”

“আসল কথা বলতো বাপ, আমার ভাল্লাগছে না কিন্তু এখন।”

হাসান অবাক হয়ে বলে,

“আসল কি কথা বলব? কোন কথা আসল?”

“রিতা যা বলতে বলে গেছে সেটা বল।”

হাসান বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল মামার মুখের দিকে। অবাক হয়ে বলে,

“তুমি সব শুনেছ?”

উপর নিচ মাথা নাড়ান রেজোয়ান আহমেদ।

“তাহলে তো সব জানোই, আলাদা করে আর বলতে হবে কেন?”

“তুই বল, আমি তোর মুখ থেকে শুনতে চাই।”

“আমি বলতে পারবো না।”

“রিতাকে কিন্তু অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেব।”

“দিয়ে দাও।”

“তোর কষ্ট হবে না?”

হাসান চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ তারপর আগের চেয়েও গম্ভীর হয়ে বলে,

“মামা।”

“হ্যাঁ।”

“আমি তোমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।”

রেজোয়ান আহমেদ খুশি হয়ে ভাগ্নেকে জড়িয়ে ধরেন।

“আমি অনেক আগে থেকেই রিতাকে তোর সঙ্গে বিয়ে দিতে চাইছিলাম কিন্তু তুই রাজি হবি কি-না বা কেমন রিয়েক্ট করবি এই ভয়ে কিছু বলতে পারছিলাম না।”


ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙে শ্রবণের। এত রাতে কে কল করছে? কল করে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিল।
সোহাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে ফোন হাতে নেয়। ঘুমঘুম চোখজোড়া মেলে ফোনের স্ক্রিনে তাকায়। হাসান কল করেছে।
রিসিভ করে কানে ধরে বলে,

“বল।”

“কী করছিস?”

“মাঝরাতে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করছিস কী করছি!”

“ডিস্টার্ব করলাম নাকি, ভাই? আচ্ছা রাখি পরে কল করব, তুই নিজের কাজ কর।”

“এই শ’য়’তা’ন, তুই কি মিন করছিস? আমি ঘুমাচ্ছিলাম। কি বলবি বল।”

“বিয়ে।”

“কার?”

“আমার।”

“কার!”

“আরে ভাই, আমার।”

“কার সঙ্গে?”

“বাচালের সঙ্গে।”

“এটা আবার কেমন নাম?”

“ঘুম থেকে ওঠ তো, ভাই। বাচাল কারো নাম হয়? শুনেছিস কখনো?”

“তুইই তো বললি, বাচালের সঙ্গে বিয়ে।”

“রিতা, রিতার সঙ্গে বিয়ে।”

“অ্যাহ!”

“হ্যাঁ রে, ভাই।”

“কংগ্রাচুলেশন।”

“ধন্যবাদ।”

“কবে বিয়ে?”

“ঠিক হয়নি এখনো। আচ্ছা এখন রাখি, তুই ঘুমা। সকালে দেখা করে কথা বলব।”

“আচ্ছা।”

কল কে’টে রেখে দেয় শ্রবণ। সোহা শ্রবণের বুক থেকে মুখ তুলে ঘুম জড়ানো গলায় বলে,

“কে কল করেছিল?”

“হাসান, ঘুমা এখন।”

আরও কিছু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করলেও করলো না সোহা। পুনরায় শ্রবণের বুকে মুখ গুঁজে ওকে জড়িয়ে ধরে এক হাতে। শ্রবণ নিজেও সোহাকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে নেয়। শোয়ার সময় ঘুমের ঔষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছিল, ঔষুধের প্রভাব এখনো আগের মতোই রয়েছে।


শ্রবণ সোহাকে ছেড়ে উঠে বসতেই সোহার ঘুম ভেঙে যায়। মোড়ামুড়ি করে সোহা নিজেও শোয়া থেকে উঠে বসে। আজকে রাতে ঘুম ভালো হয়নি। একটু পর পর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। মাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা স্বপ্ন দেখেছে। শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার ঘাড় সোজা করে বসে রইল।

শ্রবণ বিছানা ছেড়ে নেমে ডিম লাইট অফ করে মেইন লাইট অন করে তারপর হেলে দুলে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।

সোহা নিজেও বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়ায়। ভীষণ মন খারাপ হয়ে আছে। কেমন অস্থির অস্থির লাগছে।
বিছানা গুছিয়ে রেখে চুলগুলো আঁচড়ে নেয়।
ঘুম না হওয়ার কারণে চোখমুখ ফোলা ফোলা দেখাচ্ছে।

শ্রবণ একেবারে গোসল সেরে বেরিয়ে আসে। ওকে আজকে এখনই গোসল করে বেরিয়ে আসতে দেখে সোহা তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। জিমে যাবে না আজ?

ভাবনা দূরে সরিয়ে রেখে নিজে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।
শ্রবণ প্যান্ট শার্ট পরে তৈরি হয়ে নেয়। রুম থেকে বেরিয়ে দেখে মাজেদা আন্টি ড্রয়িং রুম ঝাড়ু দিচ্ছেন। শ্রবণ আন্টির দিকে তাকিয়ে বলে,

“আন্টি, এক মগ কফি বানিয়ে দিন আগে।”

“একটু অপেক্ষা করো, দিচ্ছি।”

শ্রবণ মাথা নেড়ে সোফায় বসে টিভি অন করে।
কয়েক মিনিট পরেই কফি বানিয়ে নিয়ে আসেন মাজেদা আন্টি। শ্রবণ কফির মগ হাতে নিয়ে টিভি অফ করে দেয়। সোফা ছেড়ে উঠে রুমে ফিরে আসে। সোহা হাত-মুখে ক্রিম লাগাচ্ছে। শ্রবণ কফির মগে চুমুক দিয়ে বলে,

“রেডি হয়ে নে।”

সোহা ঘাড় ঘুরিয়ে শ্রবণের দিকে তাকায়। মৃদু স্বরে বলে,

“কোথায় যাব?”

“হসপিটালে যাবো ছোটো ডাইনিকে দেখার জন্য।”

সোহা কিছু না বলে ড্রেস বের করে নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে চেঞ্জ করার জন্য।

শ্রবণ দাদার ফোনে কল করে। রিসিভ হতেই সালাম দিয়ে বলে,

“ডাইনিটার জ্ঞান ফিরেছে?”

“রাতেই ফিরেছে।”

“ডাইনিকে গিয়ে বলো, শ্রবণ চৌধুরী আসছে ওকে স্পেশাল ফিল করানোর জন্য।”

“তুমি হসপিটালে যাবে?”

“হ্যাঁ। তুমি কোথায়?”

“আমি বাড়িতেই আছি। সোহাকে নিয়ে যাবে?”

“হ্যাঁ। রাখলাম।”

শ্রবণের বলতে দেরি হয় কিন্তু কল কাটতে দেরি হয় না।
সোহা চেঞ্জ করে বেরিয়ে এসেছে।
দ্রুত হিজাব বেঁধে তৈরি হয়ে নেয়।
শ্রবণ কফি খাওয়া শেষ করে সোহাকে নিয়ে রুম থেকে বের হয়।

নিচে নেমে এসে গাড়িতে বসে গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলে,

“হসপিটালে গিয়ে কাঁদলে তোর খবর আছে। যাবি, দেখবি আবার চুপচাপ চলে আসবি।”

মাথা নাড়ায় সোহা।


হপিটালে এসে পৌঁছায় শ্রবণের গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে গেটের কাছে এগিয়ে আসতেই সিয়ামের সঙ্গে দেখা হয়। সিয়াম বাইরে বের হচ্ছিল কোনো দরকারে। ভাইকে দেখেই সোহার চোখজোড়া টুইটুম্বর হয়ে গেছে। সিয়াম একবার শ্রবণ তো আবার সোহার মুখের দিকে তাকাচ্ছে।
সোহা ধরা গলায় বলে,

“কেমন আছো, ভাইয়া?”

“ভালো, তুই কেমন আছিস?”

“ভালো।”

“তুমি কেমন আছো, ভাইয়া?”

শ্রবণ গম্ভীর গলায় বলে,

“ভালো।”

সিয়াম বলে,

“হসপিটালে কীসের জন্য এসেছ? তোমাদের কিছু হয়েছে? সোহা আর বাবু ঠিক আছে?”

শ্রবণ স্বভাব সুলভ গম্ভীর গলায় বলে,

“আমরা তিন জনই ঠিক আছি। হসপিটালে এসেছি তোর ডাইনি মাকে দেখার জন্য, একটু স্পেশাল ফিল করাতে।”

সিয়াম চুপ করে থাকে। শ্রবণ সোহাকে নিয়ে ভেতরের দিকে পা বাড়ায়। সোহা পেছন ফিরে ভাইয়ের দিকে তাকায় একবার। ভাইয়ের চেহারা দেখে ভীষণ মায়া হচ্ছে।

তৃতীয় তলায় আসতেই তনিমা চৌধুরী আর শাহীন রেজা চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয়। শ্রবণকে দেখেই তনিমা চৌধুরী ভয়ে গুটিয়ে যান। সকাল সকাল এই ছেলে এখানে কেন?

শাহীন রেজা চৌধুরী দুজনের কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়ান। বাবাকে দেখেই সোহার অবাধ্য চোখজোড়া থেকে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ইচ্ছে করছে বাবার বুকে হামলে পড়তে।

শ্রবণ শাহীন রেজা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে,

“অনিমা এখনো আইসিইউ-তে?”

“হ্যাঁ।”

“সোহার সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করো।”

“এখন কি দেখা করতে দেবে?”

