Golpo romantic golpo দিও তোমার মালাখানি

দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৬


দিওতোমারমালাখানি – ৬

সকালে রুচি বাসা থেকে বের হয়ে গলির মুখ থেকে রিকশা নিলো। রিকশা চলতে শুরু করেছে কী করেনি আদনান লাফ দিয়ে রিকশায় উঠল। রুচি চমকে চিৎকার করতে গেলে আদনান থামাল ওকে,
–প্লিজ, গণধোলাই খাওয়াবেন না। যাস্ট কিছু কথা বলব। তারপর চলে যাব৷
রুচি ক্ষিপ্ত গলায় বলল,
–তোমার মনে হচ্ছে না, এটা হ্যারাজমেন্ট?
–না মনে হচ্ছে না। আমি শুধু চাইছি আমার সম্পর্কে আপনাকে জানাতে। আমাকে না জানলে, না চিনলে রিজেক্ট কীভাবে করবেন? একটু শোনেন, প্লিজ! আমার বলা হয়ে গেলে সাথে সাথে আমি চলে যাব। যাস্ট ফাইভ মিনিটস। প্লিজ!
রুচি মুখ শক্ত করে বসে থাকল। চিৎকারও করল না। সহজও হলো না।
–আমি আজকে হঠাৎ করে আপনাকে পছন্দ করছি, এমন নয়। আমি অনেকদিন থেকে আপনাকে দেখছি। অফিসে যান, আসেন এই পথ দিয়ে। আমি শুধু দেখি। ছাদে যান মাঝেমাঝে। আপনি বিশ্বাস করবেন না, মাঝেমাঝে সন্ধ্যার পরে আপনি ছাদে ওঠেন বলে আমি প্রায় প্রতিদিন আপনার আগে ছাদে উঠে বসে থাকি, কখন আপনি যাবেন সেই প্রতীক্ষা করি। বয়সে আপনি খানিকটা বড়ো, এটা যেমন একটা সংকোচ ছিল, আপনি একটা সম্পর্কে ছিলেন সেই কারণেও আপনার মুখোমুখি হতে চাইনি। তবে খুব ইচ্ছে করত আপনি এই গোপন এডমায়ারারকে চেনেন। মনের কথা জানাতে ইচ্ছে করত। আপনার প্রতি আমার অনুভূতি কতটা প্রবল, খুব দু:সাহসী হয়ে শুধু এটকুই বলতে চাইতাম। শুধুশুধু আপনি বিরক্ত হবেন ভেবেই নিজেকে দমিয়ে রেখেছিলাম। আপনি যেদিন ওরকম করে কাঁদছিলেন আমার ইচ্ছে করছিল আপনার চোখের পানি মুছিয়ে দিতে৷ দু:খ একদম মানায় না আপনাকে। শুনতে খুব স্বার্থপর শোনাবে, একইসাথে আমি ভীষণ খুশি হয়ে উঠেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল এটা আমার জন্য ব্লেসিং। আমি আপনাকে পাব বলেই, অন্য কেউ আপনাকে ফিরিয়ে দিয়েছে! এই অংক স্বর্গে মেলানো হয়েছে। জিজ্ঞাসা করতে পারেন, বয়সের সংকোচ এখন মিলিয়ে গেল কীভাবে? এর উত্তর নেই আমার কাছে। আমি শুধু জানি, আমার কাছে কোনোকিছুই আর কোনো বাধা নয়। হিমালয় এসে সামনে দাঁড়ালেও, সেটাকে গুঁড়িয়ে ধূলো বানিয়ে দিতে পারব! শুধু আপনি হাতটা বাড়িয়ে দিলেই…
রুচির কিছু বলা উচিত। কিন্তু ও পারল না। এত তাড়াতাড়ি কাউকে গ্রহন করা যায় না, আবার এরকম আবেগপ্রবণ স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যানও করা যায় না। অপ্রত্যাশিত আর নাটুকে পরিস্থিতিতে পড়ে রুচি চুপ থাকাটাই শ্রেয় মনে করল। পরে একসময় ছেলেটাকে বুঝিয়ে না করে দেওয়া যাবে।
আদনানের যা বলার ও বলে দিয়েছে। যে বিপুল সাহস সঞ্চয় করে জবানবন্দি দিতে এসেছিল তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। বুক কাঁপছে তো বটেই, হাঁটুদুটোও একটার সাথে আরেকটা ঠুকাঠুকি করতে শুরু করেছে।
প্রচন্ড নার্ভাসনেস সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ও।
তারপর কথা শুরু করল ধীরে, বেশ কিছুটা সময় নিয়ে।
–আমার সংকোচের আরেকটা বড়ো কারণ আছে। বলার পরে আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে মারতেও পারেন! আমি মার ঠেকাব না।
আদনানের হাসি কান পর্যন্ত পৌঁছালো। মজার কোনো রসিকতা করার ভঙ্গিতে বলল,
–আমি কোনো ব্যাংকে চাকরি করি না, কোনো কর্পোরেট আইডি কার্ড নেই আমার। সরকারি চাকরির চেষ্টা করিনি কখনো। আমার আব্বু, আম্মুর বক্তব্য অনুযায়ী, ভাদাইম্যা। শুদ্ধ বাংলায় বেকার! টো টো করে ঘুরি।
রুচি কৌতুহলী হলো।
আদনান মাথা নাড়িয়ে বলল,
–আমি ফাইভারে কাজ করি। ফ্রিল্যান্সার।
এই শব্দটার পরই একটু থামল ও। কারণ, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই শব্দটার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রশ্ন পরপর এসে যায়, স্থায়ী তো?, কাল-পরশু কাজ থাকবে তো?, এটা কি আসলেই কোনো কাজ?’
আদনান নিজেই উত্তর দিতে শুরু করল,
–আমার বয়স সাতাশ। ফাইভারে কাজ করছি প্রায় চার বছর। প্রথম বছর তো অতখানি সিরিয়াস ছিলাম না। বাবার টাকায় খাই, ঘুমাই। পয়সার টানাটানি থাকতই। আর দশটা ছাত্রের যেমন থাকে। টাকা কামানোর আগ্রহেই একটা একাউন্ট খুলেছিলাম। অল্পদিন বেশুমার আগ্রহ ছিল। তারপর অল্পস্বল্প। গ্রাজুয়েশন শেষ করে দেখি চাকরি পাই না। প্রবেশন পিরিয়ডে আট হাজার অফার করে। ওতে তো আমার কিছু হবে না। তখন ফ্রিল্যান্সিংটা সিরিয়াসলি নিই। প্রফাইল ততদিনে এনরিচ হয়েছে। টুকটাক কাজ করে ভালো রিভিউ পেয়েছি। তবে শুরুর দিকে ইনকাম ছিল ভয়ানক। মাসে কখনো পাঁচ হাজার, কখনো কিছুই না। তখন বাসার সবাই বলত, আর কতদিন এই অনলাইন অনলাইন খেলবি? টিটকারি কম শুনিনি।
মৃদু হাসলো আদনান। রুচিরও কৌতুহল বেড়েছে। আদনানের স্ট্রাগলের গল্প শুনতে আগ্রহ হচ্ছে। আদনান আগের কথার লেজ ধরে বলল,
–কিন্তু ধীরে ধীরে একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছি। আমি মূলত কনটেন্ট রাইটিং আর ব্র্যান্ড স্টোরি লিখি। বিদেশি ক্লায়েন্ট সব। এখন গড়ে মাসে পঞ্চাশ ষাট মতো আসে।
রুচির চোখে সামান্য বিস্ময় ফুটে উঠল। কিন্তু খুব দ্রুত ও সেটা ধামাচাপা দিলো।
আদনানই বলল,
–গড়ে বলছি কেন? এই কথাটা খুব জরুরি। কারণ এটা আপনাদের মতো বেতন না। কোনো মাসে দুই লাখ, আড়াই লাখও হয়, আবার কোনো মাসে দশ হাজারে নেমে আসে। কাজ রেগুলার, কিন্তু গ্যারান্টেড না।
আদনান রুচির চোখের দিকে তাকালো,
–ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো সম্মান নেই আর সিকিউরিটি নেই। অসুস্থ হলে ছুটি নেই, কাজ না করলে আয় নেই। আর আত্মীয়স্বজনের কাছে আমি এখনও, ‘ওই তো ইন্টারনেটে কিছু একটা করে!’
আদনান একটু থেমে যোগ করল,
–কিন্তু আমি নিজের খরচ নিজেই বেয়ার করি। আমার রেন্ট, খাবার, সেভিংস – সব আমি চালাই। ইমার্জেন্সির জন্য ফান্ড আছে। আগামী ছয় মাস কাজ না পেলেও টিকে থাকতে পারব, এই হিসেব করে চলি। আব্বু-আম্মুকে গিফট দিই। ফিক্সড কিছু দিতে পারি না, কিন্তু বড়ো একটা এমাউন্ট পেলেই আব্বুর একাউন্টে কিছু ট্রান্সফার করে দিই। আমার ছোটো দুই ভাইবোন আছে। ভাই পিঠাপিঠি। চিটাগং ভার্সিটিতে পড়ছে। মাস্টার্স শেষের দিকে। বোনটা এবারে এইচএসসি দেবে। ওদেরকেও প্রয়োজনীয় খরচাপাতি দিই। আমাকে একদম ইরেস্পনসিবল ভাববার কোনো কারণ নেই। আমার কোনো বদভ্যাস নেই। চা-বিড়ির খরচ নেই। বাজে খরচও করি না। টাকা জমা থাকে। যেভাবে এখন কাজ করছি, এরকম করতে থাকলে এক বছরেই ঢাকার প্রাইম লোকেশনে একটা ছোটোখাটো এপার্টমেন্ট কিনবার ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দিতে পারব।
আদনানের গলা নরম হয়ে এলো, খানিকটা ভাঙাভাঙা শোনালো,
–আমি জানি, এটা ট্রাডিশনাল নিয়মের কোনো চাকরি না। এটাও জানি অনেকে এটাকে নিরাপদ ভাবে না। কিন্তু আমি কোনো মিথ্যে বলতে চাইনি। আমি শুধু সত্যিটাই বললাম, আমি কী করি, কতটা অনিশ্চয়তা আছে। মাস শেষে আমি পে চেক পাব না, কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি, ঝুঁকি নিতে ভয় পাই না আর দায়িত্বও! আপনার সবরকমের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
রোদ ওঠেনি আজ। হুট করেই তাপমাত্রা নেমে গেছে। শীত পুরোমাত্রায় এসে পড়েছে মনে হচ্ছে। আদনানের গায়ে হুডি। মাথাটা ঢেকে নিলো সেটা দিয়ে। দুই হাত ঘষে গরম করার চেষ্টা করতে করতে বলল,
–যতটা শীতে কাহিল হচ্ছি তার চাইতে ভয়ে বেশি নাজেহাল।
রুচি জানতে চাইলো,
–কীসের ভয়?
–রিজেক্ট হব, সেই ভয়! ইউ এক্সিস্ট যাস্ট আউটসাইড মাই রিচ! আমি কাঁপছি রীতিমতো। একটা গান গাই?
রুচির অনুমতির অপেক্ষায় থাকল না ও। দরাজ গলায় গেয়ে উঠলো,
“দিও তোমার মালাখানি
বাউলের এই মনটা রে
ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে!”
গান শেষ করে রিকশাওয়ালাকে থামতে বলল আদনান,
–আমি এখানেই নেমে যাচ্ছি। আপনার সামনে আর কিছুক্ষণ থাকলে ফেইন্ট হয়ে যেতে পারি। টেনশনে জমে যাচ্ছি।
বিদায় দিতে দিতে বলল,
–যদিও আমি জানি রেসপন্সটা নেগেটিভই হবে, তবুও একবার রেজাল্ট জানবার জন্য কল দেবো। আপনার ফোন নম্বর আছে আমার কাছে। অনেকদিন আগেই কালেক্ট করেছি, কিন্তু সাহস করে কল দিইনি। একবার কল দিতে পারব?
রুচি উত্তর দিলো না। আদনান রিকশা থেকে নেমে আরেকটু অপেক্ষা করল। একটু হেসে দিয়ে বলল,
–আমি কি এই নীরবতাকে সম্মতি ধরে নেবো?
রুচি চোখ সরিয়ে নিলো। আদনান কাঁধ নাচালো,
–অবশ্য, আপনি না বললেও আমি শুনব এমন লক্ষী ছেলে আমি নই। আপনি হ্যাঁ বলেন বা না, কয়েকটা গালাগালও করতে পারেন। আমি কল করবই। আমার গরজেই করব। আপনার গালাগাল শুনতে হলেও ফোন করব। রিসিভ করবেন প্লিজ। না হয় সত্যি সত্যিই গালাগাল করে দিয়েন। বাপ-মা, চৌদ্দপুরুষ তুলে গালি দিয়েন।
তবুও রুচি কিছু বলল না।

দিও তোমার মালাখানি – আফসানা আশা
শত কষ্টে থাকলেও পুরুষ মানুষকে অফিস যেতে হয়। কাজ করতে হয়। দায়িত্ব থেকে পালালে চলে না। নির্ঘুম রাত কাটলেও অফিসের জন্য ঠিকই সময়মতো তৈরি হয়ে গেল তৌহিদ। ওকে নাস্তা দিতে দিতে তাহমিনা বললেন,
–কালকে নাকি রোশনি কল দিয়েছে। তুই কথা বলিসনি ওর সাথে? ওর বাবা কল দিয়েছিল তোকে, সেটাও ধরিসনি!
–আমার সাথে কী কথা! যা বলার, তোমার সাথে বললেই তো হলো। ডিসিশনের কর্তা তো তুমি! তুমি মায়ের দায়িত্ব পালন করেছ, বাবার কর্তব্যও করেছ। এখন জবাইও দিতে পারো! যা বলবে তুমি তাই হবে৷ আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই। তুমিই বলে দিও যা বলার।
তাহমিনার মাথা গরম হয়ে গেল সাথে সাথে। চিৎকার করে বলে উঠলেন,
–এসব কানপড়া কি ওই বুড়ি মা*গি দিয়েছে? মায়ের বিরুদ্ধে বিষ ঢালছে ছেলের কানে? এখনো ওর আঁচলধরা হয়ে আছিস? তা যা, তুইও ভাইয়ের পথ ধর? মাকে ত্যাগ কর? আমি মরলে কী, আর বাঁচলেই কী? জান কয়লা করে তোদেরকে মানুষ করেছি। এটাই তো আমার প্রাপ্য! ফেলে চলে যেতাম, রাস্তায় পড়ে থাকতি, কুলি হতি আর বাইদ্যানি বিয়ে করতি, সেটাই তোদের জন্য ভালো ছিল।
তৌহিদ আর উত্তর করল না। এখন মাকে কিছু বলা মানে আরও তেতে উঠবে। আরও খিস্তি করবে রুচির নাম ধরে। হাতজোড় করে বলল,
–রুচির নামে আর কিছু বলো না, মা। তোমার পায়ে ধরি। ও নিজেই সরে গেছে। আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমাকে আর কোনো প্রয়োজন নেই ওর।
–ঢং! সব ঢং! ঠিক জানে, মুখ ঘুরালেই তুই পেছন পেছন কুত্তার মতো দৌঁড়াবি! ভং সব। বড়ো মাছ খেলিয়ে তোলার বুদ্ধি। ওই বাহাত্তুরে বুড়ি কত ছলাকলাই জানে রে! এইজন্যই রোশনির সাথে কথা বলা বন্ধ বুঝি? ঠিক তাই। আমার পেটের ছেলে, আমি তোকে চিনি না? এখনই ছুটবি ওই বুড়িটার পেছনে!
–মাফ চাই তোমার কাছে, মা। আমাকে মাফ করতে পারো? এখনই রোশনিকে কল দিয়ে নাক খত দিয়ে নেবো। খুশি?
তাহমিনা মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।
তৌহিদ অফিসে যেতে যেতে রোশনিকে কল দিলো। রোশনি ঘুমঘুম গলায় বলল,
–রাতে কল দিয়েছিলাম! রিসিভ করেননি, ব্যাকও করেননি। সন্ধ্যায় শাড়ি পরে ছবি দিলাম, একটা কমপ্লিমেন্ট তো দেনই নি। কিছু বলেননি। সীন করেছেন কিন্তু ভান করেছেন দেখেননি।
তৌহিদ রেগে ছিল। বিরক্ত হয়ে গেল সহজেই। বলল,
–এইটুকুতেই এত রাগ? মাকেও নালিশ করে ফেলেছ। এখন এতবার কল দিয়ে যাচ্ছি, ধরছ না।
–শোনেন মিস্টার, মাকে আমি নালিশ করিনি। উনিই ফোন করে জিজ্ঞাসা করছিলেন, আপনার সাথে কথা হয়েছে কিনা! প্রতিদিন কথা বলি কিনা। তখন বলেছি। আর রাগ করব না? করব তো। এইবার মাফ পেলেন। প্রথমবার বলে। কিন্তু জেনে রাখেন, আমি আমার বাবার প্রিন্সেস। আমার কথার উপর কেউ কখনো কথা বলে না। আমি একফোঁটাও অবহেলা সহ্য করব না। একদম সাবধান। কল দিলে সাথে সাথে রিসিভ করবেন। সে কোন মিটিংয়ে আছেন, হাতি-ঘোড়া করছেন, সেসব শুনব না। যদি আমার কল না ধরেন…
–তাহলে কী হবে?
–আর ভালোবাসব না!
–এখন বুঝি ভালোবাসো?
রোশনি লজ্জা পেলো। কথার পরে কথা এসে গেছে৷ এভাবে বলার উদ্দেশ্য ওর ছিল না। মুখফসকে বলা কথায় লজ্জা পেয়ে গুটগুট করে বলল,
–জানি না, যান!
একটা ভয়ংকর রাত পার করেছে তৌহিদ। অসহ্য লাগছিল। মায়ের সাথে সকালের বচসাও চাপ দিচ্ছিল মাথায়। রোশনির সাথে কথা বলতে বলতেই কষ্টগুলো মিলিয়ে যেতে শুরু করল। মনের অজান্তেই উৎফুল্ল হয়ে গেল ও। হাসতে হাসতে বলল,
–না, জানতে হবে। এড়িয়ে যেতে দেবো না। উত্তর দাও? বলো, ভালোবাসো?
–আসলে, ইয়ে মানে, এই মনে করেন একটু একটু!
–একটু? শুধু একটু? তাহলে যাও, আমিও রেখে দিলাম ফোন!
রোশনি বাধা দিলো,
–না, না, না। একটু না। একটু না। অনেকখানি। অনেক অনেক অনেকখানি…

চলবে…
আফসানা আশা

(অনেকসময় তথ্যগত কিছু ভুল থাকতে পারে। এর আগেও অনেকবার আপনাদের দেওয়া ইনফরমেশনে সেসব সংশোধন করে নিয়েছি। আশা করি আবারও আপনারা ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন। পর্ব ৪ – এ, মাহমুদ সাহেবের বয়স নিয়ে একটা মিসটেক হয়ে গেছে সম্ভবত। তার ডেসিগনেশন এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্সের যে বর্ণনা দিয়েছি তাতে তেত্রিশ ঠিক মেলে না। হয়তো আমি তেতাল্লিশ লিখতে চেয়েছিলাম। কল্পনাতেও ভদ্রলোক চল্লিশের আশেপাশেই ধরা দেন। তাই ওটা সম্পাদনা করে দিলাম। যারা ভুল ধরতে গিয়ে রসিকতা করতে চেয়েছেন, তাদেরকে বলছি, সার্কাস্টিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি মানুষ ভাই, ভুল করতেই পারি। আর আমি ভুল করিও প্রচুর। প্রায়ই তো ইংরেজি গ্রামারের বাপ-মা এক করে দিই। আর যেহেতু এই গল্প এডিটর টেবিলে যায়নি, আমার পাঠকেরাই আমার প্রাইমারি প্রুফরিডার। ধন্যবাদ, সাথে থাকুন। এই গল্প পেইজেই শেষ হবে, ইনশাআল্লাহ। )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply