দিশেহারা (১৮)
সানা_শেখ
শ্রবণ সোহাকে আস্টেপিস্টে জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ে মুখ গুঁজে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। সোহাকে জড়িয়ে ধরার পর থেকে অদ্ভুত রকমের ভালো লাগছে শ্রবণের। বুকের ভেতর প্রশান্তি ছুঁয়ে যাচ্ছে যা অনেক কাল ধরে হয়না। সোহার গায়ের ঘ্রাণ যেন মাথা ব্যথা কমিয়ে দিচ্ছে। চুম্বকের মতো শ্রবণকে আটকে রেখেছে সোহার দেহ।
“ভাইয়া ছাড়ো আমাকে, ঔষুধ নিয়ে আসি; খেলে ভালো লাগবে।”
“ঔষুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছিস কেন? বি’ষ খাইয়ে মে’রে ফেল।”
সোহা নিজের গলা থেকে শ্রবণের হাত ছাড়িয়ে শ্রবণকে নিজের কাছ থেকে আলাদা করে। শ্রবণ বসে থাকতে না পেরে ঢলে শুয়ে পড়ে ফ্লোরে।
সোহা দ্রুত শ্রবণের ঔষুধ খুলে নিয়ে আসে। ফ্লোর থেকে দুটো স্লিপিং পিল তুলে নেয়, এছাড়া আর কোনো স্লিপিং পিল নেই এখন।
গ্লাসে পানি ঢেলে শ্রবণের পাশে বসে। ভয়ে ভয়ে শ্রবণের গালে হাত রেখে মৃদু স্বরে ডাকে,
“ভাইয়া, ওঠো ঔষুধগুলো খাও।”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকায়। সোহা নিজের ডর ভয় দূরে সরিয়ে শ্রবণকে নিচ থেকে তোলার চেষ্টা করে। শ্রবণ শক্তি প্রয়োগ করে নিজেই উঠে বসে কোনো রকমে। এখন যেন আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সোহা কোনো রকমে ঔষুধগুলো শ্রবণকে খাওয়ায়।
“বিছানায় উঠে ঘুমাও।”
“মাথা সোজা রাখতে পারছি না, মাথায় বাড়ি মা’র একটা। এত যন্ত্রণা কেন হচ্ছে?”
“ওঠো এখান থেকে, যন্ত্রণা ঠিক হয়ে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে।”
সোহার সাহায্য নিয়ে নিচ থেকে উঠে বিছনায় শুয়ে পড়ে শ্রবণ। ওর অনুভব হচ্ছে কেউ যেন ওর মাথায় মে’রে মাথা থেতলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে মাথা আস্ত নেই সেজন্য এত যন্ত্রণা হচ্ছে।
সোহা পানির গ্লাস সরিয়ে রেখে লাইট অফ করে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায়।
শ্রবণ দু’জনের মাঝখানের কোলবালিশ সরিয়ে দেয়।
নিজে থেকেই সোহার কাছে এগিয়ে এসে সোহাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে সোহার বুকে মুখ গুঁজে দেয়। সোহার হাত তুলে দেয় নিজের মাথায়। সোহার বুকে আশ্রয় নিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে। দুজনের মাঝখানে একটা পিঁপড়া গলার মতোও জায়গা নেই। সোহার শরীর শিরশির করে ওঠে আবার। হৃদযন্ত্র জোরে জোরে শব্দ তুলছে।
লম্বা শ্বাসে সোহার গায়ের ঘ্রাণ নিজের ভেতর টেনে নেয় শ্রবণ। সোহাকে জড়িয়ে ধরলেই কেমন শান্তি শান্তি লাগছে। বুকে এমনভাবে মুখ গুঁজেছে যে মনে হচ্ছে বুকের ভেতর ঢুকে যেতে চাইছে।
সোহা স্থির হয়ে জমে আছে। শ্বাসও যেন ফেলছে না এখন। শ্রবণের উতপ্ত শ্বাস ওর বুকে আছড়ে পড়ছে। শ্রবণের শক্ত হাতের বন্ধনে আটকা পড়ে গেছে। শ্রবণের গায়ের পুরুষালি ঘ্রাণ যেন ওর শ্বাস আটকে দিচ্ছে বারংবার।
“চুলে হাত বুলিয়ে দে, টেনে দে।”
সোহা দ্রুত চুলে হাত বুলাতে শুরু করে। শ্রবণ পূর্বের ন্যায় শুয়ে আছে। এই বুকে এত শান্তি কেন? ওর সব অশান্তি আর যন্ত্রণা গ্রাস করে নিচ্ছে এই শান্তি।
সময় গড়ায়। শ্রবণ ঘুমিয়ে গেছে। সোহা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে শ্রবণের ভারি শ্বাস ফেলার শব্দ। শ্রবণ ঘুমিয়ে গেলেও এখনও সোহার বুকে মুখ গুঁজে ওকে জড়িয়ে ধরে আছে। সোহা ধীর হাতে চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ওর আর ঘুম আসছে না এখন। অন্ধকার রুমে শ্রবণের ভারি শ্বাস আর এসির মৃদু শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। সোহার হৃদযন্ত্রের শব্দ এখন থেমে গেছে। শ্বাস প্রশ্বাস চলছে নিঃশব্দে যেন একটু জোরে শ্বাস নিলেও শ্রবণের ঘুম ভেঙে যাবে।
এসির ঠান্ডা বাতাসে শীত শীত লাগছে এখন। দু’জনের শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। সোহা পেছন থেকে ব্ল্যাঙ্কেট তুলে নেয় দু’জনের গায়ের উপর।
পুনরায় শ্রবণের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করে।
সোহার ঘুম ভেঙে যায়। প্রচণ্ড খিদেয় পেট গুড়গুড় করছে। শুয়ে থাকতে থাকতে নিজেও ঘুমিয়ে গিয়েছিল ফজরের পর পর। শ্রবণ এখনও একইভাবে ঘুমিয়ে আছে। একটুও নড়াচড়া করেনি।
সোহা শ্রবণের হাত ধরে নিজের উপর থেকে সরিয়ে দিতে যাবে তখনই ঘুম হালকা হয়ে আসে শ্রবণের।
হাতটা শুধু একটু উঁচু করেছে, সরায়নি এখনও। শ্রবণ নড়েচড়ে ওঠায় ভয়ে হাত ছেড়ে দেয় সোহা।
শ্রবণ নিজে থেকেই সোহাকে ছেড়ে উল্টো ফিরে নিজের বালিশে চলে আসে। দু’জনের মাঝখানে এখন প্রায় দুই হাতের মতো দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
শ্রবণ সরে যেতেই যেন সোহার বুকে শূন্যতা ছড়িয়ে পড়ে। মাঝরাত থেকে এই বুকে রাজত্ব করেছে শ্রবণ চৌধুরী, পুরোটা ছিল ওর দখলেই।
সোহা শোয়া থেকে উঠে বসে। রুমে এখনো অন্ধকার, জানালার পর্দা ভেদ করে হালকা হালকা আলো রুমে প্রবেশ করেছে।
সোহা ফ্রেশ হয়ে এসে ব্যালকনিতে দাঁড়ায়। বাইরে সূর্যের প্রখর রোদ, তপ্ত প্রকৃতি। বেলা বোধহয় অনেক হয়েছে। খিদের কারণে সোহার হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে। এর আগে কোনদিন এত সময় না খেয়ে থাকেনি। সেই গতকাল দুপুরে শেষ খেয়েছিল তারপর আর খাওয়া হয়নি।
ব্যালকনি থেকে রুমে ফিরে আসে। ব্যালকনির দরজা খোলা থাকায় রুম আলোকিত হয়েছে। শ্রবণ বালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।
সোহা শ্রবণের পারমিশন ছাড়া রুম থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এখন শ্রবণকে ডেকে ওর ঘুম ভাঙাতেও ইচ্ছে করছে না, আবার দেখা গেলো ডেকে তুলেছে বলে রেগে গেল। রাতে যা শুরু করেছিল ভয়ে তো সোহার প্রাণ যাই যাই করছিল।
সোহা বিছানার একপাশে বসে থাকে অনেকক্ষণ। খিদে আর সহ্য করতে পারছে না। বসা থেকে উঠে শ্রবণের শিয়রে এসে দাঁড়ায়। ভয়ে ভয়ে মৃদু স্বরে ডাকে কয়েকবার তবে শ্রবণের ঘুম ভাঙে না। তখন তো হাত তোলার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিল তাহলে এখন ভাঙছে না কেন?
রুমের লাইট অন করে পুনরায় শ্রবণের শিয়রে এসে দাঁড়ায়। হাত দিয়ে শ্রবণের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে কয়েকবার ডাকে। শ্রবণ নড়েচড়ে বহু কষ্টে চোখের পাতা টেনে তুলে তাকানোর চেষ্টা করে। ঘুম জড়ানো ভারি গলায় বলে,
“কী হয়েছে?”
“নিচে যাই।”
“কেন?”
“খেতে, খিদে পেয়েছে অনেক।”
শ্রবণ চোখ মেলে তাকায়, চোখ দুটো এখনও লাল টকটকে হয়ে আছে। চোখ আপনাআপনি বন্ধ হয়ে আসছে আবার। দুটো স্লিপিং পিলের প্রভাব কী এত দ্রুতই শেষ হয়?
“যাই।”
“ক’টা বাজে?”
এগিয়ে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা নিজের ফোন হাতে নিয়ে সময় দেখে বলে,
“বারোটা চৌদ্দ।”
শ্রবণ শোয়া থেকে উঠে বসে। মাথা এখনও ভার ভার হয়ে আছে। ঘুমের কারণে তাকাতে পারছে না। বিছানার সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ। দুই হাতে চোখ ডলে চুল ঠিক করে। সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তোর প্রয়োজনীয় সবকিছু স্যুটকেসে গুছিয়ে নে।”
সোহা বিস্ময় নিয়ে বলে,
“কেন?”
“চলে যাব।”
“কোথায়?”
“জাহান্নামে।”
জোরে বলায় চমকে ওঠে সোহা। শুকনো ঢোঁক গিলে মিনমিন করে বলে,
“স্যুটকেস তো আমার রুমেই রয়েছে।”
“ওখানে আমার স্যুটকেস, ওটাতে গুছিয়ে নে।”
সোহা শ্রবণের হাত অনুসরণ করে স্যুটকেসের দিকে তাকায়। এখন আবার ওকে নিয়ে কোথায় যাবে?
“কী হলো? যা দ্রুত কর, আমার গোসল করতে যতক্ষণ তোর সময় ততক্ষণ। স্যুটকেস গুছিয়ে নিজেও তৈরি হয়ে নিবি।”
শ্রবণ বিছানা থেকে নেমে হেলে দুলে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। গোসল না করলে মাথা ঠিক হবে না। রাতে কী কী করেছে তার অর্ধেক মনে আছে আর বাকী অর্ধেক ভুলে গেছে।
সোহা বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে স্যুটকেসের দিকে এগিয়ে আসে। এটাতে ওর কাপড় চোপড় তুললে শ্রবণের গুলো কোথায় নেবে?
শ্রবণ লম্বা শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। কাভার্ড থেকে প্যান্ট শার্ট বের করে পরে নেয়। ওর তৈরি হতে খুব একটা সময় লাগে না।
তৈরি হয়ে সোহার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। সোহা স্যুটকেসের কাছে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
“তোমার গুলো?”
“লাগবে না। হয়েছে তোর?”
মাথা নাড়ে সোহা। শ্রবণ নিজের ফোন আর ওয়ালেট পকেটে ভরে নেয়। গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে বলে,
“স্যুটকেস নিয়ে আয়।”
সোহা ফোন আর স্যুটকেস নিয়ে শ্রবণের পেছন পেছন রুম থেকে বের হয়। করিডোরে এসে দাঁড়িয়ে যায় শ্রবণ। সোহা পাশে আসতেই ওর হাত থেকে স্যুটকেস নিজের হাতে নেয়, অন্য হাতে মুঠো করে ধরে সোহার হাত তারপর হাটা শুরু করে সিঁড়ির দিকে।
সোহা শ্রবণের মতলব কিছুই বুঝতে পারছে না, কী করতে চাইছে ও?
ড্রয়িং রুমে আসতেই সামাদ চৌধুরী সামনে পড়েন দু’জনের। দু’জনকে এভাবে দেখে বিস্ময় নিয়ে বলেন,
“কোথায় যাচ্ছো তোমরা?”
শ্রবণ গম্ভীর স্বরে বলে,
“ফ্ল্যাটে ফিরে যাচ্ছি।”
“কেন?”
“এখানে থাকতে পারবো না আমি শ’য়’তা’নগুলোর সঙ্গে। এখানে আমি আর আসবো না, সোহাও আসবে না। ওরা যেই বাড়িতে থাকবে, শ্বাস প্রশ্বাস নেবে সেই বাড়ির বাতাসও বিষাক্ত। আমি এই বাড়িতে থাকলে অল্প দিনেই ম’রে যাব। ওদের না জ্বালিয়ে তো আমি মরতে পারি না।”
শামীম রেজা চৌধুরী ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করছিলেন, বড়ো ছেলেকে দেখে পা দুটো থেমে যায় ওনার।
শ্রবণ ওনার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আগামীকাল অফিসে আসছি আমি, হিসাব না মিললে হিসাব তোর পেছন দিয়ে ভরে দিয়ে আসবো।”
দাদার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আসছি দাদা ভাই, ভালো থেকো।”
স্যুটকেস আর সোহাকে টেনে নিয়ে বাইরের দিকে এগিয়ে যায় দ্রুত পায়ে। এই বাড়িতে আর একরাত থাকলে সত্যি সত্যিই পাগল হয়ে যাবে শ্রবণ। এইসব খবিশ আর ইবলিশ শ’য়’তানদের সঙ্গে আর একরাতও থাকবে না।
গ্যারেজ থেকে নিজের ব্ল্যাক মার্সিডিজ বেঞ্জ বের করে নিয়ে আসে শ্রবণ। পাশের দরজা খুলে দিয়ে সোহাকে উঠে বসতে বলে। সোহা উঠে বসতেই গাড়ি বাড়ির গেট পেরিয়ে বেরিয়ে যায়।
পেছন থেকে তাকিয়ে রইলেন সামাদ চৌধুরী। ওরা যেখানেই থাকুক শুধু একে অপরের সঙ্গে ভালো থাকুক।
শ্রবণের গাড়ি এসে থামে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে। ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে সোহাকে বের হতে বলে। সোহা বেরিয়ে আসতেই ওকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। দু’জন বসে মুখোমুখি হয়ে। শ্রবণ নিজেই অর্ডার দেয় খাবার। দুপুর হয়েই গেছে তাই ভারি খাবার অর্ডার দিয়েছে।
খাবার আসতেই দু’জন খাওয়া শুরু করে। সোহার ভীষণ খিদে পেয়েছে, বেচারি মুখে দিচ্ছে আর গিলছে। টেবিলের সব খাবার আজকে একাই খেয়ে সাবার করে দেবে বোধহয়।
শ্রবণ আস্তে ধীরেই খাচ্ছে, ওর না খেয়ে থাকার অভ্যাস আছে আগে থেকেই।
শ্রবণের আগে সোহার খাওয়া শেষ। যা যা দিয়েছিল ওকে সব খেয়ে ফেলেছে। শেষে হাত ধুয়ে পানি খেয়ে চেয়ারে গা এলিয়ে দেয়। শ্রবণ ওর দিকে তাকিয়ে বলে,
“আরও খাবি?”
সোহা দু’দিকে মাথা নাড়ে। ওর পেটে আর জায়গা নেই। এখন একচুল নড়তেও ইচ্ছে করছে না, শুয়ে পড়লে একটু আরাম লাগতো।
“তোর মা-খালা ডাইনি আর তুই রা’ক্ষ’সী। রা’ক্ষ’সীও বোধহয় তোর চেয়ে আস্তে খায়।”
সোহা বলে না কিছু। খিদের জ্বালা যে কি সেটা আজকে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।
খাওয়া শেষ করে বিল পে করে সোহাকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে।
রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে আছে সোহা। রাত প্রায় দশটা বাজতে চলল তবে সোহার চোখে ঘুম নেই। চোখে ঘুম না থাকলেও মনে ভয় আছে অনেক। একা একটা রুমে থাকতে ওর ভীষণ ভয় করছে। ব্যাপারটা এমন নয় যে সোহা আগে কোনদিন একা রুমে রাত্রি যাপন করেনি। সোহা নিজ বাড়িতে ছোটো বেলা থেকে একাই রাত্রি যাপন করেছে তবে শ্রবণের ফ্ল্যাটে একা রুমে থাকতে ওর ভয় ভয় লাগছে। মনে উদ্ভট সব চিন্তা ভাবনা ঘুরঘুর করেছে। ভয়ে রুমের লাইটও অফ করেনি। লাইটের আলোয় ফকফকা পুরো রুম। সোহা ভয়ে ভয়ে একটু পর পর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আবার চোখ বন্ধ করে নিচ্ছে। ওর মনে হচ্ছে আশেপাশে কেউ আছে। এই বুঝি ভয়ংকর চেহারা নিয়ে ওর সামনে এসে দাঁড়ালো, ছুটে এসে ওর গলা চেপে ধরলো। ঘুমোতেও পারছে না ভয়ে।
ফ্ল্যাটে ফিরে শ্রবণ সোহাকে বলেছিল,
“তুই ওই রুমে থাকবি, ভুলেও আমার রুমে প্রবেশ করবি না আমার পারমিশন ছাড়া।”
বলেই গটগট করে হেঁটে নিজের রুমে ঢুকে গিয়েছিল। সোহা হা করে ওর যাওয়ার পথে তাকিয়ে ছিল অনেকক্ষণ।
টিকটিকির ঠিক ঠিক শুনে ভয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে সোহা। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আশেপাশে তাকায়। টিকটিকির এই ঠিক ঠিক ওকে আরও ভয় পাইয়ে দিচ্ছে, কেমন ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি করছে। এমনিতেই গা ছমছম করছে আসার পর থেকেই। টিকটিকি পুনরায় ঠিক ঠিক করতেই বিছানা থেকে নেমে এক দৌড়ে শ্রবণের রুমে প্রবেশ করে। শ্রবণ ফোনে কথা বলছিল, সোহাকে দৌড়ে আসতে দেখে ফোন মিউট করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“তোকে কী বলেছিলাম ভুলে গেছিস? এখানে এসেছিস কেন? বের হ।”
শেষের শব্দ ধমক দিয়ে উচ্চারণ করে। সোহা কেঁপে ওঠে ধমক খেয়ে। টলমলে চোখে তাকিয়ে জড়ানো গলায় বলে,
“ওই রুমে ভয় করছে আমার।”
“কেন? ভূত বসে আছে নাকী তোর ঘাড় মটকানোর জন্য?”
সোহা বলে না কিছু। শ্রবণ পুনরায় বলে,
“যা এখান থেকে। তোর মা-খালা ডা’ইনি আর তুই রাক্ষসী হয়ে ভূতের ভয় পাচ্ছিস? গিয়ে চুপচাপ ঘুমা।”
সোহা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
“ওই রুমে আমি একা একা থাকতে পারবো না, ভীষণ ভয় করছে।”
“তোর সঙ্গে আমি থাকতে পারবো না, তোর গার্ড না আমি যে তোকে পাহারা দেব।”
“আমি এই রুমে থাকি?”
চলবে………..
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ২
-
দিশেহারা পর্ব ১৪
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ৪২
-
দিশেহারা পর্ব ২৬
-
দিশেহারা পর্ব ২৯
-
দিশেহারা পর্ব ১৫
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৫
-
দিশেহারা পর্ব ২৭