“ওকে সমস্যা নেই, চলে যাচ্ছি।”

“দাঁড়াও, আমি দেখছি।”

“দ্রুত করুন।”

শাহীন রেজা চৌধুরী আইসিইউ-এর দিকে এগিয়ে যান। যিনি এখন দায়িত্বে আছেন তার সঙ্গে কথা বলে যদি ম্যানেজ করা যায়।

তনিমা চৌধুরী শ্রবণের দিকে তাকাচ্ছেন না। শ্রবণ সোহার হাত ধরে রেখেই দুই কদম তনিমা চৌধুরীর কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়ায়। তনিমা চৌধুরী চেয়ারের ওপর বসে গুটিয়ে গেছেন।

“ওই দিন অনিমার জায়গায় তুই রাস্তায় থাকলে এতক্ষণে তোর চল্লিশা খাওয়ানো হয়ে যেত। রাস্তায় বের হলে তুই আর তোর জামাই সাবধানে থাকবি বলা তো যায় না কখন কি হয়ে যায়।”

তনিমা চৌধুরী তাকান না শ্রবণের দিকে। ওনার এখন আগের চেয়েও বেশি ভয় লাগে শ্রবণকে।
শ্রবণ আবার মুখ খুলবে এর মধ্যে তনিমা চৌধুরীর মা এসে দাঁড়ান ওদের কাছে। উনি শ্রবণের দিকে তাকিয়ে রাগী স্বরে বলেন,

“এই ছেলে, আমার মেয়েকে ধাক্কা দিয়েছো কেন? নিজেকে কি মনে করো তুমি?”

শ্রবণ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। সোহা ভয়ে ভয়ে শুকনো ঢোঁক গিলে শ্রবণের মুখের দিকে তাকায়। মান সম্মান নিয়ে এখন শ্রবণের সামনে থেকে সরতে পারলে হয়।
শ্রবণ চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,

“এই নষ্ট বুড়ি, তোর সাহস হলো কীভাবে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলার? কানশা বরাবর খাবি একটা?”

সোহা শ্রবণের হাত টেনে আইসিইউ-এর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে,

“ওদিকে চলো, বাইরে থেকে দেখেই চলে যাব।”

শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকায়। শ্রবণ কিছু বলার আগেই সোহার নানি বলেন,

“এই বেয়াদব ছেলের সঙ্গে কীভাবে থাকিস তুই? আবার নাকি এই বেয়াদবের বাচ্চাও পে—

শ্রবণ ভয়ংকর রকমের রেগে গেছে। হাত বাড়ায় থাবা দিয়ে বুড়ির চুল ধরার জন্য কিন্তু তার আগেই শাহীন রেজা চৌধুরী শাশুড়িকে টেনে সরিয়ে নেন নিরাপদ দুরত্বে।

শাশুড়িকে ঝাড়ি দিয়ে বলেন,

“পাগল হয়েছেন? কাকে কি বলছেন আপনি হুশ আছে? পাকা চুল আর নড়বড়ে সব দাঁত তুলে দিলে বুঝবেন কার সঙ্গে বড়ো গলা করে কথা বলেছেন। সুস্থ থাকতে চাইলে মুখ বন্ধ করে রাখুন।”

তনিমা চৌধুরী মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,

“মুখটা কি একটু বন্ধ রাখা যায় না? কেন এত কথা বলতে হবে?”

সোহা নানির দিকে তাকিয়ে বলে,

“তোমাদের সমস্যা কি, নানু? আমাকে কি ভালো থাকতে দেবে না তোমরা? ওকে না রাগালে তোমাদের ভালো লাগে না? ও শান্ত থাকলে তো আমিও একটু ভালো থাকতে পারি। ওকে কেন বারবার তোমরা রাগীয়ে দাও?”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে জড়ানো গলায় থেমে থেমে বলে,

“ফ্ল্যাটে ফিরে চলো, দেখবো না কাউকে। যারা আমার স্বামী-সন্তানকে মেনে নিতে পারে না তাদের দেখেই বা কি হবে? চলো এখান থেকে।”

শ্রবণ সোহার নানির দিকে তাকিয়ে বলে,

“ডাইনি বুড়ি, এটা হসপিটাল বলে তুই আজ আমার হাত থেকে বেঁচে গেলি। চৌধুরী বাড়িতে যাস শুধু, তোর কোন বাপ আর ভাতার তোকে আমার হাত থেকে বাঁচায় আমিও দেখব।”

কথাগুলো বলেই সোহার হাত ধরে টেনে নিয়ে আইসিইউ-এর সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজা ঠেলে সোহাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে নিজে বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। ওর অগ্নি দৃষ্টি আপাতত বুড়ির উপর স্থির হয়ে আছে। মনে হচ্ছে থাবা দিয়ে বুড়ির জানটাই কেড়ে নেবে।

এই পর্বে ৩.৫k রিয়েক্ট পূরণ না হলে নেক্সট পার্ট আসবে না। গত পর্ব দেওয়ার পর কিছু বলিনি আর আপনারাও রিয়েক্ট কমেন্ট করেননি। প্রত্যেক পর্বে বলে দিতে হবে রিয়েক্ট কমেন্ট করার জন্য?

চলবে…………..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply