Golpo কষ্টের গল্প তুষারিণী

তুষারিণী পর্ব ৩


তুষারিণী —— ৩

সানজিদাআক্তারমুন্নী

পাঁচটি মাস পার হয়ে গেছে। সময়ের চাকা ঘুরেছে ঠিকই, কিন্তু নূশার জীবন আ্যাশার ক্যাসেলের চার দেয়ালে এক অদ্ভুত স্থবিরতায় আটকে আছে। এখান থেকে বেরোনোর মতো কোনো শক্ত অবলম্বন সে এখনো গড়ে তুলতে পারেনি।
​বিস্ময়কর হলেও সত্যি, এই দীর্ঘ পাঁচ মাসে ইথানের ছায়ার দেখাও নূশা পায়নি। সেই যে সেদিন সে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর ফেরেনি। ইথান পরিবার থেকে দূরে থাকলেও তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি সবার খোঁজ সে নিয়মিত রাখে, শুধু নূশা বাদে। নূশার অস্তিত্ব ইথানের জীবনে কতটা ফিকে হয়ে গেছে, তা ভাবলে মাঝে মাঝে নূশার নিজেরই অবাক লাগে। ইথান কি আদৌ মনে রেখেছে যে এই প্রাসাদে তার নামের সাথে জড়িয়ে থাকা একটা রক্ত-মাংসের মানুষ এখনো বাস করে? হয়তো সে ভুলেই গেছে।

​তবে নূশা দমে যাওয়ার পাত্রী নয় বটে। এই পাঁচটি মাস সে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাটায়নি, বরং নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। কিছুটা সফলও সে হয়েছে বলতে গেলে। একদিকে যেমন ভার্সিটিতে নিজের পড়াশোনা শুরু করেছে, অন্যদিকে একটি রেস্টুরেন্টে নিয়েছে ছোটখাটো একটি চাকরি। ​আ্যাশার পরিবারের কেউ চায়নি নূশা এমন সামান্য কাজ করুক। কিন্তু নূশার জেদ ছিল পাহাড়প্রমাণ। সে কারো করুণার ছায়াতলে পিষ্ট হতে চায় না। সে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সে নিজের যোগ্যতায় বাঁচতে চায়, নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করতে চায় তাই কেউ আর বাঁধা দেননি। নূশা নিজে কষ্ট করতেছে ভবিষ্যতে এই পরিবারের কেউ আঙুল তুলে বলতে না পারে যাতে, “তোমাদের পরিবার আমাদের দয়ায় চলেছিল।”
​নূশা এখন একলা লড়ছে। নিজের উপার্জনে নিজের পরিবারকে টেনে তোলার এই লড়াইটা হয়তো কঠিন, কিন্তু এই কাঠিন্যের মাঝেই সে খুঁজে পেয়েছে তার আত্মসম্মানবোধ।

আজ যোহরের পর হঠাৎই ইথান বাড়িতে আসে। তার হঠাৎ এমন আগমন ক্যাসেলের সবাই স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেয়। কারণ ইথান এমনি খিটখিটে মেজাজের মানুষ, নিজের যা মনে হয় তা করে, কারো কথা শোনে না। ঘাড়ত্যাড়া, একরোখা ও জেদী। কয়দিন পর পর আসে বাড়িতে, আবার কদিনের জন্য হাওয়া হয়ে যায়।
ইথান আসার পর থেকে নূশা তার সামনে যায়নি একবারও। কেন যাবে? যে মানুষটা তাকে সহ্য করতে পারে না, তার সামনে কেন যাবে সে? মাইরা নূশাকে যেতে বলেছিলেন। নূশা উনাকে বলেছিল, “থাক না মা, উনার সামনে গিয়ে কী করব? আমাকে দেখে হয়তো রেগে চলে যাবেন, তাই না যাই সামনে।” মাইরা আর কিছু বলেননি, তাদের বিষয় তারা ভালো বুঝুক ভেবে ছেড়ে দিয়েছেন।

সারাদিন না গেলেও এখন তো যেতেই হবে। রাত হয়ে গেছে, সবাই ডিনার করে রুমে যাওয়ার পর নূশা ডিনার করে অনেকক্ষণ পর রুমে আসে। সারাদিনই আজ এভার রুমে ছিল, কিন্তু রাতে তো আর সে ওই রুমে থাকতে পারবে না। নূশা মনে করে ইথান হয়তো ঘুমিয়ে গেছে। তাই আল্লাহর নাম নিয়ে এভার রুম থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
ভেতরে প্রবেশ করে দেখে সারা রুম অন্ধকার। বিছানায় ল্যাপটপ অন করে রাখা, ইথান রুমে নেই। ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে নূশা বুঝতে পারে ইথান ওয়াশরুমে। এ দেখে নূশা তাড়াতাড়ি বিছানার কাছে এসে বালিশ ও নিজের ব্লাংকেট নিয়ে সোফায় রাখে। সোফায় রাখার সাথে সাথে ঘরের লাইট জ্বলে উঠে আর একটা গুনগুন শব্দ করে ইথান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ইথান গুনগুনিয়ে গাচ্ছে :

Darling I can be your
favourite
I’ll be your girl let you
Taste it
I know What you want Yeah just
take It
Darling I can be your
Favourite
Want you to tell me you crave It
My name is whatever you

নূশা অবাক হয়ে ইথানের দিকে তাকায়। দেখে ইথানই লাইট অন করেছে। তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নেয়, কিছু বলে না। তাকানোর অবস্থায় মূলত ইথান নেই, গায়ে তার কিছুই নেই। পরনে বলতে শুধু একটা কোয়ার্টার ট্রাউজার। তার ধবধবে ফর্সা, সুগঠিত ও বলিষ্ঠ দেহাবয়ব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। নূশাকে ব্লাংকেট নিয়ে সোফায় শুতে দেখে ইথান তার সামনে এসে দাঁড়ায় আর তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলে, “তুমি আমার ব্লাংকেট নিয়ে শুয়ে যাচ্ছো যে! আমি কোথায় কী দিয়ে শুবো? তাড়াতাড়ি চুপচাপ গিয়ে এটা জায়গা মতো রেখে দাও মিস সিলেট।”
নূশা ইথানের কথা শুনে আর কোনোপ্রকার কথায় আগায় না। চুপচাপ ব্লাংকেটটা বেডে রেখে নিজের কাবার্ডের সাইডে রাখা দেশ থেকে নিয়ে আসা নকশিকাঁথা বের করে সোফায় এসে শুতে নেয়। তখনি ইথান সোফায় হেলান দিয়ে বসতে বসতে বলে, “আমি আমার সোফায় বসব এখন। তুমি ঘুমাতে পারবে না এখানে!”

ইথানের কথায় নূশার রাগে গা জ্বলতে শুরু করে। একটা মানুষ কী পরিমাণ ইতর হলে এমন করে! নূশা ইথানের দিকে তাকায়, শক্ত চোখে চেয়ে বলে, “আপনার সমস্যা কী? এমন করছেন কেন? আপনি এসেছেন একদিনও হলো না, আর এসেই আমার সাথে এমন আচরণ করছেন কেন?”
ইথান নূশার দিকে বাঁকা চোখে চেয়ে বলে, “আমার রুমে আমি যেখানে ইচ্ছে বসব। তুমি আমার রুমে থাকছো কেন? আমার ইচ্ছে হলে বিছানায় থাকব, ইচ্ছে হলে সোফায় বসব, ইচ্ছে হলে ছাদে লটকে থাকব এতে তোমার কী?”
নূশা ইথানের কথার প্রত্যুত্তরে প্রতিবাদ করে বলে, “আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করছেন ইথান। আপনি কী চান? আমি রুমে না থাকি? আচ্ছা চলে যাব। আজ রাত থাকতে দিন, তারপর চলে যাব।”
ইথান নূশার দিকে চেয়ে বাঁকা হেসে বলে, “আমি চাই তুমি আমার সাথে এখন বেডে আসো, আমার সাথে বেড শেয়ার করো। জানো, এখান থেকে যাওয়ার পর যে কত নারীর শরীর টেস্ট করেছি তার হিসেব নেই। কিন্তু কারো কাছে তোমার মতো শান্তি পাইনি। আসো, আমাকে একটু শান্তি দাও। জাস্ট একবার আসো কাছে।”

নূশার পায়ের তালু পর্যন্ত কাঁপতে শুরু করে এ শুনে। কীহ? ইথান কী বলল এগুলো? নারী দেহ ভোগ করেছে সে? করবেই তো, চরিত্রহীন। তাই তো কোনো নারীই বা এমন বিপর্যয় সইবে? কার সাধ্য এমন কাজ সইতে চাইবে নিজের স্বামীর মুখ থেকে শুনতে হচ্ছে সে অন্য নারীর সাথে শুয়েছে! ইথান নূশাকে এমন চুপ করে থাকতে দেখে উঠে দাঁড়ায় আর কালবিলম্ব না করে বলে, “চলো বেডে চলো।”
নূশা ইথানকে দাঁড়াতে দেখে দু কদম পিছিয়ে যায় আর ইথানের দিকে রুক্ষ চোখে চেয়ে কড়া গলায় বলে, “আমার শরীর এত সস্তা না যে কেউ এসে বলবে আর দিয়ে দিব। সরুন তো এখান থেকে! ফাইজলামি পাইছেন? এসব করতেছেন? প্রথম দিন যখন বলেছিলাম আমার শরীর দিব তাও থেকে যান, তখন তো বলেছিলেন তুড়ি মারলে মেয়ে আসবে। তো এখন তুড়ি মারুন, আমায় কেন টানছেন?”
ইথান নূশার কথায় তার দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলে, “এত ন্যাকামি না করে ডিরেক্টলি বলো না, এখন নতুন পুরুষ পেয়েছো তাই আসতে চাচ্ছো না?”
“নিজের মতো আমাকেও চরিত্রহীন ভাববেন না। বিয়ে করে বিয়ের দিন রাতে অমানবিক নির্যাতন করলেন। বউ মানেন না, কিন্তু বউ হিসেবে শরীর খাবলে খেতে খুব ভালো লাগে! তারপর দুমাসের কথা বলে পাঁচ মাস ধরে নাই, গায়েব! এখন হঠাৎ আসলেন, এসে ‘আসো বেডে আসো’!”
ইথান নূশার এই কথাগুলো শুনে খুবই বিরক্ত হয়। বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকে থামানোর জন্য নূশার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেয়। ব্যাস, নূশার কথা বন্ধ হয়ে যায়। ইথান নূশার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরে ধীরে ধীরে নূশার গা থেকে চাদর ফেলে দিয়ে নূশার গা থেকে একে একে ড্রেস খুলে নিতে থাকে। নূশা ইথানকে নিজের কাছ থেকে সরাতে চায় কিন্তু ইথান সরে না। নূশা জোরে জোরে ইথানের উদম বুকে কিল-ঘুষি মারলেও কাজ হয় না। ইথান তাকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে ঠাস করে বেডে ফেলে দেয়। নূশা হাঁপিয়ে উঠে বসে, পিছনে সরে যেতে যেতে চিৎকার করে ওঠে, “আমার সাথে এমন করবেন না, আমার খুব কষ্ট হয়!”
“কষ্ট দিব তাই কষ্ট হবে।”

এটা বলে ইথান বেডে উঠে গিয়ে নূশার পা ধরে টেনে তাকে নিজের বুকের নিচে নিয়ে এসে তার দুই হাত বেডের সাথে চেপে ধরে। নূশার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ কিছু সময়। কেন যেন তার খুব ইচ্ছে করে নূশার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে। ইথানের ভেতর ইমোশন বলতে যে ফিল আছে তা নেই, তারপরও নূশার চোখের দিকে তাকাতে তার ভালোই লাগে। নূশা ইথানের তাকানো দেখে চোখ বুজে জোরে শ্বাস নেয়, এবার বড় একটা চিৎকার করবে বলে। তথাপি তা আর হয়ে উঠে না, তার আগেই ইথান নূশার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বসে। ইথান নূশার ঠোঁট থেকে সরে গিয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বলে, “চিৎকার করে কোনো লাভ নেই। যত আওয়াজ, তত যন্ত্রণা।”

নূশা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে, “আপনার কি এই শরীরটাই শুধু চাওয়া? আমার অনুমতি, আমার চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই?”
“তোমার চাওয়া-পাওয়া দিয়ে আমি কী করব? তুমি আমার বাড়িতে থাকছো, তোমার পড়াশোনার ফি চালাচ্ছি এর বিনিময়ে তুমি আমায় এন্টারটেইন করবে একটু। তোমার আমার সম্পর্ক এতটুকুই। নামে জাস্ট হাসবেন্ড-ওয়াইফ, কাজে শুধু স্বার্থ।”

ইথানের কথাগুলো শুনে নূশা বড়ই অসহায় হয়ে যায়। ইথান কি আদৌ মানুষ? এতটা নিচ একটা মানুষ কী করে হতে পারে? ইথানের কাছে সে শুধু শারীরিক চাহিদার মাধ্যম? ইথান নূশাকে চুপ থাকতে দেখে বাঁকা হেসে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় নূশাকে। তার দেওয়া আঘাতে নূশার কলিজা পর্যন্ত ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। নূশার অসহ্য চিৎকারের সাক্ষী হয়ে থাকে সারা ঘরের আসবাবপত্র। কিন্তু সেই চিৎকার ইথানকে থামাতে পারে না।

রাত তিনটে…

ইথান নূশার বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে। নূশা গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে, যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়েছে। ইথান নূশার বুকে মুখ গুঁজে থেকেই নিজের ফোনটা বালিশের পাশ থেকে নিয়ে মুখের সামনে ধরে। ঘড়িতে তিনটে তিন বাজে, এটা দেখে তার ঠোঁটে ফুটে ওঠে স্মার্ক। সে খাঁটি বাঁকা হেসে ফোনটা পাশে রেখে নূশার বুক থেকে মাথা তুলে নূশার দিকে তাকায়। দেখে সে ঘুমিয়ে আছে। চোখের দুই কোণে পানির শুকনো দাগ লেগে আছে। এ দেখে তার মনে পড়ে নূশার কান্না আর চিৎকার। ইথান সেগুলো মনে করে মন খারাপ করার বদলে হাসতে শুরু করে। নূশার লম্বা কেশরাশিগুলো তার বুকে-গলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেই চুলগুলো ইথান সরিয়ে দিতে দিতে বলে, “তুমি চিৎকার করে বলেছিলে আমার কি তোমার কান্না দেখে মায়া হয় না? তখন আমি নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তবে এখন বলছি না, হয় না। কারণ আমার মানুষের চিৎকার ভীষণ পছন্দ। এতটুকুতে তোমার এই চিৎকার! তোমাকে যেদিন মেরে ফেলবো সেদিন তুমি যে চিৎকার করবে, সেটা হবে আমার জন্য অমৃতের সমান।” এটা বলেই ইথান নূশার উপর থেকে উঠে যায়। নূশাকে ব্লাংকেট দিয়ে জড়িয়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে কোথাও যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যায় রুম থেকে।

সকাল নটা…
আ্যাশার ফ্যামিলির লিভিং রুমে ইথান, তার গ্রেনি এজার আর ইথানের চাচ্চু মানে এজারের ড্যাড মিস্টার আয়াস বসে চা খাচ্ছেন। ইথানের বাবা ক্যাসেলে নেই বর্তমানে, মার্সেইতে গেছেন। লিভিং রুমে থাকা টিভির বড় স্ক্রিনে ভাসছে একটা নিউজ। যেখানে বলা হচ্ছে, লিজিয়নরা গতকাল রাতে জঙ্গলে একজন মিনিস্টারের মেয়েকে মেরে তার বাবার সিমেন মেয়ের যৌনাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। কতটা নিকৃষ্ট হলে মানুষ এমন ভয়াবহ কান্ড ঘটাতে পারে! অবশ্য এগুলো লিজিয়নদের কাছে কিছুই না।

লিজিয়ন’ হলো একটি বিশেষ দলের নাম, বিগত চার বছর ধরে যারা পুরো বিশ্বকে জ্বালিয়ে মারছে। সাধারণ মাফিয়া বা গ্যাংস্টারদের রাজত্ব যেখানে শেষ হয়, ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় ‘দ্য ব্ল্যাক লিজিয়ন’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য। এরা কোনো গতানুগতিক অপরাধী চক্র নয়, বরং অপরাধ জগতের পিরামিডের সর্বোচ্চ চূড়ায় বসে থাকা এক পৈশাচিক শক্তি। পৃথিবীর তাবড় তাবড় ডন, মাফিয়া বস এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সর্দাররা যাদের ভয়ে মানুষ তটস্থ থাকে তারাও এই ব্ল্যাক লিজিয়নের নাম শুনলে ভয়ে কুঁকড়ে যায়। মাফিয়া গ্যাংস্টাররা যদি হয় পাপিষ্ঠ ও নিকৃষ্ট, তবে এই লিজিয়ন হলো সেই পাপিষ্ঠদেরও বাপ। লিজিয়ন হলো সেই সব মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রক, যারা পর্দার আড়ালে থেকে অদৃশ্য সুতোয় পুরো অপরাধ জগতকে নাচিয়ে বেড়ায়। তাদের ক্ষমতা অসীম আর তাদের শিকড় মাটির অতল গহ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত।

​এই নারকীয় বধ্যভূমির কেন্দ্রে আসীন আছে যে রহস্যময় সত্তা যাকে এই লিজিয়নদের মূল মাথা বলা হয় জগত তাকে চেনে ‘দ্য গডফাদার’ নামে। তাকে কোনো সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ মনে করা হয় না বরং এক কুহেলিকাচ্ছন্ন পিশাচ মনে করা হয়। আর মনে করাটাই স্বাভাবিক, কারণ যে কাউকে সে দেখা দেয় না। তার চেহারা এক পলক দেখার অর্থ হলো নিজের কবরের দলিলে স্বাক্ষর করা। তার চরিত্রের ক্রুরতা আর ক্ষমতার অহমিকা এতটাই প্রলয়ংকরী যে, প্রাচীন ইতিহাসের নিকৃষ্ট শাসকদের বর্বরতাও তার কাছে নেহাত শিশুতোষ মনে হয়। সে এক অশরীরী মহাপ্রলয়, যার অঙ্গুলিহেলনে জনপদ শ্মশানে পরিণত হয় আর যার নিঃশ্বাসে মিশে থাকে মৃত্যুর শীতল পরশ।

​শয়তানির এমন কোনো নিকৃষ্টতম স্তর নেই, যা এই গডফাদার এবং তার লিজিয়ন স্পর্শ করেনি। ‘মানবিকতা’ শব্দটি তাদের অভিধানে এক বিস্মৃত কঙ্কাল ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ধরণীর বুকে একেকটি কালান্তক ক্ষত। মানবিকতার লেশমাত্রহীন এই সত্তাটি সাক্ষাৎ ইবলিশের প্রতিচ্ছবি। তার শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হয় বিষাক্ত ক্রুরতা আর ধ্বংসের নেশা। তার অনুগত লিজিয়নরা হলো নরকের দ্বাররক্ষী, যারা তাদের গডফাদারের ইশারায় যেকোনো ধ্বংসলীলা চালাতে পারে। যেখানেই দ্য ব্ল্যাক লিজিয়নের করাল ছায়া পড়ে, সেখানেই নেমে আসে এক সর্বনাশা প্রলয় আর অনন্ত হাহাকার।

নিউজ দেখে মিস্টার আয়াস ইথানের দিকে তাকিয়ে বলেন, “সাবধানে থেকো ইথান। তোমাকে টার্গেট করতেই পারে যেহেতু মিনিস্টারদের টার্গেট করছে।”

ইথান সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে যেখান থেকে নূশা নামছে। নূশার দিকে তাকিয়ে থেকেই ইথান বাঁকা হেসে বলে, “আমার কিছু করতে হলে গডফাদারকে আবারো জন্ম নিতে হবে।”
এটা বলেই ইথান সবার সামনেই নূশাকে ডেকে ওঠে, “হেই মিস সিলেট! রুমে ব্যাক যাও। আমি আসছি।”

গ্রেনি নূশার দিকে তাকান। ইথানের কথায় তার অবস্থা দেখে বুঝে যান তার নাতি মেয়েটাকে যন্ত্রণা দিয়েছে সারারাত। গ্রেনি মুচকি হাসতে হাসতে বলেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ নূশা, উপরে যা। রুমেই থাক। নিচে এসে কী করবি?”

নূশার সারা শরীরে কাঁটা ফোটার মতো ব্যথা করছে। অনেক কষ্টে সে ফ্রেশ হয়ে এই ধীরে ধীরে নামছে। কিছু খায়নি এখনো, ক্ষিদেয় প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। এখন সবার সামনে কী নির্লজ্জের মতো বলছে আবার উপরে যেতে! নূশা কিছু বলে না উত্তরে, চুপচাপ কিচেনে চলে যায়। ইথান নূশাকে যেতে দেখে উঠে দাঁড়ায়। চায়ের কাপটা রেখে সেও কিচেনে চলে আসে। নূশা কিচেনে এসে এক গ্লাস জুস হাতে নেয়। ক্ষিদেয় পেট-পিঠ জ্বলছে। কিচেনে মেইডদের সাথে মাইরা, এজারের মা মিসেস এলিজাবেথ রান্না করছেন। ইথান কিচেনে এসেই সবার সামনে ধড়াক করে বলে ওঠে, “তোমাকে যে বললাম রুমে যেতে, এখানে এসেছো কেন? তাড়াতাড়ি এসো, আমার পরে প্রেস মিটিং-এ যেতে হবে।”

নূশা আশা করেনি ইথান তার পিছনে পিছনে এখানেও চলে আসবে। নূশা গিলতে পারে না মুখের জুসটা, সে বিষম খেয়ে যায়। কতটা নির্লজ্জ এই মানুষ! মা-চাচীর সামনে ডিরেক্ট এভাবে বলছে!

চলবে,,,

এ গল্পে অনেক রহস্য আছে শুধু শারীরিক নির্যাতনের কাহিনি নিয়ে বাল বতোয়া লেখার সময় আমার নাই। তাই দয়া করে এক দু পর্ব পড়ে সাউয়াচলনাত যাইয়েন না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply